আত তাওবাহ্

সূরা নং: ৯, আয়াত নং: ১

তাফসীর
بَرَآءَۃٌ مِّنَ اللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖۤ اِلَی الَّذِیۡنَ عٰہَدۡتُّمۡ مِّنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ؕ

উচ্চারণ

বারাআতুম মিনাল্লা-হি ওয়া রাছূলিহীইলাল্লাযীনা ‘আ-হাত্তুম মিনাল মুশরিকীন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে মুসলিমগণ! এটা) আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেক সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা সেই সকল মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

১. পূর্বে এ সূরার পরিচিতিতে যে প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে, এ আয়াতগুলি ভালোভাবে বুঝতে হলে সেটা জানা থাকা আবশ্যক। জাযিরাতুল আরবকে ইসলামের কেন্দ্রভূমি বানানোর লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা আদেশ নাযিল করেন যে, কিছু কালের অবকাশ দেওয়া হল। এরপর আর কোন মূর্তিপূজক আরব উপদ্বীপে নাগরিকের মর্যাদা নিয়ে অবস্থান করতে পারবে না। সুতরাং যে সামান্য সংখ্যক মুশরিক অদ্যাবধি ইসলাম গ্রহণ করেনি, এ আয়াতে তাদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরা ছিল সেই সব লোক, যারা মুসলিমদেরকে কষ্ট দানের কোন পন্থা বাকি রাখেনি, সর্বদা তাদের উপর বর্বরোচিত জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদেরকে জাযিরাতুল আরব ত্যাগ করার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে, সামনের আয়াতসমূহে বিস্তারিতভাবে তা আসছে। এ সকল মুশরিক ছিল চার রকমের। এক. এক তো হল সেই সকল মুশরিক, যাদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ বন্ধের কোন চুক্তি হয়নি। এরূপ মুশরিকদেরকে চার মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা ইসলাম গ্রহণ করলে তো ভালো কথা। যদি তা না করে জাযিরাতুল আরবের বাইরে কোনও দেশে যেতে চায়, তবে তারও ব্যবস্থা করতে পারে। যদি এ দু’টো বিকল্পের কোনওটি গ্রহণ না করে, তবে এখনই তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া যাচ্ছে যে, তাদেরকে যুদ্ধের সম্মুখীন হতে হবে (তিরমিযী, হজ্জ অধ্যায়, হাদীস নং ৮৭১)। দুই. দ্বিতীয় প্রকার হল সেই সকল মুশরিকের, যাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু তার জন্য নির্দিষ্ট কোনও মেয়াদ ধার্য করা হয়নি। তাদের সম্পর্কেও ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে সে চুক্তি চার মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এর ভেতর তাদেরকেও প্রথমোক্ত দলের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সূরা তাওবার প্রথম ও দ্বিতীয় আয়াত এ দুই শ্রেণীর মুশরিক সম্পর্কেই। তিন. তৃতীয় প্রকারের মুশরিক হল তারা, যাদের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধবিরোধী চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন বটে, কিন্তু তারা সে চুক্তির মর্যাদা রক্ষা না করে বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়েছিল, যেমন হুদায়বিয়ায় কুরাইশ কাফেরদের সাথে এ রকম চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু তারা সে চুক্তি লংঘন করেছিল। তারই ফলশ্রুতিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা মুকাররমায় অভিযান চালিয়েছিলেন এবং বিজয় অর্জন করেছিলেন। তাদেরকে বাড়তি কোন সময় দেওয়া হয়নি, তবে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা যেহেতু হজ্জের সময় দেওয়া হয়েছিল, যা এমনিতেই সম্মানিত মাস, যখন যুদ্ধ-বিগ্রহ জায়েয নয় এবং এর পরের মহররমও এ রকমই একটি মাস, তাই স্বাভাবিকভাবেই মহররম মাসের শেষ পর্যন্ত তারা সময় পেয়ে গিয়েছিল। তাদেরই সম্পর্কে ৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, সম্মানিত মাসসমূহ গত হওয়ার পরও যদি তারা ঈমান না আনে এবং জাযিরাতুল আরব ত্যাগও না করে, তবে তাদেরকে কতল করা হবে। চার. চতুর্থ প্রকারের মুশরিক তারা, যাদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এবং এর ভেতর তারা বিশ্বাস ভঙ্গও করেনি। ৪নং আয়াতে এদের সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাদের চুক্তির মেয়াদ যত দিনই অবশিষ্ট আছে, তা পূরণ করতে দেওয়া হবে। এর মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে কোনও রকম ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। বনু কিনানার শাখা গোত্র বনু যাম্রা ও বনু মুদলিজের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ রকমই চুক্তি ছিল। তাদের দিক থেকে চুক্তিবিরোধী কোনও রকম তৎপরতাও পাওয়া যায়নি। তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আরও নয় মাস বাকি ছিল। সুতরাং তাদেরকে নয় মাস সময় দেওয়া হল। এ চারও প্রকারের ঘোষণাসমূহকে বারাআঃ বা সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা বলা হয়।
﴾﴿