কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

كتاب السنن للإمام أبي داود

৩০. ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৮ টি

হাদীস নং: ৪২১২
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৬১
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ২. ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি না করা সম্পর্কে।
৪২১২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ হে আবু যর! আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার খিদমতে হাযির। এরপর তিনি হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেন, হে আবু যর! যখন (মড়কের কারণে) বহু লোক মারা যাবে এবং (লোক না থাকার কারণে) একটি গোলামের বিনিময়ে একটি বাড়ি পাওয়া যাবে, তখন তুমি কি করবে? আমি বলিঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সমধিক অভিজ্ঞ; বা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমাকে যা নির্দেশ দেন, (আমি তাই করবো)। তিনি বলেনঃ সে সময় তুমি সবর করবে, অথবা তিনি বলেনঃ তুমি সবর কর।

এরপর তিনি বলেনঃ হে আবু যর! আমি বলিঃ আমি আপনার খিদমতে হাযির। তিনি বলেনঃ যখন তুমি আহযার-যায়ত’ নামক স্থানটিকে রক্ত-প্লাবিত দেখবে, তখন কি করবে? আমি বলিঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যা বলেন, আমি তাই করবো। তিনি বলেনঃ তখন তুমি নিজের লোকদের কাছে ফিরে যাবে।

রাবী বলেনঃ এরপর আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে সময় আমি তরবারি নিয়ে তা কি কাঁধে ঝুলিয়ে রাখবো না? তিনি বলেনঃ তবে তো তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

রাবী বলেন, তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ সে সময় আপনি আমাকে কি করতে বলেন? তিনি বলেনঃ তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করবে। আমি বলিঃ তখন যদি হামলা করার জন্য কেউ সেখানে প্রবেশ করে? তিনি বলেনঃ যদি তুমি আক্রমণের আশঙ্কা কর, তবে তোমার মুখ চাদর দিয়ে ঢেকে নেবে (এবং নিহত হয়ে যাবে); ফলে, সে হত্যাকারী তার ও তোমার সমস্ত গুনাহের ভাগী হবে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ ‘মুশআছ’-কে এ হাদীসে হাম্মাদ ইবনে যায়দ ছাড়া আর কেউ উল্লেখ করেননি।
كتاب الفتن
باب فِي النَّهْىِ عَنِ السَّعْىِ، فِي الْفِتْنَةِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنِ الْمُشَعَّثِ بْنِ طَرِيفٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ " . قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ فِيهِ " كَيْفَ أَنْتَ إِذَا أَصَابَ النَّاسَ مَوْتٌ يَكُونُ الْبَيْتُ فِيهِ بِالْوَصِيفِ " . قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ أَوْ قَالَ مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ . قَالَ " عَلَيْكَ بِالصَّبْرِ " . أَوْ قَالَ " تَصْبِرُ " . ثُمَّ قَالَ لِي " يَا أَبَا ذَرٍّ " . قُلْتُ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ . قَالَ " كَيْفَ أَنْتَ إِذَا رَأَيْتَ أَحْجَارَ الزَّيْتِ قَدْ غَرِقَتْ بِالدَّمِ " . قُلْتُ مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ . قَالَ " عَلَيْكَ بِمَنْ أَنْتَ مِنْهُ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ آخُذُ سَيْفِي وَأَضَعُهُ عَلَى عَاتِقِي قَالَ " شَارَكْتَ الْقَوْمَ إِذًا " . قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ " تَلْزَمُ بَيْتَكَ " . قُلْتُ فَإِنْ دُخِلَ عَلَىَّ بَيْتِي قَالَ " فَإِنْ خَشِيتَ أَنْ يَبْهَرَكَ شُعَاعُ السَّيْفِ فَأَلْقِ ثَوْبَكَ عَلَى وَجْهِكَ يَبُوءُ بِإِثْمِكَ وَإِثْمِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يَذْكُرِ الْمُشَعَّثَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ غَيْرُ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ .
হাদীস নং: ৪২১৩
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৬২
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ২. ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি না করা সম্পর্কে।
৪২১৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সামনে রাতের গভীর অন্ধকারের ন্যায় ফিতনা-ফ্যাসাদ সংঘটিত হবে। সে সময় একজন সকালে মুসলমান হবে, সন্ধ্যায় কাফিরে পরিণত হবে এবং সে সময় উপবেশনকারী দণ্ডায়মান ব্যক্তি হতে, দণ্ডায়মান ব্যক্তি চলাফেরাকারী ব্যক্তি হতে এবং চলমান ব্যক্তি দৌড়াদৌড়িকারী ব্যক্তি হতে উত্তম হবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেনঃ সে সময় আপনি আমাদের কি করতে বলেন? তিনি বলেনঃ তখন তোমরা তোমাদের ঘরের বিছানার ন্যায় (নির্জীব) হয়ে যাবে।
كتاب الفتن
باب فِي النَّهْىِ عَنِ السَّعْىِ، فِي الْفِتْنَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مُوسَى، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي " . قَالُوا فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ " كُونُوا أَحْلاَسَ بُيُوتِكُمْ " .
হাদীস নং: ৪২১৪
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৬৩
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ২. ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি না করা সম্পর্কে।
৪২১৪. ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) ..... মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, ঐ ব্যক্তি নেককার, যে ফিতনা থেকে দূরে থাকে; ঐ ব্যক্তি নেককার, যে ফিতনা থেকে দূরে থাকে, ঐ ব্যক্তি সৌভাগ্যবান যে ফিতনা থেকে দূরে থাকে। আর যে ব্যক্তি ফিতনাগ্রস্ত হওয়ার পর সবর করবে, সে খুবই ভাগ্যবান।
كتاب الفتن
باب فِي النَّهْىِ عَنِ السَّعْىِ، فِي الْفِتْنَةِ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جُبَيْرٍ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ، قَالَ ايْمُ اللَّهِ لَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ وَلَمَنِ ابْتُلِيَ فَصَبَرَ فَوَاهًا " .
হাদীস নং: ৪২১৫
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৬৪
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুখ বন্ধ রাখা সম্পর্কে।
৪২১৫. আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই মুক, বধির ও অন্ধরূপ ফিতনা প্রকাশ পাবে। যে ব্যক্তি তা দেখবে, সে ফিতনা তাঁর নিকটবর্তী হবে। আর এ সময় মুখ খোলা, তরবারি চালনার ন্যায় হবে (অর্থাৎ তা বিপদের কারণ হবে।)
كتاب الفتن
باب فِي كَفِّ اللِّسَانِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ خَالِدُ بْنُ أَبِي عِمْرَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَتَكُونُ فِتْنَةٌ صَمَّاءُ بَكْمَاءُ عَمْيَاءُ مَنْ أَشْرَفَ لَهَا اسْتَشْرَفَتْ لَهُ وَإِشْرَافُ اللِّسَانِ فِيهَا كَوُقُوعِ السَّيْفِ " .
হাদীস নং: ৪২১৬
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৬৫
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুখ বন্ধ রাখা সম্পর্কে।
৪২১৬. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই এমন এক ফিতনা-ফ্যসাদ প্রকাশ পাবে, যা গোটা আরবকে ঘিরে ফেলবে। আর এ সময় যারা নিহত হবে, তারা জাহান্নামী। এ সময় মুখ খোলা (বেহুদা কথাবার্তা বলা), তরবারির আঘাতের চাইতেও নিকৃষ্ট হবে।
كتاب الفتن
باب فِي كَفِّ اللِّسَانِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ رَجُلٍ، يُقَالُ لَهُ زِيَادٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبَ قَتْلاَهَا فِي النَّارِ اللِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السَّيْفِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ الأَعْجَمِ .
হাদীস নং: ৪২১৭
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৬৬
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুখ বন্ধ রাখা সম্পর্কে।
৪২১৭. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল কুদ্দূস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। যিয়াদ (রাহঃ) তাঁর কান সাদা থাকার কারণে ‘সামীনুন-কুশুন’ বলে তাকে আখ্যায়িত করতো।
كتاب الفتن
باب فِي كَفِّ اللِّسَانِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ الطَّبَّاعِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْقُدُّوسِ، قَالَ زِيَادٌ سِيمِينْ كُوشْ .
tahqiq

তাহকীক:

rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৪২১৮
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৬৭
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৪. ফিতনা প্রকাশ পেলে জঙ্গলে চলে যাবে।
৪২১৮. উবাইদুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই মুসলমানদের উত্তম সম্পদ হবে ঐ বকরিসমূহ, যাদের চরানোর জন্য তারা পর্বতের চূড়ায় ও পানির স্থানসমূহে থাকবে এবং এভাবে তারা দীন রক্ষার জন্য ফিতনা থেকে পালিয়ে যাবে।
كتاب الفتن
باب مَا يُرَخَّصُ فِيهِ مِنَ الْبَدَاوَةِ فِي الْفِتْنَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرُ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمًا يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ " .
হাদীস নং: ৪২১৯
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৬৮
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৫. ফিতনা-ফাসাদের সময় যুদ্ধ বিগ্রহ না করা।
৪২১৯. আবু কামিল (রাহঃ) .... আহনাফ ইবনে কায়স (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যুদ্ধের নিয়তে (আলী (রাযিঃ) এর পক্ষে) বের হলে, আমার সাথে আবু বাকরা (রাযিঃ)-এর দেখা হয়। তিনি বলেনঃ তুমি ফিরে যাও। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যখন দু’জন মুসলমান তাদের তরবারি নিয়ে, একজন অপরজনকে মারতে প্রস্তুত হবে, তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে।

তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! হত্যাকারী তো জাহান্নামে যাবে, কিন্তু নিহত ব্যক্তির অপরাধ কি? তিনি বলেনঃ এ জন্য যে, সেও তো তার ভাইকে হত্যা করার ইচ্ছা করেছিল।
كتاب الفتن
باب فِي النَّهْىِ عَنِ الْقِتَالِ، فِي الْفِتْنَةِ
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، وَيُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ خَرَجْتُ وَأَنَا أُرِيدُ، - يَعْنِي فِي الْقِتَالِ - فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرَةَ فَقَالَ ارْجِعْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا تَوَاجَهَ الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ قَالَ " إِنَّهُ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ " .
হাদীস নং: ৪২২০
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৬৯
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৫. ফিতনা-ফাসাদের সময় যুদ্ধ বিগ্রহ না করা।
৪২২০. মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াককিল (রাহঃ) .... হাসান (রাহঃ) থেকে সংক্ষিপ্তভাবে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
كتاب الفتن
باب فِي النَّهْىِ عَنِ الْقِتَالِ، فِي الْفِتْنَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ الْحَسَنِ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ مُخْتَصَرًا .
হাদীস নং: ৪২২১
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭০
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৬. মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা জঘন্য অপরাধ।
৪২২১. মুআম্মাল ইবনে ফযল (রাহঃ) .... খালিদ ইবনে দিহকান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা যখন কুসতুনতুনিয়ার যুদ্ধে ‘যালকা’ নামক স্থানে ছিলাম, তখন ফিলিস্তিনের একজন গণ্য-মান্য ব্যক্তি, যাকে সকলে চিনতো এবং তার নাম ছিল ‘হানি ইবনে কুলছূম ইবনে শারীক কিনানী। তিন এসে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু যাকারিয়া (রাযিঃ)-কে সালাম করেন, যার মর্যাদা সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন। রাবী বলেনঃ খালিদ (রাহঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে যাকারিয়া (রাহঃ) আমাকে বলেছেনঃ আমি উম্মে দারদা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, যিনি আবু দারদা (রাযিঃ)-কে বলতে শোনেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি এবং যে মু’মিন অন্য মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, এরা ব্যতীত অন্য সকলের গুনাহ মাফ করবেন।

এরপর হানী ইবনে কুলছূম (রাহঃ) বলেনঃ আমি মাহমুদ ইবনে রাবী’ (রাহঃ)-কে উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে এবং তাকে হত্যা করে খুশী হবে, তার কোন ফরয এবং নফল ইবাদত আল্লাহ কবুল করবেন না।

রাবী বলেনঃ এরপর খালিদ আমাদের বলেন, ইবনে আবু যাকারিয়া (রাহঃ) আবু দারদা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ যতক্ষণ কোন মু’মিন অকারণে কাউকে হত্যা করে না, ততক্ষণ সে নিশ্চিত ও নেককার থাকে। কিন্তু যখন সে কাউকে হত্যা করে, তখন সে নির্ভীক ও জ্ঞান শূন্য হয়ে যায়।

হানী ইবনে কুলছূম (রাহঃ) মাহমুদ ইবনে রাবী’ (রাহঃ) থেকে তিনি উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন।
كتاب الفتن
باب فِي تَعْظِيمِ قَتْلِ الْمُؤْمِنِ
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ دِهْقَانَ، قَالَ كُنَّا فِي غَزْوَةِ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ بِذُلُقْيَةَ فَأَقْبَلَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ فِلَسْطِينَ - مِنْ أَشْرَافِهِمْ وَخِيَارِهِمْ يَعْرِفُونَ ذَلِكَ لَهُ يُقَالُ لَهُ هَانِئُ بْنُ كُلْثُومِ بْنِ شَرِيكٍ الْكِنَانِيُّ - فَسَلَّمَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي زَكَرِيَّا وَكَانَ يَعْرِفُ لَهُ حَقَّهُ قَالَ لَنَا خَالِدٌ فَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زَكَرِيَّا قَالَ سَمِعْتُ أُمَّ الدَّرْدَاءِ تَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " كُلُّ ذَنْبٍ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَغْفِرَهُ إِلاَّ مَنْ مَاتَ مُشْرِكًا أَوْ مُؤْمِنٌ قَتَلَ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا " . فَقَالَ هَانِئُ بْنُ كُلْثُومٍ سَمِعْتُ مَحْمُودَ بْنَ الرَّبِيعِ يُحَدِّثُ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّهُ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا فَاعْتَبَطَ بِقَتْلِهِ لَمْ يَقْبَلِ اللَّهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً " . قَالَ لَنَا خَالِدٌ ثُمَّ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي زَكَرِيَّا عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَزَالُ الْمُؤْمِنُ مُعْنِقًا صَالِحًا مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا فَإِذَا أَصَابَ دَمًا حَرَامًا بَلَّحَ " . وَحَدَّثَ هَانِئُ بْنُ كُلْثُومٍ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ سَوَاءً .
হাদীস নং: ৪২২২
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭১
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৬. মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা জঘন্য অপরাধ।
৪২২২. আব্দুর রহমান ইবনে আমর (রাহঃ) .... খালিদ ইবনে দিহকান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া গাসসানী (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি اعْتَبَطَ بِقَتْلِهِ এ শব্দের অর্থ কি? তিনি বলেনঃ এর অর্থ হলো- যারা ফিতনার যুগে পরস্পর মারামারি-কাটাকাটি করে এবং তাদের একজন অপরজনকে হত্যা করার পর এরূপ মনে করে যে, সে ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে! আর সে ঐ হত্যার পর তাওবা ইসতিগফারও করে না!
كتاب الفتن
باب فِي تَعْظِيمِ قَتْلِ الْمُؤْمِنِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُبَارَكٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، أَوْ غَيْرُهُ قَالَ قَالَ خَالِدُ بْنُ دِهْقَانَ سَأَلْتُ يَحْيَى بْنَ يَحْيَى الْغَسَّانِيَّ عَنْ قَوْلِهِ " اعْتَبَطَ بِقَتْلِهِ " . قَالَ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي الْفِتْنَةِ فَيَقْتُلُ أَحَدُهُمْ فَيَرَى أَنَّهُ عَلَى هُدًى لاَ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ - يَعْنِي - مِنْ ذَلِكَ .
tahqiq

তাহকীক:

rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৪২২৩
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭২
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৬. মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা জঘন্য অপরাধ।
৪২২৩. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... খারিজা ইবনে যায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ)-কে এ স্থানে বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ এ আয়াতঃ وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمঅর্থাৎ “যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার শান্তি হলো জাহান্নাম যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে”, সূরা ফুরকানের এ আয়াতঃ

وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ

অর্থাৎ “যারা আল্লাহর সাথে অন্য কিছুর শরীক করে না এবং আল্লাহ যাদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, তাদের হত্যা করে না- তবে হক ব্যতীত”- এর ছয় মাস পর নাযিল হয়।
كتاب الفتن
باب فِي تَعْظِيمِ قَتْلِ الْمُؤْمِنِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُجَالِدِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ خَارِجَةَ بْنَ زَيْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، فِي هَذَا الْمَكَانِ يَقُولُ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا ) بَعْدَ الَّتِي فِي الْفُرْقَانِ ( وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ ) بِسِتَّةِ أَشْهُرٍ .
হাদীস নং: ৪২২৪
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭৩
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৬. মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা জঘন্য অপরাধ।
৪২২৪. ইউসুফ ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে উপরোক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ যখন সূরা ফুরকানের এ আয়াতঃ যারা আল্লাহর সাথে অন্য কিছুর শরীক করে না এবং অন্য্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে না”-নাযিল হয়, তখন মক্কার (নও-মুসলিম) মুশরিকরা এরূপ বলতে থাকে যে, আমরা তো আল্লাহর সাথে শরীক করেছি, অন্যায়ভাবে হত্যাও করেছি; এ ছাড়া আমরা আরো অনেক গুনাহ করেছি, (এমতাবস্থায় আমাদের নাজাতের ব্যবস্থা কি?) তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেনঃ “আর যে তাওবা করবে, ঈমান আনবে এবং নেক আমল করবে, আল্লাহ তাদের গুনাহকে নেকীতে পরিবর্তিত করে দেবেন”।

আর সূরা নিসার এ আয়াতঃ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে”, ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে নাযিল হয়, যে ইসলামী শরীআতের হুকুম-আহকাম সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও কোন মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, সে অবশ্যই জাহান্নামে যাবে এবং তার তাওবা কবুল হবে না। রাবী সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি এ সম্পর্কে মুজাহিদ (রাহঃ)-এর সাথে আলোচনা করলে, তিনি বলেনঃ তবে কেউ যদি যথার্থ-লজ্জিত হয়ে তাওবা করে, তবে তা কবুল হবে।
كتاب الفتن
باب فِي تَعْظِيمِ قَتْلِ الْمُؤْمِنِ
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، أَوْ حَدَّثَنِي الْحَكَمُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ لَمَّا نَزَلَتِ الَّتِي فِي الْفُرْقَانِ ( وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ ) قَالَ مُشْرِكُو أَهْلِ مَكَّةَ قَدْ قَتَلْنَا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ وَدَعَوْنَا مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَأَتَيْنَا الْفَوَاحِشَ . فَأَنْزَلَ اللَّهُ ( إِلاَّ مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلاً صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ) فَهَذِهِ لأُولَئِكَ قَالَ وَأَمَّا الَّتِي فِي النِّسَاءِ ( وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ ) الآيَةُ قَالَ الرَّجُلُ إِذَا عَرَفَ شَرَائِعَ الإِسْلاَمِ ثُمَّ قَتَلَ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ لاَ تَوْبَةَ لَهُ . فَذَكَرْتُ هَذَا لِمُجَاهِدٍ فَقَالَ إِلاَّ مَنْ نَدِمَ .
হাদীস নং: ৪২২৫
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭৪
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৬. মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা জঘন্য অপরাধ।
৪২২৫. আহমদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এ আয়াতঃ الَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ অর্থাৎ “যারা আল্লাহর সাথে অন্য কিছুর শরীক করে না ...” এর অর্থ ঐসব লোক, যারা শিরক করেছে এবং শিরক করা অবস্থায় অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে; তাদের গুনাহ ঈমান আনার পর এবং তাওবা করার পর মাফ হয়ে যাবে। এর দলীল হলো এ আয়াতঃ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ “বলুনঃ হে আমার বান্দাগণ! যারা তাদের নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছে ...।
كتاب الفتن
باب فِي تَعْظِيمِ قَتْلِ الْمُؤْمِنِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي يَعْلَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ فِي ( الَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ ) أَهْلُ الشِّرْكِ قَالَ وَنَزَلَ ( يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ ) .
হাদীস নং: ৪২২৬
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭৫
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৬. মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা জঘন্য অপরাধ।
৪২২৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এ আয়াত (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا) অর্থাৎ “যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে ...” অন্য কোন আয়াত দ্বারা রহিত হয়নি।
كتاب الفتن
باب فِي تَعْظِيمِ قَتْلِ الْمُؤْمِنِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ النُّعْمَانِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا ) قَالَ مَا نَسَخَهَا شَىْءٌ .
হাদীস নং: ৪২২৭
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭৬
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৬. মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা জঘন্য অপরাধ।
৪২২৭. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আবু মাজলায (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এ আয়াতঃ “যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম”, এর অর্থঃ জাহান্নাম-ই তার প্রাপ্য। তবে আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন, তবে তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন।
كتاب الفتن
باب فِي تَعْظِيمِ قَتْلِ الْمُؤْمِنِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، فِي قَوْلِهِ ( وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ ) قَالَ هِيَ جَزَاؤُهُ فَإِنْ شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَتَجَاوَزَ عَنْهُ فَعَلَ .
tahqiq

তাহকীক:

rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৪২২৮
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭৭
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৭. নিহত হওয়ার পরও নাজাতের প্রত্যাশা।
৪২২৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তিনি ভয়াবহ একটি ফিতনার কথা উল্লেখ করেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমরা এ সময় জীবিত থাকি, তবে কি তা আমাদের তা ধ্বংস করে দেবে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ না, এরূপ নয়; বরং সে সময় তোমরা নিহত হলে, তা তোমাদের জন্য যথেষ্ঠ হবে। রাবী সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ এরপর আমি আমার ভাইদের (সে ফিতনায়) নিহত হতে দেখি। (অর্থাৎ নবী (ﷺ) উটের ও সিফফীনের যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করেন।)
كتاب الفتن
باب مَا يُرْجَى فِي الْقَتْلِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، سَلاَّمُ بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ فِتْنَةً فَعَظَّمَ أَمْرَهَا فَقُلْنَا أَوْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَئِنْ أَدْرَكَتْنَا هَذِهِ لَتُهْلِكَنَّا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَلاَّ إِنَّ بِحَسْبِكُمُ الْقَتْلُ " . قَالَ سَعِيدٌ فَرَأَيْتُ إِخْوَانِي قُتِلُوا .
হাদীস নং: ৪২২৯
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭৮
ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়
পরিচ্ছেদঃ ৭. নিহত হওয়ার পরও নাজাতের প্রত্যাশা।
৪২২৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার এ উম্মতের উপর আল্লাহর রহমত আছে। আখিরাতে তারা (স্থায়ী) আযাব ভোগ করবে না। বরং তাদের কাফফারা এভাবে হবে যে, দুনিয়াতে তাদের শাস্তি হবে-ফিতনা, ভূমিকম্প এবং হত্যা।
كتاب الفتن
باب مَا يُرْجَى فِي الْقَتْلِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمَّتِي هَذِهِ أُمَّةٌ مَرْحُومَةٌ لَيْسَ عَلَيْهَا عَذَابٌ فِي الآخِرَةِ عَذَابُهَا فِي الدُّنْيَا الْفِتَنُ وَالزَّلاَزِلُ وَالْقَتْلُ " .