اِنَّ الَّذِیۡنَ تَوَفّٰہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ ظَالِمِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ قَالُوۡا فِیۡمَ کُنۡتُمۡ ؕ قَالُوۡا کُنَّا مُسۡتَضۡعَفِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ قَالُوۡۤا اَلَمۡ تَکُنۡ اَرۡضُ اللّٰہِ وَاسِعَۃً فَتُہَاجِرُوۡا فِیۡہَا ؕ فَاُولٰٓئِکَ مَاۡوٰىہُمۡ جَہَنَّمُ ؕ وَسَآءَتۡ مَصِیۡرًا ۙ
মুফতী তাকী উসমানী
নিজ সত্তার উপর জুলুমরত থাকা অবস্থায়ই ৭২ ফিরিশতাগণ যাদের রূহ কব্জা করার জন্য আসে, (তাদেরকে লক্ষ্য করে) তারা বলে, তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা বলে, যমীনে আমাদেরকে অসহায় করে রাখা হয়েছিল। ফিরিশতাগণ বলে, আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে? সুতরাং এরূপ লোকদের ঠিকানা জাহান্নাম এবং তা অতি মন্দ পরিণতি।
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৭২. ‘নিজ সত্তার উপর জুলুম করা’ কুরআন মাজীদের একটি পরিভাষা। এর অর্থ কোনও গুনাহে লিপ্ত হওয়া। বস্তুত গুনাহ করার দ্বারা মানুষ নিজ সত্তারই ক্ষতি করে থাকে। এ আয়াতে নিজ সত্তার উপর জুলুমকারী বলে সেই সকল লোককে বোঝানো হয়েছে, যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মক্কা মুকাররমা থেকে মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরত করেনি। মুসলিমদের উপর যখন হিজরতের হুকুম আসে তখন মক্কায় অবস্থানকারী মুসলিমদের জন্য মদীনায় হিজরত করা ফরয হয়ে গিয়েছিল; হিজরতকে তাদের ঈমানের অপরিহার্য দাবী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। কেউ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হিজরত না করলে তাকে মুসলিমই গণ্য করা হত না। এ রকমই কিছু লোকের কাছে যখন ফিরিশতাগণ প্রাণ-সংহারের জন্য এসেছিলেন, তখন কী কথোপকথন হয়েছিল এ আয়াতে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে। হিজরতের হুকুম অমান্য করার কারণে তারা যেহেতু মুসলিমই থাকেনি, তাই তারা জাহান্নামী হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অবশ্য যারা কোনও অপারগতার কারণে হিজরত করতে পারে না, একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওযরের কারণে তারা ক্ষমাযোগ্য।