আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৫. অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়

হাদীস নং: ২৭৫০
অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়
খাদ্য মজুতদারীর ব্যাপারে সাবধান বাণী
২৭৫০. হযরত আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শহরবাসীগণ (সভ্যতার বিকাশে) আল্লাহর পথে বন্দী হয়ে আছে। অতএব তোমরা তাদের উপর খাদ্য সামগ্রী আটকিয়ে রেখো না এবং মূল্য বৃদ্ধি ঘটিও না। কেননা যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত তাদের থেকে খাদ্য সামগ্রী আটকিয়ে রাখবে, পরবর্তীতে এসব দান করে দিলেও এর ক্ষতিপূরণ হবে না।
(এ হাদীসটিও রযীন বর্ণনা করেছেন, তবে আমি এটি পাইনি।)
كتاب البيوع
التَّرْهِيب من الاحتكار
2750- وَعَن أبي أُمَامَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أهل الْمَدَائِن هم الحبساء فِي سَبِيل الله فَلَا تحتكروا عَلَيْهِم الأقوات وَلَا تغلوا عَلَيْهِم الأسعار فَإِن من احتكر عَلَيْهِم طَعَاما أَرْبَعِينَ يَوْمًا ثمَّ تصدق بِهِ لم تكن كَفَّارَة لَهُ

ذكره رزين أَيْضا وَلم أَجِدهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যে ভাবে আমাদের যুগে অনেক ব্যবসায়ী খাদ্যশস্য ইত্যাদি প্রায়োজনীয় দ্রব্যাদি মওজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, ফলে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি ও দুষ্প্রাপ্যতা বেড়ে চলে যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায় ও তাদের জন্য জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ে, অনুরূপ ভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগেও কতক ব্যবসায়ী এরূপ করত (সম্ভবত এতে কোন দোষ মনে করত না) কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ এটা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আরবী ভাষায় এটাকে احتکار বলে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা ও তার নিয়ে আসা শরীয়তের ঝোঁক প্রবণতা হচ্ছে এই যে, সামাজিক রীতি-নীতি এরূপ হবে, যাতে জনসাধারণ বিশেষ করে দরিদ্র অর্থাৎ স্বল্প আয়ের লোকজনের জীবন যাপন করা কষ্টকর না হয়। ব্যবসায়ী মহল ও ধনিক শ্রেণীর বেশি লাভ ও আপন মাল বৃদ্ধির পরিবর্তে জনসাধারণের সুবিধা দৃষ্টিতে রাখবে। এই মহৎ লক্ষ্যে অল্প লাভে সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত ও আখিরাতের প্রতিদান গ্রহণ করবে। যদি ঈমানের সৌভাগ্য লাভ হয় তবে নিঃসন্দেহে এ ব্যবসা খুবই লাভজনক।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান