মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ৭৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: রাসূলের (ﷺ) কতিপয় সাহাবী (রা) কর্তৃক ফিতনা হতে নিজ দ্বীন রক্ষার্থে হাবশায় হিজরত
(৭৯) ইব্ন মাস'উদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে নাজ্জাশীর কাছে প্রেরণ করেন। আমরা সংখ্যায় ছিলাম আশি জনের মত পুরুষ। আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাসউদ, জাফর, আবদুল্লাহ্ ইব্ন উরফুতাহ, উছমান ইব্ন মাযউন ও আবু মূসা ছিলেন এঁদের অন্যতম (প্রধান)। তারা নাজ্জাশীর কাছে আসেন। (অপরদিকে) কুরাইশরা আমর ইব্নল 'আস ও উমারা ইবনল ওলীদকে (নাজ্জাশীর জন্য) উপঢৌকনসহ প্রেরণ করে। এরা দু'জন নাজ্জাশীর দরবারে হাজির হয়ে তাঁকে সাজদাহ করল (সম্মানার্থে) এবং তাঁর ডানে ও বায়ে কুর্নিশ করে আরজ করল, আমাদের চাচার বংশের একদল লোক আপনার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে; এঁরা আমাদেরকে এবং আমাদের ধর্মকে অবজ্ঞা করছে। নাজ্জাশী বলেন, তারা কোথায়? (দরবারীরা) বললো, তারা আপনার রাজত্বেই (ভূখণ্ডে) আছে। আপনি তাদেরকে ডেকে পাঠান। নাজ্জাশী তাদেরকে ডেকে পাঠালেন। জাফর (ইব্ন আবূ তালিব) বলেন, আজ আমিই হবো তোমাদের মুখপাত্র (বা নেতা)। সেমতে (মুসলিম মুহাজিরগণ) সবাই তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিলেন। (জাফরের নেতৃত্বে মুসলিমগণ নাজ্জাশীর দরবারে প্রবেশ করে) তাঁকে সালাম জানায় কিন্তু সাজদাহ করেননি। দরবারীরা বললো, তোমার কী হলো যে, বাদশাহকে সাজদাহ করছ না? উত্তর দিলেন, আমরা আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কাউকে সাজদাহ করি না। নাজ্জাশী বললেন, ঐ বিষয়টি কী? জাফর বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের কাছে তাঁর রাসূল (ﷺ) কে প্রেরণ করেছেন এবং আমাদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছেন আমরা যেন আল্লাহ্ তা'আলা ভিন্ন অন্য কাউকে সাজদাহ না করি। তিনি আমাদেরকে আরো নির্দেশ প্রদান করেছেন সালাত ও যাকাত সম্পর্কে। তখন (কুরাইশ দূত) আমর ইব্নল আস বললো, (জাহাপনা) এরা 'ঈসা ইবন মারইয়াম বিষয়ে আপনার মতের বিরোধিতা করে। নাজ্জাশী জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ঈসা ইবন মারইয়াম ও তাঁর মাতা সম্পর্কে কী বলে থাক? জাফর বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা যেরূপ বলেছেন, আমরাও সেইরূপ বলে থাকি, অর্থাৎ তিনি (ঈসা আ) কালিমাতুল্লাহি (আল্লাহর নির্দেশ) রূহুল্লাহি (আল্লাহ্ প্রদত্ত রূহ), যা তিনি সতী-সাধ্বী কুমারীর গর্ভে নিক্ষেপ করে দিয়েছেন, যাঁকে কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং (ঈসা আ-এর আগে) তার আর কোন সন্তান হয়নি। রাবী বলেন, নাজ্জাশী তখন মাটি থেকে একটি কাঠি কুড়িয়ে নিলেন এবং বললেন, হে হাবশার অধিবাসীগণ, ইন্জীল ও তাওরাত বিশেষজ্ঞগণ, আল্লাহর শপথ, এঁরা যে বক্তব্য পেশ করেছে (ঈসা আ ও তাঁর মাতা সম্পর্কে), তাতে এই কাঠির মতও কিছু বাড়িয়ে বলেনি। (সুতরাং হে মুসলিম দল) তোমাদেরকে এবং তোমরা এই বক্তব্য যাঁর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছ তাঁকে স্বাগতম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনিই আল্লাহ্ প্রতিশ্রুত সেই রাসূল, যাঁর উল্লেখ আমরা ইঞ্জিলে পাই; এবং যাঁর বিষয়ে ঈসা ইবন মারইয়াম সুসংবাদ প্রদান করে গেছেন। তোমরা (আমার রাজ্যে) তোমাদের ইচ্ছানুসারে যেখানে খুশী বসবাস কর। আল্লাহর শপথ, রাষ্ট্রীয় কর্মের ব্যস্ততা না থাকলে আমি অবশ্যই তাঁর খেদমতে হাজির হতাম, তার জুতা বহন করতাম এবং তাঁকে ওযু করিয়ে দিতাম। এরপর কুরাইশ দূতদ্বয়ের উপঢৌকন হাজির করার নির্দেশ দিলেন এবং তা তাদের নিকট ফেরত দেওয়া হলো। এরপর (আমরা হাবশায় নিরাপদে বসবাস করতে থাকলাম, তবে) আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাস'উদ (রা) ত্বরা করলেন (মদীনায় ফিরে আসলেন) এবং তিনি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন। রাবী মনে করেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নাজ্জাশীর মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর তাঁর জন্য (ইস্তিগফার) দোয়া করেন।
(হাইছামী ও তাবারানী)
(হাইছামী ও তাবারানী)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى هجرة بعض الصحابة رضي الله عنه الى الحبشة فرارا بدينهم من الفتنة وهى أول هجرة فى الاسلام
عن عبد الله بن عتبة عن ابن مسعود قال بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الى النجاشى ونحن نحو من ثمانين رجلا فيهم عبد الله ابن مسعود وجعفر وعبد الله بن عرفطة وعثمان بن مظعون وأبو موسى فأتوا النجاشى وبعثت قريش عمرو بن العاص وعمارة بن الوليد بهدية فلما دخلا على النجاشى سجدا له ثم ابتدراه عن يمينه وعن شماله ثم قال له ان نفرا من بنى عمنا نزلوا أرضك ورغبوا عنا وعن ملتنا، قال فأين هم؟ قالوا هم فى أرضك فابعث اليهم، فبعث اليهم فقال جعفر انا خطيبكم اليوم فاتبعوه: فسلم ولم يسجد، فقالوا له مالك لا تسجد للملك؟ قال انا لا نسجد الا لله عز وجل، قال وما ذاك؟ قال ان الله عز وجل بعث الينا رسوله صلى الله عليه وسلم وأمرنا أن لا نسجد لأحد الا لله عز وجل وأمرنا بالصلاة والزكاة، قال عمرو بن العاص فانهم يخالفونك فى عيسى بن مريم، قال ما تقولون فى عيسى بن مريم وأمه؟ قالوا نقول كما قال الله عز وجل هو كلمة الله وروحه القاها الى العذراء البتول التى لم يمسها بشر ولم يفرضها ولد، قال فرفع عودا من الأرض ثم قال يا معشر الحبشة والقسيسين والرهبان، والله ما يزيدون على الذيى يقول ما يسوى هذا: مرحبا بكم وبمن جئتم من عنده، اشهد أنه رسول الله فانه الذى نجد فى الأنجيل وأنه الرسول الذى بشر به عيسى بن مريم، انزلوا حيث شئتم، والله لولا ما أنا فيه من الملك لأتيته حتى أكون أنا أحمل نعليه وأوضئه وأمر بهدية الآخرين فردت اليهما، ثم تعجل عبد الله بن مسعود حتى أدرك بدرًا وزعم أن النبى صلى الله عليه وسلم استغفر اله حين بلغا موته