আত তাওবাহ্

সূরা নং: ৯, আয়াত নং: ৭৬

তাফসীর
فَلَمَّاۤ اٰتٰہُمۡ مِّنۡ فَضۡلِہٖ بَخِلُوۡا بِہٖ وَتَوَلَّوۡا وَّہُمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ

উচ্চারণ

ফালাম্মাআ-তা-হুম মিন ফাদলিহী বাখিলূবিহী ওয়া তাওয়াল্লাওঁ ওয়াহুম মু‘রিদূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

কিন্তু আল্লাহ যখন তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে দান করলেন, তখন তারা তাতে কার্পণ্য করল এবং মুখ ফিরিয়ে চলে গেল। ৬৯

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৬৯. হযরত আবু উমামা রাযিয়াল্লাহু আনহুর এক বর্ণনায় আছে, সালাবা নামক জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে আরজ করল, আপনি দোয়া করুন, আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে ধনী বানিয়ে দেন। তিনি প্রথমে তাকে বুঝালেন যে, বেশী ধনবান হওয়াকে তো আমি নিজের জন্যও পছন্দ করি না। কিন্তু সে পীড়াপীড়ি করতে থাকল এবং এই ওয়াদাও করল যে, আমি ধনবান হলে সকল হকদারকে তাদের হক আদায় করে দেব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে এই প্রাজ্ঞজনোচিত কথা বললেন, দেখ, যেই অল্প সম্পদের শুকর আদায় করতে পারবে, সেটা ওই বেশি সম্পদ অপেক্ষা শ্রেয়, যার শুকর আদায় করতে পারবে না। কিন্তু তথাপি সে পীড়াপীড়ি করতে লাগল। অগত্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করলেন। ফলে বাস্তবিকই সে ধনবান হয়ে গেল। তার মূল সম্পদ ছিল গবাদি পশু। তা অল্প দিনের ভেতর এত বেড়ে গেল যে, তার দেখাশোনায় ব্যস্ত থাকার ফলে নামায ছুটে যেতে লাগল। সে এক পর্যায়ে তার পশুগুলো নিয়ে মদীনা মুনাওয়ারার বাইরে গিয়ে থাকতে শুরু করল। কেননা ভিতরে তার স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। প্রথম দিকে তো জুমুআর দিন মসজিদে আসত। কিন্তু এক পর্যায়ে জুমুআয় আসাও ছেড়ে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিনিধি যখন তার কাছে যাকাত আদায়ের জন্য গেল, তখন সে যাকাত নিয়েও পরিহাস করল এবং টালবাহানা করে তাকে ফেরত পাঠাল। এ আয়াতে সেই ঘটনার দিকে ইশারা করা হয়েছে। (রূহুল মাআনী, তাবারানী ও বায়হাকীর বরাতে)।