প্রবন্ধ
কুরআনের প্রতি জুলুম
৭৭৩৭
০
মহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা আবরারুল হক সাহেব হারদুঈ রহ. বলেন,
১. নিজের ঘর বাড়ি, দোকান-পাট, খাওয়া-দাওয়া উত্তম থেকে অতি উত্তম ও দামী হওয়ার ফিকির করা হয়। অথচ কুরআন শরীফ তাজবীদের সাথে উত্তমরূপে তিলাওয়াতের ফিকির করা হয় না।
২. নিজের স্ত্রী কিংবা বন্ধুজনের চিঠি আসলে সে চিঠি পড়ানোর জন্য অস্থির হয়ে পড়তে জানা লোক তালাশ করা হয়। অথচ আল্লাহর কালাম কুরআন শরীফ জানবার জন্য অভিজ্ঞ আলেমের নিকট তাফসীর শোনার ফিকির করা হয় না।
৩. দারুল হাদীস তথা হাদীসের পাঠকক্ষকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হয় অথচ দারুল কুরআন তথা কুরআন শরীফ শিখার জন্য স্বতন্ত্র জায়গার ব্যবস্থা করা হয় না। স্বতন্ত্র ব্যবস্থা থাকলেও তাকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হয় না এবং উন্নত করা হয় না।
৪. ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তাদেরকে চেয়ারে বসানো হয় । অথচ কুরআন শরীফ তিলাওয়াতকারীকে চেয়ারে বসানো হয় না।
৫. বিভিন্ন সভা সমিতির শুরুতে লোক জমা করার জন্য কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করানো হয়। অথচ মূল বক্তব্য ও আলোচনা লোকজন এসে বসার পর করা হয়। তখন আর তিলাওয়াত করা হয় না।
৬. দারুল হাদীসে দামী ম্যাট-কার্পেট বিছানো হয় । অথচ দারুল কুরআন তথা হিফজ, নাজেরা, তাজবীদ ও কিরাআত বিভাগের কামরায় ছেঁড়া চট ও চাটাই বিছানো হয়।
৭. নিজের শরীর কেটে গেলে কিংবা ক্ষত হলে ততক্ষণাৎ মলম, পট্টি, ব্যান্ডেজের ব্যবস্থা করা হয়। অথচ কুরআন শরীফ ছিঁড়ে ও বাধাই বিহীন অবস্থায় অনাদরে ও অবহেলায় ফেলে রাখা হয়।
৮. নিজের আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যু হলে কাফন পরিয়ে তৎক্ষণাত দাফনের ব্যবস্থা করা হয়, অথচ আল্লাহর কালাম তথা কুরআন শরীফের পাতা ছিঁড়ে গেলে এবং পড়ার কাজে না আসলে তা অন্ধকার কূপে ফেলে দেয়া হয়, কিংবা মসজিদে রেখে আসা হয়, অথবা পানির স্রোতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। স্মরণ রাখা উচিত কুরআন শরীফ পড়ার অনুপযোগী হয়ে গেলে তা নতুন কাপড়ের মোড়কে সুগন্ধি মাখিয়ে যেখানে সাধারণ মানুষের চলাচলের সম্ভাবনা নেই এমন স্থানে দাফন করা উচিত।
৯. টেবিল, দরজা-জানালা আলমারীর উপর পর্দা লাগানো হয়, অথচ কুরআন শরীফকে কাপড় বিহীন খালি রাখা হয়।
১০. নিজের কাপড়-চোপড় রাখার জন্য শেল্ফ, আলমারি এবং ওয়ারড্রব ইত্যাদি বানানো হয়। অথচ কুরআন শরীফ গিলাফ বিহীন অবস্থায় অযত্নে অনাদরে রাখা হয়।
১১. নিজে তো পোশাক পরিধান করে অথচ কুরআন শরীফ বস্ত্রহীন-গিলাফ বিহীন রাখা হয়।
১২. নিজের এবং ছেলে-মেয়ের পোশাক ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় বাজারে ব্যয় করা হয়, অথচ কুরআন শরীফের গিলাফ সেলওয়ার-কামিজের উদ্বৃত্ত কাপড় দিয়ে তৈরী করা হয়।
১৩. নিজের কাপড়-চোপড় সপ্তাহে দুই-তিনবার ধৌত করা হয়, অথচ কুরআন শরীফের গিলাফ যিন্দেগীভর ধৌত করা হয় না।
১৪. নিজের ব্যবহৃত কাপড়-চোপড় ধোয়া পানির ন্যায় কুরআন শরীফের গিলাফ ধোয়ার পানি বাথরুমের ড্রেনে ফেলে দেয়া হয়। স্মরণ রাখা উচিত কুরআন শরীফের গিলাফ ধোয়া পানি বরকতের উদ্দেশ্যে ঘরের দেয়ালে ছিটিয়ে দিবে, কিংবা ফুলের টবে সম্মানের সাথে ঢেলে দিবে।
১৫. নিজের চেয়ার, খাট-পালঙ্কের পায়া ভেঙ্গে গেলে তা উল্টিয়ে ব্যবহার করা হয় না, অথচ কুরআন শরীফের চেয়ার-রিহাল ভেঙ্গে গেলে উল্টিয়ে ব্যবহার করা হয়।
১৬. প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী প্রমুখের জন্য স্বতন্ত্র চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়, অথচ কুরআন শরীফ এবং হাদীসের চেয়ার ভিন্ন ভিন্ন হয় না বরং যে রিহাল বা তে-পায়ার উপর আল্লাহর কালাম পাঠ করা হয় তার উপরেই হাদীসের কিতাবে রেখে পাঠ করা হয়।
হাকীমুল উম্মত, মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন, কুরআন শরীফকে সম্মান কর, কুরআন শরীফ সহী-শুদ্ধ করে পড়, কুরআন শরীফের বাহককে সম্মান কর, তোমাদের অভাব থাকবে না।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
ইসলামী শরীয়ত বিষয়ে কবি হাসান মাহমুদের অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতা (পর্ব-১)
ইসলামী শরীয়ত বিষয়ে কবি হাসান মাহমুদের অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতা (পর্ব-১) মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী (হাফি.) ব...
মনযিল এর আমল: পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য ও কিছু কথা
মানযিল কী? মানযিল মূলত কুরআনে নির্বাচিত কিছু আয়াতের সমষ্টি। কুরআনের ১৮ টি স্থান থেকে মোট ৭৯ টি আয়াত ...
قرآن مجیدکیا ہے؟ (پہلی قسط)
کیا قرآن مجید اللہ جل وعلیٰ کا ازلی وابدی کلام ہے اور آسمانی کتاب جو جبرئیل علیہ السلام کے ذریعہ رسو...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন