হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালাম: হাদীসে দরূদ ও সালামের প্রতি উৎসাহ দান এবং তার ফাযায়েল ও বরকতসমূহ
২৯৭. প্রায় সমার্থক একখানি হাদীস তাবারানী তাঁর নিজস্ব সনদে হযরত উমর (রা) থেকেও বর্ণনা করেন। তাতেও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর একটি অসাধারণ সিজদাহর উল্লেখ রয়েছে। তার শেষ অংশে আছে: সিজদা থেকে উঠে তিনি আমাকে বললেন:
إِنَّ جِبْرَئِيلَ أَتَانِي فَقَالَ مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ وَاحِدَةً صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ عَشْرًا وَرَفَعَهُ بِهَا عَشْرَ دَرَجَاتٍ
"জিবরাঈল আমার কাছে এসে এ পয়গাম পৌঁছালেন যে, আপনার যে উম্মতই আপনার প্রতি একবার সালাত প্রেরণ করবে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দশবার সালাত বর্ষণ করবেন এবং এর দ্বারা তার মর্যাদা দশটি স্তর উন্নীত করবেন।"
এসব হাদীসের উদ্দেশ্য ও বক্তব্য হচ্ছে উম্মতীদেরকে একথা জানান যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সালাত ও সালামের 'তোহফা' এবং তাঁর অফুরন্ত রহমত লাভের একটি অতি কার্যকরী এবং সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সালাত ও সালাম প্রেরণ। আল্লাহ তা'আলা এক একবারের সালাত ও সালামের বিনিময়ে দশ দশবার সালাত ও সালাম বর্ষণ করেন এবং দশটি করে মর্যাদার স্তর উন্নীত করে দেন। আমলনামা থেকে দশটি গুনাহ মোচন করে দেন এবং দশটি করে নেকি লিখে দেন। উদাহরণ স্বরূপ কোন ব্যক্তি যদি প্রত্যহ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি কেবল একশ' বার করে দরূদ শরীফ পাঠ করে, তাহলে হাদীসসমূহ প্রদত্ত সুসংবাদ অনুসারে (যা এক দু'জন নয়, অনেক অনেক সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত এবং সিহাহ, সুনান ও মুসনদ জাতীয় প্রায় সঙ্কলনসমূহে বিশ্বস্ত রাবীগণের মাধ্যমে বর্ণিত ও উদ্ধৃত) তার প্রতি আল্লাহ তা'আলা এক হাজার সালাত ও রহমত বর্ষণ করেন। তার মর্যাদার এক হাজার স্তর উন্নীত হয়। তার আমলনামা থেকে এক হাজার গুনাহ মোচন করা হয় এবং তার স্থলে এক হাজার নেকি লিখিত হয়। আল্লাহু আকবর! কতই না সস্তা অথচ উপকারী সওদা! কতই না ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাভাগ্য ঐ সব ব্যক্তি, যারা ঐ সৌভাগ্য এবং উপার্জন থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত রাখলো। আল্লাহ তা'আলা একীন নসীব করুন এবং আমলের তাওফীক দান করুন।
إِنَّ جِبْرَئِيلَ أَتَانِي فَقَالَ مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ وَاحِدَةً صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ عَشْرًا وَرَفَعَهُ بِهَا عَشْرَ دَرَجَاتٍ
"জিবরাঈল আমার কাছে এসে এ পয়গাম পৌঁছালেন যে, আপনার যে উম্মতই আপনার প্রতি একবার সালাত প্রেরণ করবে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দশবার সালাত বর্ষণ করবেন এবং এর দ্বারা তার মর্যাদা দশটি স্তর উন্নীত করবেন।"
এসব হাদীসের উদ্দেশ্য ও বক্তব্য হচ্ছে উম্মতীদেরকে একথা জানান যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সালাত ও সালামের 'তোহফা' এবং তাঁর অফুরন্ত রহমত লাভের একটি অতি কার্যকরী এবং সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সালাত ও সালাম প্রেরণ। আল্লাহ তা'আলা এক একবারের সালাত ও সালামের বিনিময়ে দশ দশবার সালাত ও সালাম বর্ষণ করেন এবং দশটি করে মর্যাদার স্তর উন্নীত করে দেন। আমলনামা থেকে দশটি গুনাহ মোচন করে দেন এবং দশটি করে নেকি লিখে দেন। উদাহরণ স্বরূপ কোন ব্যক্তি যদি প্রত্যহ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি কেবল একশ' বার করে দরূদ শরীফ পাঠ করে, তাহলে হাদীসসমূহ প্রদত্ত সুসংবাদ অনুসারে (যা এক দু'জন নয়, অনেক অনেক সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত এবং সিহাহ, সুনান ও মুসনদ জাতীয় প্রায় সঙ্কলনসমূহে বিশ্বস্ত রাবীগণের মাধ্যমে বর্ণিত ও উদ্ধৃত) তার প্রতি আল্লাহ তা'আলা এক হাজার সালাত ও রহমত বর্ষণ করেন। তার মর্যাদার এক হাজার স্তর উন্নীত হয়। তার আমলনামা থেকে এক হাজার গুনাহ মোচন করা হয় এবং তার স্থলে এক হাজার নেকি লিখিত হয়। আল্লাহু আকবর! কতই না সস্তা অথচ উপকারী সওদা! কতই না ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাভাগ্য ঐ সব ব্যক্তি, যারা ঐ সৌভাগ্য এবং উপার্জন থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত রাখলো। আল্লাহ তা'আলা একীন নসীব করুন এবং আমলের তাওফীক দান করুন।
کتاب الاذکار والدعوات
إِنَّ جِبْرَئِيلَ أَتَانِي فَقَالَ مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا وَرَفَعَهُ بِهَا عَشْرَ دَرَجَات. (معجم اوسط للطبراني وسنن سعيد بن منصور)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কাপড় পরিধানকালে হুযুর (ﷺ)-এর দু‘আ
২৯৭. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন নতুন কাপড় পরিধান করতেন, তখন এর নাম নিতেন, পাগড়ী, কুর্তা অথবা চাদর। তারপর এই দু‘আ পড়তেন-
اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا كَسَوْتَنِيهِ ، أَسْأَلُكَ خَيْرَهُ وَخَيْرَ مَا صُنِعَ لَهُ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ
হে আল্লাহ্! তুমি যে আমাকে (এই পাগড়ী, কুর্তা অথবা চাদর) পরিধান করতে দিয়েছ, এর জন্য আমি তোমার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এর মঙ্গল ও কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং যে উদ্দেশ্যে এটা তৈরী করা হয়েছে, এর কল্যাণও কামনা করছি। আর আমি এর অনিষ্ট থেকে এবং এর উদ্দেশ্যের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।-তিরমিযী
اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا كَسَوْتَنِيهِ ، أَسْأَلُكَ خَيْرَهُ وَخَيْرَ مَا صُنِعَ لَهُ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ
হে আল্লাহ্! তুমি যে আমাকে (এই পাগড়ী, কুর্তা অথবা চাদর) পরিধান করতে দিয়েছ, এর জন্য আমি তোমার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এর মঙ্গল ও কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং যে উদ্দেশ্যে এটা তৈরী করা হয়েছে, এর কল্যাণও কামনা করছি। আর আমি এর অনিষ্ট থেকে এবং এর উদ্দেশ্যের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।-তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ، عِمَامَةً، أَوْ قَمِيصًا، أَوْ رِدَاءً، ثُمَّ يَقُولُ: اللَّهُمَّ لَكَ الحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيهِ، أَسْأَلُكَ خَيْرَهُ وَخَيْرَ مَا صُنِعَ لَهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৮
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগ ব্যাধি মু'মিনের জন্য রহমত এবং পাপের কাফ্ফারা (ক্ষতিপূরণ)
২৯৮. হযরত আমির আর-রামী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ রোগ ব্যাধি সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, মু'মিন ব্যক্তির যখন রোগ হয় তার পর আল্লাহ্ তাকে আরোগ্য দান করে এতে তার অতীত পাপের ক্ষতিপূরণ হয় এবং ভবিষতের জন্য শিক্ষণীয় ও সতর্কবাণী হয়ে থাকে। কিন্তু মুনাফিক আখিরাত থেকে গাফিল যখন রোগাক্রান্ত হয় এরপর তাকে আরোগ্য দান করা হয় সে এ থেকে উপকৃত হয় না। তার দৃষ্টান্ত ঐ উটের ন্যায় যাকে তার মালিক বেঁধেছিল তার পর ছেড়ে ছিল। অথচ সে বুঝল না যে, কেন তাকে বেঁধেছিল এবং কেন তাকে ছেড়ে দিল। (আবু দাউদ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَامِرٍ الرَّامِ قَالَ : ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَسْقَامَ ، فَقَالَ : « إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَصَابَهُ السَّقَمُ ، ثُمَّ أَعْفَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْهُ ، كَانَ كَفَّارَةً لِمَا مَضَى مِنْ ذُنُوبِهِ ، وَمَوْعِظَةً لَهُ فِيمَا يَسْتَقْبِلُ ، وَإِنَّ الْمُنَافِقَ إِذَا مَرِضَ ثُمَّ أُعْفِيَ كَانَ كَالْبَعِيرِ ، عَقَلَهُ أَهْلُهُ ، ثُمَّ أَرْسَلُوهُ فَلَمْ يَدْرِ لِمَ عَقَلُوهُ ، وَلَمْ يَدْرِ لِمَ أَرْسَلُوهُ » (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উল্লেখ কালে দরূদের ব্যাপারে গাফেল ব্যক্তিদের বঞ্চনা
২৯৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, অপদস্থ হোক সে ব্যক্তি, যার সম্মুখে আমার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হল অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করলো না। অপদস্থ হোক সে ব্যক্তি যার জন্যে রমযান (এর মত রহমত ও মাগফিরাতের) মাস এলো এবং তার জন্যে মাগফিরাতের ফয়সালা না হতেই তা চলেও গেল। অপদস্থ হোক সে ব্যক্তি, যার পিতামাতা উভয়কে অথবা তাদের যে কোন একজনকে তাদের বার্ধক্যের অবস্থায় পেলো অথচ সে তাদের খিদমত ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করতে পারলো না।
(জামে' তিরমিযী)।
(জামে' তিরমিযী)।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ، وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ ثُمَّ انْسَلَخَ قَبْلَ أَنْ يُغْفَرَ لَهُ، وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ أَدْرَكَ عِنْدَهُ أَبَوَاهُ الكِبَرَ أَوْ أَحَدُهُمَا فَلَمْ يُدْخِلاَهُ الجَنَّةَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুতা পরার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা
২৯৮. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এক যুদ্ধে রওয়ানা হওয়ার সময় বলতে শুনেছিঃ তোমরা বেশী করে জুতা নিয়ে নাও। কেননা, মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত জুতা পরে থাকে, সে যেন আরোহীর ন্যায় থাকে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةٍ غَزَوْنَاهَا: «اسْتَكْثِرُوا مِنَ النِّعَالِ، فَإِنَّ الرَّجُلَ لَا يَزَالُ رَاكِبًا مَا انْتَعَلَ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৯
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগাক্রান্ত থাকাকালে সুস্থ থাকাকালীন আমলের সাওয়াব লাভ
২৯৯. হযরত আবূ মূসা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যখন বান্দা রোগাক্রান্ত হয় অথবা সফর করে যার ফলে নিয়মিত আমল করতে পারে না তার জন্য তাই লেখা হয় যা সে সুস্থ থাকা অবস্থায় অথবা বাড়ী থাকা অবস্থায় আমল করত। (বুখারী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِىْ مُوسَى قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِذَا مَرِضَ العَبْدُ ، أَوْ سَافَرَ ، كُتِبَ لَهُ بِمِثْلِ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقِيمًا صَحِيحًا » (رواه البخارى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উল্লেখ কালে দরূদের ব্যাপারে গাফেল ব্যক্তিদের বঞ্চনা
২৯৯. হযরত কা'আব ইব্ন উজরা আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে নিকটে ভিড়ে বসার জন্যে বললেন, নিকটে এসো। আমরা তাঁর নিকটে ভিড়ে বসলাম। তিনি (তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে) মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে কদম রেখেই বললেন: আমীন। তারপর দ্বিতীয় সিঁড়িতে কদম রেখেও বললেন আমীন। তারপর তৃতীয় সিঁড়িতে কদম রাখলেন এবং বললেন, আমীন।
তারপর যখন ভাষণ অন্তে মিম্বর থেকে নেমে আসলেন তখন আমরা আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আজ আমরা এমন কিছু শুনলাম যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। (অর্থাৎ মিম্বরের প্রত্যেক সিঁড়িতে কদম রাখার সময় আমীন বলাটা)।
জবাবে তিনি বললেন, আমি যখন মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে কদম রাখলাম, তখন জিবরাইল আমীন এসে বললেন:
بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ
-"ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক, আল্লাহর রহমত থেকে দূর হোক, যে রমযান মাস পেলো, অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না।" তখন আমিও বললাম: আমীন! (অর্থাৎ তাই হোক) তারপর যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে কদম রাখলাম, তখন তিনি পুনরায়
بَعُدَ مَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ
-"ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি, যার সম্মুখে আপনার প্রসঙ্গ উঠলো, সে আপনার প্রতি সালাত ও সালাম প্রেরণ করলো না। আমিও বললাম: আমীন! (তাই হোক!) অতঃপর আমি যখন তৃতীয় সিঁড়িতে কদম রাখলাম তখন জিবরাইল বলে উঠলেন:
بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ الْكِبَرُ أَوْ أَحَدَهُمَا فَلَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ
-ধ্বংস হোক সে হতভাগা ব্যক্তি, যার সম্মুখে তার পিতামাতা উভয়েই বা তাদের কোন একজন বার্ধক্যে উপনীত হলো, অথচ সে তাদের খিদমত ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে বেহেশতে প্রবেশের উপযুক্ত হতে পারলো না। আমি বললাম: আমীন! (তাই হোক!)
- (মুস্তাদরাকে হাকিম)
তারপর যখন ভাষণ অন্তে মিম্বর থেকে নেমে আসলেন তখন আমরা আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আজ আমরা এমন কিছু শুনলাম যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। (অর্থাৎ মিম্বরের প্রত্যেক সিঁড়িতে কদম রাখার সময় আমীন বলাটা)।
জবাবে তিনি বললেন, আমি যখন মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে কদম রাখলাম, তখন জিবরাইল আমীন এসে বললেন:
بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ
-"ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক, আল্লাহর রহমত থেকে দূর হোক, যে রমযান মাস পেলো, অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না।" তখন আমিও বললাম: আমীন! (অর্থাৎ তাই হোক) তারপর যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে কদম রাখলাম, তখন তিনি পুনরায়
بَعُدَ مَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ
-"ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি, যার সম্মুখে আপনার প্রসঙ্গ উঠলো, সে আপনার প্রতি সালাত ও সালাম প্রেরণ করলো না। আমিও বললাম: আমীন! (তাই হোক!) অতঃপর আমি যখন তৃতীয় সিঁড়িতে কদম রাখলাম তখন জিবরাইল বলে উঠলেন:
بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ الْكِبَرُ أَوْ أَحَدَهُمَا فَلَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ
-ধ্বংস হোক সে হতভাগা ব্যক্তি, যার সম্মুখে তার পিতামাতা উভয়েই বা তাদের কোন একজন বার্ধক্যে উপনীত হলো, অথচ সে তাদের খিদমত ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে বেহেশতে প্রবেশের উপযুক্ত হতে পারলো না। আমি বললাম: আমীন! (তাই হোক!)
- (মুস্তাদরাকে হাকিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " احْضُرُوا فَحَضَرْنَا، فَلَمَّا ارْتَقَى الدَرَجَةَ قَالَ: " آمِينَ "، فَلَمَّا ارْتَقَى الدَّرَجَةَ الثَّانِيَةَ قَالَ: " آمِينَ "، فَلَمَّا ارْتَقَى الدَّرَجَةَ الثَّالِثَةَ قَالَ: " آمِينَ "، فَلَمَّا فَرَغَ نَزَلَ مِنَ الْمِنْبَرِ قَالَ: فَقُلْنَا له يَا رَسُولَ اللهِ سَمِعْنَا الْيَوْمَ مِنْكَ شَيْئًا مَا كُنَّا نَسْمَعُهُ فَقَالَ: " إِنَّ جِبْرِيلَ عَرْضَ لِي فَقَالَ: بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَقُلْتُ: آمِينَ فَلَمَّا رَقِيتُ الثَّانِيَةَ قَالَ: بَعُدَ مَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَقُلْتُ: آمِينَ، فَلَمَّا رَقِيتُ الثَّالِثَةَ قَالَ: بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ اَبَوَيْهِ الْكِبَرَ عِنْدَهُ أَوْ أَحَدُهُمَا، فلَمْ يُدْخِلِ الْجَنَّةَ فَقُلْتُ: آمِينَ " (رواه الحاكم فى المستدرك وقال صحيح الاسناد)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুতা পরার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা
২৯৯. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন জুতা পরে, তখন সে যেন প্রথমে ডান পায়ে পরে, আর যখন খোলে, তখন যেন প্রথম বাম পা থেকে খোলে। ডান পা যেন জুতা পরার সময় আগে থাকে, আর খোলার সময় শেষে থাকে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا انْتَعَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِاليَمِينِ، وَإِذَا نَزَعَ فَلْيَبْدَأْ بِالشِّمَالِ، لِيَكُنِ اليُمْنَى أَوَّلَهُمَا تُنْعَلُ وَآخِرَهُمَا تُنْزَعُ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আংটি ও মোহরের ব্যাপারে হুযুর (ﷺ)-এর রীতি ও দিকনির্দেশনা
৩০০. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) পারস্য সম্রাট কিসরা, রোম সম্রাট কায়সার ও আবিসিনিয়ার বাদশা নাজাশীর নামে (ইসলামের দাওয়াত সম্বলিত) পত্র লিখার ইচ্ছা করলেন। তাঁকে তখন বলা হল, এসব শাসক সীল মোহর ছাড়া কোন পত্র গ্রহণ করে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন একটি রূপার আংটি বানালেন- যাতে অংকিত ছিল محمد رسول الله -মুসলিম
[এ হাদীসেরই বুখারী শরীফের বর্ণনায় এ তথ্যও রয়েছে যে, মোহরে তিনটি লাইন ছিল। এক লাইনে محمد, অপর লাইনে رسول, আর তৃতীয় লাইনে الله লিখা ছিল।]
[এ হাদীসেরই বুখারী শরীফের বর্ণনায় এ তথ্যও রয়েছে যে, মোহরে তিনটি লাইন ছিল। এক লাইনে محمد, অপর লাইনে رسول, আর তৃতীয় লাইনে الله লিখা ছিল।]
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ إِلَى كِسْرَى، وَقَيْصَرَ، وَالنَّجَاشِيِّ، فَقِيلَ: إِنَّهُمْ لَا يَقْبَلُونَ كِتَابًا إِلَّا بِخَاتَمٍ، «فَصَاغَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا حَلْقَتُهُ فِضَّةً، نُقِشَ فِيهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ» (رواه مسلم)
(وفى رواية للبخارى كَانَ نَقْشُ الخَاتَمِ ثَلاَثَةَ أَسْطُرٍ مُحَمَّدٌ سَطْرٌ، وَرَسُولُ سَطْرٌ، وَاللَّهِ سَطْرٌ)
(وفى رواية للبخارى كَانَ نَقْشُ الخَاتَمِ ثَلاَثَةَ أَسْطُرٍ مُحَمَّدٌ سَطْرٌ، وَرَسُولُ سَطْرٌ، وَاللَّهِ سَطْرٌ)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উল্লেখ কালে দরূদের ব্যাপারে গাফেল ব্যক্তিদের বঞ্চনা
৩০০. হযরত আলী মুরতাযা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, জাত কৃপণ হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যার সম্মুখে আমার প্রসঙ্গ উল্লেখিত হলো অথচ সে (একটু ঠোঁট-রসনা নাড়িয়ে) আমার প্রতি দরূদও পড়ে না।
- (জামে' তিরমিযী)
- (জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَلِيِّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: البَخِيلُ الَّذِي مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০০
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগীর সেবা করা, সান্ত্বনা দেওয়া ও সমবেদনা প্রকাশ করা
রোগীর সেব করা, সান্ত্বনা দেওয়া এবং তার সেবাযত্ন করাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ সার্বোচ্চ সৎকাজ এবং গ্রহণযোগ্য ইবাদাত হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং বিভিন্নভাবে এ'সরের প্রতি অনুপ্রাণিতও করেছেন। তিনি স্বয়ং রোগীদের সেবা করতে যেতেন এবং তাদের সাথে এমন কথা বলতেন যাতে তাদের মনে প্রশান্তি আসত এবং দুশ্চিন্তা হালকা হয়ে যেত। আল্লাহর নাম ও কুরআন পাঠ করে তার উপর ফুঁক দিতেন এবং অন্যান্যদেরকে এ বিষয়ে শিক্ষা দিতেন।
রোগীর সেব করা, সান্ত্বনা দেওয়া এবং তার সেবাযত্ন করাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ সার্বোচ্চ সৎকাজ এবং গ্রহণযোগ্য ইবাদাত হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং বিভিন্নভাবে এ'সরের প্রতি অনুপ্রাণিতও করেছেন। তিনি স্বয়ং রোগীদের সেবা করতে যেতেন এবং তাদের সাথে এমন কথা বলতেন যাতে তাদের মনে প্রশান্তি আসত এবং দুশ্চিন্তা হালকা হয়ে যেত। আল্লাহর নাম ও কুরআন পাঠ করে তার উপর ফুঁক দিতেন এবং অন্যান্যদেরকে এ বিষয়ে শিক্ষা দিতেন।
৩০০. হযরত আবূ মূসা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা ক্ষুধার্তদের অন্ন দাও, রুগীদের সেবা কর এবং বন্দীদের মুক্তি দাও। (বুখারী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِىْ مُوسَى قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : اَطْعِمُو الْجَائِعَ وَعُوْدُو الْمَرِيْضَ وَكُفُّوْ الْعَانِىْ. (رواه البخارى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০১
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগীর সেবা করা, সান্ত্বনা দেওয়া ও সমবেদনা প্রকাশ করা
৩০১. হযরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কোন মুসলমান যখন তার কোন রোগী মুসলমান ভাইয়ের সেবা করতে যায়, প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত সে জান্নাতের বাগানের ফল চয়ন করতে থাকে। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا عَادَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ لَمْ يَزَلْ فِي خُرْفَةِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَرْجِعَ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানদের কোনো বৈঠকই আল্লাহর জিকির এবং নবী ﷺ–এর ওপর দরুদ পাঠ থেকে খালি হওয়া উচিত নয়
৩০১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যেখানে কিছুসংখ্যক লোক বসে এবং সে বৈঠকে তারা আল্লাহর স্মরণ অথবা তাদের নবীর প্রতি দরূদ পাঠ করে না (অর্থাৎ তাদের সে মজলিস যিকরুল্লাহ ও নবীর প্রতি দরূদ পাঠ থেকে সম্পূর্ণ শূন্য হয়) তাহলে (কিয়ামতে) তা তাদের জন্যে আক্ষেপ ও ক্ষতির কারণ হবে। আল্লাহ চাইলে এ জন্যে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন আবার তিনি চাইলে তাদের সে অপরাধ ক্ষমাও করতে পারেন। - (জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوا اللَّهَ فِيهِ، وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى نَبِيِّهِمْ، إِلَّا كَانَ عَلَيْهِمْ تِرَةً فَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُمْ» (رواه الترمذى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আংটি ও মোহরের ব্যাপারে হুযুর (ﷺ)-এর রীতি ও দিকনির্দেশনা
৩০১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তির হাতে একটি সোনার আংটি দেখলেন। তিনি তখন এটা তার হাত থেকে খুলে নিয়ে ছুঁড়ে মারলেন। তারপর বললেন, তোমাদের কারো অবস্থা এই যে, সে সখ করে দোযখের অঙ্গার নিজের হাতে পরে নেয়। (অর্থাৎ, পুরুষের জন্য সোনার আংটি যেন দোযখের আগুন, যা সখ করে নিজের হাতে পরে নেয়। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখান থেকে চলে গেলেন, তখন কেউ ঐ ব্যক্তিকে (যার হাত থেকে সোনার আংটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল।) বলল, এবার তোমার আংটি উঠিয়ে নাও এবং কোনভাবে নিজের কাজে লাগিয়ে নাও। (যেমন, বিক্রি করে দিতে পার, বাড়ীর মহিলাদেরকে ব্যবহারের জন্য দিয়ে দিতে পার।) ঐ ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এটা ফেলে দিয়েছেন, তখন আমি এটা আর কখনো উঠাব না। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ، وَقَالَ: «يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ»، فَقِيلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خُذْ خَاتِمَكَ انْتَفِعْ بِهِ، قَالَ: لَا وَاللهِ، لَا آخُذُهُ أَبَدًا وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০২
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগীর সেবা করা, সান্ত্বনা দেওয়া ও সমবেদনা প্রকাশ করা
৩০২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন রোগীকে সেবা করতে যায়, আকাশ থেকে একজন আহবায়ক তাকে লক্ষ্য করে বলেন, তুমি মুবারক হও এবং মুবারক হোক তোমার এই পদচারণা। তুমি জান্নাতে নিজ আবাস তৈরি করে নিলে। (ইবনে মাজা)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ عَادَ مَرِيضًا نَادَى مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : طِبْتَ ، وَطَابَ مَمْشَاكَ ، وَتَبَوَّأْتَ مِنَ الْجَنَّةِ مَنْزِلًا. (رواه ابن ماجة)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ শরীফের আধিক্য কিয়ামতের দিন হুযুর ﷺ-এর নৈকট্যের কারণ হবে
৩০২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমার সবচাইতে নৈকট্যপ্রাপ্ত এবং আমার উপর বেশি হকদার হবে ঐ ব্যক্তি, যে আমার প্রতি সর্বাধিক সালাত প্রেরণকারী হবে। (জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَوْلَى النَّاسِ بِي يَوْمَ القِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلاَةً. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের বাণী ও কর্মধারার মাধ্যমে জীবনের অন্যান্য শাখার ন্যায় বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও সূরতের ব্যাপারেও উম্মতকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এ ধারার কিছু হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের বাণী ও কর্মধারার মাধ্যমে জীবনের অন্যান্য শাখার ন্যায় বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও সূরতের ব্যাপারেও উম্মতকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এ ধারার কিছু হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
৩০২. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: পাঁচটি জিনিস ফিতরাত তথা মনুষ্য প্রকৃতির দাবী। (১) খতনা করা, (২) নাভীর নীচের চুল পরিষ্কার করা, (৩) মোচ কাটা, (৪) নখ কাটা ও (৫) বগলের চুল পরিষ্কার করা। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " الفِطْرَةُ خَمْسٌ: الخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَقَصُّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَنَتْفُ الآبَاطِ " (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০৩
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগীর সেবা করা, সান্ত্বনা দেওয়া ও সমবেদনা প্রকাশ করা
৩০৩. হযরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা যখন কোন রোগীর কাছে যাবে তার জীবন সম্পর্কে আনন্দদায়ক কথা বলে তাকে সান্ত্বনা দেবে। (এ সান্ত্বনার বাণী) ভাগ্যের পবির্তন ঘটাবে না যা ঘটার তাই ঘটবে কিন্তু তার মন সান্ত্বনা লাভ করবে। যা রোগীকে দেখতে যাওয়ার আসল উদ্দেশ্য। (তিরমিযী ও ইবনে মাজা)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِذَا دَخَلْتُمْ عَلَى الْمَرِيضِ ، فَنَفِّسُوا لَهُ فِي أَجَلِهِ ، فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَرُدُّ شَيْئًا ، وَهُوَ يُطَيِّبُ بِنَفْسِ الْمَرِيضِ » (رواه الترمذى وابن ماجة)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ শরীফের আধিক্য কিয়ামতের দিন হুযুর ﷺ-এর নৈকট্যের কারণ হবে
৩০৩. রুয়ায়ফে' ইব্ন ছাবিত আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি মুহম্মদের প্রতি দরূদ পাঠ করে এরূপ দু'আ করে:
اَللّٰهُمَّ اَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
-“হে আল্লাহ! তাঁকে (অর্থাৎ আল্লাহ্ নবী মুহম্মদ ﷺ কিয়ামতের দিন আপনার সবচাইতে নিকটবর্তী আসনে অধিষ্ঠিত করুন।" তার জন্যে আমার শাফা'আত ওয়াজিব হবে।
- (মুসনাদে আহমদ)
اَللّٰهُمَّ اَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
-“হে আল্লাহ! তাঁকে (অর্থাৎ আল্লাহ্ নবী মুহম্মদ ﷺ কিয়ামতের দিন আপনার সবচাইতে নিকটবর্তী আসনে অধিষ্ঠিত করুন।" তার জন্যে আমার শাফা'আত ওয়াজিব হবে।
- (মুসনাদে আহমদ)
کتاب الاذکار والدعوات
رُوَيْفِعِ بْنِ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ صَلَّى عَلَى مُحَمَّدٍ، وَقَالَ: اللَّهُمَّ أَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي " (رواه احمد)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩০৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৩. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মোচ কাটা, নখ কাটা, বগলের চুল ও নাভীর নীচ পরিষ্কার করার বেলায় আমাদের জন্য সময় বেধে দেওয়া হয়েছে যে, আমরা যেন চল্লিশ দিনের বেশী এগুলো ফেলে না রাখি। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: «وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّوَارِبِ، وَتَقْلِيمِ الْأَظْفَارِ، وَنَتْفِ الْإِبِطِ، وَحَلْقِ الْعَانَةِ، أَنْ لَا نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً» (رواه مسلم)
তাহকীক: