আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
الجامع الصحيح للبخاري
৫৬- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৮৯ টি
হাদীস নং: ৫০০২
আন্তর্জাতিক নং: ৫৩৯৪
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪৬. মু’মিন ব্যক্তি এক পেটে খায়
৫০০২। মুহাম্মাদ ইবনে সালাম (রাহঃ) ......... ইবনে ‘উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন মু’মিন এক পেটে খায় আর কাফিব অথবা বলেছেন, মুনাফিক। রাবী বলেন, এ দু’টি শব্দের মধ্যে আমার সন্দেহ আছে যে, বর্ণনাকারী কোনটি বলেছেন। ‘উবাইদুল্লাহ বলেনঃ সাত পেটে খায়। ইবনে বুকায়র বলেনঃ মালিক (রাহঃ) নাফি‘ (রাহঃ) -এর সূত্রে ইবনে ‘উমর (রাযিঃ) থেকে এবং তিনি নবী করীম (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
كتاب الأطعمة
باب الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ
5394 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ المُؤْمِنَ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ، وَإِنَّ الكَافِرَ أَوِ المُنَافِقَ - فَلاَ أَدْرِي أَيَّهُمَا قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ - يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ» وَقَالَ ابْنُ بُكَيْرٍ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِثْلِهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০০৩
আন্তর্জাতিক নং: ৫৩৯৫
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪৬. মু’মিন ব্যক্তি এক পেটে খায়
৫০০৩। ‘আলী ইবনে ‘আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ‘আমর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবু নাহীক অত্যধিক আহারকারী ব্যক্তি ছিলেন। ইবনে ‘উমর (রাযিঃ) তাঁকে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কাফির ব্যক্তি সাত পেটে খায়। আবু নাহীক বললেনঃ আমি তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখি।
كتاب الأطعمة
باب الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ
5395 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، قَالَ: كَانَ أَبُو نَهِيكٍ [ص:72] رَجُلًا أَكُولًا، فَقَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الكَافِرَ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ» فَقَالَ: فَأَنَا أُومِنُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০০৪
আন্তর্জাতিক নং: ৫৩৯৬
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪৬. মু’মিন ব্যক্তি এক পেটে খায়
৫০০৪। ইসমা‘ঈল (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তি এক পেটে আহার করে আর কাফির সাত পেটে আহার করে।
كتاب الأطعمة
باب الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ
5396 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْكُلُ المُسْلِمُ فِي مِعًى وَاحِدٍ، وَالكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০০৫
আন্তর্জাতিক নং: ৫৩৯৭
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪৬. মু’মিন ব্যক্তি এক পেটে খায়
৫০০৫। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি প্রচুর পরিমাণে আহার করতো। লোকটি মুসলমান হলে স্বল্পাহার করতে লাগলো। ব্যাপারটি রাসূল (ﷺ) -এর কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেনঃ মু’মিন এক পেটে আহার করে, আর কাফির আহার করে সাত পেটে।
كتاب الأطعمة
باب الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ
5397 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا كَانَ يَأْكُلُ أَكْلًا كَثِيرًا، فَأَسْلَمَ، فَكَانَ يَأْكُلُ أَكْلًا قَلِيلًا، فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «إِنَّ المُؤْمِنَ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ، وَالكَافِرَ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০০৬
আন্তর্জাতিক নং: ৫৩৯৮
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪৭. হেলান দিয়ে আহার করা
৫০০৬। আবু নু‘আয়ম (রাহঃ) ......... আবু জুহায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আমি হেলান দিয়ে আহার করি না।
كتاب الأطعمة
باب الأَكْلِ مُتَّكِئًا
5398 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ آكُلُ مُتَّكِئًا»
হাদীস নং: ৫০০৭
আন্তর্জাতিক নং: ৫৩৯৯
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪৭. হেলান দিয়ে আহার করা
৫০০৭। ‘উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু জুহায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (ﷺ) -এর কাছে ছিলাম। তিনি তাঁর কাছে উপবিষ্ট এক ব্যক্তিকে বলেনঃ হেলান দেওয়া অবস্থায় আমি আহার করি না।
كتاب الأطعمة
باب الأَكْلِ مُتَّكِئًا
5399 - حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِرَجُلٍ عِنْدَهُ: «لاَ آكُلُ وَأَنَا مُتَّكِئٌ»
হাদীস নং: ৫০০৮
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪০০
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪৮. ভূনা গোশত সম্বন্ধে। আল্লাহ তা‘আলার ইরশাদ: সে এক কাবাব করা গো-বৎস নিয়ে আসলো।
حَنِيذٍ অর্থ مَشْوِيٍّ ভূনা গোশত
حَنِيذٍ অর্থ مَشْوِيٍّ ভূনা গোশত
৫০০৮। ‘আলী ইবনে ‘আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট ভূনা গুঁইসাপ আনা হলে তিনি তা খাওয়ার উদ্দেশ্যে হাত বাড়ালেন। তখন তাকে বলা হলঃ এটাতো গুঁই, এতে তিনি হাত গুটিয়ে নিলেন। খালিদ (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ এটা কি হারাম? তিনি বললেনঃ না। যেহেতু এটা আমাদের এলাকায় নেই তাই আমি এটা খাওয়া পছন্দ করি না। তারপর খালিদ (রাযিঃ) তা খেতে থাকেন, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দেখছিলেন।
মালিক ইবনে শিহাব সূত্রে ضَبٍّ مَشْوِيٍّ এর স্থলে ضَبٍّ مَحْنُوذٍ বলেছেন।
মালিক ইবনে শিহাব সূত্রে ضَبٍّ مَشْوِيٍّ এর স্থলে ضَبٍّ مَحْنُوذٍ বলেছেন।
كتاب الأطعمة
بَابُ الشِّوَاءِ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {أَنْ جَاءَ بِعِجْلٍ حَنِيذٍ} أَيْ مَشْوِيٍّ
5400 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الوَلِيدِ، قَالَ: أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِضَبٍّ مَشْوِيٍّ، فَأَهْوَى إِلَيْهِ لِيَأْكُلَ، فَقِيلَ لَهُ: إِنَّهُ ضَبٌّ، فَأَمْسَكَ يَدَهُ، فَقَالَ خَالِدٌ: أَحَرَامٌ هُوَ؟ قَالَ: «لاَ، وَلَكِنَّهُ لاَ يَكُونُ بِأَرْضِ قَوْمِي، فَأَجِدُنِي أَعَافُهُ» فَأَكَلَ خَالِدٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْظُرُ قَالَ مَالِكٌ: عَنْ ابْنِ شِهَابٍ: «بِضَبٍّ مَحْنُوذٍ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৫০০৯
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪০১
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪৯. খাযীরা সম্পর্কে। নযর বলেছেন: খাযীরা ময়দা দিয়ে এবং হারীরা দুধ দিয়ে তৈরী করা হয়
৫০০৯। ইয়াহয়া ইবনে বুকায়র (রাহঃ) ......... ‘ইতবান ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী আনসার সাহাবীদের একজন। একবার তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে এসে বলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমি আমার গোত্রের লোকদের নিয়ে নামায আদায় করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে আমার ও তাদের মধ্যকার উপত্যকায় পানি প্রবাহিত হয়। তখন আমি তাদের মসজিদে আসতে পারি না যে, তাদের নিয়ে নামায আদায় করব। তাই, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার আকাঙ্ক্ষা আপনি এসে যদি আমার ঘরে নামায আদায় করতেন। তাহলে আমি সে স্থানে নামাযের জন্য নির্ধারণ করে নিতাম। তিনি বললেনঃ ইনশাআল্লাহ আমি অচিরেই তা করবো।
‘ইতবান (রাযিঃ) বলেন পুরোভাবে সূর্য কিছু উপরে উঠলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) আসলেন। নবী করীম (ﷺ) অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলাম। তিনি না বসেই তৎক্ষণাৎ ঘরে প্রবেশ করে আমাকে বললেনঃ তোমার ঘরের কোন স্থানে আমার নামায আদায় করা তোমার পছন্দ? আমি ঘরের এক দিকে ইঙ্গিত করলাম। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন। আমরা কাতার ধরলাম। তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করে সালাম ফিরালেন।
আমরা যে খাযীরা তৈরী করেছিলাম তা খাওয়ার জন্য তাকে বসালাম। তার মহল্লার বহু সংখ্যক লোক ঘরে প্রবেশ করতে লাগল। তারপর তারা সমবতে হলে তাদের একজন বললোঃ মালিক ইবনে দুখশান কোথায়? অন্য একজন বললোঃ সে মুনাফিক সে আল্লাহ ও তার রাসুলকে ভালবাসে না।
নবী করীম (ﷺ) বললেনঃ এমন কথা বলোনা। তুমি কি জান না, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়েছে? লোকটি বললোঃ আল্লাহ ও তার রাসুল-ই ভাল জানেন। সে পূনরায় বললোঃ কিন্তু আমরা যে মুনাফিকদের সাথে তার সম্পর্ক ও তাদের প্রতি শুভ কামনা দেখতে পাই? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তো জাহান্নামকে ঐ ব্যক্তির জন্য হারাম করে দিয়েছেন যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করবে। ইবনে শিহাব বলেনঃ এরপর আমি হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আনসারী যিনি ছিলেন বনু সালিমের একজন নেতৃস্থানীয় লোক তাকে মাহমুদের এ হাদীসের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি এর সততা স্বীকার করলেন।
‘ইতবান (রাযিঃ) বলেন পুরোভাবে সূর্য কিছু উপরে উঠলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) আসলেন। নবী করীম (ﷺ) অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলাম। তিনি না বসেই তৎক্ষণাৎ ঘরে প্রবেশ করে আমাকে বললেনঃ তোমার ঘরের কোন স্থানে আমার নামায আদায় করা তোমার পছন্দ? আমি ঘরের এক দিকে ইঙ্গিত করলাম। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন। আমরা কাতার ধরলাম। তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করে সালাম ফিরালেন।
আমরা যে খাযীরা তৈরী করেছিলাম তা খাওয়ার জন্য তাকে বসালাম। তার মহল্লার বহু সংখ্যক লোক ঘরে প্রবেশ করতে লাগল। তারপর তারা সমবতে হলে তাদের একজন বললোঃ মালিক ইবনে দুখশান কোথায়? অন্য একজন বললোঃ সে মুনাফিক সে আল্লাহ ও তার রাসুলকে ভালবাসে না।
নবী করীম (ﷺ) বললেনঃ এমন কথা বলোনা। তুমি কি জান না, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়েছে? লোকটি বললোঃ আল্লাহ ও তার রাসুল-ই ভাল জানেন। সে পূনরায় বললোঃ কিন্তু আমরা যে মুনাফিকদের সাথে তার সম্পর্ক ও তাদের প্রতি শুভ কামনা দেখতে পাই? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তো জাহান্নামকে ঐ ব্যক্তির জন্য হারাম করে দিয়েছেন যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করবে। ইবনে শিহাব বলেনঃ এরপর আমি হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আনসারী যিনি ছিলেন বনু সালিমের একজন নেতৃস্থানীয় লোক তাকে মাহমুদের এ হাদীসের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি এর সততা স্বীকার করলেন।
كتاب الأطعمة
باب الْخَزِيرَةِ وَقَالَ النَّضْرُ الْخَزِيرَةُ مِنَ النُّخَالَةِ، وَالْحَرِيرَةُ مِنَ اللَّبَنِ
5401 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيُّ، أَنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ، وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مِنَ الأَنْصَارِ: أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَنْكَرْتُ بَصَرِي، وَأَنَا أُصَلِّي لِقَوْمِي، فَإِذَا كَانَتِ الأَمْطَارُ سَالَ الوَادِي الَّذِي بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ، لَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ آتِيَ مَسْجِدَهُمْ فَأُصَلِّيَ لَهُمْ، فَوَدِدْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنَّكَ تَأْتِي فَتُصَلِّي فِي بَيْتِي فَأَتَّخِذُهُ مُصَلًّى، فَقَالَ: «سَأَفْعَلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ» قَالَ عِتْبَانُ: فَغَدَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ حِينَ ارْتَفَعَ النَّهَارُ، فَاسْتَأْذَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَذِنْتُ لَهُ، فَلَمْ يَجْلِسْ حَتَّى دَخَلَ البَيْتَ، ثُمَّ قَالَ لِي: «أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ مِنْ بَيْتِكَ؟» فَأَشَرْتُ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ البَيْتِ، فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَبَّرَ فَصَفَفْنَا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ [ص:73] سَلَّمَ، وَحَبَسْنَاهُ عَلَى خَزِيرٍ صَنَعْنَاهُ، فَثَابَ فِي البَيْتِ رِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الدَّارِ ذَوُو عَدَدٍ فَاجْتَمَعُوا، فَقَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ: أَيْنَ مَالِكُ بْنُ الدُّخْشُنِ؟ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: ذَلِكَ مُنَافِقٌ، لاَ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لاَ تَقُلْ، أَلاَ تَرَاهُ قَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، يُرِيدُ بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ؟ " قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: قُلْنَا: فَإِنَّا نَرَى وَجْهَهُ وَنَصِيحَتَهُ إِلَى المُنَافِقِينَ، فَقَالَ: " فَإِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ " قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: ثُمَّ سَأَلْتُ الحُصَيْنَ بْنَ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيَّ، أَحَدَ بَنِي سَالِمٍ، وَكَانَ مِنْ سَرَاتِهِمْ، عَنْ حَدِيثِ مَحْمُودٍ، فَصَدَّقَهُ
হাদীস নং: ৫০১০
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪০২
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫০. পনির প্রসঙ্গে। হুমায়দ (রাহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফিয়্যার সাথে বাসর যাপন করলেন। তারপর তিনি (দস্তরখানে) খেজুর, পনির এবং ঘি রাখলেন।
‘আমর ইবনে আবু ‘আমর, আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (উক্ত তিন বস্তুর সংযোগে) ‘হায়স’ তৈরী করেন।
‘আমর ইবনে আবু ‘আমর, আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (উক্ত তিন বস্তুর সংযোগে) ‘হায়স’ তৈরী করেন।
৫০১০। মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে ‘আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার খালা একটি গুঁই, কিছু পনির এবং দুধ নবী করীম (ﷺ) -কে হাদিয়া দিলেন এবং দস্তরখানে গুঁইসাপ রাখা হয়। যদি তা হারাম হতো তাঁর দস্তরখানে রাখা হতো না। তিনি (শুধু) দুধ পান করলেন এবং পনির খেলেন।
كتاب الأطعمة
باب الأَقِطِ وَقَالَ حُمَيْدٌ سَمِعْتُ أَنَسًا بَنَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِصَفِيَّةَ، فَأَلْقَى التَّمْرَ وَالأَقِطَ وَالسَّمْنَ. وَقَالَ عَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو عَنْ أَنَسٍ صَنَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْسًا
5402 - حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «أَهْدَتْ خَالَتِي إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضِبَابًا وَأَقِطًا وَلَبَنًا، فَوُضِعَ الضَّبُّ عَلَى مَائِدَتِهِ، فَلَوْ كَانَ حَرَامًا لَمْ يُوضَعْ، وَشَرِبَ اللَّبَنَ، وَأَكَلَ الأَقِطَ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০১১
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪০৩
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫১. সিলক ও যব প্রসঙ্গে
৫০১১। ইয়াহয়া ইবনে বুকায়র (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জুম‘আর দিন আসলে আমরা অত্যধিক খুশী হতাম। এক বৃদ্ধা আমাদের জন্য সিলক (মূলা জাতীয় এক প্রকার সুস্বাদু সবজি) -এর মূল তুলে তা তার ডেগে চড়িয়ে দিতেন। তারপর এতে সামান্য কিছু যব ছেড়ে দিতেন। নামাযের পর আমরা তাঁর সাথে দেখা করতে গেলে তিনি এ খাবার আমাদের পরিবেশন করতেন। এ কারণেই জুম‘আর দিন আসলে আমরা খুব খুশী হতাম। আমরা সকালের আহার এবং বিশ্রাম গ্রহণ করতাম না জুম‘আর পর ছাড়া। আল্লাহর কসম! সে খাদ্যে কোন চর্বি বা তৈলাক্ত কিছু থাকতো না।
كتاب الأطعمة
باب السِّلْقِ وَالشَّعِيرِ
5403 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: «إِنْ كُنَّا لَنَفْرَحُ بِيَوْمِ الجُمُعَةِ، كَانَتْ لَنَا عَجُوزٌ تَأْخُذُ أُصُولَ السِّلْقِ، فَتَجْعَلُهُ فِي قِدْرٍ لَهَا، فَتَجْعَلُ فِيهِ حَبَّاتٍ مِنْ شَعِيرٍ، إِذَا صَلَّيْنَا زُرْنَاهَا فَقَرَّبَتْهُ إِلَيْنَا، وَكُنَّا نَفْرَحُ بِيَوْمِ الجُمُعَةِ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ، وَمَا كُنَّا نَتَغَدَّى، وَلاَ نَقِيلُ إِلَّا بَعْدَ الجُمُعَةِ، وَاللَّهِ مَا فِيهِ شَحْمٌ وَلاَ وَدَكٌ»
হাদীস নং: ৫০১২
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪০৪ - ৫৪০৫
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫২. গোশত দাঁত দিয়ে ছিড়ে এবং তুলে নিয়ে খাওয়া
৫০১২। ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্দুল ওহহাব (রাহঃ) ......... ইবনে ‘আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি স্কন্ধের গোশত দাঁত দিয়ে ছিড়ে খেলেন। তারপর তিনি উঠে গিয়ে (নতুনভাবে) উযু না করেই নামায আদায় করলেন।
অন্য সনদে আইয়্যূব ও ‘আসিম (রাহঃ) ‘ইকরামার সূত্রে ইবনে ‘আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ নবী করীম (ﷺ) ডেগ থেকে একটি গোশত যুক্ত হাড় বের করে তা খেলেন। তারপর (নতুন) উযু না করেই নামায আদায় করলেন।
অন্য সনদে আইয়্যূব ও ‘আসিম (রাহঃ) ‘ইকরামার সূত্রে ইবনে ‘আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ নবী করীম (ﷺ) ডেগ থেকে একটি গোশত যুক্ত হাড় বের করে তা খেলেন। তারপর (নতুন) উযু না করেই নামায আদায় করলেন।
كتاب الأطعمة
باب النَّهْسِ وَانْتِشَالِ اللَّحْمِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ تَعَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتِفًا، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى، وَلَمْ يَتَوَضَّأْ.
وَعَنْ أَيُّوبَ، وَعَاصِمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ انْتَشَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَرْقًا مِنْ قِدْرٍ فَأَكَلَ، ثُمَّ صَلَّى، وَلَمْ يَتَوَضَّأْ.
وَعَنْ أَيُّوبَ، وَعَاصِمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ انْتَشَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَرْقًا مِنْ قِدْرٍ فَأَكَلَ، ثُمَّ صَلَّى، وَلَمْ يَتَوَضَّأْ.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০১৩
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪০৬ - ৫৪০৭
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫৩. বাহুর গোশত খাওয়া
৫০১৩। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী করীম (ﷺ) এর সঙ্গে মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হলাম।
অন্য সনদে ‘আব্দুল ‘আযীয ইবনে ‘আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি মক্কার পথে কোন এক মনযিলে নবী করীম (ﷺ) -এর কিছু সংখ্যক সাহাবীর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনেই অবস্থান করছিলেন। আমি ছাড়া দলের সকলেই ছিলেন ইহরাম অবস্থায়। আমি আমার জুতা সেলাইয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এমতাবস্থায় তারা একটি বন্য গাধা দেখতে পেল। কিন্তু আমাকে জানালো না। তবে তারা আশা করছিল, যদি আমি ওটা দেখতাম! তারপর আমি চোখ ফেরাতেই ওটা দেখে ফেললাম। এরপর আমি ঘোড়ার কাছে গিয়ে তার জ্বীন লাগিয়ে তার উপর আরোহন করলাম। কিন্তু চাবুক ও বর্শার কথা ভুলে গেলাম। কাজেই আমি তাদের বললাম, চাবুক ও বর্শাটি আমাকে তুলে দাও। তারা বললোঃ না, আল্লাহর কসম! এ ব্যাপারে তোমাকে আমরা কিছুই সাহায্য করবো না।
এতে আমি ক্রুদ্ধ হলাম এবং নিচে নেমে ওদু’টি নিয়ে পুনরায় সাওয়ার হলাম। তারপর আমি গাধাটির পেছনে দ্রুত ধাওয়া করে তাকে ঘায়েল করে ফেললাম। তখন সেটি মরে গেল এবং আমি তা নিয়ে এলাম। (পাকানোর পর) তারা সকলে এটা খাওয়া শুরু করলো। তারপর ইহরাম অবস্থায় এটা খাওয়া নিয়ে তারা সন্দেহে পড়লো। আমি সন্ধ্যার দিকে রওয়ানা দিলাম এবং এর একটি বাহু লুকিয়ে রাখলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে গেলাম এবং তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কাছে এর কিছু আছে? একথা শুনে আমি বাহুটি তাঁর সামনে পেশ করলাম। তিনি মুহরিম অবস্থায় তা খেলেন, এমন কি এর হাড়ের সাথে জড়িত গোশতোও দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেলেন।
ইবনে জাফর বলেছেনঃ যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) আতা ইবনে ইয়াসার এর সূত্রে আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
অন্য সনদে ‘আব্দুল ‘আযীয ইবনে ‘আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি মক্কার পথে কোন এক মনযিলে নবী করীম (ﷺ) -এর কিছু সংখ্যক সাহাবীর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনেই অবস্থান করছিলেন। আমি ছাড়া দলের সকলেই ছিলেন ইহরাম অবস্থায়। আমি আমার জুতা সেলাইয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এমতাবস্থায় তারা একটি বন্য গাধা দেখতে পেল। কিন্তু আমাকে জানালো না। তবে তারা আশা করছিল, যদি আমি ওটা দেখতাম! তারপর আমি চোখ ফেরাতেই ওটা দেখে ফেললাম। এরপর আমি ঘোড়ার কাছে গিয়ে তার জ্বীন লাগিয়ে তার উপর আরোহন করলাম। কিন্তু চাবুক ও বর্শার কথা ভুলে গেলাম। কাজেই আমি তাদের বললাম, চাবুক ও বর্শাটি আমাকে তুলে দাও। তারা বললোঃ না, আল্লাহর কসম! এ ব্যাপারে তোমাকে আমরা কিছুই সাহায্য করবো না।
এতে আমি ক্রুদ্ধ হলাম এবং নিচে নেমে ওদু’টি নিয়ে পুনরায় সাওয়ার হলাম। তারপর আমি গাধাটির পেছনে দ্রুত ধাওয়া করে তাকে ঘায়েল করে ফেললাম। তখন সেটি মরে গেল এবং আমি তা নিয়ে এলাম। (পাকানোর পর) তারা সকলে এটা খাওয়া শুরু করলো। তারপর ইহরাম অবস্থায় এটা খাওয়া নিয়ে তারা সন্দেহে পড়লো। আমি সন্ধ্যার দিকে রওয়ানা দিলাম এবং এর একটি বাহু লুকিয়ে রাখলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে গেলাম এবং তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কাছে এর কিছু আছে? একথা শুনে আমি বাহুটি তাঁর সামনে পেশ করলাম। তিনি মুহরিম অবস্থায় তা খেলেন, এমন কি এর হাড়ের সাথে জড়িত গোশতোও দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেলেন।
ইবনে জাফর বলেছেনঃ যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) আতা ইবনে ইয়াসার এর সূত্রে আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
كتاب الأطعمة
باب تَعَرُّقِ الْعَضُدِ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ الْمَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ مَكَّةَ.
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ السَّلَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ يَوْمًا جَالِسًا مَعَ رِجَالٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مَنْزِلٍ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَازِلٌ أَمَامَنَا، وَالْقَوْمُ مُحْرِمُونَ وَأَنَا غَيْرُ مُحْرِمٍ، فَأَبْصَرُوا حِمَارًا وَحْشِيًّا وَأَنَا مَشْغُولٌ أَخْصِفُ نَعْلِي، فَلَمْ يُؤْذِنُونِي لَهُ، وَأَحَبُّوا لَوْ أَنِّي أَبْصَرْتُهُ، فَالْتَفَتُّ فَأَبْصَرْتُهُ فَقُمْتُ إِلَى الْفَرَسِ فَأَسْرَجْتُهُ. ثُمَّ رَكِبْتُ وَنَسِيتُ السَّوْطَ وَالرُّمْحَ فَقُلْتُ لَهُمْ نَاوِلُونِي السَّوْطَ وَالرُّمْحَ. فَقَالُوا لاَ وَاللَّهِ لاَ نُعِينُكَ عَلَيْهِ بِشَىْءٍ. فَغَضِبْتُ فَنَزَلْتُ فَأَخَذْتُهُمَا، ثُمَّ رَكِبْتُ فَشَدَدْتُ عَلَى الْحِمَارِ فَعَقَرْتُهُ، ثُمَّ جِئْتُ بِهِ وَقَدْ مَاتَ فَوَقَعُوا فِيهِ يَأْكُلُونَهُ، ثُمَّ إِنَّهُمْ شَكُّوا فِي أَكْلِهِمْ إِيَّاهُ وَهُمْ حُرُمٌ، فَرُحْنَا وَخَبَأْتُ الْعَضُدَ مَعِي، فَأَدْرَكْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " مَعَكُمْ مِنْهُ شَىْءٌ ". فَنَاوَلْتُهُ الْعَضُدَ فَأَكَلَهَا حَتَّى تَعَرَّقَهَا، وَهْوَ مُحْرِمٌ. قَالَ ابْنُ جَعْفَرٍ وَحَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ مِثْلَهُ.
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ السَّلَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ يَوْمًا جَالِسًا مَعَ رِجَالٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مَنْزِلٍ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَازِلٌ أَمَامَنَا، وَالْقَوْمُ مُحْرِمُونَ وَأَنَا غَيْرُ مُحْرِمٍ، فَأَبْصَرُوا حِمَارًا وَحْشِيًّا وَأَنَا مَشْغُولٌ أَخْصِفُ نَعْلِي، فَلَمْ يُؤْذِنُونِي لَهُ، وَأَحَبُّوا لَوْ أَنِّي أَبْصَرْتُهُ، فَالْتَفَتُّ فَأَبْصَرْتُهُ فَقُمْتُ إِلَى الْفَرَسِ فَأَسْرَجْتُهُ. ثُمَّ رَكِبْتُ وَنَسِيتُ السَّوْطَ وَالرُّمْحَ فَقُلْتُ لَهُمْ نَاوِلُونِي السَّوْطَ وَالرُّمْحَ. فَقَالُوا لاَ وَاللَّهِ لاَ نُعِينُكَ عَلَيْهِ بِشَىْءٍ. فَغَضِبْتُ فَنَزَلْتُ فَأَخَذْتُهُمَا، ثُمَّ رَكِبْتُ فَشَدَدْتُ عَلَى الْحِمَارِ فَعَقَرْتُهُ، ثُمَّ جِئْتُ بِهِ وَقَدْ مَاتَ فَوَقَعُوا فِيهِ يَأْكُلُونَهُ، ثُمَّ إِنَّهُمْ شَكُّوا فِي أَكْلِهِمْ إِيَّاهُ وَهُمْ حُرُمٌ، فَرُحْنَا وَخَبَأْتُ الْعَضُدَ مَعِي، فَأَدْرَكْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " مَعَكُمْ مِنْهُ شَىْءٌ ". فَنَاوَلْتُهُ الْعَضُدَ فَأَكَلَهَا حَتَّى تَعَرَّقَهَا، وَهْوَ مُحْرِمٌ. قَالَ ابْنُ جَعْفَرٍ وَحَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ مِثْلَهُ.
হাদীস নং: ৫০১৪
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪০৮
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫৪. চাকু দিয়ে গোশত কাটা
৫০১৪। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ......... ‘আমর ইবনে উমাইয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী করীম (ﷺ) -কে (পাকানো) বকরির কাঁধের গোশত নিজ হাতে খেতে দেখেছেন। নামাযের জন্য তাকে আহবান করা হলে তিনি তা এবং যে চাকু দিয়ে কাটছিলেন সেটিও রেখে দেন। এর পর উঠে গিয়ে নামায আদায় করেন। অথচ তিনি (নতুন করে) উযু করেননি।
كتاب الأطعمة
باب قَطْعِ اللَّحْمِ بِالسِّكِّينِ
5408 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي جَعْفَرُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ، أَنَّ أَبَاهُ عَمْرَو بْنَ أُمَيَّةَ، أَخْبَرَهُ: أَنَّهُ «رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْتَزُّ مِنْ كَتِفِ شَاةٍ فِي يَدِهِ، فَدُعِيَ إِلَى الصَّلاَةِ، فَأَلْقَاهَا وَالسِّكِّينَ الَّتِي يَحْتَزُّ بِهَا، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৫০১৫
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪০৯
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫৫. নবী করীম (ﷺ) কখনো কোন খাবারের দোষ-ত্রুটি ধরতেন না
৫০১৫। মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) কখনো কোন খাবারের দোষ-ক্রটি প্রকাশ করেননি। ভাল লাগলে তিনি তা খেয়েছেন এবং খারাপ লাগলে তা রেখে দিয়েছেন।
كتاب الأطعمة
باب مَا عَابَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا
5409 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «مَا عَابَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَعَامًا قَطُّ، إِنِ اشْتَهَاهُ أَكَلَهُ، وَإِنْ كَرِهَهُ تَرَكَهُ»
হাদীস নং: ৫০১৬
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪১০
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫৬. যবের আটায় ফুঁক দেওয়া
৫০১৬। সা‘ঈদ ইবনে আবু মারইয়াম (রাহঃ) ......... আবু হাযিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি সাহল (রাযিঃ) -কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আপনারা কি নবী করীম (ﷺ) -এর যুগে ময়দা দেখেছেন ? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ আপনারা কি যবের আটা চালনিতে চালতেন? তিনি বললেনঃ না। বরং আমরা তাতে ফুঁক দিতাম।
كتاب الأطعمة
باب النَّفْخِ فِي الشَّعِيرِ
5410 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ: أَنَّهُ سَأَلَ سَهْلًا: هَلْ رَأَيْتُمْ فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّقِيَّ؟ قَالَ: «لاَ» فَقُلْتُ: فَهَلْ كُنْتُمْ تَنْخُلُونَ الشَّعِيرَ؟ قَالَ: «لاَ، وَلَكِنْ كُنَّا نَنْفُخُهُ»
হাদীস নং: ৫০১৭
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪১১
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫৭. নবী করীম (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ যা খেতেন
৫০১৭। আবু নু‘মান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) একদিন তাঁর সাহাবীদের মধ্যে কিছু খেজুর ভাগ করে দিলেন। তিনি প্রত্যেককে সাতটি করে খেজুর দিলেন। আমাকেও সাতটি খেজুর দিলেন। তার মধ্যে একটি খেজুর ছিল খারাপ। তবে সাতটি খেজুরের মধ্যে এটিই আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয় ছিল। কারণ এটি চিবুতে আমার কাছে খুব শক্ত ঠেকছিল। (তাই এটি দীর্ঘ সময় আমার মুখে ছিল।)
كتاب الأطعمة
باب مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ يَأْكُلُونَ
5411 - حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبَّاسٍ الجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «قَسَمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا بَيْنَ أَصْحَابِهِ تَمْرًا، فَأَعْطَى كُلَّ إِنْسَانٍ سَبْعَ تَمَرَاتٍ، فَأَعْطَانِي سَبْعَ تَمَرَاتٍ إِحْدَاهُنَّ حَشَفَةٌ، فَلَمْ يَكُنْ فِيهِنَّ تَمْرَةٌ أَعْجَبَ إِلَيَّ مِنْهَا، شَدَّتْ فِي مَضَاغِي»
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০১৮
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪১২
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫৭. নবী করীম (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ যা খেতেন
৫০১৮। ‘আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ছিলাম নবী করীম (ﷺ) -এর সাহাবীদের মধ্যে (যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল) সপ্তম। হুবলা (কাটা যুক্ত গাছ) বা হাবলা (এক জাতীয় গাছ) ছাড়া আমাদের খাওয়ার আর কিছু ছিল না। এমনকি আমাদের কেউ কেউ বকরির ন্যায় মলত্যাগ করতো।। এরপরও বনু আসাদ আমাকে ইসলামের ব্যাপারে তিরস্কার করছে? তাহলে তো আমি একদম ক্ষতিগ্রস্থ এবং আমার সমস্ত পরিশ্রমই বৃথা।
كتاب الأطعمة
باب مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ يَأْكُلُونَ
5412 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ: «رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَةٍ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَا لَنَا طَعَامٌ إِلَّا وَرَقُ الحُبْلَةِ، أَوِ الحَبَلَةِ، حَتَّى يَضَعَ أَحَدُنَا مَا تَضَعُ الشَّاةُ، ثُمَّ أَصْبَحَتْ بَنُو أَسَدٍ تُعَزِّرُنِي عَلَى الإِسْلاَمِ، خَسِرْتُ إِذًا وَضَلَّ سَعْيِي»
হাদীস নং: ৫০১৯
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪১৩
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫৭. নবী করীম (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ যা খেতেন
৫০১৯। কুতায়বা ইবনে সা‘ঈদ (রাহঃ) ......... আবু হাযিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল (রাযিঃ) -কে জিজ্ঞাসা করলামঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি ময়দা খেয়েছেন? সাহল (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা যখন থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে পাঠিয়েছেন তখন থেকে ইন্তিকাল পর্যন্ত তিনি ময়দা দেখেননি। আমি পুনরায় তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর যুগে কি আপনাদের চালুনি ছিল? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে পাঠানোর পর থেকে ইন্তিকাল পর্যন্ত তিনি চালুনিও দেখেননি।
আবু হাযিম বলেন আমি বললামঃ তাহলে আপনারা চালা ব্যতীত যবের আটা কিভাবে খেতেন? তিনি বললেনঃ আমরা যব পিষে তাতে ফুঁক দিতাম। এতে যা উড়ে যাওয়ার তা উড়ে যেত, আর যা অবশিষ্ট থাকতো তা মেখে নিতাম, এরপর তা খেতাম।
আবু হাযিম বলেন আমি বললামঃ তাহলে আপনারা চালা ব্যতীত যবের আটা কিভাবে খেতেন? তিনি বললেনঃ আমরা যব পিষে তাতে ফুঁক দিতাম। এতে যা উড়ে যাওয়ার তা উড়ে যেত, আর যা অবশিষ্ট থাকতো তা মেখে নিতাম, এরপর তা খেতাম।
كتاب الأطعمة
باب مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ يَأْكُلُونَ
5413 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: سَأَلْتُ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ، فَقُلْتُ: هَلْ أَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّقِيَّ؟ فَقَالَ سَهْلٌ: «مَا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّقِيَّ، مِنْ حِينَ ابْتَعَثَهُ اللَّهُ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ» قَالَ: فَقُلْتُ: هَلْ [ص:75] كَانَتْ لَكُمْ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنَاخِلُ؟ قَالَ: «مَا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُنْخُلًا، مِنْ حِينَ ابْتَعَثَهُ اللَّهُ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ» قَالَ: قُلْتُ: كَيْفَ كُنْتُمْ تَأْكُلُونَ الشَّعِيرَ غَيْرَ مَنْخُولٍ؟ قَالَ: كُنَّا نَطْحَنُهُ وَنَنْفُخُهُ، فَيَطِيرُ مَا طَارَ، وَمَا بَقِيَ ثَرَّيْنَاهُ فَأَكَلْنَاهُ
হাদীস নং: ৫০২০
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪১৪
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫৭. নবী করীম (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ যা খেতেন
৫০২০। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক দল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন যাদের সামনে ছিল একটি ভুনা বকরি। তারা তাকে (খেতে) ডাকল। তিনি খেতে অস্বীকার করলেন এবং বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন অথচ তিনি কোন দিন যবের রুটিও পেটপুরে খান নি।
كتاب الأطعمة
باب مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ يَأْكُلُونَ
5414 - حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ المَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّهُ مَرَّ بِقَوْمٍ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ شَاةٌ مَصْلِيَّةٌ، فَدَعَوْهُ، فَأَبَى أَنْ يَأْكُلَ، وَقَالَ: «خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الدُّنْيَا وَلَمْ يَشْبَعْ مِنْ خُبْزِ الشَّعِيرِ»
হাদীস নং: ৫০২১
আন্তর্জাতিক নং: ৫৪১৫
- পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫৭. নবী করীম (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ যা খেতেন
৫০২১। ‘আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো ‘খিওয়ান’ (টেবিল জাতীয় উঁচু স্থানে) -এর উপর খাবার রেখে আহার করেননি এবং ছোট ছোট বাটীতেও আহার করেননি। আর তার জন্য কখনো পাতলা রুটি তৈরী করা হয়নি।
ইউনুস বলেন, আমি কাতাদাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ তা হলে তারা কিসের উপর আহার করতেন? তিনি বললেনঃ দস্তরখানার উপর।
ইউনুস বলেন, আমি কাতাদাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ তা হলে তারা কিসের উপর আহার করতেন? তিনি বললেনঃ দস্তরখানার উপর।
كتاب الأطعمة
باب مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ يَأْكُلُونَ
5415 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يُونُسَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «مَا أَكَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى خِوَانٍ، وَلاَ فِي سُكْرُجَةٍ، وَلاَ خُبِزَ لَهُ مُرَقَّقٌ» قُلْتُ لِقَتَادَةَ: عَلاَمَ يَأْكُلُونَ؟ قَالَ: «عَلَى السُّفَرِ»