হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উদ্দেশ্য সিদ্ধি এবং প্রয়োজন পূরণেও দরূদ পাঠ সমধিক কার্যকরী
৩০৪. হযরত উবাই ইব্‌ন কা'আব (রা) থেকে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে আরয কলাম, আমি চাই যে, আপনার প্রতি সালাত (দরূদ) অধিক পরিমাণে প্রেরণ করি। তাহলে আমি কী পরিমাণে তা করতে পারি? (অর্থাৎ নিজের জন্য যে পরিমাণ দু'আ কার্যকর, তার অনুপাতে কত অংশ আপনার জন্যে দরূদের উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করবো?) তিনি বললেন: তুমি যতটুকু চাইবে ততটুকু। তখন আমি বললামঃ এক চতুর্থাংশ? জবাবে তিনি বললেন: তুমি যতটুকু চাইবে ততটুকু, তবে ততোধিক করলে তা তোমার জন্যে উত্তম হবে। আমি বললাম: তাহলে তিন ভাগের দু'ভাগ? তিনি বললেন: তুমি যতটুকু চাইবে ততটুকু, তবে ততোধিক হলে তা তোমার জন্যে উত্তম। তখন আমি বললাম: তা হলে আমার গোটা দু'আর সময়টাই সালাতের জন্যে নির্ধারিত করে নিলাম। তখন তিনি বললেন: তাহলে তোমার সকল প্রয়োজন আল্লাহর পক্ষ হতে পূরণ করা হবে (অর্থাৎ তোমার গায়েবী তাবৎ ইহলৌকিক পরলৌকিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারসমূহ আল্লাহর গায়েবী ভান্ডার থেকে পূরণ করে দেওয়া হবে এবং তোমার সকল গুনাহ মার্জনা করে দেওয়া হবে।
- (জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أُكْثِرُ الصَّلاَةَ عَلَيْكَ فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلاَتِي؟ فَقَالَ: مَا شِئْتَ. قَالَ: قُلْتُ: الرُّبُعَ، قَالَ: مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ، قُلْتُ: النِّصْفَ، قَالَ: مَا شِئْتَ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ، قَالَ: قُلْتُ: فَالثُّلُثَيْنِ، قَالَ: مَا شِئْتَ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ، قُلْتُ: أَجْعَلُ لَكَ صَلاَتِي كُلَّهَا قَالَ: إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ، وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ. (رواه الترمذى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা মোচ খুব ছোট কর এবং দাড়ি ছেড়ে দাও। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «انْهَكُوا الشَّوَارِبَ، وَأَعْفُوا اللِّحَى» (رواه البخارى ومسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৪
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগীর সেবা করা, সান্ত্বনা দেওয়া ও সমবেদনা প্রকাশ করা
৩০৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: এক ইয়াহুদী যুবক নবী কারীম ﷺ এর খিদমত করত। একবার সে অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী কারীম ﷺ তাকে দেখতে যান এবং তার শিয়রে বসে বললেন: তুমি মুসলমান হয়ে যাও। সে তার পিতার দিকে তাকাচ্ছিল। উল্লেখ্য, তার পিতাও তখন তার কাছে ছিল। সে (তার পিতা) বলল, তুমি আবুল কাসিম-এর কথা মেনে নাও। সুতরাং সে মুসলমান হয়ে গেল। নবী কারীম ﷺ তার নিকট থেকে বের হয়ে বললেন: ঐ আল্লাহরই প্রশংসা যিনি তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিলেন। (বুখারী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : كَانَ غُلاَمٌ يَهُودِيٌّ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَمَرِضَ ، فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ ، فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهِ ، فَقَالَ لَهُ : « أَسْلِمْ » ، فَنَظَرَ إِلَى أَبِيهِ وَهُوَ عِنْدَهُ فَقَالَ لَهُ : أَطِعْ أَبَا القَاسِمِ ، فَأَسْلَمَ ، فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ : « الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْقَذَهُ مِنَ النَّارِ » (رواه البخارى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৫
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগীর উপর ফুঁক দেওয়া এবং তার আরোগ্য লাভের জন্য দু'আ করা
৩০৫. হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর ডান হাত তার দেহে বুলাতেন এবং أَذْهِبِ الْبَاسَ، رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً ‌لَا ‌يُغَادِرُ ‌سَقَمًا
হে মানুষের প্রতিপালক! এই রোগ নিরাময় কর এবং তাকে সুস্থ কর। কেননা তুমিই রোগ নিরাময়কারী। তোমার আরোগ্য ব্যতীত এমন কোন আরোগ্য নেই যা কোন রোগ অবশিষ্ট রাখে না। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، إِذَا اشْتَكَى مِنَّا إِنْسَانٌ ، مَسَحَهُ بِيَمِينِهِ ، ثُمَّ قَالَ : « أَذْهِبِ الْبَاسَ ، رَبَّ النَّاسِ ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي ، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا » (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ শরীফ দু'আ কবুলিয়তের ওসীলা স্বরূপ
৩০৫. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু'আ আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানেই আটকে থাকে, যতক্ষণ না তুমি তোমার নবীর প্রতি দরূদ পাঠ করবে, তা একটুও উপরে উঠতে পারে না। - (জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رَضِي الله عَنهُ قَالَ: إِنَّ الدُّعَاءَ مَوْقُوفٌ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ لاَ يَصْعَدُ مِنْهُ شَيْءٌ، حَتَّى تُصَلِّيَ عَلَى نَبِيِّكَ. (رواه الترمذى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৫. আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দাড়ির প্রস্থ থেকেও এবং দৈর্ঘ্য থেকেও কিছুটা কেটে নিতেন। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْخُذُ مِنْ لِحْيَتِهِ مِنْ عَرْضِهَا وَطُولِهَا. (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৬
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগীর উপর ফুঁক দেওয়া এবং তার আরোগ্য লাভের জন্য দু'আ করা
৩০৬. হযরত উসমান ইবনে আবুল আ'স (রা.) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এমন রোগের কথা জানান যা তিনি নিজ দেহে অনুভব করছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বললেনঃ তোমার দেহের বেদনাযুক্ত স্থানে নিজ হাত রাখ এবং তিনবার বিসমিল্লাহ পাঠ কর, আর সাতবার হল: أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا ‌أَجِدُ ‌وَأُحَاذِرُ আমি যা অনুভব করছি এবং আশংকা করছি তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর মাহাত্ম্য ও কুদরতের পানাহ চাচ্ছি।" তিনি বলেন, আমি কার্যত তাই করলাম। ফলে আমার শরীরের কষ্ট আল্লাহ্ দূর করে দিলেন। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ ، أَنَّهُ شَكَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعًا يَجِدُهُ فِي جَسَدِهِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « ضَعْ يَدَكَ عَلَى الَّذِي يَأْلَمُ مِنْ جَسَدِكَ ، وَقُلْ بِاسْمِ اللهِ ثَلَاثًا ، وَقُلْ سَبْعَ مَرَّاتٍ أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ قَالَ فَفَعَلْتُ فَاذْهَبَ اللهُ مَا كَانَ بِىْ » (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার যে কোন স্থান থেকে প্রেরিত দরূদ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট পৌছেনো হয়
৩০৬. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজে রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছি: তোমরা নিজেদের ঘরসমূহকে কবর বানিয়ে নিও না। আমার কবরকে মেলা বানিয়ে ফেলিও না। তোমরা আমার প্রতি সালাত প্রেরণ করতে থাকবে, কেননা তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের সালাত আমার নিকট পৌছবেই। (সুনান নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا، وَلَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا، وَصَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ» (رواه النسائى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৬. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার চুল আছে সে যেন এর সম্মান ও কদর করে। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ كَانَ لَهُ شَعْرٌ فَلْيُكْرِمْهُ» (رواه ابوداؤد)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার যে কোন স্থান থেকে প্রেরিত দরূদ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট পৌছেনো হয়
৩০৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহর এমন কিছু ফিরিশতা রয়েছেন, যারা অহরহ পর্যটনরত। তাঁরা আমার উম্মতীদের সালাত ও সালাম আমার নিকট পৌঁছাতে থাকেন। - (সুনানে নাসায়ী ও মুসনাদে দারেমী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ فِي الْأَرْضِ، يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ» (رواه النسائى والدارمى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৭. নাফে' সূত্রে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি- তিনি কাযা করতে নিষেধ করতেন। নাফে'কে জিজ্ঞাসা করা হল, কাযা কি? তিনি বললেন, কোন বাচ্চার মাথার একাংশের চুল মুড়িয়ে ফেলা, আর একাংশ ছেড়ে দেওয়া। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: «سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنِ الْقَزَعِ» قِيْلَ لِنَافِعٍ مَا الْقَزَعُ؟ قَالَ: «يُحْلَقُ بَعْضُ رَأْسِ الصَّبِيِّ وَيُتْرَكُ بَعْضٌ» رواه البخارى ومسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৭
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগীর উপর ফুঁক দেওয়া এবং তার আরোগ্য লাভের জন্য দু'আ করা
৩০৭. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ হাসান ও হুসাইন (রা.) এর জন্য আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন এবং বলতেন-

‌‌«أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ ‌مِنْ ‌كُلِّ ‌شَيْطَانٍ ‌وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لامَّةٍ» وَيَقُولُ إِنَّ أَبَا كُمَا كَانَ يُعَوِّذُ بِهَا اسْمَاعِيلَ وَاسْحَقَ

আমি আল্লাহর পূর্ণ বাক্যসমূহের দ্বারা পানাহ চাচ্ছি প্রত্যেক শয়তান থেকে, প্রত্যেক বিষধর কীট থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর চোখ থেকে। তিনি আরো বলতেন, তোমাদের উর্দ্ধতন পিতা (ইব্রাহীম আ.) এই শব্দমালার দ্বারা তাঁর দুই সন্তান যথাক্রমে হয়রত ইসমাঈল ও ইসহাক (আ.) এর জন্য পানাহ চাইতেন। (বুখারী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يُعَوِّذُ الحَسَنَ وَالحُسَيْنَ " أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ وَيَقُولُ إِنَّ أَبَاكُمَا كَانَ يُعَوِّذُ بِهَا إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ " (رواه البخارى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৮
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগীর উপর ফুঁক দেওয়া এবং তার আরোগ্য লাভের জন্য দু'আ করা
৩০৮. হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম ﷺ পীড়িত হলে মু'আব্বিযাত (সূরা নাস ও ফালাক) দ্বারা নিজ দেহের উপর ফুঁক দিতেন এবং নিজ হাত শরীরে বুলাতেন। যখন তিনি ঐ রোগে আক্রান্ত হন যাতে তাঁর ইন্তিকাল হয়, তখন আমি মু'আব্বিযাত পাঠ করে তাঁর শরীর ফুঁক দিতাম, যে মু'আব্বিযাত পাঠ করে তিনি নিজে ফুঁক দিতেন। তবে আমি তাঁর পবিত্র হাত দ্বারাই তাঁর শরীর মুছে দিতাম। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اشْتَكَى نَفَثَ عَلَى نَفْسِهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ ، وَمَسَحَ عَنْهُ بِيَدِهِ ، فَلَمَّا اشْتَكَى وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ ، كُنْتُ أَنْفِثُ عَلَيْهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ الَّتِي كَانَ يَنْفِثُ ، وَأَمْسَحُ بِيَدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ » (رواه البخارى ومسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার যে কোন স্থান থেকে প্রেরিত দরূদ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট পৌছেনো হয়
৩০৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখনই কেউ আমার প্রতি সালাত প্রেরণ করে, তখনই আল্লাহ আমার আত্মাকে আমার দেহে ফিরিয়ে দেবেন-যাতে করে আমি তার সালামের জবাব দিতে পারি। - (সুনানে আবু দাউদ, বায়হাকী প্রণীত দাওয়াতুল কবীর)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اللَّهُ عَلَيَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ» (رواه ابو دؤد والبيهقى فى الدعوات الكبير)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের মেহেদী ব্যবহারের নির্দেশ
৩০৮. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, হিন্দা বিনতে উতবা বললেন, ইয়া নবীয়াল্লাহ! আমাকে বায়‘আত করে নিন। তিনি উত্তর দিলেন, আমি তোমাকে সে পর্যন্ত বায়‘আত করব না, যে পর্যন্ত তুমি (মেহেদী লাগিয়ে) তোমার হাতের অবস্থা পরিবর্তন না করবে। তোমার হাতটি তো (এখন) কোন হিংস্রপ্রাণীর হাত মনে হয়। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ هِنْدَ بِنْتَ عُتْبَةَ، قَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، بَايِعْنِي، قَالَ: «لَا أُبَايِعُكِ حَتَّى تُغَيِّرِي كَفَّيْكِ، كَأَنَّهُمَا كَفَّا سَبُعٍ» (رواه ابوداؤد)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৯
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত্যুর লক্ষণ স্পষ্ট হলে করণীয় কী?
৩০৯. হযরত আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা মুমূর্ষু ব্যক্তিদেরকে একথা বলার উপদেশ দেবে যে لا اله الا الله "আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই" (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي سَعِيْدٍ وأَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَا : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ » (رواه مسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দুনিয়ার যে কোন স্থান থেকে প্রেরিত দরূদ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট পৌছেনো হয়
৩০৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কবরে হাযির হয়ে সালাম সালাত আরয করে, আমি তা নিজ কানে সরাসরি শুনতে পাবো, আর যে ব্যক্তি দূর থেকে আমার প্রতি সালাত-সালাম প্রেরণ করবে, তা আমার নিকট পৌঁছানো হবে। - (রায়হাকী-শু'আবুল ঈমান)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ صَلَّى عَلَيَّ عِنْدَ قَبْرِي سَمِعْتُهُ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيَّ نَائِيًا أَبْلَغْتُهُ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩০৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সতর ও পর্দার ব্যাপারে নির্দেশাবলী

মানুষের সামাজিক জীবনে সতর ও পর্দার বিষয়টিরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আর এটা ঐসব বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোর মধ্যে মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বিশ্ব স্রষ্টা মহান আল্লাহ্ তা'আলা অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে লজ্জা-শরমের ঐ উপাদান রাখেননি, যা মানুষের স্বভাবে রাখা হয়েছে। এ জন্য অন্যান্য প্রাণী আপন দেহের কোন অঙ্গকে এবং নিজের কোন কাজকে গোপন রাখার চেষ্টা করে না, যা মানুষ করে থাকে এবং সে নিজের স্বভাবের কারণে এটা করতে বাধ্য।

বস্তুত সতর ও পর্দা নীতিগত পর্যায়ে মনুষ্য স্বভাবের চাহিদা। এজন্যই সকল জাতি গোষ্ঠী নিজেদের আকীদা, দৃষ্টিভঙ্গি, প্রথা ও অভ্যাসের বহু মতবিরোধ সত্ত্বেও মৌলিকভাবে এ বিষয়ে একমত যে, মানুষ অন্যান্য পশুর ন্যায় নগ্ন-উলঙ্গ থাকতে পারে না।

অনুরূপভাবে একথাও সকল মানবগোষ্ঠীর নিকট স্বীকৃত; বরং প্রতিষ্ঠিত যে, এ ব্যাপারে নারীদের স্তর পুরুষদের চেয়েও উর্ধ্বে। এ বিষয়টি যেন এমন যে, যেভাবে সতর ও পর্দার ব্যাপারে সাধারণ প্রাণীদের তুলনায় মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তেমনিভাবে এ ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বৈশিষ্ট্য ও অগ্রাধিকার রয়েছে। কেননা, নারীদের দৈহিক গঠন এমন যে, এতে যৌন আকর্ষণ- যা অনেক ফিতনার হেতু হতে পারে, এটা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশী। এ জন্যই তাদের সৃষ্টিকর্তা তাদের মধ্যে লজ্জার অনুভূতিও পুরুষদের চেয়ে বেশী রেখেছেন। বস্তুতঃ আদম-সন্তানের জন্য সতর ও পর্দা মৌলিকভাবে তাদের প্রকৃতিগত চাহিদা এবং সারা মনুষ্য জগত কর্তৃক স্বীকৃত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। তারপর যেভাবে মানব জীবনের সকল শাখার দিকনির্দেশনার পূর্ণতা আল্লাহ তা'আলার শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর মাধ্যমে এসেছে, তেমনিভাবে এ শাখায়ও যে দিকনির্দেশনা তিনি দিয়েছেন, এটা নিঃসন্দেহে এ শাখার পরিপূর্ণ ও চূড়ান্ত রূপ।

এ অধ্যায়ের নীতিগত ও মৌলিক নির্দেশাবলী তো তাঁর আনীত হেদায়াত গ্রন্থ কুরআন মজীদেই দেওয়া হয়েছে। সূরা আ'রাফের শুরুতেই যেখানে হযরত আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি ও মনুষ্য পৃথিবীর সূচনার উল্লেখ রয়েছে, সেখানে বলা হয়েছেঃ "আদম সন্তানদেরকে সতর ঢেকে রাখার নির্দেশ ঐ প্রাথমিক যুগেই দেওয়া হয়েছিল এবং সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল যে, এ ব্যাপারে তোমরা শয়তানের বিভ্রান্তি প্রয়াসের শিকার হয়ে যেয়ো না। সে তোমাদেরকে মানবতার উঁচু স্তর থেকে ফেলে দিয়ে পশুদের ন্যায় উলঙ্গ ও বেপর্দা করার চেষ্টা করবে।"
এরপর সূরা নূর ও সূরা আহযাবে বিশেষভাবে মহিলাদের পর্দার ব্যাপারে বিধি-বিধান দেওয়া হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে, মহিলাদের প্রকৃত স্থান তাদের নিজেদের ঘর, তাই বিনা প্রয়োজনে তারা ভ্রমণ ও বেড়ানো অথবা প্রদর্শনীর জন্য ঘরের বাইরে যাবে না। আর যদি প্রয়োজনে বের হতে হয়, (যার অনুমতি রয়েছে।) তাহলে পূর্ণ পর্দার পোশাক গায়ে দিয়ে বের হবে। আর ঘরের ভিতরেও স্বামী ছাড়া ঘরের অন্যান্য লোক অথবা যাতায়াতকারী আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ লোকদের সামনে পোশাক ও পর্দার ব্যাপারে এসব নির্ধারিত সীমারেখা পালন করে চলবে। পুরুষদেরও উচিত যে, নিজের আত্মীয়-স্বজন অথবা সংশ্লিষ্ট লোকদের ঘরে অবগতি ও অনুমতি ছাড়া হঠাৎ প্রবেশ করবে না। তাছাড়া পুরুষরা নারীদেরকে এবং নারীরা পুরুষদেরকে দেখার ও তাদের প্রতি তাকাবার চেষ্টা করবে না; বরং সামনে পড়ে গেলে দৃষ্টি নীচু করে নিবে।

আল্লাহ্ তা'আলা যাদেরকে সুস্থ জ্ঞান দিয়েছেন এবং তাদের স্বভাব বিকৃত হয়ে যায়নি, তারা যদি চিন্তা করে, তাহলে তাদের সন্দেহ থাকবে না যে, এসব বিধান মানুষের লজ্জানুভূতির চাহিদাসমূহকেও পূর্ণতা দান করে এবং এগুলো দ্বারা শয়তানী ও কাম সম্পর্কীয় ফিতনার দরজাও বন্ধ হয়ে যায়- যা জীবনকে কলুষিত ও চরিত্রকে বিনষ্ট করে দেয় এবং কখনো কখনো বিরাট লজ্জাজনক ও ঘৃণ্য পরিণতির কারণ হয়ে যায়।

এ ভূমিকার পর এরই আলোকে এ অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিম্ন বর্ণিত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।

জরুরী সতর
৩০৯. হযরত জারহাদ ইবনে খুওয়াইলিদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: তুমি কি জান না যে, রানও সতরের অন্তর্ভুক্ত। (অর্থাৎ, এটা উদাম করা জায়েয নেই।) তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَرْهَدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْفَخِذَ عَوْرَةٌ؟» (رواه الترمذى وابوداؤد)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩১০
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত্যুর লক্ষণ স্পষ্ট হলে করণীয় কী?
৩১০. হযরত মু'আয ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যার (জীবনের) শেষ বাক্য হবে لا اله الا الله সে জান্নাতী। (আবূ দাউদ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ » (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩১০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালামের বিশেষ বিশেষ কালিমাসমূহ

উপরে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূল ﷺ-এর প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণের আদেশ আমাদের তথা বান্দাদের প্রতি দিয়েছেন এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ নানা ভঙ্গিতে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তার ফযীলত ও বরকতের কথা বর্ণনা করেছেন যা ইতিমধ্যেই সশ্রদ্ধ পাঠকবর্গ পাঠ করেছেন। তারপর সাহাবায়ে কিরামের জিজ্ঞাসার জবাবেও রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাত ও সালামের বিশেষ বিশেষ কালিমা শিক্ষা দিয়েছেন। নিজের অবস্থান ও সামর্থ্য অনুসারে হাদীসের কিতাবপত্র তন্ন তন্ন করে ঘাটাঘাটি করে নিম্নলিখিত এ সংক্রান্ত হাদীস সংগ্রহ করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
وَاللَّهُ وَلِيُّ التَّوْفِيقِ
৩১০. মশহুর তাবেয়ী আবদুর রহমান ইব্‌ন আবূ লায়লা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার হযরত কা'আব ইব্‌ন উজরা (রা) (যিনি বায়'আতে রিদওয়ানে অংশ গ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন) এর সাথে সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: আমি কি তোমাকে একটি মূল্যবান উপহার দেবো যা আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র মুখে শুনেছি? (অর্থাৎ তোমাকে একটি হাদীস শুনাবো?) আমি বললাম: জ্বী হাঁ, আপনি আমাকে সে উপহারটি দান করুন! তিনি বললেন: আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে প্রশ্নচ্ছলে বললাম: আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তো আপনাকে সালাম দেবার পদ্ধতি বলে দিয়েছেন (অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আপনি আমাদেরকে বলে দিয়েছেন যে, আমরা যেন তাশাহহুদে
السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ
বলে আপনার প্রতি সালাম প্রেরণ করি, এখন আমাদেরকে একথাও বলে দিন যে, আমরা আপনার প্রতি সালাত কিভাবে প্রেরণ করবো? জবাবে বললেন: তোমরা বলবে:
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ
“হে আল্লাহ! আপনার খাস রহমত বর্ষণ করুন মুহম্মদ ﷺ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি যেমনটি খাস রহমতে ধন্য করেছেন ইবরাহীম এবং তাঁর পরিবার পরিজনকে। নিঃসন্দেহে আপনি স্বমহিমায় প্রশংসিত ও স্বগুণে মর্যাদাবান।
হে আল্লাহ! আপনার খাস বরকত নাযিল করুন মুহম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি, যেমনটি খাস বরকতে ধন্য করেছিলেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনকে। নিঃসন্দেহে আপনি স্বমহিমায় প্রশংসিত এবং স্বগুণে মর্যাদাবান।” - (সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي لَيْلَى، قَالَ: لَقِيَنِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ، فَقَالَ: أَلاَ أُهْدِي لَكَ هَدِيَّةً سَمِعْتُهَا مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقُلْتُ: بَلَى، فَأَهْدِهَا لِي، فَقَالَ: سَأَلْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ الصَّلاَةُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ البَيْتِ، فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ عَلَّمَنَا كَيْفَ نُسَلِّمُ عَلَيْكُمْ؟ قَالَ: " قُولُوا: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ " (رواه البخارى ومسلم)