মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৪৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: সুরাকা ইব্‌ন মালিকের সাথে রাসূল (ﷺ) ও আবু বকরের ঘটনা এবং মদীনায় যাওয়ার পথে তাঁদের সাথে তার কথোপকথন
(১৪৮) সুরাকা ইবন মালিক ইব্‌ন জু'শুমের ভাতিজা আবদুর রহমান বিন মালিক আল-মুদলিজী বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি সুরাকাকে বলতে শুনেছেন- আমাদের কাছে মক্কার কুরাইশ গোত্রীয় কাফিরদের বার্তাবাহকেরা এসে এই মর্মে ঘোষণা দেয় যে, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবু বকরকে (একত্রে অথবা পৃথকভাবে) যে কেউ হত্যা করলে অথবা বন্দী করলে তার জন্যে রয়েছে (উচ্চ মূল্যমানের) পুরস্কার। আমি ঐ সময় আমার বনু মুদলিজ গোত্রীয় বৈঠকসমূহের কোন একটি বৈঠকে বসে ছিলাম। এমন সময় তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমাদের কাছে এগিয়ে এল এবং বললো, হে সুরাকা, আমি একটু আগে সমুদ্র তীরবর্তী রাস্তায় কয়েকজন লোকের একটি ক্ষুদ্র দল দেখলাম; আমার বিশ্বাস এটি মুহাম্মদ ও তার সাথীদের দল হবে। সুরাকা বললো, আমি বুঝতে পারলাম যে, ঐ দলটি নিশ্চয় তাদেরই সেই দল। কিন্তু আমি (মুখে) বললাম, না এটি তাদের সেই দল নয়, আমি তো একটু আগে দেখেছি অমুক অমুক ঐ দিক দিয়ে চলে যাচ্ছিল। অতঃপর কিছু সময় আমি ঐ মজলিসেই বসে থাকলাম। এরপর সেখানে থেকে উঠে এসে গৃহে প্রবেশ করলাম এবং আমার দাসীকে নির্দেশ দিলাম আমার ঘোড়াটি বের করতে। ঘোড়াটি তখন একটি টিলার পিছনে ঘাস খাচ্ছিল। দাসী ঘোড়াটি নিয়ে এল। আমি আমার বল্লমটি নিয়ে ঘর থেকে বের হলাম। (এসবই সে করছিল অতি সন্তর্পণে এককভাবে পুরস্কার লাভের আশায়)। বল্লমের সাহায্যে মাটিতে রেখা টানলাম এবং বল্লমের উপরের অংশটি নীচের দিকে নামিয়ে দিলাম (যাতে দূর থেকে কেউ বুঝতে না পারে)। ঘোড়ার কাছে এসে তাতে আরোহণ করলাম এবং দ্রুত হাঁকিয়ে দিলাম। (অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই) ঘোড়া আমাকে নিয়ে তাদের (মুহাম্মদ ও আবু বকরের) দলের কাছাকাছি পৌছে গেল। যখন তাদের এত কাছে এসে পৌছালাম যে তাদের কথাবার্তার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল, তখন হঠাৎ ঘোড়া হোঁচট খেল এবং আমি পড়ে গেলাম। আমি উঠে দাঁড়িয়ে তীর ভর্তি তুনীর থেকে শুভাশুভ নির্ণয়ের জন্য একটি তীর হাত দিয়ে বের করে নিলাম। আমি তীরের সাহায্যে যাত্রার ভাগ্য পরীক্ষা করলাম, অর্থাৎ শুভ না কি অশুভ। পরীক্ষায় দেখা গেল নেতিবাচক (অশুভ) তীর বের হয়ে আসলো অর্থাৎ আমি তাঁদের কোন ক্ষতি করতে পারবো না। কিন্তু আমি এই পরীক্ষার ফলাফল উপেক্ষা করে পুনরায় ঘোড়ায় সওয়ার হলাম এবং দ্রুত হাঁকিয়ে দিলাম। (সহজেই) তাদের কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। (আবারও) আমার ঘোড়া হোঁচট খেল। আমি ছিটকে পড়ে গেলাম। এবার উঠে হাত বাড়িয়ে তৃনীর থেকে একটি তীর বের করে যাত্রার ভাগ্য পরীক্ষা করলাম। এবারও সেই নেতিবাচক (অশুভ) তীর উঠে আসলো, যার অর্থ হচ্ছে, আমি তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারবো না। আমি ভাগ্য পরীক্ষার ফলাফল উপেক্ষা করে আবার ঘোড়ায় চাপলাম এবং দ্রুত হাঁকিয়ে দিলাম। (একটু পরেই) তাদের কাছাকাছি এসে পৌছালাম। এত কাছে পৌঁছালাম যে, নবীর (ﷺ) ক্বিরাত শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু তিনি মোটেও বিচলিত ছিলেন না (আমার দিকে ভ্রুক্ষেপ করছিলেন না)। কিন্তু আবু বকর (রা) বারংবার এদিক-সেদিক তাকাচ্ছিলেন (বিচলিত বোধ করছিলেন)। (এমন সময় হঠাৎ) আমার ঘোড়ার সম্মুখের পদদ্বয় মাটিতে দেবে গেল; হাঁটু পর্যন্ত পুঁতে গেল। আমি ছিটকে পড়ে গেলাম। অনেক পীড়াপীড়ি ও চেষ্টা তদবীর করেও ঘোড়া তার পা উঠাতে পারছিল না। (পরিশেষে) ঘোড়া যখন স্বাভাবিক অবস্থায় দাঁড়ালো দেখা গেল ঘোড়ার পায়ে কোন (ধূলাবালি বা ময়লার) চিহ্ন নেই। বরং তা থেকে আকাশে উছান বা সুস্পষ্ট ধোঁয়া উৎক্ষিপ্ত হচ্ছিল। রাবী বলেন, আবু আমর ইব্‌নল আলাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম 'উছান' (عثان) কী? তিনি কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর বললেন, 'উছান' হচ্ছে অগ্নিবিহীন ধোঁয়া। যুহরী তাঁর হাদীসে বলেছেন- আযলামের (তীর) সাহায্যে ভাগ্য পরীক্ষায় যখন দেখা গেল যে, আমি তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারবো না, তখন আমি তাঁদেরকে নিরাপত্তার সাথে (নির্ভয় দিয়ে) ডাক দিলাম। তাঁরা থামলেন। আমি ঘোড়ায় চড়ে তাঁদের কাছে পৌছালাম। সাক্ষাতের সময় বারংবার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আমার মন বলছিল, নিশ্চয় রাসূলের (ﷺ) বিষয়টি (নবুয়ত) প্রকাশ পাবে এবং বিজয়ী হবে। তখন আমি তাঁকে বললাম যে, আপনার কওম আপনার বিষয়ে পুরস্কার ঘোষণা করেছে (অর্থাৎ আপনাকে হত্যা অথবা বন্দী করতে পারলে অনেক পুরস্কার দেওয়া হবে)। তাছাড়া আমি তাঁদেরকে তাঁদের সফরের বিষয়ে খবরাখবর দিলাম এবং লোকজন তাঁদের পেছনে কিভাবে হন্যে হয়ে খুঁজছে, তাও বললাম। এরপর আমি তাঁদেরকে কিছু মাল-সামান (খাদ্য বা সফর সামগ্রী) পেশ করলাম। কিন্তু তাঁরা কিছুই গ্রহণ করেননি। তাঁরা শুধু তাঁদের অবস্থান বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য আমাকে অনুরোধ করলেন। আমি তাঁকে অনুরোধ জানালাম তিনি যেন আমাকে একটি বিদায়ী পত্রে নিরাপত্তা লিখে দেন। তিনি আমার অনুরোধক্রমে আমির ইবন্ ফুহাইরাকে (রা) নির্দেশ দিলেন। তিনি চামড়ার একটি টুকরায় তা লিখে দিলেন। অতঃপর তারা (মদীনার উদ্দেশ্যে) চলে গেলেন।
(বুখারী, ইবন ইসহাক ও অন্যান্য)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قصتهما مع سراقه بن مالك وما جرى لهما فى الطريق
حدّثنا عبد الرازق عن معمر عن الزهرى قال الزهرى واخبرنى عبد الرحمن بن مالك المدلجى وهو ابن أخى سراقة بن مالك بن جشعم ان اباه اخبره أنه سمع سراقة يقول جاءنا رسل كفار قريش يجعلون فى رسول الله صلى الله عليه وسلم وفى أبى بكر رضي الله عنه دية كل واحد منهما لمن قتلهما أو أسرهما فبينا انا جالس فى مجلس من مجالس قومى بنى مدلج اقبل رجل منهم حتى قام علينا فقال يا سراقة انى رأيت آنفا اسودة بالساحل انى أراها محمدًا وأصحابه، قال سراقة فعرفت أنهم هم فقلت انهم ليسوا بهم ولكن رأيت فلانا وفلانا انطلق آنفا قال ثم لبثت فى المجلس ساعة حتى قمت فدخلت بيتى فأمرت جاريتى أن تخرج لى فرسى وهى من وراء أكمة فتحبسها على وأخذت رمحى فخرجت به من ظهر البيت فخططت برمحى الأرض وخفضت عالية الرمح حتى اتيت فرسى فركبتها فرفعتها تقرب بى حتى رايت أسودتهما فلما دنوت منهم حيث يسمعهم الصوت عثرت بى فرسى فخررت عنها فقمت فأهويت بيدى الى كنانتى فاستخرجت منها الأزلام فاستقسمت بها أضرهم أم لا فخرج الذي اكره أن لا أضرهم فركبت فرسى وعصيت الأزلام فرفتها تقرب لى حتى اا دنوت منهم عثرت بى فرسى فخررت عنها فقمت فأهوبت بيدى الى كنانتى فأخرجت الأزلام فاستقسمت بها فخرج الذى أكره ان لا اضرهم، فعصيت الأزلام وركبت فرسى فرفعتها تقرب بى حتى اذا سمعت قراءة النبى صلى الله عليه وسلم وهو لا يلتفت وأبو بكر رضي الله عنه يكثر الالتفات ساخت يدا فرسى فى الارض حتى بلغت الركبتين فخررت عنها فزجرتها فنهضت فلم تكد تخرج يديها فلما استوت قائمة اذ لا أثر بها عثان ساطع فى السماء مثل الدخان قلت لأبى عمرو بن العلاء مالعثان؟ فسكت ساعة ثم قال هو الدخان من غير نار قال الزهرى فى حديثه فاستقسمت بالازلام فخرج الذى اكره ان لا أضرهم فناديتهما بالأمان فوقفوا فركبت فرسى حتى جئتهم فوقع فى نفسي حين لقيت ما لقيت من الحبس عنهم انه سيظهر أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت له ان قومك قد جعلوا فيك الدية وأخبرتهم من أخبار سفرهم وما يريد الناس بهم وعرضت عليهم الزاد والمتاع فلم يرزءونى شيئًا ولم يسألونى الا ان أخف عنا فسألته ان يكتب لى كتاب موادعة آمن به، فأمر عامر ابن فهيرة رضي الله تبارك وتعالى عنه فكتب لى فى رقعة من أديم ثم مضى
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান