আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৮. অধ্যায়ঃ সদকা

হাদীস নং: ১৩৪৩
অধ্যায়ঃ সদকা
অসচ্ছল ব্যক্তির সাথে কঠোরতা না করা, তাকে অবকাশ দান ও দায়মুক্ত করে দেয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গ
১৩৪৩. মুসলিমের অপর একটি বর্ণনাও ইব্‌ন মাজাহ শরীফে হযরত হুযায়ফা (রা) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি মৃত্যুমুখে পতিত হল এবং জান্নাতে প্রবেশ করল। তাকে জিজ্ঞেস করা হল, তুমি কি (নেক) আমল করতে হে? তখন সে নিজেই স্মরণ করল অথবা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হলো, তখন সে বলল, আমি মানুষের সাথে ক্রয়-বিক্রয় করতাম এবং অসচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দিতাম ও মুদ্রা অথবা অর্থ আদায়ের ব্যাপারে ছাড় দিতাম। তখন তাকে ক্ষমা করে দেয়া হল
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي التَّيْسِير على الْمُعسر وإنظاره والوضع عَنهُ
1343 - وَفِي رِوَايَة لمُسلم وَابْن مَاجَه عَن حُذَيْفَة أَيْضا عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن رجلا مَاتَ فَدخل الْجنَّة فَقيل لَهُ مَا كنت تعْمل قَالَ فإمَّا ذكر وَإِمَّا ذكر فَقَالَ كنت أبايع النَّاس فَكنت أنظر الْمُعسر وأتجوز فِي السِّكَّة أَو فِي النَّقْد فغفر لَهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে রাসুলুল্লাহ ﷺ পূর্ব যুগের কোন এক ব্যক্তির যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন, স্পষ্টত তা তিনি ওহীর দ্বারা জ্ঞাত হয়ে থাকবেন। সে এমতাবস্থায় দুনিয়া ছেড়ে গিয়েছে যে, তার দৃষ্টিতে এমন কোন আমল ছিল না যদ্বারা সে ব্যক্তিও জান্নাতের আশা পোষণ করতে পারে। তবে সে ব্যবসায়িক বিষয়েও লেন-দেনে আল্লাহর বান্দাদের সাথে অনুকম্পা করত এবং তাদেরকে সময় দিত এবং যদি কোন দরিদ্র ব্যক্তির নিকট বাকীতে বিক্রি করে থাকত অথবা ঋণ দিত আর সে ব্যক্তি পরিশোধ করতে অক্ষম ছিল তবে তাকে ক্ষমা করে দিত। আর সচ্ছল লোকদেরকে তাড়াতাড়ি আদায়ের জন্য চাপ দিত না। বরং তাদেরকে অবকাশ দিত যাতে ভবিষ্যতে আদায় করে। আল্লাহ তা'আলা তার এ কাজের ভিত্তিতে তাকে ক্ষমা করে দেন। তার জান্নাতের আদেশ হয়। শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের ইহা ফলপ্রসু পন্থা যে, পূর্ববর্তীদের উপদেশমূলক ঘটনা বর্ণনা করতে হবে। কুরআন মাজীদে নবীগণ ও তাঁদের জাতির অথবা কোন কোন ব্যক্তির যে কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তার বিশেষ উদ্দেশ্য ও দাবি এটাই। আলোচ্য হাদীসে ও সামনের হাদীসে রাসুলুল্লাহ ﷺ শিক্ষা ও উপদেশের জন্য এ পন্থাই গ্রহণ করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান