আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
الجامع الصحيح للبخاري
৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৭৩ টি
হাদীস নং: ২৮১১
আন্তর্জাতিক নং: ৩০২০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৯৫. ঘরবাড়ী ও খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দেওয়া
২৮১১। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তুমি কি আমাকে যিলখালাসার ব্যাপারে শান্তি দিবে না? খাশআম গোত্রের একটি মূর্তি ঘর ছিল। যাকে ইয়ামানের কাবা নামে আখ্যায়িত করা হত। জারীর (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি আহমাসের দেড়শ’ আশ্বারোহী সাথে নিয়ে রওয়ানা করলাম। তারা নিপুণ অশ্বারোহী ছিল। জারীর (রাযিঃ) বলেন, আর আমি অশ্বের উপর স্থির থাকতে পারতাম না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার বুকে এমনভাবে আঘাত করলেন যে, আমি আমার বুকে তাঁর আঙ্গুলীর চিহ্ন দেখতে পেলাম এবং তিনি আমার জন্য এ দু'আ করলেন যে, ‘হে আল্লাহ! তাকে স্থির রাখুন এবং হেদায়েত প্রাপ্ত, পথ প্রদর্শনকারী করুন।’
তারপর জারীর (রাযিঃ) সেখানে গমন করেন এবং যুলখালাসা মন্দির ভেঙ্গে ফেলেন ও জ্বালিয়ে দেন। তারপর রাসূল (ﷺ)-কে এ সংবাদ নিয়ে এক ব্যক্তিকে তাঁর নিকট প্রেরণ করেন। তখন জারীর (রাযিঃ)-এর দূত বলতে লাগল, কসম সে মহান আল্লাহ তাআলার! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি আপনার নিকট তখনই এসেছি যখন যুলখালাসাকে আমরা ধংস করে দিয়েছি। জারীর (রাযিঃ) বলেন, তারপর রাসূল (ﷺ) আহমাসের অশ্ব ও অশ্বারোহীদের জন্য পাচঁবার বরকতের দু‘আ করেন।
তারপর জারীর (রাযিঃ) সেখানে গমন করেন এবং যুলখালাসা মন্দির ভেঙ্গে ফেলেন ও জ্বালিয়ে দেন। তারপর রাসূল (ﷺ)-কে এ সংবাদ নিয়ে এক ব্যক্তিকে তাঁর নিকট প্রেরণ করেন। তখন জারীর (রাযিঃ)-এর দূত বলতে লাগল, কসম সে মহান আল্লাহ তাআলার! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি আপনার নিকট তখনই এসেছি যখন যুলখালাসাকে আমরা ধংস করে দিয়েছি। জারীর (রাযিঃ) বলেন, তারপর রাসূল (ﷺ) আহমাসের অশ্ব ও অশ্বারোহীদের জন্য পাচঁবার বরকতের দু‘আ করেন।
كتاب الجهاد والسير
باب حَرْقِ الدُّورِ وَالنَّخِيلِ
3020 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: قَالَ لِي جَرِيرٌ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلاَ تُرِيحُنِي مِنْ ذِي الخَلَصَةِ» وَكَانَ بَيْتًا فِي خَثْعَمَ يُسَمَّى كَعْبَةَ اليَمَانِيَةِ، قَالَ: فَانْطَلَقْتُ فِي خَمْسِينَ وَمِائَةِ فَارِسٍ مِنْ أَحْمَسَ، وَكَانُوا أَصْحَابَ خَيْلٍ، قَالَ: وَكُنْتُ لاَ أَثْبُتُ عَلَى الخَيْلِ، فَضَرَبَ فِي صَدْرِي حَتَّى رَأَيْتُ أَثَرَ أَصَابِعِهِ فِي صَدْرِي، وَقَالَ: «اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ، وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا» ، فَانْطَلَقَ إِلَيْهَا فَكَسَرَهَا وَحَرَّقَهَا، ثُمَّ بَعَثَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُخْبِرُهُ، فَقَالَ رَسُولُ جَرِيرٍ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالحَقِّ، مَا جِئْتُكَ حَتَّى تَرَكْتُهَا كَأَنَّهَا جَمَلٌ أَجْوَفُ أَوْ أَجْرَبُ، قَالَ: فَبَارَكَ فِي خَيْلِ أَحْمَسَ، وَرِجَالِهَا خَمْسَ مَرَّاتٍ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮১২
আন্তর্জাতিক নং: ৩০২১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৯৫. ঘরবাড়ী ও খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দেওয়া
২৮১২। মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বনী নাযির ইয়াহুদীদের খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب حَرْقِ الدُّورِ وَالنَّخِيلِ
3021 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «حَرَّقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮১৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩০২২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৯৬. ঘুমন্ত মুশরিককে হত্যা করা
২৮১৩। আলী ইবনে মুসলিম (রাহঃ) .... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারীগণের একটি দল আবু রাফে ইয়াহুদীকে হত্যা করার জন্য প্রেরণ করেন। তাদের মধ্য থেকে একজন এগিয়ে গিয়ে ইয়াহুদীদের দূর্গে ঢুকে পড়ল। তিনি বললেন, তারপর আমি তাদের পশুর আস্তাবলে প্রবেশ করলাম। এরপর তারা দূর্গের দরজা বন্ধ করে দিল। তারা তাদের একটি গাধা হারিয়ে ফেলেছিল এবং তার খোঁজে তারা বেরিয়ে পড়ে। আমিও তাদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম।
তাদেরকে আমি বুঝাতে চেয়েছিলাম যে, আমি তাদের সঙ্গে গাধাঁর খোজ করছি। অবশেষে তারা গাধাটি পেল। তখন তারা দূর্গে প্রবেশ করে এবং আমিও প্রবেশ করলাম। রাতে তারা দূর্গের দরজা বন্ধ করে দিল। আর তারা চাবিগুলি একটি কুলুঙ্গীর মধ্যে রেখে দিল। আমি তা দেখতে পাচ্ছিলাম। যখন তারা ঘুমিয়ে পড়ল, আমি চাবিগুলি নিয়ে নিলাম এবং দূর্গের দরজা খুললাম। তারপর আমি আবু রাফের নিকট পৌঁছলাম এবং বললাম, হে আবু রাফে! সে আমার ডাকে সাড়া দিল। তখন আমি আওয়াজের প্রতি লক্ষ্য করে তরবারির আঘাত হানলাম, অমনি সে চিৎকার দিয়ে উঠল।
আমি বেরিয়ে এলাম। আমি পুনরায় প্রবেশ করলাম, যেন আমি তার সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছি। আর আমি আমার গলার স্বর পরিবর্তন করে বললাম, হে আবু রাফে! সে বলল, তোমার কি হল, তোমার মা ধ্বংস হোক। আমি বললাম, তোমার কি অবস্থা? সে বলল, আমি জানি না, কে বা কারা আমার এখানে এসেছিল এবং আমাকে আঘাত করেছে। রাবী বলেন, তারপর আমি আমার তরবারী তার পেটের উপর রেখে সব শক্তি দিয়ে চেপে ধরলাম, ফলে তাঁর হাড় পর্যন্ত পৌঁছে কট করে উঠল। এরপর আমি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বের হয়ে এলাম। আমি অবতরণের উদ্দেশ্যে তাদের সিড়ির কাছে এলাম।
যখন আমি পড়ে গেলাম, তখন এতে আমার পায়ে আঘাত লাগল। আমি আমার সাথীগণের সাথে এসে মিলিত হলাম। আমি তাদেরকে বললাম, আমি এখান হতে ততক্ষণ পর্যন্ত যাব না, যাবত না আমি মৃত্যুর সংবাদ প্রচারকারীণীর আওয়াজ শুনতে পাই। হিযাজবাসীদের বণিক আবু রাফের মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা না শোনা পর্যন্ত আমি সে স্থান ত্যাগ করলাম না। তিনি বলেন, তখন আমি উঠে পড়লাম এবং আমার তখন কোনরূপ ব্যথা বেদনাই অনুভব হচ্ছিল না। অবশেষে আমি রাসূল (ﷺ) -এর নিকট পৌঁছে এ বিষয়ে তাঁকে সংবাদ দিলাম।
তাদেরকে আমি বুঝাতে চেয়েছিলাম যে, আমি তাদের সঙ্গে গাধাঁর খোজ করছি। অবশেষে তারা গাধাটি পেল। তখন তারা দূর্গে প্রবেশ করে এবং আমিও প্রবেশ করলাম। রাতে তারা দূর্গের দরজা বন্ধ করে দিল। আর তারা চাবিগুলি একটি কুলুঙ্গীর মধ্যে রেখে দিল। আমি তা দেখতে পাচ্ছিলাম। যখন তারা ঘুমিয়ে পড়ল, আমি চাবিগুলি নিয়ে নিলাম এবং দূর্গের দরজা খুললাম। তারপর আমি আবু রাফের নিকট পৌঁছলাম এবং বললাম, হে আবু রাফে! সে আমার ডাকে সাড়া দিল। তখন আমি আওয়াজের প্রতি লক্ষ্য করে তরবারির আঘাত হানলাম, অমনি সে চিৎকার দিয়ে উঠল।
আমি বেরিয়ে এলাম। আমি পুনরায় প্রবেশ করলাম, যেন আমি তার সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছি। আর আমি আমার গলার স্বর পরিবর্তন করে বললাম, হে আবু রাফে! সে বলল, তোমার কি হল, তোমার মা ধ্বংস হোক। আমি বললাম, তোমার কি অবস্থা? সে বলল, আমি জানি না, কে বা কারা আমার এখানে এসেছিল এবং আমাকে আঘাত করেছে। রাবী বলেন, তারপর আমি আমার তরবারী তার পেটের উপর রেখে সব শক্তি দিয়ে চেপে ধরলাম, ফলে তাঁর হাড় পর্যন্ত পৌঁছে কট করে উঠল। এরপর আমি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বের হয়ে এলাম। আমি অবতরণের উদ্দেশ্যে তাদের সিড়ির কাছে এলাম।
যখন আমি পড়ে গেলাম, তখন এতে আমার পায়ে আঘাত লাগল। আমি আমার সাথীগণের সাথে এসে মিলিত হলাম। আমি তাদেরকে বললাম, আমি এখান হতে ততক্ষণ পর্যন্ত যাব না, যাবত না আমি মৃত্যুর সংবাদ প্রচারকারীণীর আওয়াজ শুনতে পাই। হিযাজবাসীদের বণিক আবু রাফের মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা না শোনা পর্যন্ত আমি সে স্থান ত্যাগ করলাম না। তিনি বলেন, তখন আমি উঠে পড়লাম এবং আমার তখন কোনরূপ ব্যথা বেদনাই অনুভব হচ্ছিল না। অবশেষে আমি রাসূল (ﷺ) -এর নিকট পৌঁছে এ বিষয়ে তাঁকে সংবাদ দিলাম।
كتاب الجهاد والسير
باب قَتْلِ النَّائِمِ الْمُشْرِكِ
3022 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّاءَ بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ البَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَهْطًا مِنَ الأَنْصَارِ إِلَى أَبِي رَافِعٍ لِيَقْتُلُوهُ» ، فَانْطَلَقَ رَجُلٌ مِنْهُمْ، فَدَخَلَ حِصْنَهُمْ، قَالَ: فَدَخَلْتُ فِي مَرْبِطِ دَوَابَّ لَهُمْ، قَالَ: وَأَغْلَقُوا بَابَ الحِصْنِ، ثُمَّ إِنَّهُمْ فَقَدُوا حِمَارًا لَهُمْ، فَخَرَجُوا يَطْلُبُونَهُ، فَخَرَجْتُ فِيمَنْ خَرَجَ أُرِيهِمْ أَنَّنِي أَطْلُبُهُ مَعَهُمْ، فَوَجَدُوا الحِمَارَ، فَدَخَلُوا وَدَخَلْتُ وَأَغْلَقُوا بَابَ الحِصْنِ لَيْلًا، فَوَضَعُوا المَفَاتِيحَ فِي كَوَّةٍ حَيْثُ أَرَاهَا، فَلَمَّا نَامُوا أَخَذْتُ المَفَاتِيحَ، فَفَتَحْتُ بَابَ الحِصْنِ، ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ: يَا أَبَا رَافِعٍ، فَأَجَابَنِي، فَتَعَمَّدْتُ الصَّوْتَ فَضَرَبْتُهُ، فَصَاحَ، فَخَرَجْتُ، ثُمَّ جِئْتُ، ثُمَّ رَجَعْتُ كَأَنِّي مُغِيثٌ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا رَافِعٍ وَغَيَّرْتُ صَوْتِي، فَقَالَ: مَا لَكَ لِأُمِّكَ الوَيْلُ، قُلْتُ: مَا شَأْنُكَ؟، قَالَ: لاَ أَدْرِي مَنْ دَخَلَ عَلَيَّ، فَضَرَبَنِي، قَالَ: فَوَضَعْتُ سَيْفِي فِي بَطْنِهِ، ثُمَّ تَحَامَلْتُ عَلَيْهِ حَتَّى قَرَعَ العَظْمَ، ثُمَّ خَرَجْتُ وَأَنَا دَهِشٌ، فَأَتَيْتُ سُلَّمًا لَهُمْ لِأَنْزِلَ مِنْهُ، فَوَقَعْتُ فَوُثِئَتْ رِجْلِي، فَخَرَجْتُ إِلَى أَصْحَابِي، فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِبَارِحٍ حَتَّى أَسْمَعَ النَّاعِيَةَ، فَمَا بَرِحْتُ حَتَّى سَمِعْتُ نَعَايَا أَبِي رَافِعٍ تَاجِرِ أَهْلِ الحِجَازِ، قَالَ: فَقُمْتُ وَمَا بِي قَلَبَةٌ حَتَّى أَتَيْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخْبَرْنَاهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮১৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩০২৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৯৬. ঘুমন্ত মুশরিককে হত্যা করা
২৮১৪। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারীগণের এক দলকে আবু রাফে ইয়াহুদীর নিকট প্রেরণ করেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আতিক (রাযিঃ) রাত্রিকালে তার ঘরে ঢুকে তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করেন।
كتاب الجهاد والسير
باب قَتْلِ النَّائِمِ الْمُشْرِكِ
3023 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ البَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَهْطًا مِنَ الأَنْصَارِ إِلَى أَبِي رَافِعٍ فَدَخَلَ عَلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَتِيكٍ بَيْتَهُ لَيْلًا فَقَتَلَهُ وَهُوَ نَائِمٌ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮১৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩০২৪ - ৩০২৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৯৭. তোমরা শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করো না
২৮১৫। ইউসুফ ইবনে মুসা (রাহঃ) .... উমর ইবনে উবাইদুল্লাহর আযাদকৃত গোলাম আবুন নযর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনে উবাইদুল্লাহর লেখক ছিলাম। তিনি বলেন, তাঁর নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) একখানি পত্র লিখেন। যখন তিনি হারুরিয়ার দিকে অভিযানে বের হন। আমি পত্রটি পাঠ করলাম-- তাতে লেখা ছিল যে, শত্রুর সাথে কোন এক মুখোমুখি যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্য ঢলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন। এরপর তিনি তাঁর সাহাবীদের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন, ‘হে লোক সকল, তোমরা শত্রুর সাথে মোকাবেলায় অবতীর্ণ হওয়ার কামনা করবে না এবং আল্লাহ তা‘য়ালার নিকট নিরাপত্তার দুআ করবে। তারপর যখন তোমরা শত্রুর সম্মুখীন হবে তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে। জেনে রাখবে, জান্নাত তরবারীর ছায়াতলে অবস্থিত।’
এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুআ করলেন, ‘হে আল্লাহ, কুরআন অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী, সৈন্য দলকে পরাজয় দানকারী, আপনি কাফির সম্প্রদায়কে পরাজিত করুন এবং আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করুন।’
মুসা ইবনে উকবা (রাহঃ) বলেন, সালিম আবু নযর আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনে উবাইদুল্লাহর লেখক ছিলাম। তখন তার কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ)-এর একখানা পত্র পৌছালো এই মর্মে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে না। আবু আমির (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেন, তোমরা শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে না। আর যখন তোমরা তাদের মুখোমুখী হবে তখন ধৈর্যধারণ করবে।
এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুআ করলেন, ‘হে আল্লাহ, কুরআন অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী, সৈন্য দলকে পরাজয় দানকারী, আপনি কাফির সম্প্রদায়কে পরাজিত করুন এবং আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করুন।’
মুসা ইবনে উকবা (রাহঃ) বলেন, সালিম আবু নযর আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনে উবাইদুল্লাহর লেখক ছিলাম। তখন তার কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ)-এর একখানা পত্র পৌছালো এই মর্মে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে না। আবু আমির (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেন, তোমরা শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে না। আর যখন তোমরা তাদের মুখোমুখী হবে তখন ধৈর্যধারণ করবে।
كتاب الجهاد والسير
باب لاَ تَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ
3024 - حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ اليَرْبُوعِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الفَزَارِيُّ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، كُنْتُ كَاتِبًا لَهُ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى، حِينَ خَرَجَ إِلَى الحَرُورِيَّةِ، فَقَرَأْتُهُ، فَإِذَا فِيهِ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ أَيَّامِهِ الَّتِي لَقِيَ فِيهَا العَدُوَّ، انْتَظَرَ حَتَّى مَالَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ قَامَ فِي النَّاسِ فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، لاَ تَمَنَّوْا لِقَاءَ العَدُوِّ، وَسَلُوا اللَّهَ العَافِيَةَ، فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا، وَاعْلَمُوا أَنَّ الجَنَّةَ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ» ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الكِتَابِ، وَمُجْرِيَ السَّحَابِ، وَهَازِمَ الأَحْزَابِ، اهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ»
3025 - وَقَالَ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، حَدَّثَنِي سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ، كُنْتُ كَاتِبًا لِعُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ فَأَتَاهُ كِتَابُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ تَمَنَّوْا لِقَاءَ العَدُوِّ»
3026 - وَقَالَ أَبُو عَامِرٍ: حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ تَمَنَّوْا لِقَاءَ العَدُوِّ، فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا»
3025 - وَقَالَ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، حَدَّثَنِي سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ، كُنْتُ كَاتِبًا لِعُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ فَأَتَاهُ كِتَابُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ تَمَنَّوْا لِقَاءَ العَدُوِّ»
3026 - وَقَالَ أَبُو عَامِرٍ: حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ تَمَنَّوْا لِقَاءَ العَدُوِّ، فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا»
হাদীস নং: ২৮১৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩০২৭ - ৩০২৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৯৮. যুদ্ধ হল কৌশল
২৮১৬। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (পারস্য সম্রাট) কিসরা ধ্বংস হবে, তারপর আর কিসরা হবে না। আর (রোমক সম্রাট) কায়সার অবশ্যই ধ্বংস হবে, তারপর আর কায়সার হবে না। এবং এটা নিশ্চিত যে, তাদের ধনভাণ্ডার আল্লাহর রাহে বন্টিত হবে। আর তিনি যুদ্ধকে কৌশল নামে আখ্যায়িত করেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الْحَرْب خَدْعَةٌ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " هَلَكَ كِسْرَى ثُمَّ لاَ يَكُونُ كِسْرَى بَعْدَهُ، وَقَيْصَرٌ لَيَهْلِكَنَّ ثُمَّ لاَ يَكُونُ قَيْصَرٌ بَعْدَهُ، وَلَتُقْسَمَنَّ كُنُوزُهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ".
وَسَمَّى الْحَرْبَ خَدْعَةً
وَسَمَّى الْحَرْبَ خَدْعَةً
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮১৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩০২৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৯৮. যুদ্ধ হল কৌশল
২৮১৭। আবু বকর ইবনে আসরাম (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুদ্ধকে কৌশল নামে আখ্যায়িত করেছেন। আবু আব্দুল্লাহ (রাহঃ) বলেন, আবু বকর হলেন বূর ইবনে আসরাম।
كتاب الجهاد والسير
باب الْحَرْب خَدْعَةٌ
3029 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَصْرَمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سَمَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْحَرْبَ خُدْعَةً. قال أبو عبدالله: أَبُو بَكْرٍ بُورُ بْنُ أَصْرَمَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮১৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৩০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৯৮. যুদ্ধ হল কৌশল
২৮১৮। সাদ্কা ইবনে ফযল (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘যুদ্ধ হল কৌশল।’
كتاب الجهاد والسير
باب الْحَرْب خَدْعَةٌ
3030 - حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الفَضْلِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الحَرْبُ خَدْعَةٌ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮১৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৩১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৯৯. যুদ্ধে কথা ঘুরিয়ে বলা
২৮১৯। কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একবার বললেন, ‘কে আছ যে, কা‘ব ইবনু আশরাফ- এর (হত্যার) দায়িত্ব নিবে? কেননা, সে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল(ﷺ)- কে কষ্ট দিয়ছে।’ মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) বলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি পছন্দ করেন যে, আমি তাকে হত্যা করি?’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘হ্যাঁ।’ বর্ণনাকারী বলেন, তারপর মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) কা‘ব ইবনে আশরাফের নিকট গিয়ে বললেন, ‘এ ব্যক্তি অর্থাৎ নবী (ﷺ) আমাদের কষ্টে ফেলেছে এবং আমাদের থেকে সাদ্কা চাচ্ছে।’ রাবী বলেন, তখন কা‘ব বলল, ‘এখন আর কি হয়েছে?’ তোমরা তো তার থেকে আরও অতিষ্ট হয়ে পড়বে।’ মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) বললেন, ‘আমরা তার অনুসরণ করছি, এখন তার পরিণতি না দেখা পর্যন্ত তাকে সম্পূর্ণ ত্যাগ করা পছন্দ করি না।’ রাবী বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) এভাবে তার সাথে কথা বলতে থাকেন এবং সুযোগ পেয়ে তাকে হত্যা করে ফেলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الْكَذِبِ فِي الْحَرْبِ
3031 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ لِكَعْبِ بْنِ الأَشْرَفِ، فَإِنَّهُ قَدْ آذَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ» ، قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ: أَتُحِبُّ أَنْ أَقْتُلَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَأَتَاهُ، فَقَالَ: إِنَّ هَذَا - يَعْنِي النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَدْ عَنَّانَا وَسَأَلَنَا الصَّدَقَةَ، قَالَ: وَأَيْضًا، وَاللَّهِ لَتَمَلُّنَّهُ، قَالَ: فَإِنَّا قَدِ اتَّبَعْنَاهُ فَنَكْرَهُ أَنْ نَدَعَهُ، حَتَّى نَنْظُرَ إِلَى مَا يَصِيرُ أَمْرُهُ، قَالَ: فَلَمْ يَزَلْ يُكَلِّمُهُ حَتَّى اسْتَمْكَنَ مِنْهُ فَقَتَلَهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮২০
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৩২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯০০. হারবীকে গোপনে হত্যা করা
২৮২০। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, ‘কা’ব ইবনে আশরাফকে হত্যা করার দায়িত্ব কে নিবে?’ তখন মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) বললেন, আপনি কি এ পছন্দ করেন যে, আমি তাকে হত্যা করি?’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) বললেন, ‘তবে আমাকে অনুমতি দিন, আমি যেন তাকে কিছু বলি।’ তিনি বললেন, ‘আমি অনুমতি প্রদান করলাম।’
كتاب الجهاد والسير
باب الْفَتْكِ بِأَهْلِ الْحَرْبِ
3032 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ لِكَعْبِ بْنِ الأَشْرَفِ» ، فَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ أَتُحِبُّ أَنْ أَقْتُلَهُ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَأْذَنْ لِي، فَأَقُولَ قَالَ: «قَدْ فَعَلْتُ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮২১
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৩৩ - ৩০৩৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯০১. যার থেকে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তার সাথে কৌশল ও সতর্কতা অবলম্বন করা বৈধ। লাঈস (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবনে কা‘ব (রাযিঃ)- কে সাথে নিয়ে ইবনে সাইয়াদের নিকট গমন করেন। তখন লোকেরা বলল, সে খেজুর বাগানে আছে। যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নিকট খেজুর বাগানে পৌঁছলেন, তখন তিনি খেজুর বৃক্ষের কান্ডের আড়াল করতে লাগলেন। ইবনে সাইয়াদ তখন তার চাদর জড়িয়ে গুণ গুণ করছিল। তখন ইবনে সাইয়াদ এর মা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে দেখে বলে উঠল, হে সাফ! (ইবনে সাইয়াদের সংক্ষিপ্ত নাম) এই যে, মুহাম্মাদ (ﷺ)। তখন ইবনে সাইয়াদ লাফিয়ে উঠল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি এ মহিলা তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দিত তবে ব্যাপারটি প্রকাশ হয়ে যেত।
২৮২১। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে খন্দক যুদ্ধের দিন দেখেছি, তিনি স্বয়ং মাটি বহন করেছেন। এমনকি তাঁর সমগ্র বক্ষদেশের কেশরাজিকে মাটি আবৃত করে ফেলেছে আর তাঁর শরীরে অনেক পশম ছিল। তখন তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে রাওহায়া (রাযিঃ) রচিত কবিতা অবৃত্তি করছিলেনঃ
‘‘হে আল্লাহ আপনি যদি আমাদেরকে হিদায়ত না করতেন, তাহলে আমরা হিদায়াত পেতাম না। আর আমরা সাদ্কা করতাম না এবং নামায আদায় করতাম না। আপনি আমাদের প্রতি প্রশান্তি অবতীর্ণ করুন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদেরকে অবিচল রাখুন। শত্রুগণ আমাদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে, যখন তারা ফিত্না সৃষ্টির সংকল্প করেছে, আমরা তা অস্বীকার করেছি।’ আর তিনি এ কবিতাগুলো অবৃত্তিকালে স্বর উঁচু করেছিলেন।
‘‘হে আল্লাহ আপনি যদি আমাদেরকে হিদায়ত না করতেন, তাহলে আমরা হিদায়াত পেতাম না। আর আমরা সাদ্কা করতাম না এবং নামায আদায় করতাম না। আপনি আমাদের প্রতি প্রশান্তি অবতীর্ণ করুন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদেরকে অবিচল রাখুন। শত্রুগণ আমাদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে, যখন তারা ফিত্না সৃষ্টির সংকল্প করেছে, আমরা তা অস্বীকার করেছি।’ আর তিনি এ কবিতাগুলো অবৃত্তিকালে স্বর উঁচু করেছিলেন।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَا يَجُوزُ مِنَ الِاحْتِيَالِ وَالحَذَرِ، مَعَ مَنْ يَخْشَى مَعَرَّتَهُ قَالَ اللَّيْثُ: حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّهُ قَالَ: انْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، قِبَلَ ابْنِ صَيَّادٍ، فَحُدِّثَ بِهِ فِي نَخْلٍ، فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّخْلَ، طَفِقَ يَتَّقِي بِجُذُوعِ النَّخْلِ، وَابْنُ صَيَّادٍ فِي قَطِيفَةٍ لَهُ فِيهَا رَمْرَمَةٌ، فَرَأَتْ أُمُّ ابْنِ صَيَّادٍ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا صَافِ هَذَا مُحَمَّدٌ، فَوَثَبَ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ تَرَكَتْهُ بَيَّنَ»
بَابُ الرَّجَزِ فِي الحَرْبِ وَرَفْعِ الصَّوْتِ فِي حَفْرِ الخَنْدَقِ فِيهِ سَهْلٌ وَأَنَسٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِيهِ يَزِيدُ عَنْ سَلَمَةَ
بَابُ الرَّجَزِ فِي الحَرْبِ وَرَفْعِ الصَّوْتِ فِي حَفْرِ الخَنْدَقِ فِيهِ سَهْلٌ وَأَنَسٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِيهِ يَزِيدُ عَنْ سَلَمَةَ
3034 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ البَرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الخَنْدَقِ وَهُوَ يَنْقُلُ التُّرَابَ حَتَّى وَارَى التُّرَابُ شَعَرَ صَدْرِهِ، وَكَانَ رَجُلًا كَثِيرَ الشَّعَرِ، وَهُوَ يَرْتَجِزُ بِرَجَزِ عَبْدِ اللَّهِ "
[البحر الرجز]
[ص:65] اللَّهُمَّ لَوْلاَ أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا ... وَلاَ تَصَدَّقْنَا وَلاَ صَلَّيْنَا
فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا ... وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاَقَيْنَا
إِنَّ الأَعْدَاءَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا ... إِذَا أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا
يَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ
[البحر الرجز]
[ص:65] اللَّهُمَّ لَوْلاَ أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا ... وَلاَ تَصَدَّقْنَا وَلاَ صَلَّيْنَا
فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا ... وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاَقَيْنَا
إِنَّ الأَعْدَاءَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا ... إِذَا أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا
يَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮২২
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৩৫ - ৩০৩৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯০৩. যে ব্যক্তি ঘোড়ার পিঠে স্থির থাকতে পারে না
২৮২২। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) .... জারির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছি তখন থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তাঁর কাছে প্রবেশ করতে বাধা দেননি এবং যখনি তিনি আমার চেহারার দিকে তাকাতেন তখন তিনি মুচকি হাসতেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট আমার অসুবিধার কথা জানালাম যে, আমি ঘোড়ার পিঠে স্থির থাকতে পারি না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার বুকে হাত দিয়ে আঘাত করলেন এবং এ দু‘আ করলেন, ‘হে আল্লাহ! তাকে (ঘোড়ার পিঠে) স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়তকারী ও হিদায়তপ্রাপ্ত বানান।’
كتاب الجهاد والسير
باب مَنْ لاَ يَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ جَرِيرٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ مَا حَجَبَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُنْذُ أَسْلَمْتُ، وَلاَ رَآنِي إِلاَّ تَبَسَّمَ فِي وَجْهِي. وَلَقَدْ شَكَوْتُ إِلَيْهِ إِنِّي لاَ أَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ. فَضَرَبَ بِيَدِهِ فِي صَدْرِي وَقَالَ " اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا ".
হাদীস নং: ২৮২৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৩৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯০৪. চাটাই পুড়ে যখমের চিকিৎসা করা এবং মহিলা কর্তৃক নিজ পিতার মুখমণ্ডলের রক্ত ধৌত করা, ঢাল ভর্তি করে পানি বহন করে আনা
২৮২৩। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... সাহল ইবনে সা‘দ সাঈদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তাকে লোকেরা জিজ্ঞাসা করেছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর যখম কিভাবে চিকিৎসা করা হয়েছিল? তখন সাহল (রাযিঃ) বলেন, এখন আর এ বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত কেউ অবশিষ্ট নেই। আলী (রাযিঃ) তাঁর ঢালে করে পানি বহন করে নিয়ে আনছিলেন, আর ফাতিমা (রাযিঃ) তাঁর মুখমণ্ডল হতে রক্ত ধৌত করছিলেন এবং একটি চাটাই নিয়ে পোড়ানো হয় আর তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর যখমের মধ্যে পুরে দেওয়া হয়।
كتاب الجهاد والسير
باب دَوَاءِ الْجُرْحِ بِإِحْرَاقِ الْحَصِيرِ وَغَسْلِ الْمَرْأَةِ عَنْ أَبِيهَا الدَّمَ عَنْ وَجْهِهِ، وَحَمْلِ الْمَاءِ فِي التُّرْسِ
3037 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، قَالَ: سَأَلُوا سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، بِأَيِّ شَيْءٍ دُووِيَ جُرْحُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ: مَا بَقِيَ مِنَ النَّاسِ أَحَدٌ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، «كَانَ عَلِيٌّ يَجِيءُ بِالْمَاءِ فِي تُرْسِهِ، وَكَانَتْ - يَعْنِي فَاطِمَةَ - تَغْسِلُ الدَّمَ عَنْ وَجْهِهِ وَأُخِذَ حَصِيرٌ فَأُحْرِقَ، ثُمَّ حُشِيَ بِهِ جُرْحُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮২৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৩৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯০৫. যুদ্ধক্ষেত্রে ঝগড়া ও মতবিরোধ করা অপছন্দনীয়। কেউ যদি ইমামের আবাধ্যতা করে তার শাস্তি। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আর তোমরা ঝগড়া-বিবাদ করবে না, করলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। (৮ঃ ৪৬) الرِّيحُ অর্থ শক্তি
২৮২৪। ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুআয ও আবু মুসা (রাযিঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ করেন ও নির্দেশ দেন যে, ‘লোকদের প্রতি নম্রতা করবে, কঠোরতা করবে না, তাদের সুসংবাদ দিবে, ঘৃনা সৃষ্টি করবে না। পরস্পর মতৈক্য পোষণ করবে, মতভেদ করবে না।’
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يُكْرَهُ مِنَ التَّنَازُعِ وَالاِخْتِلاَفِ فِي الْحَرْبِ وَعُقُوبَةِ مَنْ عَصَى إِمَامَهُ وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَلاَ تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ}. قَالَ قَتَادَةُ الرِّيحُ الْحَرْبُ
3038 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بَعَثَ مُعَاذًا وَأَبَا مُوسَى إِلَى اليَمَنِ قَالَ: «يَسِّرَا وَلاَ تُعَسِّرَا، وَبَشِّرَا وَلاَ تُنَفِّرَا، وَتَطَاوَعَا وَلاَ تَخْتَلِفَا»
হাদীস নং: ২৮২৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৩৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯০৫. যুদ্ধক্ষেত্রে ঝগড়া ও মতবিরোধ করা অপছন্দনীয়। কেউ যদি ইমামের আবাধ্যতা করে তার শাস্তি।
২৮২৫। আমর ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের দিন আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ)- কে পঞ্চাশজন পদাতিক যোদ্ধার উপর আমীর নিযুক্ত করেন এবং বলেন, তোমরা যদি দেখ যে, আমাদের কে পক্ষীকুল ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে, তথাপি তোমরা আমার পক্ষ হতে সংবাদ প্রেরণ করা ব্যতীত স্ব-স্থান ত্যাগ করবে না। আর যদি তোমরা দেখ যে, আমরা শত্রু দলকে পরাস্ত করেছি এবং আমরা তাদেরকে পদদলিত করেছি, তখনও আমার পক্ষ হতে সংবাদ প্রেরণ করা ব্যতীত স্ব-স্থান ত্যাগ করবে না। অনন্তর মুসলমানগণ কাফিরদেরকে যুদ্ধে পরাস্ত করে দিল। বারা (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি মুশরিকদের মহিলাদেরকে দেখতে পেলাম তারা নিজ পরিধেয় বস্ত্র উপরে উঠিয়ে পলায়ন করেছে। যাতে পায়ের অলঙ্কার ও পায়ের নলা উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছে।
তখন আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ)- এর সহযোগীগণ বলতে লাগলেন, ‘লোক সকল! এখন তোমরা গনীমতের মাল সংগ্রহ কর। তোমাদের সাথীরা বিজয় লাভ করেছে। আর অপেক্ষা কিসের?’ তখন আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ) বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদেরকে যা বলেছিলেন, তা তোমরা ভুলে গিয়েছ?’ তারা বললেন, আল্লাহর শপথ, আমরা লোকদের সাধে মিলিত হয়ে গনীমতের মাল সংগ্রহে অংশগ্রহণ করব।’ তারপর যখন তারা স্ব-স্থান ত্যাগ করে নিজেদের লোকজনের নিকট পৌঁছল, তখন (কাফিরগণ কর্তৃক) তাদের মুখ ফিরিয়ে দেয়া হয় আর তারা পরাজিত হয়ে পলায়ন করতে থাকেন। এটা সে সময় যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে পেছন থেকে ডাকছিলেন।
তখন নবী (ﷺ)- এর সঙ্গে বারজন লোক ব্যতীত অপর কেউই অবশিষ্ট ছিল না। কাফিরগণ এ সুযোগে মুসলমানদের সত্তর বক্তিকে শহীদ করে ফেলে। এর পূর্বে বদর যুদ্ধে নবী (ﷺ)- ও তাঁর সাথীগণ মুশরিকদের সত্তরজনকে বন্দী ও সত্তরজনকে নিহত করেন। এ সময় আবু সুফিয়ান তিনবার আওয়াজ দিল, ‘লোকদের মধ্যে কি মুহাম্মাদ জীবিত আছে?’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উত্তর দিতে নিষেধ করেন। পুনরায় তিনবার আওয়াজ দিল, ‘লোকদের মধ্যে কি আবু কুহাফার পুত্র (আবু বকর রাযিঃ) জীবিত আছে?’ পুনরায় তিনবার আওয়াজ দিল, ‘লোকদের মধ্যে কি খাত্তাবের পুত্র (উমর রাযিঃ) জীবিত আছে?’ তারপর সে নিজ লোকদের নিকট গিয়ে বলল, ‘এরা সবাই নিহত হয়েছে।’ এ সময় উমর (রাযিঃ) ধৈর্যধারণ করতে পারলেন না। তিনি বলে উঠলেন, ‘ওহে আল্লাহর শত্রু! আল্লাহর শপথ, তুমি মিথ্যা বলেছো। যাদের তুমি নাম উচ্চারণ করেছো তারা সবাই জীবিত আছেন। তোমাদের জন্য চরম পরিণতি অবশিষ্ট রয়েছে।’
আবু সুফিয়ান বলল, ‘আজ বদরের দিনের প্রতিশোধ। যুদ্ধ তো বালতির ন্যায়। তোমরা তোমাদের লোকদের মধ্যে নাক-কান কর্তিত দেখবে, আমি এর আদেশ করিনি কিন্তু তা আমি অপছন্দও করিনি।’ এরপর বলতে লাগল, ‘হে হুবাল (মূর্তি)! তুমি উন্নত শির হও। হে হুবাল (মূর্তি)! তুমি উন্নত শির হও।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবাগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘তোমরা এর উত্তর দিবে না?’ তারা বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি বলব?’ তিনি বললেন, ‘তোমরা বল, আল্লাহ তাআলাই সর্বোচ্চ মর্যাদাবান, তিনিই মাহিমান্বিত।’ আবু সুফিয়ান বলল, আমাদের জন্য উযযা (দেবতা) রয়েছে, তোমাদের উযযা নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তোমরা কি তার উত্তর দিবে না?’ বারা (রাযিঃ) বলেন, ‘সাহাবাগণ বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি বলব?’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তোমরা বল, আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী বন্ধু, তোমাদের কোন সাহায্যকারী বন্ধু নেই।
তখন আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ)- এর সহযোগীগণ বলতে লাগলেন, ‘লোক সকল! এখন তোমরা গনীমতের মাল সংগ্রহ কর। তোমাদের সাথীরা বিজয় লাভ করেছে। আর অপেক্ষা কিসের?’ তখন আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ) বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদেরকে যা বলেছিলেন, তা তোমরা ভুলে গিয়েছ?’ তারা বললেন, আল্লাহর শপথ, আমরা লোকদের সাধে মিলিত হয়ে গনীমতের মাল সংগ্রহে অংশগ্রহণ করব।’ তারপর যখন তারা স্ব-স্থান ত্যাগ করে নিজেদের লোকজনের নিকট পৌঁছল, তখন (কাফিরগণ কর্তৃক) তাদের মুখ ফিরিয়ে দেয়া হয় আর তারা পরাজিত হয়ে পলায়ন করতে থাকেন। এটা সে সময় যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে পেছন থেকে ডাকছিলেন।
তখন নবী (ﷺ)- এর সঙ্গে বারজন লোক ব্যতীত অপর কেউই অবশিষ্ট ছিল না। কাফিরগণ এ সুযোগে মুসলমানদের সত্তর বক্তিকে শহীদ করে ফেলে। এর পূর্বে বদর যুদ্ধে নবী (ﷺ)- ও তাঁর সাথীগণ মুশরিকদের সত্তরজনকে বন্দী ও সত্তরজনকে নিহত করেন। এ সময় আবু সুফিয়ান তিনবার আওয়াজ দিল, ‘লোকদের মধ্যে কি মুহাম্মাদ জীবিত আছে?’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উত্তর দিতে নিষেধ করেন। পুনরায় তিনবার আওয়াজ দিল, ‘লোকদের মধ্যে কি আবু কুহাফার পুত্র (আবু বকর রাযিঃ) জীবিত আছে?’ পুনরায় তিনবার আওয়াজ দিল, ‘লোকদের মধ্যে কি খাত্তাবের পুত্র (উমর রাযিঃ) জীবিত আছে?’ তারপর সে নিজ লোকদের নিকট গিয়ে বলল, ‘এরা সবাই নিহত হয়েছে।’ এ সময় উমর (রাযিঃ) ধৈর্যধারণ করতে পারলেন না। তিনি বলে উঠলেন, ‘ওহে আল্লাহর শত্রু! আল্লাহর শপথ, তুমি মিথ্যা বলেছো। যাদের তুমি নাম উচ্চারণ করেছো তারা সবাই জীবিত আছেন। তোমাদের জন্য চরম পরিণতি অবশিষ্ট রয়েছে।’
আবু সুফিয়ান বলল, ‘আজ বদরের দিনের প্রতিশোধ। যুদ্ধ তো বালতির ন্যায়। তোমরা তোমাদের লোকদের মধ্যে নাক-কান কর্তিত দেখবে, আমি এর আদেশ করিনি কিন্তু তা আমি অপছন্দও করিনি।’ এরপর বলতে লাগল, ‘হে হুবাল (মূর্তি)! তুমি উন্নত শির হও। হে হুবাল (মূর্তি)! তুমি উন্নত শির হও।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবাগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘তোমরা এর উত্তর দিবে না?’ তারা বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি বলব?’ তিনি বললেন, ‘তোমরা বল, আল্লাহ তাআলাই সর্বোচ্চ মর্যাদাবান, তিনিই মাহিমান্বিত।’ আবু সুফিয়ান বলল, আমাদের জন্য উযযা (দেবতা) রয়েছে, তোমাদের উযযা নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তোমরা কি তার উত্তর দিবে না?’ বারা (রাযিঃ) বলেন, ‘সাহাবাগণ বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি বলব?’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তোমরা বল, আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী বন্ধু, তোমাদের কোন সাহায্যকারী বন্ধু নেই।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يُكْرَهُ مِنَ التَّنَازُعِ وَالاِخْتِلاَفِ فِي الْحَرْبِ وَعُقُوبَةِ مَنْ عَصَى إِمَامَهُ
3039 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ: سَمِعْتُ البَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، يُحَدِّثُ قَالَ: جَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الرَّجَّالَةِ يَوْمَ أُحُدٍ، وَكَانُوا خَمْسِينَ رَجُلًا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جُبَيْرٍ، فَقَالَ: «إِنْ رَأَيْتُمُونَا تَخْطَفُنَا الطَّيْرُ فَلاَ تَبْرَحُوا مَكَانَكُمْ، هَذَا حَتَّى أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ، وَإِنْ رَأَيْتُمُونَا هَزَمْنَا القَوْمَ وَأَوْطَأْنَاهُمْ، فَلاَ تَبْرَحُوا حَتَّى أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ» ، فَهَزَمُوهُمْ، قَالَ: فَأَنَا وَاللَّهِ رَأَيْتُ النِّسَاءَ يَشْتَدِدْنَ، قَدْ بَدَتْ خَلاَخِلُهُنَّ وَأَسْوُقُهُنَّ، رَافِعَاتٍ ثِيَابَهُنَّ، فَقَالَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُبَيْرٍ: الغَنِيمَةَ أَيْ قَوْمِ الغَنِيمَةَ، ظَهَرَ أَصْحَابُكُمْ [ص:66] فَمَا تَنْتَظِرُونَ؟ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جُبَيْرٍ: أَنَسِيتُمْ مَا قَالَ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالُوا: وَاللَّهِ لَنَأْتِيَنَّ النَّاسَ، فَلَنُصِيبَنَّ مِنَ الغَنِيمَةِ، فَلَمَّا أَتَوْهُمْ صُرِفَتْ وُجُوهُهُمْ، فَأَقْبَلُوا مُنْهَزِمِينَ، فَذَاكَ إِذْ يَدْعُوهُمُ الرَّسُولُ فِي أُخْرَاهُمْ، فَلَمْ يَبْقَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرُ اثْنَيْ عَشَرَ رَجُلًا، فَأَصَابُوا مِنَّا سَبْعِينَ، وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ أَصَابُوا مِنَ المُشْرِكِينَ يَوْمَ بَدْرٍ أَرْبَعِينَ وَمِائَةً، سَبْعِينَ أَسِيرًا وَسَبْعِينَ قَتِيلًا، فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: أَفِي القَوْمِ مُحَمَّدٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، فَنَهَاهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُجِيبُوهُ، ثُمَّ قَالَ: أَفِي القَوْمِ ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ؟ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: أَفِي القَوْمِ ابْنُ الخَطَّابِ؟ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ: أَمَّا هَؤُلاَءِ، فَقَدْ قُتِلُوا، فَمَا مَلَكَ عُمَرُ نَفْسَهُ، فَقَالَ: كَذَبْتَ وَاللَّهِ يَا عَدُوَّ اللَّهِ، إِنَّ الَّذِينَ عَدَدْتَ لَأَحْيَاءٌ كُلُّهُمْ، وَقَدْ بَقِيَ لَكَ مَا يَسُوءُكَ، قَالَ: يَوْمٌ بِيَوْمِ بَدْرٍ، وَالحَرْبُ سِجَالٌ، إِنَّكُمْ سَتَجِدُونَ فِي القَوْمِ مُثْلَةً، لَمْ آمُرْ بِهَا وَلَمْ تَسُؤْنِي، ثُمَّ أَخَذَ يَرْتَجِزُ: أُعْلُ هُبَلْ، أُعْلُ هُبَلْ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلاَ تُجِيبُوا لَهُ» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَقُولُ؟ قَالَ: " قُولُوا: اللَّهُ أَعْلَى وَأَجَلُّ "، قَالَ: إِنَّ لَنَا العُزَّى وَلاَ عُزَّى لَكُمْ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلاَ تُجِيبُوا لَهُ؟» ، قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَقُولُ؟ قَالَ: «قُولُوا اللَّهُ مَوْلاَنَا، وَلاَ مَوْلَى لَكُمْ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮২৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৪০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯০৬. রাতে যখন (শত্রুর) ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়
২৮২৬। কুতায়বা ইবনে সা‘ঈদ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বাধিক সুন্দর, সর্বাধিক দানশীল ও সর্বাধিক শৌর্য-বীর্যের অধিকারী ছিলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, একবার এমন হয়েছিল যে, মদীনাবাসী একটি আওয়াজ শুনে ভীত- সন্ত্রস্ত হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, তখন নবী (ﷺ) আবু তালহা (রাযিঃ)- এর গদিবিহীন ঘোড়ায় আরোহণ করে তরবারী ঝুলিয়ে তাদের সম্মুখে এলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তোমরা ভয় পেয়ো না।’ তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘আমি এ ঘোড়াটিকে দ্রুতগামী পেয়েছি।’
كتاب الجهاد والسير
باب إِذَا فَزِعُوا بِاللَّيْلِ
3040 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسَنَ النَّاسِ، وَأَجْوَدَ النَّاسِ، وَأَشْجَعَ النَّاسِ، قَالَ: وَقَدْ فَزِعَ أَهْلُ المَدِينَةِ لَيْلَةً سَمِعُوا صَوْتًا، قَالَ: فَتَلَقَّاهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى فَرَسٍ لِأَبِي طَلْحَةَ عُرْيٍ، وَهُوَ مُتَقَلِّدٌ سَيْفَهُ، فَقَالَ: «لَمْ تُرَاعُوا، لَمْ تُرَاعُوا» ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَدْتُهُ بَحْرًا» يَعْنِي الفَرَسَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮২৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৪১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯০৭. যে ব্যক্তি শত্রু দেখে উচ্চস্বরে বলে, ““বিপদ আসন্ন!”” যাতে লোকদেরকে তা শুনাতে পারে
২৮২৭। মক্কী ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি গাবাহ নামক স্থানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে বের হলাম। যখন আমি গাবাহর উচ্চস্থানে পৌঁছলাম, সেখানে আমার সাথে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ)- এর গোলামের সাক্ষাত হল। আমি বললাম, আশ্চর্য! তোমার কি হয়েছে? সে বলল, নবী (ﷺ)- এর দুগ্ধবতী উটনীগুলো ছিনতাই হয়েছে। আমি বললাম, কারা ছিনতাই করেছে? সে বলল, গাতফান ও ফাযারাহ গোত্রের লোকেরা। তখন আমি বিপদ, বিপদ বলে তিনবার চিৎকার দিলাম। আর মদীনার দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে যতলোক ছিল সকলকে আওয়াজ শুনিয়ে দিলাম। এরপর আমি দ্রুত ছুটে গিয়ে ছিনতাইকারীদের পেয়ে গেলাম। তারা উটনীগুলোকে নিয়ে যাচ্ছিল।
আমি তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করতে থাকলাম। আর বলতে লাগলাম, আমি আকওয়ায়ের পুত্র (সালামা) আর আজ কমিনাদের ধ্বংসের দিন। আমি তাদের থেকে উটগুলো ছিনিয়ে নিলাম, তখনও তারা পানি পান করতে পারেনি। আর আমি সেগুলোকে হাকিয়ে নিয়ে আসছিলাম। এ সময় নবী (ﷺ)- এর সাথে আমার সাক্ষাত হয়, তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকগুলো পিপাসার্ত। আমি এত দ্রুততার সাথে কাজ সেরেছি যে, তারা পানি পান করার অবকাশ পায়নি। শীঘ্র তাদের পেছনে সৈন্য পাঠিয়ে দিন। তখন তিনি বললেন, ‘হে ইবনে আকওয়া! তুমি তাদের উপর জয়ী হয়েছ, এখন তাদের ব্যাপার ছাড়। তারা তাদের গোত্রের নিকট পৌঁছে গেছে, তথায় তাদের আতিথেয়তা হচ্ছে।’
আমি তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করতে থাকলাম। আর বলতে লাগলাম, আমি আকওয়ায়ের পুত্র (সালামা) আর আজ কমিনাদের ধ্বংসের দিন। আমি তাদের থেকে উটগুলো ছিনিয়ে নিলাম, তখনও তারা পানি পান করতে পারেনি। আর আমি সেগুলোকে হাকিয়ে নিয়ে আসছিলাম। এ সময় নবী (ﷺ)- এর সাথে আমার সাক্ষাত হয়, তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকগুলো পিপাসার্ত। আমি এত দ্রুততার সাথে কাজ সেরেছি যে, তারা পানি পান করার অবকাশ পায়নি। শীঘ্র তাদের পেছনে সৈন্য পাঠিয়ে দিন। তখন তিনি বললেন, ‘হে ইবনে আকওয়া! তুমি তাদের উপর জয়ী হয়েছ, এখন তাদের ব্যাপার ছাড়। তারা তাদের গোত্রের নিকট পৌঁছে গেছে, তথায় তাদের আতিথেয়তা হচ্ছে।’
كتاب الجهاد والسير
باب مَنْ رَأَى الْعَدُوَّ فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ يَا صَبَاحَاه حَتَّى يُسْمِعَ النَّاسَ
3041 - حَدَّثَنَا المَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ قَالَ: خَرَجْتُ مِنَ المَدِينَةِ ذَاهِبًا نَحْوَ الغَابَةِ، حَتَّى إِذَا كُنْتُ بِثَنِيَّةِ الغَابَةِ، لَقِيَنِي غُلاَمٌ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قُلْتُ: وَيْحَكَ مَا بِكَ؟ قَالَ: أُخِذَتْ لِقَاحُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قُلْتُ: مَنْ أَخَذَهَا؟ قَالَ: غَطَفَانُ، وَفَزَارَةُ فَصَرَخْتُ ثَلاَثَ صَرَخَاتٍ أَسْمَعْتُ مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا: يَا صَبَاحَاهْ يَا صَبَاحَاهْ، ثُمَّ انْدَفَعْتُ حَتَّى أَلْقَاهُمْ، وَقَدْ أَخَذُوهَا، فَجَعَلْتُ أَرْمِيهِمْ، وَأَقُولُ:
أَنَا ابْنُ الأَكْوَعِ ... وَاليَوْمُ يَوْمُ الرُّضَّعْ
فَاسْتَنْقَذْتُهَا مِنْهُمْ قَبْلَ أَنْ يَشْرَبُوا، فَأَقْبَلْتُ بِهَا أَسُوقُهَا، فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:67]، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ القَوْمَ عِطَاشٌ، وَإِنِّي أَعْجَلْتُهُمْ أَنْ يَشْرَبُوا سِقْيَهُمْ، فَابْعَثْ فِي إِثْرِهِمْ، فَقَالَ: " يَا ابْنَ الأَكْوَعِ: مَلَكْتَ، فَأَسْجِحْ إِنَّ القَوْمَ يُقْرَوْنَ فِي قَوْمِهِمْ "
أَنَا ابْنُ الأَكْوَعِ ... وَاليَوْمُ يَوْمُ الرُّضَّعْ
فَاسْتَنْقَذْتُهَا مِنْهُمْ قَبْلَ أَنْ يَشْرَبُوا، فَأَقْبَلْتُ بِهَا أَسُوقُهَا، فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:67]، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ القَوْمَ عِطَاشٌ، وَإِنِّي أَعْجَلْتُهُمْ أَنْ يَشْرَبُوا سِقْيَهُمْ، فَابْعَثْ فِي إِثْرِهِمْ، فَقَالَ: " يَا ابْنَ الأَكْوَعِ: مَلَكْتَ، فَأَسْجِحْ إِنَّ القَوْمَ يُقْرَوْنَ فِي قَوْمِهِمْ "
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ২৮২৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৪২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯০৮. তীর নিক্ষেপ কালে যে বলেছে, এটা লও (পালিও না) আমি অমুকের পুত্র। আর সালামা (ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) তীর নিক্ষেপকালে) বলেছেন, এটা লও (পালিও না) আমি আকওয়ার পুত্র
২৮২৮। উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) .... আবু ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ)- কে জিজ্ঞাসা করল এবং বলল, হে আবু উমরাহ! আপনারা কি হুনায়নের যুদ্ধে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিলেন? বারা (রাযিঃ) বললেন, (আবু ইসহাক (রাহঃ) বলেন), আর আমি তা শুনেছিলাম, সেদিন তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেননি। আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস (রাযিঃ) তাঁর খচ্চরের লাগাম ধরেছিলেন। যখন মুশরিকগণ তাঁকে ঘিরে ফেলল, তখন তিনি অবতরণ করলেন এবং বলতে লাগলেন, আমি আল্লাহর নবী, মিথ্যা নয়। আমি আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান। তিনি (বারা) (রাযিঃ) বলেন, সেদিন রাসূল (ﷺ) অপেক্ষা সুদৃঢ় আর কাউকে দেখা যায়নি।
كتاب الجهاد والسير
باب مَنْ قَالَ خُذْهَا وَأَنَا ابْنُ فُلاَنٍ وَقَالَ سَلَمَةُ خُذْهَا وَأَنَا ابْنُ الأَكْوَعِ
3042 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ البَرَاءَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَقَالَ: يَا أَبَا عُمَارَةَ، أَوَلَّيْتُمْ يَوْمَ حُنَيْنٍ؟ قَالَ البَرَاءُ، وَأَنَا أَسْمَعُ: أَمَّا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُوَلِّ يَوْمَئِذٍ، كَانَ أَبُو سُفْيَانَ بْنُ الحَارِثِ آخِذًا بِعِنَانِ بَغْلَتِهِ، فَلَمَّا غَشِيَهُ المُشْرِكُونَ نَزَلَ، فَجَعَلَ يَقُولُ: «أَنَا النَّبِيُّ لاَ كَذِبْ، أَنَا ابْنُ عَبْدِ المُطَّلِبْ» ، قَالَ: فَمَا رُئِيَ مِنَ النَّاسِ يَوْمَئِذٍ أَشَدُّ مِنْهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮২৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৪৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯০৯. শত্রুপক্ষ কারো মীমাংসা মেনে (দুর্গ থেকে) বেরিয়ে আসলে
২৮২৯। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) কুরায়যার ইয়াহুদীরা সা‘দ ইবনে মুআয (রাযিঃ)-এর মীমাংসায় দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ডেকে পাঠান। আর তিনি তখন ঘটনাস্থলের নিকটেই ছিলেন। তখন সা‘দ (রাযিঃ) একটি গাধার পিঠে আরোহণ করে আসলেন। যখন তিনি নিকটবর্তী হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা, ‘তোমাদের নেতার প্রতি দণ্ডায়মান হও।’ তিনি এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট বসলেন। তখন তাঁকে বললেন, ‘এরা তোমার মীমাংসায় সম্মত হয়েছে। (কাজেই তুমিই তাদের ব্যাপারে ফয়সালা কর)।’ সা‘দ (রাযিঃ) বলেন, ‘আমি এই রায় ঘোষণা করছি যে, তাদের মধ্য থেকে যুদ্ধ করতে সক্ষমদেরকে হত্যা করা হবে এবং মহিলা ও শিশুদের বন্দী করা হবে।’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তুমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার ফয়সালার অনুরূপ ফয়সালাই করেছ।’
كتاب الجهاد والسير
باب إِذَا نَزَلَ الْعَدُوُّ عَلَى حُكْمِ رَجُلٍ
3043 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ هُوَ ابْنُ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ بَنُو قُرَيْظَةَ عَلَى حُكْمِ سَعْدٍ هُوَ ابْنُ مُعَاذٍ، بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ قَرِيبًا مِنْهُ، فَجَاءَ عَلَى حِمَارٍ، فَلَمَّا دَنَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قُومُوا إِلَى سَيِّدِكُمْ» فَجَاءَ، فَجَلَسَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ لَهُ: إِنَّ هَؤُلاَءِ نَزَلُوا عَلَى حُكْمِكَ، قَالَ: فَإِنِّي أَحْكُمُ أَنْ تُقْتَلَ المُقَاتِلَةُ، وَأَنْ تُسْبَى الذُّرِّيَّةُ، قَالَ: «لَقَدْ حَكَمْتَ فِيهِمْ بِحُكْمِ المَلِكِ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ২৮৩০
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৪৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯১০. বন্দীকে হত্যা করা এবং হাত পা বেঁধে হত্যা করা
২৮৩০। ইসমাঈল (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাথায় শিরস্ত্রান পরিহিত অবস্থায় (মক্কায়) প্রবেশ করেন। যখন তিনি তা খুলে ফেললেন, এক ব্যক্তি এসে বলল, ইবনে খাতাল কা‘বার পর্দা ধরে জড়িয়ে আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘তাকে হত্যা কর।’
كتاب الجهاد والسير
باب قَتْلِ الأَسِيرِ وَقَتْلِ الصَّبْرِ
3044 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، دَخَلَ عَامَ الفَتْحِ وَعَلَى رَأْسِهِ المِغْفَرُ، فَلَمَّا نَزَعَهُ جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنَّ ابْنَ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِأَسْتَارِ الكَعْبَةِ فَقَالَ: «اقْتُلُوهُ»
তাহকীক: