মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১০৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: এ প্রসঙ্গে উবাই ইব্‌ন কা'ব (রা) থেকে আনাস ইবন মালিক (রা) এর বর্ণনা
(১০৩) ইব্‌ন শিহাব থেকে বর্ণিত, আনাস ইবন মালিক বলেন, উবাই ইবন কা'ব এইমর্মে হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আমি মক্কায় থাকা অবস্থায় আমার গৃহের ছাদ বিদীর্ণ হয়ে যায়। আর জিব্রীল (আ) অবতরণ করেন। তিনি আমার বক্ষ বিদারণ করেন। এরপর (বক্ষস্থ হৃদপিণ্ড ইত্যাদি) যমযমের পানির সাহায্যে ধৌত করেন। এরপর ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের পাত্র নিয়ে আসেন এবং আমার বক্ষে ঢেলে দেন। অতঃপর তা জোড়া দেওয়া হয়। অতঃপর জিব্রীল (আ) আমার হাত ধরে উর্ধ্বলোকে আকাশের দিকে উঠে গেলেন। দুনিয়ার আকাশে পৌছানোর পর তিনি ফটক খুলতে বললেন, কিন্তু ফটকের দায়িত্বশীল বললেন, আপনি কে? বললেন, জিব্রীল। বললেন আপনার সাথে অন্য কেউ আছে কি? জিব্রীল বললেন, আমার সাথে আছেন মুহাম্মদ। তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? জিব্রীল (আ) বললেন, হ্যাঁ। তখন ফটক খুলে দিলেন। দুনিয়ার আকাশের উপর ওঠার পর এক ব্যক্তিকে দেখা গেল, যার ডান পাশে রয়েছে একদল মানুষের রূহ, আবার তাঁর বাম পাশেও রয়েছে একদল মানুষের রূহ। তিনি যখন ডান দিকে ফিরে তাকান, তখন তাঁর মুখে হাসির রেখা ফুটে ওঠে। আর বাম দিকে দৃষ্টিপাত করলে পর তিনি কেঁদে ফেলেন। তিনি বলে উঠলেন, স্বাগতম সুযোগ্য নবীকে, স্বাগতম সুসন্তানকে। রাসূল (ﷺ) বলেন, আমি জিব্রীলকে (আ) জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বললেন, আদম (আ)। তাঁর ডানে ও বামে বিরাজমান আত্মাসমূহ হচ্ছে তাঁর সন্তানাদি। ডান পাশের সন্তানাদি হচ্ছে জান্নাতবাসী, আর তাঁর বাম পাশের আত্মাসমূহ হচ্ছে নরকবাসী। সুতরাং তিনি যখন ডান দিকে তাকান, তখন হাসেন; আর বাম দিকে যখন তাকান, তখন তিনি কাঁদেন। রাসূল (ﷺ) বলেন, অতঃপর জিব্রীল (আ) আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশ অতিক্রম করলেন। রক্ষককে ফটক খুলে দিতে বললেন। ফটকরক্ষক তাঁকে দুনিয়ার আকাশের ফটক রক্ষক যা বলেছিলেন তাই বললেন এবং শেষে ফটক খুলে দিলেন। আনাস ইবন মালিক বলেন, অতপর রাসূল (ﷺ) বলেন যে, তিনি আকাশসমূহে আদম, ইদ্রীস, মূসা, ঈসা ও ইব্রাহীমের (আ) সাক্ষাত লাভ করেন। অবশ্য তিনি কোন আকাশে কে ছিলেন, তা সঠিক করে বলেননি। কেবল এতটুকু বলেছেন যে, আদমকে (আ) পেয়েছেন দুনিয়ার আকাশে আর ইব্রাহীমকে (আ) পেয়েছেন ষষ্ঠ আকাশে। আনাস বলেন, যখন জিব্রীল (আ) ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইদ্রীসের (আ) পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, সুযোগ্য নবী ও সুযোগ্য ভ্রাতাকে স্বাগতম। আমি জিব্রীলকে (আ) জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইনি কে? বললেন, ইদ্রীস। অতঃপর আমি মূসাকে (আ) অতিক্রম করেছি, তিনি (আমার উদ্দেশ্যে) বলেছেন, স্বাগতম সুযোগ্য নবী ও সুযোগ্য ভ্রাতাকে। আমি জিজ্ঞেস বলেছিলাম, ইনি কে? জিব্রীল (আ) বললেন, ইনি মূসা (আ)। অতঃপর আমি ঈসার (আ) পাশ দিয়ে গেলাম। তিনিও বললেন, স্বাগতম সুযোগ্য নবী ও সুযোগ্য ভাইকে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বললেন, ঈসা ইবন্ মারইয়াম (আ)। অতঃপর আমি ইব্রাহীমকে (আ) অতিক্রম করলাম, তিনি বললেন, স্বাগতম সুযোগ্য নবীকে, স্বাগতম সুযোগ্য সন্তানকে। আমি বললাম, ইনি কে? জিব্রীল বললেন, ইনি ইব্রাহীম (আ)।
ইবন্ শিহাব বলেন, আমাকে ইবন্ হাযম বলেছেন যে, ইব্‌ন আব্বাস (রা) ও আবূ হাব্বাহ আল-আনসারী (রা) বলেছেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, তারপর আমাকে নিয়ে আরো উপরে আরাহণ করা হলো এবং এমন এক পর্যায়ে উপনীত করা হলো যে, কলমসমূহের লেখার (খসখস্) শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।
ইব্‌ন হাযম ও আনাস ইবন মালিক বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ তাবারাকা ও তা'আলা আমার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছিলেন, তাই নিয়ে আমি ফিরে আসি, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি মূসার (আ) নির্দেশ পাই। তিনি (মূসা আ.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা আপনার উম্মতের উপর কী ফরয করলেন? আমি বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। মূসা (আ) আমাকে বললেন, আপনার রব তাবারাকা ওয়া তা'আলার শরণাপন্ন হোন, কারণ আপনার উম্মত তা পারবে না অতঃপর আমি মহামহিম রব্বের শরণাপন্ন হই, তিনি অর্ধেক বাদ দিয়ে দেন। মুসার (আ) নিকট ফিরে এসে খবর দিলাম, তিনি আবারো বললেন, আপনার রবের কাছে যান, কারণ, আপনার উম্মত এইটুকু পালনেও সক্ষম হবে না। সুতরাং আবার আমার মহামহিম রবের অনুগ্রহের শরণাপন্ন হলাম। তিনি বললেন, এই হচ্ছে পাঁচ আর এই পাঁচই পঞ্চাশ। আমার নিকট কথার কোন রকম পরিবর্তন নেই। রাসূল (ﷺ) বলেন, তিনি আবারও বললেন, আপনার রবের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এবার আমি বললাম, আমি আমার রব তাবারাকা ওয়া তা'আলার কাছে (একই আর্জি নিয়ে আবারও) যেতে লজ্জাবোধ করছি। এরপর জিব্রীল (আ) আমাকে নিয়ে চলতে চলতে 'সিদরাতুল মুনতাহা' পর্যন্ত পৌছালেন। অতঃপর তা ঢাকা পড়ে গেল বিভিন্ন রংয়ে। আমি জানি না, তা কী? এরপর আমাকে প্রবেশ করানো হলো জান্নাতে। জান্নাতের গম্বুজসমূহ মনি-মুক্তার আর এর মাটি (মেঝে) হচ্ছে মিশক-এর (সুগন্ধিমিশ্রিত)।
(মুসলিম ইউনুসের বরাতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া হাইছামীও হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى ذلك من رواية أنس بن مالك عن أبى بن كعب رضي الله عنهما
عن ابن شهاب قال أنس بن مالك كان ابى بن كعب يحدث ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فرج سقف بيتي وأنا بمكة فنزل جبريل ففرج صدرى ثم غسله من ماء زمزم ثم جاء بطست من ذهب ممتلئ حكمة وايمانا فأفرغها فى صدرى ثم أطبقه ثم أخذ بيدى فعرج بى إلى السماء، فلما جاء السماء الدنيا فافتتح فقال من هذا؟ قال جبريل، قال هل معك أحد؟ قال نعم، معى محمد، قال أرسل اليه؟ قال نعم، ففتح فلما علونا السماء الدنيا اذا رجل عن يمينه أسودة وعن يساره أسودة، وإذا نظر قبل يمينه تبسم، وإذا نظر قبل يساره بكى، قال مرحبًا بالنبى الصالح والابن الصالح، قال لجبريل عليه السلام من هذا؟ قال هذا آدم وهذه الأسودة عن يمينه وشماله نسم بنيه فأهل اليمين هم أهل الجنة، والأسودة التى عن شماله أهل النار، فإذا نظر قبل يمينه ضحك، واذا نظر قبل شماله بكى، قال ثم عرج بى جبريل حتى جاوز السماء الثانية فقال لخازنها افتح، فقال له خازنها مثل ما قال خازن السماء الدنيا ففتح له، قال انس بن مالك فذكر انه وجد فى السموات آدم وادريس وموسى وعيسى وابراهيم عليهم الصلاة والسلام ولم يثبت لى كيف منازلهم غير أنه ذكر انه وجد آدم فى السماء الدنيا وابراهيم فى السماء السادسه قال أنس فلما مر جبريل عليه السلام ورسول الله صلى الله عليه وسلم بادريس قال مرحبا بالنبى الصالح والأخ الصالح، قلت من هذا؟ قال هذا ادريس، قال ثم مررت بموسى فقال مرحبا بالنبى الصالح والأخ الصالح، قلت من هذا؟ قال هذا موسى، ثم مررت بعيسى فقال مرحبا بالنبى الصالح والأخ الصالح، قلت من هذا؟ قال هذا عيسى بن مريم، قال ثم مررت بابراهيم فقال مرحبا بالنبى الصالح ولابن الصالح قلت من هذا؟ قال هذا ابراهيم عليه السلام، قال ابن شهاب وأخبرنى ابن حزم أن ابن عباس وأبا حبَّة الأنصارى يقولان قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم عرج بى حتى ظهرت بمستوى أسمع صريف الاقلام، قال ابن حزم وانس بن مالك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فرض الله تبارك وتعالى على امتى خمسين صلاة، قال فرجعت بذلك حتى أمر على موسى عليه السلام فقال ماذا فرض ربك تبارك وتعالى على أمتك؟ قلت فرض عليهم خمسين صلاة، فقال لى موسى عليه السلام راجع ربك تبارك وتعالى فإن أمتك لا تطيق ذلك، قال فراجعت ربى عز وجل فوضع شطرها فرجعت الى موسى فاخبرته فقال راجع ربك فان أمتك لا تطيق ذلك، قال فراجعت ربى عز وجل فقال هى خمس وهى خمسون لا يبدل القول لدى، قال فرجعت الى موسى عليه السلام فقال راجع ربك فقلت قد استحييت من ربى تبارك وتعالى، قال ثم انطلق بى حتى أتى بى سدرة المنتهى، قال فغشيها الوان ما أدرى ما هى قال ثم ادخلت الجنة فاذا فيها جنابذ اللؤلؤ وإذا ترابها المسك
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান