মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৮৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: মুহাজির এবং আনসারগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ও চুক্তি সম্পাদন
১৮৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা) মদীনায় আসার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মধ্যে এবং সা'দ ইবন রাবী' এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। তখন সা'দ ইবন রাবী' আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা) কে বললেন আমার সম্পদাদি দু'ভাগ করে এক ভাগ আমি আপনাকে দিয়ে দিব এবং আমার দুজন স্ত্রী রয়েছে তাদের একজনকে আমি তালাক দিয়ে দিব, তার ইদ্দত পূর্ণ হলে আপনি তাকে বিয়ে করবেন। আবদুর রহমান (রা) বললেন, মহান আল্লাহ্ আপনার পরিবারে ও সম্পদে বরকত দিন। আপনারা আমাকে বরং একটি বাজারের সন্ধান দিন। তাঁরা তাঁকে একটি বাজার দেখিয়ে দিলেন। তিনি বাজারে গেলেন এবং ব্যবসা করে মুনাফারূপে কিছু পনীর ও ঘি নিয়ে ফিরে এলেন। এর কিছুদিন পর তাঁর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাক্ষাত ঘটে। তখন তাঁর মুখে যাফরান প্রসাধনীর কিছু চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনন্দিত স্বরে বললেন, ব্যাপার কী? তিনি উত্তরে বললেন, জনৈকা আনসারী মহিলাকে বিয়ে করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানতে চাইলেন যে, কী পরিমাণ দেনমোহর দেয়া হয়েছে? তিনি বললেন শস্য পরিমাণ স্বর্ণ, হুমায়দ-এর বর্ণনায় এসেছে যে, শস্যের ওজনমত স্বর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন অন্তত একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমার আয়োজন কর।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب جاء في المؤاخاة والمحالفة بين المهاجرين والأنصار
عن أنس بن مالك (1) قال لما قدم عبد الرحمن بن عوف المدينة آخي النبي - صلى الله عليه وسلم - بينه وبين سعد بن الربيع فقال اقاسمك مالي نصفين ولي امرأتان فأطلق إحداهما فاذا انقضت عدتها فتزوجها، فقال بارك الله لك في أهلك ومالك، دلوني علي السوق، فدلوه فانطلق فما رجع الا ومعه شئ (2) من افط وسمن قد استفضله فرآه رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بعد ذلك وعليه وضر من صفرة (3) فقال مهيم؟ قال تزوجت امرأة من الانصار، قال ما اصدقتها؟ قال نواة من ذهب قال حميد أو وزن نواة من ذهب، فقال أولم ولو بشاة

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ওলীমা বলা হয় ওই দাওয়াতের অনুষ্ঠানকে, যা বিবাহের পর ছেলের বাড়িতে করা হয়ে থাকে। এটা করা সুন্নত। হযরত আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাযি. বিবাহ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে হুকুম করলেন أولم ولو بشاة “তুমি ওলীমা কর, যদিও একটি ছাগল দ্বারা হয়।২৯৫
ওলীমার অনুষ্ঠান যখন সুন্নত, তখন সামর্থ্য অনুযায়ী এটা করা উচিত। আর এটা যেহেতু সুন্নত, তখন করাও উচিত সুন্নতের মর্যাদা রক্ষা করে শরীআতবিরোধী কোনও কর্মকাণ্ড তাতে যুক্ত করা বাঞ্ছনীয় নয়। ওলীমার অনুষ্ঠান যদি শরীআতবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত হয়, তবে তার দাওয়াত কবুল করা চাই। এক হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন إذا دعي أحدكم إلى الوليمة فليأتها ‘তোমাদের কাউকে ওলীমার দাওয়াত দেওয়া হলে সে যেন তাতে আসে।২৯৬

ওলীমার দাওয়াত কবুল করা জরুরি কেবল তখনই, যখন তাতে আপত্তিকর কিছু না থাকে। যদি তাতে আপত্তিকর কিছু থাকে, তখন তা কবুল করা জরুরি নয়। ইদানীংকার অধিকাংশ দাওয়াতই এমন, যাতে যাওয়ার পরিবেশ থাকে না। সুন্নত দাওয়াতকেও নানারকম পাপাচারে পঙ্কিল করে ফেলা হয়েছে। ওলীমার দাওয়াত সুন্নত। কিন্তু আজকাল অধিকাংশ ওলীমার অনুষ্ঠান সহীহ পন্থায় হয় না। তাতে গানবাদ্য থাকে, পর্দার পরিবর্তে থাকে পর্দাহীনতার প্রতিযোগিতা, নারী-পুরুষ একই জায়গায় বসে খাওয়া-দাওয়া করা হয়, থাকে উপহারের প্রদর্শনী ও উপহার লেনদেনের সামাজিক বাধ্যবাধকতা, এছাড়াও নানারকম অনুচিত উপসর্গ। দীনদার ব্যক্তির এ জাতীয় দাওয়াতে যাওয়ার কোনও উপায় থাকে না। তাদের বরং না যাওয়াই উচিত। হাঁ, যদি সেখানে গিয়ে আপত্তিকর বিষয়গুলো অপসারণ করতে পারবে বলে আত্মবিশ্বাস থাকে, তবে ভিন্ন কথা। আগেও এরকম শর্ত দেওয়া যেতে পারে যে, অনুষ্ঠানে আপত্তিকর কিছু করা চলবে না। তারপর যাওয়ার পর যদি দেখা যায় যথাযথভাবে কথা রাখা হয়নি, তবে কোনও কিছুর পরওয়া না করে ফিরে আসবে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ছবিযুক্ত পর্দা দেখে নিজ ঘরেই ঢোকা হতে বিরত থেকেছিলেন। একবার মেয়ে-জামাতা হযরত ফাতিমা রাযি. ও হযরত আলী রাযি.-এর বাড়ি থেকেও ফিরে এসেছিলেন। একবার হযরত আবূ আইয়ূব আনসারী রাযি. এক দাওয়াতে গিয়ে দেখতে পান দেওয়ালে পর্দা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কেন অর্থের এ অপচয়, এ কারণে তিনি সেখান থেকে ফিরে আসেন। তাঁরা আমাদের আদর্শ। তাঁদের পথে চলাতেই সঠিক সমাজগঠন ও সমাজ সংস্কারে সফলতা নির্ভর করে।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. ওলীমা করা সুন্নত।

খ. সামর্থ্য অনুযায়ী ওলীমা করা উচিত।

২৯৫. সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ২০৪৮; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ১৪২৭; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীছ নং ২১০৯; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ১০৯৪; সুনানে নাসাঈ, হাদীছ নং ৩৩৫১; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ১৯০৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ১২৬৮৫, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীছ নং ১০৪১০; মুসান্নাফে ইবন আবী শাইবা, হাদীছ নং ১৭১৫৯

২৯৬. সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৫১৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ১৪২৯; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীছ নং ২৭৩৬; নাসাঈ, আস্ সুনানুল কুবরা, হাদীছ নং ৬৫৭৩; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীছ নং ৫২৯৪; বায়হাকী, আস্ সুনানুল কুবরা, হাদীছ নং ১৪৫১৩; বাগাবী, শারহুস্ সুন্নাহ, হাদীছ নং ২৩১৩
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান