মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
হাদীস নং: ২২৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদ : মা'ইয ইবন মালিক আসলামী (রা)-এর ঘটনায় এবং তাঁকে পাথর মেরে হত্যা করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
২২৭। হিশাম ইবন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইবন নাঈম ইবন হাযযাল (রা) আমাকে তাঁর পিতা থেকে অবহিত করেন যে, তিনি বলেছেন, মা'ইয ইবন মালিক (রা) ইয়াতীম অবস্থায় আমার পিতার খেদমতে নিযুক্ত ছিল। সে গোত্রের জনৈকা ক্রীতদাসীর সাথে যিনা করল। আর তাকে আমার পিতা বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট যেয়ে তুমি যা করেছ তাঁকে তা অবহিত কর। সম্ভবত তিনি তোমার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। তিনি তাকে এ পরামর্শ দেন তার যিনার পাপ থেকে পরিত্রাণ প্রাপ্তির আশায়। সে তাঁর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যিনা করেছি। অতএব আপনি আমার উপর আল্লাহর কিতাবানুযায়ী শাস্তি আরোপ করুন। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর সে দ্বিতীয়বার তাঁর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যিনা করেছি। অতএব আপনি আমার উপর আল্লাহর কিতাবানুযায়ী শাস্তি আরোপ করুন। অতঃপর সে তাঁর নিকট তৃতীয়বার এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যিনা করেছি। অতএব আপনি আমার উপর আল্লাহর কিতাবানুযায়ী শাস্তি আরোপ করুন। অতঃপর সে চতুর্থবার তাঁর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল। আমি যিনা করেছি, অতএব আপনি আমার উপর আল্লাহর কিতাবানুযায়ী শাস্তি আরোপ করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি এটা চারবার বলেছ। তুমি কার সাথে যিনা করেছ? সে বলল, অমুকের সাথে। তিনি বললেন, তুমি কি তার সাথে শয়ন করেছ? সে বলল, হাঁ। তিনি বললেন, তুমি কি তার সাথে সহবাস করেছ? সে বলল, হাঁ। তিনি বললেন, তুমি কি তার সাথে যৌন মিলন করেছ? সে বলল, হাঁ। অতঃপর তিনি তাকে পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। তিনি বলেন, তাকে এক কাল কংকরময় ভূমিতে নিয়ে যাওয়া হল। যখন তাকে পাথর মারা হল তখন সে পাথরের আঘাত উপলব্ধি করতে পেরে অস্থির হল এবং দৌড়িয়ে চলে গেল। আব্দুল্লাহ ইবন উনাইস (রা) তাকে পেলেন। আর অন্য সকলকে সে ব্যর্থ করে দিয়েছিল। সে তাকে আঘাত করার জন্য উটের খুর টেনে বের করলেন এবং তা তার দিকে ছুড়ে মেরে তাকে হত্যা করলেন। তিনি বললেন, অতঃপর তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁকে তা অবহিত করলেন। তিনি বললেন, তোমরা তাকে ছেড়ে দাওনি? সম্ভবত সে তওবা করত। আর আল্লাহ তার তওবা কবুল করতেন।
হিশাম (র) বলেন, আমার কাছে ইয়াযীদ ইবন নাঈম ইবন হাযযাল (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আমার পিতাকে দেখলেন তখন বললেন, আল্লাহর শপথ হে হাযযাল, তুমি যদি তার দোষ গোপন রাখতে তাহলে তা তোমার জন্য তুমি যা প্রকাশ করেছ তা অপেক্ষা কল্যাণকরত হত।
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, নুয়াঈম ইবন হাযযাল (র) থেকে বর্ণিত, মায়িয ইবন মালেক (রা) হাযযাল (রা)-এর শ্রমিক ছিল আর ফাতেমা নামে তার একজন ক্রীতদাসী ছিল যাকে তার স্বামী তালাক দিয়েছিল। সে তাদের মেষ পাল চড়াত। মায়িয তার সাথে যিনা করল। আর সে তা হাযযাল (রা)-কে অবহিত করল। তিনি তাকে ধোঁকা দিয়ে বললেন, তুমি নবী (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে তাকে তা অবহিত কর, হয়ত তোমার বিষয়ে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হবে। নবী (ﷺ) তাকে পাথর মেরে হত্যা করতে নির্দেশ দিলেন। যখন সে পাথরের আঘাত উপলব্ধি করল তখন দৌড়ে চলে গেল। জনৈক ব্যক্তি তার দিকে ছুটে গিয়ে উটের একটা খুর টেনে বের করল এবং তাকে তা দিয়ে আঘাত করে ভূপাতিত করল। নবী (ﷺ) বললেন, হে হাযযাল, তোমার জন্য আফসোস! যদি তুমি তার দোষ গোপন রাখতে তাহলে তা তোমার জন্য কল্যাণ কর হত।
(আবূ দাউদ, বায়হাকী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদ উত্তম।)
হিশাম (র) বলেন, আমার কাছে ইয়াযীদ ইবন নাঈম ইবন হাযযাল (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আমার পিতাকে দেখলেন তখন বললেন, আল্লাহর শপথ হে হাযযাল, তুমি যদি তার দোষ গোপন রাখতে তাহলে তা তোমার জন্য তুমি যা প্রকাশ করেছ তা অপেক্ষা কল্যাণকরত হত।
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, নুয়াঈম ইবন হাযযাল (র) থেকে বর্ণিত, মায়িয ইবন মালেক (রা) হাযযাল (রা)-এর শ্রমিক ছিল আর ফাতেমা নামে তার একজন ক্রীতদাসী ছিল যাকে তার স্বামী তালাক দিয়েছিল। সে তাদের মেষ পাল চড়াত। মায়িয তার সাথে যিনা করল। আর সে তা হাযযাল (রা)-কে অবহিত করল। তিনি তাকে ধোঁকা দিয়ে বললেন, তুমি নবী (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে তাকে তা অবহিত কর, হয়ত তোমার বিষয়ে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হবে। নবী (ﷺ) তাকে পাথর মেরে হত্যা করতে নির্দেশ দিলেন। যখন সে পাথরের আঘাত উপলব্ধি করল তখন দৌড়ে চলে গেল। জনৈক ব্যক্তি তার দিকে ছুটে গিয়ে উটের একটা খুর টেনে বের করল এবং তাকে তা দিয়ে আঘাত করে ভূপাতিত করল। নবী (ﷺ) বললেন, হে হাযযাল, তোমার জন্য আফসোস! যদি তুমি তার দোষ গোপন রাখতে তাহলে তা তোমার জন্য কল্যাণ কর হত।
(আবূ দাউদ, বায়হাকী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء في قصة ماعز بن مالك الأسلمى ورجمه
حدّثنا وكيع ثنا هشام بن سعد أخبرنى يزيد بن نعيم بن هزَّال عن أبيه قال كان ماعز بن مالك في حجر أبى (1) فأصاب جارية (2) من الحى فقال له أبى إئت رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبره بما صنعت لعله يستغفر لك، وإنما يريد بذلك رجاء أن يكون له مخرج، فأتاه فقال يا رسول الله إنى زنيت فأقم علىّ كتاب الله، فأعرض عنه، ثم أتاه الثانية فقال يا رسول الله إنى زنيت فأقم علىَّ كتاب الله، ثم أتاه الثالثة فقال يا رسول الله إنى زنيت فأقم علىّ كتاب الله، ثم أتاه الرابعة فقال يا رسول الله إنى زنيت فأقم علىّ كتاب الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنك قلتها أربع مرات فبمن؟ قال بفلانة، قال هل ضاجعتها؟ قال نعم، قال هل باشرتها؟ قال نعم، قال هل جامعتها؟ قال نعم، فأمر به أن يرجم، قال فأخرج به إلى الحرّة (3) فلما رجم فوجد مس الحجارة (4) جزع فخرج يشتد فلقيه عبد الله بن أنيس وقد أعجز أصحابه (5) فنزع له بوظيف بعير فرماه به فقتله، قال ثم أتى النبى صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له فقال هلا تركتموه (6) لعله يتوب فيتوب الله عليه قال هشام فحدثنى يزيد بن نعيم بن هزَّال عن ابيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأبى حين رآه والله يا هزَّال لو كنت سترته بثوبك كان خيراً (7) مما صنعت به (ومن طريق ثان) (8) عن نعيم بن هزَّال أن هزالاً كان استأجر ماعز بن مالك وكانت له جارية يقال لها فاطمة قد أملكت (9) وكانت ترعى غنماً لهم وأن ماعزاً وقع عليها فأخبر هزالاً فخدعه فقال انطلق إلى النبى صلى الله عليه وسلم فأخبره عسى أن ينزل فيك قرآن، فأمر به النبى صلى الله عليه وسلم فرجم فلما عضته مس الحجارة (10) انطلق يسعى فاستقبله رجل بلحي (11) جزور أو ساق بعير فضربه به فصرعه فقال النبى صلى الله عليه وسلم ويلك يا هزَّال لو كنت سترته بثوبك كان خيراً لك