আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

১৬- হজ্ব - উমরার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩১৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৫৪
- হজ্ব - উমরার অধ্যায়
৭৯. মক্কার হারাম হওয়া, হারামের অভ্যন্তরে শিকার করা এখানকার গাছপালা উপড়ানো ও ঘাস কাটা নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গ
৩১৭৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু শুরাইহ আদাবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমর ইবনে সাঈদ (ইবনুল আস ইবনে উমাইয়া) যখন মক্কা অভিযানের উদ্দেশ্যে সৈন্য বাহীনিসহ রওয়ানা করেন তখন আবু শুরায়হ (রাযিঃ) তাকে বলেন, হে আমীর! আমাকে অনুমতি দিন একটি কথা বলতে যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন সকাল বেলা দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- যা আমার দুই কান শুনেছে, আমার অন্তর সংরক্ষণ করেছে এবং উভয় চোখ সেই দৃশ্য দেখেছে। যখন তিনি তা বলেছিলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেনঃ নিশ্চয়ই মক্কাকে আল্লাহ তাআলা হারামে পরিণত করেছেন- কোন মানুষ তাকে হারাম সাব্যস্ত করে নি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের দিনের উপর ঈমান রাখে- তার পক্ষে সেখানে রক্ত প্রবাহিত করা বা সেখানকার কোন গাছ উপড়ানো হালাল নয়।

যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলের উদাহরণ পেশ করে এখানে রক্তপাত বৈধ করতে চায় তবে তোমরা তাকে বলে দিও, আল্লাহ তাআলা তার রাসুল (ﷺ) কে এজন্য অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তোমাদের জন্য কখনও অনুমতি দেননি। আর আমার জন্য তিনি এক দিনের সামান্য সময় সেখানে যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছিলেন। আজকে তার সেই হুরমাত (মর্যাদা) গতকালের মত পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উপস্থিত লোকেরা যেন (একথা) অনুপস্থিতদের নিকট পৌঁছে দেয়।

আবু শুয়ারাহ (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল- আমর আপনাকে কি জবাব দিল? তিনি বললেন, হে আবু শুরাইহ! এ সম্পর্কে আমি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞাত আছি। নিশ্চয়ই হারাম শরীফ কোন পাপীকে, কোন হত্যাকারীকে এবং কোন পলাতক অনিষ্টকারীকে আশ্রয় দেয় না।
كتاب الحج
باب تَحْرِيمِ مَكَّةَ وَصَيْدِهَا وَخَلاَهَا وَشَجَرِهَا وَلُقَطَتِهَا إِلاَّ لِمُنْشِدٍ عَلَى الدَّوَام
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْعَدَوِيِّ، أَنَّهُ قَالَ لِعَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ وَهُوَ يَبْعَثُ الْبُعُوثَ إِلَى مَكَّةَ ائْذَنْ لِي أَيُّهَا الأَمِيرُ أُحَدِّثْكَ قَوْلاً قَامَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْغَدَ مِنْ يَوْمِ الْفَتْحِ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي وَأَبْصَرَتْهُ عَيْنَاىَ حِينَ تَكَلَّمَ بِهِ أَنَّهُ حَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ مَكَّةَ حَرَّمَهَا اللَّهُ وَلَمْ يُحَرِّمْهَا النَّاسُ فَلاَ يَحِلُّ لاِمْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ يَسْفِكَ بِهَا دَمًا وَلاَ يَعْضِدَ بِهَا شَجَرَةً فَإِنْ أَحَدٌ تَرَخَّصَ بِقِتَالِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا فَقُولُوا لَهُ إِنَّ اللَّهَ أَذِنَ لِرَسُولِهِ وَلَمْ يَأْذَنْ لَكُمْ وَإِنَّمَا أَذِنَ لِي فِيهَا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ وَقَدْ عَادَتْ حُرْمَتُهَا الْيَوْمَ كَحُرْمَتِهَا بِالأَمْسِ وَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ " . فَقِيلَ لأَبِي شُرَيْحٍ مَا قَالَ لَكَ عَمْرٌو قَالَ أَنَا أَعْلَمُ بِذَلِكَ مِنْكَ يَا أَبَا شُرَيْحٍ إِنَّ الْحَرَمَ لاَ يُعِيذُ عَاصِيًا وَلاَ فَارًّا بِدَمٍ وَلاَ فَارًّا بِخَرْبَةٍ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ইসলামের প্রথম শতাব্দীতেই রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষী ও ক্ষমতালোভীরা ইসলামের সাথে যে আচরণ করেছে এবং এর বিধানাবলীকে যেভাবে ভেঙ্গে মুচড়ে দিয়েছে, এটা ইসলামের ইতিহাসের এক বিরাট পীড়াদায়ক অধ্যায়। আবূ শুরাইহ্ আদাভী যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন-তিনি উমাইয়া শাসক আমর ইবনে সাঈদের সামনে হক কথা বলে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী শুনিয়ে দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। বুখারী ও মুসলিমের এ রেওয়ায়াতে এটা উল্লেখ করা হয়নি যে, আমর ইবনে সাঈদ যে কথা বলেছিল, এর প্রতিউত্তরে আবূ শুরাইহ্ রাযি. কিছু বলেছিলেন কিনা। কিন্তু মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন,
قَدْ كُنْتُ شَاهِدًا، وَكُنْتَ غَائِبًا وَقَدْ أَمَرَنَا أَنْ يُبَلِّغَ شَاهِدُنَا غَائِبَنَا، وَقَدْ بَلَّغْتُكَ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ কথা বলেছিলেন, তখন আমি উপস্থিত ছিলাম, আর তুমি উপস্থিত ছিলে না। আর তিনি আমাদেরকে এ নির্দেশও দিয়েছিলেন যে, আমাদের উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদেরকে এ কথাগুলো পৌঁছে দেয়। তাই আমি তোমাকে এ কথা পৌঁছে দিলাম।

আবূ শুরাইহ আদাভী রাযি.-এর এ উত্তরের মধ্যে এ বিষয়টিও লুকায়িত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় বুঝার অধিক হকদার তারাই, যাদের সামনে তিনি একথা বলেছিলেন এবং যারা ঐ সময় তাঁর এ কথা শুনেছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)