আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
হাদীস নং: ৫০২২
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০২২. হযরত মুহাম্মদ ইবন কা'ব কুরাযী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবন আবু তালিব (রা)-কে বলতে শুনেছেন, এমন এক ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, (আলী (রা) বলেন) আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। হঠাৎ আমাদের কাছে মুস'আব ইবন উমায়র (রা) আগমন করলেন। তাঁর গায়ে ছিল একটি চাদর, তাতে চামড়ার তালি দেয়া। যখন রাসূলুল্লাহ তাঁকে এমতাবস্থায় দেখতে পেলেন, তখন তাঁর পূর্বে যেসব সুখ-সামগ্রী ছিল, সেগুলোর কথা স্মরণ করে এবং আজ তাঁর যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, সেদিকে তাকিয়ে তিনি কেঁদে ফেললেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা তোমাদের ব্যাপারে কেমন মনে কর, যখন তোমাদের কেউ সকালে এক পোষাক পরিধান করবে, আর বিকালে এক পোশাক পরিধান করবে, তার সামনে খাবার ভরা একটা খাঞ্চা রাখা হবে, আর একটা তুলে নেয়া হবে এবং কা'বা গৃহকে যেভাবে ঢাকা হয়, সেভাবে তোমরা তোমাদের গৃহগুলোকে ঢাকবে? তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)। তাহলে তো তখন আমরা আজকের তুলনায় ভাল থাকব, ইবাদতের জন্য অবসর পাব এবং ব্যয়ভারের ব্যাপারে আমরা ঝামেলা মুক্ত হব। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তখনকার তুলনায় নিঃসন্দেহে আজ তোমরা ভাল আছ।
(তিরমিযী (র) দুই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি রিওয়ায়েত সংক্ষিপ্তকারে পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। তবে তিনি দুই সনদের কোনটিতে আলী (রা) থেকে বর্ণনাকারীর ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন নি। তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। আবু ইয়া'লাও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনিও উক্ত রাবীর নাম উল্লেখ করেন নি। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এরকমঃ আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক শীত সকালে বের হলাম। ঠাণ্ডা আমাকে জব্দ করে ফেলেছিল। তাই আমি আমার কাছে রক্ষিত একটি পশমের কাপড় নিলাম। অতঃপর তা গলার উপর ফেলে দিয়ে উষ্ণতা লাভ করার উদ্দেশ্যে বুক বেঁধে নিলাম। আল্লাহর কসম, তখন আমার ঘরে খাওয়ার মত কিছু ছিল না। যদি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ঘরে কিছু থাকত, তবে তা অবশ্যই আমার কাছে পৌঁছত। তাই আমি মদীনার উপকণ্ঠে বের হলাম এবং একটি বাগানে এক ইয়াহুদীর কাছে গেলাম এবং তার বাগানের প্রাচীরের ফাঁকা দিয়ে তাকে দেখতে গেলাম। তখন সে জিজ্ঞেস করল, হে বেদুঈন। কি চাও? তুমি কি এক একটি করে খেজুরের বিনিময়ে এক বালতি করে পানি তুলবে? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমার জন্য বাগানের দরজা খুলে দাও। ফলে সে বাগানের দরজা খুলে দিল। আমি প্রবেশ করলাম এবং আমি এক একটি পানির বালতি তুলতে লাগলাম, আর আমাকে সে একটি করে খেজুর দিতে লাগল। এভাবে আমি আমার হাতের তালু ভরে ফেললাম এবং তাকে বললাম, তোমার পক্ষ থেকে এখন আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। অতঃপর আমি খেজুরগুলো খেলাম এবং কিছু পানি পান করে নিলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম এবং মসজিদে তাঁর কাছেই বসলাম। তখন তিনি তাঁর একদল সাহাবীর সাথে বসা ছিলেন। এমন সময় চামড়ার তালি যুক্ত একটি চাদর গায়ে মুস'আব ইবন উমায়র (রা) আমাদের কাছে এল। অথচ সে ছিল মক্কার সবচেয়ে বেশি সুখী স্বাচ্ছন্দ্যশালী যুবক। নবী (ﷺ) যখন তাকে দেখলেন, তখন তাঁর পূর্ববর্তী সুখ-সামগ্রীর কথা স্মরণ করলেন এবং তাঁকে তার বর্তমান অবস্থার প্রতিও লক্ষ্য করলেন। ফলে তাঁর দু'চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল এবং তিনি কেঁদে ফেললেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা আজ উত্তম, না-কি যখন তোমাদের কারও সামনে সকাল বেলায় এক খাঞ্চা গোশ্ত-রুটি পেশ করা হবে, আর বিকাল বেলায় আরেক খাঞ্চা পেশ করা হবে, সকালে সে একরকম পোশাক পরিধান করবে এবং বিকালে আরেক রকম পোশাক পরিধান করবে এবং কা'বা ঘর যেমন ঢেকে রাখা হয়, তেমনি তোমরা তোমাদের ঘরগুলো ঢেকে রাখবে? আমরা বললাম, আমরা বরং তখনই ভাল থাকব। আমরা ইবাদতের জন্য অবসর পাব। তিনি বললেন, না, বরং তোমরা আজই ভাল আছ।)
(তিরমিযী (র) দুই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি রিওয়ায়েত সংক্ষিপ্তকারে পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। তবে তিনি দুই সনদের কোনটিতে আলী (রা) থেকে বর্ণনাকারীর ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন নি। তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। আবু ইয়া'লাও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনিও উক্ত রাবীর নাম উল্লেখ করেন নি। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এরকমঃ আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক শীত সকালে বের হলাম। ঠাণ্ডা আমাকে জব্দ করে ফেলেছিল। তাই আমি আমার কাছে রক্ষিত একটি পশমের কাপড় নিলাম। অতঃপর তা গলার উপর ফেলে দিয়ে উষ্ণতা লাভ করার উদ্দেশ্যে বুক বেঁধে নিলাম। আল্লাহর কসম, তখন আমার ঘরে খাওয়ার মত কিছু ছিল না। যদি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ঘরে কিছু থাকত, তবে তা অবশ্যই আমার কাছে পৌঁছত। তাই আমি মদীনার উপকণ্ঠে বের হলাম এবং একটি বাগানে এক ইয়াহুদীর কাছে গেলাম এবং তার বাগানের প্রাচীরের ফাঁকা দিয়ে তাকে দেখতে গেলাম। তখন সে জিজ্ঞেস করল, হে বেদুঈন। কি চাও? তুমি কি এক একটি করে খেজুরের বিনিময়ে এক বালতি করে পানি তুলবে? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমার জন্য বাগানের দরজা খুলে দাও। ফলে সে বাগানের দরজা খুলে দিল। আমি প্রবেশ করলাম এবং আমি এক একটি পানির বালতি তুলতে লাগলাম, আর আমাকে সে একটি করে খেজুর দিতে লাগল। এভাবে আমি আমার হাতের তালু ভরে ফেললাম এবং তাকে বললাম, তোমার পক্ষ থেকে এখন আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। অতঃপর আমি খেজুরগুলো খেলাম এবং কিছু পানি পান করে নিলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম এবং মসজিদে তাঁর কাছেই বসলাম। তখন তিনি তাঁর একদল সাহাবীর সাথে বসা ছিলেন। এমন সময় চামড়ার তালি যুক্ত একটি চাদর গায়ে মুস'আব ইবন উমায়র (রা) আমাদের কাছে এল। অথচ সে ছিল মক্কার সবচেয়ে বেশি সুখী স্বাচ্ছন্দ্যশালী যুবক। নবী (ﷺ) যখন তাকে দেখলেন, তখন তাঁর পূর্ববর্তী সুখ-সামগ্রীর কথা স্মরণ করলেন এবং তাঁকে তার বর্তমান অবস্থার প্রতিও লক্ষ্য করলেন। ফলে তাঁর দু'চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল এবং তিনি কেঁদে ফেললেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা আজ উত্তম, না-কি যখন তোমাদের কারও সামনে সকাল বেলায় এক খাঞ্চা গোশ্ত-রুটি পেশ করা হবে, আর বিকাল বেলায় আরেক খাঞ্চা পেশ করা হবে, সকালে সে একরকম পোশাক পরিধান করবে এবং বিকালে আরেক রকম পোশাক পরিধান করবে এবং কা'বা ঘর যেমন ঢেকে রাখা হয়, তেমনি তোমরা তোমাদের ঘরগুলো ঢেকে রাখবে? আমরা বললাম, আমরা বরং তখনই ভাল থাকব। আমরা ইবাদতের জন্য অবসর পাব। তিনি বললেন, না, বরং তোমরা আজই ভাল আছ।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5022- وَعَن مُحَمَّد بن كَعْب الْقرظِيّ قَالَ حَدثنِي من سمع عَليّ بن أبي طَالب يَقُول إِنَّا لجُلُوس مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي الْمَسْجِد إِذْ طلع علينا مُصعب بن عُمَيْر مَا عَلَيْهِ إِلَّا بردة لَهُ مَرْقُوعَة بفروة فَلَمَّا رَآهُ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بَكَى للَّذي كَانَ فِيهِ من النَّعيم وَالَّذِي هُوَ فِيهِ الْيَوْم ثمَّ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كَيفَ بكم إِذا غَدا أحدكُم فِي حلَّة وَرَاح فِي حلَّة وَوضعت بَين يَدَيْهِ صَحْفَة وَرفعت أُخْرَى وسترتم بُيُوتكُمْ كَمَا تستر الْكَعْبَة قَالُوا يَا رَسُول الله نَحن يَوْمئِذٍ خير منا الْيَوْم نتفرغ لِلْعِبَادَةِ ونكفى المؤونة فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَأَنْتُم الْيَوْم خير مِنْكُم يَوْمئِذٍ
