মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

রাজ'আত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা) অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৪
রাজ'আত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা) অধ্যায়
অধ্যায় : রাজ'আত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা)

পরিচ্ছেদ: স্ত্রী ফিরিয়ে আনার ওপর সাক্ষী রাখা এবং তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য কীভাবে হালাল হবে সে প্রসঙ্গে
৩৪। তারই সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রিফা'আ কুরাযীর স্ত্রী নবী (ﷺ)-এর নিকট আসল। তখন আমি এবং আবূ বকর (রা) নবী (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। সে বলল, রিফা'আ আমাকে 'আলবাত্তা' (তিন) তালাক দেয়। এরপর আবদুর রহমান ইবন যুবায়র (রা) আমাকে বিয়ে করেন। কিন্তু তার যা আছে তা আমার কাপড়ের এই ঝালরের মত। এই বলে সে তার চাদরের প্রান্তভাগ তুলে ধরল। সে সময় খালিদ ইবন সা'ঈদ (রা) দরজায় দাঁড়ানো ছিলেন। তাকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি বললেন, হে আবূ বকর! এই মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে জোরে জোরে যা বলছে তা হতে তাকে বিরত রাখবে না? (বর্ণনাকারী বলেন,) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুধু মুচকি হাসলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মনে হয় তুমি রিফা'আর নিকট ফিরে যেতে চাও। তা হতে পারে না, যাবত না তুমি তার মধুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং সেও তোমার মধুর স্বাদ আস্বাদন করবে।
(বুখারী, মুসলিম, বায়হাকী)
كتاب الرجعة
كتاب الرجعة

باب الإشهاد عليها وبما تحل المطلقة ثلاثا لزوجها الأول
وعنها أيضا قالت دخلت امرأة رفاعة القرظي وأنا وأبو بكر عند النبي صلى الله عليه وسلم فقالت إن رفاعة طلقني البتة وأن عبد الرحمن بن الزبير تزوجني وإنما عنده مثل هدبتي وأخذت هدبة من جلبابها وخالد بن سعيد بالباب لم يؤذن له فقال يا أبا بكر ألا تنهى هذه عما تجهر به بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم فما زاد رسول الله صلى الله عليه وسلم على التبسم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم كأنك تريدين أن ترجعي إلى رفاعة، لا: حتى تذوقي عسيلته ويذوق عسيلتك

হাদীসের ব্যাখ্যা:

শরীয়তের এ নির্দেশ কুরআন মজীদেও বর্ণিত হয়েছে। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে:

فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ

(অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাকও দিয়ে দেয় তবে সেই মহিলা এ স্বামীর জন্য তত সময় পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়)। এরপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে অথবা তালাক দিয়ে দেয় তবে ইদ্দত পূর্ণ করার পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।

বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এবং এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসমূহ থেকে উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর ও ব্যাখা এই জানা গেল যে, অন্য স্বামীর সাথে কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথেষ্ট নয় বরং সেই কাজও প্রয়োজন যা বিবাহের বিশেষ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উম্মতের অধিকাংশ আলিমগণের অভিমত এটাই। বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যদি সহবাসের বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত একেবারে মূল্যহীন ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান