মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
তালাক অধ্যায়
হাদীস নং: ২৩
তালাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: ঘুমন্ত ব্যক্তি, শিশু ও মস্তিষ্ক বিকৃত ব্যক্তির তালাক এবং মনে মনে তালাক পতিত হবে না।
২৩। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন, আমার উম্মতের মনে যা উদয় হয় এবং যে কুমন্ত্রণা জাগে তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে (অন্য শব্দেঃ আল্লাহ তা ক্ষমা করে দিবেন।) যতক্ষণ না সে তা বাস্তবায়ন করে অথবা উচ্চারণ করে।
(বুখারী, মুসলিম, ইমামচতুষ্ঠয় ও অন্যান্য। তিরমিযী (র) বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।)
(বুখারী, মুসলিম, ইমামচতুষ্ঠয় ও অন্যান্য। তিরমিযী (র) বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।)
كتاب الطلاق
باب عدم وقوع الطلاق من النائم والصبي والمجنون وبحديث النفس
عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تجوز (وفي لفظ أن الله تجاوز) لأمتي عما حدثت في أنفسها أو وسوست به أنفسها ما لم تعمل به أو تكلم به
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানী যে, তিনি ঈমানদারগণকে অন্তরের মধ্যে সৃষ্ট কুধারণা বা ওয়াসওয়াসার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না। মানুষের মনে অহরহ বিভিন্ন ধরনের ওয়াসওয়াসা বা কুধারণার সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু ধারণা সিদ্ধান্ত ও আমলে রূপান্তরিত না হলে কোনরূপ জবাবদিহি করতে হবে না।
[বিঃ দ্রঃ মানুষের অন্তরে কোনরূপ কল্পনার আবির্ভাব হওয়া বা না হওয়া তার আয়ত্বাধীন নয়। যে জিনিস তার আয়ত্বাধীন নয়, তার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার রেহাই পাওয়ার কোন সুযোগ থাকত না। তাই সূরা বাকারার "আসমান-যমীনের যাবতীয় কিছুর মালিকানা আল্লাহ্ তোমাদের অন্তরে যা রয়েছে তা প্রকাশ কর বা গোপন রাখ তার হিসাব গ্রহণ করা হবে; তিনি যাকে ইচ্ছা মাফ করবেন ও যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন। আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক জিনিসের উপর ক্ষমতাশালী" (সূরা বাকারা - ২৮৪) -আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর সাহাবায়ে কিরাম (রা) তার তাৎপর্য উপলব্ধি করে খুব ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তাঁরা নিজেদের ঈমানের পূর্ণতার দরুন কম্পিত হয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট বিনীত নিবেদন পেশ করলেন: নামায, রোযা, জিহাদ, দান-খয়রাত প্রভৃতির হুকুম আমাদের করা হয়েছে। এসব আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু এখন যা নাযিল করা হয়েছে তা আমাদের সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তাহলে কি তোমরা ইয়াহ্দী-খৃস্টানদের মত বলতে চাও যে, আমরা শুনলাম, কিন্তু মানব না। তোমাদের বলা উচিৎ, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। আমরা তোমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী। হে আমাদের রব! আমরা তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী ।।
সাহাবায়ে কিরাম (রা) নবী করীম (ﷺ)-এর উপদেশ গ্রহণ করলেন এবং তাঁদের মুখে এ কলেমা উচ্চারিত হল। অতঃপর 'আমানার রাসূল'-আয়াত নাযিল হল এবং আল্লাহ তা'আলা এ কষ্ট দূর করে দিলেন।
আল্লামা ইবনে কাসীর (র) এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন হাদীসের হাওয়ালা দিয়ে লিখেছেন, উক্ত আয়াত নাযিলের পর সাহাবায়ে কিরাম (রা) কাঁদছিলেন।
বলা বাহুল্য, সাহাবায়ে কিরামের এ ধরনের মানসিক অবস্থা, উৎকণ্ঠা এবং দিন-রাত আল্লাহর কাছে কাকুতি-মিনতির ফলে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে ওয়াসওয়াসার কারণে কোনরূপ হিসাব গ্রহণ করবেন না। এখানে যে ওয়াসওয়াসার উল্লেখ করা হয়েছে তা কোন ধরনের ভালভাবে বুঝার প্রয়োজন রয়েছে। এটা সাধারণ ওয়াসওয়াসা, যার ভিত্তিতে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। ওয়াসওয়াসা সিদ্ধান্তের পর্যায় পৌঁছে তার বাস্তব রূপ লাভ করলে এজন্য জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে। মানুষের প্রতি ঈর্ষা-বিদ্বেষ পোষণ করা বা কোন লোকের চরিত্র বা আমল সম্পর্কে মারাত্মক ধরনের সন্দেহ পোষণ করা বা কোন ব্যক্তিকে ঘঘৃণা করা প্রভৃতি অন্তরের মন্দকে বিভিন্ন হাদীসে খারাপ বলা হয়েছে। কুরআন শরীফে ইরশাদ হচ্ছে, "হে ঈমানদারগণ, অধিক সন্দেহ ও ধারণা-অনুমান থেকে দূরে থাক, কোন কোন ক্ষেত্রে সন্দেহ করা গুনাহ।" (আল হুজুরাত - ১২) আল্লাহকে বিশ্বাস না করা বা তাঁর শেষ নবীর রিসালাতকে অবিশ্বাস করা মানুষের অন্তরের সাথে সম্পর্কিত। তাই নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে কোন কোন মন্দ কল্পনার জন্য মানুষকে শাস্তি প্রদান করা হবে।
[বিঃ দ্রঃ মানুষের অন্তরে কোনরূপ কল্পনার আবির্ভাব হওয়া বা না হওয়া তার আয়ত্বাধীন নয়। যে জিনিস তার আয়ত্বাধীন নয়, তার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার রেহাই পাওয়ার কোন সুযোগ থাকত না। তাই সূরা বাকারার "আসমান-যমীনের যাবতীয় কিছুর মালিকানা আল্লাহ্ তোমাদের অন্তরে যা রয়েছে তা প্রকাশ কর বা গোপন রাখ তার হিসাব গ্রহণ করা হবে; তিনি যাকে ইচ্ছা মাফ করবেন ও যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন। আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক জিনিসের উপর ক্ষমতাশালী" (সূরা বাকারা - ২৮৪) -আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর সাহাবায়ে কিরাম (রা) তার তাৎপর্য উপলব্ধি করে খুব ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তাঁরা নিজেদের ঈমানের পূর্ণতার দরুন কম্পিত হয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট বিনীত নিবেদন পেশ করলেন: নামায, রোযা, জিহাদ, দান-খয়রাত প্রভৃতির হুকুম আমাদের করা হয়েছে। এসব আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু এখন যা নাযিল করা হয়েছে তা আমাদের সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তাহলে কি তোমরা ইয়াহ্দী-খৃস্টানদের মত বলতে চাও যে, আমরা শুনলাম, কিন্তু মানব না। তোমাদের বলা উচিৎ, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। আমরা তোমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী। হে আমাদের রব! আমরা তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী ।।
সাহাবায়ে কিরাম (রা) নবী করীম (ﷺ)-এর উপদেশ গ্রহণ করলেন এবং তাঁদের মুখে এ কলেমা উচ্চারিত হল। অতঃপর 'আমানার রাসূল'-আয়াত নাযিল হল এবং আল্লাহ তা'আলা এ কষ্ট দূর করে দিলেন।
আল্লামা ইবনে কাসীর (র) এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন হাদীসের হাওয়ালা দিয়ে লিখেছেন, উক্ত আয়াত নাযিলের পর সাহাবায়ে কিরাম (রা) কাঁদছিলেন।
বলা বাহুল্য, সাহাবায়ে কিরামের এ ধরনের মানসিক অবস্থা, উৎকণ্ঠা এবং দিন-রাত আল্লাহর কাছে কাকুতি-মিনতির ফলে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে ওয়াসওয়াসার কারণে কোনরূপ হিসাব গ্রহণ করবেন না। এখানে যে ওয়াসওয়াসার উল্লেখ করা হয়েছে তা কোন ধরনের ভালভাবে বুঝার প্রয়োজন রয়েছে। এটা সাধারণ ওয়াসওয়াসা, যার ভিত্তিতে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। ওয়াসওয়াসা সিদ্ধান্তের পর্যায় পৌঁছে তার বাস্তব রূপ লাভ করলে এজন্য জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে। মানুষের প্রতি ঈর্ষা-বিদ্বেষ পোষণ করা বা কোন লোকের চরিত্র বা আমল সম্পর্কে মারাত্মক ধরনের সন্দেহ পোষণ করা বা কোন ব্যক্তিকে ঘঘৃণা করা প্রভৃতি অন্তরের মন্দকে বিভিন্ন হাদীসে খারাপ বলা হয়েছে। কুরআন শরীফে ইরশাদ হচ্ছে, "হে ঈমানদারগণ, অধিক সন্দেহ ও ধারণা-অনুমান থেকে দূরে থাক, কোন কোন ক্ষেত্রে সন্দেহ করা গুনাহ।" (আল হুজুরাত - ১২) আল্লাহকে বিশ্বাস না করা বা তাঁর শেষ নবীর রিসালাতকে অবিশ্বাস করা মানুষের অন্তরের সাথে সম্পর্কিত। তাই নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে কোন কোন মন্দ কল্পনার জন্য মানুষকে শাস্তি প্রদান করা হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)