আত তাওবাহ্

সূরা নং: ৯, আয়াত নং: ৮৪

তাফসীর
وَلَا تُصَلِّ عَلٰۤی اَحَدٍ مِّنۡہُمۡ مَّاتَ اَبَدًا وَّلَا تَقُمۡ عَلٰی قَبۡرِہٖ ؕ اِنَّہُمۡ کَفَرُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَمَاتُوۡا وَہُمۡ فٰسِقُوۡنَ

উচ্চারণ

ওয়ালা-তুসালিল ‘আলাআহাদিম মিনহুম মা-তা আবাদাওঁ ওয়ালা-তাকুম ‘আলা-কাবরিহী ইন্নাহুম কাফারূবিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়ামা-তূওয়াহুম ফা-ছিকূ ন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে নবী!) তাদের (অর্থাৎ মুনাফিকদের) মধ্য হতে কেউ মারা গেলে তুমি তার প্রতি (জানাযার) নামায পড়বে না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেও না। ৭২ তারা তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে এবং তারা পাপিষ্ঠ অবস্থায় মারা গেছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৭২. এ আয়াতের শানে নুযুল সম্পর্কে সহীহ বুখারী ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, মুনাফিকদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর পুত্র হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ (রাযি.) ছিলেন একজন খাঁটি মুসলিম। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মুনাফিকী প্রকাশ পেলেও সে প্রকাশ্যে যেহেতু নিজেকে মুসলিম বলে দাবী করত, তাই বাহ্যত তার সাথে মুসলিমদের মতই আচরণ করা হত। তার যখন মৃত্যু হল, তখন তার পুত্র হযরত আবদুল্লাহ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাঁকে জানাযা পড়ানোর জন্য অনুরোধ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো উম্মতের প্রতিটি ব্যক্তির প্রতিই বড় দয়ালু ছিলেন। সুতরাং তিনি তাঁর অনুরোধ গ্রহণ করলেন এবং তাঁর পিতার জানাযা পড়ানোর জন্য চলে গেলেন। এদিকে হযরত উমর (রাযি.) তাঁকে এই ঘোর মুনাফিকের জানাযা না পড়ানোর অনুরোধ জানালেন এবং এর সপক্ষে পূর্ববর্তী আয়াতের বরাত দিলেন, যাতে বলা হয়েছে, ‘তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর উভয়ই সমান। তুমি যদি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা কর, তবু আল্লাহ তাদেরক ক্ষমা করবেন না (আয়াত নং ৮০)। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমাকে তো এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে যে, আমি চাইলে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারি। সুতরাং আমি তার জন্য সত্তর বারেরও বেশি ক্ষমাপ্রার্থনা করব। কাজেই তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের জানাযা পড়ালেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াত নাযিল হয় এবং তাঁকে মুনাফিকদের জানাযার নামায পড়াতে নিষেধ করে দেওয়া হয়। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর কখনও কোনও মুনাফিকের জানাযার নামায পড়াননি।