মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: 'উকবা ইব্‌ন আবু মু'আয়তও উৎপীড়নকারীদের অন্যতম
(৬৫) ইয়াহইয়া ইব্‌ন 'উরওয়া ইবন যুবাইর (তাঁর পিতা উরওয়া থেকে) এবং 'উরওয়া আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইব্‌নল 'আস (রা) থেকে বর্ণনা করেন- আমি ('উরওয়া) তাঁকে (আমরকে) বললাম, কুরাইশরা রাসূলকে (ﷺ) তাদের শত্রুতাবশতঃ সবচেয়ে অধিক কষ্ট দিয়েছে-এমন ঘটনা আপনি কোনটি প্রত্যক্ষ করেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, 'আমি (একদা) তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলাম। তাদের নেতৃস্থানীয়রা (একদিন) কা'বা সংলগ্ন হিজরে সমবেত হয়। তখন রাসূল (ﷺ) প্রসঙ্গে তারা আলোচনা-সমালোচনা করতে থাকে। তারা বলে, আমরা এই ব্যক্তির (মুহাম্মদ) ব্যাপারে যেরূপ ধৈর্য ধারণ করেছি, এইরূপ ধৈর্য আমরা আর কখনও কারো ব্যাপারে প্রদর্শন করিনি। সে (মুহাম্মদ) আমাদের বুদ্ধিমানদের মূর্খ ঠাওরিয়েছে, আমাদের পিতৃপুরুষকে গালি দিযেছে, আমাদের দ্বীনকে (ধর্ম) দোষারোপ করেছে, আমাদের ঐক্যে ফাঁটল ধরিয়েছে এবং আমাদের মাবুদদেরকে মন্দ বলেছে। আমরা তার প্রতি তার এই বিশাল অন্যায় কাজে সবর করেছি। অথবা তারা এইরূপই অন্য কথাবার্তা বলেছিল। তারা (কুরাইশ নেতারা) এইরূপ আলোচনায় মত্ত ছিল, এমন সময় রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের মাঝে আগমন করলেন। রাসূল (ﷺ) হেঁটে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে রুকন (ইয়ামানী) চুম্বন করলেন। এরপর তাদের পাশ দিয়ে অগ্রসর হয়ে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ শুরু করলেন। যখন তিনি তাদেরকে অতিক্রম করছিলেন, তখন তারা তাঁর কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করে তাঁর প্রতি বিদ্রূপ করতে লাগলো। রাবী বলেন, আমি তাদের বিদ্রূপের প্রতিক্রিয়া রাসূলের (ﷺ) চেহারায় লক্ষ্য করলাম। দ্বিতীয় চক্করে আবার যখন তিনি তাদের অতিক্রম করছিলেন, তখনও তারা পূর্বের ন্যায় ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করলো এবং আমি এর প্রতিক্রিয়া তাঁর চেহারায় লক্ষ্য করলাম। তৃতীয় চক্করে আবারও তাদেরকে অতিক্রম করার সময় তারা তাঁকে পূর্বের ন্যায় ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলো। এবার রাসূল (ﷺ) বললেন, হে কুরাইশ অধিপতিরা, তোমরা শুনে রাখ, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদ (ﷺ) এর জীবন, নিশ্চয় আমি তোমাদের ধ্বংস নিয়ে এসেছি। তাঁর এই কথায় তাদের মধ্যে ভীষণ (মনস্তাত্বিক) প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেল (সুনসান নীরবতা পেয়ে বসলো)। তাদের প্রত্যেকের মাথায় যেন এক একটি পাখি অবতরণ করলো। এমনকি ইতিপূর্বে তাঁকে কথার মাধ্যমে যে সবচেয়ে বেশী কষ্ট দিয়েছে-সেও তার জ্ঞাত সর্বোত্তম বাক্য দ্বারা তাঁর প্রশংসা করতে শুরু করলো। সবশেষে সে বললো, হে আবুল কাসিম, তুমি সুপথে ফিরে এস। আল্লাহর শপথ, তুমি মূর্খ নও। অতঃপর রাসূল (ﷺ) চলে গেলেন। পরদিন পুনরায় তারা হিজরের কাছে সমবেত হলো। আমিও ছিলাম তাদের সাথে। তারা পরস্পর বলাবলি করছিল তাদের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে আর তাঁর কাছ থেকে তাদের কাছে যেসব বক্তব্য পেশ করা হয়েছিল, তার উপর পর্যালোচনা করা হলো। তারা বললো, এমনকি প্রথমদিকে তাঁর কারণে (বা জন্য) তোমরা অনেক অপ্রিয় বিষয়ও ছেড়ে দিয়েছ। তারা এইরূপ আলোচনায় মগ্ন, এমন সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আগমন করলেন। অকস্মাৎ তারা একযোগে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে চক্রাকারে ঘিরে ফেললো। তারা বলছিল, তুমিই কি আমাদের ধর্ম ও উপাস্যদের সম্পর্কে এইরূপ এইরূপ মন্দ কথা বলে থাক? রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, আমিই সেই ব্যক্তি যে ঐরূপ বলে থাকে। তখন তাদের মধ্য থেকে একজনকে দেখলাম ('উকবা ইবন্ আবূ মু'আইত) তাঁর চাঁদরের সংযোগস্থল ধরে টানছে। আবু বকর সিদ্দীক (রা) (ঐ সময়) তাঁর পেছনে ছিলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তোমরা কি হত্যা করতে চাও এমন একজনকে যিনি বলছেন, "আমার রব আল্লাহ্”। অতঃপর তারা তাঁর কাছ থেকে প্রস্থান করলো। এটিই ছিল আমার দেখামতে কুরাইশদের পক্ষ থেকে তাঁর উপর কঠিনতম উৎপীড়ন।
(ইবন্ ইসহাক তাঁর সীরাতে এইরূপ বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। কিন্তু বুখারী সংক্ষিপ্ত আকারে পূর্বের হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেছেন।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ومنهم عقبة بن أبى معيط
عن يحيى بن عروة بن الزبير عن أبيه عروة عن عبد الله ابن عمرو بن العاص قال قلت له ما أكثر ما رأيت قريشا أصابت رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما كانت تظهر من عداوته؟ قال حضرتهم وقد اجتمع أشرافهم يوما فى الحجر فذكروا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا ما رأينا مثل ما صبرنا عليه من هذا الرجل قط، سفه أحلامنا وشتم آباءنا وعاب ديننا وفرّق جماعتنا وسب آلهتنا، لقد صبرنا منه على أمر عظيم أو كما قالوا، قال فبينما هم كذلك إذ طلع عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فأقبل يمشى حتى استلم الركن ثم مر بهم طائفا بالبيت فلما أن مرّ بهم غمزوه ببعض ما يقول: قال فعرفت ذلك فى وجهه ثم مضى فلما مر بهم الثانية غمزوه بمثلها فعرفت ذلك فى وجهه، ثم مضى ثم مر بهم الثالثة فغمزوه بمثلها: فقال تسمعون يا معشر قريش أما والذى نفس محمد بيده لقد جئتكم بالذبح فاخذت القوم كلمته حتى ما منهم رجل الا كأنما على رأسه طائر واقع حتى إن أشدهم فيه وصاة قبل ذلك ليرفؤه باحسن ما يجد من القول حتى إنه ليقول انصرف يا أبا القاسم انصرف راشدا فوالله ما كنت جهولا، قال فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اذا كان الغد اجتمعوا فى الحجر وأنا معهم فقال بعضهم لبعض ذكرتم ما بلغ منكم وما بلغكم عنه حتى اذا بادئكم بما تكرهون تركتموه، فبينما هم فى ذلك إذ طلع رسول الله صلى الله عليه وسلم فوثبوا اليه وثبة رجل واحد فأحاطوا به يقولون أنت الذى تقول كذا وكذا كما كان يبلغهم عنه من عيب آلهتهم ودينهم، قال فيقول رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم أنا الذى أقول ذلك قال فلقد رأيت رجلا منهم أخذ بمجمع ردائه، وقام أبو بكر الصديق رضي الله عنه دونه يقول وهو يبكي أتقتلون رجلا أن يقول ربى الله، ثم انصرفوا عنه، فان ذلك لأشد ما رأيت قريشا بلغت منه قط
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান