সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আন নিসা (النساء) | নারী

মাদানী

মোট আয়াতঃ ১৭৬

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّکُمُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ وَّخَلَقَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَبَثَّ مِنۡہُمَا رِجَالًا کَثِیۡرًا وَّنِسَآءً ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡ تَسَآءَلُوۡنَ بِہٖ وَالۡاَرۡحَامَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلَیۡکُمۡ رَقِیۡبًا ١

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুত্তাকূরাব্বাকুমুল্লাযীখালাকাকুম মিন নাফছিওঁ ওয়া-হিদাতিওঁ ওয়া খালাকা মিনহা-ঝাওজাহা-ওয়াবাছছা মিনহুমা-রিজা-লান কাছীরাওঁ ওয়ানিছাআওঁ ওয়াত্তাকুল্লাহাল্লাযী তাছাআলূনা বিহী ওয়াল আরহা-মা ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলাইকুম রাকীবা।

হে লোক সকল! নিজ প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি হতে এবং তারই থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী (পৃথিবীতে) ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার অছিলা দিয়ে তোমরা একে অন্যের কাছে (নিজেদের হক) চেয়ে থাক। এবং আত্মীয়দের (অধিকার খর্ব করা)কে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।

তাফসীরঃ

১. এ আয়াতে পর্যায়ক্রমে মৌলিক তিনটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে : (ক) সৃষ্টিকর্তা হওয়ার কারণে এক আল্লাহকে ভয় করা ও কেবল তাঁরই ইবাদত-আনুগত্য করা; (খ) একই আদম-সন্তান হওয়ার কারণে সমস্ত মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা। কোনও অবস্থায়ই কারও কোন অধিকার হরণ না করা এবং (গ) অন্যান্য মানুষ অপেক্ষা আত্মীয়-স্বজনের সাথে ঘনিষ্ঠতা বেশি থাকায় তাদের অধিকারও যেহেতু অন্যদের তুলনায় বেশি, তাই তাদের অধিকারসমূহ আদায়ে অধিকতর যত্নবান থাকা। মৌলিকভাবে এ সূরায় এ তিনও বিষয় সম্পর্কিত বিস্তারিত বিধানাবলী বর্ণিত হয়েছে। যার অনুসরণের মধ্যে রয়েছে পারিবারিক, সামাজিক তথা বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। -অনুবাদক

وَاٰتُوا الۡیَتٰمٰۤی اَمۡوَالَہُمۡ وَلَا تَتَبَدَّلُوا الۡخَبِیۡثَ بِالطَّیِّبِ ۪ وَلَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَہُمۡ اِلٰۤی اَمۡوَالِکُمۡ ؕ اِنَّہٗ کَانَ حُوۡبًا کَبِیۡرًا ٢

ওয়া আ-তুল ইয়াতা-মাআমওয়া-লাহুম ওয়ালা-তাতাবাদ্দালুল খাবীছা বিত্তাইয়িবি ওয়ালা-তা’কুলূআমওয়া-লাহুম ইলাআমওয়া-লিকুম ইন্নাহূকা-না হুবান কাবীরা-।

ইয়াতীমদেরকে তাদের সম্পদ দিয়ে দাও, আর ভালো মালকে মন্দ মাল দ্বারা পরিবর্তন করো না। আর তাদের (ইয়াতীমদের) সম্পদকে নিজেদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে খেয়ো না। নিশ্চয়ই এটা মহাপাপ।

তাফসীরঃ

৩. কেউ মারা গেলে তার মীরাছে তার ইয়াতীম সন্তানদেরও অংশ থাকে। কিন্তু বয়স কম হওয়ার কারণে সে সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করা হয় না; তাদের যারা অভিভাবক থাকে, যেমন চাচা, ভাই প্রমুখ তারা ইয়াতীম শিশু সাবালক না হওয়া পর্যন্ত তাদের অংশ আমানত হিসেবে নিজেদের হেফাজতে রাখে। এ আয়াতে সেই অভিভাবকদেরকে তিনটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (ক) ইয়াতীম শিশু যখন সাবালক হয়ে যায়, তখন বিশ্বস্ততার সাথে তাদের সে আমানত তাদের বুঝিয়ে দাও। (খ) তোমরা এরূপ অবিশ্বস্ততার কাজ করো না যে, তারা তো তাদের পিতার মীরাছ হিসেবে ভালো ভালো জিনিস পেয়েছিল, আর তোমরা তা নিজেরা রেখে দিয়ে তার পরিবর্তে তাদেরকে মন্দ কিসিমের মাল দিয়ে দিলে। (গ) এরূপ করো না যে, তাদের মাল নিজেদের মালের সাথে মিশিয়ে তার কিছু অংশ জেনেশুনে বা অবহেলাভরে নিজেরা ব্যবহার করলে।

وَاِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تُقۡسِطُوۡا فِی الۡیَتٰمٰی فَانۡکِحُوۡا مَا طَابَ لَکُمۡ مِّنَ النِّسَآءِ مَثۡنٰی وَثُلٰثَ وَرُبٰعَ ۚ  فَاِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تَعۡدِلُوۡا فَوَاحِدَۃً اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ؕ  ذٰلِکَ اَدۡنٰۤی اَلَّا تَعُوۡلُوۡا ؕ ٣

ওয়া ইন খিফতুম আল্লা-তুকছিতূফিল ইয়াতা-মা-ফানকিহূমা-তা-বা লাকুম মিনান নিছাই মাছনা-ওয়া ছুলা-ছা ওয়া রুবা-‘আ ফাইন খিফতুম আল্লা-তা‘দিলূফাওয়াহিদাতান আও মা-মালাকাত আইমা-নুকুম যা-লিকা আদনাআল্লা-তা‘ঊলূ

তোমরা যদি আশংকা বোধ কর যে, ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না, তবে (তাদেরকে বিবাহ না করে) অন্য নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের পছন্দ হয় বিবাহ কর দুই-দুইজন, তিন-তিনজন অথবা চার-চারজনকে। অবশ্য যদি আশংকা বোধ কর যে, তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে এক স্ত্রীতে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীতে (ক্ষান্ত থাক)। এতে তোমাদের পক্ষপাতিত্ব না করার সম্ভাবনা বেশি।

তাফসীরঃ

৪. বুখারী শরীফের এক হাদীসে হযরত আয়েশা (রাযি.) এ বিধানের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন যে, অনেক সময় কোনও ইয়াতীম মেয়ে তার চাচাত ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে থাকত। সে যেমন সুন্দরী হত, তেমনি পিতার রেখে যাওয়া সম্পদেরও একটা মোটা অংশ পেত। এ অবস্থায় তার চাচাত ভাই চাইত, সে বালেগা হলে নিজেই তাকে বিবাহ করবে, যাতে তার সম্পদ হাতছাড়া না হয়ে যায়। কিন্তু বিবাহে তার মত মেয়ের মোহরানা যে পরিমাণ হওয়া উচিত, সে পরিমাণ তাকে দিত না। আবার সেই মেয়ে যদি তেমন রূপসী না হত, তবে তার সম্পদের লোভে তাকে বিবাহ তো করত, কিন্তু তাকে মোহরানা তো কম দিতই, সেই সঙ্গে তার সাথে আচার-আচরণও প্রীতিকর করত না। এ আয়াত এ জাতীয় লোকদেরকে হুকুম দিয়েছে যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তোমাদের যদি এ ধরনের জুলুম ও অবিচার করার আশংকা থাকে, তবে তাদেরকে বিবাহ করো না; বরং অন্য যে সকল নারীকে আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন তাদের মধ্য হতে কাউকে বিবাহ কর।

وَاٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِہِنَّ نِحۡلَۃً ؕ فَاِنۡ طِبۡنَ لَکُمۡ عَنۡ شَیۡءٍ مِّنۡہُ نَفۡسًا فَکُلُوۡہُ ہَنِیۡٓــًٔا مَّرِیۡٓــًٔا ٤

ওয়া আ-তুন নিছাআ সাদুকা-তিহিন্না নিহলাতান ফাইন তিবনালাকুম ‘আন শাইইম মিনহু নাফছান ফাকুলূহু হানীআম মারীআ।

নারীদেরকে খুশী মনে তাদের মাহর আদায় কর। তারা নিজেরা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা সানন্দে, স্বচ্ছন্দভাবে ভোগ করতে পার।

وَلَا تُؤۡتُوا السُّفَہَآءَ اَمۡوَالَکُمُ الَّتِیۡ جَعَلَ اللّٰہُ لَکُمۡ قِیٰمًا وَّارۡزُقُوۡہُمۡ فِیۡہَا وَاکۡسُوۡہُمۡ وَقُوۡلُوۡا لَہُمۡ قَوۡلًا مَّعۡرُوۡفًا ٥

ওয়ালা তু’তুছছুফাহাআ আমওয়া-লাকুমুল্লাতী জা‘আলা ল্লা-হুলাকুমকিয়া-মাওঁ ওয়ারঝুকূহুম ফীহা-ওয়াকছূহুম ওয়াকূ লূলাহুম কাওলাম মা‘রূফা-।

তোমরা অবুঝ (ইয়াতীম)দের কাছে নিজেদের সেই সম্পদ অর্পণ করো না, যাকে আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনের অবলম্বন বানিয়েছেন। তবে তাদেরকে তা হতে খাওয়াও ও পরাও, আর তাদের সাথে ন্যায়সঙ্গতভাবে কথা বল।

তাফসীরঃ

৮. ইয়াতীমদের যারা অভিভাবকত্ব করে তাদের দায়িত্ব বর্ণনা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, এক দিকে তো ইয়াতীমদের অর্থ-সম্পদকে আমানত মনে করে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, অন্যদিকে এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে যে, তাদের সম্পদ যেন অসময়ে তাদের হাতে সোপর্দ করা না হয়। বরং যখন টাকা-পয়সা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার মত জ্ঞান-বুদ্ধি ও সঠিক খাতে তা ব্যয় করার মত যোগ্যতা তাদের মধ্যে এসে যাবে, তখনই যেন তাদের হাতে তা অর্পণ করা হয়। যতক্ষণ তারা অবুঝ থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের হাতে তা ন্যস্ত করা যাবে না। তারা নিজেরাই যদি তাদের সম্পদ তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়, তবে তাদেরকে ন্যায়সঙ্গতভাবে বোঝানো উচিত। পরবর্তী আয়াতে এ মূলনীতিরই কিঞ্চিৎ ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, মাঝে মধ্যে ইয়াতীম শিশুদেরকে পরীক্ষা করা চাই যে, নিজেদের অর্থ-সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করার মত বুঝ-সমঝ তাদের হয়েছে কি না। আরও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কেবল বালেগ হওয়াই যথেষ্ট নয়। বালেগ হওয়ার পরও যদি তারা সমঝদার না হয়, তবে তাদের হাতে সম্পদ ন্যস্ত করা যাবে না; বরং যখন বুঝে আসবে যে, তাদের মধ্যে বুদ্ধি-শুদ্ধি এসে গেছে কেবল তখনই তা তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

وَابۡتَلُوا الۡیَتٰمٰی حَتّٰۤی اِذَا بَلَغُوا النِّکَاحَ ۚ فَاِنۡ اٰنَسۡتُمۡ مِّنۡہُمۡ رُشۡدًا فَادۡفَعُوۡۤا اِلَیۡہِمۡ اَمۡوَالَہُمۡ ۚ وَلَا تَاۡکُلُوۡہَاۤ اِسۡرَافًا وَّبِدَارًا اَنۡ یَّکۡبَرُوۡا ؕ وَمَنۡ کَانَ غَنِیًّا فَلۡیَسۡتَعۡفِفۡ ۚ وَمَنۡ کَانَ فَقِیۡرًا فَلۡیَاۡکُلۡ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ؕ فَاِذَا دَفَعۡتُمۡ اِلَیۡہِمۡ اَمۡوَالَہُمۡ فَاَشۡہِدُوۡا عَلَیۡہِمۡ ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ حَسِیۡبًا ٦

ওয়াবতালুল ইয়াতা-মা-হাত্তা ইযা- বালাগুন নিকা-হা ফাইন আ-নাছতুম মিনহুম রুশদান ফাদফা‘ঊ ইলাইহিম আমওয়া-লাহুম ওয়ালা- তা’কুলূহা-ইছরা-ফাওঁ ওয়া বিদারান আইঁ ইয়াকবারূ ওয়ামান কা-না গানিইইয়ান ফালইয়াছতা‘ফিফ ওয়ামান কা-না ফাকীরান ফালইয়া’কুল বিলমা‘রূফি ফাইযা-দাফা‘তুম ইলাইহিম আমওয়া-লাহুম ফাআশহিদূ‘আলাইহিম ওয়া কাফা-বিল্লাহি হাছীবা-।

ইয়াতীমদেরকে পরীক্ষা করতে থাক। যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছায়, অতঃপর যদি তাদের মধ্যে বুঝ-সমঝ উপলব্ধি কর, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পণ কর। আর তা এই ভেবে অপচয়ের সাথে ও তাড়াহুড়া করে খেয়ে ফেল না যে, পাছে তারা বড় হয়ে যায়। আর (ইয়াতীমদের অভিভাবকদের মধ্যে) যে নিজে সচ্ছল, সে তো নিজেকে (ইয়াতীমদের সম্পদ খাওয়া থেকে) সম্পূর্ণরূপে পবিত্র রাখবে, আর যে অভাবগ্রস্ত সে ন্যায়সঙ্গত পন্থায় (তা) খেতে পারবে। অতঃপর তোমরা তাদের সম্পদ যখন তাদের হাতে অর্পণ করবে, তখন তাদের সম্পর্কে সাক্ষী রাখবে। হিসাব গ্রহণের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

তাফসীরঃ

৯. নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য ইয়াতীমের অভিভাবকদের বহু কাজ আঞ্জাম দিতে হয়। সে যদি সচ্ছল ব্যক্তি হয়, তবে সে সব কাজের জন্য ইয়াতীমের সম্পদ হতে তার কোনও রকম বিনিময় গ্রহণ জায়েয নয়। এটা ঠিক এ রকমের, যেন একজন পিতা তার সন্তানদের দেখাশোনা করছে। অবশ্য সে যদি অসচ্ছল আর ইয়াতীম যথেষ্ট সম্পদের মালিক হয়, তবে ইয়াতীমের সম্পদ হতে নিজের প্রয়োজনীয় খরচা গ্রহণ করা তার পক্ষে জায়েয হবে। তবে এ ব্যাপারে তাকে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেবল ততটুকুই সে গ্রহণ করবে, দেশের চল ও নিয়ম অনুযায়ী যতটুকু সে পেতে পারে; তার বেশি নেওয়া কিছুতেই জায়েয হবে না।

لِلرِّجَالِ نَصِیۡبٌ مِّمَّا تَرَکَ الۡوَالِدٰنِ وَالۡاَقۡرَبُوۡنَ ۪ وَلِلنِّسَآءِ نَصِیۡبٌ مِّمَّا تَرَکَ الۡوَالِدٰنِ وَالۡاَقۡرَبُوۡنَ مِمَّا قَلَّ مِنۡہُ اَوۡ کَثُرَ ؕ نَصِیۡبًا مَّفۡرُوۡضًا ٧

লিররিজা-লি নাসীবুম মিম্মা-তারাকাল ওয়া-লিদা-নি ওয়াল আকরাবূনা, ওয়া লিননিছাই নাসীবুম মিম্মা-তারাকাল ওয়া-লিদা-নি ওয়াল আকরাবূনা মিম্মা-কাল্লা মিনহু আও কাছুরা নাসীবাম মাফরুদা-।

পুরুষদের জন্যও সেই সম্পদে অংশ রয়েছে, যা পিতা-মাতা ও নিকটতম আত্মীয়বর্গ রেখে যায় আর নারীদের জন্যও সেই সম্পদে অংশ রয়েছে, যা পিতা-মাতা ও নিকটতম আত্মীয়বর্গ রেখে যায়, চাই সে (পরিত্যক্ত) সম্পদ কম হোক বা বেশি। এ অংশ (আল্লাহর তরফ থেকে) নির্ধারিত। ১০

তাফসীরঃ

১০. জাহিলী যুগে নারীদেরকে মীরাছের কোনও অংশ দেওয়া হত না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এ জাতীয় কিছু ঘটনা পেশ করা হল, যেমন এক ব্যক্তি এক স্ত্রী ও নাবালেগ সন্তান রেখে মারা গেল। এ অবস্থায় তার ভাইয়েরা তার রেখে যাওয়া সমুদয় সম্পত্তি কব্জা করে নিল। স্ত্রীকে তো বঞ্চিত করা হল নারী হওয়ার কারণে। আর সন্তানগণ যেহেতু নাবালেগ ছিল তাই তাদেরকেও কিছু দেওয়া হল না। এ প্রেক্ষাপটেই আলোচ্য আয়াত নাযিল হয়। এতে পরিষ্কার করে দেওয়া হয় যে, নারীদেরকে মীরাছ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অতঃপর সামনে ১১নং আয়াত থেকে যে রুকূ শুরু হয়েছে, তাতে সকল নর-নারী আত্মীয়বর্গের কে কি পরিমাণ পাবে তাও আল্লাহ তাআলা স্থির করে দিয়েছেন।

وَاِذَا حَضَرَ الۡقِسۡمَۃَ اُولُوا الۡقُرۡبٰی وَالۡیَتٰمٰی وَالۡمَسٰکِیۡنُ فَارۡزُقُوۡہُمۡ مِّنۡہُ وَقُوۡلُوۡا لَہُمۡ قَوۡلًا مَّعۡرُوۡفًا ٨

ওয়া ইযা-হাদরাল কিছমাতা ঊলুল কুরবা- ওয়াল ইয়াতা-মা- ওয়াল মাছা-কীনু ফারঝুকূহুম মিনহু ওয়াকূলূহুম কাওলাম মা‘রূফা-।

আর যখন (মীরাছ) বণ্টনের সময় (ওয়ারিশ নয় এমন) আত্মীয়, ইয়াতীম ও মিসকীন উপস্থিত হয়, তখন তাদেরকেও তা থেকে কিছু দাও এবং তাদের সাথে সদালাপ কর। ১১

তাফসীরঃ

১১. মীরাছ বণ্টনকালে এমন কিছু লোকও উপস্থিত থাকে, যারা শরীয়ত অনুযায়ী ওয়ারিশ হয় না। কুরআন মাজীদের নির্দেশনা হচ্ছে, তাদেরকেও কিছু দেওয়া ভালো। অবশ্য এ ক্ষেত্রে দুটো বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে (ক) এরূপ লোকদেরকে দেওয়া ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব এবং (খ) তাদেরকে নাবালেগ ওয়ারিশদের অংশ থেকে দেওয়া জায়েয নয়। কেবল বালেগ ওয়ারিশগণ নিজেদের অংশ থেকে দেবে।

وَلۡیَخۡشَ الَّذِیۡنَ لَوۡ تَرَکُوۡا مِنۡ خَلۡفِہِمۡ ذُرِّیَّۃً ضِعٰفًا خَافُوۡا عَلَیۡہِمۡ ۪ فَلۡیَتَّقُوا اللّٰہَ وَلۡیَقُوۡلُوۡا قَوۡلًا سَدِیۡدًا ٩

ওয়াল ইয়াখশাল্লাযীনা লাও তারাকূমিন খালফিহিম যুররিইইয়াতান দি‘আ-ফান খা-ফূ‘আলাইহিম ফালইয়াত্তাকূল্লা-হা ওয়াল ইয়াকূলূকাওলান ছাদীদা-।

আর সেইসব লোক (ইয়াতীমদের সম্পদে অসাধুতা করতে) ভয় করুক, যারা নিজেদের পেছনে অসহায় সন্তান রেখে গেলে তাদের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকত। ১২ সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সরল-সঠিক কথা বলে।

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ তোমাদের যেমন নিজ সন্তানদের ব্যাপারে চিন্তা থাকে যে, আমাদের মৃত্যুর পর তাদের অবস্থা কী হবে, তেমনি অন্যদের সন্তানদের ব্যাপারেও চিন্তা কর এবং ইয়াতীমদের সম্পদে যে কোনও রকমের অসাধু পন্থা অবলম্বন করা হতে বিরত থাক।
১০

اِنَّ الَّذِیۡنَ یَاۡکُلُوۡنَ اَمۡوَالَ الۡیَتٰمٰی ظُلۡمًا اِنَّمَا یَاۡکُلُوۡنَ فِیۡ بُطُوۡنِہِمۡ نَارًا ؕ  وَسَیَصۡلَوۡنَ سَعِیۡرًا ٪ ١۰

ইন্নাল্লাযীনা ইয়া’কুলূনা আমওয়া-লাল ইয়াতা-মা-জু লমান ইন্নামা-ইয়া’কুলূনা ফী বুতুনিহিম না-রাওঁ ওয়া ছাইয়াসলাওনা ছা‘ঈরা।

নিশ্চয়ই যারা ইয়াতীমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করে, তারা নিজেদের পেটে কেবল আগুন ভরতি করে। তারা অচিরেই এক জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।
১১

یُوۡصِیۡکُمُ اللّٰہُ فِیۡۤ اَوۡلَادِکُمۡ ٭ لِلذَّکَرِ مِثۡلُ حَظِّ الۡاُنۡثَیَیۡنِ ۚ فَاِنۡ کُنَّ نِسَآءً فَوۡقَ اثۡنَتَیۡنِ فَلَہُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَکَ ۚ وَاِنۡ کَانَتۡ وَاحِدَۃً فَلَہَا النِّصۡفُ ؕ وَلِاَبَوَیۡہِ لِکُلِّ وَاحِدٍ مِّنۡہُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَکَ اِنۡ کَانَ لَہٗ وَلَدٌ ۚ فَاِنۡ لَّمۡ یَکُنۡ لَّہٗ وَلَدٌ وَّوَرِثَہٗۤ اَبَوٰہُ فَلِاُمِّہِ الثُّلُثُ ۚ فَاِنۡ کَانَ لَہٗۤ اِخۡوَۃٌ فَلِاُمِّہِ السُّدُسُ مِنۡۢ بَعۡدِ وَصِیَّۃٍ یُّوۡصِیۡ بِہَاۤ اَوۡ دَیۡنٍ ؕ اٰبَآؤُکُمۡ وَاَبۡنَآؤُکُمۡ لَا تَدۡرُوۡنَ اَیُّہُمۡ اَقۡرَبُ لَکُمۡ نَفۡعًا ؕ فَرِیۡضَۃً مِّنَ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ١١

ইঊসীকুমুল্লা-হু ফী আওলাদিকুম লিযযাকারি মিছলুহাজ্জিল উনছাইয়াইনি ফাইন কুন্না নিছাআন ফাওকাছনাতাইনি ফালাহুন্না ছুলুছা-মা-তারাকা ওয়া ইন কানাত ওয়া-হিদাতান ফালাহান নিসফু ওয়ালিআবাওয়াইহি লিকুল্লি ওয়া-হিদিম মিনহুমাছ ছু দুছুমিম্মা-তারাকা ইন কা-না লাহু ওয়ালাদুন ফাইল্লাম ইয়াকুল্লাহু ওয়ালাদুওঁ ওয়া ওয়ারিছাহুআবাওয়া-হু ফালিউম্মিহিছছু লুছু ফাইন কা-না লাহুইখওয়াতুন ফালিউম্মিহিছ ছু দুছুমিম বা‘দি ওয়াসিইইয়াতিইঁ ইউসী বিহা-আও দাইনিন আ-বাউকুম ওয়া আব নাউকুম লা-তাদরূনা আইয়ুহুম আকরাবুলাকুম নাফ‘আন ফারীদতাম মিনাল্লাহি ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলীমান হাকীমা-।

আল্লাহ তোমাদের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, পুরুষের অংশ দুই নারীর সমান। ১৩ যদি (কেবল) দুই বা ততোধিক নারীই থাকে, তবে মৃত ব্যক্তি যা-কিছু রেখে গেছে, তারা তার দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। যদি কেবল একজন নারী থাকে, তবে সে (পরিত্যক্ত সম্পত্তির) অর্ধেক পাবে। মৃত ব্যক্তির পিতা-মাতার মধ্য হতে প্রত্যেকের প্রাপ্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ, যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে। আর যদি তার কোন সন্তান না থাকে এবং তার পিতা-মাতাই তার ওয়ারিশ হয়, তবে তার মায়ের প্রাপ্য এক-তৃতীয়াংশ। অবশ্য তার যদি কয়েক ভাই থাকে, তবে তার মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ, (আর এ বণ্টন করা হবে) মৃত ব্যক্তি যে ওসিয়ত করে গেছে তা কার্যকর করার কিংবা (তার যদি কোন) দেনা (থাকে, তা) পরিশোধ করার পর। ১৪ তোমরা আসলে জান না, তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে উপকার সাধনের দিক থেকে তোমাদের নিকটতর। (এসব) আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ। ১৫ নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

১৩. ১১, ১২ নং আয়াতে আত্মীয়দের মধ্যে কে কতটুকু মীরাছ পাবে তা বর্ণিত হয়েছে। যে সকল আত্মীয়ের অংশ এই দুই আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে তাদেরকে ‘যাবিল ফুরূয’ বলে। নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এসব অংশ প্রদানের পর যে সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে, তা মৃত ব্যক্তির সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী সেই আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করা হবে, যাদের অংশ এ আয়াতসমূহে উল্লেখ করা হয়নি। তাদেরকে ‘আসাবা’ বলে, যেমন পুত্র। আর কন্যা যদিও সরাসরি ‘আসাবা’ নয়, কিন্তু পুত্রদের সাথে মিলে সেও ‘আসাবা’র অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থায় তাদের মধ্যে যে নিয়মে মীরাছ বণ্টন করা হবে, তা এ আয়াতে বলে দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ এক পুত্র পাবে দুই কন্যার সমান। এই একই নিয়ম সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যখন মৃত ব্যক্তির কোনও সন্তান না থাকে এবং ভাই-বোন তার ওয়ারিশ হয়। তখন ভাইকে বোনের দ্বিগুণ অংশ দেওয়া হবে।
১২

وَلَکُمۡ نِصۡفُ مَا تَرَکَ اَزۡوَاجُکُمۡ اِنۡ لَّمۡ یَکُنۡ لَّہُنَّ وَلَدٌ ۚ  فَاِنۡ کَانَ لَہُنَّ وَلَدٌ فَلَکُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَکۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِ وَصِیَّۃٍ یُّوۡصِیۡنَ بِہَاۤ اَوۡ دَیۡنٍ ؕ  وَلَہُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَکۡتُمۡ اِنۡ لَّمۡ یَکُنۡ لَّکُمۡ وَلَدٌ ۚ  فَاِنۡ کَانَ لَکُمۡ وَلَدٌ فَلَہُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَکۡتُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ وَصِیَّۃٍ تُوۡصُوۡنَ بِہَاۤ اَوۡ دَیۡنٍ ؕ  وَاِنۡ کَانَ رَجُلٌ یُّوۡرَثُ کَلٰلَۃً اَوِ امۡرَاَۃٌ وَّلَہٗۤ اَخٌ اَوۡ اُخۡتٌ فَلِکُلِّ وَاحِدٍ مِّنۡہُمَا السُّدُسُ ۚ  فَاِنۡ کَانُوۡۤا اَکۡثَرَ مِنۡ ذٰلِکَ فَہُمۡ شُرَکَآءُ فِی الثُّلُثِ مِنۡۢ بَعۡدِ وَصِیَّۃٍ یُّوۡصٰی بِہَاۤ اَوۡ دَیۡنٍ ۙ  غَیۡرَ مُضَآرٍّ ۚ  وَصِیَّۃً مِّنَ اللّٰہِ ؕ  وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَلِیۡمٌ ؕ ١٢

ওয়ালাকুম নিসফুমা-তারাকা আঝওয়া-জুকুম ইল্লাম ইয়াকুল্লাহুন্না ওয়ালাদুন ফাইন কা-না লাহুন্না ওয়ালাদুন ফালাকুমুর রুবু‘উ মিম্মা-তারাকনা মিম বা‘দি ওয়াসিইইয়াতিইঁ ইঊসীনা বিহাআওদাইনিওঁ ওয়ালাহুন্নার রুবু‘উ মিম্মা-তারাকতুম ইল্লাম ইয়াকুল্লাকুম ওয়ালাদুন ফাইন কা-না লাকুম ওয়ালাদুন ফালাহুন্নাছছু মুনুমিম্মা-তারাকতুম মিম বা‘দি ওয়াসিয়াতিন তূসূনা বিহাআও দাইনিওঁ ওয়া ইন কা-না রাজুলুইঁ ইঊরাছুকালা-লাতান আবিম রাআতুওঁ ওয়ালাহু আখুন আও উখতুন ফালিকুল্লি ওয়া-হিদিম মিনহুমাছ ছু দুছু ফাইন কা-নুআকছারা মিন যা-লিকা ফাহুম শুরাকাউ ফিছছু লুছিমিম বা‘দি ওয়াসিইইয়াতিই ইঊসা-বিহাআওদাইনিন গাইরা মুদাররিওঁ ওয়াসিইইয়াতাম মিনাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হালীম।

তোমাদের স্ত্রীগণ যা-কিছু রেখে যায়, তার অর্ধাংশ তোমাদের যদি তাদের কোনও সন্তান (জীবিত) না থাকে। যদি তাদের কোনও সন্তান থাকে, তবে তারা (যে) ওসিয়ত (করে যায় তা) কার্যকর করার এবং যে দেনা রেখে যায় তা পরিশোধ করার পর, তোমরা তার রেখে যাওয়া সম্পদের এক-চতুর্থাংশ পাবে। আর তোমরা যা-কিছু ছেড়ে যাও, তার এক-চতুর্থাংশ তারা (স্ত্রীগণ) পাবে যদি তোমাদের (জীবিত) কোন সন্তান না থাকে। যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তোমরা যে ওসিয়ত করে যাও তা কার্যকর করার এবং (তোমাদের) দেনা পরিশোধ করার পর তারা তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ পাবে। যার মীরাছ বণ্টন করা হচ্ছে, সেই পুরুষ বা নারী যদি এমন হয় যে, না তার পিতা-মাতা জীবিত আছে, না সন্তান-সন্ততি আর তার এক ভাই বা এক বোন জীবিত থাকে, তবে তাদের প্রত্যেকের প্রাপ্য এক-ষষ্ঠাংশ। তারা যদি আরও বেশি সংখ্যক থাকে, তবে তারা সকলে এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে অংশীদার হবে, (কিন্তু তা) যে ওসিয়ত করা হয়েছে তা কার্যকর করার বা দেনা পরিশোধ করার পর যদি (ওসিয়ত বা দেনার স্বীকারোক্তি দ্বারা) সে কারও ক্ষতি না করে থাকে। ১৬ (এসব) আল্লাহর হুকুম। আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞাত, সহনশীল।

তাফসীরঃ

১৬. এর দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য যে, যদিও মীরাছ বণ্টন করার আগে দেনা পরিশোধ ও ওসিয়ত পূরণ করা জরুরী, কিন্তু মৃত ব্যক্তির এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যার উদ্দেশ্য বৈধ ওয়ারিশদের ক্ষতি সাধন করা। যেমন কোনও ব্যক্তি তার ওয়ারিশদেরকে বঞ্চিত করার বা তাদের অংশ হ্রাস করার লক্ষ্যে তার কোনও বন্ধুর অনুকূলে ওসিয়ত করল কিংবা তার অনুকূলে মিথ্যা ঋণের কথা স্বীকার করল, যাতে তার গোটা সম্পত্তি বা তার সিংহভাগ সেই ব্যক্তির দখলে চলে যায় আর ওয়ারিশগণ কিছুই না পায় অথবা পেলেও তার পরিমাণ খুব সামান্যই হয়। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এজন্যই শরীয়ত এই মূলনীতি প্রদান করেছে যে, কোনও ওয়ারিশের পক্ষে ওসিয়ত করা যাবে না এবং যে ওয়ারিশ নয় তার পক্ষেও সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি ওসিয়ত করা যাবে না।
১৩

تِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ ؕ وَمَنۡ یُّطِعِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ یُدۡخِلۡہُ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ وَذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ١٣

তিলকা হুদূদুল্লা-হি ওয়া মাই ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়ারাছূলাহু ইউদখিলহু জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা- ওয়া যা-লিকাল ফাওঝুল ‘আজীম।

এসব আল্লাহর (স্থিরীকৃত) সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন উদ্যানসমূহে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত হবে। তারা সর্বদা তাতে থাকবে। আর এটা মহা সাফল্য।
১৪

وَمَنۡ یَّعۡصِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ وَیَتَعَدَّ حُدُوۡدَہٗ یُدۡخِلۡہُ نَارًا خَالِدًا فِیۡہَا ۪  وَلَہٗ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ٪ ١٤

ওয়ামাইঁ ইয়া‘সিল্লা-হা ওয়ারাছূলাহু ওয়াইয়াতা‘আদ্দা হুদূদাহু ইউদখিলহু না-রান খা-লিদান ফীহা- ওয়ালাহু ‘আযা-বুম মুহীন।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করবে এবং তাঁর (স্থিরীকৃত) সীমা লংঘন করবে, তিনি তাকে দাখিল করবেন জাহান্নামে, যাতে সে সর্বদা থাকবে এবং তার জন্য আছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
১৫

وَالّٰتِیۡ یَاۡتِیۡنَ الۡفَاحِشَۃَ مِنۡ نِّسَآئِکُمۡ فَاسۡتَشۡہِدُوۡا عَلَیۡہِنَّ اَرۡبَعَۃً مِّنۡکُمۡ ۚ فَاِنۡ شَہِدُوۡا فَاَمۡسِکُوۡہُنَّ فِی الۡبُیُوۡتِ حَتّٰی یَتَوَفّٰہُنَّ الۡمَوۡتُ اَوۡ یَجۡعَلَ اللّٰہُ لَہُنَّ سَبِیۡلًا ١٥

ওয়াল্লা-তী ইয়া’তীনাল ফা-হিশাতা মিন নিছাইকুম ফাছতাশহিদূ‘আলাইহিন্না আরবা‘আতাম মিনকুম; ফাইন শাহিদূফাআমছিকূহুন্না ফিল বুয়ূতি হাত্তা-ইয়াতাওয়াফফা-হুন্নাল মাওতুআও ইয়া জ‘আলাল্লা-হু লাহুন্না ছাবীলা-।

তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা অশ্লীল কাজ করবে, তাদের সম্পর্কে তোমাদের মধ্য হতে চারজন সাক্ষী রাখ। তারা যদি (তাদের অশ্লীল কাজ সম্পর্কে) সাক্ষ্য দেয়, তবে তাদেরকে ঘরের ভেতর আবদ্ধ রাখ, যাবত না মৃত্যু তাদের তুলে নিয়ে যায় কিংবা আল্লাহ তাদের জন্য কোন পথ সৃষ্টি করে দেন। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. কোনও নারী ব্যভিচার করলে প্রথম দিকে তাকে যাবজ্জীবন গৃহবন্দী করে রাখার হুকুম দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই সঙ্গে ইশারা করা হয়েছিল যে, পরবর্তীকালে তাদের জন্য অন্য কোনও দ-বিধি দেওয়া হবে। ‘কিংবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ সৃষ্টি করে দেবেন’ দ্বারা সে কথাই বোঝানো হয়েছে। সুতরাং সূরা ‘নূর’-এ নর-নারী উভয়ের জন্য ব্যভিচারের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে একশ’ চাবুক। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা নূরের সে আয়াত নাযিল হলে ইরশাদ করেন, এবার আল্লাহ তাআলা নারীদের জন্য পথ সৃষ্টি করে দিয়েছেন, আর তা এই যে, অবিবাহিত নর বা নারীকে একশ’ চাবুক মারা হবে এবং বিবাহিতকে রাজ্ম (পাথর মেরে হত্যা) করা হবে।
১৬

وَالَّذٰنِ یَاۡتِیٰنِہَا مِنۡکُمۡ فَاٰذُوۡہُمَا ۚ فَاِنۡ تَابَا وَاَصۡلَحَا فَاَعۡرِضُوۡا عَنۡہُمَا ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ تَوَّابًا رَّحِیۡمًا ١٦

ওয়াল্লাযা-নি ইয়া’তিইয়া-নিহা-মিনকুম ফাআ-যূহুমা- ফাইন তা-বা-ওয়াআসলাহাফাআ‘রিদূ ‘আনহুমা- ইন্নাল্লা-হা কা-না তাওওয়া-বার রাহীমা-।

আর তোমাদের মধ্যে যে দুই পুরুষ অশ্লীল কর্ম করবে, তাদেরকেও শাস্তি দান কর। ১৮ অতঃপর তারা যদি তাওবা করে ও নিজেদের সংশোধন করে ফেলে, তবে তাদেরকে ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

১৮. এর দ্বারা পুরুষের স্বভাব-বিরুদ্ধ যৌনক্রিয়া তথা ‘সমকাম’-এর দিকে ইশারা করা হয়েছে। এর জন্য নির্দিষ্ট কোন শাস্তির বিধান না দিয়ে কেবল এই আদেশ করা হয়েছে যে, এরূপ পুরুষদেরকে শাস্তি দেওয়া চাই। ফুকাহায়ে কিরাম এর বিভিন্ন পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন। তবে তার মধ্যে বিশেষ কোনওটি অপরিহার্য নয়। সঠিক এই যে, এটা বিচারকের বিবেচনার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
১৭

اِنَّمَا التَّوۡبَۃُ عَلَی اللّٰہِ لِلَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ السُّوۡٓءَ بِجَہَالَۃٍ ثُمَّ یَتُوۡبُوۡنَ مِنۡ قَرِیۡبٍ فَاُولٰٓئِکَ یَتُوۡبُ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ١٧

ইন্নামাত তাওবাতু‘আলাল্লা-হি লিল্লাযীনা ইয়া‘মালূনাছ ছূআ বিজাহা-লাতিন ছুম্মা ইয়াতূবূনা মিন কারীবিন ফাউলাইকা ইয়াতূবুল্লা-হু ‘আলাইহিম ওয়া কা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা।

আল্লাহ অবশ্যই সেই সব লোকের তাওবা কবুল করেন যারা অজ্ঞতাবশত কোনও গুনাহ করে ফেলে, তারপর জলদি তাওবা করে নেয়। সুতরাং আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞাত, প্রজ্ঞাময়।
১৮

وَلَیۡسَتِ التَّوۡبَۃُ لِلَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ السَّیِّاٰتِ ۚ حَتّٰۤی اِذَا حَضَرَ اَحَدَہُمُ الۡمَوۡتُ قَالَ اِنِّیۡ تُبۡتُ الۡـٰٔنَ وَلَا الَّذِیۡنَ یَمُوۡتُوۡنَ وَہُمۡ کُفَّارٌ ؕ اُولٰٓئِکَ اَعۡتَدۡنَا لَہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ١٨

ওয়া লাইছাতিত্তাওবাতুলিল্লাযীনা ইয়া‘মালূনাছ ছাইয়িআ-তি হাত্তাইযা-হাদারা আহাদাহুমুল মাওতুকা-লা ইন্নী তুবতুল আ-না ওয়ালা ল্লাযীনা ইয়ামূতূনা ওয়াহুম কুফফারুন উলাইকা আ‘তাদনা-লাহুম ‘আযা-বান আলীমা।

তাওবা কবুল তাদের প্রাপ্য নয়, যারা অসৎকর্ম করতে থাকে, পরিশেষে তাদের কারও যখন মৃত্যুক্ষণ এসে পড়ে, তখন বলে, এখন আমি তাওবা করলাম। এবং তাদের জন্যও নয়, যারা কাফের অবস্থায়ই মারা যায়। এরূপ লোকদের জন্য তো আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
১৯

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا یَحِلُّ لَکُمۡ اَنۡ تَرِثُوا النِّسَآءَ کَرۡہًا ؕ وَلَا تَعۡضُلُوۡہُنَّ لِتَذۡہَبُوۡا بِبَعۡضِ مَاۤ اٰتَیۡتُمُوۡہُنَّ اِلَّاۤ اَنۡ یَّاۡتِیۡنَ بِفَاحِشَۃٍ مُّبَیِّنَۃٍ ۚ وَعَاشِرُوۡہُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ۚ فَاِنۡ کَرِہۡتُمُوۡہُنَّ فَعَسٰۤی اَنۡ تَکۡرَہُوۡا شَیۡئًا وَّیَجۡعَلَ اللّٰہُ فِیۡہِ خَیۡرًا کَثِیۡرًا ١٩

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-ইয়াহিল্লুলাকুম আন তারিছুন নিছাআ কারহাওঁ ওয়ালা-তা‘দুলূহুন্না লিতাযহাবূব্বিা‘দিমাআ-তাইতুমূহুন্না ইল্লাআইঁ ইয়া’তীনা বিফাহিশাতিম মুবাইয়িনাতিওঁ ওয়া‘আ-শিরূহুন্না বিলমা‘রূফি ফাইন কারিহতুমূহুন্না ফা‘আছাআন তাকরাহু শাইআওঁ ওয়াইয়াজ‘আলাল্লা-হু ফীহি খাইরান কাছীরা-।

হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য এটা হালাল নয় যে, তোমরা জোরপূর্বক নারীদের মালিক বনে বসবে। আর তাদেরকে এই উদ্দেশ্যে অবরুদ্ধ করে রেখ না যে, তোমরা তাদেরকে যা-কিছু দিয়েছ তার কিয়দংশ আত্মসাৎ করবে, অবশ্য তারা যদি প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়, তবে ভিন্ন কথা। ১৯ আর তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন কর। তোমরা যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে এর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে যে, তোমরা কোনও জিনিসকে অপছন্দ করছ অথচ আল্লাহ তাতে প্রভূত কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।

তাফসীরঃ

১৯. জাহিলী যুগে এই নিপীড়নমূলক প্রথা চালু ছিল যে, কোনও নারীর স্বামী মারা গেলে ওয়ারিশগণ সেই নারীকেও মীরাছের অংশ মনে করত এবং এই অর্থে তারা তার মালিক বনে যেত যে, তাদের অনুমতি ছাড়া সে যেমন অন্য কোনও স্বামী গ্রহণ করতে পারত না, তেমনি নিজ জীবন সম্পর্কে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেরও অধিকার রাখত না। এ আয়াত সেই জুলুমের রেওয়াজকে খতম করে দিয়েছে। এমনিভাবে আরও একটা অন্যায় রীতি ছিল যে, কোনও স্বামী যখন স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করত, আবার তাকে যে মাহর দিয়েছে সেটাও হস্তগত করতে চাইত, তখন সে স্ত্রীকে নানাভাবে কষ্ট দিতে থাকত, যেমন সে তাকে ঘরের ভেতর এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখত যদ্দরুণ সে তার বৈধ প্রয়োজন মেটানোর জন্যও বাইরে যেতে পারত না। এভাবে নির্যাতন করার উদ্দেশ্য ছিল যাতে সে বেচারী বাধ্য হয়ে স্বামীর থেকে মুক্তি লাভের জন্য নিজেই বিবাহ বিচ্ছেদের প্রস্তাব দেয় আর বলে, তুমি যে মাহর দিয়েছ তা ফেরত নিয়ে যাও এবং তালাক দিয়ে আমাকে তোমার কবল থেকে মুক্তি দাও। আয়াতের দ্বিতীয় অংশে এই প্রথাকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে।
২০

وَاِنۡ اَرَدۡتُّمُ اسۡتِبۡدَالَ زَوۡجٍ مَّکَانَ زَوۡجٍ ۙ وَّاٰتَیۡتُمۡ اِحۡدٰہُنَّ قِنۡطَارًا فَلَا تَاۡخُذُوۡا مِنۡہُ شَیۡئًا ؕ اَتَاۡخُذُوۡنَہٗ بُہۡتَانًا وَّاِثۡمًا مُّبِیۡنًا ٢۰

ওয়া ইন আরাত্তুমুছ তিবদা-লা ঝাওজিম মাকা-না ঝাওজিওঁ ওয়া আ-তাইতুম ইহদা-হুন্না কিনতা-রান ফালা-তা’খুযূমিনহু শাইআন আতা’খুযূনাহু বুহতা-নাওঁ ওয়া ইছমাম মুবীনা।

আর তোমরা যদি এক স্ত্রীর পরিবর্তে অন্য স্ত্রীকে বিবাহ করতে চাও এবং তাদের একজনকে অগাধ মাহর দিয়ে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত নিয়ো না। তোমরা কি অপবাদ দিয়ে এবং প্রকাশ্য গুনাহে লিপ্ত হয়ে তা (মাহর) ফেরত নেবে? ২০

তাফসীরঃ

২০. উপরে ১৯নং আয়াতে বলা হয়েছিল যে, স্ত্রীদেরকে তাদের মুক্তি লাভের জন্য মাহর ওয়াপস করতে বাধ্য করা কেবল সেই অবস্থায়ই বৈধ, যখন তারা প্রকাশ্য অশ্লীলতায় (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়ে পড়বে। এ আয়াতে বলা হচ্ছে যে, তোমরা যদি মাহর ফেরত দেওয়ার জন্য তাদেরকে চাপ দাও, তবে তোমাদের পক্ষ হতে এটা তাদের প্রতি অপবাদ আরোপের নামান্তর হবে। তোমরা যেন বলতে চাচ্ছ, তারা প্রকাশ্য অশ্লীলতা করেছে, যেহেতু মাহর ওয়াপস করতে বাধ্য করা এ অবস্থা ছাড়া অন্য কোনও অবস্থায় বৈধ নয়।
২১

وَکَیۡفَ تَاۡخُذُوۡنَہٗ وَقَدۡ اَفۡضٰی بَعۡضُکُمۡ اِلٰی بَعۡضٍ وَّاَخَذۡنَ مِنۡکُمۡ مِّیۡثَاقًا غَلِیۡظًا ٢١

ওয়া কাইফা তা’খুযূনাহূওয়া কাদ আফদা-বা‘দুকুমইলা-বা‘দিওঁ ওয়া আখাযনা মিনকুম মীছাকান গালীজা।

আর কি করেই বা তোমরা তা ফেরত নিতে পার, যখন তোমরা একে অন্যের বড় ঘনিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলে এবং তারা তোমাদের থেকে কঠিন প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিল?
২২

وَلَا تَنۡکِحُوۡا مَا نَکَحَ اٰبَآؤُکُمۡ مِّنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ  اِنَّہٗ کَانَ فَاحِشَۃً وَّمَقۡتًا ؕ  وَسَآءَ سَبِیۡلًا ٪ ٢٢

ওয়ালা-তানকিহুমা-নাকাহা আ-বাউকুম মিনান নিছাই ইল্লা-মা-কাদ সালাফা ইন্নাহু কা-না ফা-হিশাতাওঁ ওয়া মাকতাওঁ ওয়া ছাআ ছাবীলা-।

যে নারীদেরকে তোমাদের বাপ-দাদা (কখনও) বিবাহ করেছে, তোমরা তাদেরকে বিবাহ করো না। তবে পূর্বে যা হয়েছে, হয়েছে। ২১ এটা অত্যন্ত অশ্লীল ও ঘৃণ্য কর্ম এবং নিকৃষ্ট আচরণ।

তাফসীরঃ

২১. জাহিলী যুগে সৎ মা’কে বিবাহ করা দূষণীয় মনে করা হত না। এ আয়াত সে নির্লজ্জতাকে নিষিদ্ধ করেছে। অবশ্য যারা ইসলামের আগে এরূপ বিবাহ করেছিল তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আগের গুনাহ মাফ। কেননা ইসলাম গ্রহণ দ্বারা পূর্বের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। শর্ত হল, এ আয়াত নাযিলের পর সে বিবাহের সম্বন্ধ ত্যাগ করতে হবে।
২৩

حُرِّمَتۡ عَلَیۡکُمۡ اُمَّہٰتُکُمۡ وَبَنٰتُکُمۡ وَاَخَوٰتُکُمۡ وَعَمّٰتُکُمۡ وَخٰلٰتُکُمۡ وَبَنٰتُ الۡاَخِ وَبَنٰتُ الۡاُخۡتِ وَاُمَّہٰتُکُمُ الّٰتِیۡۤ اَرۡضَعۡنَکُمۡ وَاَخَوٰتُکُمۡ مِّنَ الرَّضَاعَۃِ وَاُمَّہٰتُ نِسَآئِکُمۡ وَرَبَآئِبُکُمُ الّٰتِیۡ فِیۡ حُجُوۡرِکُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِکُمُ الّٰتِیۡ دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ ۫  فَاِنۡ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ ۫  وَحَلَآئِلُ اَبۡنَآئِکُمُ الَّذِیۡنَ مِنۡ اَصۡلَابِکُمۡ ۙ  وَاَنۡ تَجۡمَعُوۡا بَیۡنَ الۡاُخۡتَیۡنِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ۙ ٢٣

হুররিমাত ‘আলাইকুম উম্মাহা-তুকুম ওয়া বানা-তুকুম ওয়া আখাওয়া-তুকুম ওয়া ‘আম্মা-তুকুম ওয়া খা-লা-তুকুম ওয়া বানা-তুল আখি ওয়া বানা-তুল উখতি ওয়া উম্মাহা-তুকুমুল্লাতীআরদা‘নাকুম ওয়া আখাওয়া-তুকুম মিনাররাদা-‘আতি ওয়াউম্মাহা-তুনিছাইকুম ওয়া রাবাইবুকুমুল্লা-তী ফী হুজূরিকুম মিন নিছাইকুমুল্লা-তী দাখালতুম বিহিন্না ফাইল্লাম তাকূনূদাখালতুম বিহিন্না ফালা-জুনা-হা ‘আলাইকুম ওয়া হালাইলু আবনাইকুমুল্লাযীনা মিন আসলা-বিকুম ওয়া আন তাজমা‘ঊ বাইনাল উখতাইনি ইল্লামা-কাদ ছালাফা ইন্নাল্লা-হা কা-না গাফূরার রাহীমা-।

তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের মেয়ে, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাতিজী, ভাগ্নি, তোমাদের সেই সকল মা, যারা তোমাদেরকে দুধ পান করিয়েছে, তোমাদের দুধ বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মা, তোমাদের প্রতিপালনাধীন তোমাদের সৎ কন্যা, ২২ যারা তোমাদের এমন স্ত্রীদের গর্ভজাত, যাদের সাথে তোমরা নিভৃতে মিলিত হয়েছ। তোমরা যদি তাদের সাথে নিভৃত-মিলন না করে থাক (এবং তাদেরকে তালাক দিয়ে দাও বা তাদের মৃত্যু হয়ে যায়), তবে (তাদের কন্যাদেরকে বিবাহ করাতে) তোমাদের কোন গুনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীগণও (তোমাদের জন্য হারাম) এবং এটাও (হারাম) যে, তোমরা দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করবে। তবে পূর্বে যা হয়েছে, হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

২২. সাধারণভাবে সৎকন্যা যেহেতু সৎপিতার লালন-পালনে থাকে, তাই এ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। নয়ত যে সৎ কন্যা সৎ পিতার প্রতিপালনাধীন নয়, সেও হারাম।
২৪

وَّالۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ۚ کِتٰبَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ ۚ وَاُحِلَّ لَکُمۡ مَّا وَرَآءَ ذٰلِکُمۡ اَنۡ تَبۡتَغُوۡا بِاَمۡوَالِکُمۡ مُّحۡصِنِیۡنَ غَیۡرَ مُسٰفِحِیۡنَ ؕ فَمَا اسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِہٖ مِنۡہُنَّ فَاٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ فَرِیۡضَۃً ؕ وَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ فِیۡمَا تَرٰضَیۡتُمۡ بِہٖ مِنۡۢ بَعۡدِ الۡفَرِیۡضَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ٢٤

ওয়াল মুহসানা-তুমিনান নিছাই ইল্লা-মা- মালাকাত আইমা-নুকুম কিতা-বাল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়া উহিল্লা লাকুম মা-ওয়ারাআ যা-লিকুম আন তাবতাগূবিআমওয়ালিকুম মুহসিনীনা গাইরা মুছা-ফিহীনা ফামাছ তামতা‘তুম বিহী মিনহুন্না ফাআ-তূহুন্না উজূরাহুন্না ফারীদাতাওঁ ওয়ালা-জুনা-হা ‘আলাইকুম ফীমা-তারাদাইতুম বিহী মিম বা‘দিল ফারীদাতি ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলীমান হাকীমা-।

সেই সকল নারীও (তোমাদের জন্য হারাম), যারা অন্য স্বামীদের বিবাহাধীন আছে। তবে যে দাসীরা তোমাদের মালিকানায় এসে গেছে, (তারা ব্যতিক্রম)। ২৩ এটা তোমাদের প্রতি আল্লাহর বিধান। আর এ ছাড়া অন্য নারীদেরকে নিজেদের অর্থ-সম্পদ খরচের মাধ্যমে (অর্থাৎ মাহর দিয়ে নিজেদের বিবাহে আনার) কামনা করাকে বৈধ করা হয়েছে, এই শর্তে যে, তোমরা (বিবাহ দ্বারা) চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার ইচ্ছা করবে, কেবল কাম চরিতার্থকারী হবে না। ২৪ সুতরাং তোমরা (বিবাহ সূত্রে) যে সকল নারী দ্বারা আনন্দ ভোগ করেছ, তাদেরকে ধার্যকৃত মাহর প্রদান কর। অবশ্য (মাহর) ধার্য করার পরও তোমরা পরস্পরে যেই (কম-বেশি করা) সম্পর্কে সম্মত হবে, তাতে তোমাদের কোন গুনাহ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

২৩. জিহাদের সময় যেসব নারীকে বন্দী করে ইসলামী রাষ্ট্রে নিয়ে আসা হত এবং তাদের স্বামীগণ অমুসলিম রাষ্ট্রে থেকে যেত, তাদের বিবাহ আপনা-আপনি খতম হয়ে যেত। কাজেই ইসলামী রাষ্ট্রে আসার পর যখন এরূপ নারীর এক হায়যের মেয়াদ পূর্ণ হত এবং প্রাক্তন স্বামী দ্বারা সে গর্ভবতী না থাকত, তখন মুসলিম রাষ্ট্রের যে-কোনও মুসলিমের সাথে তার বিবাহ জায়েয হত। মনে রাখতে হবে, এ বিধান কেবল এমন দাসীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যে শরীয়তসম্মতভাবে দাসী সাব্যস্ত হয়েছে। বর্তমানে কোথাও এরূপ দাসীর অস্তিত্ব নেই।
২৫

وَمَنۡ لَّمۡ یَسۡتَطِعۡ مِنۡکُمۡ طَوۡلًا اَنۡ یَّنۡکِحَ الۡمُحۡصَنٰتِ الۡمُؤۡمِنٰتِ فَمِنۡ مَّا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ مِّنۡ فَتَیٰتِکُمُ الۡمُؤۡمِنٰتِ ؕ  وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِاِیۡمَانِکُمۡ ؕ  بَعۡضُکُمۡ مِّنۡۢ بَعۡضٍ ۚ  فَانۡکِحُوۡہُنَّ بِاِذۡنِ اَہۡلِہِنَّ وَاٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ مُحۡصَنٰتٍ غَیۡرَ مُسٰفِحٰتٍ وَّلَا مُتَّخِذٰتِ اَخۡدَانٍ ۚ  فَاِذَاۤ اُحۡصِنَّ فَاِنۡ اَتَیۡنَ بِفَاحِشَۃٍ فَعَلَیۡہِنَّ نِصۡفُ مَا عَلَی الۡمُحۡصَنٰتِ مِنَ الۡعَذَابِ ؕ  ذٰلِکَ لِمَنۡ خَشِیَ الۡعَنَتَ مِنۡکُمۡ ؕ  وَاَنۡ تَصۡبِرُوۡا خَیۡرٌ لَّکُمۡ ؕ  وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪ ٢٥

ওয়ামাল্লাম ইয়াছতাতি‘ই মিনকুম তাওলান আই ইয়ানকিহাল মুহসানা-তিল মু’মিনা-তি ফামিম্মা-মালকাত আইমা-নুকুম মিন ফাতাইয়া-তিকুমুল মু’মিনা-তি ওয়াল্লা-হু আ‘লামু বিঈমা-নিকুম বা‘দুকুম মিম বা‘দিন ফানকিহূহুন্না বিইযনি আহলিহিন্না ওয়া আতূ-হুন্না উজুরাহুন্না বিলমা‘রূফি মুহসানা-তিন গাইরা মুছা-ফিহা-তিওঁ ওয়ালা-মুত্তাখিযা-তি আখদা-নিন ফাইযা-উহসিন্না ফাইন আতাইনা বিফা-হিশাতিন ফা‘আলইহিন্না নিসফুমা‘আলাল মুহসানা-তি মিনাল ‘আযা-বি যা-লিকা লিমান খাশিইয়াল ‘আনাতা মিনকুম ওয়া আন তাসবিরূ খাইরুল্লাকুম ওয়াল্লা-হু গাফুরু রাহীম।

তোমাদের মধ্যে যারা স্বাধীন মুসলিম নারীদের বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে না, তারা তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম দাসীদেরকে বিবাহ করতে পারে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিফহাল। তোমরা সকলে পরস্পর সমতুল্য। ২৫ সুতরাং সেই দাসীদেরকে তাদের মালিকদের অনুমতিক্রমে বিবাহ করবে এবং তাদেরকে ন্যায়ানুগভাবে তাদের মাহর প্রদান করবে এই শর্তে যে, (বিবাহের মাধ্যমে) তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করা হবে, তারা কেবল কাম-চরিতার্থকারিণী হবে না এবং গুপ্ত প্রণয়ী গ্রহণকারিণীও নয়। তারা যখন বিবাহের হেফাজতে এসে গেল, তখন যদি কোনও গুরুতর অশ্লীলতায় (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তাদের শাস্তি হবে স্বাধীনা (অবিবাহিতা) নারীর জন্য ধার্যকৃত শাস্তির অর্ধেক। ২৬ এসব (অর্থাৎ দাসীদেরকে বিবাহ করার বিষয়টা) তোমাদের মধ্য হতে যারা (বিবাহ না করলে) গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ার আশংকা বোধ করে, তাদের জন্য। আর তোমরা যদি সংযমী হয়ে থাক, তবে সেটাই তোমাদের পক্ষে শ্রেয়। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

২৫. যেহেতু স্বাধীন নারীদের মাহর সাধারণত দাসীদের তুলনায় বেশি হত, তাই এক দিকে তো আদেশ দেওয়া হয়েছে, স্বাধীন নারীদের বিবাহ করার সামর্থ্য না থাকলে তবেই দাসীদের বিবাহ করবে, অন্যদিকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে যে, কখনও কোন দাসীকে বিবাহ করতে হলে কেবল দাসী হওয়ার কারণে তাকে হেয় জ্ঞান করা যাবে না। কেননা মর্যাদার আসল মাপকাঠি হল তাকওয়া-পরহেযগারী। কার ঈমানের অবস্থা কেমন সেটা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। বস্তুত আদম সন্তান হওয়ার বিচারে দুনিয়ার সকল মানুষই সমান।
২৬

یُرِیۡدُ اللّٰہُ لِیُبَیِّنَ لَکُمۡ وَیَہۡدِیَکُمۡ سُنَنَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ وَیَتُوۡبَ عَلَیۡکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ٢٦

ইউরীদুল্লাহু লিইউবাইয়িনালাকুম ওয়া ইয়াহদিয়াকুম ছুনানাল্লাযীনা মিন কাবলিকুম ওয়া ইয়াতূবা ‘আলাইকুম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।

আল্লাহ চান তোমাদের জন্য (বিধানসমূহ) স্পষ্ট করে দিতে, তোমাদের পূর্ববর্তী (নেককার) লোকদের রীতি-নীতির উপর তোমাদেরকে পরিচালিত করতে এবং তোমাদের তাওবা কবুল করতে। আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞাত, প্রজ্ঞাময়।
২৭

وَاللّٰہُ یُرِیۡدُ اَنۡ یَّتُوۡبَ عَلَیۡکُمۡ ۟ وَیُرِیۡدُ الَّذِیۡنَ یَتَّبِعُوۡنَ الشَّہَوٰتِ اَنۡ تَمِیۡلُوۡا مَیۡلًا عَظِیۡمًا ٢٧

ওয়াল্লা-হু ইউরীদুআইঁ ইয়াতূবা ‘আলাইকুম ওয়া ইউরীদুল্লাযীনা ইয়াত্তাবি‘ঊনাশ শাহাওয়া-তি আন তামীলূমাইলান ‘আজীমা।

আল্লাহ তো তোমাদের তাওবা কবুল করতে চান, আর যারা কুপ্রবৃত্তির অনুগমন করে, তারা চায় তোমরা যেন (সঠিক পথ থেকে) বহু দূরে সরে যাও।
২৮

یُرِیۡدُ اللّٰہُ اَنۡ یُّخَفِّفَ عَنۡکُمۡ ۚ وَخُلِقَ الۡاِنۡسَانُ ضَعِیۡفًا ٢٨

ইউরীদুল্লা-হু আইঁ ইউখাফফিফা ‘আনকুম ওয়া খুলিকাল ইনছা-নুদা‘ঈফা-।

আল্লাহ তোমাদের ভার লাঘব করতে চান। মানুষকে দুর্বলরূপে সৃষ্টি করা হয়েছে। ২৭

তাফসীরঃ

২৭. অর্থাৎ কামপ্রবৃত্তির মুকাবিলা করার ক্ষেত্রে মানুষ সহজাতভাবেই দুর্বল। তাই আল্লাহ তাআলা এ চাহিদা জায়েয পন্থায় পূরণ করতে বাধা দেননি; বরং তার জন্য বিবাহকে সহজ করে দিয়েছেন। (এবং তোমাদের প্রতি শরীআতের বিধানাবলীকে আসান করে দিয়েছেন)।
২৯

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡکُمۡ ۟ وَلَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا ٢٩

ইয়াআইয়ূহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তা’কুলূ আমওয়া-লুকুম বাইনাকুম বিলবা-তিলি ইল্লাআন তাকূনা তিজা-রাতান ‘আন তারা-দিম মিনকুম ওয়ালা-তাকতুলূআনফুছাকুম ইন্নাল্লা-হা কা-না বিকুম রাহীমা।

হে মুমিনগণ! তোমরা পরস্পরে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে পারস্পরিক সন্তুষ্টিক্রমে কোন ব্যবসায় করা হলে (তা জায়েয)। এবং তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না। ২৮ নিশ্চয়ই, আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

২৮. এর সহজ-সরল অর্থ এই যে, যেভাবে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা হারাম, নরহত্যা তদপেক্ষা কঠিন হারাম। অন্যকে হত্যা করাকে ‘নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা করা’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে এবং এর দ্বারা ইশারা করা হয়েছে যে, অন্য কাউকে হত্যা করলে পরিশেষে তার দ্বারা নিজেকেই হত্যা করা হয়। কেননা তার বদলে হত্যাকারী নিজেই নিহত হতে পারে। যদি দুনিয়াতে তাকে হত্যা করা নাও হয়, তবে আখিরাতে তার জন্য যে শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তা মৃত্যু অপেক্ষাও কঠিনতর। এভাবে এর দ্বারা আত্মহত্যার নিষিদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে গেল। অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার সাথে এ বাক্যের উল্লেখ দ্বারা এ বিষয়ের প্রতি ইশারা হয়ে থাকবে যে, সমাজে অন্যায়ভাবে সম্পত্তি গ্রাস করার বিষয়টি যখন ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন তার পরিণাম দাঁড়ায় সামাজিক আত্মহত্যা।
৩০

وَمَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ عُدۡوَانًا وَّظُلۡمًا فَسَوۡفَ نُصۡلِیۡہِ نَارًا ؕ وَکَانَ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرًا ٣۰

ওয়া মাইঁ ইয়াফ‘আল যা-লিকা ‘উদওয়া-নাওঁ ওয়া জুলমান ফাছাওফা নুসলীহি না-রাওঁ ওয়া কা-না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াছীরা-।

যে ব্যক্তি সীমালংঘন ও জুলুমের সাথে এরূপ করবে, আমি তাকে আগুনে ঢোকাব, আর আল্লাহর পক্ষে এটা অতি সহজ।
৩১

اِنۡ تَجۡتَنِبُوۡا کَبَآئِرَ مَا تُنۡہَوۡنَ عَنۡہُ نُکَفِّرۡ عَنۡکُمۡ سَیِّاٰتِکُمۡ وَنُدۡخِلۡکُمۡ مُّدۡخَلًا کَرِیۡمًا ٣١

ইন তাজতানিবূকাবাইরা মা-তুনহাওনা ‘আনহু নুকাফফির ‘আনকুমছাইয়িআ-তিকুম ওয়ানুদখিলকুম মুদখালান কারীমা-।

তোমাদেরকে যেই বড় বড় গুনাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে, তোমরা যদি তা পরিহার করে চল, তবে আমি নিজেই তোমাদের ছোট ছোট গুনাহ তোমাদের থেকে মিটিয়ে দেব ২৯ এবং তোমাদেরকে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দাখিল করব।

তাফসীরঃ

২৯. অর্থাৎ মানুষ কবীরা গুনাহ (বড় বড় গুনাহ) হতে বিরত থাকলে আল্লাহ তাআলা তার ছোট ছোট গুনাহ এমনিতেই ক্ষমা করে দেন। কুরআন ও হাদীস দ্বারা জানা যায়, অযূ, সালাত, সাওম, সদাকা প্রভৃতি সৎকর্ম দ্বারাও সগীরা গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
৩২

وَلَا تَتَمَنَّوۡا مَا فَضَّلَ اللّٰہُ بِہٖ بَعۡضَکُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ ؕ لِلرِّجَالِ نَصِیۡبٌ مِّمَّا اکۡتَسَبُوۡا ؕ وَلِلنِّسَآءِ نَصِیۡبٌ مِّمَّا اکۡتَسَبۡنَ ؕ وَسۡئَلُوا اللّٰہَ مِنۡ فَضۡلِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا ٣٢

ওয়ালা-তাতামান্নাওঁমা-ফাদ্দালাল্লা-হু বিহী বা‘দাকুম ‘আলা বা‘দিন লিররিজা-লি নাসীবুম মিম্মাকতাছাবূ ওয়ালিন নিছাই নাসীবুম মিম্মাক তাছাবনা ওয়াছ আলুল্লা-হা মিন ফাদলিহী ইন্নাল্লাহা কা-না বিকুল্লি শাইইন ‘আলীমা-।

যা দ্বারা আমি তোমাদের কতককে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি, তার আকাঙ্ক্ষা করো না। পুরুষ যা অর্জন করে তাতে তার অংশ থাকবে এবং নারী যা অর্জন করে তাতে তার অংশ থাকবে। ৩০ আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

৩০. কতিপয় নারী আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিল, তারা যদি পুরুষ হত, তবে তারাও জিহাদ ইত্যাদিতে শরীক হয়ে অধিকতর সওয়াব অর্জনে সক্ষম হত। এ আয়াত মূলনীতি জানিয়ে দিয়েছে যে, যেসব বিষয়ে মানুষের কোন এখতিয়ার নেই, তাতে আল্লাহ তাআলা কারও উপর কাউকে এক হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, আবার অপরকে অন্য হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, যেমন কেউ নর, কেউ নারী; কেউ শক্তিমান, কেউ দুর্বল; আবার কেউ অন্যের তুলনায় বেশি সুন্দর। এসব জিনিস যেহেতু মানুষের এখতিয়ারে নয়, তাই এর আকাঙ্ক্ষা করার দ্বারা অহেতুক দুঃখবোধ ছাড়া কোনও ফায়দা নেই (তাছাড়া এতে পরস্পরে হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়)। সুতরাং এসব জিনিসে তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকা চাই। হাঁ যেসব ভালো জিনিসে মানুষের এখতিয়ার আছে, তা অর্জনে সচেষ্ট থাকা অবশ্য কর্তব্য। তাতে আল্লাহ তাআলার রীতি হল, যে ব্যক্তি যেমন কাজ করবে, তার ক্ষেত্রে তেমনই ফল প্রকাশ পাবে। তাতে নর-নারীর মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।
৩৩

وَلِکُلٍّ جَعَلۡنَا مَوَالِیَ مِمَّا تَرَکَ الۡوَالِدٰنِ وَالۡاَقۡرَبُوۡنَ ؕ  وَالَّذِیۡنَ عَقَدَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ فَاٰتُوۡہُمۡ نَصِیۡبَہُمۡ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدًا ٪ ٣٣

ওয়ালিকুল্লিন জা‘আলনা-মাওয়া-লিয়া মিম্মা-তারাকাল ওয়া-লিদা-নি ওয়াল আকরাবূনা ওয়াল্লাযীনা ‘আকাদাত আইমা-নুকুম ফাআ-তুহুম নাসীবাহুম ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলাকুল্লি শাইইন শাহীদা-।

পিতা-মাতা ও নিকটতম আত্মীয়বর্গ যে সম্পদ রেখে যায়, তার প্রতিটিতে আমি কিছু ওয়ারিশ নির্ধারণ করেছি। আর যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছ, তাদেরকে তাদের অংশ প্রদান কর। ৩১ নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সাক্ষী।

তাফসীরঃ

৩১. যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে, মুসলিমদের মধ্যে তার যদি কোনও আত্মীয় না থাকে, তবে সে যে ব্যক্তির হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছে, কখনও কখনও তার সাথে পরস্পর ভাই-ভাই হওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এ অবস্থায় তারা একে অন্যের ওয়ারিশও হবে এবং তাদের কারও উপর কোনও ব্যাপারে অর্থদ- আরোপিত হলে তা আদায়ের ব্যাপারে অন্যজন সহযোগিতাও করবে। এই সম্পর্ককে ‘মুওয়ালাত’ বলে। এ আয়াতে এই চুক্তির কথাই বলা হয়েছে। এ আয়াতের ভিত্তিতে ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মত এটাই যে, নওমুসলিমের সাথে এরূপ সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে। তার যদি কোন মুসলিম আত্মীয় না থাকে, তবে চুক্তিবদ্ধ সেই ব্যক্তিই তার মীরাছ পাবে।
৩৪

اَلرِّجَالُ قَوّٰمُوۡنَ عَلَی النِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ اللّٰہُ بَعۡضَہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ وَّبِمَاۤ اَنۡفَقُوۡا مِنۡ اَمۡوَالِہِمۡ ؕ فَالصّٰلِحٰتُ قٰنِتٰتٌ حٰفِظٰتٌ لِّلۡغَیۡبِ بِمَا حَفِظَ اللّٰہُ ؕ وَالّٰتِیۡ تَخَافُوۡنَ نُشُوۡزَہُنَّ فَعِظُوۡہُنَّ وَاہۡجُرُوۡہُنَّ فِی الۡمَضَاجِعِ وَاضۡرِبُوۡہُنَّ ۚ فَاِنۡ اَطَعۡنَکُمۡ فَلَا تَبۡغُوۡا عَلَیۡہِنَّ سَبِیۡلًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیًّا کَبِیۡرًا ٣٤

আররিজা-লুকাওওয়া-মূনা ‘আলাননিছাই, বিমা-ফাদ্দালাল্লা-হু বা‘দাহুম ‘আলাবা‘দিওঁ ওয়াবিমা-আনফাকূমিন আমওয়া-লিহিম ফাসসা-লিহা-তুকা-নিতা-তুন হাফিজা তুল লিল গাইবি বিমা-হাফিজাল্লা-হু ওয়াল্লা-তী তাখা-ফূনা নুশূঝাহুন্না ফা‘ইজূহুন্না ওয়াহজুরূহুন্না ফিল মাদা-জি‘ই ওয়াদরিবূহুন্না ফাইন আতা‘নাকুম ফালাতাবগূ‘আলাইহিন্না ছাবীলা- ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলিইইয়ান কাবীরা।

পুরুষ নারীদের অভিভাবক, যেহেতু আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু পুরুষগণ নিজেদের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে। ৩২ সুতরাং সাধ্বী স্ত্রীগণ অনুগত হয়ে থাকে, (পুরুষের)অনুপস্থিতিতে আল্লাহ প্রদত্ত হিফাজতে (তার অধিকারসমূহ) সংরক্ষণ করে। ৩৩ আর যে সকল স্ত্রীর ব্যাপারে তোমরা অবাধ্যতার আশংকা কর, (প্রথমে) তাদেরকে বুঝাও এবং (তাতে কাজ না হলে) তাদেরকে শয়ন শয্যায় একা ছেড়ে দাও এবং (তাতেও সংশোধন না হলে) তাদেরকে প্রহার করতে পার। ৩৪ অতঃপর তারা যদি তোমাদের আনুগত্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনও (ব্যবস্থা গ্রহণের) পথ খুঁজো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকলের উপর, সকলের বড়।

তাফসীরঃ

৩২. পূর্বে আল্লাহ যা দ্বারা কাউকে কারও উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, তার আকাঙ্ক্ষায় পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষে লিপ্ত হতে নিষেধ করা হয়েছিল। এ স্থলে বিশেষভাবে নারীর উপর পুরুষকে শ্রেষ্ঠত্বদানের কথা উল্লেখ করে নারীদেরকে তা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হচ্ছে সাধারণভাবে জ্ঞান-বুদ্ধি, পরিচালনা-ব্যবস্থাপনার যোগ্যতা ইত্যাদিতে তার অগ্রগামিতা। বলা বাহুল্য, এসব কেবলই পার্থিব জিনিস, আর এর ভিত্তিতে যে শ্রেষ্ঠত্ব, তাও কেবল পার্থিব শ্রেষ্ঠত্ব। এই শ্রেষ্ঠত্বের পাশাপাশি পুরুষের উপর রয়েছে নারীর ভরণ-পোষণের দায়িত্বভার। এ দুই কারণে পুরুষকে নারীর অভিভাবক বানানো হয়েছে। শরীআতের অন্যান্য বিধানের সাথে এই অভিভাবকত্ব পুরুষের প্রতি শরী‘আতের এক বিশেষ বিধান। এমনিভাবে তার সে অভিভাবকত্ব মেনে নেওয়াটা নারীর প্রতি অন্যান্য বিধানের সাথে এক বিশেষ বিধান। সুতরাং উভয়েই আপন-আপন ক্ষেত্রে শর‘ঈ বিধানের অধীন। শরীআতের সমস্ত বিধান মেনে চলাকে এক কথায় তাকওয়া বলে। আখিরাতের শ্রেষ্ঠত্ব তাকওয়ার উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই বেশি মর্যাদাবান, যে বেশি মুত্তাকী (হুজুরাত)। সুতরাং নর-নারী প্রত্যেকের কর্তব্য, আল্লাহ তাকে যে অবস্থানে রেখেছেন তাতে খুশী থেকে তাকওয়ায় অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা করা। -অনুবাদক
৩৫

وَاِنۡ خِفۡتُمۡ شِقَاقَ بَیۡنِہِمَا فَابۡعَثُوۡا حَکَمًا مِّنۡ اَہۡلِہٖ وَحَکَمًا مِّنۡ اَہۡلِہَا ۚ اِنۡ یُّرِیۡدَاۤ اِصۡلَاحًا یُّوَفِّقِ اللّٰہُ بَیۡنَہُمَا ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا خَبِیۡرًا ٣٥

ওয়া ইন খিফতুম শিকা-কা বাইনাহুমা-ফাব‘আছূহাকামাম মিন আহলিহী ওয়া হাকামাম মিন আহলিহা- ইয়ঁইউরীদা-ইসলা-হাইঁ ইউওয়াফফিকিল্লা-হু বাইনাহুম ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলীমান খাবীরা।

তোমরা যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টির আশঙ্কা কর, তবে (তাদের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য) পুরুষের পরিবার হতে একজন সালিস ও নারীর পরিবার হতে একজন সালিস পাঠিয়ে দেবে। তারা দু’জন যদি মীমাংসা করতে চায়, তবে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞাত এবং সর্ববিষয়ে অবহিত।
৩৬

وَاعۡبُدُوا اللّٰہَ وَلَا تُشۡرِکُوۡا بِہٖ شَیۡئًا وَّبِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا وَّبِذِی الۡقُرۡبٰی وَالۡیَتٰمٰی وَالۡمَسٰکِیۡنِ وَالۡجَارِ ذِی الۡقُرۡبٰی وَالۡجَارِ الۡجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالۡجَنۡۢبِ وَابۡنِ السَّبِیۡلِ ۙ  وَمَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ مَنۡ کَانَ مُخۡتَالًا فَخُوۡرَا ۙ ٣٦

ওয়া‘বুদুল্লা-হা ওয়ালা-তুশরিকূবিহী শাইআওঁ ওয়াবিল ওয়া-লিদাইনি ইহছানাওঁ ওয়াবিযিল কুরবা-ওয়াল ইয়াতা-মা-ওয়াল মাছা-কীনি ওয়াল জা-রিযিল কুরবা-ওয়ালজা-রিল জুনুবি ওয়াসসা-হিবি বিলজামবি ওয়াবনিছ ছাবীলি ওয়ামা-মালাকাত আইমা-নুকুম ইন্নাল্লাহা-লা ইউহিব্বুমান কা-না মুখতা-লান ফাখূরা-।

এবং আল্লাহর ইবাদত কর ও তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করো না। পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার কর। আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, ৩৫ সঙ্গে বসা (বা দাঁড়ানো) ব্যক্তি, ৩৬ পথচারী এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও (সদ্ব্যবহার কর)। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন দর্পিত অহংকারীকে পছন্দ করেন না।

তাফসীরঃ

৩৫. কুরআন-সুন্নাহ প্রতিবেশীর হক আদায় ও তার প্রতি সদ্ব্যবহারের উপর অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেছে। এ আয়াতে প্রতিবেশীদের তিনটি স্তর বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম স্তরকে الجارذى القربى (নিকট প্রতিবেশী), দ্বিতীয় স্তরকে الجارالجنب (দূর প্রতিবেশী) বলা হয়েছে। প্রথম স্তর দ্বারা সেই প্রতিবেশীকে বোঝানো হয়েছে, যার গৃহ নিজ গৃহ-সংলগ্ন থাকে। দ্বিতীয় স্তরের প্রতিবেশী তারা, যাদের ঘর অতটা মিলিত নয়। কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, প্রথম স্তর হল সেই প্রতিবেশী, যে আত্মীয়ও বটে, আর দ্বিতীয় স্তর যারা কেবলই প্রতিবেশী। আবার কেউ বলেন, প্রথম স্তর হল মুসলিম প্রতিবেশী, আর দ্বিতীয় স্তর অমুসলিম প্রতিবেশী। কুরআন মাজীদের শব্দাবলীতে সবগুলোরই অবকাশ আছে। মোদ্দাকথা প্রতিবেশী আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয়, মুসলিম হোক বা অমুসলিম এবং তার গৃহ সংলগ্ন হোক বা না হোক, সর্বাবস্থায়ই তার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে হবে।
৩৭

ۣالَّذِیۡنَ یَبۡخَلُوۡنَ وَیَاۡمُرُوۡنَ النَّاسَ بِالۡبُخۡلِ وَیَکۡتُمُوۡنَ مَاۤ اٰتٰہُمُ اللّٰہُ مِنۡ فَضۡلِہٖ ؕ  وَاَعۡتَدۡنَا لِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابًا مُّہِیۡنًا ۚ ٣٧

আল্লাযীনা ইয়াবখালূনা ওয়া ইয়া’মুরূনান্না-ছা বিলবুখলি ওয়া ইয়াকতুমূনা মাআ-তা-হুমুল্লাহু মিন ফাদলিহী ওয়া আ‘তাদনা-লিলকা-ফিরীনা ‘আযাবাম মুহীনা-।

যারা নিজেরা কৃপণতা করে এবং মানুষকেও কৃপণতার নির্দেশ দেয়, আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহ হতে তাদের যা দান করেছেন তা গোপন করে। আমি (এরূপ) অকৃতজ্ঞদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
৩৮

وَالَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ اَمۡوَالَہُمۡ رِئَآءَ النَّاسِ وَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَلَا بِالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ وَمَنۡ یَّکُنِ الشَّیۡطٰنُ لَہٗ قَرِیۡنًا فَسَآءَ قَرِیۡنًا ٣٨

ওয়াল্লাযীনা ইউনফিকূনা আমওয়া-লাহুম রিআআন্না-ছি ওয়ালা ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ালা-বিলইয়াওমিল আ-খিরি ওয়ামাইঁ ইয়াকুনিশশাইতা-নুলাহু কারীনান ফাছাআ কারীনা-।

এবং যারা নিজেদের অর্থ-সম্পদ খরচ করে মানুষকে দেখানোর জন্য, না আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং না আখিরাত দিবসের প্রতি। বস্তুত শয়তান কারও সঙ্গী হয়ে গেলে সঙ্গীরূপে সে বড়ই নিকৃষ্ট।
৩৯

وَمَاذَا عَلَیۡہِمۡ لَوۡ اٰمَنُوۡا بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَاَنۡفَقُوۡا مِمَّا رَزَقَہُمُ اللّٰہُ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ بِہِمۡ عَلِیۡمًا ٣٩

ওয়া মা-যা-‘আললইহিম লাও আ-মানূবিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ওয়া আনফাকূ মিম্মা-রাঝাকাহুমুল্লা-হু ওয়াকা-নাল্লা-হু বিহিম ‘আলীমা।

তাদের কী ক্ষতি হত, যদি তারা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান আনত এবং আল্লাহ তাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন তা থেকে কিছু (সৎকাজে) ব্যয় করত? আল্লাহ তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত।
৪০

اِنَّ اللّٰہَ لَا یَظۡلِمُ مِثۡقَالَ ذَرَّۃٍ ۚ وَاِنۡ تَکُ حَسَنَۃً یُّضٰعِفۡہَا وَیُؤۡتِ مِنۡ لَّدُنۡہُ اَجۡرًا عَظِیۡمًا ٤۰

ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াজলিমুমিছকা-লা যাররাতিওঁ ওয়া ইন তাকুহাছানাতাইঁ ইউদাইফহা-ওয়াইউ’তি মিল্লাদুনহু আজরান ‘আজীমা।

আল্লাহ (কারও প্রতি) অণু-পরিমাণও জুলুম করেন না। আর যদি কোন সৎকর্ম হয়, তাকে কয়েক গুণ বৃদ্ধি করেন এবং নিজের পক্ষ হতে মহা পুরস্কার দান করেন।
৪১

فَکَیۡفَ اِذَا جِئۡنَا مِنۡ کُلِّ اُمَّۃٍۭ بِشَہِیۡدٍ وَّجِئۡنَا بِکَ عَلٰی ہٰۤؤُلَآءِ شَہِیۡدًا ؕ؃ ٤١

ফাকাইফা ইযা-জি’না-মিন কুল্লি উম্মাতিম বিশাহীদিওঁ ওয়াজি’না-বিকা ‘আলা-হাউল্লাই শাহীদা-।

সুতরাং (তারা ভেবে দেখুক) সেই দিন (তাদের অবস্থা) কেমন হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং (হে নবী), আমি তোমাকে ওইসব লোকের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব? ৩৭

তাফসীরঃ

৩৭. কিয়ামতের দিন নবী-রাসূলগণ নিজ-নিজ উম্মতের ভালো-মন্দ কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবেন। আর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর নিজ উম্মত সম্পর্কে সাক্ষীরূপে পেশ করা হবে।
৪২

یَوۡمَئِذٍ یَّوَدُّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَعَصَوُا الرَّسُوۡلَ لَوۡ تُسَوّٰی بِہِمُ الۡاَرۡضُ ؕ  وَلَا یَکۡتُمُوۡنَ اللّٰہَ حَدِیۡثًا ٪ ٤٢

ইয়াওমায়িযিইঁ ইয়াওয়াদ্দুল্লাযীনা কাফারূ ওয়া ‘আসাউররাছূলা লাও তুছাওওয়া-বিহিমুল আরদু ওয়ালা-ইয়াকতুমূনাল্লা-হা হাদীছা-।

যারা কুফুর অবলম্বন করেছে এবং রাসূলের অবাধ্যতা করেছে, সে দিন তারা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবে, যদি তাদেরকে মাটির (ভেতর ধসিয়ে তার) সাথে একাকার করে ফেলা হত! আর তারা আল্লাহ হতে কোনও কথাই গোপন করতে পারবে না।
৪৩

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَقۡرَبُوا الصَّلٰوۃَ وَاَنۡتُمۡ سُکٰرٰی حَتّٰی تَعۡلَمُوۡا مَا تَقُوۡلُوۡنَ وَلَا جُنُبًا اِلَّا عَابِرِیۡ سَبِیۡلٍ حَتّٰی تَغۡتَسِلُوۡا ؕ وَاِنۡ کُنۡتُمۡ مَّرۡضٰۤی اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ اَوۡ جَآءَ اَحَدٌ مِّنۡکُمۡ مِّنَ الۡغَآئِطِ اَوۡ لٰمَسۡتُمُ النِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُوۡا مَآءً فَتَیَمَّمُوۡا صَعِیۡدًا طَیِّبًا فَامۡسَحُوۡا بِوُجُوۡہِکُمۡ وَاَیۡدِیۡکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَفُوًّا غَفُوۡرًا ٤٣

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাকরাবুস সালা-তা ওয়া আনতুম ছুকা-রা-হাত্তাতা‘লামূমা-তাকূলূনা ওয়ালা-জুনুবান ইল্লা-‘আ-বিরী ছাবীলিন হাত্তা-তাগতাছিলূ ওয়া ইন কুনতুম মারদা-আও ‘আলা-ছাফারিন আও জাআ আহাদুম মিনকুম মিনাল গাইতি আও লা-মাছতুমুন নিছাআ ফালাম তাজিদূমাআন ফাতাইয়াম্মামূসা‘ঈদান তাইয়িবান ফামছাহূবিউজূহিকুম ওয়া আইদীকুম ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আফুওওয়ান গাফূরা-।

হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নেশাগ্রস্ত থাক, তখন সালাতের কাছেও যেয়ো না, যাবৎ না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার। ৩৮ এবং জুনুবী (সহবাসজনিত অপবিত্রতা) অবস্থায়ও, যতক্ষণ না গোসল করে নাও (সালাত জায়েয নয়)। তবে তোমরা মুসাফির হলে (এবং পানি না পেলে, তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করতে পার)। তোমরা যদি অসুস্থ হও বা সফরে থাক বা তোমাদের কেউ শৌচস্থান হতে আসে অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করে থাক, অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নেবে এবং নিজেদের চেহারা ও হাত (সে মাটি দ্বারা) মাসেহ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি পাপমোচনকারী, ক্ষমাশীল।

তাফসীরঃ

৩৮. এটা সেই সময়ের কথা, যখন মদ নিষিদ্ধ ছিল না, তবে এ আয়াতের মাধ্যমে ইশারা করে দেওয়া হয়েছিল যে, এটা কোনও ভালো জিনিস নয়, যেহেতু এটা পান করা অবস্থায় সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং কোনও সময়ে এটা সম্পূর্ণ হারামও করা হতে পারে।
৪৪

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ اُوۡتُوۡا نَصِیۡبًا مِّنَ الۡکِتٰبِ یَشۡتَرُوۡنَ الضَّلٰلَۃَ وَیُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ تَضِلُّوا السَّبِیۡلَ ؕ ٤٤

আলাম তারা ইলাল্লাযীনা ঊতূুনাসীবাম মিনাল কিতা-বি ইয়াশতারূনাদ্দালা-লাতা ওয়া ইউরীদূনা আন তাদিল্লুছ ছাবীল।

যাদেরকে কিতাবের একটা অংশ (অর্থাৎ তাওরাতের জ্ঞান) দেওয়া হয়েছিল, তুমি কি দেখনি, তারা কিভাবে পথভ্রষ্টতা ক্রয় করছে? এবং তারা চায়, তোমরাও যেন পথভ্রষ্ট হয়ে যাও।
৪৫

وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِاَعۡدَآئِکُمۡ ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ وَلِیًّا ٭۫ وَّکَفٰی بِاللّٰہِ نَصِیۡرًا ٤٥

ওয়াল্লা-হু আ‘লামুবিআ‘দাইকুম ওয়া কাফা-বিল্লা-হি ওয়ালিইয়াওঁ ওয়া কাফাবিল্লা-হি নাসীরা-।

আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে ভালো করেই জানেন। অভিভাবকরূপেও আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহই যথেষ্ট।
৪৬

مِنَ الَّذِیۡنَ ہَادُوۡا یُحَرِّفُوۡنَ الۡکَلِمَ عَنۡ مَّوَاضِعِہٖ وَیَقُوۡلُوۡنَ سَمِعۡنَا وَعَصَیۡنَا وَاسۡمَعۡ غَیۡرَ مُسۡمَعٍ وَّرَاعِنَا لَـیًّۢا بِاَلۡسِنَتِہِمۡ وَطَعۡنًا فِی الدِّیۡنِ ؕ وَلَوۡ اَنَّہُمۡ قَالُوۡا سَمِعۡنَا وَاَطَعۡنَا وَاسۡمَعۡ وَانۡظُرۡنَا لَکَانَ خَیۡرًا لَّہُمۡ وَاَقۡوَمَ ۙ وَلٰکِنۡ لَّعَنَہُمُ اللّٰہُ بِکُفۡرِہِمۡ فَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ اِلَّا قَلِیۡلًا ٤٦

মিনাল্লাযীনা হা-দূইউহাররিফূনাল কালিমা ‘আম্মাওয়া-দি‘ইহী ওয়া ইয়াকূলূনা ছামি‘নাওয়া আসাইনা-ওয়াছমা‘ গাইরা মুছমা‘ইওঁ ওয়ারা‘ইনা-লাইইয়াম বিআলছিনাতিহিম ওয়া তা‘নান ফিদ্দীনি ওয়া লাও আন্নাহুম কা-লূছামি‘না ওয়া আতা‘না-ওয়াছমা‘ ওয়ানজু রনালাকা-না খাইরাল্লাহুম ওয়া আকওয়ামা ওয়ালা-কিল লা‘আনাহুমুল্লা-হু বিকুফরিহিম ফালা- ইউ’মিনূনা ইল্লা-কালীলা-।

ইয়াহুদীদের মধ্যে (কিছু লোক এমন আছে), যারা (তাওরাতের) শব্দাবলীকে তার প্রকৃত স্থান থেকে সরিয়ে দেয় এবং নিজেদের জিহ্বা বাঁকিয়ে ও দীনকে নিন্দা করে বলে, ‘সামি‘না ওয়া আসায়না’ এবং ‘ইসমা’ গায়রা মুসমা‘ইন’ এবং ‘রা‘ইনা’, অথচ তারা যদি বলত ‘সামি‘না ওয়া আতা‘না’ এবং ‘ইসমা’ ওয়ানজুরনা’ তবে সেটাই তাদের পক্ষে উত্তম ও সঠিক পন্থা হত। ৩৯ বস্তুত তাদের কুফরের কারণে আল্লাহ তাদের প্রতি লানত করেছেন। সুতরাং অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া তারা ঈমান আনবে না।

তাফসীরঃ

৩৯. এ আয়াতে ইয়াহুদীদের দু’টি দুষ্কর্মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি দুষ্কর্ম তো এই যে, তারা তাওরাতের শব্দাবলীকে তার প্রকৃত স্থান থেকে সরিয়ে তার মধ্যে শাব্দিক বা অর্থগত বিকৃতি সাধন করত। অর্থাৎ কখনও তার শব্দকেই অন্য কোন শব্দ দ্বারা বদলে দিত এবং কখনও শব্দের উপর ভুল অর্থ আরোপ করে মনগড়া ব্যাখ্যা দান করত। তাদের দ্বিতীয় দুষ্কর্ম ছিল এই যে, তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসত তখন এমন অস্পষ্ট ও কপটতাপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করত, যার বাহ্যিক অর্থ দুষণীয় হত না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে তারা এমন মন্দ অর্থ বোঝাতো, যা সেই ভাষার ভেতর প্রচ্ছন্ন থাকত। কুরআনমাজীদ এ আয়াতে তার তিনটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছে। (ক) তারা বলত سمعناو عصينا (সামি‘না ওয়া ‘আসাইনা)-এর অর্থ ‘আমরা আপনার কথা শুনলাম এবং অবাধ্যতা করলাম’। তারা এর ব্যাখ্যা করত যে, আমরা আপনার কথা শুনলাম এবং আপনার বিরোধীদের অবাধ্যতা করলাম। প্রকৃতপক্ষে তারা বোঝাতে চাইত, আমরা আপনার কথা শুনলাম ঠিক, কিন্তু তা মানলামই না। (খ) এমনিভাবে তারা বলত, اسمع غيرمسمع (ইসমা‘ গায়রা মুসমা‘ইন)-এর শাব্দিক অর্থ হল ‘আপনি আমাদের কথা শুনুন, আল্লাহ করুন, আপনাকে যেন কোন কথা শোনানো না হয়। বাহ্যত তারা যেন এর দ্বারা দু‘আ করছে যে, আপনাকে যেন কোন অপ্রীতিকর কথা শুনতে না হয়। কিন্তু আসলে তারা বোঝাতে চাচ্ছিল, আল্লাহ করুন আপনাকে যেন প্রীতিকর কোন কথা শোনানো না হয়। (গ) তাদের তৃতীয় ব্যবহৃত শব্দ ছিল راعنا (রা‘ইনা), আরবীতে এর অর্থ ‘আমাদের প্রতি লক্ষ রাখুন’। কিন্তু হিব্রু ভাষায় এটা ছিল একটি গালি এবং তারা সেটাই বোঝাতে চাইত।
৪৭

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ اٰمِنُوۡا بِمَا نَزَّلۡنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَکُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ نَّطۡمِسَ وُجُوۡہًا فَنَرُدَّہَا عَلٰۤی اَدۡبَارِہَاۤ اَوۡ نَلۡعَنَہُمۡ کَمَا لَعَنَّاۤ اَصۡحٰبَ السَّبۡتِ ؕ وَکَانَ اَمۡرُ اللّٰہِ مَفۡعُوۡلًا ٤٧

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা আ-মিনূবিমা-নাঝঝালনা-মুসাদ্দিকাল লিমামা‘আকুম মিন কাবলি আন নাতমিছা উজূহান ফানারুদ্দাহা-‘আলাআদবা-রিহা-আও নাল‘আনাহুম কামা-লা‘আন্নাআসহা-বাছছাবতি ওয়া কা-না আমরুল্লা-হি মাফ‘ঊলা-।

হে কিতাবীগণ! তোমাদের কাছে যে কিতাব (পূর্ব থেকে) আছে তার সমর্থকরূপে (এবার) আমি যা (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, তোমরা তাতে ঈমান আন, এর আগে যে, আমি কতক চেহারাকে মিটিয়ে দিয়ে সেগুলোকে পশ্চাদ্দেশ-স্বরূপ বানিয়ে দেব অথবা শনিবারওয়ালাদের উপর যেমন লানত করেছিলাম, তাদের উপর তেমন লানত করব। ৪০ আল্লাহর আদেশ সর্বদা কার্যকরী হয়েই থাকে।

তাফসীরঃ

৪০. ‘সাবত’ অর্থ শনিবার। তাওরাতে ইয়াহুদীদেরকে ঐ দিন কামাই-রোজগার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু একটি জনপদের লোক সে হুকুম অমান্য করেছিল। ফলে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হয় এবং তাদের আকৃতি বিকৃত করে ফেলা হয়। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন সূরা আরাফ ( ৭ : ১৬৩)।
৪৮

اِنَّ اللّٰہَ لَا یَغۡفِرُ اَنۡ یُّشۡرَکَ بِہٖ وَیَغۡفِرُ مَا دُوۡنَ ذٰلِکَ لِمَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَمَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰہِ فَقَدِ افۡتَرٰۤی اِثۡمًا عَظِیۡمًا ٤٨

ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াগফিরু আইঁ ইউশরাকা বিহী ওয়া ইয়াগফিরু মা-দূ না যা-লিকা লিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া মাই ইউশরিক বিল্লা-হি ফাকাদিফ তারা-ইছমান ‘আজীমা-।

নিশ্চয়ই আল্লাহ এ বিষয়কে ক্ষমা করেন না যে, তার সঙ্গে কাউকে শরীক করা হবে। এর চেয়ে নিচের যে-কোন বিষয়ে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। ৪১ যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করে, সে এক গুরুতর পাপে লিপ্ত হল।

তাফসীরঃ

৪১. অর্থাৎ শিরক অপেক্ষা ছোট গুনাহ কবীরা পর্যায়ের হলেও তা আল্লাহর এখতিয়ারাধীন। তিনি চাইলে তা তাওবা ছাড়াও কেবল নিজ অনুগ্রহে ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু শিরকের অপরাধ কেবল তখনই ক্ষমা হতে পারে, যখন মুশরিক ব্যক্তি মৃত্যুর আগে খাঁটি মনে শিরক হতে তাওবা করবে এবং তাওহীদে বিশ্বাস স্থাপন করবে।
৪৯

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ یُزَکُّوۡنَ اَنۡفُسَہُمۡ ؕ بَلِ اللّٰہُ یُزَکِّیۡ مَنۡ یَّشَآءُ وَلَا یُظۡلَمُوۡنَ فَتِیۡلًا ٤٩

আলাম তারা ইলাল্লাযীনা ইউঝাক্কূনা আনফুছাহুম বালিল্লা-হু ইউঝাক্কী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়ালা-ইউজলামূনা ফাতীলা-।

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা নিজেরা নিজেদের শুদ্ধ বলে প্রকাশ করে, অথচ আল্লাহই যাকে চান শুদ্ধতা দান করেন এবং (এ দানে) তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হয় না। ৪২

তাফসীরঃ

৪২. অর্থাৎ পবিত্রতা ও শুদ্ধতা আল্লাহ তাআলা কেবল তাকেই দান করেন, যে নিজের ইচ্ছাধীন কাজ-কর্ম দ্বারা তা অর্জন করতে চায়। পবিত্রতা ও বিশুদ্ধতা থেকে বঞ্চিত হয় কেবল এমন সব লোক, যারা নিজেদের এখতিয়ারাধীন কার্যাবলী দ্বারা নিজেদেরকে অযোগ্য করে তোলে। সুতরাং এ অবস্থায় আল্লাহ তাআলা যদি তাকে পবিত্রতা দান না করেন, তবে তিনি তাতে তাদের প্রতি কোন জুলুম করেন না। কেননা তারা নিজেরাই তো স্বেচ্ছায় নিজেদেরকে শুদ্ধতার অনুপযুক্ত করে ফেলেছে। এ আয়াতের ইঙ্গিত ইয়াহুদীদের প্রতি। তারা দাবি করত, আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়পাত্র, আমরা তাঁর অনুগত ও মুত্তাকী এবং আমাদের কোন গুনাহ নেই।
৫০

اُنۡظُرۡ کَیۡفَ یَفۡتَرُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ ؕ  وَکَفٰی بِہٖۤ اِثۡمًا مُّبِیۡنًا ٪ ٥۰

উনজু র কাইফা ইয়াফতারূনা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা ওয়া কাফা-বিহী ইছমাম মুবীনা-।

দেখ, তারা আল্লাহর প্রতি কি রকমের মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে। প্রকাশ্য গুনাহের জন্য এটাই যথেষ্ট।
৫১

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ اُوۡتُوۡا نَصِیۡبًا مِّنَ الۡکِتٰبِ یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡجِبۡتِ وَالطَّاغُوۡتِ وَیَقُوۡلُوۡنَ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ہٰۤؤُلَآءِ اَہۡدٰی مِنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا سَبِیۡلًا ٥١

আলাম তারা ইলাল্লাযীনা ঊতুনাসীবাম মিনাল কিতা-বি ইউ’মিনূনা বিলজিবতি ওয়াত্তা-গূতি ওয়া ইয়াকূ লূনা লিল্লাযীনা কাফারূ হাউলাইআহদা-মিনাল্লাযীনা আ-মানূছাবীলা-।

যাদেরকে কিতাবের একটা অংশ (অর্থাৎ তাওরাতের কিছু জ্ঞান) দেওয়া হয়েছিল, তুমি কি দেখনি তারা (কিভাবে) প্রতিমা ও শয়তানের সমর্থন করছে এবং তারা কাফিরদের (অর্থাৎ মূর্তিপূজকদের) সম্বন্ধে বলে, মুমিনদের অপেক্ষা তারাই বেশি সরল পথে আছে? ৪৩

তাফসীরঃ

৪৩. মদীনা মুনাওয়ারায় বসবাসকারী কিছু ইয়াহুদীদের কথা বলা হচ্ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সকলের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন যে, তারা ও মুসলিমগণ পরস্পর শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বাস করবে। একে অন্যের বিরুদ্ধে কোন বহিঃশত্রুর সহযোগিতা করবে না। কিন্তু তারা উপর্যুপরি এ চুক্তি লংঘন করে এবং পর্দার আড়ালে মুসলিমদের ঘোর শত্রু, মক্কার কাফিরদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে থাকে। তাদের একজন বড় নেতা ছিল কাব ইবনে আশরাফ। উহুদ যুদ্ধের পর সে অপর এক ইয়াহুদী নেতা হুয়াই ইবনে আখতাবকে নিয়ে মক্কা মুকাররমায় গেল এবং কাফিরদের সাথে সাক্ষাত করে তাদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাহায্যের আশ্বাস দিল। কাফিরদের তদানীন্তন নেতা আবু সুফিয়ান বলল, তোমরা যদি তোমাদের এ কথায় সত্যবাদী হও, তবে আমাদের দু’টি প্রতিমার সামনে সিজদা কর। কাব ইবনে আশরাফ আবু সুফিয়ানের দাবী মত তাই করল। তারপর আবু সুফিয়ান কাবকে জিজ্ঞেস করল, আমাদের ধর্ম ভালো না মুসলিমদের? এর জবাবে সে নির্লজ্জভাবে বলে দিল, মুসলিমদের চেয়ে তোমাদের ধর্ম অনেক ভালো। অথচ সে জানত, মক্কার এ লোকগুলো প্রতিমাপূজারী। তারা কোনও আসমানী কিতাবে বিশ্বাস করে না। সুতরাং তাদের ধর্মকে শ্রেষ্ঠ বলার অর্থ মূর্তিপূজাকেই সমর্থন করা, যা ইয়াহুদী ধর্মবিশ্বাসেরও পরিপন্থী। আয়াতে এ ঘটনার প্রতিই ইশারা করা হয়েছে।
৫২

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ لَعَنَہُمُ اللّٰہُ ؕ  وَمَنۡ یَّلۡعَنِ اللّٰہُ فَلَنۡ تَجِدَ لَہٗ نَصِیۡرًا ؕ ٥٢

উলাইকাল্লাযীনা লা‘আনাহুমুল্লা-হু ওয়ামাইঁ ইয়াল‘আনিল্লা-হু ফালান তাজিদালাহু নাসীরা।

এরাই তারা, যাদের প্রতি আল্লাহ লানত করেছেন। আল্লাহ যার প্রতি লানত করেন, তুমি তার কোন সাহায্যকারী পাবে না।
৫৩

اَمۡ لَہُمۡ نَصِیۡبٌ مِّنَ الۡمُلۡکِ فَاِذًا لَّا یُؤۡتُوۡنَ النَّاسَ نَقِیۡرًا ۙ ٥٣

আম লাহুম নাসীবুম মিনাল মুলকি ফাইযাল্লা-ইউ’তূনান্না-ছা নাকীরা-।

তবে কি (বিশ্ব-জগতের) সার্বভৌমত্বে তাদের কোন অংশ আছে? যদি তাই হত, তবে তারা মানুষকে খেজুর-বীচির আবরণ পরিমাণও কিছু দিত না। ৪৪

তাফসীরঃ

৪৪. মুসলিমদের প্রতি ইয়াহুদীদের ঈর্ষা ও বিদ্বেষের কারণ কী? কুরআন মাজীদ এ সম্পর্কে বলছে যে, তাদের আশা ছিল পূর্বেকার বহু নবী-রাসূল যেমন বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকে হয়েছেন, তেমনি সর্বশেষ নবীও তাদের খান্দানেই জন্ম নেবেন। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশে জন্ম নিলেন, তখন তারা ঈর্ষাতুর হয়ে পড়ল। অথচ নবুওয়াত, খিলাফত ও হুকুমত আল্লাহ তাআলার এক অনুগ্রহ। তিনি যখন যাকে সমীচীন মনে করেন এ অনুগ্রহে ভূষিত করেন। কোনও লোক এতে আপত্তি করলে সে যেন দাবী করছে, বিশ্ব-জগতের রাজত্ব তার হাতে। নিজ পছন্দমত নবী মনোনীত করার এখতিয়ার তারই। আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে ইরশাদ করেছেন, রাজত্ব যদি কখনও তাদের হাতে যেত, তবে তারা এতটা কার্পণ্য করত যে, কাউকে কণা পরিমাণও কিছু দিত না।
৫৪

اَمۡ یَحۡسُدُوۡنَ النَّاسَ عَلٰی مَاۤ اٰتٰہُمُ اللّٰہُ مِنۡ فَضۡلِہٖ ۚ فَقَدۡ اٰتَیۡنَاۤ اٰلَ اِبۡرٰہِیۡمَ الۡکِتٰبَ وَالۡحِکۡمَۃَ وَاٰتَیۡنٰہُمۡ مُّلۡکًا عَظِیۡمًا ٥٤

আম ইয়াহছু দূ নান না-ছা ‘আলা-মাআ-তা-হুমুল্লাহু মিন ফাদলিহী ফাকাদ আ-তাইনাআ-লা ইবরা-হীমাল কিতা-বা ওয়াল হিকমাতা ওয়া আ-তাইনা-হুম মুলকান ‘আজীমা।

নাকি তারা এই কারণে মানুষের প্রতি ঈর্ষা করে যে, তিনি তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ দান করেন (কেন?)। আমি তো ইবরাহীমের বংশধরদিগকে কিতাব ও হিকমত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে বিরাট রাজত্ব দিয়েছিলাম। ৪৫

তাফসীরঃ

৪৫. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা নিজ হিকমত অনুসারে যাকে সমীচীন মনে করেন নবুওয়াত, খিলাফত ও হুকুমতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন। সুতরাং তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে নবুওয়াত ও হিকমত দান করেন এবং তার বংশধরদের মধ্যে এ ধারা জারি রাখেন। ফলে তাদের মধ্যে কেউ নবী হওয়ার সাথে রাষ্ট্রনায়কও হন (যেমন হযরত দাঊদ ও সুলায়মান আলাইহিমাস সালাম)। নবুওয়াত ও হিকমতের এ ধারা এ যাবৎ তাঁর এক পুত্র (হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম)-এর বংশেই চালু ছিল। এখন যদি তাঁর অপর পুত্র (হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম)-এর বংশে হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেই মর্যাদায় ভূষিত করা হয়, তাতে আপত্তি ও ঈর্ষার কী কারণ থাকতে পারে?
৫৫

فَمِنۡہُمۡ مَّنۡ اٰمَنَ بِہٖ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ صَدَّ عَنۡہُ ؕ وَکَفٰی بِجَہَنَّمَ سَعِیۡرًا ٥٥

ফামিনহুম মান আমানা বিহী ওয়া মিনহুম মান সাদ্দা ‘আনহু ওয়া কাফা-বিজাহান্নামা ছা‘ঈরা-।

সুতরাং তাদের মধ্যে কতক তো তার প্রতি ঈমান আনে এবং কতক তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (ওই কাফিরদের সাজা দেওয়ার জন্য) জ্বলন্ত আগুনরূপে জাহান্নামই যথেষ্ট।
৫৬

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِنَا سَوۡفَ نُصۡلِیۡہِمۡ نَارًا ؕ کُلَّمَا نَضِجَتۡ جُلُوۡدُہُمۡ بَدَّلۡنٰہُمۡ جُلُوۡدًا غَیۡرَہَا لِیَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا ٥٦

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ বিআ-য়া-তিনা-ছাওফা নুসলীহিম না-রান কুল্লামা- নাদিজাত জুলু দুহুম বাদ্দালনা-হুম জুলূদান গায়রাহা-লিয়াযূকুল ‘আয-াব ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আঝীঝান হাকীমা- ।

নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে ঢোকাব। যখনই তাদের চামড়া জ্বলে সিদ্ধ হয়ে যাবে, তখন আমি তাদেরকে তার পরিবর্তে অন্য চামড়া দিয়ে দেব, যাতে তারা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাক্ষমতাবান প্রজ্ঞাময়।
৫৭

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَنُدۡخِلُہُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ لَہُمۡ فِیۡہَاۤ اَزۡوَاجٌ مُّطَہَّرَۃٌ ۫ وَّنُدۡخِلُہُمۡ ظِلًّا ظَلِیۡلًا ٥٧

ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ছানুদখিলূহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহাআবাদা- লাহুম ফীহাআঝওয়া-জুম মুতাহহারাতুওঁ ওয়া নুদখিলুহুম জিল্লান জালীলা-।

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আমি তাদেরকে এমন সব উদ্যানে দাখিল করব, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। তাতে তাদের জন্য পুতঃপবিত্র স্ত্রী থাকবে। আর আমি তাদেরকে দাখিল করব নিবিড় ছায়ায়। ৪৬

তাফসীরঃ

৪৬. ইশারা করা হচ্ছে যে, জান্নাতে আলো থাকবে, কিন্তু রোদের তাপ থাকবে না।
৫৮

اِنَّ اللّٰہَ یَاۡمُرُکُمۡ اَنۡ تُؤَدُّوا الۡاَمٰنٰتِ اِلٰۤی اَہۡلِہَا ۙ وَاِذَا حَکَمۡتُمۡ بَیۡنَ النَّاسِ اَنۡ تَحۡکُمُوۡا بِالۡعَدۡلِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ نِعِمَّا یَعِظُکُمۡ بِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ سَمِیۡعًۢا بَصِیۡرًا ٥٨

ইন্নাল্লা-হা ইয়া’মুরুকুম আন তুআদ্দুল আমা-না-তি ইলা আহলিহা- ওয়া ইযাহাকামতুম বাইনান্না-ছি আন তাহকুমূবিল‘আদলি ইন্নাল্লা-হা নি‘ইম্মা-ইয়া‘ইজু কুম বিহী ইন্নাল্লা-হা কা-না ছামী‘আম বাসীরা-।

(হে মুসলিমগণ!) নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারকে আদায় করে দেবে এবং যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ইনসাফের সাথে বিচার করবে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে বিষয়ে উপদেশ দেন, তা কতই না উৎকৃষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।
৫৯

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ وَاُولِی الۡاَمۡرِ مِنۡکُمۡ ۚ  فَاِنۡ تَنَازَعۡتُمۡ فِیۡ شَیۡءٍ فَرُدُّوۡہُ اِلَی اللّٰہِ وَالرَّسُوۡلِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ  ذٰلِکَ خَیۡرٌ وَّاَحۡسَنُ تَاۡوِیۡلًا ٪ ٥٩

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উররাছূলা-ওয়া উলিল আমরি মিনকুম ফাইন তানা-ঝা‘তুম ফী শাইইন ফারুদ্দূহু ইলাল্লা-হি ওয়ার রাছূলি ইন কুনতুম তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি যা-লিকা খাইরুওঁ ওয়া আহছানু তা’বিলা-।

হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখতিয়ারধারী তাদেরও। ৪৭ অতঃপর তোমাদের মধ্যে যদি কোনও বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়, তবে তোমরা আল্লাহ ও পরকালে সত্যিকারের বিশ্বাসী হয়ে থাকলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রাসূলের উপর ন্যস্ত কর। এটাই উৎকৃষ্টতর এবং এর পরিণামও সর্বাপেক্ষা শুভ।

তাফসীরঃ

৪৭. ‘এখতিয়ারধারী’ দ্বারা অধিকাংশ তাফসীরবিদের মতে মুসলিম শাসককে বোঝানো হয়েছে। যাবতীয় বৈধ বিষয়ে তাদের হুকুম মানাও মুসলিমদের জন্য ফরয। শাসকের আনুগত্য করা এই শর্তে ফরয যে, সে এমন কোনও কাজের আদেশ করবে না, যা শরীয়তে অবৈধ। কুরআন মাজীদ এ বিষয়টিকে দু’ভাবে পরিষ্কার করেছে। এক তো এভাবে যে, এখতিয়ারধারীদের আনুগত্য করার হুকুমকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার হুকুম দানের পরে উল্লেখ করা হয়েছে। এর দ্বারা ইশারা করা হয়েছে যে, শাসকদের আনুগত্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের অধীন। দ্বিতীয়ত পরবর্তী বাক্যে আরও সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শাসকদের দেওয়া আদেশ সঠিক ও পালনযোগ্য কি না সে বিষয়ে যদি মতভেদ দেখা দেয়, তবে সে বিষয়টিকে আল্লাহ ও রাসূলের উপর ন্যস্ত কর। অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর কষ্টি পাথরে তা যাচাই করে দেখ। যদি তা কুরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী হয়, তবে তার আনুগত্য করা যাবে না। শাসকদের জন্য অপরিহার্য হয়ে যাবে সে আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া। আর যদি তা কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট ও স্বীকৃত বিধানের পরিপন্থী না হয়, তবে তা মান্য করা মুসলিম সাধারণের জন্য ফরয।
৬০

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ یَزۡعُمُوۡنَ اَنَّہُمۡ اٰمَنُوۡا بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ وَمَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلِکَ یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یَّتَحَاکَمُوۡۤا اِلَی الطَّاغُوۡتِ وَقَدۡ اُمِرُوۡۤا اَنۡ یَّکۡفُرُوۡا بِہٖ ؕ وَیُرِیۡدُ الشَّیۡطٰنُ اَنۡ یُّضِلَّہُمۡ ضَلٰلًۢا بَعِیۡدًا ٦۰

আলাম তারা ইলাল্লাযীনা ইয়াঝ‘উমূনা আন্নাহুম আ-মানূবিমাউনঝিলা ইলাইকা ওয়ামাউনঝিলা মিন কাবলিকা ইউরীদূ না আইঁ ইয়াতাহা-কামূইলাত্তা-গূতি ওয়া কাদ উমিরূআইঁ ইয়াকফুরূ বিহী ওয়া ইউরীদুশশাইতা-নুআইঁ ইউদিল্লাহুম দালালাম বা‘ঈদা-।

(হে নবী!) তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা দাবী করে, তোমার প্রতি যে কালাম নাযিল করা হয়েছে তারা তাতেও ঈমান এনেছে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছিল তাতেও, (কিন্তু) তাদের অবস্থা এই যে, তারা তাগূতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়? অথচ তাদেরকে আদেশ করা হয়েছিল, যেন (সুস্পষ্টভাবে) তাকে অস্বীকার করে। ৪৮ বস্তুত শয়তান তাদেরকে চরমভাবে গোমরাহ করতে চায়।

তাফসীরঃ

৪৮. এ স্থলে সেই সকল মুনাফিকের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে, যারা মনে-প্রাণে ইয়াহুদী ছিল, কিন্তু মুসলিমদেরকে দেখানোর জন্য নিজেদেরকে মুসলিমরূপে জাহির করত। তাদের অবস্থা ছিল এ রকম যে বিষয়ে তাদের মনে হত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের অনুকূলে রায় দেবেন, সে বিষয়ের মোকদ্দমা তাঁর কাছেই পেশ করত, কিন্তু যে বিষয়ে তাঁর রায় তাদের প্রতিকূলে যাবে বলে মনে করত, সে বিষয়ের মোকদ্দমা তাঁর পরিবর্তে কোন ইয়াহুদী নেতার কাছে নিয়ে যেত, যাকে আয়াতে ‘তাগূত’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। মুনাফিকদের তরফ থেকে এরূপ বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছিল, যা বিভিন্ন রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে। ‘তাগূত’-এর শাব্দিক অর্থ ‘ঘোর অবাধ্য’। কিন্তু এ শব্দটি শয়তানের জন্যও ব্যবহৃত হয় এবং বাতিল ও মিথ্যার জন্যও। এস্থলে শব্দটি দ্বারা এমন বিচারক ও শাসককে বোঝানো হয়েছে, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানাবলীর বিপরীতে নিজ খেয়াল-খুশী মত ফায়সালা দেয়। আয়াতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কোনও ব্যক্তি যদি মুখে নিজেকে মুসলিম বলে দাবী করে, কিন্তু আল্লাহ ও রাসূলের বিধানাবলীর উপর অন্য কোনও বিধানকে প্রাধান্য দেয়, তবে সে মুসলিম থাকতে পারে না।
৬১

وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ تَعَالَوۡا اِلٰی مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ وَاِلَی الرَّسُوۡلِ رَاَیۡتَ الۡمُنٰفِقِیۡنَ یَصُدُّوۡنَ عَنۡکَ صُدُوۡدًا ۚ ٦١

ওয়া ইযা-কীলা লাহুম তা‘আ-লাও ইলা-মাআনঝালাল্লা-হুওয়াইলাররাছূলি রাআইতাল মুনা-ফিকীনা ইয়াসুদ্দূনা ‘আনকা সুদূদা-।

যখন তাদেরকে বলা হয়, এসো সেই ফায়সালার দিকে, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং এসো রাসূলের দিকে, তখন মুনাফিকদেরকে দেখবে তোমার থেকে সম্পূর্ণরূপে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
৬২

فَکَیۡفَ اِذَاۤ اَصَابَتۡہُمۡ مُّصِیۡبَۃٌۢ بِمَا قَدَّمَتۡ اَیۡدِیۡہِمۡ ثُمَّ جَآءُوۡکَ یَحۡلِفُوۡنَ ٭ۖ بِاللّٰہِ اِنۡ اَرَدۡنَاۤ اِلَّاۤ اِحۡسَانًا وَّتَوۡفِیۡقًا ٦٢

ফাকাইফা ইযা-আসা-বাতহুম মুসীবাতুম বিমা-কাদ্দামাত আইদীহিম ছুম্মা জাঊকা ইয়াহলিফূনা বিল্লা-হি ইন আরাদনাইল্লা ইহছা-নাওঁ ওয়া তাওফীকা-।

যখন তাদের উপর তাদের নিজেদের কৃতকর্মের কারণে কোনও মসিবত এসে পড়ে (তখন) তাদের কী অবস্থা দাঁড়ায়? তখন তারা আপনার কাছে এসে আল্লাহর নামে কসম করতে থাকে যে, আমাদের উদ্দেশ্য কল্যাণ সাধন ও মীমাংসা করিয়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। ৪৯

তাফসীরঃ

৪৯. অর্থাৎ তারা যে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবর্তে বা তার বিরুদ্ধে অন্য কাউকে নিজের বিচারক বানাচ্ছে, এটা যখন মানুষের কাছে প্রকাশ পেয়ে যায় এবং এ কারণে তাদেরকে নিন্দা বা কোনও শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়, তখন মিথ্যা শপথ করে বলতে থাকে, আমরা ওই ব্যক্তির কাছে আদালতী রায়ের জন্য নয়, বরং আপোসরফার কোন পথ বের করার জন্য গিয়েছিলাম, যাতে ঝগড়া-বিবাদের পরিবর্তে পরস্পর মিলমিশের কোন উপায় তৈরি হয়ে যায়।
৬৩

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ یَعۡلَمُ اللّٰہُ مَا فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ ٭ فَاَعۡرِضۡ عَنۡہُمۡ وَعِظۡہُمۡ وَقُلۡ لَّہُمۡ فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ قَوۡلًۢا بَلِیۡغًا ٦٣

উলাইকাল্লাযীনা ইয়া‘লামূল্লা-হু মা-ফী কুলূবিহিম ফাআ‘রিদ‘আনহুম ওয়া ‘ইজহুম ওয়াকুল্লাহুম ফী-আনফুছিহিম কাওল্লাম বালীগা-।

তারা এমন যে, আল্লাহ তাদের মনের যাবতীয় বিষয় জানেন। সুতরাং তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর, তাদেরকে উপদেশ দাও এবং তাদের নিজেদের সম্পর্কে তাদের সঙ্গে হৃদয়গ্রাহী কথা বল।
৬৪

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا لِیُطَاعَ بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ وَلَوۡ اَنَّہُمۡ اِذۡ ظَّلَمُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ جَآءُوۡکَ فَاسۡتَغۡفَرُوا اللّٰہَ وَاسۡتَغۡفَرَ لَہُمُ الرَّسُوۡلُ لَوَجَدُوا اللّٰہَ تَوَّابًا رَّحِیۡمًا ٦٤

ওয়ামাআরছালনা-মির রাছূলিন ইল্লা-লিইউতা-‘আ বিইযনিল্লা-হি ওয়ালাও আন্নাহুম ইযজালামূআনফুছাহুম জাঊকা ফাছতাগফারুল্লা-হা ওয়াছতাগফারা লাহুমুররাছূলু লাওয়াজাদুল্লা-হা তাওওয়া-বার রাহীমা।

আমি প্রত্যেক রাসূলকে কেবল এ লক্ষ্যেই পাঠিয়েছি যে, আল্লাহর হুকুমে তাঁর আনুগত্য করা হবে। তারা যখন তাদের নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা তোমার কাছে এসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রাসূলও তাদের জন্য মাগফিরাতের দু‘আ করত, তবে তারা আল্লাহকে অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালুই পেত।
৬৫

فَلَا وَرَبِّکَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ حَتّٰی یُحَکِّمُوۡکَ فِیۡمَا شَجَرَ بَیۡنَہُمۡ ثُمَّ لَا یَجِدُوۡا فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ حَرَجًا مِّمَّا قَضَیۡتَ وَیُسَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا ٦٥

ফালা-ওয়ারাব্বিকা লা-ইউ’মিনূনা হাত্তা-ইউহাক্কিমূকা ফীমা-শাজারা বাইনাহুম ছু ম্মা লাইয়াজিদূফীআনফুছিহিম হারাজাম মিম্মা-কাদাইতা ওয়া ইউছালিলমূতাছলীমা-।

না, (হে নবী!) তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না নিজেদের পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদের ক্ষেত্রে তোমাকে বিচারক মানবে, তারপর তুমি যে রায় দাও, সে ব্যাপারে নিজেদের অন্তরে কোনওরূপ কুণ্ঠাবোধ না করবে এবং অবনত মস্তকে তা গ্রহণ করে নেবে।
৬৬

وَلَوۡ اَنَّا کَتَبۡنَا عَلَیۡہِمۡ اَنِ اقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ اَوِ اخۡرُجُوۡا مِنۡ دِیَارِکُمۡ مَّا فَعَلُوۡہُ اِلَّا قَلِیۡلٌ مِّنۡہُمۡ ؕ  وَلَوۡ اَنَّہُمۡ فَعَلُوۡا مَا یُوۡعَظُوۡنَ بِہٖ لَکَانَ خَیۡرًا لَّہُمۡ وَاَشَدَّ تَثۡبِیۡتًا ۙ ٦٦

ওয়ালাও আন্না-কাতাবনা-‘আলাইহিম আনিকতুলূআনফুছাকুম আবিখরুজুমিন দিয়া-রিকুম মা-ফা‘আলূহু ইলা-কালীলুম মিনহুম ওয়ালাও আন্নাহুম ফা‘আলূমা-ইউ‘আজূনা বিহী লাকা-না খাইরাল্লাহুম ওয়া আশাদ্দা তাছবীতা-।

আমি যদি তাদের উপর ফরয করে দিতাম যে, তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা কর অথবা নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও, তবে তারা তা করত না তাদের অল্পসংখ্যক লোক ছাড়া। তাদেরকে যে বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে, তারা যদি তা পালন করত, তবে তাদের পক্ষে তা বড়ই কল্যাণকর হত এবং তা (তাদের অন্তরে) অবিচলতা সৃষ্টিতে অত্যন্ত সহায়ক হত। ৫০

তাফসীরঃ

৫০. অর্থাৎ বনী ইসরাঈলকে বিভিন্ন রকমের কঠিন বিধান দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে একটা ছিল তাওবা হিসেবে পরস্পরে একে অন্যকে হত্যা করা। সূরা বাকারার (২ : ৫৪) নং আয়াতে তার উল্লেখ রয়েছে। এখন যদি সে রকম কঠিন কোন হুকুম দেওয়া হত, তবে তাদের কেউ তা পালন করত না। এখন তো তাদেরকে অতি সহজ নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেওয়া বিধানাবলী মনে-প্রাণে স্বীকার করে নাও। সুতরাং তাঁর সত্যিকার অনুগত বনে যাওয়াই তাদের জন্য নিরাপদ রাস্তা। কোনও কোনও বর্ণনায় আছে, কতক ইয়াহুদী এই বলে বড়ত্ব দেখাত যে, আমরা তো আল্লাহর এমনই এক অনুগত জাতি, যাদের পূর্ব পুরুষদেরকে পরস্পর একে অন্যকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হলে তারা সেই কঠোর নির্দেশকেও মানতে বিলম্ব করেনি। এ আয়াত তাদের সেই কথার দিকে ইশারা করছে।
৬৭

وَّاِذًا لَّاٰتَیۡنٰہُمۡ مِّنۡ لَّدُنَّـاۤ اَجۡرًا عَظِیۡمًا ۙ ٦٧

ওয়া ইযাল লাআ-তাইনা-হুম মিল্লাদুন্না-আজরান ‘আজীমা-।

এবং তখন অবশ্যই আমি নিজের পক্ষ হতে তাদেরকে মহা প্রতিদান দান করতাম।
৬৮

وَّلَہَدَیۡنٰہُمۡ صِرَاطًا مُّسۡتَقِیۡمًا ٦٨

ওয়ালাহাদাইনা-হুম সিরা-তাম মুছতাকীমা-।

এবং অবশ্যই তাদেরকে সরল পথ পর্যন্ত পৌঁছে দিতাম।
৬৯

وَمَنۡ یُّطِعِ اللّٰہَ وَالرَّسُوۡلَ فَاُولٰٓئِکَ مَعَ الَّذِیۡنَ اَنۡعَمَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ مِّنَ النَّبِیّٖنَ وَالصِّدِّیۡقِیۡنَ وَالشُّہَدَآءِ وَالصّٰلِحِیۡنَ ۚ  وَحَسُنَ اُولٰٓئِکَ رَفِیۡقًا ؕ ٦٩

ওয়া মাইঁ ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়াররাছূলা ফাউলাইকা মা‘আল্লাযীনা আন‘আমাল্লা-হু ‘আলাইহিম মিনান্নাবিইয়ীনা ওয়াসসিদ্দীকীনা ওয়াশ শুহাদাই ওয়াসসা-লিহীনা ওয়াহাছুনা উলাইকা রাফীকা-।

যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করবে, তারা সেই সকল লোকের সঙ্গে থাকবে, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, অর্থাৎ নবীগণ, সিদ্দীকগণ, ৫১ শহীদগণ ও সালিহগণের ৫২ সঙ্গে। কতই না উত্তম সঙ্গী তারা! ৫৩

তাফসীরঃ

৫১. সিদ্দীক বলা হয় এমন লোককে, যে নবীর দাওয়াত পাওয়া মাত্র বিনাবাক্যে মেনে নেয়, কোনও রকম গড়িমসি করে না ও কালক্ষেপণ করে না। -অনুবাদক
৭০

ذٰلِکَ الۡفَضۡلُ مِنَ اللّٰہِ ؕ  وَکَفٰی بِاللّٰہِ عَلِیۡمًا ٪ ٧۰

যা-লিকাল ফাদলুমিনাল্লা-হি ওয়াকাফা-বিল্লা-হি ‘আলীমা-।

এটা কেবলই আল্লাহ প্রদত্ত শ্রেষ্ঠত্ব। আর (মানুষের অবস্থাদি সম্পর্কে) পরিপূর্ণ ওয়াকিবহাল হওয়ার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। ৫৪

তাফসীরঃ

৫৪. অর্থাৎ তিনি কাউকে না জেনে এ অনুগ্রহ দান করেন না। বরং প্রত্যেকের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থেকেই দান করেন।
৭১

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا خُذُوۡا حِذۡرَکُمۡ فَانۡفِرُوۡا ثُبَاتٍ اَوِ انۡفِرُوۡا جَمِیۡعًا ٧١

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূখুযূহিযরাকুম ফানফিরূ ছু বা-তিন আবিনফিরূ জামী‘আ-।

হে মুমিনগণ! তোমরা (শত্রুর সাথে লড়াই কালে) নিজেদের আত্মরক্ষার উপকরণ সঙ্গে রাখ। অতঃপর পৃথক পৃথক বাহিনীরূপে (জিহাদের জন্য) বের হও, কিংবা সকলে একই সঙ্গে বের হও।
৭২

وَاِنَّ مِنۡکُمۡ لَمَنۡ لَّیُبَطِّئَنَّ ۚ فَاِنۡ اَصَابَتۡکُمۡ مُّصِیۡبَۃٌ قَالَ قَدۡ اَنۡعَمَ اللّٰہُ عَلَیَّ اِذۡ لَمۡ اَکُنۡ مَّعَہُمۡ شَہِیۡدًا ٧٢

ওয়া ইন্না মিনকুম লামাল লাইউবাত্তিআন্না ফাইন আসা-বাতকুম মুসীবাতুন কা-লা কাদ আন‘আমাল্লা-হু ‘আলাইইয়া ইযলাম আকুম মা‘আহুম শাহীদা-।

নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে (জিহাদে বের হতে) গড়িমসি করবে। তারপর (জিহাদ কালে) তোমাদের কোনও মসিবত দেখা দিলে বলবে, আল্লাহ আমার উপর বড় অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সাথে উপস্থিত ছিলাম না।
৭৩

وَلَئِنۡ اَصَابَکُمۡ فَضۡلٌ مِّنَ اللّٰہِ لَیَقُوۡلَنَّ کَاَنۡ لَّمۡ تَکُنۡۢ بَیۡنَکُمۡ وَبَیۡنَہٗ مَوَدَّۃٌ یّٰلَیۡتَنِیۡ کُنۡتُ مَعَہُمۡ فَاَفُوۡزَ فَوۡزًا عَظِیۡمًا ٧٣

ওয়া লাইন আসা-বাকুমফাদলুমমিনালল-হি লাইয়াকূলান্না কাআল লাম তাকুম বাইনাকুমওয়া বাইনাহূমাওয়াদ্দাতুইঁ ইয়া-লাইতানী কুনতুমা‘আহুম ফাআফূঝা ফাওঝান ‘আজীমা-।

আর আল্লাহর পক্ষ হতে তোমরা কোনও অনুগ্রহ (বিজয় ও গনীমতের মাল) লাভ করলে সে বলবে যেন তোমাদের ও তার মধ্যে কখনও কোনও সম্প্রীতি ছিল না ৫৫ ‘হায়, যদি আমিও তাদের সঙ্গে থাকতাম, তবে আমিও মহাসাফল্য লাভ করতাম!

তাফসীরঃ

৫৫. অর্থাৎ মুখে তো তারা মুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব আছে বলে প্রকাশ করে, কিন্তু যুদ্ধে অংশগ্রহণের ব্যাপারে তাদের যাবতীয় চিন্তা-ভাবনা ও সিদ্ধান্তাবলী তাদের স্বার্থকে সামনে রেখেই নিষ্পন্ন হয়। নিজেরা তো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেই না, তদুপরি যুদ্ধে মুসলিমদের যদি কোন বিপদ দেখা দেয়, তাতে সমবেদনা জানাবে কি, উল্টো এই বলে আনন্দিত হয় যে, আমরা এ বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। আবার মুসলিমগণ বিজয় ও গনীমত লাভ করলে তখন আর খুশী হয় না; বরং আফসোস করে যে, আমরা গনীমতের মাল থেকে বঞ্চিত হলাম!
৭৪

فَلۡیُقَاتِلۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ الَّذِیۡنَ یَشۡرُوۡنَ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا بِالۡاٰخِرَۃِ ؕ وَمَنۡ یُّقَاتِلۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ فَیُقۡتَلۡ اَوۡ یَغۡلِبۡ فَسَوۡفَ نُؤۡتِیۡہِ اَجۡرًا عَظِیۡمًا ٧٤

ফালইউকা-তিল ফী ছাবীলিল্লা-হিল্লাযীনা ইয়াশরূনাল হায়া-তাদ্দুনইয়া-বিলআ-খিরাতি ওয়া মাইঁ ইউকা-তিল ফী ছাবীলিল্লা-হি ফাইউকতাল আও ইয়াগলিব ফাছাওফা নু’তীহি আজরান ‘আজীমা-।

সুতরাং যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে বিক্রি করে, তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করুক। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে, অতঃপর নিহত হবে বা জয়যুক্ত হবে, (সর্বাবস্থায়) আমি তাকে মহা পুরস্কার দান করব।
৭৫

وَمَا لَکُمۡ لَا تُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَالۡمُسۡتَضۡعَفِیۡنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَآءِ وَالۡوِلۡدَانِ الَّذِیۡنَ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اَخۡرِجۡنَا مِنۡ ہٰذِہِ الۡقَرۡیَۃِ الظَّالِمِ اَہۡلُہَا ۚ  وَاجۡعَلۡ لَّنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ وَلِیًّا ۚۙ  وَّاجۡعَلۡ لَّنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ نَصِیۡرًا ؕ ٧٥

ওয়ামা-লাকুম লা-তুকা-তিলূনা ফী ছাবীলিল্লা-হি ওয়াল মুছতাদ‘আফীনা মিনার রিজা-লি ওয়ান নিছাই ওয়াল বিলদা-নিল্লাযীনা ইয়াকূলূনা রাব্বানা-আখরিজনা-মিন হাযিহিল কারইয়াতিজ্জা-লিমি আহলুহা- ওয়াজ‘আল লানা-মিল্লাদুনকা ওয়ালিইইয়াওঁ ওয়াজ‘আল লানা-মিল্লাদুনকা নাসীরা-।

(হে মুসলিমগণ!) তোমাদের জন্য এর কী বৈধতা আছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে সেই সকল অসহায় নর-নারী ও শিশুদের জন্য লড়াই করবে না, যারা দু‘আ করছে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এই জনপদ থেকে যার অধিবাসীরা জালিম অন্যত্র সরিয়ে নাও এবং আমাদের জন্য তোমার পক্ষ হতে একজন অভিভাবক বানিয়ে দাও এবং আমাদের জন্য তোমার পক্ষ হতে একজন সাহায্যকারী দাঁড় করিয়ে দাও? ৫৬

তাফসীরঃ

৫৬. মদীনায় হিজরতের পরও কিছুসংখ্যক মুসলিম নর-নারী ও শিশু মক্কা মুকাররমায় রয়ে গিয়েছিল। মুশরিকদের বাধার কারণে তারা হিজরত করতে পারেনি। ফলে তারা সেখানে লাঞ্ছিত ও নিপীড়িত অবস্থায় জীবন যাপন করছিল। তারা সে অবস্থা থেকে মুক্তিলাভের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দু‘আ করছিল। আল্লাহ তাআলা সে লক্ষে জিহাদ করার জন্য মুসলিমদেরকে উদ্বুদ্ধ করছেন। পরিশেষে মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে সে লক্ষ অর্জিত হয়। -অনুবাদক
৭৬

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۚ  وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ الطَّاغُوۡتِ فَقَاتِلُوۡۤا اَوۡلِیَآءَ الشَّیۡطٰنِ ۚ  اِنَّ کَیۡدَ الشَّیۡطٰنِ کَانَ ضَعِیۡفًا ٪ ٧٦

আল্লাযীনা আ-মানূইউকা-তিলূনা ফী ছাবীলিল্লা-হি ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ইউকাতিলূনা ফী ছাবীলিততা-গূতি ফাকা-তিলূআওলিয়াআশশাইতা-নি ইন্নাকাইদাশশাইতা-নি কা-না দা‘ঈফা-।

যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা যুদ্ধ করে তাগূতের পথে। সুতরাং (হে মুসলিমগণ!) তোমরা শয়তানের বন্ধুদের সঙ্গে যুদ্ধ কর। (স্মরণ রেখ), শয়তানের কৌশল অতি দুর্বল।
৭৭

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ قِیۡلَ لَہُمۡ کُفُّوۡۤا اَیۡدِیَکُمۡ وَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتُوا الزَّکٰوۃَ ۚ فَلَمَّا کُتِبَ عَلَیۡہِمُ الۡقِتَالُ اِذَا فَرِیۡقٌ مِّنۡہُمۡ یَخۡشَوۡنَ النَّاسَ کَخَشۡیَۃِ اللّٰہِ اَوۡ اَشَدَّ خَشۡیَۃً ۚ وَقَالُوۡا رَبَّنَا لِمَ کَتَبۡتَ عَلَیۡنَا الۡقِتَالَ ۚ لَوۡلَاۤ اَخَّرۡتَنَاۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیۡبٍ ؕ قُلۡ مَتَاعُ الدُّنۡیَا قَلِیۡلٌ ۚ وَالۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لِّمَنِ اتَّقٰی ۟ وَلَا تُظۡلَمُوۡنَ فَتِیۡلًا ٧٧

আলাম তারা ইলাল্লাযীনা কীলা লাহুম কুফফূআইদিয়াকুম ওয়াআকীমুস সালা-তা ওয়া আ-তুঝঝাকা-তা ফালাম্মা-কুতিবা ‘আলাইহিমুল কিতা-লুইযা-ফারীকুম মিনহুম ইয়াখশাওনান না-ছা কাখাশইয়াতিল্লা-হি আও আশাদ্দা খাশইয়াতাওঁ ওয়া কা-লূরাব্বানালিমা কাতাবতা ‘আলাইনাল কিতা-লা লাওলাআখখারতানাইলাআজালিন কারীবিন কুল মাতা-‘উদ দুনইয়া-কালীলুওঁ ওয়াল আ-খিরাতুখাইরুল লিমানিত্তাকা- ওয়ালা-তুজলামূনা ফাতীলা-।

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, (মক্কী জীবনে) যাদেরকে বলা হত, তোমরা নিজেদের হাত সংযত রাখ, সালাত কায়েম কর ও যাকাত দাও। অতঃপর যখন তাদের প্রতি যুদ্ধ ফরয করা হল, তখন তাদের মধ্য হতে একটি দল মানুষকে (শত্রুদেরকে) এমন ভয় করতে লাগল, যেমন আল্লাহকে ভয় করা হয়ে থাকে, কিংবা তার চেয়েও বেশি ভয়। তারা বলতে লাগল, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের প্রতি যুদ্ধ কেন ফরয করলেন? অল্প কালের জন্য আমাদেরকে অবকাশ দিলেন না কেন? বলে দাও, পার্থিব ভোগ সামান্য। যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে, তার জন্য আখিরাত উৎকৃষ্টতর। ৫৭ তোমাদের প্রতি সুতা পরিমাণও জুলুম করা হবে না।

তাফসীরঃ

৫৭. মুসলিমগণ মক্কা মুকাররমায় যখন কাফিরদের পক্ষ হতে কঠিন জুলুম-নির্যাতন ভোগ করছিল, তখন অনেকেরই মনে স্পৃহা সৃষ্টি হয়েছিল কাফিরদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য তারা যুদ্ধ করবে। কিন্তু তখনও পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে জিহাদের হুকুম আসেনি। তখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে মুসলিমদের জন্য সবর ও আত্মসংবরণের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রাখা হয়েছিল, যাতে এর মাধ্যমে তারা উন্নত চারিত্রিক গুণাবলী অর্জন করতে পারে। কেননা তারপর যুদ্ধ করলে সে যুদ্ধ কেবল ব্যক্তিগত প্রতিশোধ স্পৃহায় হবে না; বরং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি বিধানের উদ্দেশ্যে হবে। তাই তখন কোন মুসলিম জিহাদের আকাঙ্ক্ষা করলে তাকে এ কথাই বলা হত যে, এখন নিজের হাত সংবরণ কর এবং জিহাদের পরিবর্তে সালাত, যাকাত ইত্যাদি আহকাম পালনে যত্নবান থাক। অতঃপর তারা যখন হিজরত করে মদীনায় আসলেন, তখন জিহাদ ফরয করা হল। তখন যেহেতু তাদের পুরানো আকাঙ্ক্ষা পূরণ হল, তখন তাদের খুশী হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তাদের মধ্যে কতকের কাছে মনে হল, দীর্ঘ তের বছর পর্যন্ত কাফিরদের অত্যাচার-উৎপীড়ন দ্বারা তাদের ধৈর্যের যে পরীক্ষা চলছিল সবে তার অবসান হল। এখন একটু শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পাওয়া গেল। কাজেই জিহাদের নির্দেশ কিছু কাল পরে আসলেই ভালো হত। তাদের এ আকাঙ্ক্ষার অর্থ এ নয় যে, আল্লাহ তাআলার আদেশের উপর তাদের কিছুমাত্রও আপত্তি ছিল; এটা ছিল কেবলই এক মানবীয় চাহিদা। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান সাহাবীদের মর্যাদা বহু ঊর্ধ্বে। পার্থিব কোন আরাম ও স্বস্তিকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া যে, তার কারণে আখিরাতের উপকারিতাকে সামান্য কিছু কালের জন্য হলেও পিছিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা হবে, এটা অন্তত তাদের পক্ষে শোভা পায় না।
৭৮

اَیۡنَمَا تَکُوۡنُوۡا یُدۡرِکۡکُّمُ الۡمَوۡتُ وَلَوۡ کُنۡتُمۡ فِیۡ بُرُوۡجٍ مُّشَیَّدَۃٍ ؕ وَاِنۡ تُصِبۡہُمۡ حَسَنَۃٌ یَّقُوۡلُوۡا ہٰذِہٖ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ۚ وَاِنۡ تُصِبۡہُمۡ سَیِّئَۃٌ یَّقُوۡلُوۡا ہٰذِہٖ مِنۡ عِنۡدِکَ ؕ قُلۡ کُلٌّ مِّنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ؕ فَمَالِ ہٰۤؤُلَآءِ الۡقَوۡمِ لَا یَکَادُوۡنَ یَفۡقَہُوۡنَ حَدِیۡثًا ٧٨

আইনা মা-তাকূনূইউদরিককুমুল মাওতুওয়ালাও কুনতুম ফী বুরূজিম মুশাইইয়াদাতিওঁ ওয়া ইন তুসিবহুম হাছানাতুইঁ ইয়াকূলূহা-যিহী মিন ‘ইনদিল্লা-হি ওয়া ইন তুসিবহুম ছাইয়িআতুই ইয়াকূলূহা-যিহী মিন ‘ইনদিকা কুল কুল্লুম মিন ‘ইনদিল্লা-হি ফামালি হাউলাইল কাওমি লা-ইয়াকা-দূ না ইয়াফকাহূনা হাদীছা-।

তোমরা যেখানেই থাক (এক দিন না এক দিন) মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, চাই তোমরা সুরক্ষিত কোন দুর্গেই থাক না কেন। তাদের (অর্থাৎ মুনাফিকদের) যদি কোন কল্যাণ লাভ হয়, তবে বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ হতে। পক্ষান্তরে যদি তাদের মন্দ কিছু ঘটে, তবে (হে নবী!) তারা (তোমাকে) বলে, এটা আপনার কারণেই ঘটেছে। বলে দাও, সব কিছুই আল্লাহর পক্ষ হতে। ওই সব লোকের হল কি যে, তারা কোনও কথা বোঝার ধারে কাছেও যায় না?
৭৯

مَاۤ اَصَابَکَ مِنۡ حَسَنَۃٍ فَمِنَ اللّٰہِ ۫ وَمَاۤ اَصَابَکَ مِنۡ سَیِّئَۃٍ فَمِنۡ نَّفۡسِکَ ؕ وَاَرۡسَلۡنٰکَ لِلنَّاسِ رَسُوۡلًا ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ شَہِیۡدًا ٧٩

মাআসা-বাকা মিন হাছানাতিন ফামিনাল্লা-হি ওয়ামাআসা-বাকা মিন ছাইয়িআতিন ফামিন নাফছিকা ওয়া আরছালনা-কা লিন্না-ছি রাছূলাওঁ ওয়া কাফা-বিলা-হি শাহীদা-।

তোমার যা-কিছু কল্যাণ লাভ হয়, তা কেবল আল্লাহরই পক্ষ হতে, আর তোমার যা-কিছু অকল্যাণ ঘটে, তা তোমার নিজেরই কারণে। এবং (হে নবী!) আমি তোমাকে মানুষের কাছে রাসূল করে পাঠিয়েছি। আর (এ বিষয়ের) সাক্ষীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট। ৫৮

তাফসীরঃ

৫৮. এ আয়াতসমূহে দুটি সত্য তুলে ধরা হয়েছে। (এক) এ জগতে যা-কিছু হয়, তা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও হুকুমেই হয়। কারও কোন উপকার লাভ হলে তাও আল্লাহর হুকুমেই হয় এবং কারও কোন ক্ষতি হলে তাও আল্লাহর হুকুমেই হয়। (দুই) দ্বিতীয়ত জানানো হয়েছে, কারও কোন উপকার বা ক্ষতির হুকুম আল্লাহ তাআলা কখন দেন ও কিসের ভিত্তিতে দেন। এ সম্পর্কে ৭৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, কারও কোন উপকার ও কল্যাণ লাভের যে ব্যাপারটা, তা কেবলই আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। কেননা কোন মাখলুকেরই আল্লাহ তাআলার কাছে কোন পাওনা নেই যে, আল্লাহ তাআলার তাকে তা দিতেই হবে। মানুষের কোন কর্মকে যদি আপাতদৃষ্টিতে তার কোন কল্যাণের কারণ বলে মনেও হয়, তবে এটা তো সত্য যে, তার সে কর্ম আল্লাহ তাআলার দেওয়া তাওফীকেরই ফল। কাজেই সে কল্যাণ আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ছাড়া কিছু নয়। সেটা তার প্রাপ্য ও হক নয় কিছুতেই। অন্যদিকে মানুষের যদি কোন অকল্যাণ দেখা দেয়, তবে যদিও তা আল্লাহ তাআলার হুকুমেই হয়, কিন্তু আল্লাহ তাআলা এ হুকুম কেবল তখনই দেন, যখন সে ব্যক্তি নিজ এখতিয়ার ও ইচ্ছাক্রমে কোন অন্যায় বা ভুল করে থাকে। মুনাফিকদের চরিত্র ছিল যে, তাদের কোন কল্যাণ লাভ হলে সেটাকে তো আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পৃক্ত করত, কিন্তু কোনও রকম ক্ষতি হয়ে গেলে তার দায়-দায়িত্ব চাপাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। এর দ্বারা যদি তাদের বোঝানো উদ্দেশ্য হয়, সে ক্ষতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হুকুমে হয়েছে, তবে তো এটা বিলকুল গলত। কেননা বিশ্ব জগতের সকল কাজ কেবল আল্লাহ তাআলার হুকুমেই হয়। অন্য কারও হুকুমে নয়। আর যদি বোঝানো উদ্দেশ্য হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনও ভুলের কারণে সে ক্ষতি হয়েছে, তবে নিঃসন্দেহে এটাও গলত কথা। কেননা প্রতিটি মানুষের যা-কিছু অকল্যাণ দেখা দেয়, তা তার নিজেরই কর্মফল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তো রাসূল বানিয়ে পাঠানো হয়েছে। কাজেই জগতে লাভ-লোকসান ও সৃষ্টি-লয় সংক্রান্ত যা-কিছু ঘটে তার দায়-দায়িত্ব যেমন তাঁর উপর বর্তায় না, তেমনি রিসালাতের দায়িত্ব পালনেও তাঁর দ্বারা কোনও ত্রুটি ঘটা সম্ভব নয়, যার খেসারত তাঁর উম্মতকে দিতে হবে।
৮০

مَنۡ یُّطِعِ الرَّسُوۡلَ فَقَدۡ اَطَاعَ اللّٰہَ ۚ  وَمَنۡ تَوَلّٰی فَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ عَلَیۡہِمۡ حَفِیۡظًا ؕ ٨۰

মাইঁ ইউতি‘ইর রাছূলা ফাকাদ আতা‘আল্লা-হা ওয়ামান তাওয়াল্লা-ফামাআরছালনা-কা ‘আলাইহিম হাফীজা-।

যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করে সে আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যারা (তাঁর আনুগত্য হতে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি (হে নবী!) তোমাকে তাদের তত্ত্বাবধায়ক বানিয়ে পাঠাইনি (যে, তাদের কাজের দায়-দায়িত্ব তোমার উপর বর্তাবে)।
৮১

وَیَقُوۡلُوۡنَ طَاعَۃٌ ۫ فَاِذَا بَرَزُوۡا مِنۡ عِنۡدِکَ بَیَّتَ طَآئِفَۃٌ مِّنۡہُمۡ غَیۡرَ الَّذِیۡ تَقُوۡلُ ؕ وَاللّٰہُ یَکۡتُبُ مَا یُبَیِّتُوۡنَ ۚ فَاَعۡرِضۡ عَنۡہُمۡ وَتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ وَکِیۡلًا ٨١

ওয়া ইয়াকূলূনা তা-‘আতুন ফাইযা-বারাঝুমিন ‘ইনদিকা বাইইয়াতা তাইফাতুম মিনহুম গাইরাল্লাযী তাকূলু ওয়াল্লা-হু ইয়াকতুবুমা-ইউবাইয়িতূনা ফাআ‘রিদ ‘আনহুম ওয়াতাওয়াক্কাল ‘আল্লাল্লা-হি ওয়া কাফা-বিল্লা-হি ওয়াকীলা-।

আর তারা (মুনাফিকগণ সামনে তো) বলে, আমরা আনুগত্যের উপর আছি, কিন্তু তারা যখন তোমার কাছ থেকে বাইরে চলে যায়, তখন তাদের একটা দল রাতের বেলা তোমার কথার বিপরীতে পরামর্শ করে। তারা রাতের বেলা যে পরামর্শ করে, আল্লাহ তা সব লিখে রাখছেন। সুতরাং তুমি তাদের কোন পরওয়া করো না এবং আল্লাহর উপর নির্ভর কর। (তোমার) সাহায্যকারীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট।
৮২

اَفَلَا یَتَدَبَّرُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَ ؕ وَلَوۡ کَانَ مِنۡ عِنۡدِ غَیۡرِ اللّٰہِ لَوَجَدُوۡا فِیۡہِ اخۡتِلَافًا کَثِیۡرًا ٨٢

আফালা-ইয়াতাদাব্বারূনাল কুরআ-না ওয়া লাও কা-না মিন ‘ইনদি গাইরিল্লা-হি লাওয়াজাদূফীহিখতিলা-ফান কাছীরা-।

তারা কি কুরআন সম্বন্ধে চিন্তা করে না? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ হতে হত তবে এর মধ্য বহু অসঙ্গতি পেত। ৫৯

তাফসীরঃ

৫৯. এমনিতে তো মানুষের কোনও প্রচেষ্টাই দুর্বলতামুক্ত নয় এবং সে কারণেই মানব-রচিত বই-পুস্তকে প্রচুর স্ববিরোধিতা ও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যদি নিজে কোনও পুস্তক রচনা করে দাবী করে এটা আল্লাহর কিতাব, তবে তাতে অবশ্যই প্রচুর গরমিল ও সাংঘর্ষিক কথাবার্তা থাকবে। যারা পূর্ববর্তী নবী-রাসূলের আনীত কিতাবে প্রক্ষেপণ ও বিকৃতি সাধন করেছে, তাদের সে দুষ্কর্মের কারণে সে সব কিতাবে নানা রকম গরমিল সৃষ্টি হয়ে গেছে। সেটাও এ কথার সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, মানব রচনায়, বিশেষত তা যদি আল্লাহর নামে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাতে অসঙ্গতি থাকা অবধারিত। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে মাওলানা রহমাতুল্লাহ কিরানবী (রহ.) রচিত ‘ইজহারুল হক’ গ্রন্থখানি পড়ুন। তার উর্দূ তরজমাও হয়েছে, যা ‘বাইবেল সে কুরআন তাক্’ নামে প্রকাশিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে এর বাংলা অনুবাদও প্রকাশিত হয়েছে।)
৮৩

وَاِذَا جَآءَہُمۡ اَمۡرٌ مِّنَ الۡاَمۡنِ اَوِ الۡخَوۡفِ اَذَاعُوۡا بِہٖ ؕ وَلَوۡ رَدُّوۡہُ اِلَی الرَّسُوۡلِ وَاِلٰۤی اُولِی الۡاَمۡرِ مِنۡہُمۡ لَعَلِمَہُ الَّذِیۡنَ یَسۡتَنۡۢبِطُوۡنَہٗ مِنۡہُمۡ ؕ وَلَوۡلَا فَضۡلُ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ وَرَحۡمَتُہٗ لَاتَّبَعۡتُمُ الشَّیۡطٰنَ اِلَّا قَلِیۡلًا ٨٣

ওয়া ইযা-জাআহুম আমরুম মিনাল আমনি আবিলখাওফি আযা-‘ঊ বিহী ওয়া লাও রাদ্দূহু ইলার রাছূলি ওয়া ইলাঊলিল আমরি মিনহুম লা‘আলিমাহুল্লাযীনা ইয়াছতামবিতূনাহু মিনহুম ওয়া লাওলা-ফাদলুল্লা-হি ‘আল্লাইকুম ওয়া রাহমাতুহু লাত্তাবা‘তুমশশাইতা-না ইলা-কালীলা-।

তাদের কাছে যখন শান্তির বা ভীতির কোন সংবাদ আসে, তারা তা (যাচাই না করেই) প্রচার শুরু করে দেয়। তারা যদি তা রাসূল বা তাদের মধ্যে যারা কর্তৃত্বের অধিকারী তাদের কাছে নিয়ে যেত, তবে তাদের মধ্যে যারা তার (তথ্য) অনুসন্ধানী, তারা তার (যথার্থতা) জেনে নিত। ৬০ এবং (হে মুসলিমগণ!) তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমত না হত, তবে তোমরা অবশ্যই শয়তানের অনুসরণ করতে, অল্পসংখ্যক ছাড়া।

তাফসীরঃ

৬০. মদীনা মুনাওয়ারায় এক শ্রেণীর লোক সঠিকভাবে না জেনেই গুজব ছড়িয়ে দিত, যার দ্বারা সমাজের অনেক ক্ষতি হত। এ আয়াতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে, যেন সঠিকভাবে না জেনে কেউ কোন গুজবে বিশ্বাস না করে এবং তা অন্যদের কাছে না পৌঁছায়।
৮৪

فَقَاتِلۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۚ لَا تُکَلَّفُ اِلَّا نَفۡسَکَ وَحَرِّضِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ عَسَی اللّٰہُ اَنۡ یَّکُفَّ بَاۡسَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ وَاللّٰہُ اَشَدُّ بَاۡسًا وَّاَشَدُّ تَنۡکِیۡلًا ٨٤

ফাকা-তিল ফী ছাবীলিল্লা-হি লা-তুকাল্লাফুইলা-নাফছাকা ওয়াহাররিদিল মু’মিনীনা ‘আছাল্লা-হু আইঁ ইয়াকুফফা বা’ছাল্লাযীনা কাফারূ ওয়াল্লা-হু আশাদ্দুবা’ছাও ওয়া আশাদ্দুতানকীলা-।

সুতরাং (হে নবী!) তুমি আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর। তোমার উপর তোমার নিজের ছাড়া অন্য কারও দায়ভার নেই। অবশ্য মুমিনদেরকে উৎসাহ দিতে থাক। অসম্ভব নয় যে, আল্লাহ কাফিরদের যুদ্ধ ক্ষমতা রুখে দেবেন। আল্লাহর শক্তি সর্বাপেক্ষা প্রচণ্ড এবং তাঁর শাস্তি অতি কঠোর।
৮৫

مَنۡ یَّشۡفَعۡ شَفَاعَۃً حَسَنَۃً یَّکُنۡ لَّہٗ نَصِیۡبٌ مِّنۡہَا ۚ وَمَنۡ یَّشۡفَعۡ شَفَاعَۃً سَیِّئَۃً یَّکُنۡ لَّہٗ کِفۡلٌ مِّنۡہَا ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ مُّقِیۡتًا ٨٥

মাইঁ ইয়াশফা‘ শাফা-‘আতান হাছানাতাইঁ ইয়াকুল্লাহূনাসীবুম মিনহা- ওয়া মাই ইয়াশফা‘ শাফা-আতান ছাইয়িআতাই ইয়াকুল্লাহু কিফলুম মিনহা- ওয়া কা-নাল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইইম মুকীতা-।

যে ব্যক্তি কোন ভালো সুপারিশ করে, তার তাতে অংশ থাকে, আর যে ব্যক্তি কোন মন্দ সুপারিশ করে, তারও তাতে অংশ থাকে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে নজর রাখেন। ৬১

তাফসীরঃ

৬১. পূর্বের আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদেশ করা হয়েছিল, তিনি যেন মুসলিমদেরকে জিহাদ করতে উৎসাহ দেন। অতঃপর এ আয়াতে ইশারা করে দেওয়া হয়েছে যে, আপনার উৎসাহ দানের ফলে যারা জিহাদে অংশগ্রহণ করবে, তাদের সওয়াবে আপনিও শরীক থাকবেন। কেননা ভালো কাজে সুপারিশ করার ফলে কেউ যদি সেই ভালো কাজ করে, তবে তাতে সে যে সওয়াব পায়, সেই সওয়াবে সুপারিশকারীরও অংশ থাকে। এমনিভাবে মন্দ সুপারিশের ফলে যদি কোনও মন্দ কাজ হয়ে যায়, তবে সে কাজের কর্তার যে গুনাহ হবে, সুপারিশকারীও তাতে সমান অংশীদার হবে।
৮৬

وَاِذَا حُیِّیۡتُمۡ بِتَحِیَّۃٍ فَحَیُّوۡا بِاَحۡسَنَ مِنۡہَاۤ اَوۡ رُدُّوۡہَا ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ حَسِیۡبًا ٨٦

ওয়া ইযা-হুইয়ীতুম বিতাহিইইয়াতিন ফাহাইয়ূবিআহছানা মিনহা-আও রুদ্দূহা- ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলা-কুল্লি শাইইন হাছীবা-।

যখন কেউ তোমাদেরকে সালাম করে, তখন তোমরা (তাকে) তদপেক্ষাও উত্তমরূপে সালাম দিয়ো কিংবা (অন্ততপক্ষে) সেই শব্দেই তার জবাব দিয়ো। ৬২ নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর হিসাব রাখেন।

তাফসীরঃ

৬২. সালামও যেহেতু আল্লাহ তাআলার সমীপে এক সুপারিশ, তাই সুপারিশের বিধান বর্ণনা করার সাথে সালামের বিধানও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে সারকথা হল, কোনও ব্যক্তি যে শব্দে সালাম দিয়েছে, উত্তম হচ্ছে তাকে তদপেক্ষা আরও ভালো শব্দে জবাব দেওয়া, যেমন সে যদি বলে থাকে ‘আস-সালামু আলাইকুম’, তবে জবাবে বলা চাই ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। সে যদি বলে, ‘আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’, তবে উত্তরে বলা চাই ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ’। তবে হুবহু তারই শব্দে যদি জবাব দেওয়া হয়, সেটাও জায়েয। কোনও মুসলিম ব্যক্তি সালাম দিলে তার জবাব না দেওয়া গুনাহ।
৮৭

اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ  لَیَجۡمَعَنَّکُمۡ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ ؕ  وَمَنۡ اَصۡدَقُ مِنَ اللّٰہِ حَدِیۡثًا ٪ ٨٧

আল্লা-হু লাইলা-হা ইলা-হুওয়া লাইয়াজমা‘আন্নাকুম ইলা-ইয়াওমিল কিয়া-মাতি লারাইবা ফীহি ওয়া মান আসদাকুমিনাল্লা-হি হাদীছা-।

আল্লাহতিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে অবশ্যই একত্র করবেন; যে দিনের (আসার) ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। এমন কে আছে, যে কথায় আল্লাহ অপেক্ষা বেশি সত্যবাদী?
৮৮

فَمَا لَکُمۡ فِی الۡمُنٰفِقِیۡنَ فِئَتَیۡنِ وَاللّٰہُ اَرۡکَسَہُمۡ بِمَا کَسَبُوۡا ؕ اَتُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ تَہۡدُوۡا مَنۡ اَضَلَّ اللّٰہُ ؕ وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَلَنۡ تَجِدَ لَہٗ سَبِیۡلًا ٨٨

ফামা-লাকুম ফিল মুনা-ফিকীনা ফিআতাইনি ওয়াল্লা-হু আরকাছা-হুম বিমা-কাছাবূ আতুরীদূ না আন তাহদূমান আদাল্লাল্লা-হু ওয়া মাইঁ ইউদলিলিল্লা-হু ফালান তাজিদালাহূছাবীলা-।

অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের ব্যাপারে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? ৬৩ অথচ তারা যে কাজ করেছে তার দরুণ আল্লাহ তাদেরকে উল্টিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে (তার ইচ্ছা অনুযায়ী) গোমরাহীতে লিপ্ত করেছেন, তোমরা কি তাকে হিদায়াতের উপর আনতে চাও? আল্লাহ যাকে গোমরাহীতে লিপ্ত করেন, তার জন্য তুমি কখনই কোন (কল্যাণের) পথ পাবে না।

তাফসীরঃ

৬৩. এসব আয়াতে চার প্রকার মুনাফিকের অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক প্রকার সম্পর্কে আলাদা-আলাদা নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে। ৮৮নং আয়াতে মুনাফিকদের প্রথম প্রকার সম্পর্কে আলোচনা। এরা ছিল মক্কা মুকাররমার কতিপয় লোক। তারা মদীনায় এসে বাহ্যত মুসলিম হয়ে গেল এবং মুসলিমদের সহানুভূতি লাভ করল। কিছু কাল পর তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে ব্যবসার ছলে মক্কায় যাওয়ার অনুমতি নিয়ে নিল এবং চলেও গেল। তাদের সম্পর্কে কতক মুসলিমের রায় ছিল যে, তারা খাঁটি মুসলিম, আবার অন্যরা তাদের মুনাফিক মনে করত। কিন্তু তারা মক্কা মুকাররামা যাওয়ার পর যখন আর ফিরে আসল না, তখন তাদের কুফর জাহির হয়ে গেল। কেননা তখন মক্কা মুকাররমা থেকে হিজরত করা ঈমানের অপরিহার্য অঙ্গ ছিল। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ হিজরত না করলে তাকে মুসলিম গণ্য করা হত না। সুতরাং এ আয়াতের অর্থ এই যে, যখন তাদের মুনাফিকী উন্মোচিত হয়ে গেল, তখন তাদের সম্পর্কে মতভিন্নতার কোনও অবকাশ নেই।
৮৯

وَدُّوۡا لَوۡ تَکۡفُرُوۡنَ کَمَا کَفَرُوۡا فَتَکُوۡنُوۡنَ سَوَآءً فَلَا تَتَّخِذُوۡا مِنۡہُمۡ اَوۡلِیَآءَ حَتّٰی یُہَاجِرُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ  فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَخُذُوۡہُمۡ وَاقۡتُلُوۡہُمۡ حَیۡثُ وَجَدۡتُّمُوۡہُمۡ ۪  وَلَا تَتَّخِذُوۡا مِنۡہُمۡ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیۡرًا ۙ ٨٩

ওয়াদ্দূ লাও তাকফুরূনা কামা-কাফারূ ফাতাকূনূনা ছাওয়াআন ফাল্লা-তাত্তাখিযূমিনহুম আওলিয়াআ হাত্তা-ইউহা-জিরূ ফী ছাবীলিল্লা-হি ফাইন তাওয়ালাও ফাখুযূহুম ওয়াকতুলূহুম হাইছুওয়াজাততুমূহুম ওয়ালা-তাত্তাখিযূমিনহুম ওয়ালিইইয়াওঁ ওয়ালানাসীরা-।

তারা কামনা করে, তারা নিজেরা যেমন কুফর অবলম্বন করেছে, তেমনি তোমরাও কাফির হয়ে যাও, যাতে তোমরা পরস্পর সমান হয়ে যাও। সুতরাং (হে মুসলিমগণ!) তোমরা তাদের মধ্য হতে কাউকে ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আল্লাহর পথে হিজরত না করে। যদি তারা (হিজরত করাকে) উপেক্ষা করে, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং তাদেরকে যেখানেই পাও হত্যা কর, আর তাদের কাউকেই নিজের বন্ধুরূপেও গ্রহণ করবে না এবং সাহায্যকারীরূপেও না।
৯০

اِلَّا الَّذِیۡنَ یَصِلُوۡنَ اِلٰی قَوۡمٍۭ بَیۡنَکُمۡ وَبَیۡنَہُمۡ مِّیۡثَاقٌ اَوۡ جَآءُوۡکُمۡ حَصِرَتۡ صُدُوۡرُہُمۡ اَنۡ یُّقَاتِلُوۡکُمۡ اَوۡ یُقَاتِلُوۡا قَوۡمَہُمۡ ؕ وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ لَسَلَّطَہُمۡ عَلَیۡکُمۡ فَلَقٰتَلُوۡکُمۡ ۚ فَاِنِ اعۡتَزَلُوۡکُمۡ فَلَمۡ یُقَاتِلُوۡکُمۡ وَاَلۡقَوۡا اِلَیۡکُمُ السَّلَمَ ۙ فَمَا جَعَلَ اللّٰہُ لَکُمۡ عَلَیۡہِمۡ سَبِیۡلًا ٩۰

ইল্লাল্লাযীনা ইয়াসিলূনা ইলা-কাওমিম বাইনাকুম ওয়া বাইনাহুম মীছা-কুন আও জাউকুম হাছিরাত সুদূ রুহুম আইঁ ইউকা-তিলূকুম আওঁইউকা-তিলূকাওমাহুম ওয়ালাও শাআল্লা-হু লাছাল্লাতাহুম ‘আল্লাইকুম ফালাকা-তালূকুম ফাইনি‘তাঝালূকুম ফালাম ইউকা-তিলূকুম ওয়া আলকাও ইলাইকুমছ ছালামা ফামা-জা‘আলাল্লা-হু লাকুম ‘আললইহিম ছাবীলা-।

তবে ওই সকল লোক (এ নির্দেশ থেকে) ব্যতিক্রম, যারা এমন কোনও সম্প্রদায়ের সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে, যাদের ও তোমাদের মধ্যে কোনও (শান্তি) চুক্তি আছে। অথবা যারা তোমাদের কাছে এমন অবস্থায় আসে, যখন তাদের মন কুণ্ঠিত থাকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং নিজ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করতে। ৬৪ আল্লাহ চাইলে তাদেরকে তোমাদের উপর ক্ষমতা দান করতেন, ফলে তারা তোমাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করত। সুতরাং তারা যদি তোমাদের থেকে পাশ কাটিয়ে চলে ও তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব দেয়, তবে আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে কোনওরূপ (ব্যবস্থা গ্রহণের) অধিকার দেননি।

তাফসীরঃ

৬৪. যে সকল মুনাফিকের কুফর প্রকাশ পেয়ে গিয়েছিল, পূর্বের আয়াতে তাদের সাথে যুদ্ধ ও তাদেরকে হত্যা করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য দুই শ্রেণীর লোককে তা থেকে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে (ক) যারা এমন কোন অমুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে গিয়ে মিলেছে, যাদের সঙ্গে মুসলিমদের শান্তিচুক্তি ছিল; আর (খ) সেই সকল লোক, যারা যুদ্ধ করতে বিলকুল নারাজ ছিল, না মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করতে ইচ্ছুক ছিল, না নিজেদের কওমের সাথে। মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ না করলে খোদ তাদের কওমই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারে এই আশঙ্কা থাকার কারণেই কেবল তারা কওমের সাথে মিলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসত। এই শ্রেণীর লোক সম্পর্কেও মুসলিমদেরকে হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করে। এ পর্যন্ত মুনাফিকদের তিন শ্রেণী হল।
৯১

سَتَجِدُوۡنَ اٰخَرِیۡنَ یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یَّاۡمَنُوۡکُمۡ وَیَاۡمَنُوۡا قَوۡمَہُمۡ ؕ  کُلَّ مَا رُدُّوۡۤا اِلَی الۡفِتۡنَۃِ اُرۡکِسُوۡا فِیۡہَا ۚ  فَاِنۡ لَّمۡ یَعۡتَزِلُوۡکُمۡ وَیُلۡقُوۡۤا اِلَیۡکُمُ السَّلَمَ وَیَکُفُّوۡۤا اَیۡدِیَہُمۡ فَخُذُوۡہُمۡ وَاقۡتُلُوۡہُمۡ حَیۡثُ ثَقِفۡتُمُوۡہُمۡ ؕ  وَاُولٰٓئِکُمۡ جَعَلۡنَا لَکُمۡ عَلَیۡہِمۡ سُلۡطٰنًا مُّبِیۡنًا ٪ ٩١

ছাতাজিদূ না আ-খারীনা ইউরীদূ না আইঁ ইয়া’মানূকুম ওয়া ইয়া’মানূকাওমাহুম কুল্লামারুদ্দূইলাল ফিতনাতি উরকিছূফীহা- ফাইল্লাম ইয়া‘তাঝিলূকুম ওয়া ইউলকূইলাইকুমুছছালামা ওয়া ইয়াকুফফূআইদিয়াহুম ফাখুযূহুম ওয়াকতুলূহুম হাইছু ছাকিফতুমূহুম ওয়া উলাইকুম জা‘আলনা-লাকুম ‘আলাইহিম ছুলতা-নাম মুবীনা-।

(মুনাফিকদের মধ্যে) অপর কিছু লোককে পাবে, যারা তোমাদের থেকেও নিরাপদ থাকতে চায় এবং তাদের সম্প্রদায় হতেও নিরাপদ থাকতে চায়। (কিন্তু) যখনই তাদেরকে ফিতনার দিকে ফিরে যাওয়ার জন্য ডাকা হয়, অমনি তারা উল্টে গিয়ে তাতে পতিত হয়। ৬৫ সুতরাং এসব লোক যদি তোমাদের (সঙ্গে যুদ্ধ করা) থেকে সরে না যায়, শান্তি প্রস্তাব না দেয় এবং নিজেদের হাত সংযত না করে, তবে তাদেরকেও পাকড়াও কর এবং যেখানেই তাদেরকে পাও হত্যা কর। আল্লাহ এরূপ লোকদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে সুস্পষ্ট এখতিয়ার দান করেছেন।

তাফসীরঃ

৬৫. পূর্বের আয়াতে মুনাফিকদের তৃতীয় শ্রেণী সম্পর্কে আলোচনা ছিল, যারা বাস্তবিকই যুদ্ধ করতে সম্মত ছিল না এবং মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করার কোনও আগ্রহ রাখত না। এ আয়াতে মুনাফিকদের চতুর্থ প্রকারের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। তারা যুদ্ধে অসম্মত থাকার ব্যাপারেও কপটতার আশ্রয় নিত। প্রকাশ তো করত তারা কিছুতেই মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না, কিন্তু বাস্তব অবস্থা ছিল এর বিপরীত। তারা এরূপ প্রকাশ করত কেবল এ কারণে, যাতে মুসলিমগণ তাদেরকে হত্যা করা হতে বিরত থাকে। সুতরাং অন্যান্য কাফির যখন তাদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোন চক্রান্তে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাত, তখন তারা পত্রপাঠ সে চক্রান্তে যোগ দিত।
৯২

وَمَا کَانَ لِمُؤۡمِنٍ اَنۡ یَّقۡتُلَ مُؤۡمِنًا اِلَّا خَطَـًٔا ۚ وَمَنۡ قَتَلَ مُؤۡمِنًا خَطَـًٔا فَتَحۡرِیۡرُ رَقَبَۃٍ مُّؤۡمِنَۃٍ وَّدِیَۃٌ مُّسَلَّمَۃٌ اِلٰۤی اَہۡلِہٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ یَّصَّدَّقُوۡا ؕ فَاِنۡ کَانَ مِنۡ قَوۡمٍ عَدُوٍّ لَّکُمۡ وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَتَحۡرِیۡرُ رَقَبَۃٍ مُّؤۡمِنَۃٍ ؕ وَاِنۡ کَانَ مِنۡ قَوۡمٍۭ بَیۡنَکُمۡ وَبَیۡنَہُمۡ مِّیۡثَاقٌ فَدِیَۃٌ مُّسَلَّمَۃٌ اِلٰۤی اَہۡلِہٖ وَتَحۡرِیۡرُ رَقَبَۃٍ مُّؤۡمِنَۃٍ ۚ فَمَنۡ لَّمۡ یَجِدۡ فَصِیَامُ شَہۡرَیۡنِ مُتَتَابِعَیۡنِ ۫ تَوۡبَۃً مِّنَ اللّٰہِ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ٩٢

ওয়ামা-কা-না লিমু’মিনিন আইঁ ইয়াকতুলা মু’মিনান ইলা-খাতাআওঁ ওয়ামান কাতালা মু’মিনান খাতাআন ফাতাহরীরু রাকাবাতিম মু’মিনাতিওঁ ওয়া দিয়াতুম মুছাল্লামাতুন ইলা আহলিহী ইলাআইঁ ইয়াসসাদ্দাকূ ফাইন কা-না মিন কাওমিন ‘আদুওবিল্লাকুম ওয়া হুওয়া মু’মিনুন ফাতাহরীরু রাকাবাতিম মু’মিনাতিওঁ ওয়া ইন কা-না মিন কাওমিম বাইনাকুম ওয়া বাইনাহুম মীছা-কুন ফাদিয়াতুম মুছাল্লামাতুন ইলাআহলিহী ওয়া তাহরীরু রাকাবাতিম মু’মিনাতিন ফামাল্লাম ইয়াজিদ ফাসিয়া-মুশাহরাইনি মুতাতা-বি‘আইনি তাওবাতাম মিনাল্লাহি ওয়া কা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা-।

এটা কোনও মুসলিমের কাজ হতে পারে না যে, সে (ইচ্ছাকৃত) কোনও মুসলিমকে হত্যা করবে। ভুলবশত এরূপ হয়ে গেলে সেটা ভিন্ন কথা। ৬৬ যে ব্যক্তি কোনও মুসলিমকে ভুলবশত হত্যা করবে, (তার উপর ফরয) একজন মুসলিম গোলামকে আযাদ করা এবং নিহতের ওয়ারিশদেরকে দিয়াত (রক্তপণ) আদায় করা, অবশ্য তারা ক্ষমা করে দিলে ভিন্ন কথা। নিহত ব্যক্তি যদি তোমাদের শত্রু সম্প্রদায়ের লোক হয়, কিন্তু সে নিজে মুসলিম, তবে (কেবল একজন মুসলিম গোলামকে আযাদ করা, ফরয দিয়াত বা রক্তপণ দিতে হবে না)। ৬৭ নিহত ব্যক্তি যদি এমন সম্প্রদায়ের লোক হয় (যারা মুসলিম নয় বটে, কিন্তু) যাদের ও তোমাদের মধ্যে কোন চুক্তি সম্পাদিত রয়েছে, তবে (সেক্ষেত্রেও) তার ওয়ারিশদেরকে রক্তপণ দেওয়া ও একজন মুসলিম গোলাম আযাদ করা (ফরয)। ৬৮ অবশ্য কারও কাছে (গোলাম) না থাকলে সে অনবরত দু’মাস রোযা রাখবে। এটা আল্লাহর পক্ষ হতে দেওয়া তাওবার ব্যবস্থা। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

৬৬. ভুলবশত হত্যার অর্থ হল, কাউকে হত্যা করা উদ্দেশ্য ছিল না; বরং বেখেয়ালে গুলি বের হয়ে গেছে অথবা উদ্দেশ্য ছিল কোনও জন্তুকে মারা, কিন্তু নিশানা ভুল হওয়ার কারণে গুলি লেগে গেছে কোনও মানুষের গায়ে পরিভাষায় একে ‘কাত্লুল খাতা’ বা ‘ভুলবশত হত্যা’ বলে। আয়াতে এর বিধান বলা হয়েছে দু’টি। (ক) হত্যাকারীকে কাফফারা আদায় করতে হবে এবং (খ) দিয়াত দিতে হবে। কাফফারা হল একজন মুসলিম গোলামকে আযাদ করা, আর গোলাম পাওয়া না গেলে একাধারে দু’মাস রোযা রাখা। দিয়াত অর্থাৎ রক্তপণ হল একশ’ উট বা দশ হাজার দিরহাম বা এক হাজার দীনার, যেমন বিভিন্ন হাদীসে বলা হয়েছে।
৯৩

وَمَنۡ یَّقۡتُلۡ مُؤۡمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُہٗ جَہَنَّمُ خٰلِدًا فِیۡہَا وَغَضِبَ اللّٰہُ عَلَیۡہِ وَلَعَنَہٗ وَاَعَدَّ لَہٗ عَذَابًا عَظِیۡمًا ٩٣

ওয়া মাইঁ ইয়াকতুলমু’মিনাম মুতা‘আম্মিদান ফাজাঝাউহূজাহান্নামুখা-লিদান ফীহা-ওয়া গাদিবাল্লা-হু ‘আললইহি ওয়া লা‘আনাহু ওয়া আ‘আদ্দাল্লাহু ‘আযা-বান ‘আজীমা-।

যে ব্যক্তি কোনও মুসলিমকে জেনেশুনে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম, যাতে সে সর্বদা থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি গযব নাযিল করবেন ও তাকে লানত করবেন। আর আল্লাহ তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
৯৪

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا ضَرَبۡتُمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ فَتَبَیَّنُوۡا وَلَا تَقُوۡلُوۡا لِمَنۡ اَلۡقٰۤی اِلَیۡکُمُ السَّلٰمَ لَسۡتَ مُؤۡمِنًا ۚ تَبۡتَغُوۡنَ عَرَضَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۫ فَعِنۡدَ اللّٰہِ مَغَانِمُ کَثِیۡرَۃٌ ؕ کَذٰلِکَ کُنۡتُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ فَمَنَّ اللّٰہُ عَلَیۡکُمۡ فَتَبَیَّنُوۡا ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرًا ٩٤

ইয়াআইয়ূহাল্লাযীনা আ-মানূইযা-দারাবতুম ফীছাবীলিল্লা-হি ফাতাবাইইয়ানূওয়ালাতাকূলূলিমান আলকাইলাইকুমছ ছালা-মা লাছতা মু’মিনান তাবতাগূনা ‘আরাদাল হায়া-তিদ্দুনইয়া- ফা‘ইনদাল্লা-হি মাগা-নিমুকাছীরাতুন কাযা-লিকা কুনতুম মিন কাবলুফামান্নাল্লা-হু ‘আল্লাইকুম ফাতাবাইইয়ানূ ইন্নাল্লা-হা কা-না বিমা-তা‘মালূনা খাবীরা-।

হে মুমিনগণ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে সফর করবে, তখন যাচাই-বাছাই করে দেখবে। কেউ তোমাদেরকে সালাম দিলে পার্থিব জীবনের উপকরণ লাভের আকাঙ্ক্ষায় তাকে বলবে না যে, ‘তুমি মুমিন নও’। ৬৯ কেননা আল্লাহ নিকট প্রচুর গনীমতের সম্পদ রয়েছে। তোমরাও তো পূর্বে এ রকমই ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করলেন। ৭০ সুতরাং যাচাই-বাছাই করে দেখবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা-কিছু কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবগত।

তাফসীরঃ

৬৯. ‘আল্লাহর পথে সফর করা’ দ্বারা জিহাদে যাওয়া বোঝানো হয়েছে। একবার একটা ঘটনা ঘটে যে, এক জিহাদের সময় কিছু সংখ্যক অমুসলিম নিজেদের মুসলিম হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দানের লক্ষ্যে সাহাবায়ে কেরামকে সালাম দিল। সাহাবীগণ মনে করলেন, তারা কেবল নিজেদের প্রাণ রক্ষার উদ্দেশ্যেই সালাম দিয়েছে; প্রকৃতপক্ষে তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি। সুতরাং তারা তাদেরকে হত্যা করে ফেললেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়। এতে মূলনীতি বলে দেওয়া হয়েছে যে, কোনও ব্যক্তি যদি আমাদের সামনে ইসলাম গ্রহণ করে এবং ইসলামের সমস্ত আকীদা-বিশ্বাস স্বীকার করে নেয়, তবে আমরা তাকে মুসলিমই মনে করব আর তার মনের অবস্থা আল্লাহর কাছে ছেড়ে দেব। প্রকাশ থাকে যে, আয়াতে আদৌ এরূপ বলা হয়নি যে, কোনও ব্যক্তি কুফরী আকীদা-বিশ্বাস পোষণ করা সত্ত্বেও কেবল ‘আস-সালামু আলাইকুম’ বলে দেওয়ার কারণে তাকে মুসলিম গণ্য করতে হবে।
৯৫

لَا یَسۡتَوِی الۡقٰعِدُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ غَیۡرُ اُولِی الضَّرَرِ وَالۡمُجٰہِدُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ بِاَمۡوَالِہِمۡ وَاَنۡفُسِہِمۡ ؕ  فَضَّلَ اللّٰہُ الۡمُجٰہِدِیۡنَ بِاَمۡوَالِہِمۡ وَاَنۡفُسِہِمۡ عَلَی الۡقٰعِدِیۡنَ دَرَجَۃً ؕ  وَکُلًّا وَّعَدَ اللّٰہُ الۡحُسۡنٰی ؕ  وَفَضَّلَ اللّٰہُ الۡمُجٰہِدِیۡنَ عَلَی الۡقٰعِدِیۡنَ اَجۡرًا عَظِیۡمًا ۙ ٩٥

লা-ইয়াছতাবিলকা-‘ইদূ না মিনাল মু’মিনীনা গাইরু উলিদ্দারারি ওয়াল মুজা-হিদূ না ফী ছাবীলিল্লা-হি বিআমওয়া-লিহিম ওয়া আনফুছিহিম ফাদ্দালাল্লা-হুল মুজা-হিদীনা বিআমওয়া-লিহিম ওয়া আনফুসিহিম ‘আলাল কা-‘ইদীনা দারাজাতাওঁ ওয়াকুল্লাওঁ ওয়া‘আদাল্লা-হুল হুছনা- ওয়াফাদ্দালাল্লা-হুল মুজা-হিদীনা ‘আলাল কা-‘ইদীনা আজরান ‘আজীমা-।

যে মুসলিমগণ কোনও ওযর না থাকা সত্ত্বেও (যুদ্ধে যোগদান না করে বরং ঘরে) বসে থাকে, তারা ও আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দ্বারা জিহাদকারীগণ সমান নয়। যারা নিজেদের মাল ও জান দ্বারা জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে, যারা বসে থাকে তাদের উপর মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তবে আল্লাহ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ৭১ আর যারা ঘরে বসে থাকে আল্লাহ তাদের উপর মুজাহিদদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে মহা পুরস্কার দান করেছেন।

তাফসীরঃ

৭১. জিহাদ যখন সকলের উপর ফরযে আইন থাকে না, এটা সেই অবস্থার কথা। সে ক্ষেত্রে যারা জিহাদে না গিয়ে ঘরে বসে থাকে, যদিও তাদের কোনও গুনাহ নেই এবং ঈমান ও অন্যান্য সৎকর্মের কারণে আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের জন্য জান্নাতের ওয়াদাও রয়েছে, কিন্তু তাদের চেয়ে যারা জিহাদে যোগদান করে তাদের মর্যাদা অনেক বেশি। তবে জিহাদ যখন ‘ফরযে আইন’ হয়ে যায় অর্থাৎ মুসলিমদের নেতা যখন সকল মুসলিমকে জিহাদে যোগদানের হুকুম দেয় কিংবা শত্রু বাহিনী যখন মুসলিমদের উপর চড়াও হয়, তখন ঘরে বসে থাকা হারাম হয়ে যায়।
৯৬

دَرَجٰتٍ مِّنۡہُ وَمَغۡفِرَۃً وَّرَحۡمَۃً ؕ  وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ٪ ٩٦

দারাজা-তিম মিনহু মাগফিরাতাওঁ ওয়া রাহমাতাওঁ ওয়াকা-নালা-হু গাফূরার রাহীমা-।

অর্থাৎ বিশেষভাবে নিজের পক্ষ হতে উচ্চ মর্যাদা, মাগফিরাত ও রহমত। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৯৭

اِنَّ الَّذِیۡنَ تَوَفّٰہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ ظَالِمِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ قَالُوۡا فِیۡمَ کُنۡتُمۡ ؕ  قَالُوۡا کُنَّا مُسۡتَضۡعَفِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ  قَالُوۡۤا اَلَمۡ تَکُنۡ اَرۡضُ اللّٰہِ وَاسِعَۃً فَتُہَاجِرُوۡا فِیۡہَا ؕ  فَاُولٰٓئِکَ مَاۡوٰىہُمۡ جَہَنَّمُ ؕ  وَسَآءَتۡ مَصِیۡرًا ۙ ٩٧

ইন্নাল্লাযীনা তাওয়াফফা-হুমুল মালাইকাতু জা-লিমীআনফুছিহিম কা-লূফীমা কুনতুম কা-লূকুন্না-মুছতাদ‘আফীনা ফিল আরদি কা-লূআলাম তাকুন আরদুল্লা-হি ওয়া-ছি‘আতান ফাতুহা-জিরূ ফীহা- ফাউলাইকা মা’ওয়া-হুম জাহান্নামু ওয়াছাআত মাসীরা-।

নিজ সত্তার উপর জুলুমরত থাকা অবস্থায়ই ৭২ ফিরিশতাগণ যাদের রূহ কব্জা করার জন্য আসে, (তাদেরকে লক্ষ্য করে) তারা বলে, তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা বলে, যমীনে আমাদেরকে অসহায় করে রাখা হয়েছিল। ফিরিশতাগণ বলে, আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে? সুতরাং এরূপ লোকদের ঠিকানা জাহান্নাম এবং তা অতি মন্দ পরিণতি।

তাফসীরঃ

৭২. ‘নিজ সত্তার উপর জুলুম করা’ কুরআন মাজীদের একটি পরিভাষা। এর অর্থ কোনও গুনাহে লিপ্ত হওয়া। বস্তুত গুনাহ করার দ্বারা মানুষ নিজ সত্তারই ক্ষতি করে থাকে। এ আয়াতে নিজ সত্তার উপর জুলুমকারী বলে সেই সকল লোককে বোঝানো হয়েছে, যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মক্কা মুকাররমা থেকে মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরত করেনি। মুসলিমদের উপর যখন হিজরতের হুকুম আসে তখন মক্কায় অবস্থানকারী মুসলিমদের জন্য মদীনায় হিজরত করা ফরয হয়ে গিয়েছিল; হিজরতকে তাদের ঈমানের অপরিহার্য দাবী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। কেউ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হিজরত না করলে তাকে মুসলিমই গণ্য করা হত না। এ রকমই কিছু লোকের কাছে যখন ফিরিশতাগণ প্রাণ-সংহারের জন্য এসেছিলেন, তখন কী কথোপকথন হয়েছিল এ আয়াতে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে। হিজরতের হুকুম অমান্য করার কারণে তারা যেহেতু মুসলিমই থাকেনি, তাই তারা জাহান্নামী হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অবশ্য যারা কোনও অপারগতার কারণে হিজরত করতে পারে না, একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওযরের কারণে তারা ক্ষমাযোগ্য।
৯৮

اِلَّا الۡمُسۡتَضۡعَفِیۡنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَآءِ وَالۡوِلۡدَانِ لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ حِیۡلَۃً وَّلَا یَہۡتَدُوۡنَ سَبِیۡلًا ۙ ٩٨

ইল্লাল মুছতাদ‘আফীনা মিনাররিজা-লি ওয়াননিছাইওয়ালবিলদা-নি লা-ইয়াছতাতী‘ঊন হীলাতাওঁ ওয়ালা-ইয়াহতাদূনা ছাবীলা-।

তবে সেই সকল অসহায় নর, নারী ও শিশু (এই পরিণতি হতে) ব্যতিক্রম, যারা (হিজরতের) কোনও উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং (বের হওয়ার) কোনও পথ পায় না।
৯৯

فَاُولٰٓئِکَ عَسَی اللّٰہُ اَنۡ یَّعۡفُوَ عَنۡہُمۡ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَفُوًّا غَفُوۡرًا ٩٩

ফাউলাইকা ‘আসাল্লা-হু আইঁ ইয়া‘ফুওয়া ‘আনহুম ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আফুওওয়ান গাফূরা-।

তাদের ব্যাপারে পূর্ণ আশা রয়েছে যে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন। আল্লাহ বড় পাপমোচনকারী, অতি ক্ষমাশীল।
১০০

وَمَنۡ یُّہَاجِرۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ یَجِدۡ فِی الۡاَرۡضِ مُرٰغَمًا کَثِیۡرًا وَّسَعَۃً ؕ  وَمَنۡ یَّخۡرُجۡ مِنۡۢ بَیۡتِہٖ مُہَاجِرًا اِلَی اللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ ثُمَّ یُدۡرِکۡہُ الۡمَوۡتُ فَقَدۡ وَقَعَ اَجۡرُہٗ عَلَی اللّٰہِ ؕ  وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ٪ ١۰۰

ওয়া মাইঁ ইউহা-জির ফী ছাবীলিল্লা-হি ইয়াজিদ ফিল আরদিমুরা-গমান কাছীরাওঁ ওয়াছা‘আতাওঁ ওয়া মাইঁ ইয়াখরুজ মিম বাইতিহী মুহা-জিরান ইলাল্লা-হি ওয়ারাছূলিহি ছু ম্মা ইউদরিকহুল মাওতুফাকাদ ওয়াকা‘আ আজরুহূ‘আলাল্লা-হি ওয়া কা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা-।

যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে হিজরত করবে, সে যমীনে বহু জায়গা ও প্রশস্ততা পাবে। আর যে ব্যক্তি নিজ গৃহ থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করার জন্য বের হয়, অতঃপর তার মৃত্যু এসে পড়ে, তারও সওয়াব আল্লাহর কাছে স্থিরীকৃত রয়েছে। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১০১

وَاِذَا ضَرَبۡتُمۡ فِی الۡاَرۡضِ فَلَیۡسَ عَلَیۡکُمۡ جُنَاحٌ اَنۡ تَقۡصُرُوۡا مِنَ الصَّلٰوۃِ ٭ۖ اِنۡ خِفۡتُمۡ اَنۡ یَّفۡتِنَکُمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ اِنَّ الۡکٰفِرِیۡنَ کَانُوۡا لَکُمۡ عَدُوًّا مُّبِیۡنًا ١۰١

ওয়া ইযা-দারাবতুম ফিল আরদিফালাইছা ‘আলাইকুম জুনা-হুন আন তাকসুরূমিনাসসালা-তি ইন খিফতুম আইঁ ইয়াফতিনাকুমুল্লাযীনা কাফারূ ইন্নাল কা-ফিরীনা কা-নূলাকুম ‘আদুওওয়াম মুবীনা-।

তোমরা যখন যমীনে সফর কর এবং তোমাদের আশংকা হয় যে, কাফিরগণ তোমাদেরকে বিপন্ন করবে, তখন সালাত কসর করলে তাতে তোমাদের কোনও গুনাহ নেই। ৭৩ নিশ্চয়ই কাফিরগণ তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

তাফসীরঃ

৭৩. আল্লাহ তাআলা সফর অবস্থায় জোহর, আসর ও ইশার নামায অর্ধেক করে দিয়েছেন। একে কসর বলে। সাধারণ সফরে সর্বাবস্থায় কসর ওয়াজিব, তাতে শত্রুর ভয় থাকুক বা নাই থাকুক। কিন্তু এস্থলে এক বিশেষ ধরনের কসর সম্পর্কে আলোচনা করা উদ্দেশ্য, যা কেবল শত্রুর সাথে মুকাবিলা করার সময়ই প্রযোজ্য। তাতে এই সুবিধাও দেওয়া হয়েছে যে, মুসলিম সৈন্যগণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একই ইমামের পেছনে পালাক্রমে এক রাকাআত করে আদায় করবে এবং দ্বিতীয় রাকাআত পরে একাকী পূর্ণ করবে। পরবর্তী আয়াতে এর নিয়ম বলে দেওয়া হয়েছে। এটা যেহেতু বিশেষ ধরনের কসর, যাকে ‘সালাতুল খাওফ’ বলা হয় এবং শত্রুর সাথে মুকাবিলাকালেই প্রযোজ্য হয়, তাই এর জন্য শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে, ‘তোমাদের আশঙ্কা হয় কাফিরগণ তোমাদেরকে বিপন্ন করবে’ (ইবনে জারীর)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘যাতুর রিকা’-এর যুদ্ধকালে ‘সালাতুল খাওফ’ পড়েছিলেন। সালাতুল খাওফের বিস্তারিত নিয়ম হাদীস ও ফিকহের গ্রন্থাবলীতে বর্ণিত হয়েছে।
১০২

وَاِذَا کُنۡتَ فِیۡہِمۡ فَاَقَمۡتَ لَہُمُ الصَّلٰوۃَ فَلۡتَقُمۡ طَآئِفَۃٌ مِّنۡہُمۡ مَّعَکَ وَلۡیَاۡخُذُوۡۤا اَسۡلِحَتَہُمۡ ۟ فَاِذَا سَجَدُوۡا فَلۡیَکُوۡنُوۡا مِنۡ وَّرَآئِکُمۡ ۪ وَلۡتَاۡتِ طَآئِفَۃٌ اُخۡرٰی لَمۡ یُصَلُّوۡا فَلۡیُصَلُّوۡا مَعَکَ وَلۡیَاۡخُذُوۡا حِذۡرَہُمۡ وَاَسۡلِحَتَہُمۡ ۚ وَدَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡ تَغۡفُلُوۡنَ عَنۡ اَسۡلِحَتِکُمۡ وَاَمۡتِعَتِکُمۡ فَیَمِیۡلُوۡنَ عَلَیۡکُمۡ مَّیۡلَۃً وَّاحِدَۃً ؕ وَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ اِنۡ کَانَ بِکُمۡ اَذًی مِّنۡ مَّطَرٍ اَوۡ کُنۡتُمۡ مَّرۡضٰۤی اَنۡ تَضَعُوۡۤا اَسۡلِحَتَکُمۡ ۚ وَخُذُوۡا حِذۡرَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ اَعَدَّ لِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابًا مُّہِیۡنًا ١۰٢

ওয়া ইযা-কুনতা ফীহিম ফাআকামতালাহুমুসসালা-তা ফালতাকুম তাইফাতুম মিনহুম মা‘আকা ওয়ালইয়া’খুযূআছলিহাতাহুম ফাইযা-ছাজাদূফালইয়াকূনূমিওঁ ওয়া রাইকুম ওয়ালতা’তি তাইফাতুন উখরা-লাম ইউসাললূফালইউসাললূমা‘আকা ওয়ালইয়া’খুযুহিযরাহুম ওয়া আছলিহাতাহুম ওয়াদ্দাল্লাযীনা কাফারু লাও তাগফুলূনা ‘আন আছলিহাতিকুম ওয়া আমতি‘আতিকুম ফাইয়ামীলূনা ‘আলাইকুম মাইলাতাওঁ ওয়া-হিদাতাওঁ ওয়ালা-জুনা-হা ‘আলাইকুম ইন কা-না বিকুম আযাম মিম্মাতারিন আও কুনতুম মারদা-আন তাদাঊ-আছলিহাতাকুম ওয়া খুযূহিযরাকুম ইন্নাল্লাহা আ‘আদ্দা লিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বাম মুহীনা-।

এবং (হে নবী!) তুমি যখন তাদের মধ্যে উপস্থিত থাক ও তাদের নামায পড়াও, তখন (শত্রুর সাথে মুকাবিলার সময় তার নিয়ম এই যে,) মুসলিমদের একটি দল তোমার সাথে দাঁড়াবে এবং নিজেদের অস্ত্র সাথে রাখবে। অতঃপর তারা যখন সিজদা করে নেবে, তখন তারা তোমাদের পিছনে চলে যাবে এবং অন্য দল, যারা এখনও নামায পড়েনি, সামনে এসে যাবে এবং তারা তোমার সাথে নামায পড়বে। তারাও নিজেদের আত্মরক্ষার উপকরণ ও অস্ত্র সাথে রাখবে। কাফিরগণ কামনা করে, তোমরা যেন তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও আসবাবপত্র সম্বন্ধে অসতর্ক হও, যাতে তারা অতর্কিতে তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমরা পীড়িত থাক, তবে নিজেদের অস্ত্র রেখে দিলেও তোমাদের কোনও গুনাহ নেই; কিন্তু আত্মরক্ষার সামগ্রী সাথে রাখবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।
১০৩

فَاِذَا قَضَیۡتُمُ الصَّلٰوۃَ فَاذۡکُرُوا اللّٰہَ قِیٰمًا وَّقُعُوۡدًا وَّعَلٰی جُنُوۡبِکُمۡ ۚ فَاِذَا اطۡمَاۡنَنۡتُمۡ فَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ ۚ اِنَّ الصَّلٰوۃَ کَانَتۡ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ کِتٰبًا مَّوۡقُوۡتًا ١۰٣

ফাইযা-কাদাইতুমুসসালা-তা ফাযকুরুল্লা-হা কিয়া-মাওঁ ওয়াকু‘ঊদাওঁ ওয়া‘আলা জুনূবিকুম ফাইযাতমা’নানতুম ফাআকীমুস সালা-তা ইন্নাসসালা-তা কা-নাত ‘আলাল মু’মিনীনা কিতা-বাম মাওকূতা-।

যখন তোমরা সালাত আদায় করে ফেলবে, তখন আল্লাহকে (সর্বাবস্থায়) স্মরণ করতে থাকবে দাঁড়িয়ে, বসে এবং শোওয়া অবস্থায়ও। ৭৪ অতঃপর যখন (শত্রুর দিক থেকে) নিরাপত্তা বোধ করবে, তখন সালাত যথারীতি আদায় করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুসলিমদের এক অবশ্য পালনীয় কাজ নির্ধারিত সময়ে।

তাফসীরঃ

৭৪. অর্থাৎ সফর বা ভীতি অবস্থায় নামায কসর (সংক্ষেপ) হয় বটে, কিন্তু আল্লাহর যিকির সর্বাবস্থায়ই চালু রাখা চাই। কেননা এর জন্য যেমন কোনও সময় নির্দিষ্ট নেই, তেমনি পদ্ধতিও। দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে সর্বাবস্থায়ই যিকির করা যেতে পারে।
১০৪

وَلَا تَہِنُوۡا فِی ابۡتِغَآءِ الۡقَوۡمِ ؕ  اِنۡ تَکُوۡنُوۡا تَاۡلَمُوۡنَ فَاِنَّہُمۡ یَاۡلَمُوۡنَ کَمَا تَاۡلَمُوۡنَ ۚ  وَتَرۡجُوۡنَ مِنَ اللّٰہِ مَا لَا یَرۡجُوۡنَ ؕ  وَکَانَ اللّٰہُ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ٪ ١۰٤

ওয়ালা-তাহিনূফিবতিগাইল কাওমি ইন তাকূনূতা’লামূনা ফাইন্নাহুম ইয়া’লামূনা কামাতা’লামূনা, ওয়া তারজূনা মিনাল্লা-হি মা-লা ইয়ারজূনাওয়া কা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা-।

তোমরা ওই সব লোকের (অর্থাৎ কাফির দুশমনদের) অনুসন্ধানে দুর্বলতা দেখিয়ো না। তোমাদের যদি কষ্ট হয়ে থাকে, তবে তাদেরও তো তোমাদেরই মত কষ্ট হয়। ৭৫ আর তোমরা আল্লাহর কাছে এমন জিনিসের আশা কর, যার আশা তারা করে না। ৭৬ আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

৭৫. যুদ্ধ শেষে মানুষ ক্লান্ত-শ্রান্ত থাকে এবং তখন শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করা কঠিন মনে হয়, কিন্তু তখনও যদি সামরিক দৃষ্টিতে সমীচীন মনে হয় এবং সেনাপতি হুকুম দেয়, তবে পশ্চাদ্ধাবন করা অবশ্য কর্তব্য। বিষয়টি এভাবে চিন্তা করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে যে, তোমরা যেমন ক্লান্ত তেমনি তো শত্রুও। আর মুসলিমদের তো আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে সাহায্য ও সওয়াবের আশা আছে, যা শত্রুদের নেই।
১০৫

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ الۡکِتٰبَ بِالۡحَقِّ لِتَحۡکُمَ بَیۡنَ النَّاسِ بِمَاۤ اَرٰىکَ اللّٰہُ ؕ  وَلَا تَکُنۡ لِّلۡخَآئِنِیۡنَ خَصِیۡمًا ۙ ١۰٥

ইন্না-আনঝালনাইলাইকাল কিতা-বা বিলহাক্কিলিতাহকুমা বাইনান্না-ছি বিমাআরা-কাল্লাহু ওয়ালা-তাকুল লিলখাইনীনা খাসীমা-।

নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্য-সম্বলিত কিতাব নাযিল করেছি, যাতে আল্লাহ তোমাকে যে উপলব্ধি দিয়েছেন, সে অনুযায়ী মানুষের মধ্যে মীমাংসা করতে পার। আর তুমি খেয়ানতকারীদের পক্ষাবলম্বনকারী হয়ো না। ৭৭

তাফসীরঃ

৭৭. এ আয়াতসমূহ যদিও সাধারণ পথ-নির্দেশ সম্বলিত, কিন্তু নাযিল হয়েছে বিশেষ এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। বনু উবায়রিকের বিশর নামক এক ব্যক্তি, যে বাহ্যিকভাবে মুসলিম ছিল, হযরত রিফাআ নামক এক সাহাবীর ঘর থেকে কিছু খাদ্যশস্য ও হাতিয়ার চুরি করে নিয়ে যায়। আর নেওয়ার সময় সে এই চালাকি করে যে, খাদ্যশস্য যে বস্তায় ছিল তার মুখ কিছুটা আলগা করে রাখে। ফলে রাস্তায় অল্প-অল্প গম পড়তে থাকে। এভাবে যখন এক ইয়াহুদীর বাড়ির দরজায় পৌঁছায় তখন সে বস্তার মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। পরে আবার চোরাই হাতিয়ারও সেই ইয়াহুদীর বাড়িতে রেখে আসে, অতঃপর যখন অনুসন্ধান করা হল, তখন একে তো ইয়াহুদীর বাড়ি পর্যন্ত খাদ্যশস্য পড়ে থাকতে দেখা গেল। দ্বিতীয়ত: হাতিয়ারও তার বাড়িতেই পাওয়া গেল। তাই প্রথম দিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেয়াল এ দিকেই গেল যে, সেই ইয়াহুদীই চুরি করেছে। ইয়াহুদীকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলল, হাতিয়ার তো বিশর নামক এক ব্যক্তি আমার কাছে রেখে গেছে। কিন্তু সে যেহেতু এর সপক্ষে কোনও সাক্ষ্য-প্রমাণ পেশ করতে পারছিল না, তাই তাঁর ধারণা হল সে নিজের জান বাঁচানোর জন্যই বিশরের নাম নিচ্ছে। অপর দিকে বিশরের খান্দান বনু উবায়রিকের লোকজনও বিশরের পক্ষাবলম্বন করল এবং তারা জোর দিয়ে বলল, বিশরের নয়; বরং ওই ইয়াহুদীরই শাস্তি হওয়া উচিত। এ পরিস্থিতিতেই এ আয়াত নাযিল হয় এবং এর মাধ্যমে বিশরের ধোঁকাবাজীর মুখোশ খুলে দেওয়া হয়। আর ইয়াহুদীকে সম্পূর্ণ নিরপরাধ সাব্যস্ত করা হয়। বিশর যখন জানতে পারল গোমর ফাঁস হয়ে গেছে, তখন সে পালিয়ে মক্কায় চলে গেল এবং কাফিরদের সাথে মিলিত হল। সেখানেই কাফেররূপে অত্যন্ত ঘৃণিত অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এ আয়াতসমূহের দ্বারা এক দিকে তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে ঘটনার প্রকৃত অবস্থা উন্মোচন করে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে মামলা-মোকদ্দমায় ফায়সালা দানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি বাতলে দেওয়া হয়। প্রথম মূলনীতি হল, যে-কোনও ফায়সালা আল্লাহ তাআলার কিতাবে প্রদত্ত বিধানাবলীর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। দ্বিতীয় মূলনীতি এই যে, আল্লাহ তাআলা নিজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বিভিন্ন সময়ে এমন বহু বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কুরআন মাজীদে সরাসরি যার উল্লেখ নেই। ফায়সালা দানের সময় বিচারককে তা থেকেও আলো নিতে হবে। এরই প্রতি ইঙ্গিত করে আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যাতে আল্লাহ তোমাকে যে উপলব্ধি দিয়েছেন, সে অনুযায়ী মানুষের মধ্যে ফায়সালা করতে পার।’ এতদদ্বারা কুরআন মাজীদের বাইরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহও যে প্রামাণ্য মর্যাদা রাখে, তার প্রতিও ইশারা করা হয়েছে। তৃতীয় মূলনীতি এই বলা হয়েছে যে, মামলা-মোকদ্দমায় যে ব্যক্তি সম্পর্কেই জানা যাবে, সে ন্যায়ের উপরে নেই, তার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ও তার উকিল হওয়া জায়েয নয়। বনু উবায়রিক বিশরের পক্ষে ওকালতি করলে তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে, প্রথমত এ ওকালতিই জায়েয নয়। দ্বিতীয়তঃ অভিযুক্ত ব্যক্তি এর দ্বারা বড়জোর দুনিয়ার জীবনে উপকৃত হবে। আখিরাতে তোমাদের ওকালতি তাকে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচাতে পারবে না।
১০৬

وَّاسۡتَغۡفِرِ اللّٰہَ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ۚ ١۰٦

ওয়াছতাগফিরিল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা কা-না গাফূরার রাহীমা-।

এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১০৭

وَلَا تُجَادِلۡ عَنِ الَّذِیۡنَ یَخۡتَانُوۡنَ اَنۡفُسَہُمۡ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ مَنۡ کَانَ خَوَّانًا اَثِیۡمًا ۚۙ ١۰٧

ওয়ালা তুজা-দিল ‘আনিল্লাযীনা ইয়াখতা-নূনা আনফুছাহুম ইন্নাল্লা-হা লা-ইউহিব্বুমান কা-না খাওওয়া-নান আছীমা-।

এবং যারা নিজেদের সঙ্গেই খেয়ানত করে তুমি তাদের পক্ষে বাক-বিতণ্ডা করো না। আল্লাহ কোনও খেয়ানতকারী পাপিষ্ঠকে পছন্দ করেন না।
১০৮

یَّسۡتَخۡفُوۡنَ مِنَ النَّاسِ وَلَا یَسۡتَخۡفُوۡنَ مِنَ اللّٰہِ وَہُوَ مَعَہُمۡ اِذۡ یُبَیِّتُوۡنَ مَا لَا یَرۡضٰی مِنَ الۡقَوۡلِ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ مُحِیۡطًا ١۰٨

ইয়াছতাখফূনা মিনান্না-ছি ওয়ালা-ইয়াছতাখফূনা মিনাল্লা-হি ওয়া হুওয়া মা‘আহুম ইয ইউবাইয়িতূনা মা-লা-ইয়ারদা-মিনাল কাওলি ওয়া কা-নাল্লা-হু বিমা-ইয়া‘মালূনা মুহীতা-।

তারা মানুষের সাথে তো লজ্জা করে, কিন্তু আল্লাহর সাথে লজ্জা করে না, অথচ তারা রাতের বেলা যখন আল্লাহর অপছন্দনীয় কথা বলে তখনও তিনি তাদের সঙ্গে থাকেন। তারা যা-কিছু করছে তা সবই আল্লাহর আয়ত্তে।
১০৯

ہٰۤاَنۡتُمۡ ہٰۤؤُلَآءِ جٰدَلۡتُمۡ عَنۡہُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۟ فَمَنۡ یُّجَادِلُ اللّٰہَ عَنۡہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ اَمۡ مَّنۡ یَّکُوۡنُ عَلَیۡہِمۡ وَکِیۡلًا ١۰٩

হাআনতুম হাউলাই জা-দালতুম ‘আনহুম ফিল হায়া-তিদ্দুনইয়া- ফামাইঁ ইউজাদিলুল্লা-হা ‘আনহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি আম মাইঁ ইয়াকূনু‘আলাইহিম ওয়াকীলা-।

তোমাদের ক্ষমতা তো এতটুকুই যে, পার্থিব জীবনে তাদের (অর্থাৎ খেয়ানতকারীদের) অনুকূলে (মানুষের সাথে) বাক-বিতণ্ডা করলে। কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে কে তাদের অনুকূলে বাক-বিতণ্ডা করবে বা কে তাদের উকিল হবে?
১১০

وَمَنۡ یَّعۡمَلۡ سُوۡٓءًا اَوۡ یَظۡلِمۡ نَفۡسَہٗ ثُمَّ یَسۡتَغۡفِرِ اللّٰہَ یَجِدِ اللّٰہَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ١١۰

ওয়ামাইঁ ইয়া‘মাল ছূআন আও ইয়াজলিম নাফছাহূছু ম্মা ইয়াছতাগফিরিল্লা-হা ইয়াজিদিল্লাহা গাফূরার রাহীমা-।

যে ব্যক্তি কোনও মন্দ কাজ করে ফেলে বা নিজের প্রতি জুলুম করে বসে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, সে অবশ্যই আল্লাহকে অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালুই পাবে।
১১১

وَمَنۡ یَّکۡسِبۡ اِثۡمًا فَاِنَّمَا یَکۡسِبُہٗ عَلٰی نَفۡسِہٖ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ١١١

ওয়া মাই ইয়াকছিব ইছমান ফাইন্নামা-ইয়াকছিবুহূ‘আলা-নাফছিহী ওয়া কা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা-।

যে ব্যক্তি কোনও গুনাহ কামায়, সে তো তা কামায় তার নিজেরই ক্ষতি সাধনে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
১১২

وَمَنۡ یَّکۡسِبۡ خَطِیۡٓىـَٔۃً اَوۡ اِثۡمًا ثُمَّ یَرۡمِ بِہٖ بَرِیۡٓــًٔا فَقَدِ احۡتَمَلَ بُہۡتَانًا وَّاِثۡمًا مُّبِیۡنًا ٪ ١١٢

ওয়া মাইঁ ইয়াকছিব খাতীআতান আও ইছমান ছু ম্মা ইয়ারমি বিহী বারীআন ফাকাদিহতামালা বুহতা-নাওঁ ওয়া ইছমাম মুবীনা-।

যে ব্যক্তি কোনও দোষ বা পাপকর্মে লিপ্ত হয়, তারপর কোনও নির্দোষ ব্যক্তির উপর তা চাপায়, সে নিজের উপর গুরুতর অপবাদ ও প্রকাশ্য গুনাহের ভার চাপিয়ে দেয়।
১১৩

وَلَوۡلَا فَضۡلُ اللّٰہِ عَلَیۡکَ وَرَحۡمَتُہٗ لَہَمَّتۡ طَّآئِفَۃٌ مِّنۡہُمۡ اَنۡ یُّضِلُّوۡکَ ؕ وَمَا یُضِلُّوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡفُسَہُمۡ وَمَا یَضُرُّوۡنَکَ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ وَاَنۡزَلَ اللّٰہُ عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ وَالۡحِکۡمَۃَ وَعَلَّمَکَ مَا لَمۡ تَکُنۡ تَعۡلَمُ ؕ وَکَانَ فَضۡلُ اللّٰہِ عَلَیۡکَ عَظِیۡمًا ١١٣

ওয়া লাওলা-ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকা ওয়া রাহমাতুহূলাহাম্মাত তাইফাতুম মিনহুম আইঁ ইউদিললূকা ওয়ামা-ইউদিললূনা ইলাআনফুছাহুম ওয়ামা-ইয়াদুররূনাকা মিন শাইইওঁ ওয়া আনঝালাল্লা-হু ‘আলাইকাল কিতা-বা ওয়াল হিকমাতা ওয়া ‘আল্লামাকা মা-লাম তাকুন তা‘লামু ওয়াকা-না ফাদলুল্লা-হি ‘আল্লাইকা ‘আজীমা-।

এবং (হে নবী!) তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকলে তাদের একটি দল তো তোমাকে সরল পথ হতে বিচ্যুত করার ইচ্ছা করেই ফেলত। ৭৮ (প্রকৃতপক্ষে) তারা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে পথভ্রষ্ট করছে না। তারা তোমার কিছুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং তোমাকে এমন সব বিষয়ে জ্ঞান দিয়েছেন, যা তুমি জানতে না। বস্তুত তোমার প্রতি সর্বদাই আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে।

তাফসীরঃ

৭৮. এর দ্বারা বিশর ও তার সমর্থকদের বোঝানো হয়েছে, যারা নিরপরাধ ইয়াহুদীকে ফাঁসাতে চেয়েছিল।
১১৪

لَا خَیۡرَ فِیۡ کَثِیۡرٍ مِّنۡ نَّجۡوٰىہُمۡ اِلَّا مَنۡ اَمَرَ بِصَدَقَۃٍ اَوۡ مَعۡرُوۡفٍ اَوۡ اِصۡلَاحٍۭ بَیۡنَ النَّاسِ ؕ وَمَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ ابۡتِغَآءَ مَرۡضَاتِ اللّٰہِ فَسَوۡفَ نُؤۡتِیۡـہِ اَجۡرًا عَظِیۡمًا ١١٤

লা-খাইরা ফী কাছীরিম মিন নাজওয়া-হুম ইল্লা-মান আমারা বিসাদাকাতিন আও মা‘রূফিন আও ইসলা-হিম বাইনান্না-ছি ওয়া মাইঁ ইয়াফ‘আল যা-লিকাব তিগাআ মারদাতিল্লা-হি ফাছাওফা নু’তীহি আজরান ‘আজীমা-।

মানুষের বহু গোপন কথায় কোনও কল্যাণ নেই। তবে কোনও ব্যক্তি দান-সদকা বা কোনও সৎকাজের কিংবা মানুষের মধ্যে মীমাংসার আদেশ করলে, সেটা ভিন্ন কথা। ৭৯ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তোষ লাভের উদ্দেশ্যে এরূপ করবে, আমি তাকে মহা প্রতিদান দেব।

তাফসীরঃ

৭৯. অর্থাৎ মানুষ গোপনে যেসব কথা বলে তা দ্বারা হয়তো অন্যের নিন্দা করা, কারও ক্ষতি করা বা অন্য কোন দূরভিসন্ধি করা হয়ে থাকে। এ সব গুপ্ত কথায় কারও কোন কল্যাণ নেই। তা সকলের জন্যই ক্ষতিকর। হ্যাঁ, দান-খয়রাতের কথা যদি হয়, তবে তা গোপনেই কল্যাণকর, যাতে দাতার রিয়া না হয় আর গ্রহিতাও লজ্জায় না পড়ে। এমনিভাবে কেউ কোন ভুল-ত্রুটি করলে তাকে গোপনেই সংশোধন করা চাই, যাতে মানুষের সামনে লজ্জা না পায়। দু’জনের মধ্যে আপসরফাও গোপনে করাই ফলপ্রসূ হয়। এসব গোপন কথায় কল্যাণ আছে। এতে আল্লাহ তাআলা খুশী হন এবং এর বিনিময়ে তিনি পুরস্কার দান করেন। এ ছাড়া অন্যসব সত্য-সঠিক কথা সাধারণত প্রকাশ্যেই বলা শ্রেয়। গোপনে বললে তা সন্দেহের জন্ম দেয়। কেননা নির্দোষ কথায় লুকাছাপার প্রয়োজন হয় না। -অনুবাদক
১১৫

وَمَنۡ یُّشَاقِقِ الرَّسُوۡلَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا تَبَیَّنَ لَہُ الۡہُدٰی وَیَتَّبِعۡ غَیۡرَ سَبِیۡلِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ نُوَلِّہٖ مَا تَوَلّٰی وَنُصۡلِہٖ جَہَنَّمَ ؕ  وَسَآءَتۡ مَصِیۡرًا ٪ ١١٥

ওয়া মাইঁ ইউশাকিকিররাছূলা মিম বা‘দি মা-তাবাইইয়ানা লাহুল হুদা-ওয়া ইয়াত্তাবি‘ গাইরা ছাবীলিল মু’মিনীনা নুওয়ালিল হী মা-তাওয়াল্লা-ওয়ানুসলিহী জাহান্নামা ওয়া ছাআত মাসীরা-।

আর যে ব্যক্তি তার সামনে হিদায়াত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে ও মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য কোনও পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেই পথেই ছেড়ে দেব, যা সে অবলম্বন করেছে। আর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব, যা অতি মন্দ ঠিকানা। ৮০

তাফসীরঃ

৮০. এ আয়াত দ্বারা উলামায়ে কিরাম বিশেষত ইমাম শাফিঈ (রহ.) প্রমাণ পেশ করেছেন যে, ইজমাও শরীয়তের একটি দলীল। অর্থাৎ গোটা উম্মত যে মাসআলা সম্পর্কে একমত হয়ে যায়, তা নিশ্চিতভাবে সঠিক এবং তার বিরুদ্ধাচরণ জায়েয নয়।
১১৬

اِنَّ اللّٰہَ لَا یَغۡفِرُ اَنۡ یُّشۡرَکَ بِہٖ وَیَغۡفِرُ مَا دُوۡنَ ذٰلِکَ لِمَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَمَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰہِ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلٰلًۢا بَعِیۡدًا ١١٦

ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াগফিরু আইঁ ইউশরাকা বিহী ওয়া ইয়াগফিরু মা-দূ না যা-লিকা লিমাই ইয়াশাউ ওয়ামাইঁ ইউশরিক বিল্লা-হিফাকাদ দাল্লা দালা-লাম বা‘ঈদা-।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। এর নিচের যে-কোনও গুনাহ যার ক্ষেত্রে চান ক্ষমা করে দেন। ৮১ যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে (কাউকে) শরীক করে, সে (সঠিক পথ থেকে) বহু দূরে সরে যায়।

তাফসীরঃ

৮১. অর্থাৎ শিরক অপেক্ষা নিচের গুনাহ আল্লাহ তাআলা যারটা চান, বিনা তাওবায় কেবল নিজ অনুগ্রহে ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু শিরকের গুনাহ ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা হতে পারে না যতক্ষণ না মুশরিক ব্যক্তি মৃত্যুর আগে খাঁটি মনে তাওবা করবে এবং ইসলাম ও তাওহীদ কবুল করে নেবে। পূর্বে ৪৮ নং আয়াতেও একথা বর্ণিত হয়েছে।
১১৭

اِنۡ یَّدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اِلَّاۤ اِنٰثًا ۚ  وَاِنۡ یَّدۡعُوۡنَ اِلَّا شَیۡطٰنًا مَّرِیۡدًا ۙ ١١٧

ইয়ঁইয়াদ‘ঊনা মিন দূ নিহী ইল্লা ইনা-ছাওঁ ওয়াই ইয়াদ‘ঊনা ইল্লা-শাইতা-নাম মারীদা-।

তারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্য যাদের কাছে প্রার্থনা জানায়, তারা কেবল কতিপয় নারী। ৮২ আর তারা যাকে ডাকে সে তো অবাধ্য শয়তান ছাড়া কেউ নয়

তাফসীরঃ

৮২. মক্কার কাফিরগণ যেই মনগড়া উপাস্যদের পূজা করত তাদেরকে নারী মনে করত, যেমন লাত, মানাত ও উযযা। তা ছাড়া ফিরিশতাগণকেও তারা আল্লাহর কন্যা বলত। আয়াতে ইশারা করা হয়েছে যে, এক দিকে তো তারা নারীদেরকে হীনতর সৃষ্টি মনে করে, অন্যদিকে যাদেরকে নিজেদের উপাস্য বানিয়ে রেখেছে তাদের ধারণা অনুযায়ী তারা সকলে নারী। কী হাস্যকর অসঙ্গতি!
১১৮

لَّعَنَہُ اللّٰہُ ۘ  وَقَالَ لَاَتَّخِذَنَّ مِنۡ عِبَادِکَ نَصِیۡبًا مَّفۡرُوۡضًا ۙ ١١٨

লা‘আনাহুল্লা-হু । ওয়াকা-লা লাআত্তাখিযান্না মিন ‘ইবা-দিকা নাসীবাম মাফরূদা-।

যার প্রতি আল্লাহ লানত করেছেন। আর সে (আল্লাহকে) বলেছিল, আমি তোমার বান্দাদের মধ্য হতে নির্ধারিত এক অংশকে নিয়ে নেব। ৮৩

তাফসীরঃ

৮৩. অর্থাৎ বহু লোককে গোমরাহ করে নিজের দলভুক্ত করে নেব এবং অনেকের দ্বারা আমার ইচ্ছামত কাজ করাব।
১১৯

وَّلَاُضِلَّنَّہُمۡ وَلَاُمَنِّیَنَّہُمۡ وَلَاٰمُرَنَّہُمۡ فَلَیُبَتِّکُنَّ اٰذَانَ الۡاَنۡعَامِ وَلَاٰمُرَنَّہُمۡ فَلَیُغَیِّرُنَّ خَلۡقَ اللّٰہِ ؕ  وَمَنۡ یَّتَّخِذِ الشَّیۡطٰنَ وَلِیًّا مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ فَقَدۡ خَسِرَ خُسۡرَانًا مُّبِیۡنًا ؕ ١١٩

ওয়ালা উদিল্লান্নাহুম ওয়ালা উমান্নিইয়ান্নাহুম ওয়ালা আ-মুরান্নাহুম ফালাইউবাত্তিকুন্না আ-যানাল আন‘আ-মি ওয়ালাআ-মুরান্নাহুম ফালাইউগাইয়িরুন্না খালকাল্লা-হি ওয়ামাইঁ ইয়াত্তাখিযিশশাইতা-না ওয়ালিইইয়াম মিন দূ নিল্লা-হি ফাকাদ খাছিরা খুছরা-নাম মুবীনা-।

এবং আমি তাদেরকে সরল পথ হতে নিশ্চিতভাবে বিচ্যুত করব, তাদেরকে (অনেক) আশা-ভরসা দেব এবং তাদেরকে আদেশ করব, ফলে তারা চতুষ্পদ জন্তুর কান চিরে ফেলবে এবং তাদেরকে আদেশ করব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে। ৮৪ যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে বন্ধু বানায়, সে সুস্পষ্ট লোকসানের মধ্যে পড়ে যায়।

তাফসীরঃ

৮৪. আরব কাফিরগণ কোনও কোনও জন্তুর কান চিরে প্রতিমার নামে উৎসর্গ করত। এরূপ জন্তু ব্যবহার করাকে তারা জায়েয মনে করত না। তাদের এই ভ্রান্ত রীতির প্রতিই আয়াতে ইশারা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এটা শয়তান করায়। আল্লাহর সৃষ্টিকে ‘বিকৃত করা’ বলতে এই কান চিরে ফেলাকেও বোঝানো হতে পারে। তা ছাড়া হাদীসে আছে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও কিছু কাজকে ‘সৃষ্টির বিকৃতি সাধন’ সাব্যস্ত করত: হারাম ঘোষণা দিয়েছেন, যেমন সে কালে নারীগণ তাদের রূপচর্চার অংশ হিসেবে সুঁই ইত্যাদি দ্বারা খুঁচিয়ে শরীরে উল্কি আঁকত, চেহারার প্রাকৃতিক লোম (যা দূষনীয় পর্যায়ের বড় হত না) তুলে ফেলত এবং কৃত্রিমভাবে দন্তরাজিকে ফাঁকা-ফাঁকা করে ফেলত। এ সবই আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিতে বিকৃতি সাধনের অন্তর্ভুক্ত, যা সম্পূর্ণ নাজায়েয। (এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাআরিফুল কুরআনে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় যে আলোচনা করা হয়েছে, তা দ্রষ্টব্য)।
১২০

یَعِدُہُمۡ وَیُمَنِّیۡہِمۡ ؕ وَمَا یَعِدُہُمُ الشَّیۡطٰنُ اِلَّا غُرُوۡرًا ١٢۰

ইয়া‘ইদূ হুম ওয়া ইউমান্নীহিম ওয়ামা-ইয়া‘ইদুহুমশশাইতা-নুইল্লা-গুরূরা-।

সে তো তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদেরকে আশা-আকাঙ্ক্ষায় লিপ্ত করে। ৮৫ (প্রকৃতপক্ষে) শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতিই দেয়, তা ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়।

তাফসীরঃ

৮৫. অর্থাৎ শয়তান তার অনুসারীদের প্রতিশ্রুতি দেয় যে, আমি তোমাদের সাহায্য করব। ফলে তোমরাই জয়যুক্ত হবে ও সফলতা লাভ করবে, আর আশা দেয় যে, অনেক দিন বাঁচবে, অনেক অর্থ-সম্পদ লাভ করবে, যত পাপই কর না কেন তাতে ক্ষতি নেই, আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং অবশ্যই তোমরা জান্নাতে যাবে। -অনুবাদক
১২১

اُولٰٓئِکَ مَاۡوٰىہُمۡ جَہَنَّمُ ۫ وَلَا یَجِدُوۡنَ عَنۡہَا مَحِیۡصًا ١٢١

উলাইকা মা’ওয়া-হুম জাহান্নামু ওয়ালা-ইয়াজিদূ না ‘আনহা-মাহীসা-।

তাদের সকলের ঠিকানা জাহান্নাম। তারা তা থেকে বাঁচার জন্য পালানোর কোনও পথ পাবে না।
১২২

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَنُدۡخِلُہُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقًّا ؕ وَمَنۡ اَصۡدَقُ مِنَ اللّٰہِ قِیۡلًا ١٢٢

ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ছানুদখিলুহুম জান্নাতিন তাজরি মিন তা হতিহাল আনহা-রু খালিদীনা ফীহা-আবাদাওঁ ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কাওঁ ওয়ামান আসদাকুমিনাল্লা-হি কীলা-।

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আমি তাদেরকে এমন সব বাগানে দাখিল করব, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে। এটা আল্লাহর ওয়াদা, যা সত্য। এবং কথায় আল্লাহ অপেক্ষা বেশি সত্যবাদী কে হতে পারে?
১২৩

لَیۡسَ بِاَمَانِیِّکُمۡ وَلَاۤ اَمَانِیِّ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ ؕ مَنۡ یَّعۡمَلۡ سُوۡٓءًا یُّجۡزَ بِہٖ ۙ وَلَا یَجِدۡ لَہٗ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیۡرًا ١٢٣

লাইছা বিআমা-নিইইয়ুকুম ওয়ালাআমা-নিইয়ি আহলিল কিতাবি মাইঁ ইয়া‘মাল ছূআইঁ ইউজঝা বিহী ওয়ালা-ইয়াজিদ লাহু মিন দূ নিল্লা-হি ওয়ালিইইয়াওঁ ওয়ালা-নাসীরা-।

(জান্নাতে যাওয়ার জন্য) না তোমাদের আকাঙ্ক্ষাসমূহ যথেষ্ট এবং না কিতাবীদের আকাঙ্ক্ষাসমূহ। যে-কেউ মন্দ কাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে এবং সে নিজের জন্য আল্লাহ ছাড়া কোনও বন্ধু ও সাহায্যকারী পাবে না। ৮৬

তাফসীরঃ

৮৬. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আখিরাতের যে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তা হে মুসলিমগণ! তোমাদের আশা দ্বারাও লাভ হবে না এবং কিতাবীদের আশা দ্বারাও নয়। তা লাভ হতে পারে কেবল ঈমান ও সৎকর্ম দ্বারা। যেমনটা পরের আয়াতসমূহে জানানো হয়েছে এবং তাতে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যে দীনের প্রচলন দিয়ে গেছেন, যার সারবস্তু হল আল্লাহর প্রতি চরম আনুগত্য, তার অনুসরণ দ্বারাই আখিরাতের নাজাত ও পুরস্কার লাভ হতে পারে। তিনিই সে দীনের নাম দিয়েছেন ইসলাম এবং তারই পূর্ণতাবিধান হয়েছে শেষনবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে। সুতরাং এখন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলেরই কর্তব্য কেবল তাঁরই অনুসরণ করা। -অনুবাদক
১২৪

وَمَنۡ یَّعۡمَلۡ مِنَ الصّٰلِحٰتِ مِنۡ ذَکَرٍ اَوۡ اُنۡثٰی وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَاُولٰٓئِکَ یَدۡخُلُوۡنَ الۡجَنَّۃَ وَلَا یُظۡلَمُوۡنَ نَقِیۡرًا ١٢٤

ওয়া মাইঁ ইয়া‘মাল মিনাসসা-লিহা-তি মিন যাকারিন আও উনছা-ওয়া হুওয়া মু’মিনুন ফাউলাইকা ইয়াদখুলূনাল জান্নাতা ওয়ালা-ইউজলামূনা নাকীরা-।

আর যে ব্যক্তি সৎকাজ করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, যদি সে মুমিন হয়ে থাকে, তবে এরূপ লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হবে না।
১২৫

وَمَنۡ اَحۡسَنُ دِیۡنًا مِّمَّنۡ اَسۡلَمَ وَجۡہَہٗ لِلّٰہِ وَہُوَ مُحۡسِنٌ وَّاتَّبَعَ مِلَّۃَ اِبۡرٰہِیۡمَ حَنِیۡفًا ؕ وَاتَّخَذَ اللّٰہُ اِبۡرٰہِیۡمَ خَلِیۡلًا ١٢٥

ওয়া মান আহছানুদীনাম মিম্মান আছলামা ওয়াজহাহূলিল্লা-হি ওয়া হুওয়া মুহছিনুওঁ ওয়াত্তাবা‘আ মিল্লাতা ইবরা-হীমা হানীফাওঁ ওয়াত্তাখাযাল্লা-হু ইবরা-হীমা খালীলা-।

তার চেয়ে উত্তম দীন আর কার হতে পারে, যে (তার গোটা অস্তিত্বসহ) নিজ চেহারাকে আল্লাহর সম্মুখে অবনত করেছে, সেই সঙ্গে সে সৎকর্মে অভ্যস্ত এবং একনিষ্ঠ ইবরাহীমের দীন অনুসরণ করেছে। আর (এটা তো জানা কথা যে,) আল্লাহ ইবরাহীমকে নিজের বিশিষ্ট বন্ধু বানিয়ে নিয়েছিলেন।
১২৬

وَلِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ  وَکَانَ اللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ مُّحِیۡطًا ٪ ١٢٦

ওয়ালিল্লা-হি মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়াকা-নাল্লা-হু বিকুল্লি শাইইম মুহীতা-।

আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তা আল্লাহরই এবং আল্লাহ যাবতীয় জিনিসকে (নিজ ক্ষমতা দ্বারা) পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।
১২৭

وَیَسۡتَفۡتُوۡنَکَ فِی النِّسَآءِ ؕ قُلِ اللّٰہُ یُفۡتِیۡکُمۡ فِیۡہِنَّ ۙ وَمَا یُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ فِی الۡکِتٰبِ فِیۡ یَتٰمَی النِّسَآءِ الّٰتِیۡ لَاتُؤۡ تُوۡنَہُنَّ مَا کُتِبَ لَہُنَّ وَتَرۡغَبُوۡنَ اَنۡ تَنۡکِحُوۡہُنَّ وَالۡمُسۡتَضۡعَفِیۡنَ مِنَ الۡوِلۡدَانِ ۙ وَاَنۡ تَقُوۡمُوۡا لِلۡیَتٰمٰی بِالۡقِسۡطِ ؕ وَمَا تَفۡعَلُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ فَاِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِہٖ عَلِیۡمًا ١٢٧

ওয়া ইয়াছতাফতূনাকা ফিননিছা-ই কুল্লিলা-হু ইউফতীকুম ফীহিন্না ওয়ামা-ইউতলা‘আলাইকুম ফিল কিতা-বি ফী ইয়াতা-মাননিছাইল্লা-তী লা-তু’তূনাহুন্না মা-কুতিবা লাহুন্না ওয়া তারগাবূনা আন তানকিহূহুন্না ওয়ালমুছতাদ‘আফীনা মিনাল বিলদা-নি ওয়া আন তাকূমূলিলইয়াতা-মা-বিলকিছতি ওয়ামা-তাফ‘আলূমিন খাইরিন ফাইন্নাল্লা-হা কানা বিহী ‘আলীমা-।

এবং (হে নবী!) লোকে তোমার কাছে নারীদের সম্পর্কে শরীয়তের বিধান জিজ্ঞেস করে। ৮৭ বলে দাও, আল্লাহ তাদের সম্পর্কে তোমাদেরকে বিধান জানাচ্ছেন এবং এই কিতাব (অর্থাৎ কুরআন)-এর যে সব আয়াত তোমাদেরকে পড়ে শোনানো হচ্ছে, তাও (তোমদেরকে শরীয়তের বিধান জানায়) সেই ইয়াতীম নারীদের সম্পর্কে, যাদেরকে তোমরা তাদের নির্ধারিত অধিকার প্রদান কর না, অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহও করতে চাও ৮৮ এবং অসহায় শিশুদের সম্পর্কেও (বিধান জানায়) এবং (তোমাদেরকে জোর নির্দেশ দেয়) যেন ইয়াতীমদের ব্যাপারে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কর। তোমরা যা-কিছু সৎকাজ করবে, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

৮৭. ইসলামের আগে নারীদেরকে সমাজের এক নিকৃষ্ট জীব মনে করা হত। তাদের সামাজিক ও জৈবিক কোনও অধিকার ছিল না। যখন ইসলাম নারীদের হক আদায়ের জোর নির্দেশ দিল এবং উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে তাদেরকেও অংশ দিল, তখন আরবদের কাছে এটা এমনই এক অভাবিত বিষয় ছিল যে, তাদের কেউ কেউ মনে করছিল এটা হয়ত এক সাময়িক নির্দেশ, যা কিছুকাল পর রহিত হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে যখন রহিত হতে দেখা গেল না, তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়। এতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এটা সাময়িক কোনও বিধান নয়। বরং স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়। আল্লাহ তাআলাই এ বিধান দিয়েছেন। কুরআন মাজীদে এর আগে যেসব আয়াত নাযিল হয়েছে, তাতেও এ জাতীয় বহু বিধান রয়েছে। এ আয়াতে সেই সঙ্গে নর-নারীর পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে আরও কিছু বিধান বর্ণিত হয়েছে।
১২৮

وَاِنِ امۡرَاَۃٌ خَافَتۡ مِنۡۢ بَعۡلِہَا نُشُوۡزًا اَوۡ اِعۡرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡہِمَاۤ اَنۡ یُّصۡلِحَا بَیۡنَہُمَا صُلۡحًا ؕ وَالصُّلۡحُ خَیۡرٌ ؕ وَاُحۡضِرَتِ الۡاَنۡفُسُ الشُّحَّ ؕ وَاِنۡ تُحۡسِنُوۡا وَتَتَّقُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرًا ١٢٨

ওয়া ইনিমরাআতুন খা-ফাত মিমবা‘লিহানুশূঝান আও ই‘রা-দান ফালা- জুনা-হা ‘আলাইহিমা-আইঁ ইউসলিহা-বাইনাহুমা-সুলহাওঁ ওয়াসসুলহুখাইরুওঁ ওয়া উহদিরাতিল আনফুছশশুহহা ওয়া ইন তুহছিনূওয়া তাত্তাকূফাইন্নাল্লা-হা কা-না বিমাতা‘মালূনা খাবীরা-।

কোনও নারী যদি তার স্বামীর পক্ষ হতে দুর্ব্যবহার বা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তাদের জন্য এতে কোন অসুবিধা নেই যে, তারা পারস্পরিক সম্মতিক্রমে কোনও রকমের আপোস-নিষ্পত্তি করবে। ৮৯ আর আপোস-নিষ্পত্তিই উত্তম। মানুষের অন্তরে (কিছু না কিছু) লালসার প্রবণতা তো নিহিত রাখাই হয়েছে। ৯০ তোমরা যদি ইহসান ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে তোমরা যা-কিছুই করবে, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন।

তাফসীরঃ

৮৯. কখনও এমনও হত যে, কোনও স্ত্রীর প্রতি তার স্বামীর দিল লাগছে না। তাই সে তার প্রতি অবহেলা করে এবং তাকে তালাক দিতে চায়। এ অবস্থায় স্ত্রী যদি তালাকে সম্মত না থাকে, তবে তার কিছু অধিকার ত্যাগ করে স্বামীর সাথে আপোস করতে পারে। অর্থাৎ বলতে পারে, আমি আমার অমুক অধিকার দাবী করব না, তবুও আমাকে নিজ বিবাহাধীন রেখে দাও। এরূপ ক্ষেত্রে স্বামীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সে যেন আপোস করতে রাজি হয়ে যায় এবং তালাক দেওয়ার জন্য গোঁ না ধরে। কেননা আপোস-মীমাংসার পন্থাই উত্তম। পরের বাক্যে ইহসান করার উপদেশ দিয়ে স্বামীকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, মনের মিল না হওয়া সত্ত্বে সে যেন স্ত্রীর সাথে মিটমাট করার চেষ্টা করে এবং অন্তরে আল্লাহর ভয় রেখে তার অধিকারসমূহ আদায় করতে থাকে। তা হলে সেটা তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে।
১২৯

وَلَنۡ تَسۡتَطِیۡعُوۡۤا اَنۡ تَعۡدِلُوۡا بَیۡنَ النِّسَآءِ وَلَوۡ حَرَصۡتُمۡ فَلَا تَمِیۡلُوۡا کُلَّ الۡمَیۡلِ فَتَذَرُوۡہَا کَالۡمُعَلَّقَۃِ ؕ وَاِنۡ تُصۡلِحُوۡا وَتَتَّقُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ١٢٩

ওয়া লান তাছতাতী‘ঊআন তা‘দিলূবাইনাননিছাই ওয়ালাও হারাসতুম ফালা-তামীলূকুল্লাল মাইলি ফাতাযারূহা-কালমু‘আল্লাকাতি ওয়া ইন তুসলিহূওয়া তাত্তাকূ ফাইন্নাল্লা-হা কা-না গাফূরার রাহীমা-।

তোমরা চাইলেও স্ত্রীদের মধ্যে সমান আচরণ করতে সক্ষম হবে না। ৯১ তবে (কোনও একজনের প্রতি) সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না, যার ফলে অন্যজনকে মাঝখানে ঝুলন্ত বস্তুর মত ফেলে রাখবে। তোমরা যদি সংশোধন কর ও তাকওয়া অবলম্বন করে চল, তবে (জেনে রেখ), আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৯১. অর্থাৎ মহব্বত ও ভালোবাসায় স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করা মানুষের সাধ্যাতীত বিষয়। কেননা মনের উপর কোনও মানুষের হাত থাকে না। কাজেই এক স্ত্রী অপেক্ষা অন্য স্ত্রীর উপর যদি ভালোবাসা বেশি হয়, সে কারণে আল্লাহ তাআলা ধরবেন না। কিন্তু বাহ্যিক আচার-আচরণে সমতা রক্ষা করা জরুরী। অর্থাৎ একজনের কাছে যত রাত থাকবে, অন্যজনের কাছেও তত রাতই থাকতে হবে। একজনকে যে পরিমাণ খরচ দেবে অন্যজনকেও তাই দিতে হবে। এমনিভাবে একজনের প্রতি আচরণ এমন করবে না, যদ্দরুণ অন্যজনের মনে আঘাত লাগতে পারে এবং সে ধারণা করতে পারে, তাকে বুঝি মাঝখানে লটকে রাখা হয়েছে।
১৩০

وَاِنۡ یَّتَفَرَّقَا یُغۡنِ اللّٰہُ کُلًّا مِّنۡ سَعَتِہٖ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ وَاسِعًا حَکِیۡمًا ١٣۰

ওয়া ইয়ঁইয়াতাফাররাকা-ইউগনিল্লা-হু কুল্লাম মিন ছা‘আতিহী ওয়া কা-নাল্লা-হু ওয়াছি‘আন হাকীমা-।

আর যদি উভয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ নিজের (কুদরত ও রহমতের) প্রাচুর্য দ্বারা তাদের প্রত্যেককে (অপরের প্রয়োজন থেকে) বেনিয়ায করে দেবেন। ৯২ আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রভূত হিকমতের অধিকারী।

তাফসীরঃ

৯২. মীমাংসার সব রকম চেষ্টা সত্ত্বেও এমন একটা পর্যায় আসতে পারে, যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক রাখা হলে উভয়ের জীবন বিষাদময় ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার আশংকা থাকে। এরূপ অবস্থায় তালাক ও বিচ্ছেদের পন্থা অবলম্বন করাও জায়েয। এ আয়াত আশ্বস্ত করছে যে, বিচ্ছিন্নতার ব্যাপারটা যদি সৌজন্যমূলকভাবে সম্পন্ন করা হয়, তবে আল্লাহ তাআলা উভয়ের জন্য আরও উত্তম ব্যবস্থা করবেন, যার ফলে তাদের দু’জনই দুজন থেকে বেনিয়ায হয়ে যাবে।
১৩১

وَلِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَلَقَدۡ وَصَّیۡنَا الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ وَاِیَّاکُمۡ اَنِ اتَّقُوا اللّٰہَ ؕ وَاِنۡ تَکۡفُرُوۡا فَاِنَّ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ غَنِیًّا حَمِیۡدًا ١٣١

ওয়ালিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়ালাকাদ ওয়াসসাইনাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা মিন কাবলিকুম ওয়া ইইয়া-কুম আনিত্তাকুল্লা-হা ওয়া ইন তাকফুরূ ফাইন্না লিল্লা-হি মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়া কা-নাল্লা-হু গানিইইয়ান হামীদা-।

আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা আল্লাহরই। আমি তোমাদের আগে কিতাবীদেরকে এবং তোমাদেরকেও জোর নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যদি কুফর অবলম্বন কর, তবে (তাতে আল্লাহর কী ক্ষতি?) কেননা) আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তা আল্লাহরই। আল্লাহ (সকলের থেকে) বেনিয়ায এবং তিনি প্রশংসার্হ।
১৩২

وَلِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ وَکِیۡلًا ١٣٢

ওয়া লিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়া কাফা-বিল্লা-হি ওয়াকীলা-।

আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তা আল্লাহরই ৯৩ আর কর্ম নির্বাহের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

তাফসীরঃ

৯৩. ‘আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তা আল্লাহরই’ এ বাক্যটি এস্থলে পর পর তিনবার বলা হয়েছে। প্রথমবার উদ্দেশ্য ছিল স্বামী-স্ত্রীকে আশ্বস্ত করা যে, আল্লাহ তাআলার রহমতের ভাণ্ডার অতি বড়। তিনি তাদের প্রত্যেকের জন্য আরও উপযুক্ত কোনও ব্যবস্থা করতে পারেন। দ্বিতীয়বারের উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহ তাআলার অমুখাপেক্ষিতা বর্ণনা করা যে, কারও কুফর দ্বারা তাঁর কোনও ক্ষতি হয় না। কেননা বিশ্বজগত তাঁর আজ্ঞাধীন। কারও কাছে তাঁর কোনও ঠেকা নেই। তৃতীয়বার উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ তাআলার রহমত ও কর্মবিধানের বিষয়টি বর্ণনা করা। আল্লাহ বলছেন যে, তোমরা যদি তাকওয়া ও আনুগত্যের পথ অবলম্বন কর, তবে তিনি তোমাদের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে দেবেন।
১৩৩

اِنۡ یَّشَاۡ یُذۡہِبۡکُمۡ اَیُّہَا النَّاسُ وَیَاۡتِ بِاٰخَرِیۡنَ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلٰی ذٰلِکَ قَدِیۡرًا ١٣٣

ইয়ঁইয়াশা’ ইউযহিবকুম আইয়ুহান্না-ছুওয়া ইয়া’তি বিআ-খারীনা ওয়া কা-নাল্লা-হু ‘আলা যা-লিকা কাদীরা-।

হে মানুষ! তিনি চাইলে তোমাদের সকলকে (পৃথিবী হতে) নিয়ে যেতে পারেন এবং অন্যদেরকে (তোমাদের স্থানে) নিয়ে আসতে পারেন। আল্লাহ এ বিষয়ে পূর্ণ সক্ষম।
১৩৪

مَنۡ کَانَ یُرِیۡدُ ثَوَابَ الدُّنۡیَا فَعِنۡدَ اللّٰہِ ثَوَابُ الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ؕ  وَکَانَ اللّٰہُ سَمِیۡعًۢا بَصِیۡرًا ٪ ١٣٤

মান কা-না ইউরীদুছাওয়া-বাদ্দুনইয়া-ফা‘ইনদাল্লা-হি ছাওয়া-বুদ্দুনইয়া-ওয়াল আ-খিরাতি ওয়া কা-নাল্লা-হু ছামী‘আম বাসীরা-।

যে ব্যক্তি (কেবল) দুনিয়ার প্রতিদান চায় (তার স্মরণ রাখা উচিত), আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের প্রতিদান রয়েছে। ৯৪ আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।

তাফসীরঃ

৯৪. এ আয়াতে সাধারণ উপদেশ দেওয়া হয়েছে যে, একজন মুমিন কেবল পার্থিব উপকারকেই লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে না। তার উচিত দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের কল্যাণ চাওয়া। পূর্বের আয়াতসমূহের সাথে এর যোগসূত্র এই যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মীমাংসা বা বিচ্ছেদ সাধনের সময় কেবল পার্থিব লাভ-লোকসানের প্রতি নজর রাখা উচিত নয়; বরং আখিরাতের কল্যাণের প্রতিও লক্ষ্য রাখা চাই। সুতরাং স্বামী বা স্ত্রী যদি দুনিয়াবী কিছু স্বার্থ ত্যাগ করেও অন্যের প্রতি সদাচরণ করে, তবে আখিরাতে মহা প্রতিদানের আশা থাকবে।
১৩৫

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُوۡنُوۡا قَوّٰمِیۡنَ بِالۡقِسۡطِ شُہَدَآءَ لِلّٰہِ وَلَوۡ عَلٰۤی اَنۡفُسِکُمۡ اَوِ الۡوَالِدَیۡنِ وَالۡاَقۡرَبِیۡنَ ۚ اِنۡ یَّکُنۡ غَنِیًّا اَوۡ فَقِیۡرًا فَاللّٰہُ اَوۡلٰی بِہِمَا ۟ فَلَا تَتَّبِعُوا الۡہَوٰۤی اَنۡ تَعۡدِلُوۡا ۚ وَاِنۡ تَلۡوٗۤا اَوۡ تُعۡرِضُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرًا ١٣٥

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূকূনূকাওওয়া-মীনা বিলকিছতিশুহাদাআ লিল্লা-হি ওয়া লাও ‘আলাআনফুছিকুম আবিল ওয়া-লিদাইনি ওয়ালআকরাবীনা ইয়ঁইয়াকুন গানিইইয়ান আও ফাকীরান ফাল্লা-হু আওলা-বিহিমা- ফালা-তাত্তাবি‘উল হাওয়া আন তা‘দিলূ ওয়া ইন তালউআও তু‘রিদূ ফাইনাল্লা-হা কা-না বিমা-তা‘মালূনা খাবীরা-।

হে মুমিনগণ! তোমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী হয়ে যাও আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতারূপে, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে কিংবা পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। ৯৫ সে ব্যক্তি (যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার আদেশ করা হচ্ছে) যদি ধনী বা গরীব হয়, তবে আল্লাহ উভয় প্রকার লোকের ব্যাপারে (তোমাদের চেয়ে) বেশি কল্যাণকামী। সুতরাং তোমরা ইনসাফ করার ব্যাপারে ইচ্ছা-অভিরুচির অনুসরণ করো না। ৯৬ তোমরা যদি পেঁচাও (অর্থাৎ মিথ্যা সাক্ষ্য দাও) অথবা (সঠিক সাক্ষ্য দেওয়া থেকে) পাশ কাটিয়ে যাও, তবে (জেনে রেখ) আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।

তাফসীরঃ

৯৫. পূর্বের আয়াতে বিশেষভাবে স্ত্রীর সাথে ইনসাফসম্মত আচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ আয়াতে সাধারণভাবে সকলের সাথেই ইনসাফপূর্ণ আচরণ ও সর্বস্তরে ন্যায় প্রতিষ্ঠার হুকুম দেওয়া হয়েছে। সত্য-সঠিক সাক্ষ্যদান ন্যায়প্রতিষ্ঠার এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। তাই আদেশ করা হয়েছে, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে সত্য-সঠিক সাক্ষ্য দানে বদ্ধপরিকর থাকবে, তাতে সে সাক্ষ্য যত আপনজনের এমন কি নিজের বিরুদ্ধেই হোক না কেন। -অনুবাদক
১৩৬

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اٰمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَالۡکِتٰبِ الَّذِیۡ نَزَّلَ عَلٰی رَسُوۡلِہٖ وَالۡکِتٰبِ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ مِنۡ قَبۡلُ ؕ وَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِاللّٰہِ وَمَلٰٓئِکَتِہٖ وَکُتُبِہٖ وَرُسُلِہٖ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلٰلًۢا بَعِیۡدًا ١٣٦

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ আ-মিনূ বিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়াল কিতা-বিল্লাযী নাঝঝালা ‘আলা-রাছূলিহী ওয়াল কিতা-বিল্লাযী-আনঝাল্লা মিন কাবলু ওয়ামাইঁ ইয়াকফুর বিল্লা-হি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়াকুতুবিহী ওয়ারুছুলিহী ওয়ালইয়াওমিল আ-খিরি ফাকাদ দাল্লা দাল্লা-লাম বা‘ঈদা-।

হে মুমিনগণ! ঈমান রাখ আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি, যে কিতাব তাঁর রাসূলের উপর নাযিল করেছেন তার প্রতি এবং যে কিতাব তার আগে নাযিল করেছেন তার প্রতি। যে ব্যক্তি আল্লাহকে, তাঁর ফিরিশতাগণকে, তাঁর কিতাবসমূহকে, তাঁর রাসূলগণকে এবং পরকালকে অস্বীকার করে, সে বহু দূরের ভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হয়ে যায়।
১৩৭

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ثُمَّ کَفَرُوۡا ثُمَّ اٰمَنُوۡا ثُمَّ کَفَرُوۡا ثُمَّ ازۡدَادُوۡا کُفۡرًا لَّمۡ یَکُنِ اللّٰہُ لِیَغۡفِرَ لَہُمۡ وَلَا لِیَہۡدِیَہُمۡ سَبِیۡلًا ؕ ١٣٧

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূছু ম্মা কাফারু ছু ম্মা আ-মানূছু ম্মা কাফারু ছু ম্মাঝ দা-দূকুফরাল লাম ইয়াকুনিল্লা-হু লিইয়াগফিরালাহুম ওয়ালা- লিইয়াহদিয়াহুম ছাবীলা-।

যারা ঈমান এনেছে, তারপর কাফির হয়ে গেছে, তারপর ঈমান এনেছে, তারপর আবার কাফির হয়ে গেছে, তারপর কুফরে অগ্রগামী হতে থেকেছে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করার নন এবং তাদেরকে সঠিক পথে আনয়ন করারও নন। ৯৭

তাফসীরঃ

৯৭. যে মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা চলছে এর দ্বারা তাদেরকেও বোঝানো হতে পারে। কেননা তারা মুসলিমদের কাছে এসে নিজেদের ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করত। তারপর নিজেদের মধ্যে গিয়ে কুফরে ফিরে যেত। তারপর আবার কখনও মুসলিমদের সামনে পড়লে পুনরায় ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিত। তারপর আবার নিজেদের লোকদের কাছে গিয়ে তাদেরকে নিজেদের কুফর সম্পর্কে আশ্বস্ত করত এবং নিজেদের কাজ-কর্ম দ্বারা উত্তরোত্তর কুফরের দিকে এগিয়ে যেত। তাছাড়া কোনও কোনও রিওয়ায়াতে এমন কিছু লোকেরও উল্লেখ পাওয়া যায়, যারা ইসলাম গ্রহণের পর মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। তারপর আবার তাওবা করে ইসলামে ফিরে আসে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পুনরায় মুরতাদ হয়ে কুফর অবস্থায়ই মারা যায়। আয়াতের শব্দাবলীর ভেতর উভয় প্রকার লোকদেরই অবকাশ আছে। তাদের সম্পর্কে যে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে সঠিক পথে আনবেন না’, তার অর্থ এই যে, তারা যখন স্বেচ্ছায় কুফর এবং তার পরিণাম হিসেবে জাহান্নামের পথই বেছে নিল, তখন আল্লাহ জবরদস্তিমূলকভাবে তাদেরকে ঈমান ও জান্নাতের পথে ফিরিয়ে আনবেন না। কেননা দুনিয়া হল পরীক্ষার স্থান। এখানে প্রত্যেকে নিজ এখতিয়ার ও ইচ্ছাক্রমে যে পথ অবলম্বন করবে সে অনুযায়ীই তার পরিণাম স্থির হবে। আল্লাহ তাআলা কাউকে যেমন জোর-জবরদস্তি করে মুসলিম বানান না, তেমনি সেভাবে কাউকে কাফিরও বানান না।
১৩৮

بَشِّرِ الۡمُنٰفِقِیۡنَ بِاَنَّ لَہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمَۨا ۙ ١٣٨

বাশশিরিল মুনা-ফিকীনা বিআন্না ল্লাহুম ‘আযাবান ‘আলীমা-।

মুনাফিকদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি,
১৩৯

الَّذِیۡنَ یَتَّخِذُوۡنَ الۡکٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ؕ  اَیَبۡتَغُوۡنَ عِنۡدَہُمُ الۡعِزَّۃَ فَاِنَّ الۡعِزَّۃَ لِلّٰہِ جَمِیۡعًا ؕ ١٣٩

আল্লাযীনা ইয়াত্তাখিযূনাল কা-ফিরীনা আওলিয়াআ মিন দূ নিল মু’মিনীনা আইয়াবতাগূনা ‘ইনদাহুমুল ‘ইঝঝাতা ফাইন্নাল ‘ইঝঝাতা লিল্লা-হি জামী‘আ-।

যারা মুমিনদের পরিবর্তে কাফিরদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করে। তারা কি তাদের কাছে শক্তি খোঁজে? সমস্ত শক্তি তো আল্লাহরই কাছে।
১৪০

وَقَدۡ نَزَّلَ عَلَیۡکُمۡ فِی الۡکِتٰبِ اَنۡ اِذَا سَمِعۡتُمۡ اٰیٰتِ اللّٰہِ یُکۡفَرُ بِہَا وَیُسۡتَہۡزَاُ بِہَا فَلَا تَقۡعُدُوۡا مَعَہُمۡ حَتّٰی یَخُوۡضُوۡا فِیۡ حَدِیۡثٍ غَیۡرِہٖۤ ۫ۖ  اِنَّکُمۡ اِذًا مِّثۡلُہُمۡ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ جَامِعُ الۡمُنٰفِقِیۡنَ وَالۡکٰفِرِیۡنَ فِیۡ جَہَنَّمَ جَمِیۡعَۨا ۙ ١٤۰

ওয়াকাদ নাঝঝালা ‘আলাইকুম ফিল কিতা-বি আন ইযা-ছামি‘তুম আ-য়া-তিল্লা-হি ইউকফারু বিহা-ওয়া ইউছতাহঝাউ বিহা-ফালা-তাক‘ঊদূমা‘আহুম হাত্তা-ইয়াখূদূ ফী হাদীছিন গাইরিহী ইন্নাকুম ইযামমিছলুহুম ইন্নাল্লা-হা জা-মি‘উল মুনা-ফিকীনা ওয়াল কা-ফিরীনা ফী জাহান্নামা জামী‘আ-।

তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি এই নির্দেশ নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করা হচ্ছে ও তাকে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যে পর্যন্ত না তারা অন্য কোনও প্রসঙ্গে লিপ্ত হবে। অন্যথায় তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত মুনাফিক ও কাফিরকে জাহান্নামে একত্র করবেন।
১৪১

الَّذِیۡنَ یَتَرَبَّصُوۡنَ بِکُمۡ ۚ  فَاِنۡ کَانَ لَکُمۡ فَتۡحٌ مِّنَ اللّٰہِ قَالُوۡۤا اَلَمۡ نَکُنۡ مَّعَکُمۡ ۫ۖ  وَاِنۡ کَانَ لِلۡکٰفِرِیۡنَ نَصِیۡبٌ ۙ  قَالُوۡۤا اَلَمۡ نَسۡتَحۡوِذۡ عَلَیۡکُمۡ وَنَمۡنَعۡکُمۡ مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ؕ  فَاللّٰہُ یَحۡکُمُ بَیۡنَکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ  وَلَنۡ یَّجۡعَلَ اللّٰہُ لِلۡکٰفِرِیۡنَ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ سَبِیۡلًا ٪ ١٤١

আল্লাযীনা ইয়াতারাব্বাসূনা বিকুম ফাইন কা-না লাকুম ফাতহুমমিনাল্লা-হি কা-লূ-আলাম নাকুম মা‘আকুম ওয়া ইন কা-না লিলকা-ফিরীনা নাসীবুন কা-লূআলাম নাছতাহবিয‘আলাইকুম ওয়া নামনা‘কুম মিনাল মু’মিনীনা ফাল্লা-হু ইয়াহকুমু বাইনাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়ালাইঁ ইয়াজ‘আলাল্লা-হু লিলকা-ফিরীনা ‘আলাল মু’মিনীনা ছাবীলা-।

(হে মুসলিমগণ! এরা) সেই সব লোক, যারা তোমাদের (অশুভ পরিণামের) অপেক্ষায় থাকে। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের বিজয় অর্জিত হলে, তারা (তোমাদেরকে) বলে, আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না। আর যদি কাফিরদের (বিজয়) নসীব হয়, তবে (তাদেরকে) বলে, আমরা কি তোমাদেরকে বাগে পেয়েছিলাম না এবং (তা সত্ত্বেও) আমরা কি মুসলিমদের হাত থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করিনি? ৯৮ সুতরাং আল্লাহই কিয়ামতের দিন তোমাদের ও তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন এবং আল্লাহ মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের (চূড়ান্ত বিজয়ের) কোনও পথ রাখবেন না।

তাফসীরঃ

৯৮. অর্থাৎ তাদের আসল উদ্দেশ্য হল পার্থিব সুযোগ-সুবিধা। যদি মুসলিমগণ জয়লাভ করে এবং গনীমতের মালামাল তাদের হস্তগত হয়, তবে নিজেদেরকে তাদের সাথী হিসেবে দাবী করে। এবং কিভাবে সে মালে ভাগ বসানো যায়, সেই ধান্ধায় থাকে। পক্ষান্তরে জয় যদি কাফিরদের হাতে চলে যায়, তবে এই বলে তাদেরকে খোঁটা দেয় যে, আমরা সাহায্য-সহযোগিতা না করলে তোমরা জয়লাভ করতে পারতে না। সুতরাং আমাদের সে অবদানের আর্থিক প্রতিদান দাও।
১৪২

اِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ یُخٰدِعُوۡنَ اللّٰہَ وَہُوَ خَادِعُہُمۡ ۚ  وَاِذَا قَامُوۡۤا اِلَی الصَّلٰوۃِ قَامُوۡا کُسَالٰی ۙ  یُرَآءُوۡنَ النَّاسَ وَلَا یَذۡکُرُوۡنَ اللّٰہَ اِلَّا قَلِیۡلًا ۫ۙ ١٤٢

ইন্নাল মুনা-ফিকীনা ইউখা-দি‘ঊনাল্লা-হা ওয়া হুওয়া খা-দি‘উহুম ওয়া ইযা-কা-মূ ইলাসসালা-তি কা-মূকুছা-লা- ইউরাঊনান্না-ছা ওয়ালা-ইয়াযকুরূনাল্লা-হা ইল্লাকালীলা-।

এ মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজী করে, অথচ আল্লাহই তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছেন। ৯৯ তারা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন অলসতার সাথে দাঁড়ায়। তারা মানুষকে দেখায় আর আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।

তাফসীরঃ

৯৯. এর এক অর্থ হতে পারে যে, তারা তো মনে করছে আল্লাহকে ধোঁকা দিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরাই ধোঁকায় পড়ে আছে। কেননা আল্লাহকে কেউ ধোঁকা দিতে পারে না। বরং তারা নিজেরা নিজেদেরকে আপন ইচ্ছা ও এখতিয়ারক্রমে যে ধোঁকার মধ্যে ফেলেছে, আল্লাহ তাআলা সেই ধোঁকার ভেতর তাদেরকে থাকতে দেন। বাক্যটির আরেক অর্থ হতে পারে, ‘আল্লাহ তাদেরকে ধোঁকায় নিক্ষেপ করবেন’। এ হিসেবে কোনও কোনও তাফসীরবিদ (যেমন হাসান বসরী [রহ.]) ব্যাখ্যা করেন যে, আখিরাতে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে এ ধোঁকার শাস্তি দেবেন এবং তা এভাবে যে, প্রথম দিকে তাদেরকেও মুসলিমদের সাথে কিছুদূর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে এবং মুসলিমদেরকে যে নূর দেওয়া হবে, তার আলোতে তারাও কিছুদূর পর্যন্ত পথ চলবে। তখন তারা ভাবতে থাকবে, তাদের পরিণামও মুসলিমদের মতই শুভ হবে। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর তাদের আলো কেড়ে নেওয়া হবে। ফলে তারা পথ হারিয়ে ফেলবে এবং পরিশেষে তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, যেমন সূরা হাদীদে এর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে (দ্র. ৫৭ : ১২-১৪)।
১৪৩

مُّذَبۡذَبِیۡنَ بَیۡنَ ذٰلِکَ ٭ۖ لَاۤ اِلٰی ہٰۤؤُلَآءِ وَلَاۤ اِلٰی ہٰۤؤُلَآءِ ؕ وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَلَنۡ تَجِدَ لَہٗ سَبِیۡلًا ١٤٣

মুযাবযাবীনা বাইনা যা-লিকা লাইলা-হাউলাই ওয়ালাইলা-হাউলাই ওয়া মাইঁ ইউদলিলিল্লা-হু ফালান তাজিদালাহু ছাবীলা-।

তারা (ঈমান ও কুফরের) মাঝখানে দোদুল্যমান, না (সম্পূর্ণরূপে) এদের (মুসলিমদের) দিকে, না তাদের (কাফিরদের) দিকে। বস্তুত আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য তুমি কখনই (হিদায়াতের) কোনও পথ পাবে না।
১৪৪

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الۡکٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ؕ اَتُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ تَجۡعَلُوۡا لِلّٰہِ عَلَیۡکُمۡ سُلۡطٰنًا مُّبِیۡنًا ١٤٤

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাত্তাখিযুল কা-ফিরীনা আওলিয়াআ মিন দুনিল মু’মিনীনা আতুরীদূ না আন তাজ‘আলূলিল্লা-হি ‘আলাইকুম ছুলতা-নাম মুবীনা-।

হে মুমিনগণ! মুসলিমদের ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধু বানিয়ো না। তোমরা কি আল্লাহর কাছে নিজেদের বিরুদ্ধে (অর্থাৎ নিজেদের শাস্তিযোগ্য হওয়া সম্পর্কে) সুস্পষ্ট প্রমাণ দাঁড় করাতে চাও?
১৪৫

اِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ فِی الدَّرۡکِ الۡاَسۡفَلِ مِنَ النَّارِ ۚ  وَلَنۡ تَجِدَ لَہُمۡ نَصِیۡرًا ۙ ١٤٥

ইন্নাল মুনা-ফিকীনা ফিদ্দারকিল আছফালি মিনান্না-রি ওয়ালান তাজিদালাহুম নাসীরা-।

নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে এবং তুমি তাদের পক্ষে কোনও সাহায্যকারী পাবে না।
১৪৬

اِلَّا الَّذِیۡنَ تَابُوۡا وَاَصۡلَحُوۡا وَاعۡتَصَمُوۡا بِاللّٰہِ وَاَخۡلَصُوۡا دِیۡنَہُمۡ لِلّٰہِ فَاُولٰٓئِکَ مَعَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ؕ وَسَوۡفَ یُؤۡتِ اللّٰہُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اَجۡرًا عَظِیۡمًا ١٤٦

ইল্লাল্লাযীনা তা-বূওয়া আসলাহূওয়া‘তাসামুবিল্লা-হি ওয়া আখলাসূদীনাহুম লিল্লা-হি ফাউলাইকা মা‘আল মু’মিনীনা ওয়া ছাওফা ইউ’তিল্লা-হুল মু’মিনীনা আজরান ‘আজীমা-।

তবে যারা তাওবা করবে, নিজেদেরকে সংশোধন করে ফেলবে, আল্লাহর আশ্রয়কে শক্তভাবে ধরে রাখবে ১০০ এবং নিজেদের দীনকে আল্লাহর জন্য খালেস করে নেবে, ১০১ তারা মুমিনদের সঙ্গে শামিল হয়ে যাবে। আল্লাহ অবশ্যই মুমিনদেরকে মহা প্রতিদান দান করবেন।

তাফসীরঃ

১০০. অর্থাৎ দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর দীন ও তাঁর কিতাবের অনুসরণ করবে, কোনও অবস্থায়ই তা হাতছাড়া করবে না। -অনুবাদক)
১৪৭

مَا یَفۡعَلُ اللّٰہُ بِعَذَابِکُمۡ اِنۡ شَکَرۡتُمۡ وَاٰمَنۡتُمۡ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ شَاکِرًا عَلِیۡمًا ١٤٧

মা- ইয়াফ‘আলুল্লা-হু বি‘আযা-বিকুম ইন শাকারতুম ওয়া আ-মানতুম ওয়া কা-নাল্লা-হু শা-কিরান ‘আলীমা-।

তোমরা যদি কৃতজ্ঞ হয়ে যাও এবং (সত্যিকারভাবে) ঈমান আন, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দিয়ে কী করবেন? আল্লাহ গুণগ্রাহী, সর্বজ্ঞ।
১৪৮

لَا یُحِبُّ اللّٰہُ الۡجَہۡرَ بِالسُّوۡٓءِ مِنَ الۡقَوۡلِ اِلَّا مَنۡ ظُلِمَ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ سَمِیۡعًا عَلِیۡمًا ١٤٨

লা-ইউহিব্বুল্লা-হুল জাহরা বিছছূই মিনাল কাওলি ইল্লা-মান জু লিমা ওয়াকা-নাল্লাহু ছামী‘আন ‘আলীমা-।

প্রকাশ্যে (কারও) দোষ চর্চাকে আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে কারও প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে আলাদা কথা। ১০২ আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।

তাফসীরঃ

১০২. অর্থাৎ সাধারণ অবস্থায় কারও দোষ-ত্রুটি প্রচার করা জায়েয নয়। হাঁ, যদি কারও উপর জুলুম হয়ে থাকে, তবে মানুষের কাছে সেই জুলুমের কথা বলতে পারে এবং তা বলতে গিয়ে জালিমের যে দোষ বর্ণনা করা হবে, তার জন্য সে গুনাহগার হবে না।
১৪৯

اِنۡ تُبۡدُوۡا خَیۡرًا اَوۡ تُخۡفُوۡہُ اَوۡ تَعۡفُوۡا عَنۡ سُوۡٓءٍ فَاِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَفُوًّا قَدِیۡرًا ١٤٩

ইন তুবদূখাইরান আও তুখফূহুআওতা‘ফূ‘আন ছূইন ফাইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আফুওওয়ান কাদীরা-।

তোমরা যদি কোনও সৎকাজ প্রকাশ্যে কর বা গোপনে কর কিংবা কোনও মন্দ আচরণ ক্ষমা কর, তবে (তা উত্তম। কেননা) আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, (যদিও তিনি শাস্তিদানে) সর্বশক্তিমান। ১০৩

তাফসীরঃ

১০৩. ইশারা করা হচ্ছে যে, যদিও শরীয়ত মজলুমকে জুলুম অনুপাতে জালিমের দোষ বর্ণনার অধিকার দিয়েছে, কিন্তু মজলুম হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি প্রকাশ্যে, গোপনে সর্বাবস্থায় মুখে শুধু ভালো কথাই উচ্চারণ করে এবং নিজের হক ছেড়ে দেয়, তবে এটা তার জন্য অতি বড় সওয়াবের কাজ হবে। কেননা আল্লাহ তাআলার গুণও এটাই যে, শাস্তি দানের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি মানুষকে অত্যধিক ক্ষমা করেন।
১৫০

اِنَّ الَّذِیۡنَ یَکۡفُرُوۡنَ بِاللّٰہِ وَرُسُلِہٖ وَیُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یُّفَرِّقُوۡا بَیۡنَ اللّٰہِ وَرُسُلِہٖ وَیَقُوۡلُوۡنَ نُؤۡمِنُ بِبَعۡضٍ وَّنَکۡفُرُ بِبَعۡضٍ ۙ  وَّیُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یَّتَّخِذُوۡا بَیۡنَ ذٰلِکَ سَبِیۡلًا ۙ ١٥۰

ইন্নাল্লাযীনা ইয়াকফুরূনা বিল্লা-হি ওয়া রুছুলিহী ওয়া ইউরীদূ না আইঁ ইউফাররিকূ বাইনাল্লাহি ওয়া রুছুলিহী ওয়া ইয়াকূলূনা নু’মিন ব্বি্বা‘দিওঁ ওয়া নাকফুরু ব্বিা‘দিওঁ ওয়া ইউরিদূ না আইঁ ইয়াত্তাখিযূবাইনা যা-লিকা ছাবীলা-।

যারা আল্লাহ ও তার রাসূলগণকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য করতে চায় ও বলে, আমরা কতক (রাসূল)-এর প্রতি তো ঈমান রাখি এবং কতককে অস্বীকার করি, আর (এভাবে) তারা (কুফর ও ঈমানের মাঝখানে) মাঝামাঝি একটি পথ অবলম্বন করতে চায় ১০৪

তাফসীরঃ

১০৪. তাদের সে মাঝামাঝি পন্থা হল আল্লাহকে বিশ্বাস করা ও রাসূলগণকে অবিশ্বাস করা। প্রকৃতপক্ষে এটা মাঝামাঝি কোন পন্থা নয়; বরং নির্জলা কুফর। কেননা, রাসূলগণকে অবিশ্বাস করা আল্লাহকে অবিশ্বাস করারই নামান্তর, যেহেতু তাঁরা আল্লাহ কর্তৃকই প্রেরিত। এমনিভাবে কোনও একজন রাসূলকে অস্বীকার করা সমস্ত রাসূলকে অস্বীকার করারই নামান্তর, যেহেতু তারা সকলে একই সূত্রে গাঁথা। তাঁরা সকলেই একে অন্যের সমর্থক। বিশেষত সর্বশেষ নবী সম্পর্কে পূর্বের সকল নবীই সুসংবাদ শুনিয়ে গেছেন এবং তারা নিজ-নিজ উম্মতকে তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে গেছেন। এ অবস্থায় তাকে অস্বীকার করার দ্বারা তাদের সকলকেই অস্বীকার করা হয়, যা সুস্পষ্ট কুফর। অনুরূপ শরীআতের এক বিধান মানা ও অন্য বিধান অমান্য করাও কুফর। সুতরাং ঈমান ও কুফরের মধ্যবর্তী পন্থা বলতে কিছু নেই হয় ঈমান নয়তো কুফর। অর্থাৎ ঈমানের বাইরে সবই কুফর। -অনুবাদক
১৫১

اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡکٰفِرُوۡنَ حَقًّا ۚ وَاَعۡتَدۡنَا لِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابًا مُّہِیۡنًا ١٥١

উলাইকা হুমুল কা-ফিরূনা হাক্কাওঁ ওয়া আ‘তাদনা-লিল কা-ফিরীনা ‘আযা-বাম মুহীনা-।

এরূপ লোকই সত্যিকারের কাফির। আর আমি কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
১৫২

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰہِ وَرُسُلِہٖ وَلَمۡ یُفَرِّقُوۡا بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡہُمۡ اُولٰٓئِکَ سَوۡفَ یُؤۡتِیۡہِمۡ اُجُوۡرَہُمۡ ؕ  وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ٪ ١٥٢

ওয়াল্লাযীনা আ-মানূবিল্লা-হি ওয়া রুছলিহী ওয়া লাম ইউফাররিকূবাইনা আহাদিম মিনহুমউলাইকা ছাওফা ইউ’তীহিম উজূরাহুম ওয়া কা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা-।

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনবে এবং তাদের কারও মধ্যে কোনও পার্থক্য করবে না, আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মফল দান করবেন। আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১৫৩

یَسۡـَٔلُکَ اَہۡلُ الۡکِتٰبِ اَنۡ تُنَزِّلَ عَلَیۡہِمۡ کِتٰبًا مِّنَ السَّمَآءِ فَقَدۡ سَاَلُوۡا مُوۡسٰۤی اَکۡبَرَ مِنۡ ذٰلِکَ فَقَالُوۡۤا اَرِنَا اللّٰہَ جَہۡرَۃً فَاَخَذَتۡہُمُ الصّٰعِقَۃُ بِظُلۡمِہِمۡ ۚ ثُمَّ اتَّخَذُوا الۡعِجۡلَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡہُمُ الۡبَیِّنٰتُ فَعَفَوۡنَا عَنۡ ذٰلِکَ ۚ وَاٰتَیۡنَا مُوۡسٰی سُلۡطٰنًا مُّبِیۡنًا ١٥٣

ইয়াছআলুকা আহলুল কিতা-বি আন তুনাঝঝিলা ‘আলাইহিম কিতা-বাম মিনাছছামাই ফাকাদ ছাআলূমূছাআকবারা মিন যা-লিকা ফাকা-লূ আরিনাল্লা-হা জাহরাতান ফাআখাযাতহুমসসা-ইকাতুবিজুলমিহিম ছুম্মাত্তাখাযুল ইজলা মিম বা‘দি মাজাআতহুমুল বাইয়িনা-তুফা‘আফাওনা-‘আন যা-লিকা ওয়া আ-তাইনা-মূছাছুলতা-নাম মুবীনা-।

(হে নবী!) কিতাবীগণ তোমার কাছে দাবী করে, তুমি যেন তাদের প্রতি আসমান থেকে কোন কিতাব অবতীর্ণ করিয়ে দাও। (এটা কোনও নতুন কথা নয়। কেননা) তারা তো মূসার কাছে এর চেয়েও বড় দাবী জানিয়েছিল। তারা (তাকে) বলেছিল, ‘আমাদেরকে প্রকাশ্যে আল্লাহ দেখাও’। সুতরাং তাদের অবাধ্যতার কারণে তাদের উপর বজ্র আঘাত হেনেছিল। অতঃপর তাদের কাছে যে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এসেছিল, তারপরও তারা বাছুরকে (মাবুদ) বানিয়ে নিয়েছিল। তথাপি আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দেই। আর মূসাকে আমি দান করি স্পষ্ট ক্ষমতা।
১৫৪

وَرَفَعۡنَا فَوۡقَہُمُ الطُّوۡرَ بِمِیۡثَاقِہِمۡ وَقُلۡنَا لَہُمُ ادۡخُلُوا الۡبَابَ سُجَّدًا وَّقُلۡنَا لَہُمۡ لَا تَعۡدُوۡا فِی السَّبۡتِ وَاَخَذۡنَا مِنۡہُمۡ مِّیۡثَاقًا غَلِیۡظًا ١٥٤

ওয়া রাফা‘না-ফাওকাহুমুততূরা বিমীছা-কিহিম ওয়া কুলনা-লাহুমুদখুলুলবা-বা সুজ্জাদাওঁ ওয়া কুলনা-লাহুম লা-তা‘দূফিছছাবতি ওয়া আখাযনা-মিনহুম মীছা-কান গালীজা-।

আমি তূর পাহাড়কে তাদের উপর তুলে ধরে তাদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম এবং আমি তাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা (নগরের) দরজা দিয়ে নতশিরে প্রবেশ কর এবং তাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা শনিবারে সীমালংঘন করো না। ১০৫ আর আমি তাদের থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম।

তাফসীরঃ

১০৫. এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সূরা বাকারার ২ : ৫১ থেকে ২ : ৬৬ নং আয়াত ও তার টীকায় গত হয়েছে।
১৫৫

فَبِمَا نَقۡضِہِمۡ مِّیۡثَاقَہُمۡ وَکُفۡرِہِمۡ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ وَقَتۡلِہِمُ الۡاَنۡۢبِیَآءَ بِغَیۡرِ حَقٍّ وَّقَوۡلِہِمۡ قُلُوۡبُنَا غُلۡفٌ ؕ  بَلۡ طَبَعَ اللّٰہُ عَلَیۡہَا بِکُفۡرِہِمۡ فَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ اِلَّا قَلِیۡلًا ۪ ١٥٥

ফাবিমা-নাকদিহিম মীছা-কাহুম ওয়া কুফরিহিম বিআ-য়াতিল্লা-হিওয়া কাতলিহিমিুল আমবিইয়াআ বিগাইরি হাক্কিওঁ ওয়া কাওলিহিম কুলূবূনা-গুলফুন বাল তাবা‘আল্লাহু‘আলাইহা-বিকুফরিহিম ফালা-ইউ’মিনূনা ইল্লা-কালীলা-।

অতঃপর (তাদেরকে লানত করেছিলাম) তাদের কর্তৃক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার, নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা এবং আমাদের অন্তরের উপর পর্দা লাগানো রয়েছে তাদের এই উক্তির কারণে। ১০৬ অথচ বাস্তবতা হল, তাদের কুফরের কারণে আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর করে দিয়েছেন। এ জন্যই তারা অল্প কিছু বিষয় ছাড়া (অধিকাংশ বিষয়েই) ঈমান আনে না। ১০৭

তাফসীরঃ

১০৬. এর দ্বারা তারা বোঝাতে চাচ্ছিল যে, আমাদের অন্তর পুরোপুরি সংরক্ষিত। তাতে নিজেদের ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মের কথা প্রবেশ করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা তাদের জবাবে একটি অন্তর্বর্তী বাক্যস্বরূপ বলছেন, আসলে অন্তর সংরক্ষিত নয়; বরং তাদের হঠকারিতার কারণে আল্লাহ তাআলা তাতে মোহর করে দিয়েছেন এবং সেজন্যই তাতে কোনও সত্য-সঠিক কথা প্রবেশ করে না।
১৫৬

وَّبِکُفۡرِہِمۡ وَقَوۡلِہِمۡ عَلٰی مَرۡیَمَ بُہۡتَانًا عَظِیۡمًا ۙ ١٥٦

ওয়াবিকুফরিহিম ওয়াকাওলিহিম ‘আলা-মারইয়ামা বুহতা-নান ‘আজীমা।

এবং তাদের কুফরী এবং মারয়ামের প্রতি গুরুতর অপবাদ আরোপ করার কারণে। ১০৮

তাফসীরঃ

১০৮. হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের কোনও পিতা ছিল না, কুমারী মাতা মারয়াম আলাইহিস সালামের গর্ভে (আল্লাহর কুদরতে) জন্ম নিয়েছিলেন। কিন্তু ইয়াহুদীরা আল্লাহর কুদরতপ্রসূত এ মুজিযা (অলৌকিকতা)কে স্বীকার তো করলই না, উল্টো তারা হযরত মারয়াম (আ.)-এর মত পূত:পবিত্র, সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি ন্যাক্কারজনক অপবাদ আরোপ করেছিল।
১৫৭

وَّقَوۡلِہِمۡ اِنَّا قَتَلۡنَا الۡمَسِیۡحَ عِیۡسَی ابۡنَ مَرۡیَمَ رَسُوۡلَ اللّٰہِ ۚ  وَمَا قَتَلُوۡہُ وَمَا صَلَبُوۡہُ وَلٰکِنۡ شُبِّہَ لَہُمۡ ؕ  وَاِنَّ الَّذِیۡنَ اخۡتَلَفُوۡا فِیۡہِ لَفِیۡ شَکٍّ مِّنۡہُ ؕ  مَا لَہُمۡ بِہٖ مِنۡ عِلۡمٍ اِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ ۚ  وَمَا قَتَلُوۡہُ یَقِیۡنًۢا ۙ ١٥٧

ওয়াকাওলিহিম ইন্না-কাতালনাল মাছীহা‘ঈছাবনা মারইয়ামা রাছূলাল্লা-হি ওয়ামাকাতালুহু ওয়ামা-সালাবূহু ওয়ালা-কিন শুব্বিহা লাহুম ওয়া ইন্নাল্লাযীনাখতালাফূফীহি লাফী শাক্কিম মিনহু মা-লাহুম বিহী মিন ‘ইলমিন ইল্লাততিবা-‘আজ্জান্নি ওয়ামাকাতালূহু ইয়াকীনা-।

এবং তাদের এই উক্তির কারণে যে, আমরা আল্লাহর রাসূল ঈসা ইবনে মারয়ামকে হত্যা করেছি। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং শূলেও চড়াতে পারেনি; বরং তাদের বিভ্রম হয়েছিল। ১০৯ প্রকৃতপক্ষে যারা এ সম্পর্কে মতভেদ করেছে, তারা এ বিষয়ে সংশয়ে নিপতিত ১১০ (এবং) এ বিষয়ে অনুমানের অনুসরণ ছাড়া তাদের প্রকৃত কোনও জ্ঞান ছিল না। ১১১ সত্য কথা হচ্ছে তারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)কে হত্যা করেনি।

তাফসীরঃ

১০৯. কুরআন মাজীদ অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করছে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে কেউ হত্যাও করেনি এবং তাকে শূলেও চড়াতে পারেনি; বরং তারা বিভ্রমে পড়ে গিয়েছিল। তারা অপর এক ব্যক্তিকে ঈসা মনে করে তাকেই শূলে ঝুলিয়েছিল। ওদিকে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা উপরে তুলে নিয়েছিলেন। কুরআন মাজীদ সত্যের এই ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেনি। কোনও কোনও বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, যখন ঈসা আলাইহিস সালামকে ঘিরে ফেলা হয়, তখন তাঁর মহান সঙ্গীদের মধ্য থেকে একজন তাঁর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার লক্ষ্যে বাইরে চলে আসেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর আকৃতিকে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের মত করে দেন। শত্রুরা তাকেই ঈসা মনে করে নেয় এবং গ্রেফতার করে তাকেই শূলে চড়ায়। অপর দিকে ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা আসমানে উঠিয়ে নেন। অপর এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে গ্রেফতার করার জন্য গুপ্তচর হিসেবে ভিতরে প্রবেশ করেছিল, আল্লাহ তাআলা তাকেই হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের আকৃতিতে রূপান্তরিত করে দেন। সে যখন বাইরে বের হয়ে আসে তখন তার দলের লোকেরা ঈসা মনে করে তাকে শূলে ঝোলায়।
১৫৮

بَلۡ رَّفَعَہُ اللّٰہُ اِلَیۡہِ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا ١٥٨

বার রাফা‘আহুল্লা-হু ইলাইহি ওয়া কা-নাল্লা-হু ‘আঝীঝান হাকীমা-।

বরং আল্লাহ তাকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন। বস্তুত আল্লাহ মহা ক্ষমতার অধিকারী, অতি প্রজ্ঞাবান।
১৫৯

وَاِنۡ مِّنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ اِلَّا لَیُؤۡمِنَنَّ بِہٖ قَبۡلَ مَوۡتِہٖ ۚ  وَیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یَکُوۡنُ عَلَیۡہِمۡ شَہِیۡدًا ۚ ١٥٩

ওয়া ইম মিন আহলিল কিতা-বি ইল্লা-লাইউ‘মিনান্না বিহী কাবলা মাওতিহী ওয়া ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইয়াকূনু‘আলাইহিম শাহীদা-।

কিতাবীদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে নিজ মৃত্যুর আগে ঈসার প্রতি ঈমান আনবে না। ১১২ আর কিয়ামতের দিন সে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে।

তাফসীরঃ

১১২. ইয়াহুদীরা তো হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে নবী বলেই স্বীকার করে না। অপর দিকে খ্রিস্টান জাতি তাকে আল্লাহর পুত্র সাব্যস্ত করা সত্ত্বেও বিশ্বাস পোষণ করে যে, তাকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ইয়াহুদী হোক বা খ্রিস্টান সকল কিতাবী নিজ মৃত্যুর পূর্বক্ষণে যখন বরযখ (তথা দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যবর্তী জগত)-এর দৃশ্যাবলী দেখবে, তখন ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কিত তাদের সব ধ্যান-ধারণা আপনা-আপনিই খতম হয়ে যাবে এবং তারা তাঁর প্রকৃত অবস্থা অনুসারেই ঈমান আনবে। এটা আয়াতের এক তাফসীর। বহু নির্ভরযোগ্য মুফাসসির এ তাফসীরকে প্রাধান্য দিয়েছেন। হযরত হাকীমুল উম্মাত থানবী (রহ.) ‘বয়ানুল কুরআন’ গ্রন্থে এ তাফসীরকেই গ্রহণ করেছেন। তবে হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে আয়াতের যে তাফসীর বর্ণিত আছে সে দৃষ্টিতে আয়াতের তরজমা হবে ‘কিতাবীদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে ঈসার মৃত্যুর আগে তার প্রতি ঈমান আনবে না। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে তখন তো আসমানে তুলে নিয়েছিলেন, কিন্তু যেমন বহু সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, আখেরী যামানায় তিনি পুনরায় এ জগতে আসবেন এবং তখন কিতাবীদের সকলেই তাঁর প্রতি তাঁর প্রকৃত অবস্থা অনুযায়ী ঈমান আনবে। কেননা তখন তাদের কাছে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হয়ে যাবে।
১৬০

فَبِظُلۡمٍ مِّنَ الَّذِیۡنَ ہَادُوۡا حَرَّمۡنَا عَلَیۡہِمۡ طَیِّبٰتٍ اُحِلَّتۡ لَہُمۡ وَبِصَدِّہِمۡ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ کَثِیۡرًا ۙ ١٦۰

ফাবিজুলমিমমিনাল্লাযীনা হা-দূহাররামনা-‘আলাইহিমতাইয়িবা-তিনউহিল্লা ত লাহুম ওয়া বিসাদ্দিহিম ‘আন ছাবীলিল্লা-হি কাছীরা-।

মোটকথা, ইয়াহুদীদের গুরুতর সীমালংঘনের কারণে আমি তাদের প্রতি এমন কিছু উৎকৃষ্ট বস্তু হারাম করে দেই, যা (পূর্বে) তাদের পক্ষে হালাল করা হয়েছিল ১১৩ এবং আল্লাহর পথে তাদের অত্যধিক বাধাদানের কারণে।

তাফসীরঃ

১১৩. এ সম্পর্কে সূরা আনআমে বিস্তারিত বলা হয়েছে, (দেখুন ৬ : ১৪৬)।
১৬১

وَّاَخۡذِہِمُ الرِّبٰوا وَقَدۡ نُہُوۡا عَنۡہُ وَاَکۡلِہِمۡ اَمۡوَالَ النَّاسِ بِالۡبَاطِلِ ؕ وَاَعۡتَدۡنَا لِلۡکٰفِرِیۡنَ مِنۡہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ١٦١

ওয়া আখযিহিমুর রিবা-ওয়া কাদ নুহু ‘আনহু ওয়া আকলিহিম আমওয়া-লান্না-ছি বিল বাতিলি ওয়াআ‘তাদনা-লিল কা-ফিরীনা মিনহুম ‘আযা-বান আলীমা-।

এবং তাদের সুদখোরির কারণে, অথচ তাদেরকে তা খেতে নিষেধ করা হয়েছিল এবং তাদের কর্তৃক মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার কারণে। তাদের মধ্যে যারা কাফির, আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
১৬২

لٰکِنِ الرّٰسِخُوۡنَ فِی الۡعِلۡمِ مِنۡہُمۡ وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ وَمَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلِکَ وَالۡمُقِیۡمِیۡنَ الصَّلٰوۃَ وَالۡمُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ  اُولٰٓئِکَ سَنُؤۡتِیۡہِمۡ اَجۡرًا عَظِیۡمًا ٪ ١٦٢

লা-কিনির রা-ছিখূনা ফিল ‘ইলমি মিনহুম ওয়াল মু’মিনূনা ইউ’মিনূনা বিমা-উনঝিলা ইলাইকা ওয়ামা-উনঝিলা মিন কাবলিকা ওয়াল মুকীমীনাসসালা-তা ওয়াল মু’তূনাঝঝাকা-তা ওয়াল মু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি উলাইকা ছানু’তীহিম আজরান ‘আজীমা-।

অবশ্য তাদের (অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের) মধ্যে যারা জ্ঞানে পরিপক্ক ও মুমিন, তারা তোমার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তাতে ঈমান রাখে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছিল তাতেও। (সেই সকল লোক প্রশংসাযোগ্য), যারা সালাত কায়েমকারী, যাকাতদাতা এবং আল্লাহ ও আখিরাত দিবসে বিশ্বাসী। এরাই তারা, যাদেরকে আমি মহা প্রতিদান দেব।
১৬৩

اِنَّاۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ کَمَاۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی نُوۡحٍ وَّالنَّبِیّٖنَ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ ۚ  وَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ وَاِسۡمٰعِیۡلَ وَاِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ وَالۡاَسۡبَاطِ وَعِیۡسٰی وَاَیُّوۡبَ وَیُوۡنُسَ وَہٰرُوۡنَ وَسُلَیۡمٰنَ ۚ  وَاٰتَیۡنَا دَاوٗدَ زَبُوۡرًا ۚ ١٦٣

ইন্নাআওহাইনাইলাইকা কামাআওহাইনা ইলানূহিওঁ ওয়ান নাবিইঈনা মিম বা‘দিহী ওয়াআওহাইনা ইলাইবরা-হীমা ওয়া ইছমা-‘ঈলা ওয়া ইছহা-কা ওয়া ইয়া‘কূবা ওয়াল আছবা-তিওয়া ‘ঈসা-ওয়া আইয়ূবা ওয়া ইঊনুছা ওয়া হা-রূনা ওয়া ছুলাইমা-না ওয়া আ-তাইনা-দা-ঊদা ঝাবূরা-।

(হে নবী!) আমি তোমার প্রতি ওহী নাযিল করেছি, যেভাবে নাযিল করেছি নূহ ও তার পরবর্তী নবীগণের প্রতি এবং আমি ওহী নাযিল করেছিলাম ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব, (তাদের) বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলাইমানের প্রতি। আর দাঊদকে দান করেছিলাম যাবূর। ১১৪

তাফসীরঃ

১১৪. অর্থাৎ তোমার নবুওয়াত এবং তোমার প্রতি ওহী নাযিল করার বিষয়টি অভিনব কোন ব্যাপার নয়। মানুষকে সৎকর্মের উত্তম পুরস্কার সম্পর্কে সুসংবাদদান ও অসৎকর্মের শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য নবী প্রেরণ ও ওহী নাযিলের ধারা আগে থেকেই চলে এসেছে, যার সমাপ্তি টানা হয়েছে তোমার মাধ্যমে। সুতরাং পূর্বে যেমন প্রত্যেক উম্মতের প্রতি আপন-আপন নবীর প্রতি ঈমান আনা ফরয ছিল, তেমনি সর্বশেষ নবী হিসেবে তোমার প্রতিও ঈমান আনা দুনিয়ার সমস্ত মানুষের উপর ফরয এবং পূর্বে যেমন প্রত্যেক নবীর প্রতি ঈমান আনয়নকারীগণ পুরস্কৃত ও অবিশ্বাসীগণ শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছিল, যেমনটা তাদের ঘটনাবলীতে আমি তোমার কাছে বিবৃত করেছি, তেমনি তোমার প্রতি ঈমান আনয়নকারীগণও পুরস্কার লাভের যোগ্য ও অবিশ্বাসীগণ শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যাবে। -অনুবাদক
১৬৪

وَرُسُلًا قَدۡ قَصَصۡنٰہُمۡ عَلَیۡکَ مِنۡ قَبۡلُ وَرُسُلًا لَّمۡ نَقۡصُصۡہُمۡ عَلَیۡکَ ؕ  وَکَلَّمَ اللّٰہُ مُوۡسٰی تَکۡلِیۡمًا ۚ ١٦٤

ওয়া রুছুলান কাদ কাসাসনাহুম ‘আলাইকা মিন কাবলুওয়া রুছুলাল লাম নাকছুছহুম ‘আলাইকা ওয়া কাল্লামাল্লা-হু মূছা-তাকলীমা-।

আর বহু রাসূল তো এমন, পূর্বে যাদের ঘটনাবলী আমি তোমাকে শুনিয়েছি এবং বহু রাসূল রয়েছে, যাদের ঘটনাবলী তোমাকে শুনাইনি। আর মুসার সঙ্গে তো আল্লাহ সরাসরি কথা বলছেন।
১৬৫

رُسُلًا مُّبَشِّرِیۡنَ وَمُنۡذِرِیۡنَ لِئَلَّا یَکُوۡنَ لِلنَّاسِ عَلَی اللّٰہِ حُجَّۃٌۢ بَعۡدَ الرُّسُلِ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا ١٦٥

রুছুলাম মুবাশশিরীনা ওয়া মুনযিরীনা লিআল্লা-ইয়াকূনা লিন্না-ছি ‘আলাল্লা-হি হুজ্জাতুম বা‘দার রুছুলি ওয়া কা-নাল্লা-হু ‘আঝীঝান হাকীমা-।

এ সকল রাসূল এমন, যাদেরকে (সওয়াবের) সুসংবাদদাতা ও (জাহান্নাম সম্পর্কে) সতর্ককারীরূপে পাঠানো হয়েছিল, যাতে রাসূলগণের (আগমনের) পর আল্লাহর সামনে মানুষের কোন অজুহাত বাকি না থাকে। আর আল্লাহ মহা ক্ষমতাবান, প্রজ্ঞাময়।
১৬৬

لٰکِنِ اللّٰہُ یَشۡہَدُ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اِلَیۡکَ اَنۡزَلَہٗ بِعِلۡمِہٖ ۚ  وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ یَشۡہَدُوۡنَ ؕ  وَکَفٰی بِاللّٰہِ شَہِیۡدًا ؕ ١٦٦

লা-কিনিল্লা-হু ইয়াশহাদুবিমা আনঝালা ইলাইকা আনঝালাহু বি‘ইলমিহী ওয়াল মালাইকাতুইয়াশহাদূ ন ওয়া কাফা-বিল্লা-হি শাহীদা-।

(কাফিরগণ স্বীকার করুক বা নাই করুক), কিন্তু আল্লাহ তোমার প্রতি যা নাযিল করেছেন, সে সম্পর্কে তিনি স্বয়ং সাক্ষ্য দেন যে, তিনি তা জেনেশুনে নাযিল করেছেন এবং ফিরিশতাগণও সাক্ষ্য দেয়। আর (এমনিতে তো) আল্লাহর সাক্ষ্যই যথেষ্ট।
১৬৭

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَصَدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ قَدۡ ضَلُّوۡا ضَلٰلًۢا بَعِیۡدًا ١٦٧

ইন্নাল্লাযীনা কাফারু ওযা সাদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি কাদ দাললূদালা-লাম বা‘ঈদা-।

নিশ্চয়ই, যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং (মানুষকে) আল্লাহর পথে বাধা দিয়েছে, তারা (রাস্তা হারিয়ে) বিভ্রান্তিতে বহু দূর চলে গেছে।
১৬৮

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَظَلَمُوۡا لَمۡ یَکُنِ اللّٰہُ لِیَغۡفِرَ لَہُمۡ وَلَا لِیَہۡدِیَہُمۡ طَرِیۡقًا ۙ ١٦٨

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ ওয়া জালামূ লাম ইয়াকুনিল্লা-হু লিইয়াগফিরা লাহুম ওয়ালালিইয়াহদিইয়াহুম তারিকিা-।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং (অন্যদেরকে আল্লাহর পথে বাধা দিয়ে তাদের উপর) জুলুম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করার নন এবং তাদের কোনও পথ প্রদর্শন করারও নন,
১৬৯

اِلَّا طَرِیۡقَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ وَکَانَ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرًا ١٦٩

ইল্লা-তারীকা জাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহাআবাদাওঁ ওয়া কা-না যা-লিকা ‘আলাল্লাহি ইয়াছীরা-।

জাহান্নামের পথ ছাড়া, যাতে তারা সর্বদা থাকবে। আর আল্লাহর পক্ষে এটা মামুলি ব্যাপার।
১৭০

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ قَدۡ جَآءَکُمُ الرَّسُوۡلُ بِالۡحَقِّ مِنۡ رَّبِّکُمۡ فَاٰمِنُوۡا خَیۡرًا لَّکُمۡ ؕ وَاِنۡ تَکۡفُرُوۡا فَاِنَّ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ١٧۰

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুকাদ জাআকমুর রাছূলূবিলহাক্কিমির রাব্বিকুম ফাআ-মিনুখাইরাল লাকুম ওয়া ইন তাকফুরূফাইন্না লিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া কা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা-।

হে মানুষ! এই রাসূল তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছে। সুতরাং তোমরা (তার প্রতি) ঈমান আন। এরই মধ্যে তোমাদের কল্যাণ। আর (এরপরও) যদি তোমরা কুফরের পথ অবলম্বন কর, তবে (জেনে রেখ), আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তা আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
১৭১

یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ لَا تَغۡلُوۡا فِیۡ دِیۡنِکُمۡ وَلَا تَقُوۡلُوۡا عَلَی اللّٰہِ اِلَّا الۡحَقَّ ؕ  اِنَّمَا الۡمَسِیۡحُ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ رَسُوۡلُ اللّٰہِ وَکَلِمَتُہٗ ۚ  اَلۡقٰہَاۤ اِلٰی مَرۡیَمَ وَرُوۡحٌ مِّنۡہُ ۫  فَاٰمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرُسُلِہٖ ۚ۟  وَلَا تَقُوۡلُوۡا ثَلٰثَۃٌ ؕ  اِنۡتَہُوۡا خَیۡرًا لَّکُمۡ ؕ  اِنَّمَا اللّٰہُ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ؕ  سُبۡحٰنَہٗۤ اَنۡ یَّکُوۡنَ لَہٗ وَلَدٌ ۘ  لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ  وَکَفٰی بِاللّٰہِ وَکِیۡلًا ٪ ١٧١

ইয়াআহলাল কিতাবি লা-তাগলূফী দীনিকুম ওয়ালা-তাকূলূ‘আলাল্লা-হি ইল্লাল হাক্কা; ইন্নামাল মাছীহু‘ঈছাবনুমারইয়ামা রাছূলুল্লা-হি ওয়া কালিমাতুহু আলকা-হা ইলামারইয়ামা ওয়া রুহুম মিনহু ফাআ-মিনূবিল্লা-হি ওয়া রুছুলিহী ওয়ালা-তাকূলূছালা-ছাতুন ইনতাহু খাইরাল্লাকুম ইন্নামাল্লা-হু ইলা-হুওঁ ওয়া-হিদুন ছুবহানাহূআইঁ ইয়াকূনা লাহূওয়ালাদুন । লাহূমা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়া কাফা-বিল্লা-হি ওয়াকীলা-।

হে কিতাবীগণ! নিজেদের দীনে সীমালংঘন করো না এবং আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলো না। মারয়ামের পুত্র ঈসা মাসীহ তো আল্লাহর রাসূল মাত্র এবং আল্লাহর এক কালিমা, যা তিনি মারয়ামের কাছে পাঠিয়েছিলেন। আর ছিলেন এক রূহ, যা তাঁরই পক্ষ হতে (সৃষ্টি হয়ে) ছিল। ১১৫ সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আন এবং বলো না (আল্লাহ) ‘তিন’। এর থেকে নিবৃত্ত হও। এরই মধ্যে তোমাদের কল্যাণ। আল্লাহ তো একই মাবুদ। তাঁর কোনও পুত্র থাকবে এর থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র। আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা তাঁরই। (সকলের) তত্ত্বাবধানের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

তাফসীরঃ

১১৫. ইয়াহুদীদের পর এবার এ আয়াতসমূহে খ্রিস্টানদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে। ইয়াহুদীরা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জানের দুশমন হয়ে গিয়েছিল। অপর দিকে খ্রিস্টান সম্প্রদায় তাঁর তাযীমের ক্ষেত্রে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তারা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলার পুত্র বলতে শুরু করে এবং এই আকীদা পোষণ করতে থাকে যে, আল্লাহ তিনজন পিতা, পুত্র এবং পাক রূহ। এ আয়াতে উভয় সম্প্রদায়কে সীমালংঘন করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে এমন ভারসাম্যপূর্ণ কথা বলা হয়েছে, যা দ্বারা তার সত্যিকারের অবস্থান পরিষ্কার হয়ে গেছে। অর্থাৎ তিনি ছিলেন আল্লাহ তাআলার বান্দা ও তাঁর একজন রাসূল। আল্লাহ তাকে নিজের ‘কুন’ কালিমা (শব্দ) দ্বারা বিনা বাপে সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাঁর রূহ সরাসরি হযরত মারয়াম আলাইহাস সালামের গর্ভে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
১৭২

لَنۡ یَّسۡتَنۡکِفَ الۡمَسِیۡحُ اَنۡ یَّکُوۡنَ عَبۡدًا لِّلّٰہِ وَلَا الۡمَلٰٓئِکَۃُ الۡمُقَرَّبُوۡنَ ؕ وَمَنۡ یَّسۡتَنۡکِفۡ عَنۡ عِبَادَتِہٖ وَیَسۡتَکۡبِرۡ فَسَیَحۡشُرُہُمۡ اِلَیۡہِ جَمِیۡعًا ١٧٢

লাইঁ ইয়াছতানকিফাল মাছীহুআইঁ ইয়াকূনা ‘আবদাল লিল্লা-হি ওয়ালাল মালাইকাতুল মুকাররাবূনা ওয়া মাইঁ ইয়াছতানকিফ ‘আন ‘ইবা-দাতিহী ওয়া ইয়াছতাকবির ফাছাইয়াহশুরুহুম ইলাইহি জামী‘আ-।

মাসীহ কখনও আল্লাহর বান্দা হওয়াকে লজ্জার বিষয় মনে করে না এবং নিকটতম ফিরিশতাগণও (এতে লজ্জাবোধ করে) না। যে-কেউ আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে লজ্জাবোধ করবে ও অহমিকা প্রদর্শন করবে (সে ভালো করে জেনে রাখুক), আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর নিকট একত্র করবেন। ১১৬

তাফসীরঃ

১১৬. খৃস্টানদের একটি প্রতিনিধিদল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মদ! আপনি আমাদের নবীর নিন্দা করেন কেন? তিনি বললেন, কে তোমাদের নবী? তারা বলল, ঈসা। তিনি বললেন, আমি তার সম্পর্কে কী বলি? তারা বললো, আপনি তাকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল বলেন। তিনি বললেন, আল্লাহর বান্দা হওয়াটা কোন লজ্জার বিষয় নয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এ আয়াত নাযিল হয়। -অনুবাদক
১৭৩

فَاَمَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَیُوَفِّیۡہِمۡ اُجُوۡرَہُمۡ وَیَزِیۡدُہُمۡ مِّنۡ فَضۡلِہٖ ۚ وَاَمَّا الَّذِیۡنَ اسۡتَنۡکَفُوۡا وَاسۡتَکۡبَرُوۡا فَیُعَذِّبُہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ۬ۙ وَّلَا یَجِدُوۡنَ لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیۡرًا ١٧٣

ফাআম্মাল লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ফাইউওয়াফফীহিম উজূরাহুম ওয়া ইয়াঝীদুহুম মিন ফাদলিহী ওয়া আম্মাল লাযীনাছ তানকাফূওয়াছতাকবারূফাইউ‘আযযিবুহুম ‘আযা-বান আলীমাওঁ ওয়ালা-ইয়াজিদূ না লাহুম মিন দূ নিল্লা-হি ওয়ালিইইয়াওঁ ওয়ালা-নাসীরা-।

অতঃপর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদেরকে তাদের পরিপূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে (তার থেকেও) বেশি দেবেন। আর যারা (ইবাদত-বন্দেগীতে) লজ্জাবোধ করেছে ও অহমিকা প্রদর্শন করেছে তাদেরকে যন্ত্রণাময় শাস্তি দেবেন। আর তারা নিজেদের জন্য আল্লাহ ছাড়া কোনও অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।
১৭৪

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ قَدۡ جَآءَکُمۡ بُرۡہَانٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَاَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکُمۡ نُوۡرًا مُّبِیۡنًا ١٧٤

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুকাদ জাআকুমবুরহা-নুমমিররাব্বিকুমওয়াআনঝালনা-ইলাইকুম নূরাম মুবীনা-।

হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসে গেছে এবং আমি তোমাদের কাছে এমন এক আলো পাঠিয়ে দিয়েছি, (যা পথকে) সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার করে তোলে।
১৭৫

فَاَمَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰہِ وَاعۡتَصَمُوۡا بِہٖ فَسَیُدۡخِلُہُمۡ فِیۡ رَحۡمَۃٍ مِّنۡہُ وَفَضۡلٍ ۙ  وَّیَہۡدِیۡہِمۡ اِلَیۡہِ صِرَاطًا مُّسۡتَقِیۡمًا ؕ ١٧٥

ফাআম্মাল লাযীনা আ-মানূবিল্লা-হি ওয়া‘তাসামূবিহী ফাছাইউদখিলুহুম ফী রাহমাতিম মিনহু ওয়া ফাদলিওঁ ওয়া ইয়াহদীহিম ইলাইহি সিরা-তাম মুছতাকীমা-।

সুতরাং যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁরই আশ্রয় আঁকড়ে ধরেছে, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ ও রহমতের ভেতর দাখিল করবেন এবং নিজের কাছে পৌঁছানোর জন্য তাদেরকে সরল পথে আনয়ন করবেন।
১৭৬

یَسۡتَفۡتُوۡنَکَ ؕ  قُلِ اللّٰہُ یُفۡتِیۡکُمۡ فِی الۡکَلٰلَۃِ ؕ  اِنِ امۡرُؤٌا ہَلَکَ لَیۡسَ لَہٗ وَلَدٌ وَّلَہٗۤ اُخۡتٌ فَلَہَا نِصۡفُ مَا تَرَکَ ۚ  وَہُوَ یَرِثُہَاۤ اِنۡ لَّمۡ یَکُنۡ لَّہَا وَلَدٌ ؕ  فَاِنۡ کَانَتَا اثۡنَتَیۡنِ فَلَہُمَا الثُّلُثٰنِ مِمَّا تَرَکَ ؕ  وَاِنۡ کَانُوۡۤا اِخۡوَۃً رِّجَالًا وَّنِسَآءً فَلِلذَّکَرِ مِثۡلُ حَظِّ الۡاُنۡثَیَیۡنِ ؕ  یُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمۡ اَنۡ تَضِلُّوۡا ؕ  وَاللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ٪ ١٧٦

ইয়াছতাফতূনাকা কুল্লিলা-হু ইউফতীকুম ফিল কালা-লাতি ইনিমরুউন হালাকা লাইছা লাহু ওয়ালাদুওঁ ওয়া লাহুউখতুন ফালাহা-নিসফুমা-তারাকা ওয়া হুওয়া ইয়ারিছুহা-ইল্লাম ইয়াকুল্লাহা-ওয়ালাদুন ফাইন কা-নাতাছনাতাইনি ফালাহুমাছছুলুছানি মিম্মা-তারাকা ওয়া ইন কা-নু ইখওয়াতার রিজা-লাওঁ ওয়া নিছাআন ফালিযযাকারি মিছলুহাজ্জিল উনছাইয়াইনি ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুম আন তাদিললূ ওয়াল্লা-হু বিকুল্লিা শাইয়িন ‘আলীম।

(হে নবী!) লোকে তোমার কাছে (‘কালালা’র) ১১৭ বিধান জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, আল্লাহ তোমাদেরকে কালালা’র বিধান জানাচ্ছেন কেউ যদি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায় আর তার এক বোন থাকে, তবে সে (বোন) তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেকের হকদার হবে। আর সেই বোনের যদি সন্তান-সন্ততি না থাকে, (আর সে মারা যায় এবং ভাই জীবিত থাকে), তবে সে তার (বোনের) ওয়ারিশ হবে। বোন যদি দু’জন থাকে, তবে ভাইয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে তারা দুই-তৃতীয়াংশের হকদার হবে। আর যদি (মৃত ব্যক্তির) ভাই ও বোন উভয়ই থাকে, তবে এক ভাই পাবে দু’বোনের অংশের সমান। আল্লাহ তোমাদের কাছে স্পষ্টরূপে বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও এবং আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

১১৭. ‘কালালা’ বলে এমন ব্যক্তিকে, মৃত্যুকালে যার পিতা, দাদা, পুত্র ও পৌত্র থাকে না।