আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৮. অধ্যায়ঃ সদকা

হাদীস নং: ১১৪৩
অধ্যায়ঃ সদকা
যাকাত অনাদায়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন ও অলংকারের যাকাত
১১৪৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (সা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা যাকে ধন-সম্পদ দিয়েছেন অথচ সে তার যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে মাথায় টাকবিশিষ্ট সাপে পরিণত করা হবে, যার চোখের উপর স্থাপিত থাকবে দুটো কালো তিলক (অর্থাৎ তা অতিশয় বিষধর হবে)। তা তার গলার বেড়ী স্বরূপ হবে। তা তাকে উভয়ে গালে দংশন করতে থাকবে। এরপর সে বলবে: আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন। এরপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ وَلَا يَحسبن الَّذين يَبْخلُونَ الْآيَة
যারা কৃপণতা করে, তারা যেন ধারণা না করে যে......" শেষ পর্যন্ত।
(বুখারী, নাসাঈ ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْهِيب من منع الزَّكَاة وَمَا جَاءَ فِي زَكَاة الْحلِيّ
1143 - وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَقرع لَهُ زَبِيبَتَانِ يطوقه يَوْم الْقِيَامَة ثمَّ يَأْخُذ بِلِهْزِمَتَيْهِ يَعْنِي شدقيه ثمَّ يَقُول أَنا مَالك أَنا كَنْزك ثمَّ تَلا هَذِه الْآيَة {وَلَا يَحسبن الَّذين يَبْخلُونَ} قَالَ من آتَاهُ الله مَالا فَلم يؤد
زَكَاته مثل لَهُ يَوْم الْقِيَامَة شجاعا آل عمرَان 081 الْآيَة

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَالنَّسَائِيّ وَمُسلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কুরআন ও হাদীসে বিশেষ বিশেষ আমলের যে বিশেষ প্রতিদান ও বিশেষ শাস্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে, এসব আমল এবং প্রতিদান ও শাস্তির মধ্যে সর্বদাই বিশেষ কোনো সম্পর্ক থাকে। অনেক সময় এ সম্পর্কটি এমন স্পষ্ট হয়, যা বুঝা আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্যও কোনো কঠিন ব্যাপার হয় না। আর কখনো কখনো এমন সূক্ষ্ম ও গোপন সম্পর্ক থাকে, যা উম্মতের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন তত্ত্বজ্ঞানীরাই বুঝতে পারেন।

এ হাদীসে যাকাত আদায় না করার গুনাহের যে বিশেষ শাস্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে—অর্থাৎ, এ সম্পদ এক বিষাক্ত সাপের আকৃতিতে তাকে জড়িয়ে ধরবে এবং তার দুই চোয়ালে দংশন করবে—নিঃসন্দেহে এ গুনাহ এবং এর শাস্তির মধ্যেও একটি বিশেষ সম্বন্ধ রয়েছে। এটা ঐ সম্পর্কই, যার কারণে ঐ কৃপণ মানুষকে যে সম্পদের মোহের কারণে নিজের সম্পদকে আঁকড়ে থাকে এবং প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও খরচ করে না—বলা হয় যে, সে নিজের সম্পদ ও ভান্ডারে সাপ হয়ে বসে আছে। আর এ সম্পর্কের কারণেই কৃপণ ও ক্ষুদ্রমনা মানুষ কখনো কখনো এ ধরনের স্বপ্নও দেখে থাকে।

এ হাদীসে এবং উপরে উল্লেখিত সূরা আলে ইমরানের আয়াতে ‘কেয়ামতের দিন’ বলে যে শব্দটি এসেছে, এর দ্বারা বুঝা যায় যে, এ আযাবটি জাহান্নাম অথবা জান্নাতের ফায়সালার পূর্বে হাশরের ময়দানে হবে। হাদীসে যারা যাকাত আদায় করে না, এ ধরনের এক বিশেষ স্তরের মানুষের বিশেষ আযাবের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে শেষে বলা হয়েছে—

حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ فَيُرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَأَمَّا إِلَى النَّارِ

(এ শাস্তি ঐ সময় পর্যন্ত চলতে থাকবে, যে পর্যন্ত না বান্দাদের হিসাব-কিতাবের পর তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।)

ঐ সিদ্ধান্ত ও ভাগ্য নির্ধারণের পর এ ব্যক্তি হয়তো জান্নাতের পথ দেখবে অথবা জাহান্নামের পথ। অর্থাৎ, যে পরিমাণ শাস্তি সে হিসাব-নিকাশ ও শেষ ফায়সালার আগে ভোগ করে নিবে, তার পাপের শাস্তি হিসাবে যদি এতটুকুই আল্লাহ্র নিকট যথেষ্ট বিবেচিত হয়, তাহলে এরপর সে ছুটি ও মুক্তি পেয়ে যাবে এবং তাকে জান্নাতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আর যদি হাশরের ময়দানের এ আযাব দ্বারা সে দায়মুক্ত না হয়ে থাকে, তাহলে অতিরিক্ত শাস্তির জন্য তাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

اللَّهُمُ احْفَظْنَا وَاغْفِرْ لَنَا وَلَا تُعَذِّبْنَا
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান