মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ১০২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ইসরা ও মি'রাজের ঘটনা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ
পরিচ্ছেদ : এ সম্পর্কে আনাস ইবন মালিক ইবন সা'সা'আ (রা)-এর বর্ণিত ঘটনাসংক্রান্ত বর্ণনা
পরিচ্ছেদ : এ সম্পর্কে আনাস ইবন মালিক ইবন সা'সা'আ (রা)-এর বর্ণিত ঘটনাসংক্রান্ত বর্ণনা
(১০২) কাতাদাহ (রা) থেকে বর্ণিত, আনাস ইবন মালিক (রা) জানিয়েছেন যে, মালিক ইবন সা'সা'আ (রা) জানিয়েছেন যে, নবী (ﷺ) তাদেরকে তাঁর ইসরা-রজনী সম্পর্কে এইরূপ জানিয়েছেন, আমি কা'বা শরীফের হাতীমে অবস্থান করছিলাম। অবশ্য কাতাদাহ কখনও কখনও বলেছেন যে, হিজরে (হাতীমে) শায়িত ছিলাম। এমন সময় একজন আগন্তুক (জিব্রীল আ) এলেন এবং তাঁর সঙ্গীকে (মিকাইল আ.) যে ছিল তিনজনের মাঝখানে, কি যেন বলতে লাগলেন। তিনি (মিকাইল আ) এসে (আমাকে) ফেঁড়ে ফেললেন। রাবী বলেন, আমি কাতাদাহকে বলতে শুনেছি, "অতঃপর তিনি এখান থেকে এইখান পর্যন্ত ফেঁড়ে ফেললেন।" কাতাদাহ বলেন, আমি জারাদকে (জনৈক বর্ণনাকারী) জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি আমার পাশেই ছিলেন, "এইখান থেকে এইখান পর্যন্ত” এর অর্থ কী! তিনি বলেছিলেন, কণ্ঠনালীর গোড়া থেকে বক্ষদেশের শেষ পর্যন্ত (বক্ষে লোম গজানোর স্থান) অবশ্য তিনি এও বলে থাকতে পারেন مِنْ قَصهِ إِلَى شِعْرَتِهِ (যাহোক) তাঁরা আমার (বক্ষ বিদারণ করে) কালব (হৃদয়) বের করে নিয়ে আসেন। এরপর সোনার তৈরি তশতরী আনা হয়; তা ছিল ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ। তাঁরা আমার হৃদয় ধৌত করলেন (এবং তাতে ঈমান ও হিকমত ভরে দিলেন), অতঃপর তা যথাস্থানে পুনস্থাপিত করা হলো। এরপর খচ্চর ও গাধার মাঝামাঝি আকারের একটি প্রাণী আনা হলো। জারাদ বলেন, হে আবু হামযা! সেটি ছিল 'বুরাক'? তিনি বলেন, হ্যাঁ। সে প্রাণীটি তার প্রতিটি কদম রাখত তার দৃষ্টির শেষ সীমানায়। (অর্থাৎ অতিশয় দ্রুতগতি সম্পন্ন)। আমাকে সেই জন্তুর উপর সওয়ার করানো হয়। এরপর জিব্রীল (আ) আমাকে নিয়ে (উপরের দিকে) অগ্রসর হতে থকেন। একপর্যাযে দুনিয়ার আকাশে (প্রথম আকাশ) পৌঁছান এবং ফটক খুলতে বলেন। জিজ্ঞাসা করা হলো- আপনি কে? উত্তর হলো আমি জিব্রীল। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো আপনার সাথে কে? উত্তর দিলেন- মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হরো- তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? জিব্রীল বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম, কতই না মর্যাদাবান আগন্তুক তিনি। ফটক খুলে দেওয়া হলো। সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম আদমকে (আ)। জিব্রীল (আ) বললেন, ইনি আপনার পিতা আদম, তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুসন্তান ও সুযোগ্য নবীকে স্বাগতম। এরপর জিব্রীল (আ) (আমাকে নিয়ে) উপরের দিকে উঠতে লাগলেন এবং দ্বিতীয় আকাশে পৌছালেন। ফটক উন্মুক্ত করতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? উত্তর জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন হ্যাঁ। বলা হলো, তাঁকে সুস্বাগতম, কতই সম্মানিত আগন্তুক আগমন করেছেন। ফটক খুলে দেওয়া হলো। সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম দুই খালাতো ভাই ইয়াহইয়া ও 'ঈসাকে (আ)। জিব্রীল পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, এঁরা হচ্ছেন ইয়াহইয়া ও ঈসা। এঁদেরকে সালাম করুন। আমি সালাম করলাম। তাঁরা সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুযোগ্য ভাই ও সুযোগ্য নবীকে স্বাগতম। এরপর জিব্রীল (আ) উপরের দিকে উঠতে থাকলেন এবং তৃতীয় আকাশে পৌঁছে ফটক খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। বলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (এবার) বলা হলো তাঁকে স্বাগতম, কতই না মর্যাদাবান আগন্তুক আগমন করেছে। ফটক খুলে দেওয়া হলো। সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম ইউসুফকে (আ)। জিব্রীল (আ) বললেন ইনি হচ্ছেন ইউসুফ, তাঁকে সালাম করুন। আমি সালাম করলাম, তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুযোগ্য ভ্রাতা ও সুযোগ্য নবীকে স্বাগতম। জিব্রীল আবারও উপরের দিকে উঠতে থাকলেন এবং চতুর্থ আকাশে আরোহণ করে ফটক খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম। কতই না সম্মানিত আগন্তুক তিনি। ফটক খুলে দেওয়া হলো। সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম ইদ্রিসকে (আ)। জিব্রীল (আ) বললেন, ইনি হচ্ছেন ইদ্রিস, তাঁকে সালাম করুন। আমি সালাম করলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুযোগ্য ভাই ও সুযোগ্য নবীকে স্বাগতম। আবারও জিব্রীল (আ) উপরের দিকে উঠতে লাগলেন এবং পঞ্চম আকাশে আরোহণ করে ফটক খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম। কতই না সম্মানিত আগন্তুক আগমন করেছেন। ফটক খুলে দেওয়া হলো। আমি সেখানে প্রবেশ করে হারুনকে (আ) দেখতে পেলাম। জিব্রীল (আ) বললেন ইনি হচ্ছেন- হারূন। এঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুযোগ্য ভাই ও সুযোগ্য নবী তোমায় স্বাগতম। জিব্রীল আবারও (আ) আবারো উপরের দিকে উঠতে লাগলেন এবং ষষ্ঠ আকাশে আরোহণ করলেন, ফটক খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? বলেন, মুহাম্মদ। বলা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম, কতই না সম্মানিত আগন্তুক এসেছেন। ফটক খুলে দেওয়া হলো। আমি প্রবেশ করেই দেখতে পেলাম মূসাকে (আ)। জিব্রীল (আ) বললেন, ইনি হচ্ছেন মূসা। এঁকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর প্রদান করলেন এবং বললেন, স্বাগতম সুযোগ্য ভাই ও সুযোগ্য নবীকে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আমি যখন তাঁকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। বলা হলো, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, কাঁদছি এজন্য যে, এই যে, যুবকটি (মুহাম্মদ) তাঁকে পাঠানো হলো আমার পরে, অথচ তাঁর উম্মতের যে সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে, তা আমার উম্মতের জান্নাতে প্রবেশকারীর সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশী। অতঃপর জিব্রীল (আ) আবারো উপরের দিকে উঠতে থাকলেন এবং সপ্তম আকাশে এসে (থামলেন) এবং ফটক খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো তাঁকে স্বাগতম। কতই না সম্মানিত আগন্তুক আগমন করেছেন। ফটক খুলে দেওয়া হলো। আমি সেখানে প্রবেশ করেই দেখতে পেলাম ইব্রাহীমকে (আ)। জিব্রীল (আ) বললেন, ইনি ইব্রাহীম (আ)। তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, সুযোগ্য পুত্র ও সুযোগ্য নবীকে স্বাগতম। এরপর আমাকে উত্থিত করা হলো সিদ্রাতুল মুনতাহায়। সেই বৃক্ষের ফল হাজার (ইযামানের একটি অঞ্চল)-রে মটকার মত। আর তার পাতা হাতির কানের মত।
জিব্রীল (আ) বললেন, এটি হচ্ছে- সিদ্রাতুল মুনতাহা। সেখানে চারটি ঝর্ণা দেখা গেল। তন্মধ্যে দু'টি সুপ্ত আর দু'টি ব্যক্ত। আমি বললাম এটি কী হে জিব্রীল? তিনি বললেন, সুপ্ত দুটি ঝর্ণা হচ্ছে জান্নাতের, প্রকাশমান দু'টি হচ্ছে নীল ও ফুরাত। এরপর আমাকে 'বাইতুল মা'মূর'-এ উত্থিত করা হলো। ক্বাতাদাহ বলেন এবং আবু হুরাইরাহ (রা)-এর বর্ণনায় হাসান আমাদের বলেছেন যে, নবী (ﷺ) বাইতুল মা'মুর দেখেছেন। সেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফিরিশতা প্রবেশ করেন কিন্তু তাঁরা কখনই আর সেখানে ফিরে আসেন না।
যাহোক, রাবী পুনরায় আনাসের (রা) হাদীসে ফিরে আসেন। রাসূল (ﷺ) বলেন, অতঃপর আমাকে একপাত্র শরাব (মদ্য), একপাত্র দুধ এবং একপাত্র মধু দেওয়া হলো। আমি দুধের পাত্র গ্রহণ করলাম (এবং কিছু দুধ পান করলাম)। জিব্রীল (আ) বললেন, এটিই ফিতরাত (স্বভাব-ধর্ম তথা ইসলামের লক্ষণ)। আপনি ও আপনার উম্মত এই ফিতরতের উপরই প্রতিষ্ঠিত আছেন। এরপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়। রাসূল (ﷺ) বলেন, এরপর আমি মূসার (আ) নিকট ফিরে আসি। তিনি বললেন, আপনাকে কী নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে? বললাম, প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। এ বিষয়ে আপনার পূর্বে মানুষকে আমি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি প্রভুর কাছে ফিরে গিয়ে আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি প্রভুর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আমি পুনরায় মুসার (আ) কাছে ফিরে আসলে জিজ্ঞেস করলেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে? বললাম, চল্লিশ ওয়াক্ত সালাত প্রতিদিন। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক চল্লিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি মানুষকে আপনার পূর্বে পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি আবার প্রভুর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি আরো দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। মূসার কছে (আ) ফিরে এলাম। মূসা (আ) জিজ্ঞেস করলেন কী নির্দেশ আপনাকে প্রদান করা হলো? আমি বললাম, দৈনিক ত্রিশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন আপনার উম্মত ত্রিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনার রবের নিকট ফিরে গিয়ে আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি ফিরে গেলাম। আমার উপর থেকে তিনি আরো দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আবার মূসার (আ) কাছে ফিরে এলাম। তিনি বললেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হলো আপনাকে? আমি বললাম, বিশ ওয়াক্ত সালাত প্রতিদিন। মূসা (আ) বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক বিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে পরীক্ষা করেছি, আর বনী ইসরাঈলকে দিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি রবের কাছে তখন আমাকে দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ দেওয়া হলো। মূসার (আ) আবারও ফিরে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন আপনাকে কী নির্দেশ প্রদান করা হরো। আমি বললাম, দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি (আবারো) বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাত পালনে 'সক্ষম হবে না। কারণ, আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে পরীক্ষা করেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আবার ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। সুতরাং আমি আবার রবের কাছে ফিরে গেলাম, এবার আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশপ্রাপ্ত হলাম। আমি মূসার (আ) কাছে গেলে পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হলো আপনাকে? আমি বললাম, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি। তিনি পুনরায় বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষযে মানুষকে পরীক্ষা করেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি পুনরায় আপনার রবের কাছে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। এইবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আমি আমার রবের কাছে (বহুবার) প্রার্থনা করেছি। কিন্তু এখন লজ্জাবোধ করছি। আমি বরং সন্তুষ্টচিত্তে (আল্লাহর সর্বশেষ নির্দেশ) মেনে নিচ্ছি। এবার আমি যখন সেখান থেকে প্রস্থান করছি, আমি আহ্বানকারীর আহ্বান শুনলাম-আমি আমার ফরয পূর্ণ করে দিলাম আর আমার বান্দার উপর থেকে দায়িত্বের চাপ হালকা করে দিলাম।
আনাস ইবন মালিক মালিক ইবনে সা'সা'আহ্ থেকে নবীর (ﷺ) বরাতে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বলেন, আমি কা'বার সন্নিকটে নিদ্রা ও জাগরণের মাঝামাঝি একটি অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় জনৈক কথককে (জিব্রীল (আ)) বলতে শুনলাম, তিনি এ তিনজনের (আমাদের মধ্যে) একজনকে বলছেন... অতঃপর হাদীস বর্ণনা করেন (সংক্ষিপ্তাকারে) এইভাবে-অতঃপর আমাদেরকে বাইতুল মা'মূরে উত্তোলন করা হলো, যেখান দৈনিক সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে বের হয়ে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পান না। এরপর আমাকে উঠানো হলো 'সিদরাতুল মুনতাহায়'। এই বৃক্ষটির পাতা হাতির কানের মত (বৃহৎ)। এর পরের অংশ...এইরূপ, রাসূল (ﷺ) বলেন, আমি আমার মহামহিম রবের কাছে বারংবার ফিরে গিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত লজ্জাবশতঃ তাঁর নির্দেশ সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছি। যখন আমি প্রস্থান করতে উদ্যত, তখন আমাকে এই বলে ডাক দেওয়া হলো- নিশ্চয় আমি আমার বান্দার উপর থেকে দায়িত্বভার হালকা করে দিয়েছি এবং আমার ফরযসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছি। আর প্রতিটি সৎকর্মের বিনিময় নির্ধারণ করেছি দশগুণ।
তৃতীয় আরেকটি সনদে ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ পূর্বোক্ত রাবী (মালিক) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আমি বাইতুল্লাহ শরীফের কাছে নিদ্রা ও জাগরণের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলাম। তখন (আমাকে ইঙ্গিত করে) বলা হলো এই দুইজনের মধ্যবর্তী তৃতীয়জন। অতঃপর একট স্বর্ণের তশতরী (পাত্র) আনা হলো যা হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। এরপর (আমার) কণ্ঠদেশ থেকে পেটের উপরিভাগ পর্যন্ত বিদীর্ণ করে হৃদপিণ্ডটি (আমার) যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করা হলো। এরপর সেটি হিকমত ও ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেওয়া হলো। এরপর একটি জন্তু নিয়ে আসা হলো, যার আকৃতি খচ্চরের চেয়ে ছোট কিন্তু গাধার চেয়ে বড়। (সেটিতে সওয়ার হয়ে) আমি জিব্রীলের (আ) সাথে চলতে থাকলাম এবং (প্রথমেই) আমরা উপনীত হলাম পৃথিবীর আকাশে। তখন জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ (ﷺ)। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম। কতই না সম্মানিত আগন্তুক আগমন করেছেন। এর পরবর্তী অংশ পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
(এই হাদীসের প্রথম বর্ণনাধারা বুখারী কর্তৃক, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধারার বর্ণনাদ্বয় মুসলিম কর্তৃক উদ্ধৃত হয়েছে। অন্যদিকে নাসাঈ ও তিরমিযী খুব সংক্ষিপ্তভাবে উদ্ধৃত করেছেন।)
জিব্রীল (আ) বললেন, এটি হচ্ছে- সিদ্রাতুল মুনতাহা। সেখানে চারটি ঝর্ণা দেখা গেল। তন্মধ্যে দু'টি সুপ্ত আর দু'টি ব্যক্ত। আমি বললাম এটি কী হে জিব্রীল? তিনি বললেন, সুপ্ত দুটি ঝর্ণা হচ্ছে জান্নাতের, প্রকাশমান দু'টি হচ্ছে নীল ও ফুরাত। এরপর আমাকে 'বাইতুল মা'মূর'-এ উত্থিত করা হলো। ক্বাতাদাহ বলেন এবং আবু হুরাইরাহ (রা)-এর বর্ণনায় হাসান আমাদের বলেছেন যে, নবী (ﷺ) বাইতুল মা'মুর দেখেছেন। সেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফিরিশতা প্রবেশ করেন কিন্তু তাঁরা কখনই আর সেখানে ফিরে আসেন না।
যাহোক, রাবী পুনরায় আনাসের (রা) হাদীসে ফিরে আসেন। রাসূল (ﷺ) বলেন, অতঃপর আমাকে একপাত্র শরাব (মদ্য), একপাত্র দুধ এবং একপাত্র মধু দেওয়া হলো। আমি দুধের পাত্র গ্রহণ করলাম (এবং কিছু দুধ পান করলাম)। জিব্রীল (আ) বললেন, এটিই ফিতরাত (স্বভাব-ধর্ম তথা ইসলামের লক্ষণ)। আপনি ও আপনার উম্মত এই ফিতরতের উপরই প্রতিষ্ঠিত আছেন। এরপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়। রাসূল (ﷺ) বলেন, এরপর আমি মূসার (আ) নিকট ফিরে আসি। তিনি বললেন, আপনাকে কী নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে? বললাম, প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। এ বিষয়ে আপনার পূর্বে মানুষকে আমি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি প্রভুর কাছে ফিরে গিয়ে আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি প্রভুর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আমি পুনরায় মুসার (আ) কাছে ফিরে আসলে জিজ্ঞেস করলেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে? বললাম, চল্লিশ ওয়াক্ত সালাত প্রতিদিন। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক চল্লিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি মানুষকে আপনার পূর্বে পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি আবার প্রভুর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি আরো দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। মূসার কছে (আ) ফিরে এলাম। মূসা (আ) জিজ্ঞেস করলেন কী নির্দেশ আপনাকে প্রদান করা হলো? আমি বললাম, দৈনিক ত্রিশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন আপনার উম্মত ত্রিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনার রবের নিকট ফিরে গিয়ে আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি ফিরে গেলাম। আমার উপর থেকে তিনি আরো দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আবার মূসার (আ) কাছে ফিরে এলাম। তিনি বললেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হলো আপনাকে? আমি বললাম, বিশ ওয়াক্ত সালাত প্রতিদিন। মূসা (আ) বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক বিশ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে পরীক্ষা করেছি, আর বনী ইসরাঈলকে দিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। আমি রবের কাছে তখন আমাকে দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ দেওয়া হলো। মূসার (আ) আবারও ফিরে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন আপনাকে কী নির্দেশ প্রদান করা হরো। আমি বললাম, দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি (আবারো) বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক দশ ওয়াক্ত সালাত পালনে 'সক্ষম হবে না। কারণ, আপনার পূর্বে এ বিষয়ে মানুষকে পরীক্ষা করেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আবার ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। সুতরাং আমি আবার রবের কাছে ফিরে গেলাম, এবার আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশপ্রাপ্ত হলাম। আমি মূসার (আ) কাছে গেলে পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী নির্দেশ প্রদান করা হলো আপনাকে? আমি বললাম, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি। তিনি পুনরায় বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পালনে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে এ বিষযে মানুষকে পরীক্ষা করেছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন করেছি। সুতরাং আপনি পুনরায় আপনার রবের কাছে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য সহজীকরণ প্রার্থনা করুন। এইবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আমি আমার রবের কাছে (বহুবার) প্রার্থনা করেছি। কিন্তু এখন লজ্জাবোধ করছি। আমি বরং সন্তুষ্টচিত্তে (আল্লাহর সর্বশেষ নির্দেশ) মেনে নিচ্ছি। এবার আমি যখন সেখান থেকে প্রস্থান করছি, আমি আহ্বানকারীর আহ্বান শুনলাম-আমি আমার ফরয পূর্ণ করে দিলাম আর আমার বান্দার উপর থেকে দায়িত্বের চাপ হালকা করে দিলাম।
আনাস ইবন মালিক মালিক ইবনে সা'সা'আহ্ থেকে নবীর (ﷺ) বরাতে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বলেন, আমি কা'বার সন্নিকটে নিদ্রা ও জাগরণের মাঝামাঝি একটি অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় জনৈক কথককে (জিব্রীল (আ)) বলতে শুনলাম, তিনি এ তিনজনের (আমাদের মধ্যে) একজনকে বলছেন... অতঃপর হাদীস বর্ণনা করেন (সংক্ষিপ্তাকারে) এইভাবে-অতঃপর আমাদেরকে বাইতুল মা'মূরে উত্তোলন করা হলো, যেখান দৈনিক সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে বের হয়ে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পান না। এরপর আমাকে উঠানো হলো 'সিদরাতুল মুনতাহায়'। এই বৃক্ষটির পাতা হাতির কানের মত (বৃহৎ)। এর পরের অংশ...এইরূপ, রাসূল (ﷺ) বলেন, আমি আমার মহামহিম রবের কাছে বারংবার ফিরে গিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত লজ্জাবশতঃ তাঁর নির্দেশ সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছি। যখন আমি প্রস্থান করতে উদ্যত, তখন আমাকে এই বলে ডাক দেওয়া হলো- নিশ্চয় আমি আমার বান্দার উপর থেকে দায়িত্বভার হালকা করে দিয়েছি এবং আমার ফরযসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছি। আর প্রতিটি সৎকর্মের বিনিময় নির্ধারণ করেছি দশগুণ।
তৃতীয় আরেকটি সনদে ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ পূর্বোক্ত রাবী (মালিক) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আমি বাইতুল্লাহ শরীফের কাছে নিদ্রা ও জাগরণের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলাম। তখন (আমাকে ইঙ্গিত করে) বলা হলো এই দুইজনের মধ্যবর্তী তৃতীয়জন। অতঃপর একট স্বর্ণের তশতরী (পাত্র) আনা হলো যা হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। এরপর (আমার) কণ্ঠদেশ থেকে পেটের উপরিভাগ পর্যন্ত বিদীর্ণ করে হৃদপিণ্ডটি (আমার) যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করা হলো। এরপর সেটি হিকমত ও ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেওয়া হলো। এরপর একটি জন্তু নিয়ে আসা হলো, যার আকৃতি খচ্চরের চেয়ে ছোট কিন্তু গাধার চেয়ে বড়। (সেটিতে সওয়ার হয়ে) আমি জিব্রীলের (আ) সাথে চলতে থাকলাম এবং (প্রথমেই) আমরা উপনীত হলাম পৃথিবীর আকাশে। তখন জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিব্রীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ (ﷺ)। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হলো, তাঁকে স্বাগতম। কতই না সম্মানিত আগন্তুক আগমন করেছেন। এর পরবর্তী অংশ পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
(এই হাদীসের প্রথম বর্ণনাধারা বুখারী কর্তৃক, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধারার বর্ণনাদ্বয় মুসলিম কর্তৃক উদ্ধৃত হয়েছে। অন্যদিকে নাসাঈ ও তিরমিযী খুব সংক্ষিপ্তভাবে উদ্ধৃত করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب قصة الإسراء والمعراج برسول الله صلى الله عليه وسلم
باب ما ورد فى ذلك عن انس بن مالك عن مالك بن صعصعة رضي الله عنهما
باب ما ورد فى ذلك عن انس بن مالك عن مالك بن صعصعة رضي الله عنهما
حدّثنا عفان قال ثنا همام بن يحيى قال سمعت قتادة يحدث عن أنس بن مالك رضي الله عنه ان مالك بن صعصعه رضي الله عنه حدثه أن نبى الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم حدثهم عن ليلة أسري به قال بينا أنا فى الحطيم وربما قال قتادة فى الحجر مضطجع إذ أتانى آت فجعل يقول لصاحبه الأوسط بين الثلاثة قال فاتانى فقده وسمعت قتادة يقول فشق ما بين هذه إلى هذه، قال قتادة فقلت للجارود وهو الى جنبى ما يعنى قال من ثغرة نحره الى شعرته وقد سمعته يقول من قصه إلى شعرته قال فاستخرج قلبى فأتيت بطست من ذهب مملوءة ايمانا وحكمة فغسل قلبى ثم حشى ثم أعيد ثم اتيت بدابة دون البغل وفوق الحمار أبيض قال فقال الجارود هو البراق يا أبا حمزة قال نعم خطوه عند اقصى طرفه قال فحملت عليه فانطلق بى جبريل عليه السلام حتى أتى بى السماء الدنيا فاستفتح فقيل من هذا؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه، قال نعم، قيل مرحبا به ونعم المجيء جاء: قال ففتح فلما خلصت فاذا فيها آدم عليه السلام فقال هذا أبوك آدم فسلم عليه، فسلمت عليه فرد السلام ثم قال مرحبا بالابن الصالح والنبى الصالح، ثم صعد حتى أتى إلى السماء الثانية فاستفتح فقيل من هذا؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، قيل مرحبا به ونعم المجئ جاء: قال ففتح فلما خلصت فاذا يحيى وعيسى وهما ابنا الخالة، فقال هذا يحيى وعيسى فسلم عليهما، قال فسلمت فردا السلام ثم قالا مرحبا بالأخ الصالح والنبى الصالح، ثم صعد حتى أتى السماء الثالثه فاستفتح فقيل من هذا؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، قيل مرحبا به ونعم المجئ جاء قال ففتح فلما خلصت فإذا يوسف عليه السلام، قال هذا يوسف فسلم عليه قال فسلمت عليه فرد السلام وقال مرحبا بالأخ الصالح والنبى الصالح، ثم صعد حتى أتى السماء الرابعة فاستفتح، فقيل من هذا؟ قال جبريل، قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، فقيل مرحبا به ونعم المجئ جاء: قال ففتح فلما خلصت قال فاذا ادريس عليه السلام قال هذا ادريس فسلم عليه، قال فسلمت عليه فرد السلام، ثم قال مرحبا بالأخ الصالح والنبى الصالح، قال ثم صعد حتى أتى السماء الخامسة فاستفتح، فقيل من هذا؟ قال جبريل قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، قيل مرحبا به ونعم المجئ جاء: قال ففتح فلما خلصت فاذا هرون عليه السلام، قال هذا هرون فسلم عليه، قال فسلمت عليه، قال فرد السلام ثم قال مرحبا بالأخ الصالح والنبى الصالح، قال ثم صعد حتى أتى السماء السادسة فاستفتح، فقيل من هذا؟ قال جبريل قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، قيل مرحبا به ونعم المجئ جاء، ففتح فلما خلصت فاذا أنا بموسى عليه السلام، قال هذا موسى فسلم عليه، فسلمت عليه فرد السلام ثم قال مرحبا بالأخ الصالح والنبى الصالح قال فلما تجاوزت بكى: قيل له ما يبكيك؟ قال أبكى لأن غلاما بعث بعدى ثم يدخل الجنة من أمته أكثر مما يدخلها من أمتى، قال ثم صعد حتى أتى السماء السابعة فاستفتح قيل من هذا؟ قال جبريل قيل ومن معك؟ قال محمد، قيل أو قد أرسل اليه؟ قال نعم، قيل مرحبا ونعم المجئ جاء، قال ففتح فلما خلصت فاذا ابراهيم عليه السلام، فقال هذا ابراهيم فسلم عليه فسلمت عليه فرد السلام ثم قال مرحبا بالابن الصالح والنبى الصالح: قال ثم رفعت إلى سدرة المنتهى فاذا نبقها مثل قلال هجر واذا ورقها مثل آذان الفيلة فقال هذه سدرة المنتهى، قال واذا أربعة أنهار نهران باطنان ونهران ظاهران، فقلت ما هذا يا جبريل؟ قال أما الباطنان فنهران فى الجنة وأما الظاهران فالنيل والفرات قال ثم رفع إلى البيت المعمور قال قتادة وحدثنا الحسن عن أبى هريرة عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه رأى البيت المعمور يدخله كل يوم سبعون الف ملك ثم لا يعودون اليه، ثم رجع، إلى حديث أنس قال: ثم أتيت باناء من خمر واناء من لبن واناء من عسل، قال فأخذت اللبن، قال هذه الفطرة أنت عليها وأمتك، قال ثم فرضت الصلاة خمسين صلاة كل يوم، قال فرجعت على موسى عليه السلام فقال بماذا أمرت؟ قال أمرت بخمسين صلاة كل يوم، قال ان امتك لا تستطيع خمسين صلاة وانى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشد المعالجة فارجع إلى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فرجعت فوضع عنى عشرًا قال فرجعت فمررت على موسى فقال بما أمرت؟ قلت بأربعين صلاة كل يوم، قال ان أمتك لا تستطيع أربعين صلاة كل يوم، وإنى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشدّ المعالجة فارجع الى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فرجعت فوضع عنى عشرا أخر، فرجعت الى موسى فقال لى بما أمرت؟ قلت أمرت بثلاثين صلاة كل يوم، قال ان امتك لا تستطيع لثلاثين صلاة كل يوم وانى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشد المعالجة فارجع الى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فرجعت فوضع عنى عشرا أخر، فرجعت الى موسى فقال لى بما أمرت؟ قلت بعشرين صلاة كل، يوم فقال ان امتك لا تستطيع العشرين صلاة كل يوم وانى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشد المعالجة فارجع الى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فرجعت فأمرت بعشر صلوات كل يوم، فرجعت الى موسى فقال بما أمرت؟ قلت بعشرين صلاة كل، يوم فقال ان امتك لا تستطيع لعشر صلوات كل يوم فانى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشد المعالجة فارجع الى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال فرجعت فأمرت بخمس صلوات كل يوم، فرجعت الى موسى فقال بما أمرت؟ قلت بخمس صلوات كل يوم، فقال ان امتك لا تستطيع خمس صلوات كل يوم، وانى قد خبرت الناس قبلك وعالجت بنى اسرائيل أشد المعالجة فارجع الى ربك فاسأله التخفيف لأمتك، قال قلت قد سألت ربى حتى استحييت، منه ولكن ارضى واسلم فلما نفذت نادى مناد قد امضيت فريضتي وخففت عن عبادى (ومن طريق ثان) قال حدّثنا محمد بن جعفر قال ثنا سعيد بن أبى عروية عن قتادة بن دعامة عن أنس بن مالك عن مالك بن صعصعة عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه قال بينما أنا عند الكعبة بين النائم واليقظان فسمعت قائلا يقول أحد الثلاثة فذكر الحديث قال ثم رفع لنا البيت المعمور يدخله كل يوم سبعون الف ملك إذا خرجوا منه لم يعودوا فيه آخر ما عليهم قال ثم رفعت الى سدرة المنتهى فاذا ورقها مثل آذان الفيلة فذكر الحديث: قال فقلت لقد اختلفت الى ربى عز وجل حتى استحييت لا ولكن أرضى وأسلم، قال فلما جاوزته نوديت انى قد خففت على عبادى وأمضيت فرائضى وجعلت لكل حسنة عشر أمثالها (ومن طرييق ثالث) قال حدّثنا يحيى بن سعيد قال ثنا هشام الدستوائى قال ثنا قتادة عن أنس بن مالك عن مالك بن أبى صعصعة أن النبى صلى الله عليه وسلم قال بينا أنا عند البيت بين النائم واليقظان إذ قيل أحد الثلاثة بين الرجلين، فأتيت بطست من ذهب ملأه حكمة وايمانا فشق من النحر الى مراق البطن فغسل القلب بماء زمزم ثم ملئ حكمة وايمانا ثم اتيت بدابة دون البغل وفوق الحمار ثم انطلقت مع جبريل عليه السلام فأتينا السماء الدنيا فقيل من هذا؟ قيل جبريل قيل ومن معك قال محمد قيل وقد أرسل اليه قال نعم قيل مرحبا به ونعم المجئ جاء فذكر الحديث بنحو ما تقدم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ইসরা ও মি'রাজের সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে বায়তুল মাকদিসে গমন করেন। সেখানে নবীগণকে নিয়ে নামায পড়েন। তারপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁকে নিয়ে এক এক করে সাত আসমান পাড়ি দেন। প্রত্যেক আসমানে পৌঁছলে সে আসমানের দ্বাররক্ষী জিজ্ঞেস করে, কে? হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি জিবরীল। তারপর জিজ্ঞেস করে, আপনার সঙ্গে কে? তিনি উত্তর দেন, মুহাম্মাদ। এভাবে প্রত্যেকবার তিনি পরিচয় দিতে গিয়ে নিজের নাম বলেছেন। বলেননি যে, আমি। নাম বলতে গিয়েও নিজের সুপরিচিত নাম 'জিবরীল' বলেছেন। অন্য কোনও নাম নয়। তাঁর এছাড়া আরও নাম আছে, যেমন আর-রূহুল আমীন, রূহুল কুদ্স। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয় দিতে গিয়েও তিনি তাঁর সুপরিচিত নাম 'মুহাম্মাদ' উল্লেখ করেছেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরও আরও বহু নাম আছে, যেমন আহমাদ, আল-মাহী, আল-হাশির, আল-আকিব ইত্যাদি। তাঁর কুনয়াত বা উপনাম হল আবুল কাসিম। তিনি খাতামুন নাবিয়্যীন। তিনি সায়্যিদুল বাশার। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম এসবের কোনওটিই না বলে উভয় প্রসিদ্ধ ও পরিচিত নামই বলেছেন। এর দ্বারা বোঝা গেল ঘরের ভেতর থেকে আগন্তুকের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তাকে যে নামে সবাই চেনে সেই নাম বলেই পরিচয় দিতে হবে। 'আমি' বলা কিংবা এমন কোনও নাম বা উপাধি বলাও ঠিক নয়, যা বললে জিজ্ঞাসাকারী তাকে ভালোভাবে চিনতে পারবে না। পরিচয় জিজ্ঞেস করার উদ্দেশ্যই তো চিনতে পারা। যা বললে সে চিনতে পারবে না, তা বলার ফায়দা কী? তাতে বরং ঝামেলাই বাড়ে। কথা বেশি বলতে হয়, সময়ও নষ্ট হয়।
অনেক সময় বাক্তি বড় হলে নিজ নাম বলতে আত্মসম্মানে বাধে। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম ও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে বড় মাখলূক আর কে আছে? তাঁদেরই যখন পরিচয় দিতে গিয়ে নিজ নাম বলতে কুণ্ঠাবোধ হয়নি, তখন অন্যদের কেন এতে আপত্তি লাগবে? অকপটে নিজ নাম উচ্চারণ করার দ্বারা কেবল পরিচয়দানই সহজ হয় না; এটা বিনয়েরও পরিচায়ক।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসরা ও মি'রাজের ঘটনা সত্য। এতে বিশ্বাস রাখা জরুরি।
খ. আকাশ সাতটি। এতেও বিশ্বাস রাখতে হবে।
গ. প্রত্যেক আকাশে উপরে ওঠার দরজা আছে। আছে দরজার প্রহরীও। একেক ফিরিশতাকে আল্লাহ তা'আলা একেক দরজার দায়িত্বে নিযুক্ত করেছেন।
ঘ. দ্বাররক্ষী ফিরিশতাগণ সদা সতর্ক ও সচেতন। দায়িত্বপালনে তাদের দ্বারা কখনও কোনও ত্রুটি হয় না।
ঙ. কারও দরজায় পৌঁছলে নিজের নাম-পরিচয় দেওয়া কর্তব্য।
চ. পরিচয় দিতে গিয়ে সবাই যে নামে চেনে সেটাই বলা উচিত।
অনেক সময় বাক্তি বড় হলে নিজ নাম বলতে আত্মসম্মানে বাধে। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম ও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে বড় মাখলূক আর কে আছে? তাঁদেরই যখন পরিচয় দিতে গিয়ে নিজ নাম বলতে কুণ্ঠাবোধ হয়নি, তখন অন্যদের কেন এতে আপত্তি লাগবে? অকপটে নিজ নাম উচ্চারণ করার দ্বারা কেবল পরিচয়দানই সহজ হয় না; এটা বিনয়েরও পরিচায়ক।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসরা ও মি'রাজের ঘটনা সত্য। এতে বিশ্বাস রাখা জরুরি।
খ. আকাশ সাতটি। এতেও বিশ্বাস রাখতে হবে।
গ. প্রত্যেক আকাশে উপরে ওঠার দরজা আছে। আছে দরজার প্রহরীও। একেক ফিরিশতাকে আল্লাহ তা'আলা একেক দরজার দায়িত্বে নিযুক্ত করেছেন।
ঘ. দ্বাররক্ষী ফিরিশতাগণ সদা সতর্ক ও সচেতন। দায়িত্বপালনে তাদের দ্বারা কখনও কোনও ত্রুটি হয় না।
ঙ. কারও দরজায় পৌঁছলে নিজের নাম-পরিচয় দেওয়া কর্তব্য।
চ. পরিচয় দিতে গিয়ে সবাই যে নামে চেনে সেটাই বলা উচিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)