মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
তাওবা অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৪৭ টি
হাদীস নং: ২১
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: তাওবা কবুল হওয়ার সময় সম্পর্কে
২১. আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবা কবুল করেন, অথবা তার বান্দাকে ক্ষমা করেন, যতক্ষণ না তার মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি হয়। তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অন্তরায় সৃষ্টি হওয়া বলতে কি বুঝায়? তিনি বললেন, কোন লোকের মুশরিক অবস্থায় মৃত্যু হওয়া।
كتاب التوبة
باب ما جاء في حد الوقت الذي تقبل فيه التوب
عن أبي ذر (4) ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الله يقبل توبة عبده أو يغفر لعبده مالم يقع الحجاب قالوا يا رسول الله وما الحجاب؟ قال ان تموت النفس وهي مشركة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : তাওবার ধরণ এবং যে ব্যক্তি তাওবা করবে, কিভাবে করবে?
২২. 'আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছ থেকে কোন হাদীস শুনতাম, তখন আল্লাহর ইচ্ছায় তা থেকে আমি উপকৃত হতাম, আর যদি অন্যের কাছ থেকে হাদীস শুনতাম, তবে তার থেকে শপথ নিতাম। আর যখন সে শপথ করতো, তখন বিশ্বাস করতাম। আবু বকর (রা) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আবু বকর সত্য বলেছেন। তিনি নবী করিম (ﷺ)-এর কাছ থেকে শুনেছেন, যে ব্যক্তি কোন গুনাহের কাজ করে, তারপর উত্তমভাবে অযু করে; বর্ণনাকারী (রা) মুস'আব (রা) বলেন, এবং নামায পড়ে। সুফিয়ান (রা) বলেন, এরপর সে দু'রাকাত নামায পড়ে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ্ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেন।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় আবু বকর (রা) বলেন, আমি যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কোন হাদীস শুনতাম, এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, সে গুনাহের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ্ তার গুনাহ মাফ করে দিবেন। এরপর তিনি উক্ত আয়াত দুটি তেলাওয়াত করেন,
وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَحِيمًا .
কেহ কোন মন্দ কার্য করলে, অথবা নিজের প্রতি জুলুম করলে, এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহকে সে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু পারে। (সূরা নিসা: ১১০)
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ
"যারা কোন অশ্লীল কার্য করে, অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে (তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও জান্নাত)।" (আলে ইমরান, ১৩৫)
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় আবু বকর (রা) বলেন, আমি যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কোন হাদীস শুনতাম, এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, সে গুনাহের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ্ তার গুনাহ মাফ করে দিবেন। এরপর তিনি উক্ত আয়াত দুটি তেলাওয়াত করেন,
وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَحِيمًا .
কেহ কোন মন্দ কার্য করলে, অথবা নিজের প্রতি জুলুম করলে, এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহকে সে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু পারে। (সূরা নিসা: ১১০)
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ
"যারা কোন অশ্লীল কার্য করে, অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে (তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও জান্নাত)।" (আলে ইমরান, ১৩৫)
كتاب التوبة
باب ما جاء في كيفية التوبة وما يفعل من اراد أن يتوب
حدثنا وكيع قال حدثنا مسعر وسفيان عن عثمان بن المغيرة الثقفي عن علي بن ربيعة الوالي عن اسماء بن الحكم الفزاري عن علي رضي الله عنه قال كنت اذا سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثا نفعني الله بما شاء منه واذا حدثني عنه غيري استحلفته فإذا حلف لي صدقته وان ابا بكر حدثني وصدق ابو بكر انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من رجل يذنب ذنبا فيتوضأ فيحسن الوضوء قال مسعر ويصلي وقال سفيان ثم يصلي ركعتين فيستغفر الله عز وجل إلا غفر له (ومن طريق ثان عن علي أيضا) (6) قال كنت اذا سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثا فذكر نحوه وفيه ثم يستغفر الله تعالى لذلك الذنب الا غفر له وقرأ هاتين الآيتين (ومن يعمل سوء أو يظلم نفسه ثم يستغفر الله يجد الله غفورا رحيما) (والذين اذا فعلوا فاحشة أو ظلموا أنفسهم الآية)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : তাওবার ধরণ এবং যে ব্যক্তি তাওবা করবে, কিভাবে করবে?
২৩. 'আবদুল্লাহ ইবন মা'কিল ইবন মুকাররিন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার পিতার সাথে 'আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, তুমি কি নবী করিম (ﷺ) কে বলতে শুনেছ, অনুতপ্ত হওয়াই তাওবা? তিনি বললেন, হাঁ। আবার বললেন; আমি তাকে বলতে শুনেছি, অনুতপ্ত হওয়াই তাওবা।
كتاب التوبة
باب ما جاء في كيفية التوبة وما يفعل من اراد أن يتوب
عن عبد الله بن معقل بن مقرن (1) قال دخلت مع أبي على عبد الله بن مسعود فقال أنت (2) سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول الندم توبة قال نعم وقال مرة سمعته يقول الندم توبة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : তাওবার ধরণ এবং যে ব্যক্তি তাওবা করবে, কিভাবে করবে?
২৪. ইবন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, গুনাহের কাফফারা হলো অনুতপ্ত হওয়া। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যদি তোমরা গুনাহ না করতে, তাহলে আল্লাহ এমন এক দল লোক নিয়ে আসতেন, যারা গুনাহ করতো আর আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা করতেন।
كتاب التوبة
باب ما جاء في كيفية التوبة وما يفعل من اراد أن يتوب
عن ابن عباس (3) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كفارة الذنب الندامة وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لو لم تذنبوا لجاء الله عز وجل يقوم يذنبون ليغفر لهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : তাওবার ধরণ এবং যে ব্যক্তি তাওবা করবে, কিভাবে করবে?
২৫. 'আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, গুনাহ থেকে তাওবা হলো, তওবা করবে, তারপর আর গুনাহের কাজে ফিরে যাবে না।
كتاب التوبة
باب ما جاء في كيفية التوبة وما يفعل من اراد أن يتوب
عن عبد الله (4) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم التوبة من الذنب أن يتوب منه ثم لا يعود فيه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : তাওবার ধরণ এবং যে ব্যক্তি তাওবা করবে, কিভাবে করবে?
২৬. 'আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে 'আয়েশা! তুমি যদি গুনাহে আপতিত হও। তাহলে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে। কেননা, গুনাহ থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো- অনুতপ্ত হওয়া এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা।
كتاب التوبة
باب ما جاء في كيفية التوبة وما يفعل من اراد أن يتوب
عن عائشة (5) رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا عائشة ان كنت الممت بذنب فاستغفري الله فإن التوبة من الذنب الندم والاستغفار
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : তাওবার ধরণ এবং যে ব্যক্তি তাওবা করবে, কিভাবে করবে?
২৭. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (ﷺ) বলেছেন, সে ব্যক্তি তার ভাইয়ের 'ইজ্জত অথবা সম্পদের উপর জুলুম করে, যেদিন তার কাছে কোন দীনার ও দিরহাম থাকবে না সেদিন তার নেক আমল নিয়ে যাওয়ার পূর্বেই সে যেন তা পরিশোধ করে দেয়, (অর্থাৎ তার থেকে দায়মুক্ত হয়ে নেয়)। যদি তার নেক আমল থাকে, তাহলে জুলুম পরিমাণ তার কাছ থেকে নেক আমল নিয়ে নেওয়া হবে, আর যদি নেক আমল না থাকে, তাহলে মজলুম ব্যক্তির খারাপ আমলগুলো তাকে দিয়ে দেওয়া হবে।
كتاب التوبة
باب ما جاء في كيفية التوبة وما يفعل من اراد أن يتوب
عن أبي هريرة (1) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من كانت عنده مظلمة من أخيه من عرضه أو ماله فليتحلله اليوم قبل أن يؤخذ (2) حين لا يكون دينار ولا درهم وان كان له عمل صالح أخذ منه بقدر مظلمته وان لم يكن له أخذ من سيئات صاحبه فجعلت عليه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী থাকা অবস্থায় অধিক গুনাহ করেও গুনাহগার ব্যক্তির আল্লাহর ক্ষমা থেকে নিরাশ না হওয়া সম্পর্কে
২৮. আবু যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যাবির ইবন 'আবদুল্লাহ (রা) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা কি গুনাহকে শিরক হিসাবে গণ্য করেন? তিনি বললেন, আল্লাহ্ পানাহ। রক্ষা করুন।
كتاب التوبة
باب ما جاء في عدم قنوط المذنب من المغفرة لكثرة ذنوبه ما دام موحدا
عن أبي الزبير (4) قال قلنا لجابر بن عبد الله رضي الله تعالى عنهما أكنتم تعدون الذنوب شركا؟ قال معاذ الله
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী থাকা অবস্থায় অধিক গুনাহ করেও গুনাহগার ব্যক্তির আল্লাহর ক্ষমা থেকে নিরাশ না হওয়া সম্পর্কে
২৯. আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যার হাতে আমার প্রাণ, অথবা যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর শপথ! তোমরা যদি পাপ কর, এমন কি তোমাদের পাপে আসমান ও যমীন ভর্তি হয়ে যায়, এরপর তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, মহান আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহর শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, অথবা যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি তোমরা পাপ না করতে, তাহলে আল্লাহ্ এমন এক জাতিকে সৃষ্টি করতেন, যারা পাপ করতো, পরে তারা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতো, আর আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন।
كتاب التوبة
باب ما جاء في عدم قنوط المذنب من المغفرة لكثرة ذنوبه ما دام موحدا
عن أنس بن مالك (1) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول والذي نفسي بيده أو والذي نفس محمد بيده لو أخطأتم حتى تملأ خطاياكم ما بين السماء والأرض ثم استغفرتم الله عز وجل لغفر لكم والذي نفس محمد بيده أو والذي نفسي بيده لو لم تخطئوا لجاء الله عز وجل بقوم يخطئون ثم يستغفرون الله فيغفر لهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩০
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী থাকা অবস্থায় অধিক গুনাহ করেও গুনাহগার ব্যক্তির আল্লাহর ক্ষমা থেকে নিরাশ না হওয়া সম্পর্কে
৩০. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি তোমরা গুনাহ না করতে, তাহলে আল্লাহ্ এমন এক সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করতেন, যারা গুনাহ করতো, যেন আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করতে পারেন।
كتاب التوبة
باب ما جاء في عدم قنوط المذنب من المغفرة لكثرة ذنوبه ما دام موحدا
عن أبي هريرة (2) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لو لم تذنبوا لجاء الله بقوم يذنبون كي يغفر لهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩১
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী থাকা অবস্থায় অধিক গুনাহ করেও গুনাহগার ব্যক্তির আল্লাহর ক্ষমা থেকে নিরাশ না হওয়া সম্পর্কে
৩১. আবু আইয়ুব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি মুমূর্ষ অবস্থায় বলেন, আমি তোমাদের কাছে একটি বিষয় গোপন করে রেখেছি, যা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছ থেকে শুনেছি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যদি তোমরা গুনাহ না করতে, তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা অবশ্যই এমন এক সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করতেন, যারা গুনাহ করতো, এরপর আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা করতেন।
كتاب التوبة
باب ما جاء في عدم قنوط المذنب من المغفرة لكثرة ذنوبه ما دام موحدا
عن أبي أيوب الانصاري (3) انه قال حين حضرته الوفاة قد كنت كتمت عنكم شيئا (4) سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لولا أنكم تذنبون لخلق الله تبارك وتعالى قوما يذنبون فيغفر لهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী থাকা অবস্থায় অধিক গুনাহ করেও গুনাহগার ব্যক্তির আল্লাহর ক্ষমা থেকে নিরাশ না হওয়া সম্পর্কে
৩২. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, এক ব্যক্তি গুনাহ করে বলে, হে আমার রব! আমি গুনাহ করেছি। অথবা বলে, আমি গুনাহর কাজ করেছি, তুমি আমাকে ক্ষমা কর। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, আমার বান্দাহ গুনাহ করেছে, এরপর সে বুঝতে পেরেছে তার একজন রব আছে, তিনি গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন এবং এর দরুণ তাকে পাকড়াও করতে পারেন। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। এরপর সে পুনরায় গুনাহর কাজ করে, অথবা দ্বিতীয়বার গুনাহ করে এবং বলে, হে আমার রব, আমি গুনাহের কাজ করেছি, তুমি ক্ষমা কর, তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, আমার বান্দা জ্ঞাত হয়েছে যে, তার রব গুনাহ মাফ করতে পারে এবং তাকে পাকড়াও করতে পারে। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। পুনরায় সে গুনাহর কাজ করে, অথবা গুনাহ করে বলে, হে আমার রব! আমি গুনাহের কাজ করেছি, তুমি ক্ষমা কর, তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, আমার বান্দা জ্ঞাত হয়েছে যে, তার রব তার গুনাহ মাফ করতে পারেন এবং তাকে পাকড়াও করতে পারেন। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। পুনরায় সে গুনাহর কাজ করে, অথবা গুনাহ করে বলে, হে আমার রব! আমি গুনাহের কাজ করেছি, তুমি ক্ষমা কর, তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, আমার বান্দা জ্ঞাত হয়েছে যে, তার রব তার গুনাহ মাফ করতে পারেন এবং তাকে পাকড়াও করতে পারেন। তোমরা সাক্ষী থাকো আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। সুতরাং সে যা ইচ্ছে আমল করুক।
كتاب التوبة
باب ما جاء في عدم قنوط المذنب من المغفرة لكثرة ذنوبه ما دام موحدا
عن ابي هريرة (5) عن النبي صلى الله عليه وسلم ان رجلا أذنب ذنبا فقال رب اني اذنبت ذنبا أو قال عملت عملا ذنبا فاغفره فقال عز وجل عبدي عمل ذنبا فعلم أن له ربا يغفر الذنب ويأخذ به قد غفرت لعبدي ثم عمل ذنبا آخر أو أذنب ذنبا آخر فقال رب اني عملت ذنبا فاغفره فقال تبارك وتعالى علم عبدي ان له ربا يغفر الذنب ويأخذ به قد غفرت لعبدي ثم عمل ذنبا آخر أو أذنب ذنبا آخر فقال رب اني عملت ذنبا فاغفره فقال علم عبدي ان له رب يغفر الذنب ويأخذ به قد غفرت لعبدي فليعمل ما شاء
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী থাকা অবস্থায় অধিক গুনাহ করেও গুনাহগার ব্যক্তির আল্লাহর ক্ষমা থেকে নিরাশ না হওয়া সম্পর্কে
৩৩. আসওয়াদ ইবন সারী' (রা) থেকে বর্ণিত। একদা নবী করিম (ﷺ)-এর নিকট একজন যুদ্ধবন্দীকে নিয়ে আসা হলো। তখন সে বললো, হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থী, মুহাম্মদ (ﷺ)-এর নিকট ক্ষমা প্রার্থী নই। তখন নবী করিম (ﷺ) বলেন, সে এই হকের যোগ্য কে তা উপলব্ধি করতে পেরেছে।
كتاب التوبة
باب ما جاء في عدم قنوط المذنب من المغفرة لكثرة ذنوبه ما دام موحدا
عن الأسود بن سريع أن النبي صلى الله عليه وسلم أتى بأسير فقال اللهم اني اتوب اليك ولا اتوب الى محمد فقال النبي صلى الله عليه وسلم عرف الحق لأهله
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ: এক ব্যক্তি নিরানব্বইজন লোককে হত্যা করে তারপর একজনকে হত্যা করে একশত পূর্ণ করলো
৩৪. আবু সা'ঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যা শুনেছি, তা অবশ্যই তোমাদের কাছে বর্ণনা করব। আমি তা নিজ কানে শুনেছি এবং আমার অন্তর দিয়ে তা অনুধাবন করেছি। এক ব্যক্তি নিরানব্বই জন মানুষকে হত্যা করে। এরপর তওবা করার চিন্তা আসে তাই সে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ আলেমের সন্ধান করে। তাকে একজন দরবেশের কথা বলে দেয়া হয়। সে তার নিকট গিয়ে বলে, আমি নিরানব্বই জন লোককে হত্যা করেছি। এখন আমার জন্য তাওবার কোন সুযোগ আছে কি? সে বললো, নিরানব্বই জন লোককে হত্যা করার পর তাওবার সুযোগ? তখন সে তরবারী খুলে তাকে হত্যা করে একশত সংখ্যা পূর্ণ করে। তারপর আবার তাওবার চিন্তা আসে তাই সে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ 'আলিমের সন্ধান করে। তখন তাকে এক 'আলিমের খোঁজ দেয়া হয়। সে তার নিকট গিয়ে বলে, আমি একশত লোককে হত্যা করেছি, এখন আমার তাওবা করার কোন সুযোগ আছে কি? সে বললো, হাঁ, তাওবার সুযোগ আছে? আর তোমার আর তাওবার মাঝে কে অন্তরায় হতে পারে? তুমি যে খারাপ গ্রামে আছ, সেখান থেকে অমুক ভাল গ্রামে চলে যাও। সেখানে গিয়ে তোমার রবের ইবাদত কর। অতঃপর সে ভাল বা নেককার লোকদের গ্রামের দিকে বের হলে পথেই তার শেষ সময় এসে পড়লো। তখন রহমতের ফেরেশতা ও আযাবের ফেরেশতাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল। বর্ণনাকারী বলেন ইবলিস বললো, আমি তার অধিক ভাবদার সে কখনও আমার নাফরমানী করেনি।(অর্থাৎ সর্বদা আল্লাহর নাফরমানি করেছে আর আমার আনুগত্য করেছে) তখন রহমতের ফেরেশতারা বলতে লাগলো, এ লোকটি তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছে, আবু রাফে' (রা) বলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা একজন ফেরেশতা পাঠালে তারা তার বিষয়ে মতবিরোধ তার কাছে পেশ করলো। এরপর তিনি বাকি অংশ কাতাদা (রা) বর্ণিত হাদীসের মতোই বললেন, তোমরা দেখ, দুইটি গ্রামের মধ্যে যেটি তার নিকটবর্তী হয়, তাকে সে গ্রামের জনগণের সাথে সম্পৃক্ত কর। কাতাদা (রা) বলেন, হাসান (র) বলেন, ওই লোক যখন মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হলো, তখন নিজেকে ভাল লোকদের সাথে মিলিত করার চেষ্টা করল। তাই আল্লাহ তা'আলা সৎ জনবসতিকে তার নিকটবর্তী করে দিলেন, আর অসৎ জনবসতিকে দুরে সরিয়ে দিলেন। ফলে ফেরেশতারা তাকে সৎ জনবসতির অন্তর্ভুক্ত করে নিল।
كتاب التوبة
فصل منه في قصة الرجل الذي قتل تسعة وتسعين نفسا ثم أكمل المائة
حدثنا يزيد (2) أنبأنا همام بن يحيى ثنا قتادة عن أبي الصديق الناجي عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال لا أحدثكم الا ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم سمعته أذناي ووعاه قلبي إن عبدا قتل تسعة وتسعين نفسا (3) ثم عرضت له التوبة فسأل عن أعلم أهل الأرض فدل (4) على رجل فأتاه فقال اني قتلت تسعة وتسعين نفسا فهل لي من توبة؟ قال بعد قتل تسعة وتسعين نفسا؟ قال فانتضى سيفه فقتله به فأكمل به مائة ثم عرضت له التوبة فسأل عن أعلم أهل الأرض فدل على رجل (5) فأتاه فقال اني قتلت مائة نفس فهل لي من توبة؟ فقال ومن يحول بينك وبين التوبة أخرج من القرية الخبيثة التي انت فيها الى القرية الصالحة كذا وكذا (6) فاعبد ربك فيها قال فخرج الى القرية الصالحة فعرض له أجله في الطريق قال فاختصمت فيه ملائكة الرحمة وملائكة العذاب قال فقال ابليس فأنا أولى به أنه لم يعصني ساعة قط (1) قال فقالت ملائكة الرحمة إنه خرج تائبا قال همام فحدثني حميد الطويل عن بكر بن عبد الله المزني عن أبي رافع (2) قال فبعث الله عز وجل ملكا فاختصموا اليه (3) ثم رجع الى حديث قتادة قال فقال انظروا أي القريتين كان أقرب اليه فالحقوه بأهلها قال قتادة فحدثنا الحسن قال لما عزف الموت احتفز بنفسه (4) فقرب الله عز وجل منه القرية الصالحة وباعد عنه القرية الخبيثة (5) فألحقوه بأهل القرية الصالحة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৫
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওহীদবাদী বান্দাদের জন্য আল্লাহর রহমত সম্পর্কিত
পরিচ্ছেদ: আল্লাহর রহমত তাঁর ক্রোধ থেকে অগ্রবর্তী থাকে
পরিচ্ছেদ: আল্লাহর রহমত তাঁর ক্রোধ থেকে অগ্রবর্তী থাকে
৩৫. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টি করার পূর্বে স্বহস্তে নিজের উপর অবধারিত করে কিতাব লিখে নিয়েছেন। তারপর সে কিতাবখানা তার 'আরশের নীচে রেখে দিয়েছেন, তাতে লেখা আছে আমার রহমত আমার ক্রোধের অগ্রবর্তী থাকে।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ যখন সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করে মুক্ত হলেন, তখন তিনি তাঁর 'আরশের উপর লিখে দিলেন, আমার রহমত আমার ক্রোধের অগ্রবর্তী থাকে।
তাঁর তৃতীয় বর্ণনায় তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করার পর তাঁর কিতাবে লিখে দিলেন এবং তা তাঁর 'আরশের উপর রেখে দিলেন, আমার রহমত আমার ক্রোধের অগ্রবর্তী থাকে। অন্য শব্দে: আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর বিজয়ী থাকবে।
তাঁর চতুর্থ বর্ণনায় নবী করিম (ﷺ) বলেন, আল্লাহ্ যখন সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেন, তখন স্বহস্তে নিজের উপর অবধারিত করে লিখে নিয়েছেন, আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর বিজয়ী থাকবে।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ যখন সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করে মুক্ত হলেন, তখন তিনি তাঁর 'আরশের উপর লিখে দিলেন, আমার রহমত আমার ক্রোধের অগ্রবর্তী থাকে।
তাঁর তৃতীয় বর্ণনায় তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করার পর তাঁর কিতাবে লিখে দিলেন এবং তা তাঁর 'আরশের উপর রেখে দিলেন, আমার রহমত আমার ক্রোধের অগ্রবর্তী থাকে। অন্য শব্দে: আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর বিজয়ী থাকবে।
তাঁর চতুর্থ বর্ণনায় নবী করিম (ﷺ) বলেন, আল্লাহ্ যখন সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেন, তখন স্বহস্তে নিজের উপর অবধারিত করে লিখে নিয়েছেন, আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর বিজয়ী থাকবে।
كتاب التوبة
أبواب ما جاء في رحمة الله عز وجل لعباده الموحدين
باب في أن رحمة الله تعالى سبقت غضبه
باب في أن رحمة الله تعالى سبقت غضبه
عن أبي هريرة (6) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان الله عز وجل كتب كتابا بيده لنفسه (7) قبل أن يخلق السموت والأرض فوضعه تحت عرشه فيه رحمتي سبقت غضبي (وعنه من طريق ثان) (8) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما فرغ الله من الخلق كتب على عرشه رحمتي سبقت غضبي (وعنه من طريق ثالث) (9) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قضى الله الخلق كتب في كتابه فهو عنده فوق العرش إن رحمتي سبقت غضبي (وفي لفظ) غلبت غضبي (10) (ومن طريق رابع) (11) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لما خلق الله الخلق كتب بيده على نفسه ان رحمتي غلبت غضبي
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৬
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আল্লাহ্ তাঁর রহমতের একশত ভাগের এক ভাগ তাঁর সৃষ্টিকুলের অন্তরে ন্যস্ত করেছেন
৩৬. হাসান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে খবর দিয়েছেন, মহান আল্লাহর একশত রহমত রয়েছে, তার মধ্যে তিনি যমীনের অধিবাসীদের মাঝে মাত্র একটি বণ্টন করেছেন, আর তা তাদের জন্য মৃত্যু পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেছেন। এবং নিরানব্বইটি রহমত তাঁর প্রকৃত বন্ধুদের জন্য জমা করে রেখে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা'আলা যমীনের অধিবাসীদের মাঝে যে এক ভাগ রহমত বণ্টন করেছেন, তা নিরানব্বই ভাগের সাথে মিশিয়ে কিয়ামতের দিন তাঁর প্রিয় বন্ধুদের জন্য একশত ভাগ পূর্ণ করবেন।
كتاب التوبة
باب ما جاء في أن الرحمة التي أودعها الله في قلوب خلقه جزء من مائة من رحمته لخلقه
حدثنا روح ومحمد بن جعفر (12) قالا ثنا عوف عن الحسن قال بلغني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لله عز وجل مائة رحمة وأنه قسم رحمة واحدة بين أهل الأرض فوسعتهم إلى آجالهم (1) وذخر تسعة وتسعين رحمة لأوليائه والله عز وجل قابض تلك الرحمة التي قسمها بين أهل الأرض إلى التسعة والتسعين فيكملها مائة رحمة لأوليائه يوم القيامة قال محمد (2) في حديثه وحدثني بهذا الحديث محمد بن سيرين وخلاص كلاهما عن أبي هريرة (3) عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৭
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আল্লাহ্ তাঁর রহমতের একশত ভাগের এক ভাগ তাঁর সৃষ্টিকুলের অন্তরে ন্যস্ত করেছেন
৩৭. জুনদুব ইবন বাজালী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একজন বেদুঈন এসে তার উট থেকে নামলো এবং তাকে বাঁধলো, তারপর সে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পিছনে সালাত আদায় করলো। সালাত আদায়ের পর সে তার উটের কাছে এসে উটের বাঁধন খুলে তার পিঠে আরোহণ করলো। তারপর আওয়াজ দিয়ে বললো, হে আল্লাহ্! আমার উপর এবং মুহাম্মদ (সা)-এর উপর রহমত নাযিল কর। আর আমাদের রহমতের মধ্যে অন্য কাউকে অন্তর্ভুক্ত করো না। তখন রাসূল (সা) বললেন, তোমরাই বল, এ লোকটি অধিক বিভ্রান্ত, না কি তার উট? তোমরা কি শুনেছ, সে কি বলেছে? সাহাবাগণ বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর অফুরন্ত রহমতকে সঙ্কুচিত করে ফেলেছে। আল্লাহ একশত রহমত সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে একটি রহমত সৃষ্টিকুলের জন্য নাযিল করেছেন তা দ্বারা সৃষ্টিকুলের জ্বিন-মানুষ ও জন্তু-জানোয়ার পরস্পরের প্রতি দয়া ও অনুকল্প প্রদর্শন করে। অপর নিরা নব্বইটি রহমত তাঁর কাছে রেখে দিয়েছেন, তোমরা কি মনে কর, সে বিভ্রান্ত না তার উটটি বিভ্রান্ত?
كتاب التوبة
باب ما جاء في أن الرحمة التي أودعها الله في قلوب خلقه جزء من مائة من رحمته لخلقه
عن جندب البجلي (4) قال جاء أعرابي فأناخ راحلته ثم عقلها ثم صلى خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أتى راحلته فأطلق عقالها ثم نادى اللهم ارحمني ومحمدا ولا تشرك في رحمتنا أحدا (5) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أتقولون هذا أضل أم بعيره؟ الم تسمعوا ما قال؟ قالوا بلى قال لقد حظرت (6) رحمة الله واسعة ان الله خلق مائة حمة فأنزل الله رحمة واحدة يتعاطف بها الخلائق جنها وانسها وبهائمها وعنهد تسع وتسعون أتقولون هو أضل أم بعيره؟
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আল্লাহ্ তাঁর রহমতের একশত ভাগের এক ভাগ তাঁর সৃষ্টিকুলের অন্তরে ন্যস্ত করেছেন
৩৮. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (সা) বলেছেন, আল্লাহর নিকট একশত রহমত আছে, তা থেকে তিনি একটি রহমত মানুষ জ্বীন ও জীব জানোয়ারের জগৎ নাফিল করেছেন, যার ফলে তারা পরস্পরের প্রতি দয়া ও সমবেদনা প্রদর্শন করে। এর দ্বারা বন্যপত্ত ভার সন্তানের উপর দয়া করে। আর বাকী নিরা নব্বইটি রহমত দ্বারা আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন তাঁর বান্দাদের উপর দয়া করবেন।
كتاب التوبة
باب ما جاء في أن الرحمة التي أودعها الله في قلوب خلقه جزء من مائة من رحمته لخلقه
عن أبي هريرة (7) عن النبي صلى الله عليه وسلم لله مائة رحمة انزل منها رحمة واحدة بين الانس والجن والهوام فبها يتعاطون وبها يتراحمون وبها تعطف الوحش على أولادها وأخر تسعة وتسعين إلى يوم القيامة يرحم بها عباده
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আল্লাহ্ তাঁর রহমতের একশত ভাগের এক ভাগ তাঁর সৃষ্টিকুলের অন্তরে ন্যস্ত করেছেন
৩৯. সালমান (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (সা) বলেন, আল্লাহ তা'আলা একশত রহমত সৃষ্টি করেছেন, তাঁর একটি রহমতের কারণে সৃষ্টিজীব পরস্পরের প্রতি দয়া ও সমবেদনা প্রদর্শন করে। যার ফলে বন্য পশুরা তার সন্তানদের উপর দয়া করে। আর বাকী নিরা নব্বইটি দ্বারা আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করবেন। (মুসলিম)
كتاب التوبة
باب ما جاء في أن الرحمة التي أودعها الله في قلوب خلقه جزء من مائة من رحمته لخلقه
عن سلمان (9) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال إن الله عز وجل خلق مائة رحمة فمنها رحمة يتراحم بها الخلق فيها تعطف الوحوش على أولادها وأخر تسعة وتسعين إلى يوم القيامة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০
তাওবা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আল্লাহ্ তাঁর রহমতের একশত ভাগের এক ভাগ তাঁর সৃষ্টিকুলের অন্তরে ন্যস্ত করেছেন
৪০. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (ﷺ) বলেন, যদি মুমিন বান্দা জানতো যে, আল্লাহর নিকট কি ভীষণ শান্তি রয়েছে, তাহলে সে বেহেশতে প্রবেশের আশা করতো না। আর যদি কাফির ব্যক্তি জানতো যে, আল্লাহর নিকট কি অপরিসীম দয়া আছে, তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ থেকে নিরাশ হতো না। আল্লাহ্ একশত রহমত সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে থেকে মাত্র একটি রহমত তাঁর সৃষ্টিকুলের মধ্যে রেখেছেন, যার ফলে- তারা পরস্পরের প্রতি দয়া ও অনুকম্পা প্রদর্শন করে। আর অবশিষ্ট নিরানব্বইটি রহমত আল্লাহ নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন।
كتاب التوبة
باب ما جاء في أن الرحمة التي أودعها الله في قلوب خلقه جزء من مائة من رحمته لخلقه
عن أبي هريرة (1) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لو يعلم المؤمن ما عند الله من العقوبة (2) ما طمع في الجنة أحد ولو يعلم الكافر ما عند الله من الرحمة (3) ما قنط من الجنة أحد خلق الله مائة رحمة فوضع رحمة واحدة بين خلقه يتراحمون بها وعند الله تسعة وتسعون (4) رحمة
তাহকীক: