মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২০৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে মদীনার ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের শত্রুতার বিবরণ
২০৯. উরওয়া ইব্ন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গাধার পৃষ্ঠে আরোহণ করে হযরত সা'দ ইবন উবাদাহ্ (রা) কে দেখতে যাচ্ছিলেন। গাধার পিঠে বসার জন্যে একটি পাতলা কাপড় এবং তার নীচে একটি ফাদাকে তৈরী মোটা চাঁদর ছিল। হযরত সা'দ অসুস্থ অবস্থায় বানু হারিছ ইব্ন খাযরাজ গোত্রে অবস্থান করছিলেন। এটি ছিল বদর যুদ্ধের পূর্বের ঘটনা। পথে তিনি একটি জনসমাবেশ দেখতে পেলেন। সেখানে মুসলমান, মূর্তি পূজারী, মুশরিক এবং ইয়াহূদীগণ ছিল। আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় এবং আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা (রা)ও সেখানে ছিলেন। সওয়ারীর পদধূলি সমাবেশে ছড়িয়ে যাবার পর মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবন উবায় চাঁদরে তার নাক ঢেকে বলল আমাদের সমাবেশে ধূলি উড়াবেন না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে দাঁড়িয়ে সমবেত লোকজনকে সালাম দিলেন এবং কুরআন মাজীদের আয়াত তিলাওয়াত করে ওদেরকে আল্লাহর দিকে আসার দাওয়াত দিলেন। আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় বলল, ওহে মানুষট্, আপনি কি এর চেয়ে ভাল কিছু জানেন না? আপনি যা বলছেন তা যদি সত্য ও সঠিক হয় তাহলে এখানে আমাদেরকে কষ্ট না দিয়ে আপনি আপনার সওয়ারীর নিকট ফিরে যান এবং যে ব্যক্তি আপনার নিকট যাবে তাকে এইসব কথা বলেন। আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা বললেন, হে আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়, তুমি তাঁকে আমাদের মধ্যে থাকতে দাও আমরা তাঁর বক্তব্য পছন্দ করছি। তখন মুসলমান, মুশরিক ও ইয়াহূদীগণ পরপর তর্কবিতর্ক ও গাল-মন্দ শুরু করে দিল। তাদের মধ্যে হাতাহাতি হবার উপক্রম হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনবরত তাদেরকে শান্ত করছিলেন। এরপর তিনি সওয়ারীতে উঠে সা'দ ইব্ন উবাদার (রা) নিকট গেলেন এবং তাঁকে বললেন দেখেন তো আবূ হুবাব অর্থাৎ আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় কী কাণ্ডটা ঘটাল। সা'দ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ), আপনি ওকে ক্ষমা করে দিন। তার বিষয়টা ছেড়ে দিন, কারণ মহান আল্লাহ্ তো যা দেয়ার আপনাকেই দিয়েছেন। এই অঞ্চলের লোকেরা একটি চুক্তি করেছিল যে, ওরা আবদুল্লাহকে নেতা বানাবে। তার মাথায় নেতৃত্বের মুকুট পরাবে। কিন্তু মহান আল্লাহ্ আপনাকে সত্য ও সঠিক বিষয় দান করে ওই চুক্তি রদ করে দিলেন এবং তাতে সে রাগে-ক্ষোভে জ্বলে ফুঁসে উঠেছে এবং আপনার সাথে এই আচরণ করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مناوأة اليهود ومنافقي المدينة للنبي - صلى الله عليه وسلم
عن عروة بن الزبير (3) ان أسامة بن زيد أخبره أن النبي - صلى الله عليه وسلم - ركب حمارا عليه إكاف (4) تحته قطيفة فدكية واردف وراءه أسامة بن زيد (5) وهو يعود سعد بن عبادة في بني الحرث بن الخزرج وذلك قبل وقعة بدر حتي مر بمجلس فيه اخلاط من المسلمين والمشركين عبدة الأوثان واليهود فيهم عبد الله بن أبي، وفي المجلس عبد الله بن رواحة فلما غشيت المجلس عجاجة الدابة (6) خمر عبد الله بن أبي انفه بردائه ثم قال لا تغيروا علينا: فسلم عليهم النبي - صلى الله عليه وسلم - (7) ثم وقف فنزل فدعاهم الي الله وقرأ عليهم القرآن، فقال له عبد الله بن أبي أيها المرء لا أحسن من هذا؟ (8) ان كان ما تقول حقا فلا تؤذينا في مجالسنا وارجع الي رحلك فمن جاءك منا فاقصص عليه، قال عبد الله بن رواحة اغشنا في مجالسنا (9) فانا نحب ذلك، قال فاستب المسلمون والمشركون واليهود حتي هموا ان يتواثبوا (10) فلم يزل النبي - صلى الله عليه وسلم - يخفضهم (11) ثم ركب دابته حتي نزل علي سعد بن عبادة، فقال أي سعد ألم تسمع ما قال أبو حباب؟ يريد عبد الله بن أبي قال كذا وكذا، فقال اعف عنه يا رسول الله واصفح، فوالله لقد أعطاك الله الذى أعطاك ولقد اصطلح أهل هذه البحيرة (1) (وفي رواية البحيرة) أن يتوجوه فيعصبونه بالعصابة (2) فلما رد الله ذلك بالحق الذي اعظاك شرق (3) بذلك فذاك فعل به ما رأيت فعفا عنه النبي صلي الله عليه وسلم (4)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যদি এমন কোনও স্থানে যাওয়া হয়, যেখানে মুসলিম-অমুসলিম বিভিন্ন শ্রেণির লোক আছে, তবে সালাম দেওয়া হবে কি না? আলোচ্য হাদীছটিতে তার উত্তর পাওয়া যায়। একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরকম একটি মজলিসের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে মজলিসে মুসলিম, ইহুদি ও অগ্নিপূজারী তিনও শ্রেণির লোক ছিল।
কোনও কোনও বর্ণনায় আছে, তিনি যাচ্ছিলেন হযরত সা'দ ইবন উবাদা রাযি.-কে দেখতে। তিনি অসুস্থ ছিলেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসটির নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত লোকদের সালাম দিলেন। বলাবাহুল্য তাঁর সে সালামের লক্ষ্যবস্তু ছিল মুসলিমগণ। কেননা অমুসলিমদের সালাম দেওয়া যায় না। হাদীসে আছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা ইহুদি ও নাসারাকে আগে সালাম দিয়ো না। (সহীহ মুসলিম : : ২১৬৭; জামে তিরমিযী : ২৭০০; মুসনাদে আহমাদ: ৮৫৪০; মুসনাদুল ববযার: ৯০৫২; তহাবী, শারহু মা'আনিল আছার: ৭২৬০; বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান : ৮৫১২)
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. যেখানে মুসলিম-অমুসলিম সবরকম লোক থাকে, সেরকম জায়গায় গেলে সালাম দেওয়া চাই। তাতে লক্ষ্যবস্তু থাকবে মুসলিমগণ।
খ. প্রয়োজনে অমুসলিমদের সঙ্গে এক মজলিসে উপস্থিত থাকা যেতে পারে। তবে সতর্ক থাকতে হবে যাতে নিজের উপর তাদের কোনও প্রভাব না পড়ে।
কোনও কোনও বর্ণনায় আছে, তিনি যাচ্ছিলেন হযরত সা'দ ইবন উবাদা রাযি.-কে দেখতে। তিনি অসুস্থ ছিলেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসটির নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত লোকদের সালাম দিলেন। বলাবাহুল্য তাঁর সে সালামের লক্ষ্যবস্তু ছিল মুসলিমগণ। কেননা অমুসলিমদের সালাম দেওয়া যায় না। হাদীসে আছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা ইহুদি ও নাসারাকে আগে সালাম দিয়ো না। (সহীহ মুসলিম : : ২১৬৭; জামে তিরমিযী : ২৭০০; মুসনাদে আহমাদ: ৮৫৪০; মুসনাদুল ববযার: ৯০৫২; তহাবী, শারহু মা'আনিল আছার: ৭২৬০; বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান : ৮৫১২)
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. যেখানে মুসলিম-অমুসলিম সবরকম লোক থাকে, সেরকম জায়গায় গেলে সালাম দেওয়া চাই। তাতে লক্ষ্যবস্তু থাকবে মুসলিমগণ।
খ. প্রয়োজনে অমুসলিমদের সঙ্গে এক মজলিসে উপস্থিত থাকা যেতে পারে। তবে সতর্ক থাকতে হবে যাতে নিজের উপর তাদের কোনও প্রভাব না পড়ে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)