প্রবন্ধ
তাকওয়ার স্তর সমূহ || সূরা আলে ইমরান, ১০২
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৫১৫
০
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করার মতো ভয় করো
এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আলে ইমরান, ৩:১০২)
মজলিসের শুকরিয়া ও পেছনের কথা
আলহামদুলিল্লাহ,
আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে
দিল থেকে শুকরিয়া আদায় করি যে, আল্লাহ রাব্বুল
আলামীন কোরআনের এই তাফসীরের মজলিসে আমাদেরকে বসার তৌফিক দান করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।
গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে সূরা আলে ইমরানের ১০০ এবং ১০১—এই দুই আয়াত
সম্পর্কে আলোচনা হয়েছিল। গত সপ্তাহে শারীরিক অসুস্থতার কারণে আপনাদের সামনে আসতে
পারি নাই। কয়েকজনের কাছে শুনলাম যে,
অনেকে
তাফসীরের জন্য এসেছিলেন দূর-দূরান্ত থেকে,
পরে
আবার কষ্ট করে চলে গেছেন। আল্লাহ তাআলা আপনাদের আসা-যাওয়াকে কবুল করে নেন।
আজকে ১০২ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করেছি। আসলে ১০২ এবং ১০৩—দুই আয়াতেই দুইটি
বিষয় আল্লাহ তাআলা আলোচনা করেছেন,
যেই
দুই বিষয় যদি মুসলমানরা অর্জন করতে পারে,
তাহলে
মুসলমানরা কোন সময় কারো সামনে মাথা নত করতে হবে না।
দ্বিতীয় বিষয়টি একটু লম্বা, এজন্য দ্বিতীয় বিষয়ে আজকে আলোচনা করবো না। শুধু প্রথম
বিষয়—১০২ নম্বর আয়াত, এর মধ্যে আল্লাহ
তাআলা যে কথাটি বলেছেন, সেই বিষয়ে আলোচনা
করছি।
এক আয়াতের ভেতরেই পুরো কোরআন
আমাদের ইতিপূর্বে অনেক বুজুর্গানে দ্বীনের জীবনীতে পাওয়া
যায়, উনারা জীবনে যতবার বয়ান করতে
বসতেন, সূরা আলে ইমরানের ১০২ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করতেন। অনেকের জীবনীতে পাওয়া
যায়, উনাদের সামনে যারা শ্রোতা
থাকতেন, তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন
করতেন যে, "আমাদের হুজুর
কোরআন শরীফের শুধুমাত্র একটা আয়াতই জানে?
আর
কোনো আয়াত জানে না? শুধু এক আয়াতের
কথাই বারবার বারবার তেলাওয়াত করতে থাকে,
ওই
আয়াতের কথাই আলোচনা করে।"
আমাদের বুজুর্গরা বলতেন যে, কোরআন মাজিদের কিছু কিছু আয়াত এমন আছে যে, ওই এক আয়াতের মধ্যেই আল্লাহ তাআলা পুরা কোরআন
শরীফকে ঢুকিয়ে দিয়েছেন, সুবহানাল্লাহ!
সূরা আলে ইমরানের ১০২ নম্বর আয়াত হলো ওরকমই এক আয়াত।
আয়াতের মধ্যে কথা সংক্ষেপ কথাবার্তা, যেগুলো আমরা
সবসময় শুনি। কিন্তু যদি আমরা নিজের জীবনে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে কামিয়াব হয়ে যাবো। এক হলো আমাদের কানে
আওয়াজ লাগছে, আরেক হলো ওই
আওয়াজ পুরো জীবনে মাথা থেকে পা পর্যন্ত চলে আসছে। দুইটা ভিন্ন জিনিস। এক হলো
বাসার ভিতরে রঙের রঙের বালতি থাকা,
আরেক
হলো রঙের বালতির মধ্যে যে রং আছে, সেই রং পুরা বাসার
মধ্যে লেগে যাওয়া। দুইটা কি এক জিনিস?
যদি আমাদেরকে বলা হয়,
সূরা
আলে ইমরানের ১০২ নম্বর আয়াত সম্পর্কে আপনারা একটু কথাবার্তা বলেন, এরকম অনেক মানুষ আছেন যারা অনেক সুন্দর সুন্দর
কথা বলতে পারবেন। এটার উপরে
লম্বা আলোচনা করতে পারবেন।
কিন্তু যখন উনাদের জীবনের দিকে তাকানো হবে,
দেখা
যাবে যে এই আয়াতের কোনো ছিটেফোঁটাও নাই। এরকম অনেক সময় থাকতে পারে না?
জ্ঞান বনাম আমল: আখেরাতের হিসাব
এজন্য ইলম জানা যতটুকু জরুরি, তার চাইতে বেশি হলো জানা অনুযায়ী আমল করা। যতটুকু আমি জানি
সেটা তো আছেই, ওটা তো অনেক
প্রয়োজনীয়, জানার চাইতে আমল
করা বেশি জরুরি। এটা আগেও আপনাদেরকে বলেছি,
কেয়ামতের
দিন আল্লাহ তাআলা পাঁচটি বিষয় সবাইকে প্রশ্ন করবেন। পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে পাঁচ
নম্বর বিষয় হলো: "তোমাকে আমি যতটুকু জ্ঞান দিয়েছিলাম, ওই জ্ঞান অনুযায়ী তুমি আমল করছো কতটুকু?"
জ্ঞান আছে ৮০%,
আমল
আছে ১০%—তাহলে কি পাস করলো? জ্ঞান যদি থাকে
৫০%, চেষ্টা করতে হবে, আমল যেন
এর চেয়েও বেশি হয়ে যায়। আমল যদি বেশি হতে থাকে, আল্লাহ তাআলা অনেক অজানা জ্ঞানও দান করবেন। আর জ্ঞান অনেক
আছে, কারো সাথে যদি তর্ক লাগিয়ে
দিলে আমার সাথে তর্কে পারবে না, এত জ্ঞান এত
জ্ঞান! কথায় কথায় আমি অনেক ধরনের বৈজ্ঞানিক কথাবার্তা, বিভিন্ন তাত্ত্বিক কথাবার্তা মুহূর্তের মধ্যে বলে
দিতে পারি। কিন্তু আমার জীবনে তার কিছু নাই,
তাহলে
ওই জীবন খালি।
তো আল্লাহ তাআলা ১০২ নম্বর আয়াতের মধ্যে এরকম বিষয়ে
আলোচনা করেছেন। এজন্যই আমাদের বুজুর্গরা,
অনেক
মুফাসসিররা এটা বলতেন যে, কোরআন মাজিদের
অনেক আয়াতের প্রচার-প্রসার করো, বিশেষ করে সূরা
আলে ইমরানের ১০২ নম্বর আয়াত, এটার
প্রচার-প্রসার বেশি করো। জায়গায় জায়গায় গিয়ে এটার উপরে তাফসীর হোক, এটার উপর আলোচনা হোক, এটা নিয়ে কথাবার্তা হোক।
এইজন্য তাফসীরের মাহফিল হোক, ইসলাহী মাহফিল হোক,
অন্য
যত জায়গায় হোক, যেই জায়গার মধ্যে
কোরআনের উপরে আলোচনা হবে, নবীজির হাদিস
নিয়ে কথাবার্তা হবে, ওই জায়গার মধ্যে
আলাদা সুরেরও দরকার হয় না, কিছুর প্রয়োজন
হয় না, এমনিই নূর ছড়াইতে থাকে।
মানুষদের মধ্যে নূর ছড়াইতে থাকে। কারণ কোরআনের আয়াতগুলোই এমন, কোরআনের কথাগুলোই এমন যে, ভাঙাচোরা ভাষায়ও যদি কেউ বলে দেয়, তারপরেও বহু মানুষের হেদায়েতের যরিয়া হয়ে
যায়।
শুনেছি হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহমতুল্লাহি আলাইহি সবসময়
নোয়াখালীর ভাষায় কথা বলতেন। নোয়াখালীর ভাষায়
বয়ান, নোয়াখালীর ভাষায়
কথাবার্তা। এখন নোয়াখালীর ভাষায় যদি কেউ বয়ান করে, তাহলে তো মানুষ শুনতেও চাবে না, কেমন কথাবার্তা! কিন্তু নোয়াখালীর ভাষায়
কথাবার্তা বা ভিন্ন ভাষায় কথাবার্তা হোক, দেখা যায় এর মাধ্যমেও বহু
মানুষের হেদায়েত হয়ে যেত। কেন? কোরআনের উপরে
আলোচনা হতো, নবীজির হাদিসের উপরে
আলোচনা হতো, সেই আলোচনার মধ্যে এমনি
বরকত আছে, আলাদা কিছুর দরকার হয় না।
আল্লাহর মধুর ডাক ও ঈমানের মর্যাদা
যাই হোক, তো আজকে এরকমই এক
গুরুত্বপূর্ণ আয়াত আমাদের সামনে চলছে। আল্লাহ তাআলা ডাক দিয়েছেন: ‘ইয়া
আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু’।
গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহ বলেছিলাম, আল্লাহ তাআলা ডাক দিয়েছেন—"হে আমার ওই সমস্ত বান্দারা, যারা আমার উপরে ঈমান এনেছে!" এই ডাকটা কি
অনেক মধুর ডাক না? "হে আমার ওই
বান্দারা, যারা আমার উপরে ঈমান
এনেছে!" কত চমৎকার কথা! কেমন যেন—"হে আমার পেয়ারা
বান্দারা, হে আমার প্রিয়
বান্দারা!"
কারণ একজন মানুষ যে ঈমানদার, যে আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করে, আমাদের নবীজিকে শেষ নবী বলে বিশ্বাস করে, এই মানুষটার আমল যদিও কম থাকতে পারে, শত শত কোটি কোটি হিন্দু-খ্রিস্টান-নাসারাদের
চাইতে এই লোকটার দাম আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। কারণ তার মধ্যে ঈমানের নূর আছে।
আজাব ভোগ করবে,
আজাব
ভোগ করতে করতে করতে কয়লার মত হয়ে যাবে,
আল্লাহ
তাআলা তার কুদরতি ডানা দিয়ে শেষবার যখন জাহান্নামের ভিতরে ঢুকিয়ে টান দিবেন, তখন শেষ মুহূর্তে তারাই বের হতে পারবে যাদের
ঈমান সলিড ছিল। এরা বের হয়ে আসবে। এরপরে আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের দরজা লাগিয়ে
দিবেন, আর বলে দিবেন, "এর ভিতরে তোমরা আজীবনের জন্য থাকবা।"
কারা তারা? সবাই অমুসলিম, অথবা মুসলমান কিন্তু মৌলিক আকিদার মধ্যে
সমস্যা ছিল। মৌলিক আকিদার মধ্যে যদি সমস্যা থাকে, তাহলে সে মুসলমান না। আমাদের দৃষ্টিতে মুসলমান হতে পারে, আমাদের দেশে ভোটার আইডি কার্ড করতে গেলে যারা
কাদিয়ানী—যারা বিশ্বাস করে আমাদের নবীজি শেষ নবী না, গোলাম আহমদ কাদিয়ানী শেষ নবী, নাউজুবিল্লাহ! এ কথা যারা বিশ্বাস করে এরাও
কিন্তু নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম লেখার পরে ধর্মের মধ্যে লেখে 'ইসলাম'। কিন্তু এরা নাজাত
পাবে না, কোনোদিন নাজাত পাবে না।
কারণ মৌলিক আকিদার মধ্যে সমস্যা। হাজার বার ইসলাম ইসলাম লেখতে থাকলেও এরা মুসলমান
না।
এজন্য ইসলামের ব্যাপারে, আকিদার ব্যাপারে আমি আগেও কয়েকবার বলেছি যে, অন্যান্য অনেক আমলের ত্রুটি আল্লাহ তাআলা মাফ
করে দিবেন, কিন্তু আকিদার ত্রুটি
আল্লাহ তাআলা মাফ করবেন না। এটা বড় খতরনাক,
বড়
চিন্তার বিষয়। আমি মনে হয় কতবার আপনাদের সামনে এটা বলেছি যে, এই জিনিসগুলোই বুঝার বিষয়, সহজ বিষয়—আমার কদম, আমার মাথা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্যই নত
হবে। আমার মাথা আল্লাহর সামনেই সেজদা করবে।
কবরে সিজদা
যত বড় বুজুর্গ হোক,
যত
কবর হোক, যাই হোক না কেন, কোনো মাজারে সেজদা করা জায়েজ নেই, এটা পরিষ্কার কথা। আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো এ কথাও বলেছেন—ইহুদি-নাসারারা তাদের পূর্বপুরুষদের কবরকে
যেভাবে পূজার জায়গা বানিয়েছে, তোমরা আমার কবরকে
ওরকম পূজার জায়গা বানিও না, আমার কবরকে তোমরা
সেজদার জায়গা বানিও না।
এইজন্য আমরা নবীজির কবরের সামনে যাই, রওজার সামনে যাই, গিয়ে আবেগে চোখ দিয়ে পানি চলে আসে। কিন্তু
যতই পানি আসুক না কেন, শুধু সালাম দেওয়া
জায়েজ। নবীজিকে সালাম দিব—‘আসসালাতু ওয়াসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ’। কিন্তু ওই কবরের
সামনে গিয়ে সেজদা করা জায়েজ নাই। কাবা শরীফের সামনে যান, যতবার সেজদা করেন, আপনার আমলনামায় সওয়াব হবে। আর যদি নবীর রওজার সামনে
গিয়ে কবরকে সেজদা করি, তাহলে আরো গুনাহ
হবে, মারাত্মক গুনাহ হবে।
তাকওয়া কী এবং এর তিনটি স্তর
তো আল্লাহ তাআলা এখানে ডাক দিয়েছেন: "হে আমার ওই
সমস্ত বান্দারা, যারা আমার উপরে
ঈমান এনেছে!" কি কথা! তাদেরকে বলতেছেন: "তোমরা দুনিয়াতে চলাচল করতে
গিয়ে আমি আল্লাহ তাআলাকে যেভাবে ভয় পাওয়া দরকার, তোমরা ওইভাবে ভয় পেয়ে পেয়ে চলাচল করার চেষ্টা করো।"
আল্লাহ তাআলাকে যেভাবে ভয় পাওয়া দরকার ওইভাবে ভয় পাও—এটাকে আল্লাহ তাআলা এক
শব্দে বলেছেন 'তাকওয়া'। আল্লাহ তাআলাকে ভয় পাওয়া, এটার এক শব্দে কি?
তাকওয়া।
অনেক সময় অনেকে প্রশ্নও করেন যে, তাকওয়া মানে কি? মানেই হলো দুইটা জিনিসের সমন্বয়, দুইটা জিনিসের সমষ্টিকে বলা হয় তাকওয়া—
১. একটা হলো প্রতিটা কাজে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা,
২. যত ধরনের নিষিদ্ধ কাজ আছে ওগুলো থেকে দূরে থাকা।
বলতে গেলে দুইটাও না,
একটাই—আল্লাহ তাআলাকে
ভয় পেয়ে নিষিদ্ধ কাজ থেকে দূরে থাকা।
ইসলামের যত বিধান আছে,
কিছু
বিধান আছে করতে হবে, কিছু বিধান আছে
ছাড়তে হবে। ওলামায়ে কেরাম, মুফাসসিরীনে কেরাম, সাহাবায়ে কেরাম, এমনকি আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত ইসলামে করার যত বিধান আছে এগুলোর প্রতি যতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ছাড়ার
প্রতি।
একদিক দিয়ে আমল করতেছি, আরেকদিক দিয়ে গুনাহ ছাড়ছি না, যেগুলো ছাড়া দরকার সেগুলো করে যাচ্ছি নিয়মিত। নামাজও চলছে, হারাম খাওয়াও চলছে—অথচ নামাজ চলবে, হারাম ছাড়তে হবে। নামাজ চলছে, হারামও চলছে; রোজা চলতেছে,
জুলুমও
চলতেছে; তেলাওয়াত চলতেছে, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতিও চলছে! এই জাতীয়
কাজের মধ্যে লিপ্ত হওয়া বড় খারাপ কাজ।
এইজন্য আল্লাহ তাআলা এখানে প্রথম কথাই বললেন: "তোমরা
আমি আল্লাহকে যেভাবে ভয় পাওয়া দরকার,
ওভাবে
ভয় পেয়ে পেয়ে তাকওয়ার সাথে চলার চেষ্টা করো।"
মুফাসসিরীনে কেরাম বলেন, তাকওয়া হলো এমন এক জিনিস, যেই জিনিসের তিন স্তর। তিনটা সিঁড়ি।
১. প্রথম স্তর: কুফুর ও শিরিক থেকে বেঁচে
থাকা
এর মধ্যে এক নম্বর স্তর হলো—কুফুর এবং শিরিক, এই জাতীয় সমস্ত গুনাহ থেকে দূরে থাকা। আশা করা
যায় আমরা সবাই এ ধরণের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি, তাই না? চেষ্টা করা উচিত।
ওলামায়ে কেরামের কাছ থেকে জেনে জেনে বাঁচা যে, "হুজুর, এটা কি শিরিক হয়ে
যাবে কিনা? এটা কি কুফুর হয়ে যাবে
কিনা?" হক্কানী আলেমদের কাছে জেনে জেনে এটার উপর আমল করা।
এটা হলো এক নম্বর সিঁড়ি, কুফর এবং শিরিক থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। যদি এটার মধ্যেও
কেউ না থাকে, অর্থাৎ তার শিরিক
নিয়ে আছে, আবার নামাজ নিয়েও আছে; কুফুর নিয়েও আছে, জিকির নিয়েও আছে, তাহলে সেই লোক এখনো
তাকওয়ার প্রথম সিঁড়িতে উঠতে পারে নাই।
২. দ্বিতীয় স্তর: কবিরা গুনাহ থেকে নিজেকে
বাঁচিয়ে রাখা
তাকওয়ার দুই নম্বর সিঁড়ি হলো—যত ধরনের কবিরা গুনাহ আছে, সমস্ত কবিরা গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচায় রাখা।
এই দুই নম্বর সিঁড়িতেই আমরা অনেকে উঠতে পারি না, তাই না? আমাদের শরীরের
পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে আমাদের পারিবারিক জীবন, ব্যবসায়িক জীবন,
সমাজের
চলাচল—সবকিছুর মধ্যে দেখা যায় কবিরা গুনাহ,
কবিরা
গুনাহ, কবিরা গুনাহের মধ্যে
লিপ্ত!
একটি সুন্দর পরামর্শ
আমি আগেও আপনাদেরকে একটা পরামর্শ দিয়েছিলাম, আজকে আবারও বলি—এখন মোবাইলে, বইতে, ইন্টারনেটে যদি
সার্চ দেন অথবা কোথাও কাগজ বের করতে চান,
একসাথে
প্রায় ১০০ কবিরা গুনাহের একটা পৃষ্ঠা পাওয়া যায়। আপনি সেই পৃষ্ঠাটা একটু বের করে, তাকওয়া অর্জনের নিয়তে ১০ মিনিট সময় বের করে
ওই পৃষ্ঠা হাতে নিয়ে একটু বসুন। বসে এক নম্বর থেকে আমি পড়া শুরু করি যে, কোন কোন কবিরা গুনাহ এখনো আমার জীবনে আছে। এটা
আমার নিজের জন্য, কাউরে বলার দরকার
নাই, কাউকে জানানোর দরকার নাই, কাউরে ইচ্ছা করে বলারও প্রয়োজন নাই। আমি আমার
নিজের মত করে একটু বসি, এক নম্বর থেকে পড়তে
থাকি।
"আল্লাহর সাথে
শিরিক করা"—এখান থেকে শুরু করে দেখবেন প্রায় ১০০টা কবিরা গুনাহের
তালিকা, কোথাও ৫০টা, কোথাও ৭০টা, কোথাও ৮০টা—যেই তালিকাই হোক,
আমি
একটু বসার চেষ্টা করি এবং একটু চিন্তা করি,
কোন
কোন কবিরা গুনাহর মধ্যে আমি এখনো লিপ্ত আছি?
ওইগুলো
আমি টিক চিহ্ন দেই বা এটা একটা দাগ দেই। ওটা নিয়ে একটু বসি, চিন্তা করি।
এখনই আমার চিন্তা করা দরকার যে, সূরা আলে ইমরানের ১০২ নম্বর আয়াতে যে আল্লাহ
বললেন, "তাকওয়া তোমরা
অর্জন করো", আমি তো এই ১০০টা
কবিরা গুনাহ, ১০০টা ছাড়ার আগ
পর্যন্ত তো আমি এখনো তাকওয়ার দ্বিতীয় সিঁড়িতে উঠতে পারি নাই! এখনো আমার
দ্বিতীয় সিঁড়িতে উঠা হয় নাই, প্রথম সিঁড়ির
মধ্যে আমি পড়ে আছি।
আর বাস্তবতা হলো,
যারা
১০২ নম্বর আয়াতের উপর আমল করতে গিয়ে এখনো দ্বিতীয় নম্বর সিঁড়িতে উঠতে পারে নাই, প্রথম নম্বর সিঁড়িতেই পড়ে আছে, দ্বিতীয় নম্বর সিঁড়িতে যে উঠতে হবে ওই নিয়ে
তার কোনো চিন্তাও নাই, কিছুদিন পরে তার
প্রথম সিঁড়িতেও থাকার তৌফিক হয় না! দেখা যায় ওই সিঁড়ি থেকেও নিচে চলে যায়।
কারণ তার চিন্তা হলো, "আমি এক নম্বর
সিঁড়িতে আছি, ওটা নিয়ে আমি
খুশি।" কয়েকদিন পরে শয়তান টান দিয়ে এর থেকেও নিচে নামিয়ে নিয়ে যায়।
কিন্তু যেই লোকটা চেষ্টা করতেছে, "আমি উপরে উঠবো, উপরে উঠবো",
সে
যদি শয়তানের ধোঁকায় নেমেও যায়, তারপরও নেমে নিচে
যাবে না, সে এক নম্বর সিঁড়িতে
থাকবে। কিন্তু যেই লোক এক নম্বর সিঁড়িতেই আছে, তাকে তো টান দিয়ে নিচেই নামিয়ে ফেলবে, এটাই তো বাস্তবতা!
যাদের সুযোগ হয় আজকেই বসি, যাদের সুযোগ হয় কালকে বসি, কাজটা তাড়াতাড়ি বসা দরকার। আমার তালিকা নিয়ে, আমার লিস্ট নিয়ে আমি নিজের মত করে বসি যে, কোন কোন কবিরা গুনাহ এখনো আমার মধ্যে আছে। এ
পুরা তালিকাগুলো হিসাব করে দেখবেন,
কারো
জীবনে এখনো ১০টা কবিরা গুনাহ এমন, যেটার মধ্যে সে লিপ্ত, কেউ ১৫টা কবিরা গুনাহর মধ্যে, কেউ ২০টা কবিরা গুনাহ, কারো আরো বেশি থাকতে পারে।
গুনাহ ছাড়ার জন্য পরামর্শ
এখন আপনার বলা দরকার নাই যে, "হুজুর, আমি এই গুনাহের
মধ্যে লিপ্ত আছি।" এটা বলার দরকার নাই। আপনি কোনো একজন হক্কানী আলেমের
দ্বারস্থ হন, তার সোহবতে যান।
গিয়ে এই ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচতে হলে কি করতে হয়, কিভাবে বাঁচতে হয়, আর যদি উনার সাথে আরো ফ্রি থাকেন বা আরো
খোলামেলা সম্পর্ক থাকে, তাহলে প্রয়োজনে
আপনি কেন এই কবিরা গুনাহের সাথে লিপ্ত এখনো,
কেন
ছাড়তে পারতেছেন না, এটা খোলামেলা
আলোচনা করেন তার সাথে। বলেন, এবং উনার সাথে
পরামর্শ নেন, উনার প্রেসক্রিপশন
অনুযায়ী আমল করতে থাকেন।
দেখেন, মোটামুটি নিশ্চিত
চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারব, আপনি লিস্টটা হাতে
নিয়ে বসেন, চিন্তাভাবনা করতে থাকেন, এক মাসের মধ্যে আপনার ওই ২০টা কবিরা গুনাহ
ছুটে যাবে। কিন্তু যদি আপনি না বসেন—যেভাবে আছি ওইভাবেই চলতেছি, একটা গতানুগতিক জীবন, খাইতেছি, চলতেছি,
যেখানে
যা করা দরকার সেখানে তাই করতেছি, কিন্তু আমার
যেখানে যা ছাড়া দরকার ওখানে তা ছাড়তেছি না,
ওখানে
তা করে যাচ্ছি—তাহলে কিন্তু এই জীবন পরিবর্তন হবে না।
দেখবেন যারা ব্যবসা করে, কিছুদিন পর পর খাতা-কলম নিয়ে কর্মচারী নিয়ে,
অন্য
যারা আছে তাদেরকে নিয়ে বসে। বলে "দেখ, এই যে গত সপ্তাহে এই বেচাকেনা হইছে, আর এই সপ্তাহে কত কমে গেছে! এটার জবাব কি, বল?"
বারবার
এগুলো নিয়ে বসে, বসতে থাকে। কেউ সপ্তাহে, কেউ মাসে, কেউ বছরে হিসাব চালাতে থাকে। কেউ তো প্রতিদিনে দুই-তিনবার
হিসাব করে, "আমার গতকালকের
তুলনায় আজকে কতটুক হইল? আজকে কি কমে গেল
কিনা?" কমলে তার ভিতরে টেনশন—"আমার বাড়াতে হবে, বাড়াতে হবে!" এই জিনিসগুলা।
আর যেই লোক আসছে,
মাল
উঠাইছে, বেচতেছে, উঠাইতেছে, কোনো খবর নাই,
উনি
কিন্তু ব্যবসায় লাভবান হওয়া কঠিন! হিসাবের উপরে রাখতে হয়। ঠিক আমাদের নিজেদের
আমল এইভাবে হিসাবের উপরে রাখতে হবে। আমরা একটু এ হিসাব নিয়ে বসতে রাজি আছি তো, ইনশাআল্লাহ? আল্লাহ যেন আমাদের সবাইরে তৌফিক দান করেন।
কারণ কবিরা গুনাহের মধ্যেই... এই কবিরা গুনাহ যদি ছাড়তে না
পারি, তাহলে তাকওয়ার দুই নম্বর
স্তরে আমি উঠতে পারব না। এটা আমার ছাড়তে হবে, এটা জরুরি।
আগেও আপনাদেরকে আমি অনেক বলেছি যে, অনেক জিম করলাম, অনেক শক্তিশালী খাবার খেলাম—দুধ, ডিম,
পেস্তাবাদাম
যা আছে, যত ওষুধপত্র আছে সব খেলাম।
খাওয়ার পরে আমি মোটা হয়ে গেলাম, আমার সামনে এখন ১০
জনও টিকতে পারে না, আমি একাই ১০ জনকে
কুস্তি দিয়ে ফেলে দেই! সব শক্তি অর্জনের পরে আমি এক গ্লাস বিষ খাইলাম, তাহলে কি হবে? সবকিছু শেষ!
ঠিক অনেক আমল করলাম,
অনেক
আমল করার পরে আমি এরকম কাজ করলাম যেই কাজের দ্বারা আল্লাহ নারাজ হয়ে যান, যেই কাজের দ্বারা আল্লাহ নাখোশ হয়ে যান, তাহলে আমার ওই কাজগুলো হেফাজতে থাকবে না।
এজন্যই আমাদের নবীজি একদিন বলতেছিলেন: "মাইন ইয়া'খুজু 'আন্নি হাউলাইল
কালিমাতি..."—আমি পাঁচটা কথা বলতে চাচ্ছি, নবীজি বলেন: "আমি পাঁচটা কথা বলতে চাচ্ছি, তোমাদের মধ্যে কেউ কি এমন আছ যে আমার এই পাঁচ
কথাকে পরবর্তী উম্মত পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিবে? কেউ কি এমন আছ?"
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু দাঁড়িয়ে গেছেন:
"ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আপনার পাঁচটা কথা বলেন, আমি ইনশাআল্লাহ দায়িত্ব নিলাম, এই পাঁচ কথা আমি পরবর্তী উম্মত পর্যন্ত
পৌঁছিয়ে দিব।"
পাঁচটা আলোচনা লম্বা। এর মধ্যে এক নম্বর নবীজি বলেন:
"আবু হুরায়রা! তুমি আমার উম্মতের কাছে এটা পৌঁছায় দিও—"
اتق المحارم تكن اعبد الناس
অর্থ: "তুমি হারাম ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে
থাকো, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে
সবচেয়ে বড় আবেদ (ইবাদতকারী) হতে পারবে।" (তিরমিজি, হাদিস: ২৩০৫)
আমার উম্মতরা যদি নেকের কাজ ফরজ-ওয়াজিব করার পরে নফল-সুন্নত অত করতে পারলো না, অন্যান্যও কাজ অত বেশি করতে পারলো না, কিন্তু সব ধরনের গুনাহ থেকে সে নিজেকে বাঁচায় রাখতে পারলো, আল্লাহর তাকওয়ার সাথে চলতে পারলো, তাহলে এই লোকটা পুরা দুনিয়ার মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় আবেদ হিসেবে গণ্য হয়ে যাবে, সুবহানাল্লাহ!
হযরত আবু হুরায়রা এটা তার ছাত্রদের কাছে পৌঁছাইয়েছেন, তার ছাত্ররা তার ছাত্রদের কাছে, তার ছাত্ররা তার ছাত্রদের কাছে—এইভাবে চলতে চলতে
আজকে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। আমরাও এখন আপনাদের সামনে পৌঁছায় দিলাম যে, এখন কাজ এটাই যে আমরা সব ধরনের গুনাহ থেকে
বাঁচবো, নিজেরা সব ধরনের গুনাহ
থেকে বাঁচবো, তাহলে দুই নম্বর
স্তরে উঠা যাবে। আর গুনাহ থেকে বাঁচতে না পারলে আমি দুই নম্বর সিঁড়িতেই উঠতে
পারলাম না।
৩. তৃতীয় স্তর: সার্বক্ষণিক আল্লাহর স্মরণে
ডুবে থাকা
তাকওয়ার তিন নম্বর সিঁড়ি—এটা অনেক উঁচা, এটা সহজে অর্জন করা কঠিন। এটা অনেক মেহনত করে
অর্জন করতে হয়, অনেক মুজাহাদা
করতে হয়। সেটা হলো ২৪ ঘণ্টার পুরা সময়,
ঘুম
ছাড়া পুরা সময় শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার স্মরণ আর জিকিরের মধ্যেই নিজেকে লিপ্ত
রাখা, অন্যান্য কোনো কাজের মধ্যে
লিপ্ত না হওয়া—যতটুকু আল্লাহ হুকুম করেছেন অতটুকুই লিপ্ত হওয়া।
দুনিয়াতে চলতে গিয়ে ব্যবসা করতে হয় তাই ব্যবসা করা, চাকরি করতে হয় তাই চাকরি করা, পরিবারের সাথে সময় দিতে হয় তাই সময় দেওয়া।
কিন্তু পরিবারের সাথে যখন সময় দেওয়া হচ্ছে,
ওই
সময়টাও মাথার মধ্যে এই জিনিসটা থাকা যে,
"আল্লাহ তাআলার হুকুম বলেই আমি সময় দিচ্ছি, আর না হয় আমি সময় দিতাম না। আল্লাহ তাআলার হুকুম বলে আমি
খানা খাচ্ছি, আর নয় খানা খেতাম
না।"
এটা হলো তিন নম্বর স্তর, এটা অর্জন করা বড় কঠিন, এটা অর্জন করা খুব সহজ না। তবে মেহনত করতে করতে অর্জন হয়।
এটা মানুষের সাধ্যের বাইরে না। মেহনত করতে করতে করতে একটা পর্যায়ে এমন চলে যায়
যে, মানুষ রাতের বেলা ঘুমায়, একটা দুইটা বাজে জাগ্রত হয়ে যায়, তার কাছে ভালো লাগে না, মনে হয় "আমি নামাজে দাঁড়িয়ে যাই", মনে হয় "আমি একটু তাহাজ্জুদ পড়ি", মনে হয় "আমি একটু জিকির করি", মনে হয় "আমি একটু তেলাওয়াত করি"।
বহু মানুষ, বহু আল্লাহর
বান্দারা এমন আছেন, যারা পাঁচ ওয়াক্ত
নামাজ তো বছরকে বছর কাজা হয়ই না, জামাত ছুটেই না, বরঞ্চ তাহাজ্জুদের নামাজও উনাদের ছুটে না! এমন
আল্লাহর বান্দারা আছেন না? আল্লাহ তাআলার
দরবারে উনারা শেষ রাতে কান্নাকাটি করেন,
আল্লাহর
কাছে উনারা চান, আল্লাহ তাআলা
উনাদের উসিলায় দুনিয়া টিকিয়ে রাখছেন। এ সমস্ত নেককার বান্দা যারা, যারা আল্লাহর কাছে নিজেকে ফেদা করে দেন, তাহাজ্জুদের সময়ের মধ্যে আল্লাহর কাছে
কান্নাকাটি করতে থাকেন।
হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রহ. এর কান্না
আমাদের পুরা ভারত উপমহাদেশের মধ্যে যত হক্কানী কাজ হচ্ছে, দ্বীনের যত হক্কানী কাজ হচ্ছে, প্রায় সব গোড়া গিয়ে মিলছে হযরত হাজী
এমদাদুল্লাহ মহাজিরে মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহির সাথে। সবাই না। উনার থেকেই
বিভিন্ন ধরনের সিলসিলা বের হইছে।
হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহির জীবনী
আমরা যারাই পড়ব দেখব, রাতের বেলায়
দুইটার পরে উনি ঘুমিয়ে থাকতে পারতেন না,
কখনোই
না।
আর প্রতিদিন যে কান্নাকাটি করতেন, মনে হতো যে উনার বাবা বা মা অথবা সন্তান মারা
গেছে, ওই অবস্থায় যেভাবে
কান্নাকাটি করা হয়, ওভাবে উনি কাঁদতেন।
সাহাবীদের কান্না
সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস
রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর চোখের নিচে দুইটা আলাদা নালা হয়ে গেছে! কেন? শুধু কাঁদতে কাঁদতে! "আমি কি তাকওয়ার
তিন নম্বর স্তরে পৌঁছতে পারলাম? আমি কি কবরের আজাব
থেকে বাঁচতে পারব? আমি কি হাশরের
ময়দানে নাজাত পাবো?" এই চিন্তাভাবনায়
কাঁদতে কাঁদতে শেষ—নবীর সাহাবী!
তো আল্লাহ তাআলা এই ১০২ নম্বর আয়াতে প্রথম কথা এটা বলেছেন
যে: "আল্লাহকে যেভাবে ভয় করা দরকার,
তোমরা
এভাবে ভয় করো।" মুফাসসিরীনে কেরাম বলেন যে, এই আয়াতের মধ্যে এক নম্বর স্তরও না, দুই নম্বর স্তরও না, আল্লাহ তাআলা তিন নম্বর স্তরের কথা বলেছেন যে, "তোমরা তিন নম্বর স্তরের যে তাকওয়া—সবসময় আল্লাহ
তাআলার স্মরণে থাকা—এটা অর্জন করার চেষ্টা করো।"
পরিপূর্ণ মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না
দুই নম্বর কথা:
وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ
অর্থ: "এবং তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো
না।" (সূরা আলে ইমরান,
৩:১০২)
যেকোনো সময় তোমাদের কাছে আজরাইল চলে আসবে, যেকোনো সময় তোমাদের কাছে মালাকুল মউত চলে
আসবে, ওই সময় আসার আগেই তোমরা
পরিপূর্ণ মুসলমান হয়ে যাও! পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়ার আগে তোমরা মৃত্যুবরণ করো না।
‘লা তামুতুন্না’—ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন বুঝবেন, এখানে কয়টা তাকিদ আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন? 'লামে তাকিদ', 'নুনে তাকিদ'
কয়টা
দিয়েছেন? ইস্তেসনা এমনিই তাকিদ তৈরি করে
দেয়। মানে কি? "তোমরা কোনোভাবে, কোনোভাবেই..."—একেবারে আল্লাহ তাআলা
যথেষ্ট তাকিদ দিয়ে, "কোনোভাবেই তোমাদের
কাছে যেন আজরাইল আসতে না পারে অথচ তোমরা এখনো মুসলমান হও নাই! আজরাইল চলে আসছে অথচ
এখনো নামাজ তোমাদের জীবনে আসে নাই! আজরাইল চলে আসছে এখনো তোমাদের মুখে দাড়ি আসে
নাই! আজরাইল চলে আসছে এখনো তোমার লেবাস সুন্নত তরিকায় হয় নাই! এমন যেন কোনোভাবেই
তোমার জীবনে না হয়।"
আমরা কেউ বলতে পারব,
আজরাইল
আমাদের কাছে কবে আসবে? মালাকুল মউত আজকে
রাত্রেও আসতে পারে, আজকে তাফসীর করার
পরেও আসতে পারে।
এই যে আমাদের উনার নাম কি যেন, পাটোয়ারী সাহেবের বাসায় ভাড়া থাকতেন , আব্দুল কাইয়ুম সাহেব, যিনি মারা গেলেন, আমাদের মুসল্লি। সূরা বাকারা শেষ হয়েছে,। সূরা বাকারা শেষ
হওয়ার পরে উনি আমারে বললেন,
"হুজুর, সূরা আলে ইমরান শুনতে পারি
কিনা জানি না।" পরের সপ্তাহে উনি তাফসীরে উপস্থিত নাই, এরপরের সপ্তাহ শুনলাম উনি দুনিয়া থেকে চলে
গেছেন! সাধারণ মুসল্লি ছিলেন, ভাড়া থাকতেন।
তো মানুষের জীবন কিন্তু এরকমই। আগামী সপ্তাহ আমাদের মধ্য থেকেও কেউ আসতে পারে, যার ব্যাপারে শুনতে হবে যে উনি দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। আপনারাও শুনতে পারেন আমার ব্যাপারে যে, আমি দুনিয়া থেকে চলে গেছি! এরকম হইতে পারে না?
আল্লাহ যেন মালাকুল মউত আসার আগে আমাদের সবাইকে পুরাপুরি
মুসলমান হওয়ার তৌফিক দান করেন।
(সাপ্তাহিক তাফসিরের বয়ান থেকে সংকলিত)
পূর্ণ বয়ান শুনতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
তাকওয়া হাসিলের উপায়
‘ইসলাহে নফস’ বা আত্মশুদ্ধির বিষয়ে কিছু কথা আপনাদের খিদমতে পেশ করতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্র...
লেনদেনে সততা ও হালাল জীবিকা
...
আল্লাহওয়ালাদের তাযকেরায় দিল তাযা হয়
...
তাকওয়ার মাসে তাকওয়ার অনুশীলন
হামদ ও সালাতের পর! সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, তিনি আমাদেরকে জুমার নামাজ আদায়ের লক্ষে মসজিদে আ...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন