মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১০৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: ইসরার রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক বাইতুল মাকদিসে সালাত আদায়কে হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান কর্তৃক অস্বীকার
(১০৫) যিরর ইবন হুবাইশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হুযাইফা ইবনল ইয়ামান (রা)-এর কাছে গেলাম। ঐ সময় তিনি রাসূলের (ﷺ) ইসরা রজনী (মি'রাজ) সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করছিলেন। তাঁর ভাষায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলছেন, অতঃপর আমি অথবা আমরা এগিয়ে চললাম (বা অগ্রসর হতে থাকলাম) এবং পরিশেষে বাইতুল মাকদিসে এসে পৌছালাম। রাবী (হুযাইফা) বলেন, কিন্তু তাঁরা সেখানে প্রবেশ করেননি। আমি (যিরর) বললাম, না, রাসূল (ﷺ) সেই রাত্রে সেখানে প্রবেশ করেছেন এবং সালাত আদায় করেছেন। তিনি বললেন, হে টেকো, তোমার নাম কী? তোমার চেহারা আমার পরিচিত, কিন্তু নামটা কি জানি না। আমি বললাম, আমি যিরর ইবন হুবাইশ। তিনি বললেন, তোমাকে কে শেখালো যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ রাত্রে সেখানে সালাত আদায় করেছেন? আমি বললাম পবিত্র কুরআন এ বিষয়ে আমাকে সংবাদ জানিয়েছে। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কুরআনের ভিত্তিতে কথা বলে, সে তার প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয়। আচ্ছা পড়ে শোনাও দেখি। সুতরাং আমি পবিত্র কুরআনের
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ .
পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তার বান্দাকে রজনীযোগে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম হতে মসজিদুল আকসায়, যার পরিবেশ আমি করেছিলাম বরকতময়, তাকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (নবী ইসরাঈল: ১)।
আয়াত পাঠ করে শোনালাম। তিনি বললেন, রাসূল (ﷺ) সেখানে সালাত আদায় করেছেন- এর উল্লেখ আমি এখানে পেলাম না। তিনি বললেন, হে টেকো, তুমি কি পেয়েছ, তিনি সালাত আদায় করেছেন? আমি বললাম, জ্বি না। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ সেই রাত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সেখানে সালাত আদায় করেননি। তিনি যদি সেখানে সালাত আদায় করতেন, তাহলে সেখানে সালাত করা তোমাদের উপরও ফরয হয়ে যেত। যেমনটি হয়েছে বাইতুল্লাহ শরীফে তোমাদের উপর সালাত আদায় করা। আল্লাহর শপথ, বুরাক তাঁদেরকে নিয়ে (উপরের দিকে) আরোহণ করতে থাকে এবং তাঁদের জন্য আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তাঁরা জান্নাত, জাহান্নাম ও আখিরাতের যাবতীয় ওয়াদাসমূহ পরিদর্শন করেন। এরপর তাঁরা উভয়ই যাত্রা শুরুর স্থানে ফিরে আসেন। রাবী বলেন, (এসব বলার পর) তিনি হেসে ফেললেন। আমি তাঁর মাড়ির দন্তগুলোও দেখতে পেলাম। তিনি বলেন, লোকেরা বলে থাকে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বুরাককে বেঁধে রেখেছিলেন যেন তা ছুটে পালিয়ে না যায়। অথচ বুরাককে গুপ্ত ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞাতা আল্লাহ তাঁর জন্য একান্ত অনুগত করে পাঠিয়েছিলেন।
রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবূ আবদুল্লাহ, বুরাক কী ধরনের জন্তু? তিনি বলেন, এই রকম দীর্ঘ ও সাদা একটি প্রাণী, দৃষ্টির শেষ সীমানায় যে এক একটি কদম রাখে।
হুযাইফা ইব্‌নল ইয়ামান থেকেই দ্বিতীয় একটি বর্ণনায় (আসেম ইব্‌ন বাহদালাহর মাধ্যমে) বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, বুরাক হচ্ছে একটি সাদা ও দীর্ঘকায় জন্তু, দৃষ্টির শেষ প্রান্তে যার একেকটি কদম পড়ে। এমনি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন বুরাক আমার কাছে নীত হলো। আমি আর জিব্রীল বুরাকের পিঠে সওয়ার হয়ে বাইতুল মাকদিসে উপনীত হলাম। অতঃপর আকাশের দরজাসমূহ আমাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। আমি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলাম। হুযাইফা ইবনল ইয়ামান বলেন, তিনি বাইতুল মাকদিসে সালাত আদায় করেননি। যিরর বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ তিনি সালাত আদায় করেছেন। হুযাইফা বললেন, তোমার নাম কি হে টেকো? আমি তোমার চেহারা চিনি, কিন্তু তোমার নাম জানি না। আমি বললাম, আমি যিরর ইবনু হুবাইশ। তিনি বললেন, তোমাকে কে বললো যে, তিনি সেখানে সালাত আদায় করেছেন? আমি বললাম, আল্লাহ্ জাল্লা শানুহ্ বলেছেন:
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ.
পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তার বান্দাকে রজনীযোগে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম হতে মসজিদুল আকসায়, যার পরিবেশ আমি করেছিলাম বরকতময়, তাকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (নবী ইসরাঈল: ১)।
তিনি বললেন, এখানে তিনি সালাত আদায় করেছেন, এ কথা কি পেয়েছ? যদি তিনি সালাত আদায় করতেন, তাহলে তোমরাও সেখানে সালাত আদায় করতে, যেমনটি তোমরা মসজিদুল হারামে আদায় করে থাক। যির বলেন, (তবে) তিনি জন্তুটিকে সেই খুঁটির সাথে বেঁধেছিলেন, যে খুঁটির সাথে অন্যান্য নবীগণ (আ) বাঁধতেন। প্রতি উত্তরে হুযাইফা বললেন, তবে কি তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, জন্তুটি সেখান থেকে চলে যাবে? অথচ আল্লাহ্ তা'আলাই সেটি তাঁকে দিয়েছিলেন।
(ইব্‌ন কাছীর, আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ প্রমুখ।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب إنكار حذيفة بن اليمان صلاة النبى صلى الله عليه وسلم ببيت المقدس ليلة الاسراء
عن زر بن حبيش قال أتيت على حذيفة بن اليمان (رضي الله عنه وهو يحدث عن ليلة اسرى بمحمد صلى الله عليه وسلم وهو يقول فانطلقت أو انطلقنا فلقينا حتى أتينا على بيت المقدس فلم يدخلاه، قال قلت بل دخله رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلتئذ وصلى فيه، قال ما اسمك يا أصلع فإني أعرف الجنة والنار ووعد الآخرة اجمع: ثم عادا عودهما على بدئهما، قال ثم ضحك حتى رأيت نواجذه قال ويحدثون أنه ربطه لئلا يفر منه، وانما سخره له عالم الغيب والشهادة، قال قلت أبا عبد الله أى دابة البراق؟ قال دابة أبيض طويل هكذا خطوه مد البصر (ومن طريق ثان) عن عاصم بن بهدلة عن زر بن حبيش عن حذيفة بن اليمان أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أتيت بالبراق وهو دابة أبيض طويل يضع حافره منتهى طرفه فلم نزايل ظهره انا وجبريل حتى اتيت بيت المقدس ففتحت لنا أبواب السماء ورأيت الجنة والنار، قال حذيفة بن اليمان ولم يصل فى بيت المقدس، قال زر فقلت له بلى قد صلى، قال حذيفة ما اسمك يا أصلع؟ اننى اعرف وجهك ولا أعرف اسمك، فقلت أنا زر بن حبيش، قال وما يدريك أنه قد صلى؟ قال فقال يقول الله عز وجل {سبحان الذى أسرى بعبده ليلا من المسجد الحرام الى المسجد الأقصى الذى باركنا حوله لنريه من آياتنا إنه هو السميع البصير} قال فهل تجده صلى لو صلى لصليتم فيه كما تصلون فى المسجد الحرام، قال زر وربط الدابة بالحلقة التى يربط بها الأنبياء عليهم السلام، قال حذيفة أو كان يخاف ان تذهب منه وقد آتاه الله بها
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান