لَا یَزَالُ بُنۡیَانُہُمُ الَّذِیۡ بَنَوۡا رِیۡبَۃً فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ اِلَّاۤ اَنۡ تَقَطَّعَ قُلُوۡبُہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ٪
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৯২. মুনাফিকরা যে ইমারত তৈরি করেছিল, সে সম্পর্কে ১০৭ নং আয়াতে জানানো উদ্দেশ্য ছিল যে, তারা সেটি তৈরি করেছিল মসজিদের নামে। তাদের দাবী ছিল সেটি মসজিদ। এ কারণেই সেখানে ইমারতটির জন্য মসজিদ শব্দই ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু এ আয়াতে সেটির স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে। তাই এখানে সেটিকে ইমারত বলা হয়েছে, মসজিদ বলা হয়নি। কেননা বাস্তবে সেটি মসজিদ ছিলই না। তার প্রতিষ্ঠাতাগণ মূলত কাফের ছিল এবং প্রতিষ্ঠাও করেছিল ইসলামের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে। এ কারণেই সেটিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও মুসলিম মসজিদ নির্মাণ করলে তা জ্বালানো জায়েয হয় না।
এ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ইমারতটি তাদের অন্তরে নিরন্তর সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকবে’। এর অর্থ, সেটি ভস্মিভূত করার ফলে মুনাফিকদের কাছেও এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তাদের ষড়যন্ত্রের বিষয়টা মুসলিমদের কাছে ফাঁস হয়ে গেছে। সুতরাং তারা নিজেদের ভবিষ্যত সম্পর্কে সর্বদা সন্দেহে নিপতিত থাকবে যে, না জানি মুসলিমগণ আমাদের সঙ্গে কি রকম ব্যবহার করে! তাদের এই সংশয়জনিত অবস্থার অবসান কেবল সেই সময়ই হবে, যখন তাদের অন্তর ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে, অর্থাৎ তাদের মৃত্যু ঘটবে।