আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
হাদীস নং: ৫১২৩
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
মৃত্যুর স্মরণ, উচ্চাভিলাষ নিয়ন্ত্রণ ও আমলের প্রতি ধাবিত হওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান, নেক আমলকারীর দীঘায়ুর ফযীলত এবং মৃত্যু কামনার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা
৫১২৩. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন শাদ্দাদ (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, বানু আযরা গোত্রের তিনজনের একটি দল নবী (ﷺ) এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ কে তাদের তত্ত্বাবধান করবে? তালহা বলেন, আমি। বর্ণনাকারী বলেন, সেমতে তারা তালহা (রা)-এর কাছে থাকল। অতঃপর নবী (ﷺ) একটি বাহিনীকে এক অভিযানে প্রেরণ করলেন। তাদের একজন উক্ত অভিযানে গমন করল এবং তাতে শহীদ হয়ে গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরেকটি বাহিনীকে অপর এক অভিযানে প্রেরণ করলেন। এ অভিযানেও তাদের অপর এক ব্যক্তি গমন করল এবং তাতে শহীদ হল। তারপর তৃতীয় ব্যক্তির বিছানায় মৃত্যু হল। তালহা বলেন, এরপর এ তিন ব্যক্তি, যারা আমার কাছে ছিল তাদেরকে আমি (স্বপ্নে) দেখলাম। দেখলাম, বিছানায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিটি তাদের সামনে রয়েছে এবং যে লোকটি ইতিপূর্বে শহীদ হয়েছে, তাকে দেখলাম যে, সে তার পেছনে রয়েছে। আরও দেখলাম, তাদের মধ্যে প্রথমে শাহাদাত বরণকারী লোকটি তাদের সবার পেছনে রয়েছে। তালহা (রা) বলেন, এতে আমার মনে প্রশ্ন দেখা দিল। তাই আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলাম এবং তাঁর সামনে বিষয়টি আলোচনা করলাম। তখন তিনি বললেন, এতে তোমার আশ্চর্যবোধ করার কি আছে? আল্লাহ্ তা'আলার কাছে সেই মু'মিন বান্দার চেয়ে উত্তম কেউ নেই, যাকে মুসলমান অবস্থায় বয়ঃবৃদ্ধ করা হয়, 'সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়ার জন্য।
(আহমাদ ও আবু ইয়া'লা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উভয় সনদের সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী। আহমাদ বর্ণিত সনদের শুরুতে ইরসাল রয়েছে। যেমন ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু আবু ইয়া'লা উক্ত সনদে তাল্হা-এর উল্লেখ করে সনদের যোগসূত্র মিলিয়ে দিয়েছেন।)
(আহমাদ ও আবু ইয়া'লা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উভয় সনদের সকল বর্ণনাকারী সহীহ হাদীসের রাবী। আহমাদ বর্ণিত সনদের শুরুতে ইরসাল রয়েছে। যেমন ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু আবু ইয়া'লা উক্ত সনদে তাল্হা-এর উল্লেখ করে সনদের যোগসূত্র মিলিয়ে দিয়েছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي ذكر الْمَوْت وَقصر الأمل والمبادرة بِالْعَمَلِ وَفضل طول الْعُمر لمن حسن عمله وَالنَّهْي عَن تمني الْمَوْت
5123- وَعَن عبد الله بن شَدَّاد أَن نَفرا من بني عذرة ثَلَاثَة أَتَوا النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فأسلموا قَالَ فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من يكفيهم قَالَ طَلْحَة أَنا
قَالَ فَكَانُوا عِنْد طَلْحَة فَبعث النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بعثا فَخرج فِيهِ أحدهم فاستشهد ثمَّ بعث بعثا فَخرج فِيهِ آخر فاستشهد ثمَّ مَاتَ الثَّالِث
على فرَاشه
قَالَ طَلْحَة فَرَأَيْت هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة الَّذين كَانُوا عِنْدِي فِي الْجنَّة فَرَأَيْت الْمَيِّت على فرَاشه أمامهم وَرَأَيْت الَّذِي اسْتشْهد أخيرا يَلِيهِ وَرَأَيْت أَوَّلهمْ آخِرهم
قَالَ فداخلني من ذَلِك فَأتيت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَذكرت ذَلِك لَهُ فَقَالَ وَمَا أنْكرت من ذَلِك لَيْسَ أحد أفضل عِنْد الله عز وَجل من مُؤمن يعمر فِي الْإِسْلَام لتسبيحه وتكبيره وتهليله
رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو يعلى ورواتهما رُوَاة الصَّحِيح وَفِي أَوله عِنْد أَحْمد إرْسَال كَمَا مر وَوَصله أَبُو يعلى بِذكر طَلْحَة فِيهِ
قَالَ فَكَانُوا عِنْد طَلْحَة فَبعث النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بعثا فَخرج فِيهِ أحدهم فاستشهد ثمَّ بعث بعثا فَخرج فِيهِ آخر فاستشهد ثمَّ مَاتَ الثَّالِث
على فرَاشه
قَالَ طَلْحَة فَرَأَيْت هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة الَّذين كَانُوا عِنْدِي فِي الْجنَّة فَرَأَيْت الْمَيِّت على فرَاشه أمامهم وَرَأَيْت الَّذِي اسْتشْهد أخيرا يَلِيهِ وَرَأَيْت أَوَّلهمْ آخِرهم
قَالَ فداخلني من ذَلِك فَأتيت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَذكرت ذَلِك لَهُ فَقَالَ وَمَا أنْكرت من ذَلِك لَيْسَ أحد أفضل عِنْد الله عز وَجل من مُؤمن يعمر فِي الْإِسْلَام لتسبيحه وتكبيره وتهليله
رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو يعلى ورواتهما رُوَاة الصَّحِيح وَفِي أَوله عِنْد أَحْمد إرْسَال كَمَا مر وَوَصله أَبُو يعلى بِذكر طَلْحَة فِيهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ সর্বোচ্চ ইবাদত। যিনি এ ইবাদাতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন তিনি খোশ নসীব। তার চেয়েও তিনি বেশি খোশ নসীব যিনি জিহাদে অংশ নিলেন এবং শত্রুর হাতে শাহাদাত বরণ করলেন। নবুওয়তের তরীকা ও পদ্ধতিতে আল্লাহর যমীনে আল্লাহর বিধান কায়েমের মহান উদ্দেশ্যে ঈমানদারগণকে জিহাদের জন্য প্রস্তুত করা রাসূলের মিশনের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি তাঁর অনুসারীদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং জিহাদের বাস্তব ময়দানে নিয়োজিত করেছেন। তাই সাহাবী তালহা শাহাদাত ও জিহাদের সুমহান মর্যাদা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকার কারণে স্বপ্নের বর্ণিত ঘটনার সাথে একমত হতে পারছিলেন না। তাঁর অবস্থা টের পেয়ে নবী করীম ﷺ তাঁর সামনে ইসলামের গোটা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য তিনটি শব্দের মাধ্যমে-তসবীহ, তাকবীর ও তাহলীল পেশ করেছেন। যে ব্যক্তি জিহাদে অংশ নেয়ার জন্য মানসিক দিক দিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও অংশগ্রহণের সুযোগ পেল না কিন্তু সে নিজের জীবনকে ইসলামের অধীন রাখল, সর্বদা আল্লাহর হামদ ও সানা করল, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করল অর্থাৎ আল্লাহ শ্রেষ্ঠ এবং আসমান-যমীনে একমাত্র তাঁরই কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব রয়েছে, মনে-প্রাণে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' কালেমায় বিশ্বাস করল এবং কলেমার দাবি অনুযায়ী জীবনের সকল দিক ও বিভাগকে তাগুত ও বাতিলের বন্ধন থেকে মুক্ত করে প্রকৃত ও একমাত্র আল্লাহর অধীন করল, সে শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী। তার সঙ্গীদের মধ্যে যারা আগে শাহাদাত বরণ করে জান্নাতবাসী হয়েছেন, তারা তার চেয়ে কম সময় আমলের সুযোগ পেয়েছেন। তাই তাদের চেয়ে তার মর্যাদা বেশি হবে। আলোচ্য হাদীসে এই কথার প্রতিই ইংগিত করা হয়েছে।
মানুষকে কল্যাণের প্রতি আহবান এবং তাদেরকে অন্যায় থেকে বিরত রাখা, যাকে ইসলামী পরিভাষায় 'আমর বিল মা'রূফ ও নাহি আনিল মুনকার বলা হয়, এটা এক মহান যিম্মাদারী, এ যিম্মাদারী পালন করার জন্য মু'মিন ব্যক্তিকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয় এবং প্রয়োজনবোধে এ উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় জীবন এবং সম্পদ কুরবান করে দিতে হয়।
মানুষকে কল্যাণের প্রতি আহবান এবং তাদেরকে অন্যায় থেকে বিরত রাখা, যাকে ইসলামী পরিভাষায় 'আমর বিল মা'রূফ ও নাহি আনিল মুনকার বলা হয়, এটা এক মহান যিম্মাদারী, এ যিম্মাদারী পালন করার জন্য মু'মিন ব্যক্তিকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয় এবং প্রয়োজনবোধে এ উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় জীবন এবং সম্পদ কুরবান করে দিতে হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)