মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: নবী (ﷺ) এর হিজরত। হিজরতে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে আবু বকর (রা)-কে নির্বাচন, সফরের প্রস্তুতি এবং তাঁদের মক্কা থেকে গারে-ছওরে প্রবেশ
(১৪৪) 'উরওয়া ইবনয যুবাইর আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আশৈশব আমার মা-বাবাকে দীনে ইসলামের অনুসারীরূপে পেয়েছি এবং এমন কোন দিন আমাদের অতিবাহিত হয়নি, যেদিন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সকাল ও বিকেল দু'বেলা আমাদের কাছে না আসতেন। মুসলিমদের উপর যুলুম-নির্যাতনের পরীক্ষা যখন শুরু হলো, তখন আবু বকর (রা) হাবশার (আবিসিনিয়া) দিকে হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়লেন। তিনি যখন "বারকুল গিমাদ" নামক স্থানে পৌঁছান, তখন তাঁর সাথে কার-গোত্রপ্রধান ইব্ন দাগিনা' এর দেখা হয়। ইব্দ দাগিনা বললেন, কোন্ দিকে যাচ্ছেন, হে আবু বকর? আবূ বকর বললেন, আমার গোত্রীয় লোকেরা আমাকে বহিষ্কার করে দিয়েছে, এরপর তিনি পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি (যা বুখারী কর্তৃক উদ্ধৃত) বর্ণনা করেন।
এদিকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুসলিমদেরকে বললেন, আমি তোমাদের হিজরতের স্থান (বা এলাকা) দেখেছি। কালো, অনুর্বর, প্রস্তরময় উঁচু ভূমি যেখানে খেজুর উৎপন্ন হয়। রাসূলের বক্তব্য শুনে অনেকেই মদীনার দিকে হিজরত করে চলে গেলেন এবং মুসলিমদের মধ্যে যাঁরা ইতোমধ্যে হাবশার দিকে হিজরত করছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন। এদিকে আবু বকর (রা) হিজরতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে বললেন, একটু ধৈর্য্য ধারণ করুন, আমি আশা করছি যে, আমাকেও (হিজরতের) অনুমতি প্রদান করা হবে। আবূ বকর বললেন, আমার বাবা-মা কুরবান হোন, সত্যি কি আপনি এরূপ আশা করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর আবূ বকর রাসূলের (ﷺ) সান্নিধ্য লাভের আশায় হিজরত করা থেকে (আপাততঃ) বিরত থাকলেন এবং তিনি তাঁর দু'টি সওয়ারীকে (উষ্ট্রী) চার মাস ধরে ঘাস-পাতার মাধ্যমে পর্যাপ্ত খাবার দিয়ে যাচ্ছিলেন (অর্থাৎ সওয়ারী দু'টিকে ভাল খাবার খাইয়ে মোটাতাজা ও শক্তিশালী করে তুলছিলেন)। আয়েশা (রা) বলেন, এমনি সময় একদিন দুপুরের রৌদ্রের তীব্রতার সময় ঘরে বসে ছিলাম, তখন কে একজন ডেকে আবু বকরকে (রা) বললো, ঐ যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মাথা আবৃত করে এগিয়ে আসছেন। ঐ সময়ে তিনি কখনও আমাদের (বাসার) কাছে আসতেন না। তখন আবু বকর (রা) বললেন, তাঁর জন্যে আমার মা-বাবা কুরবান হোন, এই সময় তিনি কোন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আসেননি। যাহোক, রাসূল (ﷺ) এসে গৃহে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন; তাঁকে অনুমতি প্রদান করা হলো। গৃহে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবূ বকরকে বললেন, অন্য যারা গৃহে আছে তাঁদেরকে বের করে দিন। আবূ বকর (রা) বললেন, যাঁরা গৃহে আছেন, তাঁরা আপনারই পরিজন (আয়শা ও আসমা রা.), আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোন। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমাকে বের হওয়ার (হিজরতের) অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। আবূ বকর (রা) বললেন, আমি কি আপনার সফরসঙ্গী হবো না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবূ বকর (রা) বললেন, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোন, আপনি এ দু'টি সওয়ারীর যে কোন একটি গ্রহণ করুন। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমি গ্রহণ করবো, তবে মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে। আয়েশা (রা) বলেন, অতঃপর আমরা তাঁদের জন্য আমাদের মনমত (উত্তম পন্থায়) সফর সামগ্রী গুছিয়ে দিলাম, খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে একটি থলিতে রাখলাম; এবং আসমা (রা) বিনতি আবু বকর তাঁর ব্যবহারের কোমরবন্দ বস্ত্র ছিড়ে (ফিতার মত করে) ঐ খাদ্যের পাত্রটি ভাল করে বেঁধে দিলেন। এ কারণে তাঁকে (আসমাকে) 'যাতুন্ নিতাকাইন' বা দুই কোমরবন্দ বিশিষ্ট বলা হতো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবূ বকর (রা) একটি পর্বত গুহায় প্রবেশ করলেন এবং সেখানে তিন রাত অবস্থান করলেন।
এদিকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুসলিমদেরকে বললেন, আমি তোমাদের হিজরতের স্থান (বা এলাকা) দেখেছি। কালো, অনুর্বর, প্রস্তরময় উঁচু ভূমি যেখানে খেজুর উৎপন্ন হয়। রাসূলের বক্তব্য শুনে অনেকেই মদীনার দিকে হিজরত করে চলে গেলেন এবং মুসলিমদের মধ্যে যাঁরা ইতোমধ্যে হাবশার দিকে হিজরত করছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন। এদিকে আবু বকর (রা) হিজরতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে বললেন, একটু ধৈর্য্য ধারণ করুন, আমি আশা করছি যে, আমাকেও (হিজরতের) অনুমতি প্রদান করা হবে। আবূ বকর বললেন, আমার বাবা-মা কুরবান হোন, সত্যি কি আপনি এরূপ আশা করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর আবূ বকর রাসূলের (ﷺ) সান্নিধ্য লাভের আশায় হিজরত করা থেকে (আপাততঃ) বিরত থাকলেন এবং তিনি তাঁর দু'টি সওয়ারীকে (উষ্ট্রী) চার মাস ধরে ঘাস-পাতার মাধ্যমে পর্যাপ্ত খাবার দিয়ে যাচ্ছিলেন (অর্থাৎ সওয়ারী দু'টিকে ভাল খাবার খাইয়ে মোটাতাজা ও শক্তিশালী করে তুলছিলেন)। আয়েশা (রা) বলেন, এমনি সময় একদিন দুপুরের রৌদ্রের তীব্রতার সময় ঘরে বসে ছিলাম, তখন কে একজন ডেকে আবু বকরকে (রা) বললো, ঐ যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মাথা আবৃত করে এগিয়ে আসছেন। ঐ সময়ে তিনি কখনও আমাদের (বাসার) কাছে আসতেন না। তখন আবু বকর (রা) বললেন, তাঁর জন্যে আমার মা-বাবা কুরবান হোন, এই সময় তিনি কোন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আসেননি। যাহোক, রাসূল (ﷺ) এসে গৃহে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন; তাঁকে অনুমতি প্রদান করা হলো। গৃহে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবূ বকরকে বললেন, অন্য যারা গৃহে আছে তাঁদেরকে বের করে দিন। আবূ বকর (রা) বললেন, যাঁরা গৃহে আছেন, তাঁরা আপনারই পরিজন (আয়শা ও আসমা রা.), আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোন। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমাকে বের হওয়ার (হিজরতের) অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। আবূ বকর (রা) বললেন, আমি কি আপনার সফরসঙ্গী হবো না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবূ বকর (রা) বললেন, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোন, আপনি এ দু'টি সওয়ারীর যে কোন একটি গ্রহণ করুন। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমি গ্রহণ করবো, তবে মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে। আয়েশা (রা) বলেন, অতঃপর আমরা তাঁদের জন্য আমাদের মনমত (উত্তম পন্থায়) সফর সামগ্রী গুছিয়ে দিলাম, খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে একটি থলিতে রাখলাম; এবং আসমা (রা) বিনতি আবু বকর তাঁর ব্যবহারের কোমরবন্দ বস্ত্র ছিড়ে (ফিতার মত করে) ঐ খাদ্যের পাত্রটি ভাল করে বেঁধে দিলেন। এ কারণে তাঁকে (আসমাকে) 'যাতুন্ নিতাকাইন' বা দুই কোমরবন্দ বিশিষ্ট বলা হতো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবূ বকর (রা) একটি পর্বত গুহায় প্রবেশ করলেন এবং সেখানে তিন রাত অবস্থান করলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب هجرة النبى صلى الله عليه وسلم واختيار أبا بكر رضي الله عنه ليكون رفيقه فى الهجرة وتجهيزهما لذلك وخروجهما من مكة إلى أن دخلا غار ثور
حدّثنا عبد الرزاق عن معمر قال الزهرى وأخبرنى عروة بن الزبير أن عائشة رضي الله عنها قالت لم اعقل أبواى قط إلا وهم يدينان الدين ولم يمر علينا يوم إلا يأتينا فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم طرفى النهار بكرة وعشية، فلما ابتلى المسلمون خرج أبو بكر مهاجرا قبل أرض الحبشة حتى اذا بلغ برك الغماد لقيه ابن الدّغنة وهو سيد القارة فقال ابن الدغنة اين يا أبا بكر؟ فقال أبو بكر أخرجنى قومى فذكر الحديث قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم المسلمين قد رأيت دار هجرتكم أريت سبخة ذات نخل بين لابتين وهما حرتان فخرج من كان مهاجرا قبل المدينة حين ذكر ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم ورجع إلى المدينة بعض من كان هاجر الى أرض الحبشة من المسلمين وتجهرز أبو بكر مهاجرا فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم على رسلك فانى ارجو ان يؤذن لى، فقال أبو بكر وترجو ذلك بأبى أنت وأمى؟ قال نعم، فحبس أبو بكر نفسه على رسول الله صلى الله عليه وسلم لصحبته وعلف راحلتين كانتا عنده من ورق السمر أربعة اشهر قال الزهرى قال عروة قالت عائشة فبينا نحن يومًا جلوسا فى بيتنا فى نحر الظهيرة قال قائل لأبى بكر هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقبلا متقنعا فى ساعة لم يكن ياتينا فيها، فقال أبو بكر فداء له أبى وأمى أن جاء به فى هذه الساعة إلا أمر؟ فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستأذن فأذن له فدخل، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين دخل لأبى بكر أخرج من عندك فقال أبو بكر انما هم أهلك بأبى أنت وأمى يا رسول الله، فقال النبى صلى الله عليه وسلم فانه قد أذن لى فى الخروج فقال أبو بكر فالصحابة بأبى أنت يا رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم فقال أبو بكر فخذ بأبى أنت يا رسول الله إحدى راحلتى هاتين، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بالثمن قالت فجهزنا هما أحب الجهاز وصنعنا لهما سفرة فى جراب فقطعت اسماء بنت أبى بكر من نطاقها فأوكت الجراب فلذلك كانت تسمى ذات النطاقين ثم لحق رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وأبو بكر بغار فى جبل يقال له ثور فمكثا فيه ثلاث ليال