আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা

হাদীস নং: ৫৬৬৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৬৮. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আমি কি সর্বনিম্ন জান্নাতী সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করব না? সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ। জ্বী হ্যাঁ, বলুন। তিনি বললেন, এক ব্যক্তি জান্নাতের দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তখন তার সাথে তার পরিচারকদের সাক্ষাৎ হবে। তারা বলবে, খোশ-আমদেদ, আমাদের মনিব। আমাদের সাথে আপনার সাক্ষাতের সময় এসেছে। তিনি বলেন, তারপর চল্লিশ বছর ধরে তার জন্য উন্নতমানের গালিচা বিছানো হবে। এরপর সে তার ডান ও বাম দিকে তাকাবে এবং উদ্যানসমূহ দেখতে পাবে। সে জিজ্ঞেস করবে, এখানকার এসব কিছু কার জন্য? বলা হবে, তোমার জন্যে। যখন সে ভেতরে পৌছবে, তখন তার সামনে একটি লাল চুনি অথবা সবুজ পান্না পাথর উপস্থিত করা হবে ওগুলোর থাকবে সত্তরটি ঘাটি পথ। প্রত্যেক গলিতে থাকবে সত্তরটি করে কামরা। প্রত্যেক কামরায় থাকবে সত্তরটি করে দরজা। বলা হবে, তুমি পড়তে থাক এবং এতে চড়তে থাক। সে চড়বে। যখন সে তার রাজত্বের সিংহাসনে গিয়ে পৌঁছবে, তখন সে তার উপর হেলান দিয়ে বসবে। তার প্রশস্ততা হবে এক বর্গ মাইল। তাতে তার জন্য থাকবে অনেক প্রাসাদ। তার সামনে সত্তরটি সোনার রেকাবী উপস্থিত করা হবে। তন্মধ্যে এমন কোন রেকাবী থাকবে না, যাতে অপর রেকাবীর সমপ্রকার খাবার থাকবে। (ফলশ্রুতিতে) সে সর্বশেষ রেকাবীর খাবারের ও তেমনি স্বাদ পাবে, যেমন সে সর্বপ্রথম রেকাবীর খাবারের স্বাদ পাবে। এরপর তার সামনে নানা প্রকারের পানীয় উপস্থিত করা হবে। সে তাকে তা থেকে তার ইচ্ছামত পান করবে। এরপর পরিচারকগণ বলাবলি করবে, তোমরা তাঁকে ও তার স্ত্রীগণকে একান্তে ছেড়ে দাও। এ বলে পরিচারকগণ চলে যাবে। তখন সে তাকিয়ে দেখবে যে, আয়তলোচনা হুরদের থেকে একজন গেওরী রমনী তার রাজত্বের সিংহাসনের উপর সমাসীন। তার পরনে সত্তরটি পোষাক। তন্মধ্যে একটি পোষাক ও অপর পোষাকের সমপ্রকার নয়। তার মাংস, রক্ত, হাঁড় তদুপরি কাপড়ের উপর থেকে তার পায়ের গোছার মগজ দৃশ্যমান। সে তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে হে? সে বলবে, আমি সেসব আয়তালোচনা হুরদের একজন যাদেরকে আপনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এরপর সে তার প্রতি চল্লিশ বছর ধরে তাকিয়ে থাকবে, তার থেকে সে ব্যক্তি তার দৃষ্টি ফেরাবে না। তারপর সে কামরার প্রতি দৃষ্টি তুলে দেখবে যে, সেখানে তার চেয়েও অধিক সুন্দরী আরেকজন রয়েছে। সুন্দরী তাকে লক্ষ্য করে বলবে, আপনার পক্ষ থেকে আমার ভোগের অংশ পাওয়ার সময় কি এখনও হয়নি। সুতরাং সে ব্যক্তি চল্লিশ বছর ধরে তার দিকে আবলোকন করতে থাকবে, তার থেকে সে ব্যক্তি তার দৃষ্টি ফেরাবে না। তারপর যখন তাদের নিয়ামতসমূহ ভোগ পুরো মাত্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যাবে এবং তারা ধারণা করবে যে, এসবের চেয়ে উত্তম আর কোন নিয়ামত নেই, তখন তাদের সামনে মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ তা'আলা আত্মপ্রকাশ করবেন। তারা দয়ালু আল্লাহ্ তা'আলার চেহারার দিকে দৃষ্টিপাত করবে। তিনি বলবেন, হে জান্নাতবাসীরা। তোমরা বল, আমি আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। তখন তারা সমস্বরে বলবে, দয়ালু আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কোন মা'বুদ নেই। এরপর তিনি বলবেন, হে দাউদ। তুমি উঠ এবং আমার মাহাত্ম্য বর্ণনা কর, যেমন তুমি দুনিয়াতে আমার মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে। তিনি বলেন, তখন দাউদ (আ) তাঁর প্রতিপালকের মাহাত্ম্য বর্ণনা করবেন।
(ইবন আবুদ-দুনিয়া হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের সনদে এমন রাবী রয়েছেন, যার পরিচয় আমার এখনও জানা নেই।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5668- وَعَن عبد الله بن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول أَلا أخْبركُم بِأَسْفَل أهل الْجنَّة دَرَجَة قَالُوا بلَى يَا رَسُول الله قَالَ رجل يدْخل من بَاب الْجنَّة فيتلقاه غلمانه فَيَقُولُونَ مرْحَبًا بسيدنا قد آن لَك أَن تَزُورنَا قَالَ فتمد لَهُ الزرابي أَرْبَعِينَ سنة ثمَّ ينظر عَن يَمِينه وشماله فَيرى الْجنان فَيَقُول لمن مَا هَهُنَا فَيُقَال لَك حَتَّى إِذا انْتهى رفعت لَهُ ياقوتة حَمْرَاء أَو زبرجدة خضراء لَهَا سَبْعُونَ شعبًا فِي كل شعب سَبْعُونَ غرفَة فِي كل غرفَة سَبْعُونَ بَابا فَيُقَال اقْرَأ وارقه فيرقى حَتَّى إِذا انْتهى إِلَى سَرِير ملكه اتكأ عَلَيْهِ سعته ميل فِي ميل لَهُ فِيهِ قُصُور فيسعى إِلَيْهِ بسبعين صَحْفَة من ذهب لَيْسَ فِيهَا صَحْفَة فِيهَا من لون أُخْتهَا يجد لَذَّة آخرهَا كَمَا يجد لَذَّة أَولهَا ثمَّ يسْعَى إِلَيْهِ بألوان الْأَشْرِبَة فيشرب مِنْهَا مَا اشْتهى ثمَّ يَقُول الغلمان اتركوه وأزواجه فَينْطَلق الغلمان ثمَّ ينظر فَإِذا حوراء من الْحور الْعين جالسة على سَرِير ملكهَا عَلَيْهَا سَبْعُونَ حلَّة لَيْسَ مِنْهَا حلَّة من لون صاحبتها فَيرى مخ سَاقهَا من وَرَاء اللَّحْم وَالدَّم والعظم وَالْكِسْوَة فَوق ذَلِك فَينْظر إِلَيْهَا فَيَقُول من أَنْت فَتَقول أَنا من الْحور الْعين من اللَّاتِي خبئن لَك فَينْظر إِلَيْهَا أَرْبَعِينَ سنة لَا يصرف بَصَره عَنْهَا ثمَّ يرفع بَصَره إِلَى الغرفة فَإِذا أُخْرَى أجمل مِنْهَا فَتَقول مَا آن لَك أَن يكون لنا مِنْك نصيب فيرتقي إِلَيْهَا أَرْبَعِينَ سنة لَا يصرف بَصَره عَنْهَا ثمَّ إِذا بلغ النَّعيم مِنْهُم كل مبلغ وظنوا أَن لَا نعيم أفضل مِنْهُ تجلى لَهُم الرب تبَارك اسْمه فَيَنْظُرُونَ إِلَى وَجه الرَّحْمَن فَيَقُول يَا أهل الْجنَّة هللوني فيتجاوبون بتهليل الرَّحْمَن ثمَّ يَقُول يَا دَاوُد قُم فمجدني كَمَا كنت تمجدني فِي الدُّنْيَا قَالَ فيمجد دَاوُد ربه عز وَجل

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَفِي إِسْنَاده من لَا أعرفهُ الْآن
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান