মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১০৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : আনাস ইব্‌ন মালিকের (রা) বর্ণনায় এ বিষয়ে আরো যা উল্লেখিত হয়েছে
(১০৪) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আমার কাছে একটি বুরাক আনা হলো। এটি হচ্ছে সাদা রঙের একটি জন্তু, যা আকৃতিতে গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট; দৃষ্টির শেষ প্রান্তে এর কদম পড়ে (এত দ্রুতগতিসম্পন্ন)। আমি তাতে সওয়ার হলাম। সে আমাকে নিয়ে রাত্রিতে চলতে থাকলো এবং শেষ পর্যন্ত বাইতুল মাকদিসে নিয়ে পৌছালো। আমি জন্তুটিকে সেই খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলাম, যে খুটিতে অন্যান্য নবীগণ (আ) বাহন বেঁধে রাখতেন। এরপর আমি সেই মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষে বের হলাম। এই সময় জিব্রীল (আ) আমার কাছে একটি মদের পাত্র ও আরেকটি দুধের পাত্র এগিয়ে দিলেন। আমি দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলাম। জিব্রীল (আ) বললেন, আপনি সঠিক (বাছাই) করেছেন এবং ফিতরতকে (আল-ইসলাম) গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে দুনিয়ার আকাশের পানে উঠে গেলেন। জিব্রীল (আ) আকাশের ফটক খুলতে বললেন। তখন বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন দরজা খুলে দিলেন। (সেখানে প্রবেশ করার পর) দেখলাম আমার দুই ভাই ইয়াহইয়া ও ঈসা (আ)। তাঁরা আমাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করলেন এবং আমার কল্যাণ কামনা করলেন। অতঃপর আমাদের নিয়ে তৃতীয় আকাশে আরোহণ করলেন। জিব্রীল (আ) দরজা খুলতে বললেন। বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ তাকে ডাকা হয়েছে। এবার দরজা আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন সেখানে দেখা হলো ইউসুফ (আ) এর সাথে। সমস্ত সৌন্দর্যের অর্ধেক দান করা হয়েছে তাঁকে। তিনি অভিনন্দন জ্ঞাপন করলেন এবং দোয়া করলেন। অতঃপর আমাদের নিয়ে উঠে গেলেন চতুর্থ আকাশে। জিব্রীল (আ) দরজা খুলে দিতে বললেন। বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ, ডেকে পাঠানো হয়েছে। এবার দরজা খুলে দিলেন। সেখানে দেখতে পেলাম ইদ্রীসকে (আ)। তিনি আমাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করলেন এবং আমার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। তার বিষয়েই তো মহামহিম আল্লাহ্ বলেন,
وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا
আর আমি তাঁকে সুউচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করলাম।
এরপর আমাদেরকে পঞ্চম আকাশে উত্থিত করা হলো। জিব্রীল (আ) ফটক খুলে দেওয়ার কথা বললো। বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ, ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন তিনি (রক্ষী) ফটক খুলে দিলেন। সেখানে পেলাম হারূনকে (আ)-কে, তিনি অভিনন্দন জানালেন এবং আমার মঙ্গল কামনা করলেন। এরপর আমরা উপনীত হলাম ষষ্ঠ আকাশে। জিব্রীল (আ) ফটক খুলতে বললেন, তখন বলা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ ডেকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য ফটক খুলে দিলেন। সেখানে পেলাম মূসাকে (আ)। তিনি অভিনন্দন জানালেন এবং আমার কল্যাণ কামনা করে দোয়া করলেন। এরপর আমরা উপনীত হলাম সপ্তম আকাশে। জিব্রীল (আ) দরজা খুলতে বললেন। তখন বলা হলো, আপনি কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ, বলে পাঠানো হয়েছে। অতঃপর ফটক খুললেন। এখানে পেলাম ইব্রাহীমকে (আ)। তিনি বাইতুল মা'মূরে ঠেস দিয়ে বসে ছিলেন। প্রতিদিন সেখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন, তাঁরা সেখানে আর ফিরে আসেন না। রাসূল (ﷺ) বলেন, এরপর আমাকে নিয়ে গেলেন সিদরাতুল মুনতাহায়। এর পত্রসমূহ হাতির কানের মত বড়। আর এর ফলগুলো হাজার (ইয়ামানের একটি অঞ্চল)-এর মটকার মত। এরপর আমার রব্বের নির্দেশে বৃক্ষটিকে যা আচ্ছন্ন করবার তা আচ্ছন্ন করল। ফলে তাতে এমন পরিবর্তন ঘটল যে, আল্লাহর কোন সৃষ্টির পক্ষে তার সৌন্দর্য বর্ণনা করা সম্ভবপর নয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, অতঃপর মহামহিম আল্লাহ আমার প্রতি ওহী নাযিল করলেন যা তিনি চেয়েছেন। এবং আমার উপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। এরপর আমি সেখান থেকে অবতরণ করে মুসার (আ) নিকট পৌছালাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার রব আপনার উম্মতের উপর কী ফরয করলেন? আমি বললাম, দিবা-রাত্রি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন, আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আরো হালকা দায়িত্বের প্রার্থনা করেন। কারণ, আপনার উম্মত তা পালনে সক্ষম হবে না এবং আমি ইতিপূর্বে বনী ইসলাঈলকে পরীক্ষা করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সুতরাং আমি আমার মহামহিম রবের কাছে ফিরে গিয়ে আরজ করলাম, ইয়া রব, আমার উম্মতের জন্য হালকা করে দেন। তিনি সেমতে পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। মূসার কাছে আমি ফিরে আসার পর তিনি জানতে চাইলেন, কি করলেন? আমি বললাম, পাঁচ ওয়াক্ত কমানো হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত তা পালনেও সক্ষম হবে না, আপনি আপনার রবের কাছে গিয়ে আপনার উম্মতের জন্য আরো হালকা দায়িত্বের আর্জি পেশ করুন। রাসূল (ﷺ) বলেন, এইভাবে আমি একবার আমার রবের দরবারে আরেকবার মুসার (আ) কাছে যাতায়াত করতে থাকলাম। পাঁচ ওয়াক্ত পাঁচ ওয়াক্ত করে প্রতিবার আল্লাহ্ তা'আলা কমাতে থাকলেন। পরিশেষে রব বললেন, হে মুহাম্মদ, এই হল দিবা-রাত্রি মিলিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। প্রতিটি সালাতের বিনিময়ে রয়েছে দশ দশটি সালাত, এইভাবে পূর্ণ করা হলো সেই পঞ্চাশ ওয়াক্ত। আর যে ব্যক্তি একটি নেক কাজের নিয়্যত বা পরিকল্পনা করলো অথচ তা করলো না (বা করতে পারলো না), তার বিনিময়ে একটি নেকী লেখা হবে। আর যদি সেই নেক কাজটি কার্যকর করে, তবে তার বিনিময়ে দশটি নেকী লেখা হবে। আর যদি কেউ খারাপ (নিষিদ্ধ) কাজের নিয়ত বা পরিকল্পনা করে, কিন্তু তা কার্যকর না করে, তবে তার বিপরীতে কিছুই লেখা হবে না। কিন্তু যদি তা কার্যে বাস্তবায়ন করে, তবে এর বিপরীতে একটিমাত্র গোনাহ লেখা হবে। এরপর আমি সেখান থেকে অবতরণ করে আবার মুসার (আ) কাছে গিয়ে তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি এইবারও আমাকে বললেন, আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজতর দায়িত্ব প্রার্থনা করুন। কেননা, আপনার উম্মত তা পালনে সক্ষম হবে না। (কিন্তু) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (এবার) বললেন, আমি আমার রবের কাছে বার বার ফিরে গেছি, এখন লজ্জাবোধ করছি।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى ذلك من رواية أنس بن مالك رضي الله عنه من مسنده
عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أتيت بالبراق وهو دابة أبيض فوق الحمار ودون البغل يضع حافره عند منتهى طرفه، فركبته فسار بى حتى أتيت بيت المقدس فربطت الدابة بالحلقة التي يربط فيها الأنبياء ثم دخلت فصليت فيه ركعتين ثم خرجت فجاءنى جبريل عليه السلام بإناء من خمر وإناء من لبن، فاخترت اللبن قال جبريل أصبت الفطرة ثم عرج بنا إلى السماء الدنيا فاستفتح جبريل فقيل ومن أنت؟ قال جبريل قيل ومن معك؟ قال محمد، فقيل وقد أرسل اليه؟ قال قد أرسل اليه، ففتح لنا فاذا أنا بآدم فرحب ودعا لى بخير، ثم عرج بنا الى السماء الثانية فاستفتح جبريل فقيل ومن أنت؟ قال جبريل، فقيل ومن معك؟ قال محمد، فقيل وقد أرسل اليه؟ قال قد أرسل اليه، قال ففتح لنا فاذا أنا بابنى الخالة يحيى وعيسى فرحبا ودعوا لى بخير، ثم عرج بنا إلى السماء الثالثة فاستفتح جبريل فقيل من أنت؟ فقال جبريل، فقيل ومن معك؟ قال محمد، فقيل وقد أرسل اليه؟ قال قد أرسل اليه، ففتح لنا فاذا أنا بيوسف عليه السلام وإذا هو قد أعطى شطر الحسن فرحب ودعا لى بخير، ثم عرج بنا إلى السماء الرابعة فاستفتح جبريل فقيل من أنت؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد صلى الله عليه وسلم، فقيل وقد أرسل اليه؟ قال قد أرسل اليه، ففتح الباب فاذا أنا بادريس فرحب بى ودعا لى بخير، ثم قال يقول الله عز وجل ورفعناه مكانا عليا، ثم عرج بنا إلى السماء الخامسة فاستفتح جبريل فقيل من أنت؟ قال جبريل، فقيل ومن معك؟ قال محمد، فقيل قد بعث اليه؟ قال قد بعث اليه، ففتح لنا فاذا أنا بهرون فرحب ودعا لى بخير، ثم عرج بنا إلى السماء السادسة فاستفتح جبريل فقيل من أنت؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد، يستطيع أن يصفها من حسنها، قال فأوحى الله عز وجل إلى ما أوحى وفرض على فى كل يوم وليلة خمسين صلاة فنزلت حتى انتهيت إلى موسى فقال ما فرض ربك على أمتك؟ قال قلت خمسين صلاة فى كل يوم وليلة، قال ارجع إلى ربك فاسأله التخفيف، فان أمتك لا تطيق ذلك وانى قد بلوت بنى اسرائيل وخبرتهم، قال فرجعت إلى ربى عز وجل فقلت أى رب خفف عن أمتى فحط عنى خمسًا، فرجعت الى موسى فقال ما فعلت؟ قلت حط عنى خمسًا، قال إن أمتك لا تطيق ذلك فارجع إلى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فلم أزل أرجع بين ربى وبين موسى ويحط عنلا خمسًا خمسا حتى قال يا محمد هى خمس صلوات فى كل يوم وليلة بكل صلاة عشر فتلك خمسون صلاة، ومن هم بحسنة فلم يعملها كتبت حسنة، فان عملها كتبت عشرا، ومن هم بسيئة فلم يعملها لم تكتب شيئًا، فان عملها كتبت سيئة واحدة، فنزلت حتى انهيت إلى موسى فأخبرته فقال ارجع إلى ربك فاسأله التخفيف لأمتك فان أمتك لا تطيق ذاك فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لقد رجعت الى ربى حتى لقد استحييت

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ইসরা ও মি'রাজের সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে বায়তুল মাকদিসে গমন করেন। সেখানে নবীগণকে নিয়ে নামায পড়েন। তারপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁকে নিয়ে এক এক করে সাত আসমান পাড়ি দেন। প্রত্যেক আসমানে পৌঁছলে সে আসমানের দ্বাররক্ষী জিজ্ঞেস করে, কে? হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি জিবরীল। তারপর জিজ্ঞেস করে, আপনার সঙ্গে কে? তিনি উত্তর দেন, মুহাম্মাদ। এভাবে প্রত্যেকবার তিনি পরিচয় দিতে গিয়ে নিজের নাম বলেছেন। বলেননি যে, আমি। নাম বলতে গিয়েও নিজের সুপরিচিত নাম 'জিবরীল' বলেছেন। অন্য কোনও নাম নয়। তাঁর এছাড়া আরও নাম আছে, যেমন আর-রূহুল আমীন, রূহুল কুদ্‌স। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয় দিতে গিয়েও তিনি তাঁর সুপরিচিত নাম 'মুহাম্মাদ' উল্লেখ করেছেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরও আরও বহু নাম আছে, যেমন আহমাদ, আল-মাহী, আল-হাশির, আল-আকিব ইত্যাদি। তাঁর কুনয়াত বা উপনাম হল আবুল কাসিম। তিনি খাতামুন নাবিয়্যীন। তিনি সায়্যিদুল বাশার। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম এসবের কোনওটিই না বলে উভয় প্রসিদ্ধ ও পরিচিত নামই বলেছেন। এর দ্বারা বোঝা গেল ঘরের ভেতর থেকে আগন্তুকের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তাকে যে নামে সবাই চেনে সেই নাম বলেই পরিচয় দিতে হবে। 'আমি' বলা কিংবা এমন কোনও নাম বা উপাধি বলাও ঠিক নয়, যা বললে জিজ্ঞাসাকারী তাকে ভালোভাবে চিনতে পারবে না। পরিচয় জিজ্ঞেস করার উদ্দেশ্যই তো চিনতে পারা। যা বললে সে চিনতে পারবে না, তা বলার ফায়দা কী? তাতে বরং ঝামেলাই বাড়ে। কথা বেশি বলতে হয়, সময়ও নষ্ট হয়।

অনেক সময় বাক্তি বড় হলে নিজ নাম বলতে আত্মসম্মানে বাধে। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম ও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে বড় মাখলূক আর কে আছে? তাঁদেরই যখন পরিচয় দিতে গিয়ে নিজ নাম বলতে কুণ্ঠাবোধ হয়নি, তখন অন্যদের কেন এতে আপত্তি লাগবে? অকপটে নিজ নাম উচ্চারণ করার দ্বারা কেবল পরিচয়দানই সহজ হয় না; এটা বিনয়েরও পরিচায়ক।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসরা ও মি'রাজের ঘটনা সত্য। এতে বিশ্বাস রাখা জরুরি।

খ. আকাশ সাতটি। এতেও বিশ্বাস রাখতে হবে।

গ. প্রত্যেক আকাশে উপরে ওঠার দরজা আছে। আছে দরজার প্রহরীও। একেক ফিরিশতাকে আল্লাহ তা'আলা একেক দরজার দায়িত্বে নিযুক্ত করেছেন।

ঘ. দ্বাররক্ষী ফিরিশতাগণ সদা সতর্ক ও সচেতন। দায়িত্বপালনে তাদের দ্বারা কখনও কোনও ত্রুটি হয় না।

ঙ. কারও দরজায় পৌঁছলে নিজের নাম-পরিচয় দেওয়া কর্তব্য।

চ. পরিচয় দিতে গিয়ে সবাই যে নামে চেনে সেটাই বলা উচিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান