মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৩. তাক্বদীরের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৪৬ টি

হাদীস নং: ২১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৭৪ - ১
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস প্রসঙ্গে
(২১) ইয়াহইয়া বিন ইয়া'মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবন্ উমর (রা)-কে বললাম, আমরা বিভিন্ন দূর-দূরান্তের গন্তব্যে সফর করে থাকি, তখন আমরা এমন সম্প্রদায়ের সাক্ষাৎ লাভ করি যারা বলে থাকে যে, ‘তাকদীর' বলে কিছু নেই। ইবন উমর (রা) আমার কথা শুনে বললেন, যদি তোমরা এ ধরনের সম্প্রদায়ের সাক্ষাৎ পাও, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিও যে, আব্দুল্লাহ বিন উমর তাদের দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং তারাও তাঁর দায়িত্ব থেকে মুক্ত। (একথাটি তিনি তিনবার বললেন, এরপর তিনি বলতে থাকেন, একবার আমরা রাসূল (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম, তখন জনৈক ব্যক্তি আগমন করেন (রাসূল (ﷺ)-এর কাছে) এবং তাঁর অবস্থা বর্ণনা করেন। রাসূল (ﷺ) তাঁকে বললেন, কাছে এসো, তখন তিনি কিছুটা কাছে এলেন, রাসূল (ﷺ) পুনরায় বলেন, কাছে এসো, তিনি আরও কাছে গেলেন এবং অবস্থা এমন হল যে আগন্তুকের হাঁটু রাসূল (ﷺ)-এর হাঁটু ছুঁই ছুঁই করছে। অতঃপর আগন্তুক বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! ঈমান কী? অথবা আমাকে ঈমান সম্পর্কে কিছু বলুন, রাসূল (ﷺ) বললেন, আপনি আন্তরিক বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহর সত্তায়, তাঁর ফিরিশতাগণে, তাঁর কিতাবসমূহে, তাঁর প্রেরিত রাসূলগণে, শেষ দিবসে এবং বিশ্বাস স্থাপন করবেন তাকদীরে। সুফিয়ান বলেন, আমার মনে হল যে, তিনি এও বলেছিলেন, ভাল হউক কিংবা মন্দ হোক। আগন্তুক জিজ্ঞেস করলেন, ইসলাম কী? উত্তরে রাসূল (ﷺ) বললেন, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান, বায়তুল্লাহর হজ্ব পালন, রমযানের সিয়াম পালন, অপবিত্রতা থেকে গোসল (ফরয গোসল) করা (ইত্যাদি) প্রতিটি বিষয়। আগন্তুক বললেন, সত্য বলেছেন, সত্য বলেছেন। উপস্থিত দর্শকবৃন্দ বলেন, কোন ব্যক্তিকে তাঁর চেয়ে অধিক সম্মান প্রদর্শন করতে আমরা দেখি নি। তিনি যেন রাসূল (ﷺ)-কে (প্রশ্নের মাধ্যমে) শিক্ষা দিচ্ছেন। এরপর আগন্তুক আবার প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমাকে 'ইহসান' সম্পর্কে কিছু বলুন, উত্তরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেনঃ আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এমনভাবে যেন আপনি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছেন। আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পারেন, তিনি তো (অবশ্যই) আপনাকে দেখছেন (এই আন্তরিক অনুভূতির নাম হচ্ছে 'ইহসান') আগন্তুকের চাইতে অধিক সম্মান প্রদর্শনকারী রাসূলের প্রতি অন্য কাউকে দেখিনি, আগন্তুক বললেন- সত্য বলেছেন, সত্য বলেছেন। এবার আমাকে 'কিয়ামত' সম্পর্কে কিছু বলুন, রাসূল (ﷺ) বললেন, (এ বিষয়ে) যাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক কিছু অবগত নন । এবারও (প্রশ্নকারী) কয়েকবার বললেন, 'সত্য বলেছেন' আর আমরা আবারও বলছি যে, রাসূলকে সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে এর চেয়ে অধিক কাউকে দেখি নি।
এ পর্যায়ে প্রশ্নকারী (আগন্তুক) প্রস্থান করলেন, সুফিয়ান বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (আগন্তুকের প্রস্থানের পর) দর্শকদের বলেছিলেন যে, তোমরা তাঁকে খুঁজে বের কর, কিন্তু তাঁরা তাঁকে খুঁজে পায় নি। তখন তিনি (রাসূল (ﷺ) বললেন, ইনি হচ্ছেন জিবরাঈল (আ), তোমাদেরকে তোমাদের দীন শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে (আজ) এসেছিলেন, তিনি যে কোন আকৃতি ধারণ করেই আসুন না কেন, আমি তাঁকে চিনতে পারি কিন্তু এরূপে তাঁকে চিনতে পারি নি।
(এই বর্ণনাকারী থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন, আমি ইবন উমর (রা)-কে বললাম, আমাদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছেন যে, তারা মনে করে থাকে যে, কর্ম ও ফলাফল তাদের নিজের হাতে, যদি তারা ইচ্ছা করে কর্ম করবেন, আর যদি ইচ্ছা না করে কর্ম করবে না (এরূপ ধারণা তারা লালন করে থাকে)। তিনি বললেন, ঐরূপ লোকদের জানিয়ে দিও যে, আমি তাদের দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার দায় থেকে মুক্ত (অর্থাৎ তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই)। অতঃপর বলেন, একদা জিবরাঈল (আ) নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া মুহাম্মাদ, ইসলাম কী? তিনি বললেন, আল্লাহর ইবাদত করবেন তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবেন না, সালাত কায়েম করবেন, যাকাত প্রদান করবেন, রমযানের সিয়াম পালন করবেন, বায়তুল্লাহর হজ্ব পালন করবেন। জিবরাঈল (আ) বললেন, যদি আমি এরূপ করি, তবে আমি কি মুসলিম? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিবরাঈল (আ) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন, জিবরাঈল (আ) আবার প্রশ্ন করলেন, 'ইহসান' কী? বললেন, আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করবেন, যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, যদিও আপনি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন না কিন্তু তিনি তো আপনাকে দেখছেন। জিবরাঈল (আ) বললেন যদি আমি এরূপ করি তবে কি আমি 'মুহসিন'? তিনি বললেন, হ্যাঁ, জিবরাঈল (আ) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন । এবার বলুন ঈমান কী? বললেন, আন্তরিক বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহর ওপর, তাঁর ফিরিশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলগণের ওপর, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর, জান্নাত ও দোযখের ওপর এবং সামগ্রিকভাবে তাকদীরের ওপর। জিবরাঈল (আ) বললেন, এরূপ করলে কি আমি মু'মিন? রাসূল (ﷺ) উত্তর করলেন, হ্যাঁ, জিবরাঈল (আ) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন। (অন্য একটি বর্ণনায় এ কথাটি অতিরিক্ত এসেছে যে, জিবরাঈল, (আ) রাসূল (ﷺ)-এর কাছে দাহিয়্যা (আল-কালবী)-এর আকৃতি ধারণ করে আগমন করতেন।
(একই বর্ণনাকারী থেকে তৃতীয় একটি সূত্রে বর্ণিত) হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, (একদা) জিবরাঈল (আ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ঈমান কী? তিনি বললেন, আন্তরিক বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহর ওপর, তাঁর ফিরিশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলগণের ওপর, শেষ দিবসের ওপর এবং ভাল-মন্দ তাকদীরের ওপর। তখন জিবরাঈল (আ) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন। তখন আমরা তাঁর আচরণে বিস্মিত হলাম । (কারণ) তিনি প্রশ্নও করেছেন, আবার (প্রশ্নের উত্তর) সত্যয়ন করেছেন। বর্ণনাকারী বলেছেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, ইনি হচ্ছেন জিবরাঈল (আ) তোমাদেরকে তোমাদের দীনের প্রধান বিষয়গুলো (চিহ্নসমূহ) শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে আগমন করেছেন।
(একই বর্ণনাকারী থেকে চতুর্থ একটি সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা (একদা) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তাকদীর প্রসঙ্গে লোকদের (ভ্রান্ত) ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করি। তখন তিনি আমাদেরকে বলেন, তোমরা ঐসব লোকদের কাছে যখন প্রত্যাবর্তন করবে, তখন তাদেরকে বলে দেবে যে, ইবন্ উমর তোমাদের (দায়-দায়িত্ব) থেকে মুক্ত এবং তোমরাও তাঁর (দায়) থেকে মুক্ত। তিনি তিনবার বললেন। এরপর এমন সময় জনৈক ভদ্রলোক পায়ে হেঁটে তাঁর কাছে আগমন করলেন, তাঁর চেহারা সুন্দর, কেশরাজি সুন্দর, তাঁর পরিধেয় বস্ত্র শুভ্র সুন্দর। উপস্থিত জনতা পরস্পর মুখ দেখাদেখি করতে লাগলেন। (কেননা) আমরা কেউ তাঁকে চিনতে পারছিলাম না, অথবা তিনি সফরকারীও (মুসাফির) নন। অতঃপর আগন্তুক বললেন, আসতে পারি ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি (তাঁর) কাছে এলেন এবং এমনভাবে উপবিষ্ট হলেন যে, তার হাঁটুদ্বয় রাসূল (ﷺ)-এর হাঁটুদ্বয়ের সাথে রাখলেন এবং হস্তদ্বয় রাখলেন তার (স্বীয়) রানের (উরুর) উপর। (এভাবেই এ হাদীস অগ্রসর হয়েছে, যেমনটি কিতাবুল ঈমানের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এসেছে। তাতে আরও রয়েছে যে, প্রশ্নকারী আগন্তুক চলে যাওয়ার পর) রাসূল (ﷺ) বলেন, ঐ ব্যক্তিকে খুঁজতে হবে, জনতা (তাঁকে অনুসরণ করে) তালাশ করল কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। অতঃপর রাসূল (ﷺ) দুই দিন অথবা তিনদিন অতিবাহিত করলেন । এরপর বললেন, হে খাত্তাব পুত্র (উমর), আপনি জানেন কি ঐসব বিষয়ে প্রশ্নকর্তা কে ছিলেন? (উমর (রা) বললেন, আল্লাহ ও তদীয় রাসূল ভাল জানেন। রাসূল (ﷺ) বললেন, তিনি ছিলেন জিবরাঈল (আ)। তিনি এসেছিলেন তোমাদেরকে তোমাদের দীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল (ﷺ)-কে এ পর্যায়ে জুহাইনা অথবা মুযাইনা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ), আমরা তবে কিসের ভিত্তিতে আমল বা কর্ম করবো- এমন বিষয়ে যা অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে বা অতীত হয়ে গিয়েছে; না কি এমন বিষয়ে যা এখন নতুনভাবে শুরু করা হবে? (অর্থাৎ আমরা তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করবো, নাকি আমরা কর্মের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ করবো?) রাসূল (ﷺ) বললেন, যা অতিবাহিত হয়েছে বা অতীত হয়ে গিয়েছে (সেই তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কর্ম করবে।)
অতঃপর অন্য একজন অথবা কয়েকজন জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমরা কিসের ভিত্তিতে, কিভাবে কর্ম করবো? রাসূল বললেন, জান্নাতবাসীগণের জন্য জান্নাতে প্রবেশের যোগ্য কর্মসমূহ সহজ ও সাবলীল হবে, আর দোযখবাসীদের জন্য দোযখবাসীর কাজ সহজ ও অনায়াসী হবে। ইয়াহইয়া বলেন, তিনি (রাসূল) এইভাবেই বলেছেন, যেমন তুমি এখন আমার সম্মুখে বর্ণনা করলে। (মুসলিম, তাবারানী, আবূ না'ঈম ও অন্যান্য)
كتاب القدر
(3) باب في اِِلإيمان بالقدر
(21) عن يحيى بن يعمر 5 قال قلت لابن عمر (رضي الله عنهما) إنا نسافر في الآفاق فنلقى قوما يقولون لا قدر، فقال ابن عمر إذا لقيتموهم فأخبروهم أن عبد الله بن عمر منهم بريء وأنهم منه برآء ثلاثا 6 ثم أنشأ يحدث، بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء رجل فذكر من هيئته فقال
رسول الله صلى الله عليه وسلم ادنه فدنا فقال ادنه فدنا حتى كاد ركبتاه تمسان ركبتيه فقال يا رسول الله أخبرني ما الإيمان أو عن الإيمان، قال تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر قال سفيان أراه قال خيره وشره، قال فما الإسلام، قال إقام الصلاة وإيتاء الزكاة وحج البيت وصيام شهر رمضان وغسل من الجنابة كل ذلك قال صدقت صدقت، قال القوم ما رأينا رجلا أشد توقيرا لرسول الله صلى الله عليه وسلم من هذا كأنه يعلم رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال يا رسول الله أخبرني عن الإحسان، قال أن تعبد الله كأنك تراه فإلا تراه فإنه يراك، كل ذلك نقول ما رأينا رجلا أشد توقيرا لرسول الله صلى الله عليه وسلم من هذا فيقول صدقت صدقت، قال أخبرني عن الساعة قال ما المسئول عنها بأعلم بها من السائل قال فقال صدقت قال ذاك مرارا ما رأينا رجلا أشد توقيرا لرسول الله صلى الله عليه وسلم من هذا ثم ولى قال سفيان فبلغني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال التمسوه فلم يجدوه قال هذا جبريل جاءكم يعلمكم دينكم، ما أتاني في صورة إلا عرفته غير هذه الصورة
(وعنه من طريق ثان) 1 قال قلت لابن عمر إن عندنا رجالا يزعمون أن الأمر بأيديهم فإن شاؤا عملوا وإن شاؤوا لم يعملوا فقال أخبرهم أني منهم بريء وأنهم مني برآء ثم قال جاء جبريل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا محمد ما الإسلام فقال تعبد الله
لا تشرك بالله شيئا وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت قال فإذا فعلت ذلك، فأنا مسلم؟ قال نعم، قال صدقت قال فما الإحسان؟ قال تخشى الله تعالى كأنك تراه فإن لا تك تراه فإنه يراك قال فإذا فعلت ذلك فأنا محسن، قال نعم قال صدقت، قال فما الإيمان قال تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله والبعث من بعد الموت والجنة والنار والقدر كله، قال فإذا فعلت ذلك فأنا مؤمن قال نعم قال صدقت (زاد في رواية وكان جبريل يأتي النبي صلى الله عليه وسلم في صورة دحية
(وعنه من طريق ثالث) 1 عن ابن عمر رضي الله عنهما أن جبريل قال للنبي صلى الله عليه وسلم ما الإيمان قال أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وبالقدر خيره وشره فقال له جبريل عليه السلام صدقت قال فتعجبنا منه يسأله ويصدقه قال فقال النبي صلى الله عليه وسلم ذاك جبريل أتاكم يعلمكم معالم دينكم
(وعنه من طريق رابع) 2 أي عن يحيى بن يعمر وحميد بن عبد الرحمن الحميري قال لقينا عبد الله بن عمر رضي الله عنهما فذكرنا القدر وما يقولون فيه 3 فقال لنا إذا رجعتم إليهم فقولوا إن ابن عمر منكم بريء وأنتم منه برآء ثلاث مرار ثم قال أخبرني عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنهم بينا هم جلوس أو قعود عند النبي صلى الله عليه وسلم جاءه رجل يمشي حسن الوجه حسن الشعر عليه ثياب بيض فنظر القوم بعضهم
لا تشرك بالله شيئا وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت قال فإذا فعلت ذلك، فأنا مسلم؟ قال نعم، قال صدقت قال فما الإحسان؟ قال تخشى الله تعالى كأنك تراه فإن لا تك تراه فإنه يراك قال فإذا فعلت ذلك فأنا محسن، قال نعم قال صدقت، قال فما الإيمان قال تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله والبعث من بعد الموت والجنة والنار والقدر كله، قال فإذا فعلت ذلك فأنا مؤمن قال نعم قال صدقت (زاد في رواية وكان جبريل يأتي النبي صلى الله عليه وسلم في صورة دحية
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২
আন্তর্জাতিক নং: ২১৫৮৯
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস প্রসঙ্গে
(২২) ইবনুদ্ দায়লামী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাই বিন কা'ব (রা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বলি, হে আবুল মুনযির, এই তাকদীর সংক্রান্ত কিছু বিষয় আমার অন্তরে খট্‌কার সৃষ্টি করে। সুতরাং এ ব্যাপারে আমাকে এমন কিছু উপদেশ বাণী শোনান, যাতে করে আমার অন্তরের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বিদূরিত হয়। তিনি বললেন, আল্লাহ জাল্লা শানুহু যদি তাঁর আকাশমণ্ডলী ও যমীনের বাসিন্দাদের (নির্বিশেষে সবাইকে) শাস্তি প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করেন, তবে তিনি তাদের প্রতি (বিন্দুমাত্র) জুলুম ব্যতিরেকেই শাস্তি দিতে পারেন। (অর্থাৎ তাদেরকে শাস্তি প্রদান করার মত অপরাধ বা দোষ-ত্রুটি তাদের মধ্যে অবশ্যই বিদ্যমান), আর যদি তিনি তাদের প্রতি দয়া বর্ষণ করেন, তবে তাঁর সেই দয়া হচ্ছে তাদের যে কোন আমল বা কর্ম থেকে উত্তম। যদি তুমি উহুদ পর্বতসম স্বর্ণ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর আল্লাহ তোমার কাছ থেকে তা কবূল করবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি তাকদীরে বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং জানবে যে, যা কিছু তুমি পেয়েছ (ভাল বা মন্দ, কল্যাণ অথবা অকল্যাণ) তা কখনই তোমাকে ভুল করতো না (অর্থাৎ তা ছিল অবশ্যাম্ভাবী, কোন উপায় বা উপকরণের সাহায্যে তা রদ করা অসম্ভব)। আর যা কিছু তুমি প্রাপ্ত হও নি, তা কখনই তোমার প্রাপ্য ছিল না (অর্থাৎ হাজারো চেষ্টা-তদবীর কিংবা উপায়-উপকরণের মাধ্যমেও তুমি তা লাভ করতে পারতে না।) তুমি যদি এই বিশ্বাসের বিপরীত কিছু নিয়ে মৃত্যুবরণ কর, তবে অবশ্যই তুমি দোযখে প্রবেশ করবে বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি হুযায়ফার কাছে এলাম, তিনিও আমাকে এ রকমই বললেন। এরপর আমি ইবন মাসউদের কাছে গেলাম, তিনিও আমাকে ঐ রকমই বললেন। পরিশেষে আমি যায়েদ বিন ছাবিত (রা)-এর কাছে গমন করলাম, তিনিও নবী করীম (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করে আমাকে শুনালেন । (আবূ দাউদ, ইবন্ মাজাহ্ ও অন্যান্য, হাদীসটির সনদ হাসান পর্যায়ের।)
كتاب القدر
(3) باب في اِِلإيمان بالقدر
(22) وعن ابن الديلمي قال لقيت أبي بن كعب رضي الله عنه فقلت يا أبا المنذر إنه قد وقع في نفسي شيء من هذا القدر فحدثني بشيء لعله يذهب من قلبي قال لو أن الله عذب أهل سمواته وأهل أرضه لعذبهم وهو غير ظالم لهم ولو رحمهم كانت رحمته لهم خيرا من أعمالهم ولو أنفقت جبل أحد ذهبا
في سبيل الله عز وجل ما قبله الله منك حتى تؤمن بالقدر وتعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك، وما أخطأك لم يكن ليصيبك، ولو مت على غير ذلك لدخلت النار، قال فأتيت حذيفة فقال لي مثل ذلك وأتيت ابن مسعود وأتيت زيد بن ثابت فحدثني عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك
হাদীস নং: ২৩
আন্তর্জাতিক নং: ২২৭০৫
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস প্রসঙ্গে
(২৩) 'উবাদাহ ইবন্ ওলীদ বিন 'উবাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, আমি উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা)-এর কাছে গেলাম, তিনি তখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত। আমি তাঁকে বললাম, চাচাজী আমাকে উপদেশ দান করুন এবং আমার জন্য 'ইজতিহাদ' (দো'আ) করুন। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে শয়ন থেকে) বসাও। (বসানো হলে) তিনি বললেন, হে বৎস! তুমি ঈমানের স্বাদ কখনও লাভ করতে পারবে না এবং আল্লাহ তা'আলার মা'রিফাতের (জ্ঞানের) স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারবে না- যতক্ষণ না তুমি ভাল ও মন্দ সংক্রান্ত তাকদীরে বিশ্বাস স্থাপন করবে। তখন আমি বললাম, চাচাজী, আমি কিভাবে জানতে পারবো তাকদীরের ভাল-মন্দ কোন্‌টা? তিনি বললেন, জেনে রাখ যা তোমাকে ভুল করেছে (অর্থাৎ যা কিছু তুমি পাও নি), তা কখনই তোমার প্রাপ্য ছিল না এবং যা কিছু তুমি প্রাপ্ত হয়েছ তা কখনই তোমাকে ভুল করতো না (অর্থাৎ অবশ্যই তোমাকে পেত)। হে বৎস! আমি আল্লাহর রাসূলের কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সর্বপ্রথম আল্লাহ তা'আলা যা সৃষ্টি করেছিলেন, তা হচ্ছে কলম, অতঃপর তিনি কলমকে বললেন, লিখ। তখন থেকেই কলম লিখতে শুরু করেছে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হওয়ার (এবং তার সবই লেখা সমাপ্ত)। হে বৎস! তুমি যদি এই বিশ্বাস ছাড়া মৃত্যু মুখে পতিত হও, তবে তুমি দোযখে প্রবেশ করবে। (আবূ দাউদ হাদীসটি সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছেন । আর তিবরানী ও তায়ালেসী পূর্ণ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب القدر
(3) باب في اِِلإيمان بالقدر
(23) [كذا] وعن عبادة بن الوليد بن عبادة حدثني أبي قال دخلت على عبادة (يعني ابن الصامت رضي الله عنه) وهو مريض أتخايل فيه الموت فقلت يا أبتاه أوصني واجتهد لي فقال أجلسوني قال يا بني إنك لن تطعم طعم الإيمان ولم تبلغ حقيقة العلم بالله تبارك وتعالى حتى تؤمن بالقدر خيره وشره، قال قلت يا أبتاه فكيف لي أن أعلم ما خير القدر وشره قال تعلم أن ما أخطأك لم يكن ليصيبك، وما أصابك لم يكن ليخطئك، يا بني إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إن أول ما خلق الله تبارك وتعالى القلم ثم قال
أكتب فجرى في تلك الساعة بما هو كائن إلى يوم القيامة، يا بني إن مُتَّ ولست على ذلك دخلت النار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪
আন্তর্জাতিক নং: ২৭৪৯০
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস প্রসঙ্গে
(২৪) আবূদ্ দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক বস্তুর একটি হাকীকত বা স্বরূপ রয়েছে। কোন বান্দা ঈমানের স্বরূপ লাভ করবে না যতক্ষণ না সে জানবে এবং বিশ্বাস করবে যে, যা কিছু সে লাভ করেছে, তা থেকে সে কখনও বঞ্চিত হত না এবং যা কিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তা কখনও তার প্রাপ্য ছিল না । (হাইছুমী বলেন, এ হাদীসটি বাযযার থেকে বর্ণিত এবং এটি হাসান।)
كتاب القدر
(4) باب في اِِلإيمان بالقدر
(24) [كذا] وعن أبي الدرداء رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لكل شيء حقيقة، وما بلغ عبد حقيقة الإيمان حتى يعلم أن ما أصابه لم يكن ليخطئه وما أخطأه لم يكن ليصيبه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৫
আন্তর্জাতিক নং: ২২৭১৭
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস প্রসঙ্গে
(২৫) উবাদাহ বিন সামিত (রা) থেকে বর্ণিত, (একদা) জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, ইয়া নাবীয়্যাল্লাহ (ﷺ)! কোন্ আমল বা কর্ম উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন ও এর সত্যয়ন করা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। আগন্তুক বললেন, আমি এর চেয়ে সহজ কিছু চাই, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বললেন, ক্ষমা ও ধৈর্যধারণ। আগন্তুক বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি এর চেয়ে সহজতর কিছু চাই। রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তোমার জন্য যা কিছু মঞ্জুর করে রেখেছেন তার জন্য তাঁকে অভিযুক্ত করবে না।
(অন্য কোন কিতাবে এ হাদীসটি পাওয়া যায় নি। এর সনদে একজন বিতর্কিত রাবী আছে।)
كتاب القدر
(3) باب في اِِلإيمان بالقدر
(25) وعن عبادة بن الصامت رضي الله عنه أن رجلا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا نبي الله أي العمل أفضل؟ قال الإيمان بالله وتصديق به وجهاد في سبيله قال أريد أهون من ذلك يا رسول الله، قال السماحة والصبر، قال أريد أهون من ذلك يا رسول الله، قال لا تتهم الله تبارك تعالى 1 في شيء قضى لك به
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৬
আন্তর্জাতিক নং: ৬৭০৩
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস প্রসঙ্গে
(২৬) হযরত আমর ইবন্ শুয়াইব, তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন মানুষ ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না সে বিশ্বাস স্থাপন করবে তাকদীরের ভাল ও মন্দের ওপর । আবূ হাযিম বলেন, তাকদীরে অবিশ্বাস করা বা মিথ্যারোপকারী হলো এমন এক মতবাদ যাকে আল্লাহ পাক অভিসম্পাত করেন, আমি এ মতবাদের চেয়ে বড় বা উর্দ্ধে ।
(হাদীসটিও অন্য কোন কিতাবে পাওয়া যায় নি। তবে তিরমিযীতে হযরত জাবির (রা)-এর হাদীসের মাধ্যমে-এর সাক্ষ্য বিদ্যমান এবং বুখারী ও মুসলিমে সমার্থবোধক বিদ্যমান।)
كتاب القدر
(3) باب في اِِلإيمان بالقدر
(26) وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا يؤمن المرء حتى يؤمن بالقدر خيره وشره قال أبو حازم لعن الله دينا أنا أكبر منه يعني التكذيب بالقدر
হাদীস নং: ২৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৯
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করা প্রসঙ্গে
(২৭) আবূ বকর সিদ্দীক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) আমল কিসের ভিত্তিতে হবে যা বিগত হয়েছে অর্থাৎ তাকদীর অনুযায়ী, নাকি এখন (বর্তমান সময়ে) যা সৃষ্টি হচ্ছে (কার্যকরণ সম্পর্কের তার ভিত্তিতে?) তিনি বললেন, বরং যা সম্পন্ন হয়ে বিগত হয়েছে তার ভিত্তিতে, আমি বললাম, তাহলে আমল বা কর্মের তাৎপর্য কি, ইয়া রাসূলাল্লাহ? বললেন, যে কর্মের জন্য যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা তার জন্য সহজ । (এতটুকু উপলব্ধি করেই কর্মে প্রবৃত্ত হতে হবে)। (তিবরানী ও বাযযার)
كتاب القدر
(4) باب في العمل مع القدر
(27) عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه قال قلت يا رسول الله العمل
على ما فرغ منه أو على أمر مؤتنف 1 قال بل على أمر قد فرغ منه قال قلت ففيم العمل يا رسول الله قال كل ميسر لما خلق له
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৪
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করা প্রসঙ্গে
(২৮) উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, জুহাইনা অথবা মুযাইনা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আমরা কিসের ভিত্তিতে (বা বিশ্বাসে) আমল বা কর্ম করবো যা অতীত বিগত হয়ে গিয়েছে (তাকদীর), অথবা (না কি) বর্তমান সময়ে শুরু হবে (কার্য কারণ)-এর ভিত্তিতে? রাসূল (ﷺ) বললেন, কর্ম করবে যা অতীত বা বিগত হয়েছে (তাকদীর) তার ভিত্তিতে। অতঃপর জনৈক ব্যক্তি অথবা কয়েকজন প্রশ্ন করল, তাহলে আমাদের আমলের তাৎপর্য বা উদ্দেশ্য কী, ইয়া রাসূলাল্লাহ? বললেন, জান্নাতবাসীগণের জন্য জান্নাতবাসীর (উপযুক্ত) কাজ সহজ করা হবে এবং দোযখবাসীদের জন্য দোযখবাসীর (উপযোগী) কাজ সহজ করা হবে। (এটি পূর্বের পরিচ্ছেদে বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত সুদীর্ঘ হাদীসের একটি অংশ বিশেষ।
كتاب القدر
(4) باب في العمل مع القدر
(28) وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال سأل النبي صلى الله عليه وسلم رجلٌ من جهينة أو مزينة فقال يا رسول الله فيما نعمل في شيء قد خلا أو مضى أو في شيء يستأنف الآن قال في شيء قد خلا أو مضى فقال رجل أو بعض القوم يا رسول الله فيما نعمل؟ قال أهل الجنة ييسرون لعمل أهل الجنة وأهل النار ييسرون لعمل أهل النار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৪২৫৮
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করা প্রসঙ্গে
(২৯) জাবির ইবন্ আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, সুরাকা ইবন্ মালিক বিন জু'শুম (রা) একদা জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! কর্ম বা আমল কিসের ভিত্তিতে? যা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে না কি যা আমরা এখন শুরু করবো তার ভিত্তিতে? রাসূল (ﷺ)! বললেন, বরং যা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে (তাকদীর), সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে। সুরাকা আবার প্রশ্ন করলেন, তাহলে আমলের (কর্মের) তাৎপর্য কী? রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা আমল করে যাও, যে কর্মের জন্য যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা তার জন্য সহজ হবে। (মুসলিম ও তাবারানী আউসাত গ্রন্থে।)
كتاب القدر
(4) باب في العمل مع القدر
(29) وعن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن سراقة بن مالك بن جعشم رضي الله عنه قال يا رسول الله فيم العمل؟ أفي شيء قد فرغ منه أو في شيء نستأنفه؟ فقال بل في شيء قد فرغ منه، قال ففيم العمل إذًا؟ قال اعملوا فكل ميسر لما خلق له
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩০
আন্তর্জাতিক নং: ১৪৬০০
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করা প্রসঙ্গে
(৩০) জাবির ইবন আব্দিল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি (একদা) রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা কর্ম বা আমল করবো সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে এমন বিষয়ের ভিত্তিতে, নাকি যা আমরা নতুন করে শুরু করছি এমন বিশ্বাসে? তিনি উত্তরে বললেন- যা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে (অর্থাৎ তাকদীরের বিশ্বাসের ভিত্তিতে)। সুরাকা বললেন, তাহলে আমলের তাৎপর্য কোথায়? রাসূল (ﷺ) বললেন, প্রত্যেক আমলকারীর জন্য তার আমল (কর্ম) সহজ হয়েছে। (অর্থাৎ যে কর্ম যার কাছে সহজ মনে হবে, ভাল হউক কিংবা মন্দ, তাকে সেই কর্মের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।) (মুসলিম)
كتاب القدر
(4) باب في العمل مع القدر
(30) وعن أبي الزبير عن جابر (يعني ابن عبد الله رضي الله عنهما) أنه قال يا رسول الله أنعمل لأمر قد فرغ منه أم لأمر نأتنفه قال لأمر قد فرغ منه فقال سراقة ففيم العمل إذًا؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم كل عامل ميسر لعمله
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩১
আন্তর্জাতিক নং: ৬২১ - ১
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করা প্রসঙ্গে
(৩১) আবূ আব্দুর রহমান আস-সুলামী, আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন, একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বসে আছেন, তাঁর হাতে ছিল একখণ্ড কাষ্ঠ, যা দিয়ে মাটি পেটানো যায় (মুগুর ধরনের)। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি মস্তক উত্তোলন করে ইরশাদ করলেন, তোমাদের প্রত্যেকের আত্মাকে জান্নাত অথবা দোযখে নিজ নিজ ঠিকানা অবগত করানো হয়েছে। হযরত আলী (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে আমরা আমল করবো কেন? রাসূল (ﷺ) বললেন, আমল করে যাও, যাকে যে কর্মের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তা তার কাছে সহজ করা হয়েছে। (অতঃপর রাসূল (ﷺ) পবিত্র কুরআনের এই আয়াত পাঠ করেন - فَاَمَّا مَنۡ اَعۡطٰی ..... لِلۡعُسۡرٰی
“অতএব, যে দান করে এবং আল্লাহকে ভয় করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে; আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্য সহজ পথ দান করবো; আর যে কৃপণতা করে ও বেপরওয়া হয় এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে; আমি তাকে কষ্টের বিষয়ের জন্য সহজ পথ দান করবো।” (সূরা আল-লায়ল, ৫-১০ )
(একই বর্ণনাকারী থেকে অপর বর্ণনায় আছে) আলী (রা) বলেন, আমরা একদা ‘বাকী'উল গারকাদ' নামক একটি জানাযার সাথে ছিলাম। এমন সময় সেখানে আমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আগমন করলেন এবং বসলেন; আমরাও তাঁর চারপাশে বসে গেলাম। তাঁর সাথে ছিল একটি লাঠি যার উপর ভর করা যায়। অতঃপর রাসূল (ﷺ) তাঁর দৃষ্টি উত্তোলন করলেন এবং বললেন, তোমাদের প্রত্যেকের আত্মার জন্য জান্নাত অথবা দোযখে তার ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে; আরও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে- (প্রতিটি) আত্মার বদকার অথবা নেককার হওয়ার বিষয়। উপস্থিত জনতা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ), তাহলে আমরা কি আমাদের কিতাবের (তাক্বদীর) উপর ভরসা করে আমল বা কর্ম পরিত্যাগ করব না? কারণ যে নেককার হবে, সে নেকীর (কল্যাণ) দিকে ধাবিত হবে এবং যে বদকার হবে, সে বদির (অকল্যাণ, অশুভ ও ভয়াবহতার) প্রতি ধাবিত হবে? তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, না তোমরা আমল করে যাও, প্রত্যেকেই সহজ পন্থা পাবে। সুতরাং যে বদকার হবে, তার জন্য অশুভ ও বদকাজ সহজ করা হবে; আর যে কল্যাণকামী ও নেককার হবে, তার জন্য কল্যাণময় কর্ম সহজ করা হবে। অতঃপর রাসূল (ﷺ) পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ পাঠ করেন-فَاَمَّا مَنۡ اَعۡطٰی ..... لِلۡعُسۡرٰی(বুখারী, মুসলিম, আবূ ইয়া'লা।)
كتاب القدر
(4) باب في العمل مع القدر
(31) وعن أبي عبد الرحمن السلمي عن علي رضي الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم جالسا وفي يده عود ينكت 1 به قال فرفع رأسه فقال ما منكم من نفس إلا وقد علم منزلها من الجنة والنار قال فقال يا رسول الله فلم نعمل، قال اعملوا فكل ميسر لما خلق له، أما من أعطى واتقى وصدق بالحسنى فسنيسره لليسرى، وأما من بخل واستغنى وكذب بالحسنى فسنيسره للعسرى
(وعنه في أخرى) 2 عن علي (رضي الله عنه) قال كنا مع جنازة في بقيع الغرقد 3 فأتانا رسول الله صلى الله عليه وسلم فجلس وجلسنا حوله ومعه مخصرة 4 ينكت بها ثم رفع بصره فقال ما منكم من نفس منفوسة إلا وقد كتب مقعدها من الجنة والنار إلا قد كتبت شقية أو سعيدة فقال القوم يا رسول الله أفلا نمكث على كتابنا وندع العمل فمن كان من أهل السعادة فسيصير إلى السعادة، ومن كان من أهل الشقوة فسيصير إلى الشقوة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اعملوا فكل ميسر، أما من كان من أهل الشقوة فإنه ييسر لعمل الشقوة، وأما من كان من أهل السعادة فإنه ييسر لعمل السعادة
ثم قرأ فأما من أعطى واتقى إلى قوله فسنيسره للعسرى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪৮১
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করা প্রসঙ্গে
(৩২) ইবন্ উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) উমর (রা) রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যে আমল করি এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? (অর্থাৎ) যে বিষয় সম্পন্ন করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে, নাকি শুরু থেকে নতুন করে করছি তার (ভিত্তিতে)? রাসূল (ﷺ) বললেন, যা সম্পন্ন করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে)। অতএব, ওহে খাত্তাব তনয়! তুমি আমল করতে থাক, কারণ, প্রত্যেকের জন্য কর্ম (ভাল কিংবা মন্দ) সহজ করা হয়েছে, সুতরাং যে ব্যক্তি নেককার হবে, সে কল্যাণের জন্য আমল করবে আর যে বদকার, সে অকল্যাণ ও বিপর্যয়ের জন্য কর্ম করবে। (তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ্ ও হাসান আখ্যায়িত করেছেন।)
كتاب القدر
(4) باب في العمل مع القدر
(32) وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال عمر يا رسول الله أرأيت ما نعمل فيه، أفي أمر قد فرغ منه أو مبتدأ أو مبتدع؟ قال فيما قد فرغ منه فاعمل يا ابن الخطاب فإن كلا ميسر، أما من كان من أهل السعادة فإنه يعمل للسعادة وأما من كان من أهل الشقاء فإنه يعمل للشقاء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩
আন্তর্জাতিক নং: ৬৫৬৩
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করা প্রসঙ্গে
(৩৩) আব্দুল্লাহ ইবন 'আমর বিন আল'আস (রা) রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, একদা রাসূল (ﷺ) আমাদের সম্মুখে উপস্থিত হলেন। তাঁর হাতে দু'টি কিতাব। বললেন, তোমরা জান কি এ দু'টো কিতাব কী? আমরা বললাম, জ্বি না, তবে আপনি যদি বলে দেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি তাঁর ডান হাতের কিতাব সম্পর্কে বললেন- এটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন-এর পক্ষ থেকে, এতে লিপিবদ্ধ আছে জান্নাতবাসীগণের নাম, তাদের পিতার নাম এবং তাদের গোত্রের নাম । জান্নাতবাসী সর্বশেষ ব্যক্তির নামে (এই কিতাব) শেষ করা হয়েছে; এদের সংখ্যা আর কখনও বৃদ্ধি করা হবে না এবং হ্রাসও করা হবে না। এরপর তিনি (রাসূল) তাঁর বাম হাতে রক্ষিত কিতাব সম্পর্কে বললেন, এটি নরকবাসীদের কিতাব। এতে লিপিবদ্ধ আছে তাদের নাম, পিতার নাম ও গোত্রের নাম এমনিভাবে সর্বশেষ ব্যক্তির নাম দিয়ে (এই কিতাব) সমাপ্ত করা হয়েছে। এদের সংখ্যাও আর কখনও বৃদ্ধি করা হবে না এবং হ্রাসও করা হবে না। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, বিষয়টি যদি এমনই নিষ্পত্তি (বা সম্পন্ন) হয়ে গিয়ে থাকে, তবে আর আমরা আমল করবো কিসের জন্য? রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা দৃঢ় প্রত্যয় ও বাসনা নিয়ে কর্মে (আমল করতে) প্রবৃত্ত হও। (অর্থাৎ সৎকর্ম সম্পাদন করতে থাক)। কারণ, জান্নাতবাসীকে জান্নাতের কর্মের মাধ্যমে মৃত্যু দেওয়া হবে। যদিও সে অন্য কর্মও করে (অর্থাৎ কোন কোন সময় জান্নাতের পরিপন্থী কর্ম করলেও।) আর জাহান্নামবাসীকে নরকবাসীর কর্মের মাধ্যমে তুলে নেয়া হবে যদিও সে অন্য কর্মও করে থাকে। অতঃপর রাসূল (ﷺ) তাঁর হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে বললেন, তোমাদের মহাপ্রভু (আল্লাহ) বান্দাদের সম্পর্কে ফায়সালা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। এরপর তাঁর ডান হাত সম্প্রসারিত করে বললেন, فريق في الجنة একদল প্রবেশ করবে জান্নাতে এবং বাম হাত সম্প্রসারিত করে বললেন- فريق في السعير অন্য একদল প্রবেশ করবে 'সায়ীর' জাহান্নামে। (বাযযার নাসাঈ, তিরমিযী। তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।)
كتاب القدر
(4) باب في العمل مع القدر
(33) وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي يده كتابان فقال أتدرون ما هذان الكتابان قال قلنا لا إلا أن تخبرنا يا رسول الله، قال للذي في يده اليمنى هذا كتاب من رب العالمين تبارك وتعالى بأسماء أهل الجنة وأسماء آباءهم وقبائلهم ثم أجمل على آخرهم لا يزاد فيهم ولا ينقص منهم أبدا ثم قال للذي في يساره هذا كتاب أهل النار بأسمائهم وأسماء آباءهم وقبائلهم ثم أجمل على آخرهم لا يزاد فيهم ولا ينقص منهم أبدا فقال أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فلأي شيء إذا نعمل إن كان هذا أمر قد فرغ منه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم سددوا 1 وقاربوا فإن صاحب الجنة يختم له بعمل الجنة وإن عمل أي عمل
وإن صاحب النار ليختم له بعمل أهل النار وإن عمل أي عمل ثم قال بيده 1 فقبضها ثم قال فرغ ربكم عز وجل من العباد ثم قال باليمنى فنبذها فقال فريق في الجنة ونبذ باليسرى فقال فريق في السعير
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৭৬৬০
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করা প্রসঙ্গে
(৩৪) আব্দুর রহমান ইবন্ কাতাদাহ আস্-সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা'আলা আদম (আ)-কে সৃষ্টি করার পর তাঁর পৃষ্ঠদেশ থেকে অন্যান্য সমগ্র সৃষ্টিকুল (মানব সন্তান) বের করে আনলেন এবং বললেন, এরা জান্নাতে যাবে এবং আমি কারো পরওয়া করি না। আর এরা জাহান্নামে যাবে এবং আমি কোন কিছুর পরওয়া করি না। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় জনৈক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করলেন, তাহলে আমরা কিসের উপর ভরসা করে আমল করবো? ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! তিনি বললেন, তাকদীরের প্রতিফলনের উপর (ভরসা রেখে)। (অর্থাৎ তোমার আমল বা কর্মই বলে দেবে কোন্ ধরনের তকদীর তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।) (হাকিম ও আহমদ-এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب القدر
(4) باب في العمل مع القدر
(34) وعن عبد الرحمن بن قتادة السلمي رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن الله عز وجل خلق آدم ثم أخذ الخلق من ظهره وقال هؤلاء في الجنة ولا أبالي وهؤلاء في النار ولا أبالي، قال فقال قائل يا رسول الله فعلى ماذا نعمل قال على مواقع القدر
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৯৮৩৪
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করা প্রসঙ্গে
(৩৫) ইমরান ইবন হুসাইন (রা) রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, (একদা) রাসূল (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হয় অথবা বলা হয়, জান্নাতবাসীগণের মধ্য থেকে নরকবাসীদের কি চিনা যায়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। প্রশ্নকারী বললেন, তাহলে আমলদার লোকগণ কেন আমল করবেন? রাসূল (ﷺ) বললেন, প্রত্যেকে সেই আমলই করে, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে অথবা যা তার জন্য সহজ করা হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম ও আবূ দাউদ।)
كتاب القدر
(4) باب في العمل مع القدر
(35) وعن عمران بن حصين رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه سئل أو قيل له أيعرف أهل النار من أهل الجنة؟ فقال نعم، قال فلم يعمل العاملون قال يعمل كل لما خلق له أو لما يسر له
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৯৯৩৬
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করা প্রসঙ্গে
(৩৬) আবূল আসওয়াদ আদ্‌ দুয়ালী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা প্রত্যুষে 'ইমরান ইবন্‌ হুসাইন (রা)-এর কাছে গমন করি। তিনি 'ইয়া আবাল আসওয়াদ' বলে আমাকে সম্বোধন করে তারপর (সেই) হাদীস বর্ণনা করেন। (একদা) জুহাইনা অথবা মুযাইনা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-কে সমীপে উপস্থিত হন এবং জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মানুষ আজকের দিনে যে আমল করছে এবং তাকে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? অর্থাৎ এই আমল কি পূর্বে নির্ধারিত তাকদীরের ভিত্তিতে যা তাদের জন্য অতিবাহিত ও সম্পন্ন করা হয়েছে। নাকি তারা ভবিষ্যতে যা করবে তা-ই হবে এর ভিত্তিতে? (অর্থাৎ) যা তাঁদের নবী (ﷺ) তাদের জন্য নিয়ে এসেছেন এবং যে বিষয়ের উপর তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা হয়েছিল (আল্লাহর পক্ষ থেকে 'আমি কি তোমাদের প্রভু নই' বিষয়ক) সেই ভিত্তিতে (আমল করবে এবং তদানুসারে ফলাফল ভোগ করবে ?
রাসূল (ﷺ) বললেন, বরং যা তাদের জন্য বিগত ও সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে- সেই বিষয়ের উপর (বিশ্বাস রেখে কর্ম করবে)। প্রশ্নকারী বললেন, তা-ই যদি হয় তবে তারা কেন কর্ম বা আমল করবে, ইয়া রাসূলাল্লাহ, রাসূল (ﷺ) বললেন, দু'টি ঠিকানার (জান্নাত ও নরক) মধ্যে যাকে যেটির জন্য আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি করেছেন, তাকে সেটির জন্য কর্ম করার জন্য প্রস্তুত করে দেন। এ বিষয়টির সত্যয়ন রয়েছে আল্লাহ তা'আলার কিতাবে فألهمها فجورها وتقواها (বুখারী, মুসলিম ও আবূ দাউদ)।
كتاب القدر
(4) باب في العمل مع القدر
(36) وعن أبي الأسود الدؤلي قال غدوت على عمران بن حصين
رضي الله عنه يوما من الأيام فقال يا أبا الأسود فذكر الحديث أن رجلا من جهينة أو من مزينة أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أرأيت ما يعمل الناس اليوم ويكدحون 1 فيه، شيء قضي عليهم ومضى عليهم في قدر قد سبق أو فيما يستقبلون مما أتاهم به نبيهم صلى الله عليه وسلم واتخذت عليهم به الحجة؟ قال بل شيء قضي عليهم ومضى عليهم، قال فلم يعملون إذا يا رسول الله، قال من كان الله عز وجل خلقه لواحة من المنزلتين يهيئه لعملها، وتصديق ذلك في كتاب الله عز وجل (فألهمها فجورها وتقواها)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৭৪৮৭
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করা প্রসঙ্গে
(৩৭) আবূদ দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা লোক সকল জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ । আমরা যে আমল করছি এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? এটা কি নিস্পন্ন হওয়া কোন বিষয়, না কি যা আমরা এখন শুরু থেকে করছি? রাসূল (ﷺ) বললেন, বরং তা (আমল) নিস্পন্ন হওয়া বিষয়ের ভিত্তিতে। তারা বললো, তাহলে কর্মের বিষয়টি কীভাবে (দেখা হবে)? ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, প্রত্যেক মানুষ প্রস্তুত (এমন কর্ম করার জন্য যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। (হাকিম ও তাবরানী। হাদীসটির পাশে সহীহ্ হবার প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে।)
كتاب القدر
(4) باب في العمل مع القدر
(37) وعن أبي الدرداء رضي الله عنه قال قالوا يا رسول الله أرأيت ما نعمل أمر قد فرغ منه أم أمر نستأنفه؟ قال بل أمر قد فرغ منه قالوا فكيف بالعمل يا رسول الله قال كل امرئ مهيء لما خلق له
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৮
আন্তর্জাতিক নং: ৫৫৮৪ - ১
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ তাকদীর অস্বীকারকারীদের পরিত্যাগ করা এবং তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(৩৮) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসূল (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একদল ‘মাজসূ' বা (অগ্নি উপাসক) রয়েছে আমার উম্মতের মধ্যে 'মাজূস'- হচ্ছে ঐসব লোক যারা বলে থাকে 'তাকদীর নেই' । ঐ সব লোক পীড়িত হলে তোমরা দেখতে যাবে না। মৃত্যু হলে জানাযায় হাযির হবে না।
(একই বর্ণনাকারী থেকে অন্যভাবে) রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যেক উম্মতে অগ্নিপূজকদল রয়েছে, আমার উম্মতের অগ্নিপূজক হচ্ছে তাকদীরকে অস্বীকারকারীর দল। এরা মৃত্যুমুখে পতিত হলে, তোমরা জানাযায় শরীক হবে না, এবং পীড়িত হলে তাদের দেখতে যাবে না।
অর্থাৎ অগ্নিপূজা বা সূর্য উপাসনা যেমন শিরকের মধ্যে অন্যতম নিকৃষ্ট বা গর্হিত কাজ, তাকদীর অস্বীকার করাও মূলত যারপর নাই গর্হিত কাজ ও বেঈমানীর প্রধান লক্ষণ।) (আবূ দাউদ, হাকিম, হাদীসটি সহীহ্)
كتاب القدر
(5) باب في هجر المكذبين بالقدر والتغليظ عليهم
(38) وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لكل أمة مجوس ومجوس أمتي الذين يقولون لا قدر، إن مرضوا فلا تعودوهم، وإن ماتوا فلا تشهدوهم
(وعنه بلفظ آخر) 2 عن النبي صلى الله عليه وسلم إن لكل أمة
مجوسا وإن مجوس أمتي المكذبون بالقدر فإن ماتوا فلا تشهدوهم وإن مرضوا فلا تعودوهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৯
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮৬৭
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ তাকদীর অস্বীকারকারীদের পরিত্যাগ করা এবং তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(৩৯) আব্দুল্লাহ (রা) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, এই উম্মতের মধ্যে অচিরেই মাসখ (বা আকৃতিগত বিকৃতি) দেখা দিবে। সাবধান, জেনে রাখ, ওরা হচ্ছে তাকদীর অস্বীকারকারীর দল ও যিন্দীকের দল (যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, অথবা বাহ্যত ঈমানদার বলে দাবী করলেও অন্তরে কুফর লালন করে।) (আবূ দাউদ ও তিরমিযী, তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ, গরীব।
كتاب القدر
(5) باب في هجر المكذبين بالقدر والتغليظ عليهم
(39) وعنه أيضا قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول سيكون في هذه الأمة مسخ، ألا وذاك في المكذبين بالقدر والزنديقية 1
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪০
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৪৫৬
তাক্বদীরের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ তাকদীর অস্বীকারকারীদের পরিত্যাগ করা এবং তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(৪০) হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় প্রত্যেক উম্মতের মাজূস (বা অগ্নি উপাসক) বিদ্যমান। আর আমার উম্মতের মধ্যে মাজূস-হচ্ছে যারা বলে, 'তাকদীর নেই' । তাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে তোমরা তার পরিচর্যা করবে না এবং তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে তার জানাযায়ও শরীক হবে না। এরা হচ্ছে দাজ্জালের অনুসারী। আল্লাহর দায়িত্ব হচ্ছে এদেরকে দাজ্জালের সাথে মিলিয়ে দেয়া (অর্থাৎ রোজ হাশরে এরা দাজ্জালের দলভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।) (আবূ দাউদ, এ হাদীসের সনদে অপরিচিত এক রাবী আছে।)
كتاب القدر
(5) باب في هجر المكذبين بالقدر والتغليظ عليهم
(40) وعن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن لكل أمة مجوسا ومجوس هذه الأمة الذين يقولون لا قدر فمن مرض منهم فلا تعودوه ن ومن مات منهم فلا تشهدوه، وهم شيعة الدجال، حقا على الله عز وجل أن يلحقهم به
tahqiq

তাহকীক: