আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৮. অধ্যায়ঃ সদকা

হাদীস নং: ১৪২৪
অধ্যায়ঃ সদকা
খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
১৪২৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সা.-এর নিকট এসে বলল, আমি খুব কষ্ট করে হাউয থেকে পানি উত্তোলন করে যখন আমার উটের জন্য মশকটি ভরে শেষ করি, তখনই অন্য কোন ব্যক্তির উট আমার কাছে এসে যায়। তখন আমি যদি তাকেও পানি পান করিয়ে দেই, তবে কি এতে আমার পুণ্য হবে? তিনি বললেন, তাকে পানি পান করিয়ে দাও। কেননা প্রতিটি কলিজাবিশিষ্ট প্রাণীর বেলায়ই পুণ্য রয়েছে।
(হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রসিদ্ধ।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1424- وَعَن عبد الله بن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رجلا جَاءَ إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ إِنِّي أنزع فِي حَوْضِي حَتَّى إِذا ملأته لإبلي ورد عَليّ الْبَعِير لغيري فسقيته فَهَل فِي ذَلِك من أجر فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن فِي كل ذَات كبد
أجرا

رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته ثِقَات مَشْهُورُونَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ছোট বড় প্রত্যেক কাজে সওয়াব রয়েছে। ইতর প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন করার মধ্যেও সওয়াব রয়েছে। কিন্তু সওয়াবের পরিমাণ প্রত্যেক কাজের গুরুত্বের উপর নির্ভর করে। স্বাভাবিক অবস্থায় সম্পাদিত কাজের জন্য যে সওয়াব রয়েছে, অস্বাভাবিক অবস্থায় সম্পাদিত একই কাজের তার চেয়ে বেশি সওয়াব রয়েছে। যে সৎকর্মের পেছনে আন্তরিকতা বেশি, তার জন্য আল্লাহর কাছে সওয়াবও বেশি। স্বাভাবিক অবস্থায় পশুপাখিকে পানি দান করলে সাধারণ সওয়াব পাওয়া যাবে: কিন্তু অস্বাভাবিক অবস্থায় কোন প্রাণীকে নিজের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন সাহায্য করলে তার মূল্য অনেক বেশি হবে। আল্লাহ এ ধরনের বান্দার কাজের পূর্ণ স্বীকৃতি দেন এবং তার গুনাহ মাফ করে তাকে বুলন্দ মরতবা দান করেন। অবশ্য সৎকর্মশীল ব্যক্তির ঈমান থাকতে হবে। অন্যথায় সে আখিরাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান