আল মাআরিজ

সূরা নং: ৭০, আয়াত নং: ৪

তাফসীর
تَعۡرُجُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَالرُّوۡحُ اِلَیۡہِ فِیۡ یَوۡمٍ کَانَ مِقۡدَارُہٗ خَمۡسِیۡنَ اَلۡفَ سَنَۃٍ ۚ

উচ্চারণ

তা‘রুজুলমালাইকাতুওয়াররূহুইলাইহি ফী ইয়াওমিন কা-না মিকদা-রুহূখামছীনা আলফা ছানাহ।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

ফেরেশতাগণ ও রূহুল কুদস তাঁর কাছে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৩. এ আয়াতের দুটি ব্যাখ্যা আছে। (এক) এতে যে দিনের কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে কিয়ামত দিবস। হিসাব-নিকাশের কঠোরতার কারণে কাফেরদের কাছে সে দিনটি পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান মনে হবে। এ ব্যাখ্যার প্রবক্তাগণ বলেন, এ দিনকেই সূরা তানযীল-আস-সাজদায় (৩২ : ৫) এক হাজার বছরের সমান বলা হয়েছে। পরিমাণ দু’ রকম বলা হয়েছে ব্যক্তিভেদে। অর্থাৎ হিসাব-নিকাশের কঠোরতা অনুযায়ী কারও কাছে সে দিনকে এক হাজার বছরের সমান মনে হবে এবং যাদের কষ্ট আরও বেশি হবে, তাদের কাছে মনে হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। (দুই) আয়াতটির দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হল, কাফেরদের সামনে যখন বলা হত, তাদের কুফরের পরিণামে দুনিয়া বা আখেরাতে তাদেরকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে, তখন তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ শুরু করে দিত এবং বলত, কই, এত দিন চলে গেল কোন শাস্তি তো আসল না। বাস্ত বিকই শাস্তি আসার হলে তা এসে যাচ্ছে না কেন? তাদের এসব কথার উত্তরে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে, বাকি তা কখন হবে তা তিনিই জানেন। তিনি নিজ হেকমত অনুযায়ী এর দিনক্ষণ ঠিক করে রেখেছেন। তোমরা যে মনে করছ তা আসতে অনেক দেরি হয়ে গেছে, তা করছ তোমাদের হিসাব অনুযায়ী। প্রকৃতপক্ষে তোমরা যেই কালকে এক হাজার বা পঞ্চাশ হাজার বছর গণ্য কর আল্লাহ তাআলার কাছে তা এক দিনের সমান। সুতরাং সূরা হজ্জেও একই কথা এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, তারা খুব তাড়াতাড়ি শাস্তি চাচ্ছে। আর এখানে সূরা মাআরিজেও যে ব্যক্তি শাস্তি চাচ্ছিল তার জবাবেই একথা বলা হয়েছে।