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من طَرِيقين تقدم لفظ أَحدهمَا مُخْتَصرا وَلم يسم فيهمَا الرَّاوِي عَن عَليّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب وَرَوَاهُ أَبُو يعلى وَلم يسمه أَيْضا وَلَفظه عَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ خرجت فِي غَدَاة شَاتِيَة وَقد أوبقني الْبرد فَأخذت ثوبا من صوف كَانَ عندنَا ثمَّ أدخلته فِي عنقِي وحزمته على صَدْرِي أستدفىء بِهِ وَالله مَا فِي بَيْتِي شَيْء آكل مِنْهُ وَلَو كَانَ فِي بَيت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم شَيْء لبلغني فَخرجت فِي بعض نواحي الْمَدِينَة فَانْطَلَقت إِلَى يَهُودِيّ فِي حَائِط فاطلعت عَلَيْهِ من ثغرة فِي جِدَاره فَقَالَ مَا لَك يَا أَعْرَابِي هَل لَك فِي دلو بتمرة قلت نعم افْتَحْ لي الْحَائِط فَفتح لي فَدخلت فَجعلت أنزع الدَّلْو ويعطيني تَمْرَة حَتَّى مَلَأت كفي قلت حسبي مِنْك الْآن فأكلتهن ثمَّ جرعت من المَاء ثمَّ جِئْت إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَجَلَست إِلَيْهِ فِي الْمَسْجِد وَهُوَ مَعَ عِصَابَة من أَصْحَابه فطلع علينا مُصعب بن عُمَيْر فِي بردة لَهُ مَرْقُوعَة بفروة وَكَانَ أنعم غُلَام بِمَكَّة وأرهفه عَيْشًا فَلَمَّا رَآهُ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ذكر مَا كَانَ فِيهِ من النَّعيم وَرَأى حَاله الَّتِي هُوَ عَلَيْهَا فذرفت عَيناهُ فَبكى ثمَّ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَنْتُم الْيَوْم خير أم إِذا غدي على أحدكُم بِجَفْنَة
من خبز وَلحم وريح عَلَيْهِ بِأُخْرَى وَغدا فِي حلَّة وَرَاح فِي أُخْرَى وسترتم بُيُوتكُمْ كَمَا تستر الْكَعْبَة قُلْنَا بل نَحن يَوْمئِذٍ خير نتفرغ لِلْعِبَادَةِ
قَالَ بل أَنْتُم الْيَوْم خير
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من طَرِيقين تقدم لفظ أَحدهمَا مُخْتَصرا وَلم يسم فيهمَا الرَّاوِي عَن عَليّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب وَرَوَاهُ أَبُو يعلى وَلم يسمه أَيْضا وَلَفظه عَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ خرجت فِي غَدَاة شَاتِيَة وَقد أوبقني الْبرد فَأخذت ثوبا من صوف كَانَ عندنَا ثمَّ أدخلته فِي عنقِي وحزمته على صَدْرِي أستدفىء بِهِ وَالله مَا فِي بَيْتِي شَيْء آكل مِنْهُ وَلَو كَانَ فِي بَيت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم شَيْء لبلغني فَخرجت فِي بعض نواحي الْمَدِينَة فَانْطَلَقت إِلَى يَهُودِيّ فِي حَائِط فاطلعت عَلَيْهِ من ثغرة فِي جِدَاره فَقَالَ مَا لَك يَا أَعْرَابِي هَل لَك فِي دلو بتمرة قلت نعم افْتَحْ لي الْحَائِط فَفتح لي فَدخلت فَجعلت أنزع الدَّلْو ويعطيني تَمْرَة حَتَّى مَلَأت كفي قلت حسبي مِنْك الْآن فأكلتهن ثمَّ جرعت من المَاء ثمَّ جِئْت إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَجَلَست إِلَيْهِ فِي الْمَسْجِد وَهُوَ مَعَ عِصَابَة من أَصْحَابه فطلع علينا مُصعب بن عُمَيْر فِي بردة لَهُ مَرْقُوعَة بفروة وَكَانَ أنعم غُلَام بِمَكَّة وأرهفه عَيْشًا فَلَمَّا رَآهُ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ذكر مَا كَانَ فِيهِ من النَّعيم وَرَأى حَاله الَّتِي هُوَ عَلَيْهَا فذرفت عَيناهُ فَبكى ثمَّ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَنْتُم الْيَوْم خير أم إِذا غدي على أحدكُم بِجَفْنَة
من خبز وَلحم وريح عَلَيْهِ بِأُخْرَى وَغدا فِي حلَّة وَرَاح فِي أُخْرَى وسترتم بُيُوتكُمْ كَمَا تستر الْكَعْبَة قُلْنَا بل نَحن يَوْمئِذٍ خير نتفرغ لِلْعِبَادَةِ
قَالَ بل أَنْتُم الْيَوْم خير