আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৫. অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়

হাদীস নং: ২৮৩০
অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়
মিথ্যা কসম করা থেকে ভীতি প্রদর্শন
২৮৩০. হযরত আশআস ইবন কায়স (রা) থেকে বর্ণিত যে, কিন্দার অধিবাসী এক লোক ও হাদ্রামাউত নিবাসী এক ব্যক্তি ইয়েমেনের একটি জমি নিয়ে বিবাদ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট মীমাংসার জন্য আসল। হাদ্রামাউতের লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। এ লোকটির পিতা আমার জমিটি জবর দখল করে নিয়েছিল আর এটি এখন তার দখলেই রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার নিকট কি কোন প্রমাণ রয়েছে? সে বলল, জ্বী না। তবে আমি তাকে হলফ দিতে পারি। সে হলফ করে বলবে যে, এটি আমার ভূমি ও তার পিতা এটি আত্মসাৎ করে নিয়েছিল, একথা সে জানে না। কিন্দার অধিবাসী লোকটি তখন শপথ করার জন্য উদ্যত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন। যে ব্যক্তি শপথ করে কারো সম্পদ আত্মসাৎ করবে, সে আল্লাহর সাথে কুষ্ঠরোগীরণে সাক্ষাত করবে। কিন্দার লোকটি বলে উঠলো। এটি তারই জমি।
(হাদীসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত শব্দমালা তাঁরই। ইবন মাজাহ হাদীসটি এভাবে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেনঃ
যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে পাপাচারী অবস্থায় শপথ করবে, সে আল্লাহর সাথে কুষ্ঠরোগীরূপে সাক্ষাত করবে।)
كتاب البيوع
التَّرْهِيب من الْيَمين الكاذبة الْغمُوس
2830- وَعَن الْأَشْعَث بن قيس رَضِي الله عَنهُ أَن رجلا من كِنْدَة وَآخر من حَضرمَوْت اخْتَصمَا إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي أَرض من الْيمن فَقَالَ الْحَضْرَمِيّ يَا رَسُول الله إِن أرضي اغتصبنيها أَبُو هَذَا وَهِي فِي يَده قَالَ هَل لَك بَيِّنَة قَالَ لَا وَلَكِن أحلفه وَالله مَا يعلم أَنَّهَا أرضي اغتصبنيها أَبوهُ فتهيأ الْكِنْدِيّ للْيَمِين فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا يقتطع أحد مَالا
بِيَمِين إِلَّا لَقِي الله وَهُوَ أَجْذم فَقَالَ الْكِنْدِيّ هِيَ أرضه

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَاللَّفْظ لَهُ وَابْن مَاجَه مُخْتَصرا قَالَ من حلف على يَمِين ليقتطع بهَا مَال امرىء مُسلم هُوَ فِيهَا فَاجر لَقِي الله أَجْذم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নিঃসন্দেহে কোন বান্দার জন্য এটা চূড়ান্ত পর্যায়ের দুর্ভাগ্য যে, ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির কারণে আল্লাহ তা'আলা আখিরাতে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। এটা তার জন্য অভিশপ্ত ও ক্ষমার অযোগ্য হওয়ার লক্ষণ হবে। এর পূর্বে আশ'আস ইব্‌ন কায়সের হাদীসে এরূপ লোকদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ যে আয়াত তিলাওয়াত করেছিলেন-
{إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [آل عمران: 77]
হযরত ওয়াইলের সেই হাদীসে وهو عنه معرض এ হাদীসেরই এজমালী ব্যাখ্যা। আর আয়াতের বর্ণনা যেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা।

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একটি বাক্য এই-
فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَمَّا أَدْبَرَ الخ
যার তরজমা এই করা হয়েছে, যখন সেই কিন্দী শপথ করার জন্য অন্য দিকে চললেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সম্ভবত সেই কিন্দীকে বলে থাকবেন, মসজিদে গিয়ে নামায পড়ে সবার সামনে শপথ কর, অথবা মিম্বরের পাশে দাঁড়িয়ে শপথ কর। এরপর যখন তিনি শপথ করার জন্য সেই দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে সতর্ক করেন, যে কেউ মিথ্যা শপথ করে অপরের মাল অবৈধ পন্থায় অর্জন করবে আখিরাতে তার এই পরিণতি হবে।

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একথা উল্লেখ নেই যে, এরপর সেই ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করেছিলেন না কি শপথ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু অন্য বর্ণনায় হাজরামী ও কিন্দীর এ মোকদ্দমা সম্পর্কে হযরত আশ্আস ইবনে কায়স-এর হাদীসের শেষে এ কথা রয়েছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন আখিরাতের মন্দ পরিণতির ভয় শুনালেন, তখন কিন্দী শপথ করা থেকে থেমে গেলেন। তিনি স্বীকার করলেন যে, এ জমি বাদী হাজরামীরই। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ সে অনুযায়ীই ফায়সালা প্রদান করেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান