আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৮. অধ্যায়ঃ সদকা
হাদীস নং: ১৩৪৪
অধ্যায়ঃ সদকা
অসচ্ছল ব্যক্তির সাথে কঠোরতা না করা, তাকে অবকাশ দান ও দায়মুক্ত করে দেয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গ
১৩৪৪. বুখারী ও মুসলিমের এক বর্ণনায় হযরত হুযায়ফা (রা) থেকেই বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের জনৈক ব্যক্তির কাছে (মৃত্যুর) ফিরিশতা তার রূহ কবয করার জন্য আসলেন এবং তাকে বললেন, তুমি কি কোন উত্তম কাজ করেছিলে হে? জবাবে সে বলল, আমি জানি না। তাকে বলা হল, তুমি একটু চিন্তা করে দেখ তো! সে বলল, আমি তেমন কিছুই জানি না, তবে দুনিয়াতে আমি মানুষের সাথে লেনদেন করতাম এবং সচ্ছল ব্যক্তিদেরকেও অবকাশ দিতাম আর অসচ্ছলদেরকে ক্ষমাই করে দিতাম। তখন আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে দিলেন। হাদীসটি শুনে আবু মাসউদ বলেন উঠলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে এ হাদীসটি বলতে শুনেছি।
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي التَّيْسِير على الْمُعسر وإنظاره والوضع عَنهُ
1344 - وَفِي رِوَايَة للْبُخَارِيّ وَمُسلم عَنهُ أَيْضا قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول إِن رجلا مِمَّن كَانَ قبلكُمْ أَتَاهُ الْملك ليقْبض روحه فَقَالَ هَل عملت من خير قَالَ مَا أعلم
قيل لَهُ انْظُر قَالَ مَا أعلم شَيْئا غير أَنِّي كنت أبايع النَّاس فِي الدُّنْيَا فَأنْظر الْمُوسر
وأتجاوز عَن الْمُعسر فَأدْخلهُ الله الْجنَّة فَقَالَ أَبُو مَسْعُود وَأَنا سمعته يَقُول ذَلِك
قيل لَهُ انْظُر قَالَ مَا أعلم شَيْئا غير أَنِّي كنت أبايع النَّاس فِي الدُّنْيَا فَأنْظر الْمُوسر
وأتجاوز عَن الْمُعسر فَأدْخلهُ الله الْجنَّة فَقَالَ أَبُو مَسْعُود وَأَنا سمعته يَقُول ذَلِك
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে রাসুলুল্লাহ ﷺ পূর্ব যুগের কোন এক ব্যক্তির যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন, স্পষ্টত তা তিনি ওহীর দ্বারা জ্ঞাত হয়ে থাকবেন। সে এমতাবস্থায় দুনিয়া ছেড়ে গিয়েছে যে, তার দৃষ্টিতে এমন কোন আমল ছিল না যদ্বারা সে ব্যক্তিও জান্নাতের আশা পোষণ করতে পারে। তবে সে ব্যবসায়িক বিষয়েও লেন-দেনে আল্লাহর বান্দাদের সাথে অনুকম্পা করত এবং তাদেরকে সময় দিত এবং যদি কোন দরিদ্র ব্যক্তির নিকট বাকীতে বিক্রি করে থাকত অথবা ঋণ দিত আর সে ব্যক্তি পরিশোধ করতে অক্ষম ছিল তবে তাকে ক্ষমা করে দিত। আর সচ্ছল লোকদেরকে তাড়াতাড়ি আদায়ের জন্য চাপ দিত না। বরং তাদেরকে অবকাশ দিত যাতে ভবিষ্যতে আদায় করে। আল্লাহ তা'আলা তার এ কাজের ভিত্তিতে তাকে ক্ষমা করে দেন। তার জান্নাতের আদেশ হয়। শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের ইহা ফলপ্রসু পন্থা যে, পূর্ববর্তীদের উপদেশমূলক ঘটনা বর্ণনা করতে হবে। কুরআন মাজীদে নবীগণ ও তাঁদের জাতির অথবা কোন কোন ব্যক্তির যে কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তার বিশেষ উদ্দেশ্য ও দাবি এটাই। আলোচ্য হাদীসে ও সামনের হাদীসে রাসুলুল্লাহ ﷺ শিক্ষা ও উপদেশের জন্য এ পন্থাই গ্রহণ করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: