মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: সুরাকা ইব্ন মালিকের সাথে রাসূল (ﷺ) ও আবু বকরের ঘটনা এবং মদীনায় যাওয়ার পথে তাঁদের সাথে তার কথোপকথন
(১৪৭) বারা ইব্ন আযিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর (রা) একদা আযিবের নিকট থেকে তের দিরহামের বিনিময়ে একটি জিন ক্রয় করেন। তারপর তিনি আযিবকে অনুরোধ করলেন যে, বারাকে বলুন, জিনটি আমার বাসায় যেন পৌছে দেয়। আযিব বললেন, (ঠিক আছে) তার আগে আপনি (দয়া করে) বলুন কীভাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আপনাকে সাথে নিয়ে মক্কা থেকে বের হয়ে আসলেন। তখন আবূ বকর (রা) বললেন, আমরা রওয়ানা করেছিলাম রাত্রির প্রথম অথবা শেষ প্রহরে, আমরা দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম এবং শেষপর্যন্ত যোহরের সময় সেখানে পৌছালাম। তখন দ্বিপ্রহরের গরম ও উত্তাপের তীব্রতা ছিল প্রচণ্ড। আমি চতুষ্পার্শে দৃষ্টিপাত করে কোথাও ছায়া পাওয়া যায় কি না তা দেখতে লাগলাম, যাতে করে আমরা ছায়ার নীচে একটুখানি আশ্রয় নিতে পারি। এমন সময় একটি বিশাল পাথর দেখতে পেলাম, কাছে গিয়ে দেখতে পেলাম তার ছায়া অবশিষ্ট আছে। আমি রাসূলের (ﷺ) জন্যে জায়গাটি সমান করে দিলাম এবং তার জন্য একটি চামড়া বিছিয়ে দিলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ), আপনি শুয়ে বিশ্রাম করুন। এরপর বাইরে এসে আমি লক্ষ্য করলাম যে, যারা আমাদের খুঁজে বেড়াচ্ছিল, তাদের কাউকে দেখা যায় কি না। এমন সময় আমি একজন মেষপালককে দেখতে পেলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কার শ্রমিক হে যুবক? সে উত্তর দিল, আমি কুরাইশ গোত্রীয় এক ব্যক্তির শ্রমিক। সে তার মনিবের নাম বললো এবং তাকে চিনতে পারলাম। (যাহোক) আমি তাকে বললাম, তোমার পালের কোন বক্রি বা ছাগলের দুধ আছে কি? সে বললো, হ্যাঁ, আমি বললাম, তুমি কি আমার জন্য (কিছু পরিমাণ) দুধ দোহন করবে? সে বললো, হ্যাঁ। আমি তাকে নির্দেশ দিলাম, তবে দাও। তখন সে একটি ছাগী পাল থেকে বেঁধে নিল। এরপর আমার নির্দেশক্রমে সে ছাগীর উলানের ধূলাবলি পরিষ্কার করলো। তারপর আমার নির্দেশক্রমে তার হাতের তালুদ্বয় থেকে ধুলাবালি পরিষ্কার করে নিল। তার দুধ দোহন করার পাত্রটি আমি ধরে রাখলাম, ঐ পাত্রের মুখে একটি ছাঁকনী ছিল। সে আমার জন্য এক পেয়ালা পরিমাণ দুধ দোহন করলো। আমি পাত্রের নিম্নাংশে পানি ছিটিয়ে দিলাম, ফলে পাত্রের নিম্নাংশ ঠাণ্ডা হলো। এরপর আমি রাসূলের (ﷺ) কাছে এসে ডাক দিলে তিনি জাগ্রত হন। তখন আমি বললাম, (এটি) পান করুন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)। তিনি পান করলেন। আমার হৃদয় খুশীতে ভরে গেল। এরপর আমি বললাম, কখন যাত্রা শুরু করবেন? আমরা (তৎক্ষণাৎ) যাত্রা শুরু কলাম; আর শত্রুরা আমাদের খুঁজে ফিরছে। কিন্তু একমাত্র সুরাকা ইব্ন মালিক ইবন্ জু'শুম তাঁর ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে আমাদের কাছাকাছি পৌছাতে সক্ষম হলো। সে ছাড়া অন্য কেউ আমাদের নাগাল পায়নি। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) এই সন্ধানী তো আমাদেরকে তার নাগালে পেয়ে গেছে। রাসূল (ﷺ) বললেন, দুশ্চিন্তা করবেন না, আল্লাহ্ আমাদের সাথে রয়েছেন। কিন্তু সে আমাদের খুব কাছাকাছি এসে পৌঁছে গেছে, আর মাত্র এক, দুই অথবা তিনটি তীর নিক্ষেপের সমান দূরত্বে এসে গেছে। আমি (ভয়ে) কেঁদে ফেললাম। রাসূল (ﷺ) বললেন, কাঁদছো কেন? আমি বললাম, আল্লাহর শপথ, আমি আমার জন্য কাঁদছি না, আমি কাঁদছি আপনার জন্য (আপনার জীবনাশঙ্কায়)। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূল (ﷺ) তার উপর বদ দোয়া করে বললেন, হে আল্লাহ্, আপনি যেভাবে খুশী তার আক্রমণ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। ফলে সুরাকার ঘোড়ার পাগুলো পাকস্থলী পর্যন্ত শুষ্ক ও শক্ত মাটিতে দেবে গেল এবং সে আছড়ে পড়ে গেল। সে পড়ে গিয়ে বললো, হে মুহাম্মদ, আমি জানি এটি আপনারই কাজ। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করুন যাতে তিনি আমাকে এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন। আল্লাহর শপথ, আমি আমার পেছনে যেসব ধাওয়াকারী আছে, তাদের দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করে দেব (যাতে তারা আপনার সন্ধান না পায়)। এই যে আমার তৃনীর, এখান থেকে আপনি একটি তীর উঠিয়ে নিন; আপনি সম্মুখে অমুক অমুক স্থানে আমার উট ও ছাগলের পালের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবেন; সেই পাল থেকে আপনি আপনার প্রয়োজনানুসারে নিয়ে নিবেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, আমার তাতে কোন প্রয়োজন নেই। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার জন্য দোয়া করলেন, সে মুক্ত হয়ে তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে গেল। (এদিকে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে অগ্রসর হতে থাকেন এবং একপর্যায়ে আমরা মদীনায় এসে উপস্থিত হই। মদীনার লোকজন তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে আসতে থাকে; (তারা তাঁকে দেখার জন্য) ঘর-বাড়ী ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে এবং খোলা ছাদের উপর আরোহণ করে। উৎসুক জনতা এবং ছোট্ট ছেলে-মেয়েরা রাস্তায় এসে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে থাকে। তারা বলতে থাকে, রাসূল (ﷺ) এসে গেছেন। মুহাম্মদ এসে গেছেন। রাসূল (ﷺ) কোথায় উঠবেন (কার মেহমান হবেন), এ নিয়ে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আজকের (প্রথম) রজনীতে আমি আবদুল মুত্তালিবের মামার গোষ্ঠী বনূ নাজ্জারের গোত্রে তাদের সম্মানার্থে আতিথ্য গ্রহণ করবো। সকাল হলে পরবর্তীতে তিনি আদিষ্ট স্থানে চলে গেলেন।
বারা ইব্ন 'আযিব বলেন, মুহাজিরগণের মধ্যে সর্বপ্রথম আমাদের মাঝে আগমন করেন মুস'আব ইবন 'উমাইর (বনূ আবদুদ্ দার গোত্রীয় মুহাজির), তারপর আসেন ইবন্ উম্মি মাকতৃম (যিনি অন্ধ ছিলেন এবং বনূ ফিহর গোত্রীয় ছিলেন)। তাঁর পর উমর ইবনল খাত্তাব (রা) বিশজনের দল নিয়ে সওয়ার হয়ে আসেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কী করেছেন? তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমার পরেই আগমন করবেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমন করেন। আবু বকর (রা) তাঁর সাথে ছিলেন। বারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমনের পূর্বেই আমি মুফাস্সাল থেকে কয়েকটি সূরা পড়ে ফেলেছিলাম।
ইসরাঈল (জনৈক রাবী) বলেন, বারা ইবন্ আযিব ছিলেন আনসারীদের মধ্যে বনু হারিছা গোত্রের লোক।
(ইব্ন কাছীর ও আহমদ ছাড়াও বুখারী ও মুসলিম ভিন্ন ধারায় হাদীসটি বর্ণনা করেন।)
বারা ইব্ন 'আযিব বলেন, মুহাজিরগণের মধ্যে সর্বপ্রথম আমাদের মাঝে আগমন করেন মুস'আব ইবন 'উমাইর (বনূ আবদুদ্ দার গোত্রীয় মুহাজির), তারপর আসেন ইবন্ উম্মি মাকতৃম (যিনি অন্ধ ছিলেন এবং বনূ ফিহর গোত্রীয় ছিলেন)। তাঁর পর উমর ইবনল খাত্তাব (রা) বিশজনের দল নিয়ে সওয়ার হয়ে আসেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কী করেছেন? তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমার পরেই আগমন করবেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমন করেন। আবু বকর (রা) তাঁর সাথে ছিলেন। বারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমনের পূর্বেই আমি মুফাস্সাল থেকে কয়েকটি সূরা পড়ে ফেলেছিলাম।
ইসরাঈল (জনৈক রাবী) বলেন, বারা ইবন্ আযিব ছিলেন আনসারীদের মধ্যে বনু হারিছা গোত্রের লোক।
(ইব্ন কাছীর ও আহমদ ছাড়াও বুখারী ও মুসলিম ভিন্ন ধারায় হাদীসটি বর্ণনা করেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب قصتهما مع سراقه بن مالك وما جرى لهما فى الطريق
عن أبى اسحاق عن البراء بن عازب قال اشترى أبو بكر رضي الله عنه من عازب سرجا بثلاثة عشر درهما، قال فقال أبو بكر لعازب مر البراء فليحمله الى منزلى فقال حتى تحدثنا كيف صنعت حين خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنت معه، قال فقال أبو بكر خرجنا فأدلجنا فأحثثنا يومنا وليلتنا حتى أظهرنا وقام قائم الظهيرة فضربت ببصرى هل أرى ظلا نأوى اليه فاذا أنا بصخرة فاهويت اليها فاذا بقية ظلها فسوّيته لرسول الله صلى الله عليه وسلم وفرشت له فروة وقلت اضطجع يا رسول الله فاضطجع ثم خرجت انظر هل أرى أحدا من الطلب فاذ أنا براعى غنم فقلت لمن انت يا غلام؟ فقال لرجل من قريش فسماه فعرفته فقلت هل فى غنمك من لبن؟ قال نعم، قال قلت هل أنت حالب لى؟ قال نعم، فأمرته فاعتقل شاة منها ثم أمرته فنفض ضرعها من الغبار ثم أمرته فنفض كفيه من العبار ومعي اداواه على فمها خرقة فجلب لى كثبة من اللبن فصببت يعنى الماء على القدح حتى برد أسفله ثم أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فوافيته وقد استيقظ فقلت اشرب يا رسول الله، فشرب حتى رضيت ثم قلت أنى الرحيل؟ قال فارتحلنا والقوم يطلبونا فلم يدركنا أحد منهم الا سراقة بن مالك بن جعشم على فرس له فقلت يا رسول الله هذا الطلب قد لحقنا فقال لا تحزن ان الله معنا حتى اذا دما منا فكان بيننا وبينه قدر رمح أو رمحين أو ثلاثة، قال قلت يا رسول الله هذا الطلب قد لحقنا وبكيت قال لم تبكى؟ قال قلت أما والله ما على نفسى أبكى ولكن أبكى عليك، قال فدعا عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اللهم اكفناه بما شئت فساخت قوائم فرسه الى بطنها فى أرض صلد ووثب عنها وقال يا محمد قد علمت أن هذا عملك فادع الله أن ينجينى مما أنا فيه، فوالله لأعمين على من ورائى من الطلب وهذه كنانتى فخذ منها سهما فانك بابلى وغنمى فى موضع كذا وكذا فخذ منها حاجتك، قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا حاجة لى فيها، قال ودعا له رسول الله صلى الله عليه وسلم فأطلق فرجع الى اصحابه ومضى رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا معه حتى قدمنا المدينة فتلقاه الناس فخرجوا فى الطريق وعلى الاجاجير فاشتد الخدم والصبيان فى الطريق يقولون الله اكبر، جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم جاء محمد صلى الله عليه وسلم قال وتنازع القوم ايهم ينزل علهي، قا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انزل الليلة على بنى النجار اخوال عبد المطلب لاكرمهم بذلك، فلما اصبح غدا حيث أمر، قال البراء بن عازب اول من كان قدم علينا من المهاجرين مصعب بن عمير أخو بنى عبد الدار ثم قدم علينا ابن ام مكتوم الأعمى أخو بنى فهر ثم قدم علينا عمر بن الخطاب فى عشرين راكبا فقلنا ما فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال هو على أثري ثم قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر معه قال البراء ولم يقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قرأت سورا من المفصل قال اسرائيل وكان البراء من الأنصار من بنى حارثة