মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

নেক আমল অর্জনে উৎসাহিত করা অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৪৮ টি

হাদীস নং: ৪১
নেক আমল অর্জনে উৎসাহিত করা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উত্তম নেক আমলের অভ্যাস করা এবং এর বিপরীত অভ্যাস ত্যাগ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৪১. আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে থাকা অবস্থায় আমি তাঁর কাছে এসে বসলাম। তখন তিনি বললেন, হে আবু যর তুমি নামায পড়েছ? আমি বললাম, না, পড়িনি। তিনি বললেন, উঠে গিয়ে নামায পড়। তারপর আমি উঠে নামায পড়লাম, এরপর পুনরায় বসলাম। তিনি বললেন, হে আবু যর! মানুষ ও জ্বিন শয়তানের অনিষ্টকারিতা থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। মানুষের মধ্যে কি শয়তান আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। নামায সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, উত্তম বিষয় হলো (অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণ করার পর নামায পড়া ফরয হিসাবে তার দায়িত্ব)-যে ব্যক্তি ইচ্ছে করে, সে শুধু ফরয পড়তে পারে, আর যে ব্যক্তি ইচ্ছে করে সে নফল নামায পড়ে নেকী অর্জন করতে পারে। আবু যর (রা) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা)। রোযা সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, রোযা ফরয, লাভজনক; আল্লাহর নিকট এর বিশেষ পুরস্কার রয়েছে। আমি সদকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ এর পুরস্কার দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। কি ধরনের সদকা সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, সবচেয়ে উত্তম সদকা হলো ফকিরকে দান করা, অথবা গোপনে ফকিরকে দান করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা) আম্বিয়াদের কে প্রথম এসেছেন? তিনি বললেন, আদম (আ)। আমি বললাম, তিনি কি নবী ছিলেন? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। তিনি নবী ছিলেন, তার কাছে ওহী আসতো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। কতজন রাসূল পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, তিনশত এবং দশের উপরে আরো কিছু সংখ্যক। তিনি অন্য সময় বলেন, পনের জনের একটি বিরাট দল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার উপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কি নাযিল করা হয়েছে? তিনি বললেন, আয়াতুল কুরসী: اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহ নেই, তিনি জীবিত ও চিরস্থায়ী (অন্য বর্ণনায় তিনি পুরো আয়াতগুলো পড়লেন।)
كتاب الترغيب في صالح الأعمال
باب في الترغيب في خصال مجتمعه من أفضل أعمال البر والنهي عن ضدها
عن أبي ذر قال أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في المسجد فجلست فقال يا أبا ذر هل صليت؟ قلت لا قال قم فصل فقمت فصليت ثم جلست فقال يا أبا ذر تعوذ بالله من شر شياطين الأنس والجن قلت يا رسول الله وللانس شياطين؟ قال نعم (5) قلت يا رسول الله الصلاة قال خير موضوع (6) من شاء أقل ومن شاء أكثر قال قلت يا رسول الله الصوم قال فرض مجزئ وعند الله مزيد (7) قلت يا رسول الله فالصدقة قال أضعاف مضاعفة (8) قلت يا رسول الله فأيها أفضل؟ قال جهد من مقل (9) أو سر إلى فقير قلت يا رسول الله أي الأنبياء كان أولا؟ قال آدم قلت ونبيا كان؟ قال نعم نبي مكلم (10) قال قلت يا رسول الله كم المرسلون؟ قال ثلاثمائة وبضعة عشر وقال مرة وخمسة عشرة جما غفيرا (11) قال قلت يا رسول الله أيما أنزل عليك أعظم؟ قال آية الكرسي الله لا إله إلا هو الحي القيوم (وفي رواية حتى ختم الآية)
হাদীস নং: ৪২
নেক আমল অর্জনে উৎসাহিত করা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উত্তম নেক আমলের অভ্যাস করা এবং এর বিপরীত অভ্যাস ত্যাগ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৪২. মু'য়ায ইবন জাবল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের নামাযের সময় আমাদের থেকে আটকে থাকেন। শেষ পর্যন্ত সূর্য উদিত হয়ে ফজরের নামায ছুটে যাওয়ার উপক্রম হয়। তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাড়াতাড়ি বের হয়ে নামায আদায় করলেন এবং তা অন্য দিনের চেয়ে সংক্ষিপ্ত করলেন। তিনি সালাম ফিরিয়ে বললেন, তোমরা তোমাদের কাতারে অবস্থান কর। একথা বলে তিনি আমাদের সামনে এসে বললেন, প্রভাতে তোমাদের নিকট আগমনে যা আমাকে আটক রাখে, আমি যে বিষয় তোমাদের সাথে কথা বলবো, আমি রাতে নামাযে দাঁড়িয়ে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী নামায পড়লাম, নামাযে আমার তন্দ্রা এসেছিল, শেষ পর্যন্ত জাগ্রত হয়ে আমি আমার রবকে অতি উত্তম আকৃতিতে দেখলাম। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ (ﷺ)। তুমি কি জান, সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ সমাবেশে কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে? আমি বললাম, হে আমার রব। আমি জানি না। এরপর আমি দেখলাম, তিনি তাঁর হাতের তালু আমার দু'কাঁধের মাঝে রাখলেন, যার শীতল স্পর্শ আমি আমার হৃদয়ে অনুভব করছিলাম। আর এ সময় আমার কাছে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যায় এবং সবকিছু আমি অবগত হই। তার পর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ। কি নিয়ে ফেরেস্তারা ঝগড়া করছে? আমি বললাম, কাফ্ফারা নিয়ে। তিনি বললেন, কাফফারা কি? আমি বললাম, জামা'য়াতে সালাত আদায়ের জন্য পা বাড়ানো, সালাত আদায়ের পরে মসজিদে বসা, কষ্টকর মনে হলেও ওযুর পানি যথাযথস্থানে পৌছানো। তিনি বললেন আদ দারাজাত কি? অর্থাৎ কিসে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়? আমি বললাম, গরীবের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করায়, কোমল কথা বলায়, মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামায পড়ায়। আল্লাহ বললেন, তুমি চাও। আমি বললাম, হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট ভাল কাজ করার, অসৎ কাজ বর্জনের এবং মিসকিনদেরকে যাতে ভালবাসতে পারি সে প্রার্থনা করি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমার উপর রহমত নাযিল কর, যখন তোমার বান্দাগণ ফিতনায় পতিত হবে এ ফিতনা থেকে তুমি আমাকে রক্ষা করো। আমি তোমার ভালবাসা চাই, যে তোমাকে ভালবাসে তার ভালবাসা চাই, আমি যেন এমন কাজকে ভালবাসি, যা আমাকে তোমার ভালবাসার নিকটবর্তী করে দেবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা সত্য স্বপ্ন। সুতরাং তোমরা এ কথাগুলো পালন করবে এবং এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে।
كتاب الترغيب في صالح الأعمال
باب في الترغيب في خصال مجتمعه من أفضل أعمال البر والنهي عن ضدها
عن معاذ بن جبل قال احتبس علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات غداة عن صلاة الصبح حتى كدنا نتراءى قرن الشمس (3) فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم سريعا فثوب بالصلاة (4) وتجوز في صلاته فلما سلم قال كما أنتم على مصافحكم ثم أقبل إلينا فقال إني سأحدثكم ما حبسني عنكم الغداة إني قمت من الليل فصليت ما قدر لي فنعست في صلاتي حتى استيقظت فإذا أنا بربي عز وجل في أحسن صورة (5) فقال يا محمد أتدري فيم يختصم الملأ الأعلى؟ قلت لا أدري يا رب؟ فرأيته وضع كفه بين كتفي حتى وجدت برد أنامله بين صدري (6) فتجلى لي كل شيء وعرفت فقال يا محمد فيم يختصم الملأ الأعلى؟ قلت في الكفارات قال وما الكفارات؟ قلت نقل الأقدام إلى الجمعات وجلوس في المسجد بعد الصلاة واسباغ الوضوء عند الكريهات قال وما الدرجات؟ قلت اطعام الطعام ولين الكلام والصلاة والناس نيام قال سل: قلت اللهم إني اسألك فعل الخيرات وترك المنكرات وحب المساكين وأن تغفر لي وترحمني وغذا أردت فتنة في قومي فتوفني غير مفتون وأسألك حبك وحب من يحبك وحب عمل يقربي إلى حبك وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنها حق (7) فادرسوها وتعلموها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৩
নেক আমল অর্জনে উৎসাহিত করা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উত্তম নেক আমলের অভ্যাস করা এবং এর বিপরীত অভ্যাস ত্যাগ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৪৩. 'আবদুর রহমান ইবনে 'আইশ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ)-এর কিছু সংখ্যক সাহাবী বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনন্দ মনে, হাস্যোজ্জ্বল চেহারা বা প্রদীপ্ত চেহারায় প্রভাতে তাদের নিকট বের হয়ে আসেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আমরা আপনাকে আনন্দ, হাস্যোজ্জ্বল অথবা প্রদীপ্ত চেহারায় দেখতে পাচ্ছি। তিনি জবাব দিলেন, শোন, যে জিনিস আমাকে তোমাদের কাছে আসতে বারণ করেছে। আমার রব উত্তম চেহারায় রাতে আমার নিকট এসে বললেন, হে মুহাম্মদ (ﷺ)। আমি বললাম, হে আমার রব। আমি উপস্থিত ও সৌভাগ্যবান। তিনি বললেন, ফেরেশতারা তাদের সমাবেশে কিসের জন্য ঝগড়া করে? তিনি বললেন, হে আমার রব। তা আমার জানা নেই। এ কথা তিনি দু'বার অথবা তিনবার বললেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তারপর মহান আল্লাহ্ তাঁর হাত আমার কাঁধের মাঝখানে রাখলেন, তখন আমি আমার সিনায় ঠাণ্ডা অনুভব করছিলাম। এ সময় আমার নিকট আসমান ও যমীনের সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যায়। তখন তিনি এ আয়াতটি তেলাওয়াত করেন,
وكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلِيَكُونَ مِنَ الْمُوقِنِينَ "এভাবে আমি ইবরাহীমকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর পরিচালনা ব্যবস্থা দেখাই, যাতে সে নিশ্চিত বিশ্বাসীগণের অন্তর্ভুক্ত হয়।" (বাকারা: ৭৪)
এরপর তিনি বললেন, মর্যাদাবান ফেরেশতারা তাদের সমাবেশে কি নিয়ে ঝগড়া করছে? আমি বললাম, কাফফারাত বা গুনাহ মাফের বিষয় নিয়ে। তিনি বললেন, কাফ্ফারাত কি? আমি বললাম, পায়ে হেঁটে নামাযের জামায়াতে অংশ গ্রহণ করা, নামাযের পরে মসজিদে বসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা, কষ্টের সময় অযুর স্থানে যথাযথভাবে পানি পৌছানো। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তা পালন করবে, সে উত্তমভাবে জীবন যাপন করবে উত্তমভাবে মৃত্যুবরণ করবে, তার গুনাহ এমনভাবে ক্ষমা করা হবে, যেমন সে তার মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হওয়ার সময় নিষ্পাপ ছিল। আর যে কাজে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, তাহলো- সুন্দর কথা বলা, সালামের প্রচলন করা, গরীবদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা এবং লোকেরা যখন নিদ্রিত থাকে তখন রাতে নামায পড়া। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ (ﷺ)। যখন তুমি নামায পড়বে, তখন বলবে: হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট উত্তম জিনিসের কামনা, নিষিদ্ধ কাজ বর্জন ও মিসকিনদের ভালবাসার প্রার্থনা করি। আপনি আমার তাওবা কবুল করুন। আর যখন আপনি মানুষকে পরীক্ষায় ফেলতে চাইলেন, তখন আমাকে পরীক্ষায় না ফেলে মৃত্যু দিবেন।
كتاب الترغيب في صالح الأعمال
باب في الترغيب في خصال مجتمعه من أفضل أعمال البر والنهي عن ضدها
عن عبد الرحمن بن عائش عن بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج عليهم ذات غذوة وهو طيب النفس مسفر الوجه أو مشرق الوجه فقلنا يا رسول الله إنا نراك طيب النفس مسفر الوجه أو مشرق الوجه فقال وما يمنعني وأتاني ربي عز وجل الليلة في أحسن صورة قال يا محمد قلت لبيك ربي وسعديك قال فيم يختصم الملأ الأعلى؟ قلت لا أدري أي رب قال ذلك مرتين أو ثلاثا قال فوضع كفيه بين كتفي فوجدت برها بين ثديي حتى تجلى لي ما في السمواقت وما في الأرض ثم تلا هذه الآية (وكذلك نري إبراهيم ملكوت السموات والأرض وليكون من الموقنين) ثم قال يا محمد فيم يختصم الملأ الأعلى؟ قال قلت في الكفارات قال وما الكفارات؟ قلت المشي على الأقدام إلى الجماعات والجلوس في المسجد خلاف الصلوات وابلاغ الوضوء في المكاره قال من فعل ذلك عاش بخير ومات بخير وكان من خطيئته كيوم ولدته أمه ومن الدرجات طيب الكلام وبذل السلام وإطعام الطعام والصلاة بالليل والناس نيام قال يا محمد إذا صليت فقل اللهم إني اسألك الطيبات وترك المنكرات وحب المساكين وأن تتوب علي وإذا أردت فتنة في الناس فتوفني غير مفتون
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪
নেক আমল অর্জনে উৎসাহিত করা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উত্তম নেক আমলের অভ্যাস করা এবং এর বিপরীত অভ্যাস ত্যাগ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৪৪. মু'আয (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি তোমাকে কল্যাণের পথের সংবাদ দেব? রোযা ঢালস্বরূপ, সাদকা গুনাহগুলোকে মিটিয়ে দেয়, যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়। বান্দার রাতে দাঁড়ানের মধ্যে কল্যাণ রয়েছে। এরপর তিনি উক্ত আয়াত পাঠ করেন,
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ "তাদের দেহ-পার্শ্ব বিছানা থেকে এমনভাবে আলাদা হয়ে যায় যে, তারা তাদের রবকে ডাকতে থাকে ভয়ে ও আশায়...। (সূরা সাজদা, আয়াত: ১৬)
كتاب الترغيب في صالح الأعمال
باب في الترغيب في خصال مجتمعه من أفضل أعمال البر والنهي عن ضدها
عن معاذ أن النبي صلى الله عليه وسلم قال سأنبئك بأبواب من الخير الصوم جنة والصدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار وقيام العبد من الليل ثم قرأ (تتجافى جنوبهم عن المضاجع) الآية
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫
নেক আমল অর্জনে উৎসাহিত করা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উত্তম নেক আমলের অভ্যাস করা এবং এর বিপরীত অভ্যাস ত্যাগ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৪৫. আবু তামীমা (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁর গোত্রের জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসে, অথবা সে বললো, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেলাম, এ সময় এক ব্যক্তি এসে বললো, তুমি কি আল্লাহর রাসুল? অথবা বললো, তুমি কি মুহাম্মদ? তিনি বললেন, হ্যাঁ সে বললো, বিপদে কাকে ডাকব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এক আল্লাহকে ডাকবে। তুমি যদি কোন বিপদে পড়, তখন তাঁকে ডাকবে। তিনি তোমার বিপদ দূর করে দিবেন। যখন কোন বছর শুষ্কতা শুরু হয়, তখন তাঁর কাছে চাবে, তিনি তোমাদের জন্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে দিবেন। যে ব্যক্তি নির্জন মরুভূমিতে অবস্থান করে এবং তার প্রয়োজনীয় জিনিস হারিয়ে ফেলে, তাঁর কাছে চাইলে তিনি তা ফিরিয়ে দিবেন। এসব কথা শুনে এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর সে বলে, হে আল্লাহর রাসূল (সা)। আমাকে উপদেশ দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উদ্দেশ্যে বললেন, কোন জিনিসকে গালি দিবে না, অথবা কাউকে (রাবী সন্দেহে পড়েছেন)। সে বলল, এ অসিয়ত শুনার পর থেকে আমি আমার উট ও বকরীকে কখনও গালি দেইনি। তুমি ভাল কাজের জন্য কোন জিনিসকে তুচ্ছ মনে করবে না, যদিও সেটা তোমার ভাইয়ের সাথে কথা বলার জন্য তোমার চেহারা প্রদর্শন করাও হয়। তুমি পানি পানকারীর পাত্র ভরে দেওয়ার জন্য তোমার বালতি খালি রাখবে। নেসফ সাকের সামান্য নীচে কাপড় পরবে, যদি এটা স্বীকার কর, তাহলে পায়ের গীট পর্যন্ত। সাবধান! তোমার ইজার বা পায়জামা নীচের দিকে ঝুলিয়ে দিবে না, এটি অহঙ্কারীর কাজ। আর আল্লাহ অহংকারীকে ভালবাসেন না।
كتاب الترغيب في صالح الأعمال
باب في الترغيب في خصال مجتمعه من أفضل أعمال البر والنهي عن ضدها
وعن أبي تميمة عن رجل من قومه (4) أنه أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم أو قال شهدت رسول الله صلى الله عليه وسلم وأتاه رجل فقال أنت رسول الله أو قال أنت محمد؟ فقال نعم قال فإلام تدعو؟ قال أدعو إلى عبادة الله وحده من إذا كان بك ضر فدعوته كشفه عنك ومن إذا أصابك عام سنة (1) فدعوته أنبت لك ومن إذا كنت في أرض قفر فأضللت (2) فدعوته رد عليك قال فاسلم الرجل ثم قال أوصني يا رسول الله فقال له لا تسبن شيئا أو قال أحدا شك الحكم (أحد الرواة) قال فما سببت شيئا بعيرا ولا شاة منذ أوصاني رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تزهد في المعروف (3) ولو ببسط وجهك إلى أخيك وأنت تكلمه وأفرغ من دلوك في إناء المستسقي واتزر إلى نصف الساق فإن أبيت فإلى الكعبين وإياك واسبال الأزرار قال فإنها من المخيلة والله لا يحب المخيلة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৬
নেক আমল অর্জনে উৎসাহিত করা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উত্তম নেক আমলের অভ্যাস করা এবং এর বিপরীত অভ্যাস ত্যাগ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৪৬. আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। একদা জনৈক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, আপানি আমাকে উপদেশ দিন। আবু সাঈদ খুদরী (রা) বললেন, তুমি এমন প্রশ্ন করেছ, যা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পূর্বেই করেছিলাম। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহকে ভয় করবে, এটা প্রত্যেক জিনিষের মূল। তোমাদের জন্য জিহাদ করা ফরয, এটি ইসলামের বৈরাগ্য। তুমি আল্লাহর যিকির ও কুরআন তেলাওয়াত করবে, এটা আকাশে তোমাকে শান্তি দেবে এবং যমীনে তোমাকে স্মরণ করবে।
كتاب الترغيب في صالح الأعمال
باب في الترغيب في خصال مجتمعه من أفضل أعمال البر والنهي عن ضدها
عن أبي سعيد الخدري أن رجلا جاءه فقال أوصني فقال سألت عما سألت عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم من قبلك أوصيك بتقوى الله فإنه رأس كل شيء (6) وعليك بالجهاد فإنه رهبانية الإسلام (7) وعليك بذكر الله وتلاوة القرآن فإنه روحك (8) في السماء وذكرك في الأرض
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৭
নেক আমল অর্জনে উৎসাহিত করা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উত্তম নেক আমলের অভ্যাস করা এবং এর বিপরীত অভ্যাস ত্যাগ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৪৭. সাহাল ইবন মু'আয ইবনে আনাস (রা) তার পিতা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, সবচেয়ে উত্তম চরিত্র হলো, যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তুমি তার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখবে, যে তোমাকে কিছু দেয় না, তাকে তুমি দান করবে, আর যে তোমাকে গালি দেয়, তুমি তাকে ক্ষমা করে দেবে।
(তাবারানী)
كتاب الترغيب في صالح الأعمال
باب في الترغيب في خصال مجتمعه من أفضل أعمال البر والنهي عن ضدها
عن سهل بن معاذ بن أنس عن أبيه عن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم أنه قال أفضل الفضائل (11) أن تصل من قطعك وتعطي من منعك (12) وتصفح عمن شتمك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৮
নেক আমল অর্জনে উৎসাহিত করা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উত্তম নেক আমলের অভ্যাস করা এবং এর বিপরীত অভ্যাস ত্যাগ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৪৮. শায়বা আল খুদারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা 'উমর ইবনে 'আবদুল আজিজ (রা)-এর নিকট ছিলাম। আমাদের নিকট উরওয়া ইবনে যুবাইর (র) হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি 'আইশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। 'আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তিনটি জিনিসের উপর শপথ কর। ইসলামের মধ্যে যার অংশ নেই, আল্লাহ্ তাকে ঐ ব্যক্তির মত করবেন না যার অংশ রয়েছে। ইসলামের অংশ তিনটি: ফরয নামায, রমযানের রোযা ও যাকাত দান, দুনিয়াতে আল্লাহকে যে অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার অভিভাবকত্ব অন্যের কাছে ন্যস্ত করবেন না। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কাউকে ভালবাসে, আখিরাতে সে তার সাথে একত্রে অবস্থান করবে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি ভাল মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখবে, সে তাদের দলে থাকবে; আর যে খারাপ লোকের সাথে সম্পর্ক রাখবে, সে তাদের সাথেই থাকবে। চতুর্থ তুমি যদি এসবের উপর শপথ কর, তাহলে তুমি এমনভাবে ফিরে আসবে, যাতে তোমার কোন অপরাধ থাকবে না। দুনিয়াতে কোন ব্যক্তি যদি অন্যের কোন দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে, তবে আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। 'উমর ইবনে 'আবদুল আযীয (র) বলেন, তোমরা যখন এরূপ হাদীস শুনবে, যেরূপ হাদীস উরওয়াহ (রা) 'আয়েশা (রা)-এর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, তোমরা তা সংরক্ষণ করবে।
كتاب الترغيب في صالح الأعمال
باب في الترغيب في خصال مجتمعه من أفضل أعمال البر والنهي عن ضدها
عن شيبة الحضرمي قال كنا عند عمر بن عبد العزيز فحدثنا عروة بن الزبير عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ثلاث أحلف عليهن لا يجعل الله عز وجل من له سهم في الاسلام كمن لا سهم له فاسهم الاسلام ثلاثة الصلاة (2) والصوم والزكاة ولا يتولى الله عز وجل عبدا في الدنيا فيوليه غيره يوم القيامة ولا يحب رجلا قوما إلا جعله عز وجل معهم (3) والرابعة لو حلفت عليها رجوت أن لا آثم لا يستر الله عز وجل عبدا في الدنيا إلا ستره يوم القيامة فقال عمر بن عبد العزيز إذا سمعتم مثل هذا الحديث من مثل عروة يرويه عن عائشة عن النبي صلى الله عليه وسلم فاحفظوه
tahqiq

তাহকীক: