মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৮৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
অনুচ্ছেদ: মদীনায় নবী (ﷺ)-এর মসজিদ নির্মাণ
১৮৩. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় এসে সেখানকার উঁচু অঞ্চলে বানু আমর ইব্‌ন আওফ গোত্রে অবতরণ করেছিলেন। চৌদ্দ রাত তিনি সেখানে অবস্থান করেছিলেন। এরপর তিনি বানু নাজ্জার গোত্রের লোকদেরকে ডেকে পাঠালেন। তারা গলায় তরবারি ঝুলিয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়। বর্ণনাকারী বলেন আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর বাহনে উপবিষ্ট, আবু বকর (রা) তাঁর পেছনে এবং বানু নাজ্জারের নেতৃবর্গ তাঁর চারপাশে প্রহরা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে। আবূ আইয়ুব (রা)-এর বাসস্থানের পাশে তিনি অবতরণ করলেন। যেখানে নামাযের সময় হতো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানেই নামায আদায় করে নিতেন। তিনি বকরী-শালায়ও নামায আদায় করতেন। এরপর তিনি মসজিদ তৈরির নির্দেশ দিলেন। বানু নাজ্জার গেত্রের লোকদেরকে তিনি ডেকে বললেন, তোমাদের এই বাগানটির মূল্য কত তা আমাকে জানাও। তারা বলল, আল্লাহর কসম আমরা এটির মূল্য একমাত্র আল্লাহর নিকটই চাইব।
বর্ণনাকারী বলেন আমি তোমাদেরকে যেমনটি বলছি যে, সেখানে মুশরিক লোকদের কবর ছিল এবং সেখানে শস্যক্ষেত ও খেজুর গাছ ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশে কবরগুলো উপড়ে ফেলা হল, ক্ষেতগুলো সমান করে দেয়া হল এবং খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হল। এরপর খেজুর গাছগুলোকে মসজিদের কিবলার দিকে স্থান করা হল এবং দুপাশের দেয়াল তৈরী করল পাথর দিয়ে। তারা পাথরগুলো বহন করছিল আর সুর করে নিম্নের পংক্তি উচ্চারণ করছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও ওদের সাথে সাথে ছন্দাকারে বলছিলেন-
হে আল্লাহ্! পরকালীন কল্যাণ ছাড়া প্রকৃত কল্যাণ নেই, মুহাজির এবং আনসারগণকে আপনি সাহায্য করুন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ماجاء في بناء مسجد النبي - صلى الله عليه وسلم - بالمدينة
عن أنس بن مالك (6) قال لما قدم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - نزل في علو (7) المدينة في حي يقال لهم بنو عمرو بن عوف فأقام فيهم أربع عشرة ليلة ثم أنه أرسل الي ملأ (8) من بني النجار (9) قال فجاءوا متقلدين سيوفهم (10) قل فكأني أنظر الي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - على راحلته وأبو بكر ردفه وملأ بني النجار حوله حتي القي بفناء (1) أبي أيوب قال فكان يصلي حيث أدركته الصلاة ويصلي في مرابض (2) الغنم ثم امر بالمسجد فأرسل الي ملأ من بني النجار فجاءوا فقال يابني النجار ثامنوني (3) حائطكم هذا، فقالوا والله لانطلب ثمنه إلا الي الله (4) قال وكان فيه ما أقول لكم كانت فيه قبور المشركين وكان فيه حرث (5) وكان فيه نخل فأمر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بقبور المشركين فنبشت وبالحرث فسويت وبالنخل فقطع، قال فصفوا النخل الي قبلة المسجد (6) وجعلوا عضاد تيه حجارة قال وجعلوا ينقلون ذلك الصخر وهم يرتجزون (7) ورسول الله - صلى الله عليه وسلم - معهم يقول {اللهم لاخير إلا خير الآخرة * فأنصر الأنصار (8) والمهاجرة}

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিকবার বলেছেন। এর দ্বারা তিনি সাহাবীদের বুঝাচ্ছিলেন যে, দেখ দুনিয়ার কষ্ট স্থায়ী কিছু নয়। দুনিয়া যেমন ক্ষণস্থায়ী, তেমনি এর কষ্ট-ক্লেশও ক্ষণস্থায়ী। তোমরা কষ্ট করছ আল্লাহর জন্য। একদিন কষ্ট থাকবে না। কিন্তু এর পুরস্কারস্বরূপ অনন্ত অসীম আখিরাতে তোমরা অফুরন্ত সুখ-শান্তি ভোগ করতে পারবে।

আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাক্যটির মাধ্যমে যেন উম্মতকে সতর্ক করছেন, দুনিয়ার কোনও সফলতা, সমৃদ্ধি কিংবা অন্য কোনও আনন্দদায়ক বস্তু অর্জিত হয়ে যাওয়ায় তোমরা খুশিতে মেতে যেয়ো না। কারণ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সবই ক্ষণস্থায়ী। স্থায়ী সুখ ও আনন্দ কেবল আখিরাতেই আছে। তাই আসল লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত আখিরাতের সফলতা। সর্বাবস্থায় সে চিন্তা-চেতনা অন্তরে জাগ্রত রেখো।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

দুনিয়ার সুখ-দুঃখ, আরাম-কষ্ট কোনও অবস্থায়ই আখিরাতের কথা ভুলে যেতে নেই। সর্বাবস্থায় মন-মস্তিষ্কে এ চেতনা জাগ্রত রাখা চাই যে, আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন। তাই সে জীবনে মুক্তিলাভ করাই হবে জীবনের আসল লক্ষ্যবস্তু।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান