لَقَدۡ نَصَرَکُمُ اللّٰہُ فِیۡ مَوَاطِنَ کَثِیۡرَۃٍ ۙ وَّیَوۡمَ حُنَیۡنٍ ۙ اِذۡ اَعۡجَبَتۡکُمۡ کَثۡرَتُکُمۡ فَلَمۡ تُغۡنِ عَنۡکُمۡ شَیۡئًا وَّضَاقَتۡ عَلَیۡکُمُ الۡاَرۡضُ بِمَا رَحُبَتۡ ثُمَّ وَلَّیۡتُمۡ مُّدۡبِرِیۡنَ ۚ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
২০. সংক্ষেপে হুনায়ন যুদ্ধের ঘটনা নিম্নরূপ, মক্কা মুকাররমায় জয়লাভ করার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ পেলেন মালিক ইবনে আউফের নেতৃত্বে বনু হাওয়াযিন তাঁর বিরুদ্ধে সৈন্য সংগ্রহ করছে। বনু হাওয়াযিন এক বিশাল জনগোষ্ঠীর নাম। এর অনেকগুলো শাখা-প্রশাখা ছিল। তায়েফের প্রসিদ্ধ ছাকীফ গোত্রও এ গোষ্ঠীরই শাখা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গুপ্তচর পাঠিয়ে সংবাদটির সত্যতা যাচাই করলেন। জানা গেল, সংবাদ সত্য এবং তারা জোরে-শোরে বিপুল উত্তেজনায় যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহির বর্ণনা অনুযায়ী বনু হাওয়াযিনের লোকসংখ্যা ছিল চব্বিশ হাজার থেকে আটাশ হাজারের মাঝামাঝি। সুতরাং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চৌদ্দ হাজার সাহাবায়ে কিরামের এক বাহিনী নিয়ে রওয়ানা হলেন। এ যুদ্ধ হয়েছিল হুনায়ন নামক স্থানে, যা মক্কা মুকাররমা থেকে আনুমানিক দশ মাইল দূরে অবস্থিত মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী একটা উপত্যকার নাম। এ যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যসংখ্যা ছিল চৌদ্দ হাজার। এর আগে অন্য কোন যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যদের সংখ্যা এত বিপুল ছিল না। মুসলিমগণ সর্বদা নিজেদের সৈন্যসংখ্যা অল্প হওয়া সত্ত্বেও বেশি সৈন্যের মুকাবিলায় জয়লাভ করেছে। এবার যেহেতু তাদের সৈন্য সংখ্যাও বিপুল, তাই তাদের কারও কারও মুখ থেকে বের হয়ে গেল যে, আজ আমাদের সংখ্যা অনেক বেশি। সুতরাং আজ আমরা কারও কাছে পরাস্ত হতেই পারি না। মুসলিমগণ আল্লাহ তাআলার পরিবর্তে নিজেদের সংখ্যার উপর নির্ভর করবে এটা আল্লাহ তাআলার পছন্দ হল না। সুতরাং তিনি এর ফল দেখালেন। মুসলিম বাহিনী এক সংকীর্ণ গিরিপথ অতিক্রম করছিল। এ সময় বনু হাওয়াযিনের তীরন্দাজ বাহিনী অকস্মাৎ তাদের উপর বৃষ্টির মত তীর ছুঁড়তে শুরু করল। তা এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে, মুসলিম বাহিনী তার সামনে তিষ্ঠাতে পারছিল না। তাদের বহু সদস্য পালাতে শুরু করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবশ্য কতিপয় নিবেদিতপ্রাণ সাহাবীসহ অবিচলিত থাকলেন। তিনি হযরত আব্বাস (রাযি.)-কে হুকুম দিলেন, যেন পলায়নরতদেরকে উচ্চস্বরে ডাক দেন। হযরত আব্বাস (রাযি.)-এর আওয়াজ খুব বড় ছিল। তিনি ডাক দিলেন এবং মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে তা বিজলীর মত ছড়িয়ে পড়ল। যারা ময়দান ত্যাগ করেছিল তারা নতুন উদ্যমে ফিরে আসল। দেখতে না দেখতে দৃশ্যপট পাল্টে গেল এবং মুসলিমদের বিজয় অর্জিত হল। বনু হাওয়াযিনের সত্তর জন নেতা নিহত হল। দলপতি মালিক ইবনে আউফ তার পরিবার-পরিজন ও অর্থ-সম্পদ ছেড়ে পালিয়ে গেল এবং তায়েফের দূর্গে গিয়ে আশ্রয় নিল। তাদের ছয় হাজার সদস্য বন্দী হল। বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু ও চার হাজার উকিয়া রূপা গনীমত হিসেবে মুসলিমদের হস্তগত হল।