আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা

হাদীস নং: ৫৬৬৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ: জান্নাতে সর্বনিম্ন জান্নাতীর নিয়ামতের বর্ণনা
৫৬৬৭. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা সৃষ্টি শুরু থেকে পৃথিবীর অন্তিম মুহূর্ত অবাধ্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষকে এক সুনির্ধারিত সীমিত সময়ে সমবেত করবেন। চল্লিশ বছর অবধি অপলক দৃষ্টিতে দণ্ডায়মান অবস্থায় তারা বিচারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে।.... তারপর হাদীসটি বর্ণনা করে অবশেষে তিনি বলেন: তারপর তিনি (অর্থাৎ, আল্লাহ্ তা'আলা) বলবেন, তোমরা তোমাদের মাথা উঠাও। তারা তাদের মাথা উঠাবে। তখন তাদেরকে তাদের আমল পরিমাণ নূর প্রদান করা হবে, যা তাদের সামনে দৌড়াতে থাকবে, কাউকে এর চেয়ে কম নূর প্রদান করা হবে, কারও হাতে খেজুর গাছ পরিমাণ (নূর) প্রদান করা হবে, কাউকে এর চেয়ে কম প্রদান করা হবে। অবশেষে তাদের সর্বশেষ ব্যক্তিকে তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে নূর প্রদান করা হবে। একবার তা আলোকিত হবে, আবার তা নিভিয়ে দেওয়া হবে। যখন তারপর আলোকিত হবে, তখন সে অগ্রসর হবে আবার যখন নিভিয়ে দেওয়া হবে, তখন সে দাঁড়িয়ে যাবে। তারা তাদের নূর অনুপাতে চলবে। তাদের মধ্য থেকে কেউ পলক গতিতে চলবে, কেউ বিদ্যুতের গতিতে চলবে, কেউ মেঘের গতিতে চলবে, কেউ নক্ষত্র পতনের গতিতে চলবে, কেউ বায়ুর গতিতে চলবে, কেউ ঘোড়ায় আরোহণের মত চলবে, কেউ পায়ে হাঁটার মত চলবে। অবশেষে যাকে তার পদ পৃষ্ঠে নূর প্রদান করা হবে, সে তার মুখমণ্ডল, দু'হাত ও দু'পায়ে হামাগুড়ি দিয়ে চলবে। একহাত পড়বে, আরেক হাত লটকানো অবস্থায় রাখা হবে। একপা পড়বে, আরেক পা লটকানো অবস্থায় রাখা হবে এবং তার চতুর্পার্শ্বে আগুনের উত্তাপ লাগতে থাকবে। এভাবে চলতে চলতে সে মুক্তি পাবে। যখন সে মুক্তি পেয়ে যাবে, তখন সে জাহান্নামের সামনে দাঁড়িয়ে বলবে, সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ্ তা'আলার জন্য, যিনি আমাকে এমন পুরস্কার দিয়েছেন, যা অন্য কাউকে দেন নি। কেননা, তিনি আমাকে জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করার পর তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তারপর তাকে জান্নাতের দরজার সামনে অবস্থিত একটি জলাশয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। সে তাতে গোসল করবে। ফলে জান্নাতীদের দেহের ঘ্রাণ ও জান্নাতীদের গাত্রবর্ণ তার কাছে ফিরে আসবে এবং সে দরজার ফাঁক দিয়ে জান্নাতের নিয়ামতসমূহ দেখতে পাবে। তখন সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট কর। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে বলবেন, ওহে! তুমি কি আমার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছ, অথচ আমি তোমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছি। সে বলবে, হে প্রভু! আমার ও জাহান্নামের মাঝে একটি অন্তরায় সৃষ্টি করে দিন- যাতে করে আমি তার কোন গর্জন শুনতে না পাই। তিনি বলেন, তারপর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং সে দেখবে অথবা তার জন্য এর সামনে একটি প্রাসাদ উঠানো হবে। যেন সে প্রাসাদের মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা তার কাছে যা রয়েছে তার তুলনায় স্বপ্নের মত। সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে এ প্রাসাদটি দান করুন। তখন তিনি তাকে বলবেন, যদি আমি এ প্রাসাদটি তোমাকে দান করি, তবে তুমি হয়ত আরেকটি চেয়ে বসবে। সে বলবে, জ্বী না, আপনার সম্ভ্রমের কসম, আমি আরেকটি চাইব না। আর কোন প্রাসাদই বা এর চেয়ে উৎকৃষ্ট হতে পারে?
তারপর তাকে সে প্রাসাদটি প্রাসাদ দেখতে পাবে, যেন সে প্রাসাদে যা কিছু রয়েছে, তা তার প্রাসাদের তুলনায় স্বপ্নের মত। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক। আমাকে এ প্রাসাদটি দান করুন। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে বলবেন, যদি আমি তোমাকে এ প্রাসাদটি দান করি, তবে তুমি হয়ত আরেকটি চেয়ে বসবে। সে বলবে, জ্বী না, আপনার সম্ভ্রমের শপথ। আর কোন প্রাসাদ-ইবা এর চেয়ে উৎকৃষ্ট হতে পারে? তখন তাকে সে প্রাসাদটিও দান করা হবে। সে তাতে প্রবেশ করবে এবং সে নীরব হয়ে যাবে।
আল্লাহ্ তা'আলা তখন তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তোমার কি হলো হে! তুমি যে আর কিছুই প্রার্থনা করছ না। উত্তরে সে বলবে, প্রভু। আমি আপনার কাছে (একের পর এক) প্রার্থনা করতে করতে লজ্জিত হয়ে গেছি। এবং (একের পর এক) কসম খেতে খেতে লজ্জাবোধ করছি। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার দুনিয়া সৃষ্টি করা অবধি তা ধ্বংস করা পর্যন্ত দুনিয়ার সমান ও তার দশগুণ আমি তোমাকে দান করব? সে বলবে, আপনি কি আমার সাথে উপহাস করছেন, অথচ আপনি হচ্ছেন রাব্বুল ইয্যত? তখন আল্লাহ তা'আলা তার কথায় হেসে দেবেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-কে দেখেছি, যখন তিনি এ হাদীসের এ স্থানে পৌঁছতেন তখন তিনি এভাবে হেসে দিতেন যে, তাঁর পেষণ দাঁতসমূহ প্রকাশ পেত।
তিনি বলেন, তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, না; বরং আমি তা করতে সক্ষম। তুমি যাও। সে বলবে, আপনি আমাকে মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিন। তিনি বলবেন, তুমি মানুষের সাথে সাক্ষাৎ কর। অতঃপর সে জান্নাতের মধ্যে দ্রুত হাঁটতে থাকবে। যখন সে মানুষের নিকটবর্তী হবে, তখন তার সামনে একটি মুক্তার প্রাসাদ উপস্থিত করা হবে। তখন সে সিজদায় লুটিয়ে পড়বে। তাঁকে বলা হবে, তুমি তোমার মাথা তোল। তোমার কি হয়েছে? সে বলবে, আমি আমার প্রভুকে দেখেছি, অথবা আমার প্রভু আমার দৃষ্টিগোচরে এসেছেন। তাকে বলা হবে, এটা তোমার প্রাসাদসমূহের মধ্যকার একটি প্রাসাদমাত্র। তিনি বলেন, তারপর এক লোকের সাথে তার সাক্ষাৎ হবে। তখন তাকে সিজদা করতে উদ্যত হবে। তাকে বলা হবে, থাম। সে বলবে, আমি দেখছি, আপনি ফিরিশতা। ফিরিশতা বলবেন, আমি আপনার অনেক কোষাধ্যক্ষের মধ্যকার একজন কোষাধ্যক্ষমাত্র এবং আপনার অনেক গোলামের মধ্যকার একজন গোলাম মাত্র। আমার অধীনে এক হাজার কর্মচারী রয়েছে।
তিনি বলেন, তারপর ফিরিশতা তার সামনে চলতে থাকবেন এবং তার জন্য উক্ত প্রাসাদের দরজা খুলবেন।
তিনি বলেন, সে প্রাসাদটি হবে ফাঁপা মুক্তায় নির্মিত। তার ছাদ, দরজা ও তালা-চাবিও হবে ফাঁপা মুক্তার তৈরী। প্রাসাদটির সামনে থাকবে পান্না যার ভেতরে থাকবে চুন্নি। তাতে থাকবে সত্তরটি দরজা। প্রতিটি দরজা একটি মরকত (মণি বিশেষ) পর্যন্ত পৌছিয়ে দেবে, যার ভিতর হবে ঠাঁসা। প্রতিটি জহরত একটি ভিন্ন রঙের জহরত পর্যন্ত পৌছিয়ে দেবে। প্রত্যেক জহরতে থাকবে পালংক স্ত্রী ও বাঁদী দাসী। তন্মধ্যে সর্বনিম্নমানেরটি হবে গেওয়ী ও আয়তলোচনা রমণী। তার পরনে থাকবে সত্তরটি পোষাক। তার সেসব পোষাকের উপর থেকে তার পায়ের গোছার মগজ দেখা যাবে। তার কলজে হবে (জান্নাতী) পুরুষের আরশি স্বরূপ এবং ঐ ব্যক্তির কলজে হবে তার আরশি স্বরূপ। যখন সে তার প্রতি একটু বিমুখতা প্রদর্শন করবে, তার চোখে সে (যতটুকু সুন্দরী ছিল, তার চেয়ে) সত্তরগুণ বেশি সুন্দরী হয়ে উঠবে। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি কাছে আস, সে কাছে আসবে। তাকে বলা হবে, একশ বছরের দূরত্ব পর্যন্ত তোমারই রাজত্ব যতদূর তোমার দৃষ্টি শক্তি পৌঁছবে। তিনি বলেন, তারপর উমর (রা) বললেন, হে কা'ব। ইবন উম্মু আরদ একজন নিম্নশ্রেণীর জান্নাতী সম্পর্কে আমাদেরকে যা বলছে, তা কি তুমি শুনছ না? তা'হলে উচ্চ পর্যায়ের জান্নাতীদের অবস্থা কি হবে।
জবাবে তিনি বললেনঃ হে আমীরুল মু'মিনীন! যা কোন চোখ কোনদিন দেখেনি কোন কোন কোনদিন শুনেনি। নিশ্চয় আল্লাহ্ তা'আলা এমন একটি বাড়ী নির্মাণ করেছেন এবং তাতে যেমনটি হচ্ছে রমণী, ফলমূল ও পানীয় রেখেছেন। তারপর তা ঢেকে দিয়েছেন। ফলে তাঁর কোন সৃষ্টিজীব, জিব্‌রীল অথবা অন্যকোন ফিরিশ্তাও তা দেখেনি। তারপর কা'ব (রা) তিলাওয়াত করন :
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
মানুষের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তাদের চোখ জুড়ানোর যে সব উপকরণ গোপন রাখা হয়েছে, তা কোন মানুষ জানে না (৩২ঃ ১৭)।
তিনি বলেন, এটি ব্যতীত আল্লাহ্ তা'আলা আরও দু'টি জান্নাত তৈরি করেছেন, সেগুলোকে তিনি ইচ্ছা মুতাবিক সাজিয়েছেন এবং সে দু'টি তাঁর মাখলুকদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি দেখিয়েছেন। তারপর বললেন, যার আমলনামা ইল্লিয়্যীনের মধ্যে থাকবে, সে সেই বাড়ীতে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে, যা কেউ দেখেনি। এমন কি ইল্লিয়্যীনবাসী এক লোক বের হবে এবং তার রাজত্বে তথা তার মালিকানাধীন জান্নাতে বিচরণ করবে। সে জান্নাতের তাঁবুসমূহের প্রতিটি তাঁবুতে নিজ চেহারার আলোতে প্রবেশ করবে। তাঁবুবাসীরা তার ঘ্রাণে আনন্দবোধ করে বলবে, আশ্চর্যজনক এ ঘ্রাণ। একজন ইল্লিয়ীনিবাসীর এ ঘ্রাণ যে তার মালিকানাধীন জান্নাতে বিচরণ করতে বের হয়েছে। উমর (রা) বললেন, তোমার কল্যাণ হোক, হে কা'ব। নিশ্চয় এসব অন্তর বাঁধনহারা হয়ে পড়েছে, সুতরাং এগুলো তুমি নিয়ন্ত্রণ কর। তখন কা'ব বললেন, নিশ্চয় কিয়ামতের দিন জাহান্নামের নিঃশ্বাসের এমন এক শব্দ হবে, যার ফলে এমন কোন নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতা অথবা প্রেরিত নবী নেই, যিনি রুকু'তে পড়ে না যাবেন। এমনকি অথবা প্রেরিত নবী নেই, যিনি রুকু'তে পড়ে না যাবেন। এমনকি ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ বলবেন, হে আমার রব্ব নাফসী! নাফসী!! (আমাকে রক্ষা করুন। আমাকে রক্ষা করুন।) এমন কি যদি তোমার আমলের সাথে তোমার জন্য সত্তর জন নবীর আমলও থাকে, তবু তুমি ধারণা করবে যে, তুমি নাজাত পাবে না।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া, তাবারানী ও হাকিম এভাবে ইবন মাসউদ (রা) থেকে মারফু'রূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে 'নিশ্চয় আল্লাহ্ একটি বাড়ী নির্মাণ করেছেন..... থেকে হাদীসটির শেষ পর্যন্ত কা'ব (রা)-এর উপর মাওকূফ। তাবারানী সনদসমূহ থেকে একটি সহীহ। হাদীসটির উল্লিখিত শব্দমালা তাঁরই বর্ণিত। হাকিম বলেন, এর সনদ সহীহ। হাদীসটি এরূপই সংক্ষিপ্তাকারে ইবন মাসউদ (রা) থেকে মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِيمَا لأدنى أهل الْجنَّة فِيهَا
5667- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود أَيْضا رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي قَالَ يجمع الله عز وَجل الْأَوَّلين والآخرين لميقات يَوْم مَعْلُوم قيَاما أَرْبَعِينَ سنة شاخصة أَبْصَارهم ينتظرون فصل الْقَضَاء
فَذكر الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ ثمَّ يَقُول يَعْنِي الرب تبَارك وَتَعَالَى ارْفَعُوا رؤوسكم فيرفعون رؤوسهم فيعطيهم نورهم على قدر أَعْمَالهم فَمنهمْ من يعْطى نوره مثل الْجَبَل الْعَظِيم يسْعَى بَين يَدَيْهِ وَمِنْهُم من يعْطى نوره أَصْغَر من ذَلِك وَمِنْهُم من يعْطى مثل النَّخْلَة بِيَدِهِ وَمِنْهُم من يعْطى أَصْغَر من ذَلِك حَتَّى يكون آخِرهم رجلا يعْطى نوره على إِبْهَام قَدَمَيْهِ يضيء مرّة ويطفأ مرّة فَإِذا أَضَاء قدم قدمه وَإِذا أطفىء قَامَ فيمرون على قدر نورهم مِنْهُم من يمر كطرفة الْعين وَمِنْهُم من يمر كالبرق وَمِنْهُم من يمر كالسحاب وَمِنْهُم من يمر كانقضاض الْكَوْكَب وَمِنْهُم من يمر كَالرِّيحِ وَمِنْهُم من يمر كشد الْفرس وَمِنْهُم من يمر كشد الرجل حَتَّى يمر الَّذِي يعْطى نوره على ظهر قَدَمَيْهِ يحبو على وَجهه وَيَديه وَرجلَيْهِ تَخِر يَد وَتعلق يَد وتخر رجل وَتعلق رجل وتصيب جوانبه النَّار فَلَا يزَال كَذَلِك حَتَّى يخلص فَإِذا خلص وقف عَلَيْهَا فَقَالَ الْحَمد لله الَّذِي أَعْطَانِي مَا لم يُعْط أحدا إِذْ نجاني مِنْهَا بعد إِذْ رَأَيْتهَا قَالَ فَينْطَلق بِهِ إِلَى غَدِير عِنْد بَاب الْجنَّة فيغتسل فَيَعُود إِلَيْهِ ريح أهل الْجنَّة وألوانهم فَيرى مَا فِي الْجنَّة من خلل الْبَاب فَيَقُول رب أدخلني الْجنَّة فَيَقُول لَهُ أتسأل الْجنَّة وَقد نجيتك من النَّار فَيَقُول رب جعل بيني وَبَينهَا حِجَابا لَا أسمع حَسِيسهَا قَالَ فَيدْخل الْجنَّة وَيرى أَو يرفع لَهُ منزل أَمَام ذَلِك كَأَن مَا هُوَ فِيهِ إِلَيْهِ حلم فَيَقُول رب أَعْطِنِي ذَلِك الْمنزل فَيَقُول لَهُ لَعَلَّك إِن أعطيتكه تسْأَل غَيره فَيَقُول لَا وَعزَّتك لَا أَسأَلك غَيره وَأي منزل أحسن مِنْهُ فيعطاه فينزله وَيرى أَمَام ذَلِك منزلا كَأَن مَا هُوَ فِيهِ إِلَيْهِ حلم قَالَ رب أَعْطِنِي ذَلِك
الْمنزل فَيَقُول الله تبَارك وَتَعَالَى لَهُ فلعلك إِن أعطيتكه تسْأَل غَيره فَيَقُول لَا وَعزَّتك يَا رب وَأي منزل أحسن مِنْهُ فيعطاه فينزله ثمَّ يسكت فَيَقُول لله جلّ ذكره مَا لَك لَا تسْأَل فَيَقُول رب قد سَأَلتك حَتَّى ستحييتك وَأَقْسَمت حَتَّى ستحييتك فَيَقُول الله جلّ ذكره ألم ترض أَن أُعْطِيك مثل الدُّنْيَا مُنْذُ خلقتها إِلَى يَوْم أفنيتها وَعشرَة أضعافه فَيَقُول أتهزأ بِي وَأَنت رب الْعِزَّة فيضحك الرب تبَارك وَتَعَالَى من قَوْله قَالَ فَرَأَيْت عبد الله بن مَسْعُود إِذا بلغ هَذَا الْمَكَان من هَذَا الحَدِيث ضحك حَتَّى تبدو أَضْرَاسه قَالَ فَيَقُول الرب جلّ ذكره لَا وَلَكِنِّي على ذَلِك قَادر سل فَيَقُول ألحقني بِالنَّاسِ فَيَقُول الْحق بِالنَّاسِ فَينْطَلق يرمل فِي الْجنَّة حَتَّى إِذا دنا من النَّاس رفع لَهُ قصر من درة فيخر سَاجِدا فَيُقَال لَهُ رفع رَأسك مَا لَك فَيَقُول رَأَيْت رَبِّي أَو ترَاءى لي رَبِّي فَيُقَال إِنَّمَا هُوَ منزل من منازلك
قَالَ ثمَّ يلقى رجلا فيتهيأ للسُّجُود لَهُ فَيُقَال لَهُ مَه فَيَقُول رَأَيْت أَنَّك ملك من الْمَلَائِكَة فَيَقُول إِنَّمَا أَنا خَازِن من خزانك وَعبد من عبيدك تَحت يَدي ألف قهرمان على مَا أَنا عَلَيْهِ
قَالَ فَينْطَلق أَمَامه حَتَّى يفتح لَهُ الْقصر قَالَ وَهُوَ من درة مجوفة سقائفها وأبوابها وأغلاقها ومفاتيحها مِنْهَا تستقبله جَوْهَرَة خضراء مبطنة بِحَمْرَاء فِيهَا سَبْعُونَ بَابا كل بَاب يُفْضِي إِلَى جَوْهَرَة خضراء مبطنة كل جَوْهَرَة تُفْضِي إِلَى جَوْهَرَة على غير لون الْأُخْرَى فِي كل جَوْهَرَة سرر وَأَزْوَاج ووصائف أدناهن حوراء عيناء عَلَيْهَا سَبْعُونَ حلَّة يرى مخ سَاقهَا من وَرَاء حللها كَبِدهَا مرآته وكبده مرآتها إِذا أعرض عَنْهَا إعراضة زدادت فِي عينه سبعين ضعفا فَيُقَال لَهُ شرف فيشرف فَيُقَال لَهُ ملكك مسيرَة مائَة عَام ينفذهُ بَصرك قَالَ فَقَالَ عمر أَلا تسمع مَا يحدثنا بن أم عبد يَا كَعْب عَن أدنى أهل الْجنَّة منزلا فَكيف أعلاهم قَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت إِن الله جلّ ذكره خلق دَارا جعل فِيهَا مَا شَاءَ من الْأزْوَاج والثمرات والأشربة ثمَّ أطبقها فَلم يرهَا أحد من خلقه لَا جِبْرِيل وَلَا غَيره من الْمَلَائِكَة ثمَّ قَرَأَ كَعْب فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ السَّجْدَة 71 قَالَ وَخلق دون ذَلِك جنتين وزينهما بِمَا شَاءَ وأراهما من شَاءَ من خلقه ثمَّ قَالَ من كَانَ كِتَابه فِي عليين نزل فِي تِلْكَ الدَّار الَّتِي لم يرهَا أحد حَتَّى إِن الرجل من أهل عليين ليخرج فيسير فِي ملكه فَلَا تبقى خيمة من خيم الْجنَّة إِلَّا دَخلهَا من ضوء وَجهه فيستبشرون بريحه فَيَقُولُونَ واها لهَذَا الرّيح هَذَا ريح رجل من أهل عليين قد خرج يسير فِي ملكه قَالَ وَيحك يَا كَعْب إِن هَذِه الْقُلُوب قد سترسلت فاقبضها فَقَالَ
كَعْب إِن لِجَهَنَّم يَوْم الْقِيَامَة لزفرة مَا من ملك مقرب وَلَا نَبِي مُرْسل إِلَّا خر لِرُكْبَتَيْهِ حَتَّى إِن إِبْرَاهِيم خَلِيل الله ليقول رب نَفسِي نَفسِي حَتَّى لَو كَانَ لَك عمل سبعين نَبيا إِلَى عَمَلك لظَنَنْت أَن لَا تنجو

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم هَكَذَا عَن ابْن مَسْعُود مَرْفُوعا وَآخره من قَوْله إِن الله جلّ ذكره خلق دَارا إِلَى آخِره مَوْقُوفا على كَعْب وَأحد طرق الطَّبَرَانِيّ صَحِيح وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد وَهُوَ فِي مُسلم بِنَحْوِهِ بِاخْتِصَار عَنهُ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান