মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৫৫ টি
হাদীস নং: ২১
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভালবাসা এবং আল্লাহর উদ্দ্যেশে কাউকে ঘৃণা করা ও এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান
২১. আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে আমাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা কি জান, কোন আমলটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়? আমাদের মধ্যে একজন বললো, সালাত ও যাকাত। অন্য একজন বললো, জিহাদ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো, আল্লাহর উদ্দেশ্য কাউকে ভালবাসা এবং আল্লাহর উদ্দেশ্য কাউকে ঘৃণা করা।
كتاب المحبة والصحبة
باب الترغيب في الحب في الله والبغض في الله والحث على ذلك
عن أبي ذر قال خرج إلينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال أتدرون أي الأعمال احب إلى الله؟ قال قائل الصلاة والزكاة وقال قائل الجهاد قال ان احب الأعمال إلى الله عز وجل الحب في الله والبغض في الله
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভালবাসা এবং আল্লাহর উদ্দ্যেশে কাউকে ঘৃণা করা ও এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান
২২. আবু তুফায়েল 'আমির ইবন ওয়াছিলা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি কোন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে গমনকালে তাদেরকে সালাম দিল, তারা তার সালামের উত্তর দিল। সে যখন তাদের অতিক্রম করে যাচ্ছিল, তখন তাদের মধ্যে থেকে এক ব্যক্তি বললো, আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহর উদ্দেশ্য এ ব্যক্তিকে সবচেয়ে ঘৃণা করি। মজলিশের লোকেরা বললো, আল্লাহর শপথ! তুমি যা বলেছো, তা খুবই বেদনাদায়ক। আমরা তাকে অবশ্যই এ সংবাদ দেব। তখন তাদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে বলা হলো, তুমি গিয়ে তাকে এ সংবাদটি দাও, বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাদের সংবাদ বাহক তার দেখা পেল এবং তাকে যে কথাটি তারা বলে, সে সংবাদ তাকে দেয়। এরপর লোকটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আমি মুসলমানদের একটি মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, সেখানে অমুক, অমুক ব্যক্তি ছিল। আমি তাদেরকে সালাম দিলে তারা আমার সালামের জবাব দেয়। যখন আমি তাদের ত্যাগ করে চলে যাই, তখন তাদের এক ব্যক্তির সাথে আমার দেখা হয় এবং সে আমাকে সংবাদ দেয় যে, অমুক ব্যক্তি আমার সম্পর্কে এরূপ বলেছে: "আল্লাহর শপথ! আল্লাহর উদ্দেশ্য আমি এ ব্যক্তিকে সবচেয়ে ঘৃণা করি।" হে রাসূল (ﷺ)। আপনি কি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করবেন, কেন সে আমাকে ঘৃণা করে? এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডাকলেন এবং লোকটি যে সংবাদ দিয়েছিল, সে ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। লোকটি তা স্বীকার করে বললো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আমি তাকে একথা বলেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তাকে কেন ঘৃণা কর? সে বললো, আমি তার প্রতিবেশী এবং তার খবর আমি ভাল জানি। আল্লাহর শপথ। ফরয নামায ব্যতীত তাকে অন্য কোন নামায পড়তে আমি কখনও দেখিনি। ফরয নামাযতো নেককার ও পাপীরা ও পড়ে। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। তাকে জিজ্ঞেস করুন, সে কি আমাকে কখনও সময় মত নামাযে দেরী করতে দেখেছে? অথবা নামাযের উযুতে কোন ত্রুটি দেখেছে? অথবা নামাযের রুকু ও সিজদায় কোন ত্রুটি দেখেছ? তখন রাসূল (ﷺ) ঐ ব্যক্তিকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে বললো, এরপর সে লোকটি বললো, আল্লাহর শপথ! রমযানের রোযা ব্যতিত তাকে আর কখনো রোযা রাখতে দেখিনি, যে রোযা নেককার এবং পাপীরা ও রাখে। তখন লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। তাকে জিজ্ঞেস করুন, সে কি আমাকে কখনও রোযা ভংগ করতে দেখেছে? অথবা রোযার কোন হকের ব্যাপারে ত্রুটি করতে দেখেছে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বললো, না। তারপর সে বললো, আল্লাহর শপথ। আমি কোন ভিক্ষুককে তাকে কখনো দান করতে দেখিনি এবং তার সম্পদ থেকে কোন কিছু আল্লাহর পথে ব্যয় করতেও দেখিনি, সামান্য সদকা ব্যতিত, যা নেককার ও পাপীরা দান করে থাকে। সে বললা: আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করুন আমি কি কখনও যাকাতের কোন সম্পদ লুকিয়ে রেখেছি? অথবা যখনই তা চাওয়া হয়েছে, আমি তা ঢেকে রেখেছি? বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এ বিষয় জিজ্ঞেস করলে সে বললো, না। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, আমি জানিনা, সম্ভবত আল্লাহর নিকট সে তোমার চেয়ে ও উত্তম হতে পারে।
(অর্থাৎ যে ব্যক্তি সঠিকভাবে ফরযসমূহ আদায় করে, যদি সেটা আল্লাহ কবুল করেন, তাহলে অতিরিক্ত নফল ছাড়াও সে আল্লাহর নিকট উত্তম ব্যক্তি হতে পারে।)
(অর্থাৎ যে ব্যক্তি সঠিকভাবে ফরযসমূহ আদায় করে, যদি সেটা আল্লাহ কবুল করেন, তাহলে অতিরিক্ত নফল ছাড়াও সে আল্লাহর নিকট উত্তম ব্যক্তি হতে পারে।)
كتاب المحبة والصحبة
باب الترغيب في الحب في الله والبغض في الله والحث على ذلك
عن أبي الطفيل عامر بن واثلة أن رجلا مر على قوم فسلم عليهم فردوا عليه السلام فلما جاوزهم قال رجل منهم والله اني لأبغض هذا في الله فقال أهل المجلس فبئس والله ما قلت أما والله لننبئنه قم يا فلان رجل منهم فأخبره قال فأدركه رسولهم فأخبره بما قال فانصرف الرجل حتى اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله مررت بمجلس من المسلمين فيهم فلان فسلمت عليهم فردوا السلام فلما جاوزتهم أدركني رجل منهم فأخبرني أن فلانا قال والله اني لأبغض هذا الرجل في الله فادعه فسله على ما يبغضني؟ فدعاه رسول الله صلى الله عليه وسلم فسأله عما أخبره الرجل فاعترف بذلك وقال قد قلت له ذلك يا رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم تبغضه؟ قال أنا جاره وأنا به خابر والله ما رأيته يصلي صلاة قط إلا هذه الصلاة المكتوبة التي يصليها البر والفاجر قال الرجل سله يا رسول الله هل رآني قط أخرتها عن وقتها أو أسأت الوضوء لها؟ أو أسأت الركوع والسجود فيها؟ فسأله رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فقال لا ثم قال والله ما رأيته يصوم قط إلا هذا الشهر الذي يصومه البر والفاجر قال فسله يا رسول الله هل رآني قط أفطرت فيه أو انتقصت من حقه شيئا؟ فسأله رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لا ثم قال والله ما رأيته يعطي سائلا قط ولا رأيته ينفق من ماله شيئا في شيء من سبيل الله بخير الا هذه الصدقة التي يؤديها البر والفاجر قال فسله يا رسول الله هل كتمت من الزكاة شيئا قط أو ما كست فيها طالبها؟ قال فسأله رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فقال لا فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم قم ان ادرى (1) لعله خير منك
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভালবাসা এবং আল্লাহর উদ্দ্যেশে কাউকে ঘৃণা করা ও এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান
২৩. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, রূহসমূহ স্বভাবজাত ভাবে একই সংগে সন্নিবেশিত ছিল এদের মধ্যে যারা পরস্পরকে চিনে, তারা পৃথিবীতে পরস্পরে সখ্যতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আর যারা সেখানে পৃথক ছিল, তারা এখানেও আলাদা থাকে।
كتاب المحبة والصحبة
باب الترغيب في الحب في الله والبغض في الله والحث على ذلك
عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الأرواح جنود مجندة (3) فما تعارف منها ائتلف وما تناكر منها اختلف
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভালবাসা এবং আল্লাহর উদ্দ্যেশে কাউকে ঘৃণা করা ও এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান
২৪. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি ভালবাসে। অন্য বর্ণনাকারী হাশিম বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের মজা পেতে চায়, সে যেন কোন ব্যক্তিকে ভালবাসে, আর সে ভালবাসা যেন আল্লাহর জন্য হয়।
كتاب المحبة والصحبة
باب الترغيب في الحب في الله والبغض في الله والحث على ذلك
وعنه ايضا عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال من أحب وقال هاشم (5) (من سره) أن يجد طعم الإيمان فليحب المرء ولا يحبه لله عز وجل
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভালবাসা এবং আল্লাহর উদ্দ্যেশে কাউকে ঘৃণা করা ও এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান
২৫. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন, ওহে। যারা আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পরস্পর ভালবাসা স্থাপন করেছিলে আজ আমি তাদের 'আরশের সুশীতল ছায়াতলে স্থান দেব, আর এ দিন আমার ছায়া ছাড়া, আর কোন ছায়াই থাকবে না।
كتاب المحبة والصحبة
باب الترغيب في الحب في الله والبغض في الله والحث على ذلك
وعنه أيضا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله عز وجل يقول أين المتحابون بحلالى (2) اليوم أظلهم في ظلي يوم لا ظل إلا ظلي
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভালবাসা এবং আল্লাহর উদ্দ্যেশে কাউকে ঘৃণা করা ও এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান
২৬. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত বেহেশতে যেতে পারবে না। আর পরস্পর ভালবাসা স্থাপন না করা পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে সে কাজের মূল অথবা চূড়ান্ত কথা বলবো না? আর তা হলো, তোমরা পরস্পর সালামের প্রথা চালু করো।
অন্য বর্ণনায়: আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজের কথা বলবো না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসতে পারবে? আর তা হল, তোমরা পরস্পর সালামের প্রথা চালু করবে।
অন্য বর্ণনায়: আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজের কথা বলবো না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসতে পারবে? আর তা হল, তোমরা পরস্পর সালামের প্রথা চালু করবে।
كتاب المحبة والصحبة
باب الترغيب في الحب في الله والبغض في الله والحث على ذلك
وعنه أيضا يرفعه قال لا تدخلون الجنة حتى تؤمنوا ولا تؤمنوا حتى تحابوا ألا أدلكم على رأس ذلك أو ملاك ذلك افشوا السلام بينكم (وفي رواية) ألا ادلكم على شيء إذا فعلتموه تحاببتم؟ افشوا السلام بينكم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভালবাসা এবং আল্লাহর উদ্দ্যেশে কাউকে ঘৃণা করা ও এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান
২৭. আমর ইবন জুমুহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী করিম (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কোন বান্দা প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবেন না যতক্ষণ না সে কাউকে আল্লাহর উদ্দেশে ভালবাসে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্য কাউকে ঘৃণা করে। যখন সে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালবাসে ও আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করে, সে আল্লাহর প্রকৃত বন্ধুরূপে পরিগণিত হয়, নিশ্চয়ই আমার বান্দার মধ্যে আমার বন্ধু তারা, যারা আমার সৃষ্টির মধ্যে প্রিয় এবং যারা আমার স্মরণে মশগুল থাকে। তখন আল্লাহ্ তাদেরকে স্মরণ করেন (অর্থাৎ তাদের উপর সন্তুষ্ট থাকেন এবং রহমত নাযিল করেন) এবং ফেরেশতাগণও তাদেরকে স্মরণ করে।
كتاب المحبة والصحبة
باب الترغيب في الحب في الله والبغض في الله والحث على ذلك
عن عمرو بن الجموح أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول لا يحق العبد حق صريح الايمان (5) حتى يحب لله ويبغض لله فإذا أحب لله تبارك وتعالى وأبغض لله تبارك وتعالى فقد استحق الولاء من الله تعالى وان أوليائي من عبادي وأحبابي من خلقي الذين يذكرون بذكري (6) واذكرهم بذكرهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালবাসে তাদের পুরস্কার এবং আল্লাহ্ তাদের জন্য বিরাট প্রতিদান ও চিরস্থায়ী নিয়ামত তৈরী করে রেখেছেন
২৮. আবু সা'ঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যারা পরস্পরকে ভালবাসে, জান্নাতে তাদের জন্য কক্ষ তৈরী করে রাখতে আমি দেখেছি, আর তা পূর্ব ও পশ্চিমে উদিত তারকার মত। এরপর বলা হবে: এরা কারা? তখন বলা হবে: এরা ঐ সমস্ত বান্দা, যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালবেসেছিল।
كتاب المحبة والصحبة
باب ثواب المتحابين في الله وما اعده الله لهم من الأجر العظيم والنعيم المقيم
عن أبي سعيد الخدري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان المتحابين لترى غرفهم في الجنة كالكوكب الطالع الشرقي والغربي فيقال من هؤلاء؟ فيقال هؤلاء المتحابون في الله عز وجل
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালবাসে তাদের পুরস্কার এবং আল্লাহ্ তাদের জন্য বিরাট প্রতিদান ও চিরস্থায়ী নিয়ামত তৈরী করে রেখেছেন
২৯. 'ইরবাদ ইবন সারীয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, যারা আমার সন্তুষ্টির উদ্দ্যেশে পরস্পর ভালবাসা স্থাপন করেছিল, আজ আমি তাদেরকে 'আরশের ছায়ার নীচে স্থান দেব। এ দিন আমার ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়াই নেই।
كتاب المحبة والصحبة
باب ثواب المتحابين في الله وما اعده الله لهم من الأجر العظيم والنعيم المقيم
عن العرباض بن سارية قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الله عز وجل المتحابون بحلالي في ظل عرشي يوم لا ظل إلا ظلي
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩০
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালবাসে তাদের পুরস্কার এবং আল্লাহ্ তাদের জন্য বিরাট প্রতিদান ও চিরস্থায়ী নিয়ামত তৈরী করে রেখেছেন
৩০. আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি কোন বান্দাহ আল্লাহর উদ্দ্যেশ্যে আল্লাহর কোন বান্দাকে ভালবাসে, তাহলে সে যেন তার রবকেই সম্মান করলো। (অর্থাৎ সে যেন আল্লাহর আদেশ ও নিষেধকে অনুসরণ করলো।)
كتاب المحبة والصحبة
باب ثواب المتحابين في الله وما اعده الله لهم من الأجر العظيم والنعيم المقيم
عن أبي أمامة قال قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم ما أحب عبد عبد الله عز وجل إلا أكرم ربه عز وجل
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩১
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালবাসে তাদের পুরস্কার এবং আল্লাহ্ তাদের জন্য বিরাট প্রতিদান ও চিরস্থায়ী নিয়ামত তৈরী করে রেখেছেন
৩১. সাহাল ইবন সা'য়াদ আস-সায়ীদী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুমিন সবার আপন হয়, (সে অন্তরঙ্গ হয় এবং তার সাথে অন্তরঙ্গ হওয়া যায়।) যে অন্তরঙ্গ হয় না এবং যার সাথে অন্তরঙ্গ হওয়া যায় না, তার মাঝে কোনো কল্যাণ নেই।
كتاب المحبة والصحبة
باب ثواب المتحابين في الله وما اعده الله لهم من الأجر العظيم والنعيم المقيم
عن سهل بن سعد الساعدي قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم المؤمن مألفة (2) ولا خير فيمن لا يألف ولا يؤلف
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালবাসে তাদের পুরস্কার এবং আল্লাহ্ তাদের জন্য বিরাট প্রতিদান ও চিরস্থায়ী নিয়ামত তৈরী করে রেখেছেন
৩২. আবূ মুসলিম খাওলানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি হিমসের এক মসজিদে প্রবেশ করে দেখি, সেখানে মধ্যবয়সী রাসূল (ﷺ)-এর ত্রিশজন সাহাবী অবস্থান করছেন, তাদের মধ্যে রয়েছে দু'চোখে সুরমা লাগানো, চকচকে দাঁতের অধিকারী একজন যুবক (অন্য বর্ণনায়: উজ্জ্বল চেহারা, কালো ও বড় বড় চোখ ও উজ্জ্বল দাঁত বিশিষ্ট) চুপ করে বসে আছে। আর সম্প্রদায়ের লোকেরা কোন ব্যাপারে যখন মতভেদ করছে, তখন তার সমাধানের জন্য তারা তাঁর দিকে এগিয়ে এসে তাকে প্রশ্ন করছে। (অন্য বর্ণনায়: যখনই তারা কোন ব্যাপারে মতভেদ করছে, সমাধানের জন্য তাঁর আনুগত্য ও তাঁকে অনুসরণ করছে)। তখন আমি আমার পাশে বসা ব্যক্তিকে বললাম, উনি কে? উত্তরে বলা হলো, উনি হলেন- মু'য়ায ইবনে জাবাল (রা)। তখন আমার অন্তরে তার জন্য ভালবাসা সৃষ্টি হলো। এরপর আমি তাদের সাথে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর শেষ পর্যন্ত সে স্থান ত্যাগ করলাম। পরদিন আমি তাড়াতাড়ি মসজিদে উপস্থিত হলাম। তখন মু'য়াজ ইবনে জাবাল (র) একটি খুঁটির পাশে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন। আমি তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তিনি নামায শেষে চুপ করে থাকেন এবং আমার সাথে কোন কথা বলেননি তখন আমি নামায পড়লাম, তারপর বসলাম। তখন তিনি আমাকে চাদরে জড়িয়ে নিয়ে বসলেন এবং চুপ থাকলেন, তিনি আমার সাথে কোন কথা বলেননি এবং আমি ও কোন কথা বলিনি। এরপর আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে ভালবাসি। তিনি বললেন, কি উদ্দেশ্যে তুমি আমাকে ভালবাস? আমি বললাম, আল্লাহর জন্য অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। তিনি আমার চাদরের এক পাশ ধরলেন এবং তাঁর খুব কাছে টেনে নিলেন। এরপর বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যদি সত্যবাদী হন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যারা পরস্পরকে ভালবাসে, তাদের জন্য পরকালে থাকবে নূরের মিম্বর, আর নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষা করবেন।
(অন্য বর্ণনায়, তিনি বলেছেন, তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর 'আরশের সুশীতল ছায়াতলে স্থান পাবে। যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না। আরেক বর্ণনায়: তাদের জন্য নূরের চেয়ার রাখা হবে। আর নবীগণ, সত্যবাদীগণ ও শহীদগণ তাদের বৈঠকের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট ঈর্ষা পোষণ করনে। তিনি বলেন, তারপর আমি বের হলাম এবং 'উবাদা ইবনে সামিত (রা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তাকে বললাম, হে আবু ওয়ালীদ। যারা পরস্পরকে ভালবাসে, আমি কি তোমাকে মু'য়ায ইবনে জাবাল (রা) আমাকে যে হাদীস বলেছেন- সে হাদীসটি বলবো। 'উবাদা ইবনে সামিত (রা) বলেন, আমি তোমাকে নবী করিম (ﷺ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি শুনাবো, মহান আল্লাহ্ বলেন, যারা আমার সন্তুষ্টির আশায় পরস্পরকে ভালবাসে, আমার সন্তুষ্টির আশায় পরস্পর দেখা-সাক্ষাত করে আমার সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে। আমার রেযামন্দীর উদ্দেশ্যে পরস্পর মিলিত হয়। তাদের জন্য আমার ভালবাসা ওয়াজিব হয়ে যায়, অর্থাৎ আমি তাদেরকে ভালবাসি।
(অন্য বর্ণনায়, তিনি বলেছেন, তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর 'আরশের সুশীতল ছায়াতলে স্থান পাবে। যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না। আরেক বর্ণনায়: তাদের জন্য নূরের চেয়ার রাখা হবে। আর নবীগণ, সত্যবাদীগণ ও শহীদগণ তাদের বৈঠকের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট ঈর্ষা পোষণ করনে। তিনি বলেন, তারপর আমি বের হলাম এবং 'উবাদা ইবনে সামিত (রা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তাকে বললাম, হে আবু ওয়ালীদ। যারা পরস্পরকে ভালবাসে, আমি কি তোমাকে মু'য়ায ইবনে জাবাল (রা) আমাকে যে হাদীস বলেছেন- সে হাদীসটি বলবো। 'উবাদা ইবনে সামিত (রা) বলেন, আমি তোমাকে নবী করিম (ﷺ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি শুনাবো, মহান আল্লাহ্ বলেন, যারা আমার সন্তুষ্টির আশায় পরস্পরকে ভালবাসে, আমার সন্তুষ্টির আশায় পরস্পর দেখা-সাক্ষাত করে আমার সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে। আমার রেযামন্দীর উদ্দেশ্যে পরস্পর মিলিত হয়। তাদের জন্য আমার ভালবাসা ওয়াজিব হয়ে যায়, অর্থাৎ আমি তাদেরকে ভালবাসি।
كتاب المحبة والصحبة
باب ثواب المتحابين في الله وما اعده الله لهم من الأجر العظيم والنعيم المقيم
عن أبي مسلم الخولاني قال دخلت مسجد حمص فإذا فيه نحو من ثلاثين كهلا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فإذا فيهم شاب أكحل العينين براق الثنايا (وفي رواية حسن الوجه ادعج العينين اغر الثنايا) ساكت فإذا امترى (4) القوم في شيء اقبلوا عليه فسألوه (وفي رواية فإذا اختلفوا في شيء فقال قولا انتهوا إلى قوله) (5) فقلت لجليس لي من هذا؟ قال هذا معاذ بن جبل فوقع له في نفسي حب فكنت معهم حتى تفرقوا ثم هجرت (6) إلى المسجد فإذا معاذ بن جبل قائم يصلي إلى سارية فسكت لا يكلمني فصليت ثم جلست فاحتبيت برداء لي ثم جلس فسكت لا يكلمني وسكت لا اكله ثم قلت والله اني لأحبك قال فيم تحبني؟ قال قلت في الله تبارك وتعالى فأخذ بحبوني فجرني اليه هنية (7) ثم قال ابشر ان كنت صادقا سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول المتحابون في جلالي لهم منابر من نور يغبطهم النبيون (8) والشهداء (وفي رواية) احب انه قال في ظل الله يوم لا ظل إلا ظله (وفي أخرى) يوضع لهم كراسي من نور يغبطهم بمجلسهم من الرب النبيون والصديقون والشهداء قال فخرجت فلقيت عبادة بن الصامت فقلت يا أبا الوليد ألا أحدثك بما حدثني معاذ بن جبل في المتحابين؟ قال فأنا احدثك عن النبي صلى الله عليه وسلم يرفعه إلى الرب عز وجل قال حقت محبتي (9) للمتحابين في وحقت محبتي للمتزاورين في وحقت محبتي للمتباذلين في وحقت محبتي للمتواصلين في
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালবাসে তাদের পুরস্কার এবং আল্লাহ্ তাদের জন্য বিরাট প্রতিদান ও চিরস্থায়ী নিয়ামত তৈরী করে রেখেছেন
৩৩. আবু মালিক আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হে মানুষ শুন, বুঝ এবং জেনে রাখো, আল্লাহর কিছু বান্দা আছে, যারা আম্বীয়ায়ে কেরাম ও শহীদদের সমতুল্য নয়, তবে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের বৈঠকে বসা ও তাদের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট ঈর্ষা প্রকাশ করবে। তখন অনেক দূর থেকে একজন অপরিচিত ব্যক্তি আসলেন এবং নবী করিম (ﷺ)-এর দিকে হাত দিয়ে ইংগিত করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কিছু লোক আম্বীয়াগণ ও শহীদগণের সমতুল্য নয়। অথচ আম্বীয়াগণ ও শহীদগণ তাদের বৈঠকে বসা ও তাদের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট ঈর্ষা প্রকাশ করবে, সুতরাং আপনি আমাদের নিকট তাদের গুণাবলী বর্ণনা করুন। অর্থাৎ তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন। বেদুঈনের এ প্রশ্নে রাসূল (ﷺ)-এর চেহারায় আনন্দ ফুটে উঠলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তারা পরস্পর অপরিচিত ও আগন্তুক মানুষ, তাদের মাঝে আত্মীয়তা ও বৈবাহিক সূত্রের কোন সম্পর্ক নেই, আর তারা দ্বীনের সম্পর্ক ছাড়া অন্য কোন কারণে একত্রিত হয় না। তারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পর পরস্পরকে ভালবাসে ও মিলিত হয়। আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের বসার জন্য দূরের মিম্বর প্রস্তুত রাখবেন এবং তার উপর তাদেরকে বসাবেন। সেদিন তাদের চেহারা ও পোশাক জ্যোতির্ময় হবে। কিয়ামতের দিন মানুষ যখন আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, তখন তারা আতঙ্কিত হবে না, বস্তুত তারা আল্লাহ তা'আলার বন্ধু, যাদের কোন ভয় ও চিন্তা নেই।
كتاب المحبة والصحبة
باب ثواب المتحابين في الله وما اعده الله لهم من الأجر العظيم والنعيم المقيم
عن أبي مالك الأشعري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا ايها الناس اسمعوا واعقلوا واعلموا أن لله عز وجل عبادا ليسوا بأنبياء ولا شهداء يغبطهم الأنبياء والشهداء على مجالسهم وقربهم من الله فجاء رجل من الاعراب من قاصية الناس وألوى بيده إلى نبي الله صلى الله عليه وسلم فقال يا نبي الله ناس ليسوا بانبياء ولا شهدا يغبطهم الأنبياء والشهداء على مجالسهم وقربهم من الله انعتهم لنا يعني صفهم لنا فسر وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم لسؤال الأعرابي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هم ناس من أفناء الناس ونوازع القبائل لم تصل بينهم أرحام متقاربة تحابوا في الله وتصافوا يضع الله لهم يوم القيامة منابر من نور فيجلسهم عليها فيجعل وجوههم نورا وثيابهم نورا يفزع الناس يوم القيامة ولا يفزعون وهم أولياء الله تعالى الذين لا خوف عليهم ولا هم يحزنون
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। কোন ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসলে তাকে অবহিত করা উচিত
৩৪. আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পাশে দাঁড়ানো ছিলাম, সে সময় জনৈক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। তখন গোত্রের এক লোক বললো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আমি লোকটাকে ভালবাসি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি তাকে এ ব্যাপারে অবহিত করেছো? সে বললো, না। তিনি বললেন, উঠ এবং তাকে অবহিত কর। বর্ণনাকারী বলেন, সে উঠে তার নিকট গেল এবং বললো, হে অমুক। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় ভালোবাসি। সে বললো, আল্লাহ্ তোমাকে ভালোবাসেন, যার জন্য তুমি আমাকে ভালবেসেছ। (অন্য শব্দে)। উঠ এবং তোমাদের পরস্পরের মাঝে দৃঢ় বন্ধুত্বের কথা তাকে অবহিত কর।
كتاب المحبة والصحبة
باب من أحب انسانا فليخبره
عن أنس بن مالك قال كنت جالسا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ مر رجل فقال رجل من القوم يا رسول الله اني لأحب هذا الرجل قال هل أعلمته بذلك؟ قال لا قال قم فأعلمه قال فقام اليه فقال يا هذا والله اني لأحبك في الله قال أحبك الذي احببتني له (وفي لفظ) قم فأخبره تثبت المودة بينكما
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৫
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। কোন ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসলে তাকে অবহিত করা উচিত
৩৫. আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যদি তোমার সাথীকে ভালোবাসে, তাহলে সে যেন তার বাড়ি যায় এবং তাকে অবহিত করে যে, আমি তোমাকে আল্লাহর উদ্দেশ্য ভালোবাসি, সে জন্য তোমার বাড়িতে এসেছি।
كتاب المحبة والصحبة
باب من أحب انسانا فليخبره
عن أبي ذر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إذا أحب احدكم صاحبه فليأته في منزله فليخبره انه يحبه لله وقد جئتك في منزلك
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৬
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ্ তা'আলার উদ্দেশ্য ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের অধিকার
৩৬. ইবন 'উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। সে- না তার উপর যুলুম করতে পারে, না তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে পারে। পুনরায় তিনি বলেন, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তার শপথ করে বলছি। তারা উভয় পরস্পর পরস্পর থেকে বিছিন্ন হবে না। যতক্ষণ না তাদের কেউ অপরাধে লিপ্ত হয়। তখন আল্লাহর উদ্দেশ্যই পরস্পর পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। তিনি আরো বলেন, একজন মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের উপর ছয়টি অধিকার রয়েছে। যখন সে হাঁচি দেবে, তখন আলহামদুলিল্লাহ বলবে; যখন সে রোগাক্রান্ত হবে, তখন তার সেবা করবে, উপস্থিত ও অনুপস্থিতে (পরামর্শ চাইলে) উপদেশ দেবে। সাক্ষাতে সালাম দেবে, যখন তোমাকে দাওয়াত দেবে তা গ্রহণ করবে, মৃত্যুর পর তার জানাযার অনুসরণ করবে। আর তিনি তিন দিনের বেশী কোন মুসলমান ভাইকে পরিত্যাগ করতে নিষেধ করেছেন।
كتاب المحبة والصحبة
باب حقوق الصحبة والمؤاخاة في الله تعالى
عن ابن عمر ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول المسلم أخو المسلم لا يظلمه ولا يخذله ويقول والذي نفس محمد بيده ما تواد اثنان ففرق بينهما إلا بذنب يحدثه أحدهما (6) وكان يقول للمرء المسلم على أخيه ست يشتمه إذا عطس ويعوده إذا مرض وينصحه إذا غاب ويشهده ويسلم عليه إذا لقيه ويجيبه إذا دعاه ويتبعه اذا مات ونهى عن هجرة المسلم أخاه فوق ثلاث
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৭
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ্ তা'আলার উদ্দেশ্য ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের অধিকার
৩৭. হাসান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন সুলায়ত গোত্রের জনৈক ব্যক্তি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা আমি নবী করিম (ﷺ)-এর নিকট আসলাম, তখন তিনি একদল লোকের সাথে কথা বলছিলেন। আমি তাকে বলতে শুনলাম; তিনি বলেন, এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। সে তার উপর যুলুম করতে পারে না, হীন-জ্ঞান করতে পারে না, তাকওয়া এখানেই আছে। হাম্মাদ (রা) বলেন, একথা বলে তিনি হাত দিয়ে নিজের বক্ষস্থলের দিকে ইশারা করেন। দু'ব্যক্তি পরস্পর পরস্পরকে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালবাসবে। তবে তাদের মধ্যে কেউ যদি কোন খারাপ কাজ করে, তখন তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে। তবে খারাপ কাজ সম্পাদনকারী দোষী, একথা তিনি তিনবার বলেন।
كتاب المحبة والصحبة
باب حقوق الصحبة والمؤاخاة في الله تعالى
عن الحسن حدثني رجل من بني سليط قال أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وهو في أزفلة (2) من الناس فسمعته يقول المسلم أخو المسلم لا يظلمه ولا يخذله التقوى ههنا قال حماد وقال بيده إلى صدره وما تواد رجلان في الله عز وجل فتفرق بينهما الا بحدث يحدثه أحدهما والمحدث شر والمحدث شر
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ্ তা'আলার উদ্দেশ্য ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের অধিকার
৩৮. আবু তাইবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা শুরাহবীল ইব্ন সামত 'আমর ইবন 'আবাসা আস-সুলামীকে ডেকে বললেন, হে 'আবাসা তুমি কি আমাকে এমন একটি হাদীস শুনাবে, যা তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছ এবং সেখানে অতিরিক্ত ও মিথ্যা বলা হয়নি এবং তুমি ছাড়া আর কেউ শুনেছে সেটাও আমার কাছে বর্ণনা কর। সে বললো, হাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, যারা আমার সন্তুষ্টির আশায় পরস্পরকে ভালবাসে, আমার উদ্দেশ্যে পরস্পর (জিহাদে) সারিবদ্ধ হয়, আমার উদ্দেশ্যে পরস্পর দেখা সাক্ষাত করে, আমার উদ্দেশ্যে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, আমার উদ্দেশ্যে পরস্পরকে অপছন্দ করে, তাদের ভালবাসা আমার উপর ওয়াজিব হয়ে যায়, অর্থাৎ আমি তাদের ভালোবাসি।
كتاب المحبة والصحبة
باب حقوق الصحبة والمؤاخاة في الله تعالى
عن أبي ظبية قال ان شرحبيل بن السمط دعا عمرو بن عبسة السلمي رضي الله عنه فقال يابن عبسة هل أنت محدثي حديثا سمعته أنت من رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس فيه تزيد ولا كذب ولا تحدثنيه عن آخر سمعه منه غيرك؟ قال نعم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان الله عز وجل يقول قد حقت (5) محبتي للذين يتحابون من اجلي وحقت محبتي للذين يتصافون من أجلي وحقت محبتي للذين يتزاورون من أجلي وحقت محبتي للذين يتباذلون من أجلي وحقت محبتي للذين يتنافرون من أجلي
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ কোন সাথীর যিয়ারত করা ও অসুস্থ হলে সেবা করার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৩৯. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (ﷺ) বলেন, যখন কোন ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে তার ভাইকে দেখার জন্য অন্য গ্রামে যায়, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য রাস্তায় একজন ফেরেশতা মোতায়েন করেন। সে ব্যক্তি যখন তার কাছে রওয়ানা দেয়, তখন ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাসা করে: তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছে করেছ? সে বলে, আমি অমুক ব্যক্তিকে দেখতে যেতে চাই। ফেরেশতা বলে, সে কি তোমার আত্মীয়? সে বলে, না। ফেরেশতা বলে, তার জন্য কি তোমার কোন অনুগ্রহ আছে, যা তুমি বৃদ্ধি করতে চাও? সে বলে, না। ফেরেশতা বলে, তাহলে তুমি কেন তার নিকট যাচ্ছ? সে বলে, আমিতো শুধু আল্লাহর জন্যই তাকে ভালবাসি। তখন ফেরেশতা বলে, আমি আল্লাহর কাছ থেকে তোমার কাছে এ পয়গাম নিয়ে এসেছি যে, আল্লাহ্ তোমাকে ভালবাসেন। কেননা, তুমি তোমার ভাইকে তাঁর জন্য ভালবেসেছ।
كتاب المحبة والصحبة
باب الترغيب في زيارة الصاحب وعيادته إذا مرض
عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال خرج رجل يزور أخاه في الله عز وجل في قرية أخرى فأرصد الله عز وجل بمدرجته (7) ملكا فلما مر به قال أين تريد؟ قال أريد فلانا قال لقرابة؟ قال لا قال فلنعمة له عندك تربها؟ (8) قال لا قال فلم تأتيه قال اني احبه في الله قال فإني رسول الله اليك انه يحبك بحبك اياه فيه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০
ভালবাসা ও বন্ধুত্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ কোন সাথীর যিয়ারত করা ও অসুস্থ হলে সেবা করার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৪০. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে তার কোন মুসলমান ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়, অথবা রুগ্নকে দেখতে যায়; তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, তুমি আনন্দিত হও, বেহেশতে তোমার উচ্চ মর্যাদা হোক। (অতিরিক্ত বর্ণনায়:) আনন্দিত হওয়ার বিনিময়ে তোমার পথ চলা কল্যাণকর হোক।
كتاب المحبة والصحبة
باب الترغيب في زيارة الصاحب وعيادته إذا مرض
وعنه أيضا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا زار المسلم اخاه في الله أوعاده قال الله عز وجل طبت وتبوأت من الجنة منزلا (زاد في رواية) بعد قوله طبت (وطاب ممشاك)
তাহকীক: