পরিণতি নয়; আল্লাহর হুকুমের দিকে তাকানো
পরিণতি নয়; আল্লাহর হুকুমের দিকে তাকানো
( প্রদত্ত বয়ান হতে সংগৃহীত)
[২৩শে রমজান, (২০১৫ ইং), বাদ আসর মোযাকারা, যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসা]
খুব গুরত্বপূর্ণ একটা কথা আমাদের বুঝা প্রয়োজন যে, দ্বীন কি আর দুনিয়া কি? দ্বীন এবং দুনিয়া- এই দুটোর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দুনিয়া ঐটাকে বলা হয়, ঐ কাজকে, যে পদক্ষেপ একটা পরিণতিকে সামনে রেখে করে। পরিণতি যদি ভাল হয়, তাহলে তার পদক্ষেপ শুদ্ধ, বা কাংক্ষিত পরিণতি যদি সে পায়, তাহলে তার পদক্ষেপ শুদ্ধ। আর যদি কাংক্ষিত পরিণতি না পায়, তাহলে তার পদক্ষেপ ভুল। ভুল এবং শুদ্ধের মাপকাঠি এটাই।
বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, কেউ একটা ঔষুধ আবিষ্কার করলো। বড় সংখ্যায় রোগীকে সেই ঔষুধ খাওয়ানা হল, যেটাকে এক্সপেরিমেন্ট বলে। এই ঔষধ খেয়ে রোগীরা যদি ভাল হয়, তাহলে প্রমাণিত হল যে ঔষধ ভাল। আর এই ঔষধ খেয়ে রোগীরা যদি ভাল না হয়, তাহলেও প্রমাণিত হল যে, এই ঔষধ ভাল নয়। এছাড়া অন্য কোন মানদন্ড নেই।
সম্পূর্ণ বিজ্ঞান, সম্পূর্ণ প্রযুক্তি এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। এক্সপেরিমেন্ট করে দেখে; কাংক্ষিত ফলাফল পেলে এটা শুদ্ধ-ভাল, কাংক্ষিত ফলাফল না পেলে এটা অশুদ্ধ। একটা কথা আছে- উপকরণ, ইংরেজীতে সবধহং বলে। আর লক্ষ্য ঐটাকে বহফ অর্থাৎ ‘পরিণতি’ বলে। ঐ বহফ যদি শুদ্ধ হয়, ঐটাই প্রমাণ করে যে তার সবধহং শুদ্ধ ছিল। বহফ লঁংঃরভরবং সবধহং. অর্থাৎ পরিণতি যদি ভাল হয়, তাহলে যেটা করেছে ঐটা শুদ্ধ।
দ্বীনের ক্ষেত্রে এই কথা মোটেই গ্রহনযোগ্য নয়। আর গ্রহনযোগ্য নয় শুধু তা নয়, আল্লাহ তা’আলা বিভিন্নভাবে এই কথাকে দুনিয়ার সামনে তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন দৃষ্টান্ত দিয়ে বুঝিয়েছেন।
নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াত দিলেন সাড়ে নয়শত বছর। আর শেষ পরিণতি হল যে, অল্প কয়েকজন ছাড়া কেউ ঈমান আনল না। আর বাকী সবাই ধ্বংস হয়ে গেল। এই নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে নৌকাতে অল্প যেকজন ঈমান এনেছিল, বৈজ্ঞানিক মাপে এই ছোট সংখ্যার উপর ফায়সালা হয় না। কেউ একটা ঔষুধ আবিষ্কার করল, এক লাখ রোগীকে খাওয়ালো। নিরানব্বই হাজার নয়শত নব্বই জন মরে গেল, আর দশজন ভাল হল। এই লাখের মধ্যে মাত্র দশ জন ভাল হয়েছে- এটা এই ঔষধের পক্ষে কোন যুক্তিই নয়। চূড়ান্ত ব্যর্থ ঔষুধ। তো নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের নৌকাতে কয়েকজনের বেঁচে যাওয়া- এটা নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্বার্থকতার এক ফোঁটাও নয়। সেই হিসেবে, বৈজ্ঞানিক মানদন্ডে বা প্রতিষ্ঠিত দার্শনিক মানদন্ডে গোটা মানবজাতির মধ্যে নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড় মারাত্মক ব্যর্থতার (!) দৃষ্টান্ত।
দাওয়াত তো দিলেন একদিন দুইদিন নয়, সাড়ে নয়শত বছর! যদি দুই-চারদিন দাওয়াত দিয়ে ছাড়তেন, তাও বলা যেত যে, ‘ঠিক আছে, হুশ হয়েছে’। কিন্তু একদিন-দুইদিন নয়, একশ-দুইশ বছর নয়, সাড়ে নয়শত বছর পর্যন্ত দাওয়াত দিলেন আর পরিণতি এটা। তো দুনিয়ার দার্শনিকরা বলবে, বৈজ্ঞানিকরা বলবে এই কথা যে, উনার মেহনতে যে ফায়দা হচ্ছে না, এটা উনার অনেক আগেই বুঝা উচিত ছিল। এইজন্য সাড়ে নয়শত বছর লাগে? একশ-দুইশ বছর দাওয়াত দিয়েই তো বুঝতেন যে, ‘এটা বেকার, এটা ছাড়ি’।
কিন্তু তা নয়। বরং আল্লাহ তা’আলা নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৃষ্টান্তকে অত্যন্ত স্বার্থক দৃষ্টান্ত হিসেবে গোটা দুনিয়ার মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন আর নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রশংসায় সম্পূর্ণ সূরা নাযিল করেছেন।
একবার জামাতে গিয়েছিলাম। ঐ জামাতে একজন অত্যন্ত শিক্ষিত ব্যক্তি, তবলীগের সাথে জড়িত, অনেক ইসলামী বইও লিখেছেন। তো উনিও জামাতে ছিলেন। আর উনার মোজাকারা ছিল, গাস্তের কথা সম্ভবত ছিল। কথা প্রসঙ্গে বললেন যে, রাসূল কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাতে তের বছর দাওয়াত দেওয়ার পরে যখন এই মক্কার দাওয়াত ‘ব্যর্থ’ হল, (তখন) রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করলেন মদীনায়। আমি উনাকে বললাম, আপনি তওবা করুন। তওবা করলেন, ইস্তেগফার করলেন। বুঝালাম যে, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যর্থ হলেন- এই ‘ব্যর্থতা’ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নয়, (বরং এটা বুঝায়) আল্লাহ ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন! ‘দূরদৃষ্টি’ আল্লাহরই কম! আল্লাহ তা’আলা আন্দাজ করতে পারেননি যে, মক্কায় এত বছর মেহনত করে কিছু লাভ হবে না! আগে যদি আল্লাহ তা’আলা বুঝতে পারতেন, তাহলে খামোকা এখানে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তেরটা বছর নষ্ট করাতেন না!” এটা সম্পূর্ণভাবে স্বার্থক শহর। আল্লাহ তা’আলা এভাবেই চেয়েছেন আর এভাবেই হয়েছে।
পরিণতি দেখে একটা পদক্ষেপ নেওয়া- এটা দুনিয়ার নিয়ম, এটা দ্বীনি নীতি নয়। ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কওমকে দাওয়াত দিচ্ছেন। কওম দাওয়াত কবুল করেনি আর তাদের উপর আযাব নাযিল হবে। ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবী, উনি দেখতে পেলেন এই আযাব নামছে। কওম তো উনার কথা মানল না, এটা দেখে তিনি নিজে গ্রাম ত্যাগ করলেন। ‘কমপক্ষে আমি বাঁচি আল্লাহর আযাব থেকে’! আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচবার চেষ্টা করা- এটা বেদ্বীনি নাকি? মোটেই বেদ্বীনি নয়। আল্লাহর আযাব নাযিল হচ্ছে, ওখান থেকে বাঁচি। তো আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচবার চেষ্টা উনি করলেন। কিন্তু নীতিগতভাবে একটা পরিণতিকে সামনে রেখে পদক্ষেপ নিলেন। আর এই নীতি শুদ্ধ নয়। ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসীবতে পড়লেন। শুধু মুসীবতে না, মহা মুসীবতে পড়লেন। পানিতে পড়লেন, পানিতে আবার মাছ গিলল, মাছ আবার অন্ধকারের মধ্যে।
কয়েক ধরনের মুসীবতের মধ্যে পড়লেন। ভুলটা কোথায়? ভুল হল যে পরিণতিকে সামনে রেখে পদক্ষেপ নিয়েছেন। আর দ্বীন হল- হুকুম পালনে পদক্ষেপ নেওয়া। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন ‘যাও’, তো যাবো। আল্লাহর হুকুম যদি থাকে এটা করার- তো করবো। এতে কি হবে- ঐটা দেখার বিষয় নয়। আর ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেটা করেছিলেন যে, ‘কি হবে’- ঐটার দিকে তাকিয়েছেন। আর সেই হিসেবে নিজ বিবেচনায় একটা পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে শুধুমাত্র মুসীবতের মধ্যে পড়ে গেলেন-তা নয়। বরং এই সম্পূর্ণ ঘটনা ও মুসীবতকে আল্লাহ তা’আলা পরবর্তী মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরেছেন। আর সবাইকে সাবধান করে দিয়েছেন যে ‘খবরদার, ইউনূসের মত করবে না’। একজন নবী, আর নবীকে দৃষ্টান্ত দিয়ে আল্লাহ তা’আলা বলছেন যে, ওর মত করবে না। আর নবীকে পাঠানোই হয়েছে এটা বুঝানোর জন্য যে, ‘এর মত কর’। আর এই জায়গায় বলছেন ‘এর মত করবে না’।
‘এই মাছওয়ালার মত হবে না’
ইউনূস আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দৃষ্টান্ত। ভুলটা কোথায়? নিজ বিবেচনায় একটা পরিণতিকে সামনে রেখে পদক্ষেপ নিয়েছেন- যেটা দ্বীনি বুনিয়াদ নয়, যেটা হল দার্শনিক বুনিয়াদ কিংবা বৈজ্ঞানিক বুনিয়াদ।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু জিহাদে রওনা হয়েছেন মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মোকাবিলায়। ঘোড়ার পিঠে উঠবেন, রেকাবে পা রেখেছেন। ঐসময় সম্ভবত সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘আপনি জিতবেন নাকি’’? আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন ‘‘না’’। নিশ্চয়তার সাথে বললেন ‘‘না’’। সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তাহলে আপনি কেন যাচ্ছেন? আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে, জিতবো, হারবো- ঐটা আমাদের দেখার বিষয় না। কোনটা করণীয় ঐটা দেখার বিষয়। করণীয় আমার এটাই। আর এটা বুঝতে পারছি যে হারবো। কিন্তু এইজন্য আমরা করণীয় বাদ দিতে পারবো না। এটাই করতে হবে।
বহু বছর আগে পাকিস্তানে বয়ান করছিলেন আব্দুল ওহাব সাহেব। আর ঐ বয়ানের মধ্যে এই দৃষ্টান্ত দিয়েছিলেন। প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগের কথা হবে। দিল্লীতে ওলামাদের একটা মজমা ছিল। অনেক বড় বড় আলিমরা ছিলেন। সেই মজমার মধ্যে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই ঘটনাকে উল্লেখ করলেন ঐ ওলামাদের মজলিসে। (বললেন) যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তবুও গেলেন, যদিও জানেন যে উনি জিতবেন না। কিন্তু উনি করেছেন এইজন্যে যে ঐসময় এটাই উনার করণীয় ছিল। এই কথা বলার সাথে সাথে ঐ মজলিসে একজন নামকরা আলিম, জোরে কালিমায়ে শাহাদাৎ পড়লেন-
আর বললেন, ‘‘আজ আমি নতুন করে মুসলমান হলাম। একজন রাষ্ট্রনায়ক আর একজন খলীফার মধ্যে কি পার্থক্য- এটা বুঝলাম।’’ রাষ্ট্রনায়ক একটা পদক্ষেপ নিবে তার পরিণতির কথা চিন্তা করে, আর খলীফা পদক্ষেপ নিবে আল্লাহর আদেশের দিকে তাকিয়ে। পরিণতি কি হবে- ঐটা দেখার বিষয় নয়।
তো আল্লাহ তা’আলা বড় মেহেরবাণী করে আমাদের দ্বীন দিয়েছেন। দ্বীন আমাদের এটাই বুঝায় যে, প্রত্যেক অবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজ কী হবে, আমার কী করা উচিত? যেটায় আল্লাহর হুকুম পালন হবে আর আল্লাহ রাজি হবেন, সেটাই আমি করবো। এতে দুনিয়াতে কী ফলাফল হবে, ঐটা মোটেও দেখার বিষয় নয়। দেখার বিষয় যে, এটা আল্লাহর হুকুম কিনা? যদি আল্লাহর হুকুম হয়, তাহলে করবো। আর আল্লাহর হুকুম যদি না হয়, তাহলে লাভ-ক্ষতির বিবেচনা করে করবো না। লাভ-ক্ষতির বিবেচনা করে করার মানেই হল, ঐটা দুনিয়া। আর আল্লাহর হুকুম দেখে করা হচ্ছে দ্বীন।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী রহমাতুল্লাহি আলাইহির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট বের হয়েছে। আর পুলিশ ধরবে। সেই পুলিশ ধরা এরকম নয় যে, আমাদের সাথীদের মত জেলে রেখে বিশদিন-ত্রিশদিন পরে ছেড়ে দিবে। ওরকম ব্যাপার ছিল না, বরং ফাঁসিতে ঝুলাবে। উনি লুকিয়ে আছেন। তিনদিন পর বের হয়ে গেলেন। সাথীরা বলল ‘‘আপনার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে, পুলিশ ধরবে, লুকিয়ে থাকুন।’’ উনি বললেন যে, শত্রুর ভয়ে বা পুলিশের ভয়ে লুকিয়ে থাকার সুন্নত তিন দিন। তিন দিন হয়ে গেছে, ব্যাস সুন্নাতও আদায় হয়েছে, আর দরকার নেই। এইটা হল দ্বীন। উনি যে লুকিয়েছেন পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য নয়, (বরং) এই অবস্থায় সুন্নাত পালন করার জন্য। সুন্নাত পালন হয়ে গেছে, বের হয়ে গেলেন। পুলিশের হাতে ধরা পড়ারও দরকার নেই, ছুটারও দরকার নেই। (তো উনি) বের হয়ে গেলেন আর আল্লাহর দায়িত্বেই থাকলেন।
আল্লাহর দায়িত্বে যদি থাকে তো আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দার হেফাজত করেন। তার নিজস্ব তরতীব আছে। আল্লাহ তা’আলার হেফাজতের জন্য যে বিরাট বাহিনীর দরকার হবে- তাও নয়। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হেফাজত করলেন মাকড়সার জাল দিয়ে, গুহার মধ্যে। আর আল্লাহ তা’আলা নিজেই বলেছেন, যতকিছু আছে তার মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ঘর হল মাকড়সার। আর এটা মানুষও দেখতে পায়, আল্লাহও বলেছেন। আর গোটা মক্কার মোকাবিলায় আল্লাহ তা’আলা দাড় করালেন মাকড়সার জাল। ঐটা তারা ভেদ করতে পারলো না।
মাওলানা কাসেম নানুতবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি দিব্যি ঘুরে বেরাচ্ছেন বেপরওয়া, আর উনার বিরুদ্ধে পুলিশ। তো পুলিশ এসেছে। এসে উনাকেই জিজ্ঞাস করলো, ‘কাসেম নানুতবী কে?’ চেহারা তো চিনে না, নাম জানে। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন, পুলিশের প্রশ্ন শুনে এক কদম সরলেন। সরে আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি বললেন’? পুলিশ জিজ্ঞাসা করলো, কাসেম নানুতবী কে? তিনি বললেন, ‘‘একটু আগে তো উনি এখানে ছিলেন”। উনি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এক কদম সরে বললেন, একটু আগে তো ছিলেন। এদিক ওদিক তাকালেন। পুলিশ ভাবল একটু আগে ছিলেন; অতএব দৌড়ে বের হয়ে চলে গেল। তো ঐটা হল ভিন্ন কথা। কথা হল, লুকিয়েছেন সুন্নাত আদায়ের জন্য, সুন্নাত আদায় হয়ে গেছে- বের হয়ে গেছেন। এইটা হল দ্বীন।
তো আমি যে একটা কাজ করছি- এটা আল্লাহর হুকুম কি না, সুন্নাতের মধ্যে পড়ে কি না, এতে আল্লাহ রাজি হবেন কিনা- এটা দেখার বিষয়। এটার পরিনাম কি হবে, পরিণতি কি হবে- ঐটার দিকে যদি কেউ তাকায়, সে আর দ্বীনের পথে থাকলো না। আল্লাহ আমাদের দ্বীনের উপর থাকার তৌফিক নসীব করুন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
ত্যাগের বিনিময়ে সম্পর্ক: উম্মতের মহব্বতের বুনিয়াদ
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] স্থান: গাউসনগর জামে মসজিদ, ইস্কাটন রোড, ঢাকা তারিখ: ৯ জুন ২০০৬,বেলা:৩.৩...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১২ জানুয়ারী, ২০২৬
১৪৬৪
দ্বীনের মূল লক্ষ্য: মাহবুবিয়্যাত অর্জন
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] اَلحَمْدُ للهِ نَسْتَعِيْنُهُ وَنَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
২৬১৯
আল্লাহর হাতে সোপর্দ: দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনের পথ
(প্রদত্ত বয়ান হতে সংগৃহীত اَلْحَمْدُ للهِ نَسْتَعِيْنُهُ وَنَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِن...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
২০ জানুয়ারী, ২০২৬
১৬৫৯
দ্বীনের মেহনতের ফায়দা নাকি দুনিয়া শিকারের ধান্দা
৪ঠা মার্চ ২০১৫, বাসাবো কদমতলা মসজিদ, ঢাকা একজনের অসুখ হয়েছে, আর কিছুদিন পরপর সে তার নিজের স্বাস্থ্য...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
২৩ জানুয়ারী, ২০২৬
৬৩৬
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন