আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৫. অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়

হাদীস নং: ২৮১৫
অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়
ঋণগ্রস্ত, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত ও বন্দী ব্যক্তিকে কিছু দু'আ বাক্য পাঠের প্রতি উৎসাহ দান
২৮১৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবু বকর (রা) একদিন আমার নিকট আসলেন এবং বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে একটি দু'আ শুনেছি, যা তিনি আমাকে শিখিয়েছিলেন। আমি বললাম, এ দু'আটি কি? তিনি বললেনঃ ঈসা ইবন মরিয়াম (আ) আপন সহচরদেরকে এ দু'আটি শিক্ষা দিতেন এবং বলতেন, তোমাদের কারো যিম্মায় যদি পাহাড় পরিমাণ দেনাও থাকে, তবুও এ দু'আটি দ্বারা আল্লাহকে ডাকলে তিনি তার দেনা আদায় করে দেবেন। দু'আটি এইঃ
اللَّهُمَّ فَارِجَ الْهَمِّ ، كَاشِفَ الْغَمِّ ، مُجِيبَ دَعْوَةِ المُضطَرِّينَ ، رَحْمنَ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَرَحِيمَهُمَا أَنْتَ تَرْحَمُني فَارْحَمْنِي بِرَحْمَةٍ تُغْنِيني بِهَا عَنْ رَحْمَةِ مَنْ سِوَاكَ



"হে আল্লাহ! তুমি দুশ্চিন্তামুক্তকারী, তুমি বিপদ থেকে ত্রাণকারী, তুমি উদ্বিগ্ন ব্যক্তিদের আহ্বানে সাড়া প্রদানকারী, তুমি দুনিয়া এবং আখিরাতে রহমান এবং উভয় জগতেই রহীমও বটে। তুমিই কেবল আমাকে দয়া করতে পার। অতএব তুমি আমাকে দয়া কর, যে দয়া অপর সকলের অনুগ্রহ থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে।"
আবু বকর সিদ্দীক (রা) বলেনঃ আমার কিছু ঋণ ছিল আর আমি ঋণ খুবই অপসন্দ করতাম। তাই আমি এ দু'আটির মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকতে লাগলাম। এর ফলে আল্লাহ আমাকে খুবই উপকৃত করলেন এবং আমার দেনা শোধ করে দিলেন।
আয়েশা বলেনঃ আমার কাছে আসমা বিনত উমায়স (রা)-এর একটি দীনার ও তিনটি দিরহাম পাওনা ছিল। সে আমার নিকট আসত কিন্তু আমি তার চেহারা দর্শনে লজ্জাবোধ করতাম। কেননা তার পাওনা আদায়ের মত আমার নিকট কিছু ছিল না। তাই আমি এ দু'আটির মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকতাম। বেশি দিন অতিবাহিত হয়নি যে, আল্লাহ আমাকে এমন সম্পদ দান করলেন যা কোন প্রকার সাদকা বাবদ প্রাপ্ত নয় বা উত্তরাধিকার সুত্রেও তা আমি পাইনি। আল্লাহ আমার দেনা পরিশোধ করে দিলেন এবং অতিরিক্ত সম্পদ আমি পরিবারের মধ্যে বণ্টন করে দিলাম। আর (আমার ভাই) আবদুর রহমানের কন্যাকে তিন উকিয়া রূপা দিয়ে একটি অলংকারও তৈরি করে দিলাম। এরপরও কিছু সম্পদ উদ্বৃত্ত থেকে গেল।
(হাদীসটি বাযযার, হাকিম ও ইস্পাহানী সবাই হাকাম ইবন আবদুল্লাহ আয়লীর সূত্রে কাসিম-এর মাধ্যমে আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেছেনঃ হাদীসটির সনদ সহীহ।
(হাফিয আবদুল আযীম বলেনঃ) এটি কেমন করে হয়। অথচ হাকাম একজন প্রত্যাখ্যাত ও অভিযুক্ত রাবী? আর কাসিমের এমনিতেও সমালোচনা রয়েছে, তদুপরি সে আয়েশা থেকে হাদীসও শুনেনি।)
كتاب البيوع
التَّرْغِيب فِي كَلِمَات يقولهن الْمَدْيُون والمهموم والمكروب والمأسور
2815- وَعَن عَائِشَة رَضِي الله عَنْهَا قَالَت دخل عَليّ أَبُو بكر فَقَالَ سَمِعت من رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم دُعَاء علمنيه قلت مَا هُوَ قَالَ كَانَ عِيسَى ابْن مَرْيَم يعلم أَصْحَابه قَالَ لَو كَانَ على أحدكُم جبل ذهب دينا فَدَعَا الله بذلك لقضاه الله عَنهُ اللَّهُمَّ فارج الْهم وَكَاشف الْغم ومجيب دَعْوَة الْمُضْطَرين رَحْمَن الدُّنْيَا وَالْآخِرَة ورحيمهما أَنْت ترحمني فارحمني برحمة تغنيني بهَا عَن رَحْمَة من سواك
قَالَ أَبُو بكر الصّديق رَضِي الله عَنهُ وَكَانَت عَليّ بَقِيَّة من الدّين وَكنت للدّين كَارِهًا فَكنت أَدْعُو الله بذلك فَأَتَانِي الله بفائدة فَقضى عني ديني قَالَت عَائِشَة كَانَ لاسماء بنت عُمَيْس رَضِي الله عَنْهَا عَليّ دِينَار وَثَلَاثَة دَرَاهِم وَكَانَت تدخل عَليّ فأستحيي أَن أنظر فِي وَجههَا لَا أجد مَا أقضيها فَكنت أَدْعُو بذلك الدُّعَاء فَمَا لَبِثت إِلَّا يَسِيرا حَتَّى رَزَقَنِي الله رزقا مَا هُوَ بِصَدقَة تصدق بهَا عَليّ وَلَا مِيرَاث ورثته فقضاه الله عني وَقسمت فِي أَهلِي قسما حسنا وحليت ابْنة عبد الرَّحْمَن بِثَلَاث أَوَاقٍ من ورق وَفضل لنا فضل حسن

رَوَاهُ الْبَزَّار وَالْحَاكِم والأصبهاني كلهم عَن الحكم بن عبد الله الْأَيْلِي عَن الْقَاسِم عَنْهَا وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد
قَالَ الْحَافِظ عبد الْعَظِيم كَيفَ وَالْحكم مَتْرُوك مُتَّهم وَالقَاسِم مَعَ مَا قيل فِيهِ لم يسمع من عَائِشَة
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান