মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ২০৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে মদীনার ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের শত্রুতার বিবরণ
২০৪. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন ইয়াহূদীগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আবুল কাসিম! আমরা আপনাকে পাঁচটি প্রশ্ন করব। আপনি যদি সেগুলোর সঠিক উত্তর দিতে পারেন তাহলে আমরা বুঝে নিব যে, আপনি সত্য নবী এবং আমরা তখন আপনার অনুসরণ করব। اللهُ عَلَى مَا نَقُولُ وَكِيلٌ (সূরা ইউসুফ: ৬৬) আয়াতে বর্ণিত পুত্রদের নিকট থেকে হযরত ইয়াকূব ওরফে ইসরাঈল (আ) এর গৃহীত অঙ্গীকারের ন্যায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের অঙ্গীকার নিলেন। এরপর তিনি বললেন, তোমাদের প্রশ্নগুলো উপস্থাপন কর। তারা বলল, নবীর চিহ্ন কি? তা আমাদেরকে বলুন। তিনি বললেন নবীর চক্ষুদ্বয় ঘুমায় অন্তর ঘুমায় না। তারা বলল, বাচ্চা কীভাবে পুরুষ কিংবা মহিলা হয়ে জন্ম নেয়? তিনি বলেন মায়ের জরায়ুতে স্বামী এবং স্ত্রীর বীর্য একত্রিত হয়। সেখানে স্বামীর বীর্যের উপর স্ত্রীর বীর্য প্রাধান্য ও শক্তিশালী হলে বাচ্চা মেয়ে হয় আর স্ত্রীর বীর্যের উপর স্বামীর বীর্য প্রাধান্য ও শক্তিশালী হলে বাচ্চাটি ছেলে হয়। তারা বলল, বলুন তো ইসরাঈল তথা ইয়াকূব নবী (ﷺ) কি কি দ্রব্য তাঁর নিজের জন্যে নিষিদ্ধ করেছিলেন? তিনি বললেন হযরত ইয়াকূব (আ) ইরকুন্নাসা বা সাইটিকা বাত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এসময়ে রুচিকর দ্রব্য বলতে একমাত্র উটের দুধই ছিল তাঁর পছন্দের ও প্রিয়ের। অপর বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি উটের গোশত হারাম ও নিষিদ্ধ করে নিয়েছিলেন তার নিজের জন্যে। তারা বলল, ঠিকই বলেছেন। এরপর তারা বলল, এই বজ্রপাতের রহস্য কী? তিনি বললেন, এটি হল ফিরিশতাগণের মধ্যে একজন ফিরিশতার বিষয়। মহান আল্লাহ্ তাকে বৃষ্টির দায়িত্ব দিয়েছেন। তার হাতে রয়েছে আগুনের হাতুড়ি। সেটি দিয়ে ভয় দেখিয়ে মেঘমালাকে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী হাঁকিয়ে নিয়ে যায়। তারা বলল, যে শব্দ শোনা যায় সেটির কী অবস্থা? তিনি বললেন সেটি ওই ফিরিশতার শব্দ। তারা বলল, আপনি ঠিক বলেছেন। তবে আর একটি প্রশ্ন বাকী রয়েছে। সেটির সঠিক উত্তর দিতে পারলে আমরা আপনার অনুসরণ করব। সকল নবীর সাথে এক একজন বিশেষ ফিরিশতা থাকে, যে তাঁর নিকট পবিত্র বাণী নিয়ে আসে। এখন বলুন আপনার জন্যে নির্ধারিত ফিরিশতাটি কে? তিনি বললেন সে হল জিব্রাঈল। তারা বলল, হায় জিবরাঈল। সেতো যুদ্ধ বিগ্রহ এবং আযাব-গযব নিয়ে আসে, সে তো আমাদের দুশমন। আপনি যদি মীকাঈলের কথা বলতেন তাহলে তা সংগত হত। কারণ মীকাঈল রহমত, ফল-ফসল এবং বৃষ্টি নিয়ে আসে। তখন মহান আল্লাহ্ নাযিল করলেন-
قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ .
বলুন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু এজন্যে যে, সে আল্লাহর নির্দেশে আপনার হৃদয়ে কুরআন পৌছিয়ে দিয়েছে, যা সেটির পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক এবং মুমিনদের জন্য পথ প্রদর্শক ও শুভ সংবাদ (সূরা বাকারা: ৯৭)।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مناوأة اليهود ومنافقي المدينة للنبي - صلى الله عليه وسلم
عن ابن عباس (2) قال أقبلت يهود الي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقالوا يا أبي القاسم انا نسألك عن خمسة أشياء فإن أنبأتنا بهن عرفنا انك نبي واتبعناك، فأخذ عليهم ما أخذ اسرائيل علي بنيه اذ قال (الله علي ما نقول وكيل) قال هاتوا، قالوا أخبرنا عن علامة النبي؟ قال تنام عيناه ولا ينام قلبه، قالوا أخبرنا كيف تؤنث المرأة وكيف تذكر؟ يلتقي الما آن فاذا علا ماء الرجل ماء المرأة أذكرت واذا علا ماء المرأة ماء الرجل آنثت، قالوا أخبرنا ما حرم اسرائيل علي نفسه؟ قال كان يشتكي عرق النسا فلم يجد شيئا يلائمه الا البان كذا، وكذا قال أبي قال بعضهم يعني الأبل فحرم لحومها، فقالوا صدقت، قالوا أخبرنا ما هذا الرعد؟ قال ملك من ملائكة الله عز وجل موكل بالسحاب بيديه أو في يده مخراق من ناريز جر به السحاب يسوقه حيث أمر الله، قالوا فما هذا الصوت الذي يسمع؟ قال صوته قالوا صدقت، انما بقيت واحدة وهي التي نبايعك إن أخبرتنا بها فأنه ليس من نبي الا له ملك يأتيه بالخبر، فأخبرنا من صاحبك؟ قال جبريل عليه السلام، قالوا جبريل ذاك الذي ينزل بالحرب والقتال والعذاب عدونا، ولو قلت ميكائيل الذي ينزل بالرحمة والنبات والقطر لكان: فأنزل الله عز وجل (من كان عدوا لجبريل) إلي آخر الآية
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান