আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৮. অধ্যায়ঃ সদকা
হাদীস নং: ১৪৩৯
অধ্যায়ঃ সদকা
উপকারের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, উপকারীকে তার প্রতিদান দেওয়া ও তার জন্য দু'আ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং অকৃতজ্ঞতার পরিণাম প্রসঙ্গ
১৪৩৯. হযরত জাবির (রা) সূত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: কোন ব্যক্তি কোন দানপ্রাপ্ত হলে সে যদি সক্ষম হয়, তবে যেন সে এর প্রতিদান দেয়। আর সে যদি অপারগ হয়, তবে অন্তত সে যেন দাতার প্রশংসা করে। কেননা যে প্রশংসা করল, সে যেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নিল। আর যে গোপন করল, সে অকৃতজ্ঞ রয়ে গেল। আর যাকে কোন কিছু দেয়া হয়নি অথচ সে মিছামিছি কোন নিয়ামত প্রদত্ত হওয়ার ভাব প্রকাশ করল, সে যেন মিথ্যার দু'টি পোশাক পরিধান করে নিল।
হাদীসটি আবুয যুবায়র সুত্রে জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান-গরীব। আবু দাঊদও জনৈক ব্যাক্তি সূত্রে এটি জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এও বলেছেন, যে, ঐ ব্যক্তিটি হচ্ছে শুরাহবীল ইবন সা'দ। ইবন হিব্বানও তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি শুরাহবীল সূত্রে জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনাটি এরূপঃ
যার কোন উপকার করা হল আর সে প্রশংসা ছাড়া আর কোন বিনিময় দিতে পারল না, সে কৃতজ্ঞ বলেই গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি তা গোপন করল, সে যেন অকৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করল। যে ব্যক্তি মিছামিছি কোন নিয়ামত প্রদত্ত হওয়ার ভাব ধারণ করল, সে যেন মিথ্যার দু'টি পোশাক পরিধান করে নিল।
শুরাহবীল ইবন সাদ সম্পর্কে বর্ণনা সামনে আসছে। আবু দাউদের অপর একটি বিশুদ্ধ বর্ণনায় রয়েছে। যাকে কোন নিয়ামত দান করা হল আর সে এর আলোচনা করল, সে যেন এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো। আর যে গোপন করল, সে অকৃতজ্ঞ রয়ে গেল।
হাদীসটি আবুয যুবায়র সুত্রে জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান-গরীব। আবু দাঊদও জনৈক ব্যাক্তি সূত্রে এটি জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এও বলেছেন, যে, ঐ ব্যক্তিটি হচ্ছে শুরাহবীল ইবন সা'দ। ইবন হিব্বানও তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি শুরাহবীল সূত্রে জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনাটি এরূপঃ
যার কোন উপকার করা হল আর সে প্রশংসা ছাড়া আর কোন বিনিময় দিতে পারল না, সে কৃতজ্ঞ বলেই গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি তা গোপন করল, সে যেন অকৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করল। যে ব্যক্তি মিছামিছি কোন নিয়ামত প্রদত্ত হওয়ার ভাব ধারণ করল, সে যেন মিথ্যার দু'টি পোশাক পরিধান করে নিল।
শুরাহবীল ইবন সাদ সম্পর্কে বর্ণনা সামনে আসছে। আবু দাউদের অপর একটি বিশুদ্ধ বর্ণনায় রয়েছে। যাকে কোন নিয়ামত দান করা হল আর সে এর আলোচনা করল, সে যেন এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো। আর যে গোপন করল, সে অকৃতজ্ঞ রয়ে গেল।
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي شكر الْمَعْرُوف ومكافأة فَاعله وَالدُّعَاء لَهُ وَمَا جَاءَ فِيمَن لم يشْكر مَا أولي إِلَيْهِ
1439- وَعَن جَابر رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من أعطي عَطاء فَوجدَ فليجز بِهِ فَإِن لم يجد فليثن فَإِن من أثنى فقد شكر وَمن كتم فقد كفر وَمن تحلى بِمَا لم يُعْط كَانَ كلابس ثوبي زور
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ عَن أبي الزبير عَنهُ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب وَرَوَاهُ
أَبُو دَاوُد عَن رجل عَن جَابر وَقَالَ هُوَ شُرَحْبِيل بن سعد وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه عَن شُرَحْبِيل عَنهُ وَلَفظه من أولي مَعْرُوفا فَلم يجد لَهُ جَزَاء إِلَّا الثَّنَاء فقد شكره وَمن كتمه فقد كفره وَمن تحلى بباطل فَهُوَ كلابس ثوبي زور
قَالَ الْحَافِظ وشرحبيل بن سعد تَأتي تَرْجَمته
وَفِي رِوَايَة جَيِّدَة لأبي دَاوُد من أبلي فَذكره فقد شكره وَمن كتمه فقد كفره
قَوْله من أبلي أَي من أنعم عَلَيْهِ والإبلاء الإنعام
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ عَن أبي الزبير عَنهُ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب وَرَوَاهُ
أَبُو دَاوُد عَن رجل عَن جَابر وَقَالَ هُوَ شُرَحْبِيل بن سعد وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه عَن شُرَحْبِيل عَنهُ وَلَفظه من أولي مَعْرُوفا فَلم يجد لَهُ جَزَاء إِلَّا الثَّنَاء فقد شكره وَمن كتمه فقد كفره وَمن تحلى بباطل فَهُوَ كلابس ثوبي زور
قَالَ الْحَافِظ وشرحبيل بن سعد تَأتي تَرْجَمته
وَفِي رِوَايَة جَيِّدَة لأبي دَاوُد من أبلي فَذكره فقد شكره وَمن كتمه فقد كفره
قَوْله من أبلي أَي من أنعم عَلَيْهِ والإبلاء الإنعام
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন যে, যাকে কোন প্রিয়জনের পক্ষ থেকে হাদিয়া, তুহফা প্রদান করা হয়, তবে হাদিয়া গ্রহণকারী ব্যক্তি যদি হাদিয়ার প্রতিদান প্রদানে সক্ষম হয়, তাই করবে। আর যদি এ ক্ষমতা না থাকে তবে হাদিয়া প্রদানকারীর ব্যাপারে উত্তম কথা বলবে। তার এ ইহসানের কথা অন্যদের নিকট আলোচনা করবে। আল্লাহ তা'আলার নিকট এটাও কৃতজ্ঞতা বলে গৃহীত হবে। (অন্য এক হাদীস থেকে জানা যায় جَزَاكَ اللّٰهُ বললেও এ দাবি পূর্ণ হবে) আর যে ব্যক্তি হাদিয়া-তুহফা পাওয়ার পর ইহা গোপন করে, মুখে পর্যন্ত উল্লেখ করল না, 'জাযাকাল্লাহ্' জাতীয় শব্দও বলল না, তবে সে নি'আমতের অস্বীকারকারী ও অকৃতজ্ঞ হল।
হাদীসের শেষ বাক্য ومن تحلى الخ-এর প্রকাশ্য অর্থ এই যে, যে ব্যক্তি নিজের কথা বা কাজ কিংবা বিশেষ কাপড় ইত্যাদি দ্বারা নিজের মধ্যে সেই পূর্ণতা (যেমন আলিম ও বুযুর্গ) প্রকাশ করে যা তার মধ্যে নেই তবে সে সেই ধোঁকাবাজের ন্যায়, যে লোকজনকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য সম্মানিত ব্যক্তিত্বশীল লোকদের পোশাক পরিধান করে।
হাদীসের কোন কোন ব্যাখ্যাকার লিখেন, আরবে এক ব্যক্তি অতিশয় নিচু ও মর্যাদাহীন স্তরের ছিল। কিন্তু সে মর্যাদাবান ও ব্যক্তিত্বশীল লোকদের ন্যায় উত্তম ও আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক পরত, যেন তাকে সম্ভ্রান্তদের মধ্যে গণ্য করা হয় এবং তার সাক্ষ্যের প্রতি আস্থা রাখা হয়। অথচ সে মিথ্যা সাক্ষ্য দিত। এটাকেই لابس ثوب زور বলা হয়েছে।
হাদিয়া-তুহফা সম্পর্কিত উল্লিখিত দিকনির্দেশনাবলীর সাথে শেষ বাক্য বলার সম্ভবত হুজুর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উদ্দেশ্য যে, যে ব্যক্তির নিকট এমন গুণাবলী না থাকে যে কারণে মানুষ তাকে হাদিয়া প্রদান করা সৌভাগ্য মনে করে, এমন ব্যক্তি যদি মানুষের হাদিয়া-তুহফা অর্জনের জন্য নিজের কথা, পোশাক ও জীবনের চাল-চলন দ্বারা সেই পূর্ণতা ও গুণাবলী নিজের জন্য প্রকাশ করে তবে তা ধোঁকা ও প্রতারণা হবে। আর সে ব্যক্তি বর্ণনা মুতাবিক لابس ثوب روز এর ন্যায় ধোঁকাবাজ হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
হাদীসের শেষ বাক্য ومن تحلى الخ-এর প্রকাশ্য অর্থ এই যে, যে ব্যক্তি নিজের কথা বা কাজ কিংবা বিশেষ কাপড় ইত্যাদি দ্বারা নিজের মধ্যে সেই পূর্ণতা (যেমন আলিম ও বুযুর্গ) প্রকাশ করে যা তার মধ্যে নেই তবে সে সেই ধোঁকাবাজের ন্যায়, যে লোকজনকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য সম্মানিত ব্যক্তিত্বশীল লোকদের পোশাক পরিধান করে।
হাদীসের কোন কোন ব্যাখ্যাকার লিখেন, আরবে এক ব্যক্তি অতিশয় নিচু ও মর্যাদাহীন স্তরের ছিল। কিন্তু সে মর্যাদাবান ও ব্যক্তিত্বশীল লোকদের ন্যায় উত্তম ও আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক পরত, যেন তাকে সম্ভ্রান্তদের মধ্যে গণ্য করা হয় এবং তার সাক্ষ্যের প্রতি আস্থা রাখা হয়। অথচ সে মিথ্যা সাক্ষ্য দিত। এটাকেই لابس ثوب زور বলা হয়েছে।
হাদিয়া-তুহফা সম্পর্কিত উল্লিখিত দিকনির্দেশনাবলীর সাথে শেষ বাক্য বলার সম্ভবত হুজুর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উদ্দেশ্য যে, যে ব্যক্তির নিকট এমন গুণাবলী না থাকে যে কারণে মানুষ তাকে হাদিয়া প্রদান করা সৌভাগ্য মনে করে, এমন ব্যক্তি যদি মানুষের হাদিয়া-তুহফা অর্জনের জন্য নিজের কথা, পোশাক ও জীবনের চাল-চলন দ্বারা সেই পূর্ণতা ও গুণাবলী নিজের জন্য প্রকাশ করে তবে তা ধোঁকা ও প্রতারণা হবে। আর সে ব্যক্তি বর্ণনা মুতাবিক لابس ثوب روز এর ন্যায় ধোঁকাবাজ হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)