আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৪. অধ্যায়ঃ জানাযা
হাদীস নং: ৫৪৩২
অধ্যায়ঃ জানাযা
অনুচ্ছেদ
৫৪৩২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে রাখা হয় তখন সে দাফনকারীগণ ফিরে আসার সময় তাদের জুতোর শব্দ শুনতে পায়। যদি সে মু'মিন হয়, তবে তার সালাত তার মাথার কাছে, রোযা তার ডান দিকে, যাকাত তার বাম দিকে, তার সাদাকা, দরূদ, সৎকাজ মানুষের প্রতি অনুগ্রহ ইত্যাদি নেককাজ তার দু'পায়ের কাছে থাকে। তারপর তার শিয়রের দিক থেকে আযাব উপস্থিত করা হয়, তখন সালাত বলে, আমার দিক থেকে প্রবেশ করার পথই নেই, এরপর তার ডান দিক থেকে আযান উপস্থিত করা হয়, তখন সাওম বলে, আমার দিক থেকে প্রবেশ করার পথ নেই, এরপর তার দু'পায়ের দিক থেকে আযাব উপস্থিত করা হয়, তখন তার নেক আমল তথা সাদাকা, সৎকাজও পরোপকার বলে, আমার দিক থেকে প্রবেশ করার পথ নেই। তখন তাকে বলা হয়, বস! সে উঠে বসে। তখন এভাবে তার সামনে সূর্যের অবিকল ছবি উপস্থিত করা হয় যে, সূর্য ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাকে তখন জিজ্ঞেস করা হয়, এ সময় যে তোমাদের কাছে ছিল, সে সম্পর্কে তোমার অভিমত কি? এবং এব্যপারে তুমি কি সাক্ষ্য দাও? সে বলে, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি সালাত আদায় করব। তারা বলে, তুমি একটু পরেই সালাত আদায় করতে পারবে, এখন আমরা তোমাকে যে সম্পর্কে প্রশ্ন করে তার উত্তর দাও। এ লোকটি যে তোমার কাছে ছিলেন, তাঁর সম্পর্কে তোমার অভিমত কি এবং তুমি তাঁর ব্যাপারে কি সাক্ষ্য দাও তিনি বলেন, সে বলে, তিনি মুহাম্মদ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রাসূল এবং তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য দ্বীন নিয়ে এসেছেন। তখন তাকে বলা হয়, এর উপর তুমি জীবন যাপন করেছ, এর উপরই তুমি মৃত্যুবরণ করেছ এবং এর উপরই আল্লাহ চাহেত তুমি পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং তাকে বলা হয়, এটা তোমার জান্নাতের ঠিকানা এবং আল্লাহ তা'আলা এতে যা কিছু প্রস্তুত রেখেছেন তা তোমার জন্য। তখন তার আনন্দ উৎফুল্লতা বেড়ে যায়। তারপর তার জন্য জাহান্নামের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং তাকে বলা হয়, তুমি যদি আল্লাহর অবাধ্যচরণ করতে তবে এটা ছিল তোমার ঠিকানা এবং যা কিছু আল্লাহ্ এতে প্রস্তুত রেখেছেন তার সবটাই তোমাকে ভোগ করতে হত। তখন তার আনন্দ ও উৎফুল্লতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর তার জন্য তার কবর সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়, তার কবর আলোকিত করে দেওয়া হয় এবং যেভাবে আল্লাহ তা'আলা তাকে প্রথমে জীবন দান করেছেন তদ্রূপ তার দেহকে পুনরায় প্রাণ ফিরিয়ে দেন। তার প্রাণকে সুগন্ধিময় বায়ুতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে পাখিরূপে জান্নাতের বৃক্ষরাজিতে বিচরণ করে। এটাই হচ্ছে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে পার্থিব জীবনে ও পরকালে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন (১৪ঃ ২৭)
পক্ষান্তরে, কাফিরের শিয়রের দিক থেকে আযাব উপস্থিত করা হয়, তখন (তা প্রতিহত করার মত) কিন্তু পাওয়া যায় না। তারপর যখন তার ডান দিক থেকে উপস্থিত করা হয়, তখনও কিছু পাওয়া যায় না, যখন তার বাম দিক থেকে উপস্থিত করা হয়, তখনও কিছু পাওয়া যায় না, যখন তার দু'পায়ের দিক থেকে উপস্থিত করা হয়, তখনও কিছু পাওয়া যায় না। তখন তাকে বলা হয়, বস তখন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বসে-এ লোকটি সম্পর্কে তোমার অভিমত কি, যিনি তোমাদের মধ্যে ছিলেন? এবং তাঁর সম্পর্কে তুমি কি সাক্ষ্য দাও? সে বলে, কোন লোকটি? সে নাম বলতে পারে না। তাকে বলা হয়, মুহাম্মদ। সে বলে, আমি জানি না, আমি লোকজনকে যা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি। তখন তাকে বলা হয়, এরই উপর তুমি জীবন যাপন করেছ, এরই উপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছ এবং এরই উপর আল্লাহ্ চাহেত তুমি পুনরুত্থিত হবে। তারপর তার জন্য জাহান্নামের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। তাকে বলা হয়, এটা তোমার জাহান্নামের ঠিকানা এবং আল্লাহ্ এতে যা প্রস্তুত রেখেছেন তা তোমারই জন্যে। তখন তার আপেক্ষ ও মর্মবেদনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। (ফিরিশতা) তাকে বলে, যদি তুমি আল্লাহর আনুগত্য করতে, তবে এটা ছিল তোমার ঠিকানা এবং আল্লাহ্ যা এতে প্রস্তুত রেখেছেন তা তোমার জন্যেই ছিল। তখন তার আক্ষেপ ও মর্মবেদনা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর তার জন্য তার কবর এভাবে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, তার পাঁজরের হাড়গুলো একটা অপরটার মধ্যে ঢুকে পড়ে। এটাই হচ্ছে সেই সংকটময় জীবন, যা আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াতে বলেছেন: فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى তার জন্য রয়েছে সংকটময় জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ করে তুলব।" (২০ঃ ১২৪)
(তবারানী (র) 'আল-আওসাত' এবং ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ'-এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ ইবন হিব্বান বর্ণিত। তবারানী এ অংশটুকু বেশি উল্লেখ করেছেন।
আবু উমর যারীর বলেন, আমি হাম্মাদ ইব্ন সালামকে জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কি আহলে কিবলা ছিল। তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবু উমর বলেন, সে মনের দৃঢ় বিশ্বাস ছাড়াই এ সাক্ষ্য দিত। মানুষকে যা বলতে শুনত, সেও তাই বলত।)
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে পার্থিব জীবনে ও পরকালে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন (১৪ঃ ২৭)
পক্ষান্তরে, কাফিরের শিয়রের দিক থেকে আযাব উপস্থিত করা হয়, তখন (তা প্রতিহত করার মত) কিন্তু পাওয়া যায় না। তারপর যখন তার ডান দিক থেকে উপস্থিত করা হয়, তখনও কিছু পাওয়া যায় না, যখন তার বাম দিক থেকে উপস্থিত করা হয়, তখনও কিছু পাওয়া যায় না, যখন তার দু'পায়ের দিক থেকে উপস্থিত করা হয়, তখনও কিছু পাওয়া যায় না। তখন তাকে বলা হয়, বস তখন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বসে-এ লোকটি সম্পর্কে তোমার অভিমত কি, যিনি তোমাদের মধ্যে ছিলেন? এবং তাঁর সম্পর্কে তুমি কি সাক্ষ্য দাও? সে বলে, কোন লোকটি? সে নাম বলতে পারে না। তাকে বলা হয়, মুহাম্মদ। সে বলে, আমি জানি না, আমি লোকজনকে যা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি। তখন তাকে বলা হয়, এরই উপর তুমি জীবন যাপন করেছ, এরই উপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছ এবং এরই উপর আল্লাহ্ চাহেত তুমি পুনরুত্থিত হবে। তারপর তার জন্য জাহান্নামের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। তাকে বলা হয়, এটা তোমার জাহান্নামের ঠিকানা এবং আল্লাহ্ এতে যা প্রস্তুত রেখেছেন তা তোমারই জন্যে। তখন তার আপেক্ষ ও মর্মবেদনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। (ফিরিশতা) তাকে বলে, যদি তুমি আল্লাহর আনুগত্য করতে, তবে এটা ছিল তোমার ঠিকানা এবং আল্লাহ্ যা এতে প্রস্তুত রেখেছেন তা তোমার জন্যেই ছিল। তখন তার আক্ষেপ ও মর্মবেদনা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর তার জন্য তার কবর এভাবে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, তার পাঁজরের হাড়গুলো একটা অপরটার মধ্যে ঢুকে পড়ে। এটাই হচ্ছে সেই সংকটময় জীবন, যা আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াতে বলেছেন: فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى তার জন্য রয়েছে সংকটময় জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ করে তুলব।" (২০ঃ ১২৪)
(তবারানী (র) 'আল-আওসাত' এবং ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ'-এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ ইবন হিব্বান বর্ণিত। তবারানী এ অংশটুকু বেশি উল্লেখ করেছেন।
আবু উমর যারীর বলেন, আমি হাম্মাদ ইব্ন সালামকে জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কি আহলে কিবলা ছিল। তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবু উমর বলেন, সে মনের দৃঢ় বিশ্বাস ছাড়াই এ সাক্ষ্য দিত। মানুষকে যা বলতে শুনত, সেও তাই বলত।)
كتاب الجنائز
فصل
5435- وَعَن أبي هُرَيْرَة أَيْضا رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الْمَيِّت إِذا وضع فِي قَبره إِنَّه يسمع خَفق نعَالهمْ حِين يولوا مُدبرين فَإِن كَانَ مُؤمنا كَانَت الصَّلَاة عِنْد رَأسه
وَكَانَ الصّيام عَن يَمِينه وَكَانَت الزَّكَاة عَن شِمَاله وَكَانَ فعل الْخيرَات من الصَّدَقَة وَالصَّلَاة وَالْمَعْرُوف وَالْإِحْسَان إِلَى النَّاس عِنْد رجلَيْهِ فَيُؤتى من قبل رَأسه فَتَقول الصَّلَاة مَا قبلي مدْخل ثمَّ يُؤْتى عَن يَمِينه فَيَقُول الصّيام مَا قبلي مدْخل ثمَّ يُؤْتى عَن يسَاره فَتَقول الزَّكَاة مَا قبلي مدْخل ثمَّ يُؤْتى من قبل رجلَيْهِ فَيَقُول فعل الْخيرَات من الصَّدَقَة وَالْمَعْرُوف وَالْإِحْسَان إِلَى النَّاس مَا قبلي مدْخل فَيُقَال لَهُ اجْلِسْ فيجلس قد مثلت لَهُ الشَّمْس وَقد دنت للغروب فَيُقَال لَهُ أرأيتك هَذَا الَّذِي كَانَ قبلكُمْ مَا تَقول فِيهِ وماذا تشهد عَلَيْهِ فَيَقُول دَعونِي حَتَّى أُصَلِّي فَيَقُولُونَ إِنَّك ستفعل أخبرنَا عَمَّا نَسْأَلك عَنهُ أرأيتك هَذَا الرجل الَّذِي كَانَ قبلكُمْ مَاذَا تَقول فِيهِ وماذا تشهد عَلَيْهِ قَالَ فَيَقُول مُحَمَّد أشهد أَنه رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَأَنه جَاءَ بِالْحَقِّ من عِنْد الله فَيُقَال لَهُ على ذَلِك حييت وعَلى ذَلِك مت وعَلى ذَلِك تبْعَث إِن شَاءَ الله ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب الْجنَّة فَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك مِنْهَا وَمَا أعد الله لَك فِيهَا فَيَزْدَاد غِبْطَة وسرورا ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب النَّار فَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك وَمَا أعد الله لَك فِيهَا لَو عصيته فَيَزْدَاد غِبْطَة وسرورا ثمَّ يفسح لَهُ فِي قَبره سَبْعُونَ ذِرَاعا وينور لَهُ فِيهِ ويعاد الْجَسَد كَمَا بَدَأَ مِنْهُ فتجعل نسمته فِي النسيم الطّيب وَهِي طير تعلق فِي شجر الْجنَّة فَذَلِك قَوْله يثبت الله الَّذين آمنُوا بالْقَوْل الثَّابِت فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة إِبْرَاهِيم 72 الْآيَة وَإِن الْكَافِر إِذا أُتِي من قبل رَأسه لم يُوجد شَيْء ثمَّ أُتِي عَن يَمِينه فَلَا يُوجد شَيْء ثمَّ أُتِي عَن شِمَاله فَلَا يُوجد شَيْء ثمَّ أُتِي من قبل رجلَيْهِ فَلَا يُوجد شَيْء فَيُقَال لَهُ اجْلِسْ فيجلس مَرْعُوبًا خَائفًا فَيُقَال أرأيتك هَذَا الرجل الَّذِي كَانَ فِيكُم مَاذَا تَقول فِيهِ وماذا تشهد عَلَيْهِ فَيَقُول أَي رجل وَلَا يَهْتَدِي لاسمه فَيُقَال لَهُ مُحَمَّد فَيَقُول لَا أَدْرِي سَمِعت النَّاس قَالُوا قولا فَقلت كَمَا قَالَ النَّاس فَيُقَال لَهُ على ذَلِك حييت وَعَلِيهِ مت وَعَلِيهِ تبْعَث إِن شَاءَ الله ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب النَّار فَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك من النَّار وَمَا أعد الله لَك فِيهَا فَيَزْدَاد حسرة وثبورا ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب الْجنَّة وَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك مِنْهَا وَمَا أعد الله لَك فِيهَا لَو أطعته فَيَزْدَاد حسرة وثبورا ثمَّ يضيق عَلَيْهِ قَبره حَتَّى تخْتَلف فِيهِ أضلاعه فَتلك الْمَعيشَة الضنكة الَّتِي قَالَ الله فَإِن لَهُ معيشة ضنكا ونحشره يَوْم الْقِيَامَة أعمى طه 421
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط
وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَاللَّفْظ لَهُ وَزَاد الطَّبَرَانِيّ قَالَ أَبُو عمر يَعْنِي الضَّرِير
قلت لحماد بن سَلمَة كَانَ هَذَا من أهل الْقبْلَة قَالَ
نعم
قَالَ أَبُو عمر كَانَ شهد بِهَذِهِ الشَّهَادَة على غير يَقِين يرجع إِلَى قلبه كَانَ يسمع النَّاس يَقُولُونَ شَيْئا فيقوله
وَكَانَ الصّيام عَن يَمِينه وَكَانَت الزَّكَاة عَن شِمَاله وَكَانَ فعل الْخيرَات من الصَّدَقَة وَالصَّلَاة وَالْمَعْرُوف وَالْإِحْسَان إِلَى النَّاس عِنْد رجلَيْهِ فَيُؤتى من قبل رَأسه فَتَقول الصَّلَاة مَا قبلي مدْخل ثمَّ يُؤْتى عَن يَمِينه فَيَقُول الصّيام مَا قبلي مدْخل ثمَّ يُؤْتى عَن يسَاره فَتَقول الزَّكَاة مَا قبلي مدْخل ثمَّ يُؤْتى من قبل رجلَيْهِ فَيَقُول فعل الْخيرَات من الصَّدَقَة وَالْمَعْرُوف وَالْإِحْسَان إِلَى النَّاس مَا قبلي مدْخل فَيُقَال لَهُ اجْلِسْ فيجلس قد مثلت لَهُ الشَّمْس وَقد دنت للغروب فَيُقَال لَهُ أرأيتك هَذَا الَّذِي كَانَ قبلكُمْ مَا تَقول فِيهِ وماذا تشهد عَلَيْهِ فَيَقُول دَعونِي حَتَّى أُصَلِّي فَيَقُولُونَ إِنَّك ستفعل أخبرنَا عَمَّا نَسْأَلك عَنهُ أرأيتك هَذَا الرجل الَّذِي كَانَ قبلكُمْ مَاذَا تَقول فِيهِ وماذا تشهد عَلَيْهِ قَالَ فَيَقُول مُحَمَّد أشهد أَنه رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَأَنه جَاءَ بِالْحَقِّ من عِنْد الله فَيُقَال لَهُ على ذَلِك حييت وعَلى ذَلِك مت وعَلى ذَلِك تبْعَث إِن شَاءَ الله ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب الْجنَّة فَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك مِنْهَا وَمَا أعد الله لَك فِيهَا فَيَزْدَاد غِبْطَة وسرورا ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب النَّار فَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك وَمَا أعد الله لَك فِيهَا لَو عصيته فَيَزْدَاد غِبْطَة وسرورا ثمَّ يفسح لَهُ فِي قَبره سَبْعُونَ ذِرَاعا وينور لَهُ فِيهِ ويعاد الْجَسَد كَمَا بَدَأَ مِنْهُ فتجعل نسمته فِي النسيم الطّيب وَهِي طير تعلق فِي شجر الْجنَّة فَذَلِك قَوْله يثبت الله الَّذين آمنُوا بالْقَوْل الثَّابِت فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة إِبْرَاهِيم 72 الْآيَة وَإِن الْكَافِر إِذا أُتِي من قبل رَأسه لم يُوجد شَيْء ثمَّ أُتِي عَن يَمِينه فَلَا يُوجد شَيْء ثمَّ أُتِي عَن شِمَاله فَلَا يُوجد شَيْء ثمَّ أُتِي من قبل رجلَيْهِ فَلَا يُوجد شَيْء فَيُقَال لَهُ اجْلِسْ فيجلس مَرْعُوبًا خَائفًا فَيُقَال أرأيتك هَذَا الرجل الَّذِي كَانَ فِيكُم مَاذَا تَقول فِيهِ وماذا تشهد عَلَيْهِ فَيَقُول أَي رجل وَلَا يَهْتَدِي لاسمه فَيُقَال لَهُ مُحَمَّد فَيَقُول لَا أَدْرِي سَمِعت النَّاس قَالُوا قولا فَقلت كَمَا قَالَ النَّاس فَيُقَال لَهُ على ذَلِك حييت وَعَلِيهِ مت وَعَلِيهِ تبْعَث إِن شَاءَ الله ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب النَّار فَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك من النَّار وَمَا أعد الله لَك فِيهَا فَيَزْدَاد حسرة وثبورا ثمَّ يفتح لَهُ بَاب من أَبْوَاب الْجنَّة وَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك مِنْهَا وَمَا أعد الله لَك فِيهَا لَو أطعته فَيَزْدَاد حسرة وثبورا ثمَّ يضيق عَلَيْهِ قَبره حَتَّى تخْتَلف فِيهِ أضلاعه فَتلك الْمَعيشَة الضنكة الَّتِي قَالَ الله فَإِن لَهُ معيشة ضنكا ونحشره يَوْم الْقِيَامَة أعمى طه 421
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط
وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَاللَّفْظ لَهُ وَزَاد الطَّبَرَانِيّ قَالَ أَبُو عمر يَعْنِي الضَّرِير
قلت لحماد بن سَلمَة كَانَ هَذَا من أهل الْقبْلَة قَالَ
نعم
قَالَ أَبُو عمر كَانَ شهد بِهَذِهِ الشَّهَادَة على غير يَقِين يرجع إِلَى قلبه كَانَ يسمع النَّاس يَقُولُونَ شَيْئا فيقوله
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. উক্ত হাদীসের আলোকে এখন প্রশ্ন হল কবরের যিন্দেগী বলতে কি বুঝায়? বা যাকে কবরের মধ্যে দাফন করা হয় না, যার মৃতদেহকে পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয় বা শ্মশানে জ্বালিয়ে দেয়া হয় এবং দেহ ভস্মকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়া হয় তাকে কি করে কবরের যিন্দেগীর বর্ণিত শাস্তি বা পুরস্কার দেয়া হবে?
কবরের আযাব সম্পর্কে যে সব হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সে সম্পর্কে ব্যাখ্যাকারীগণ বলেন: কবরের আযাবের অর্থ, আলমে বারযাখের আযাব। মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত বিশাল যিন্দেগীকে বারযাখের যিন্দেগী বলা হয়। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তার উল্লেখ রয়েছে। সূরা 'আল-মুমিনুন'-এ বারযাখের যিন্দেগী সম্পর্কে বলা হয়েছে,
وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ -
"তাদের (মৃত ব্যক্তিদের) সামনে রয়েছে বারযাখ যা তাদেরকে পুনরত্থিত করা পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।" (সূরা 'আল-মুমিনুন' - ১০০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ মৃত ব্যক্তি ও দুনিয়ার মধ্যে এক পর্দা টেনে দেন-যার ফলে সে দুনিয়ার দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারে না এবং কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করতে থাকে।
আলমে বারযাখের প্রমাণ সূরা ইয়াসীনেও রয়েছে। সত্যকথা বলার কারণে এক মুমিনকে তার জাতির লোকেরা হত্যা করে। মৃত্যুর পর আল্লাহ্ তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেন। বেহেশত লাভের পর তিনি তার জাতির জন্য মঙ্গল কামনা করতে থাকেন। বলা হয়েছে,
قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ ۖ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ (26) بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ (27)
"তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো, সে বলে উঠলো হায়! আমার সম্প্রদায় যদি জানতে পারতো। (২৬) কিরূপ আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত করেছেন। (২৭)" (সূরা ইয়াসীন - ২৬-২৭)
মুসনাদে আহমদ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে। তোমাদের মধ্যে যার মৃত্যু হোক না কেন তাকে সকাল-সন্ধ্যা তার শেষ বাসস্থান দেখানো হয়। সে জান্নাতী কিংবা জাহান্নামী হোক তাকে বলা হয় কিয়ামতের দিন আল্লাহ কর্তৃক তোমার পুনরুত্থানের এ বাসস্থান হবে তোমার।
কিয়ামত অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি আলমে বারযাখে অবস্থান করবে। তাই তার দেহ পানিতে ভাসুক বা মাটিতে নষ্ট হোক বা জ্বালানো হোক, তাতে কিছু আসে যায় না। সেখানে রূহ হয় শাস্তি, নয় আরাম উপভোগ করবে। মৃত্যুর সাথে সাথে যে সাওয়াল-জাওয়াব হয় তা আলমে বারযাখে হয়ে থাকে। মৃত ব্যক্তির রূহকে সাওয়াল করার জন্য আল্লাহ আলমে বারযাখে কবরের অবস্থা সৃষ্টি করতে পারেন। এবং সাময়িকভাবে রূহকে দেহের ভেতর রাখতে পারেন বা রূহ মনে করতে পারে যে, সে দেহের মধ্যে রয়েছে। দেহ ছাড়া রূহ কিভাবে সুখ-শান্তি অনুভব করবে তা 'স্বপ্ন' থেকে সহজে বুঝা যায়।
স্বপ্নে আমাদের রূহ দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়ায় এবং আমাদের দেহ বিছানায় পড়ে থাকে। আলমে বারযাখে যে শাস্তি বা আরাম দেয়া হবে তা স্বপ্নের মত অনুভবের পর্যায়ে থাকবে না, বরং তা হবে বাস্তব। নেক লোকের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে এবং মন্দলোকের জন্য জাহান্নামের দরজা খুলে দেয়া হবে।
২. হাদীছে যে আয়াতটি উল্লেখ করা হয়েছে তা দ্বারা বোঝা যায়, যারা সুদৃঢ় কথা অর্থাৎ কালেমায়ে তায়্যিবার উপর ঈমান আনবে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে দুনিয়ায়ও দীনের উপর মজবুত রাখবেন অর্থাৎ প্রকৃত ঈমানদার কোনও পরিস্থিতিতেই বিভ্রান্তির শিকার হবে না। বিপথগামিতার কোনও ডাকে তারা সাড়া দেবে না। এমনিভাবে কবর ও হাশর তথা আখিরাতের প্রতিটি ঘাঁটিতে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে অবিচল রাখবেন। কবরের প্রশ্ন ও হাশরের ময়দানের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি, কোনও অবস্থায়ই তারা দিশেহারা হবে না। আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদেরকে সাহায্য করবেন। কবর আখিরাতের প্রথম ঘাঁটি। এখানে যে ব্যক্তি মুনকার নাকীরের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবে, কবর তার জন্য জান্নাতের টুকরায় পরিণত হবে। এখানে যে শান্তি পেয়ে যাবে, পরবর্তী সকল ঘাঁটি তার জন্য আসান হয়ে যাবে। বিভিন্ন হাদীছ দ্বারা তা বোঝা যায়। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ওই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে শামিল রাখুন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. কবরের সাওয়াল-জাওয়াব সত্য। এতে বিশ্বাস রাখা জরুরি।
খ. কবরে মুনকার-নাকীরের প্রশ্নের যাতে সঠিক উত্তর দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে আমাদের কর্তব্য কালেমায়ে তায়্যিবার প্রতি অবিচল ঈমান রাখা এবং এর দাবি অনুযায়ী শরী'আত মোতাবেক জীবনযাপন করা। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তাওফীক দিন।
কবরের আযাব সম্পর্কে যে সব হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সে সম্পর্কে ব্যাখ্যাকারীগণ বলেন: কবরের আযাবের অর্থ, আলমে বারযাখের আযাব। মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত বিশাল যিন্দেগীকে বারযাখের যিন্দেগী বলা হয়। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তার উল্লেখ রয়েছে। সূরা 'আল-মুমিনুন'-এ বারযাখের যিন্দেগী সম্পর্কে বলা হয়েছে,
وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ -
"তাদের (মৃত ব্যক্তিদের) সামনে রয়েছে বারযাখ যা তাদেরকে পুনরত্থিত করা পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।" (সূরা 'আল-মুমিনুন' - ১০০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ মৃত ব্যক্তি ও দুনিয়ার মধ্যে এক পর্দা টেনে দেন-যার ফলে সে দুনিয়ার দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারে না এবং কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করতে থাকে।
আলমে বারযাখের প্রমাণ সূরা ইয়াসীনেও রয়েছে। সত্যকথা বলার কারণে এক মুমিনকে তার জাতির লোকেরা হত্যা করে। মৃত্যুর পর আল্লাহ্ তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেন। বেহেশত লাভের পর তিনি তার জাতির জন্য মঙ্গল কামনা করতে থাকেন। বলা হয়েছে,
قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ ۖ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ (26) بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ (27)
"তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো, সে বলে উঠলো হায়! আমার সম্প্রদায় যদি জানতে পারতো। (২৬) কিরূপ আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত করেছেন। (২৭)" (সূরা ইয়াসীন - ২৬-২৭)
মুসনাদে আহমদ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে। তোমাদের মধ্যে যার মৃত্যু হোক না কেন তাকে সকাল-সন্ধ্যা তার শেষ বাসস্থান দেখানো হয়। সে জান্নাতী কিংবা জাহান্নামী হোক তাকে বলা হয় কিয়ামতের দিন আল্লাহ কর্তৃক তোমার পুনরুত্থানের এ বাসস্থান হবে তোমার।
কিয়ামত অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি আলমে বারযাখে অবস্থান করবে। তাই তার দেহ পানিতে ভাসুক বা মাটিতে নষ্ট হোক বা জ্বালানো হোক, তাতে কিছু আসে যায় না। সেখানে রূহ হয় শাস্তি, নয় আরাম উপভোগ করবে। মৃত্যুর সাথে সাথে যে সাওয়াল-জাওয়াব হয় তা আলমে বারযাখে হয়ে থাকে। মৃত ব্যক্তির রূহকে সাওয়াল করার জন্য আল্লাহ আলমে বারযাখে কবরের অবস্থা সৃষ্টি করতে পারেন। এবং সাময়িকভাবে রূহকে দেহের ভেতর রাখতে পারেন বা রূহ মনে করতে পারে যে, সে দেহের মধ্যে রয়েছে। দেহ ছাড়া রূহ কিভাবে সুখ-শান্তি অনুভব করবে তা 'স্বপ্ন' থেকে সহজে বুঝা যায়।
স্বপ্নে আমাদের রূহ দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়ায় এবং আমাদের দেহ বিছানায় পড়ে থাকে। আলমে বারযাখে যে শাস্তি বা আরাম দেয়া হবে তা স্বপ্নের মত অনুভবের পর্যায়ে থাকবে না, বরং তা হবে বাস্তব। নেক লোকের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে এবং মন্দলোকের জন্য জাহান্নামের দরজা খুলে দেয়া হবে।
২. হাদীছে যে আয়াতটি উল্লেখ করা হয়েছে তা দ্বারা বোঝা যায়, যারা সুদৃঢ় কথা অর্থাৎ কালেমায়ে তায়্যিবার উপর ঈমান আনবে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে দুনিয়ায়ও দীনের উপর মজবুত রাখবেন অর্থাৎ প্রকৃত ঈমানদার কোনও পরিস্থিতিতেই বিভ্রান্তির শিকার হবে না। বিপথগামিতার কোনও ডাকে তারা সাড়া দেবে না। এমনিভাবে কবর ও হাশর তথা আখিরাতের প্রতিটি ঘাঁটিতে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে অবিচল রাখবেন। কবরের প্রশ্ন ও হাশরের ময়দানের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি, কোনও অবস্থায়ই তারা দিশেহারা হবে না। আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদেরকে সাহায্য করবেন। কবর আখিরাতের প্রথম ঘাঁটি। এখানে যে ব্যক্তি মুনকার নাকীরের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবে, কবর তার জন্য জান্নাতের টুকরায় পরিণত হবে। এখানে যে শান্তি পেয়ে যাবে, পরবর্তী সকল ঘাঁটি তার জন্য আসান হয়ে যাবে। বিভিন্ন হাদীছ দ্বারা তা বোঝা যায়। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ওই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে শামিল রাখুন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. কবরের সাওয়াল-জাওয়াব সত্য। এতে বিশ্বাস রাখা জরুরি।
খ. কবরে মুনকার-নাকীরের প্রশ্নের যাতে সঠিক উত্তর দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে আমাদের কর্তব্য কালেমায়ে তায়্যিবার প্রতি অবিচল ঈমান রাখা এবং এর দাবি অনুযায়ী শরী'আত মোতাবেক জীবনযাপন করা। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তাওফীক দিন।
১. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.) ২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)